৫ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম

গত ৬ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে অভিযোগের অন্ত নেই। ক্যাটাগরি-১-এ বিসিবির বিদ্যমান গঠণতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে তীব্রভাবে। ক্লাব কোটার নির্বাচন নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। বিসিবির এই নির্বাচিত কমিটিকে অবৈধ দাবি করে ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স এসোসিয়েশন একটার পর একটা সংবাদ সম্মেলন করেছে।
বিসিবির নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে গত ১১ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে প্রধান করে ৫ সদস্যের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। যে কমিটির অন্য ৪ সদস্য হচ্ছেন অতিরিক্ত সচিব সেলিম ফকির, যুগ্ম পুলিশ কমিশনার নাসিরুল ইসলাম, ক্রীড়া সাংবাদিক এ টি এম সাইদুজ্জামান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আকরাম সম্রাট। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই তদন্ত কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। এবং সেই সময়সীমার মধ্যে তদন্ত কাজ শেষ করে রোববার দুপুর ১২টায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে (এনএসসি) তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। এনএসসি চেয়ারম্যান এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ওই সময়ে উপস্থিত না থাকায় এনএসসি চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত সচিবের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে তদন্ত রিপোর্ট।
৩৪ পৃষ্টার সামারি রিপোর্টে আছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ। এর সঙ্গে তদন্ত রিপোর্টের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস এবং তদন্ত কমিটির শুনানীতে যারা হাজির হয়েছেন, তাদের বক্তব্য রেকর্ড করে লিখিত আকারে জমা দেয়া কাগজের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে হাজার পৃষ্টা।
বিসিবির নির্বাচন নিয়ে ওঠা অনিয়ম ও কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখার শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছিল স্বাধীন এই কমিটিকে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দলিল সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য গ্রহণ করে মনোনয়নপ্রক্রিয়া বিসিবির গঠনতন্ত্র ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখে যে রিপোর্ট দাখিল করেছে তদন্ত কমিটি, তাতে কেউ অভিযুক্ত হননি। তদন্ত রিপোর্ট জমা দিয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমকে তা বলেছেন স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান-‘ আমরা একটা তদন্ত করতে বসেছিলাম। নিরপেক্ষ ভাবে চেষ্টা করেছি। যাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছিলাম, তাদেরকে জিজ্ঞাবাস করেছি। যা পেয়েছি সেভাবে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছি। কাউকে অভিযুক্ত না করে রিপোর্ট দিয়েছি। আমরা কাউকে অভিযুক্ত করিনি, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ আনিনি। যা হয়েছে, যা হয়নি, এসব রিপোর্ট দিয়েছি।’
অন্তবর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতার শেষ দিকে এসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচনে প্রত্যক্ষভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন তৎকালীন যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহামুদ সজীব ভূঁইয়া।
সাবেক যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টার সংশ্লিষ্টতা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রচুর রিপোর্ট হয়েছে। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম উদঘাটনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সে কারণেই। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে সাবেক যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ নিয়ে তাঁর বক্তব্য জানতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছে স্বাধীন তদন্ত কমিটি। তদন্ত কমিটির সামনে হাজিরা দেননি তিনি। গণমাধ্যমকে তা জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান-‘উনি কিছু বলতে চান কী না, তার জন্য ডেকেছিলাম। উনাকে অভিযুক্ত করতে নয়। ওনাকে সময় দিয়ে ডেকেছিলাম। তবে উনি আমাদের কাছে আসেননি।’
বিসিবির নির্বাচন নিয়ে যা কিছু অভিযোগ, সে সব অভিযোগের তিরে বিদ্ধ হওয়ার কথা নির্বাচন কমিশনের। কারণ, তারাই বিধিসম্মত ভাবে কাউন্সিলর মনোনয়ন হয়েছে কী না, তা যাচাই-বাছাই করেছেন। তারাই বৈধ প্রার্থীদের তালিকা চূড়ান্ত করেছেন। বিসিবির নির্বাচন কমিশনের সব সদস্যকে ডেকেছিলেন তদন্ত কমিটি। তবে এই নির্বাচন কমিশনও তদন্ত কমিটির সামনে আসেননি। বিসিবির নির্বাচন নিয়ে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাঁরা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কমিটির প্রধান- ‘সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা চেষ্টা করেছি আনতে। ওনারা লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। একজন একজন করে নিয়েছি।’
বিসিবির বিদ্যমান গঠণতন্ত্রের ত্রুটি-বিচ্যুতি তদন্ত কমিটির নজরে এসেছে। এই গঠণতন্ত্রে সংশোধণী না আনলে বিসিবির নির্বাচন হস্তক্ষেপমুক্ত করা সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটির সামনে যারা সাক্ষাতকার দিয়েছেন, তাদের মধ্যে একাধিক সংগঠক বিসিবির বিদ্যমান গঠণতন্ত্রে সংশোধণী আনার প্রস্তাব দিয়েছেন। স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশমালায় গঠণতন্ত্র সংশোধণের কথা বলা আছে বলে জানিয়েছেন এই কমিটি প্রধান অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান- ‘আমরা কিছু সুপারিশ করেছি। আমরা চেষ্টা করেছিলাম একটা সুপারিশ দেওয়ার জন্য যে (ভবিষ্যতে) নির্বাচনটা সুন্দর করার জন্য বা এই বোর্ডসংক্রান্ত আর কোনো সুপারিশ করা যায় কি না, এই সম্পর্কে আমরা কিছু গাইডলাইন দেওয়ার চেষ্টা করেছি।গঠণতন্ত্র সংশোধনের ব্যাপার আছে।’
বিসিবির ২৫ সদস্যের নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ থেকে একজন একজন করে ৭ পরিচালক পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের মিছিলেন অপেক্ষমান আছেন আরো একদল পরিচালক। সে কারণেই রোববার বিসিবির নির্বাচনে অনিয়ম নিয়ে তদন্ত কমিটির রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে এখন ক্রিকেটপ্রেমীরা। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে যুবও ক্রীড়া মন্ত্রানালয় পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, তার দিকেই তাকিয়ে এখন সবাই।
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এম

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। ব্র্যান্ড ভেল্যু, তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং সম্প্রচারের দিক থেকে ভারতের ঘরোয়া এই লিগের ধারে কাছে নেই পিএসএল, এসএ টি-টোয়েন্টি ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বিশ্বাস, শিগগিরই আইপিএলকে ছাড়িয়ে যাবে পিএসএল।
সোমবার লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নকভি বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহই পিএসএলের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ। তার মতে, এই লিগ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বিশ্বসেরার কাতারে উঠে আসবে।
তিনি বলেন, “পিএসএল এখন বিনিয়োগের জন্য সেরা বাজার। খুব বেশি দেরি নেই, যখন এটি বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ জিতিয়ে মার্চের সেরার লড়াইয়ে ভারতের দুই তারকা |
|
লিগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি বোর্ড ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও অনুমোদন দিয়েছে, যা মাঠের বাইরেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামেও ছিল ব্যাপক সাড়া। ৬ দল থেকে বেড়ে ৮ দলে উন্নীত হয়েছে পিএসএল, নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিয়ালকোট ও হায়দরাবাদ।
১.৮৫ বিলিয়ন রুপিতে সিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে ওজেড ডেভেলপারস দলটির নাম দিয়েছে সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ। এফকেএস গ্রুপ ১.৭৫ বিলিয়ন রুপিতে হায়দরাবাদ দল কিনে নাম রেখেছে হায়দরাবাদ কিংসমেন।
এত কিছুর পরও কিছু চ্যালেঞ্জ কিন্তু রয়ে গেছে। মাত্র দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পিএসএল। জ্বালানি সংকটের কারণে ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে। অন্যদিকে আইপিএল একাধিক শহরে পূর্ণ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে এর বিশাল দর্শক রয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হয় আইপিএল। আর ২০১৬ সালে শুরু হয় পিএসএল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের টানতেও কিছুটা সমস্যায় পড়ে পিএসএল। অনেক সময় আইপিএলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররা পিএসএলে খেলেন। পরে আইপিএল দলগুলো তাদের বদলি হিসেবে দলে ভেড়ায়—মাঝ মৌসুমেই তাদের ছাড়তে হয় পিএসএল। আর্থিক দিক থেকেও আইপিএল অনেক এগিয়ে; অনেক ক্ষেত্রে আইপিএলের একজন ক্রিকেটারের চুক্তির খরচ পিএসএলে একটি দলের বাজেটের সমান।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার আগে 'স্পিন বোলিং মেশিনের' গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন নিক পোথাস। তার বিদায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, অবশেষে সেই স্পিন বোলিং মেশিন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যার নাম মার্লিন বাই বোলা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজ শুরুর আগে চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে সোমবার প্রথম এই স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো অফ স্পিন, লেগ স্পিন বা স্ট্রেইট ডেলিভারির অনুশীলন করতে পেরেছেন ব্যাটাররা।
এর আগে শুধু এনালগ বোলিং মেশিনের ব্যবহার ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। যা দিয়ে গতি বাড়ানো বা কমানো ও বাউন্সের তারতম্যের অনুশীলন করা যেত। এখন নতুন করে মার্লিন বাই বোলা নিয়ে আসায় স্পিনের বিপক্ষেও নিজেদের ঝালাই করতে পারবেন ব্যাটাররা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জাতীয় একাডেমি মাঠে সোমবার সকালেই যেমন সাইফ হাসান, জাকের আলি অনিকরা ব্যাটিং করেছেন এই মেশিনের সামনে। এটি দিয়ে চাইলে সময় ঠিক করে দিয়ে একসঙ্গে ৩০টি বলও খেলা যাবে।
আরও পড়ুন
| প্রধানমন্ত্রীর হাতে ট্রফি তুলে দিতে চান সাফজয়ী অধিনায়ক |
|
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই মেশিনের ব্যাপারে ধারণা দেন বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।
“এই বোলিং মেশিনের নাম মার্লিন বাই বোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।”
“এটা দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার- তিন ধরনের বল খেলা যায়। বলের লেন্থ পরিবর্তন করা যায়, পেস বাড়ানো-কমানো যায়। ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক, দুই মোডেই চালানো যায়। অটোমেটিক মোডে একসঙ্গে ২৫-৩০টা বল খেলা যায়।”
জানা গেছে, মেশিনটি কিনতে বিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ টাকা।

ভারতকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর পথে বড় অবদান রেখে এবার আরেকটি স্বীকৃতির সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জাসপ্রিত বুমরাহ। মার্চ মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন ভারতের এই দুই তারকা।
স্যামসন ও বুমরাহ ছাড়াও পুরুষ ক্যাটাগরিতে মাসসেরার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা কনর এস্থেইজেন। আর নারী ক্রিকেটে মনোনয়ন পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অ্যামিলিয়া কার, অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা আয়াবোঙ্গা খাকা।
আরও পড়ুন
| বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে মজা পেয়েছেন ডেভিড |
|
ঘরের মাঠে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুর দিকে তেমন সুযোগ পাননি স্যামসন। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তিনিই হয়ে ওঠেন দলের বড় ভরসা। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে খেলা তিন ম্যাচে ২৭৫ রান করেন স্যামসন। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রানের ইনিংস।
ওই তিন ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ান বুমরাহ। ওভারপ্রতি মাত্র ৭ রান খরচ করে ১২ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের এই তারকা পেসার। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
বিশ্বকাপের পরপর নিউ জিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এস্থেইজেন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে ২০০ রান করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
মার্চ মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি' দুই সংস্করণেই দারুণ ছন্দে ছিলেন অ্যামিলিয়া কার। গত মাসে খেলা ৪ ওয়ানডে ১৭৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৮ উইকেট নেন হোয়াইট ফার্ন অধিনায়ক। এছাড়া ৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৭৬ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট নেন তিনি।
আরও পড়ুন
| কাঁথা-বালিশ নিয়ে ‘মাঠেই ঘুমাতে চান’ মুলতান অধিনায়ক |
|
মার্চে খেলা দুই ওয়ানডেতে ১৭১ রান করেন বেথ মুনি। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৬৫ রান। এছাড়া ৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৮.৯১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১০৭ রান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন আয়াবোঙ্গা খাকা। পরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৫৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার।

চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের তখন রীতিমতো কচুকাটা করছেন টিম ডেভিড। একের পর এক ছক্কা মারছেন অবলীলায়। এর মাঝেই জেমি ওভারটনের বলে একটি শট সোজা গেল স্টেডিয়ামের গ্যালারির ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে। সেই ছক্কাটি মেরেই মজা পেয়েছেন ডেভিড।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ডেভিডের আগুনে ব্যাটিংয়ে পুড়েছে চেন্নাই। ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৮টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ২৫ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই মারকুটে ব্যাটার।
তার বিধ্বংসী ইনিংসে চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ ২৫০ রানের পুঁজি পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পরে ৪৩ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে তারা। অসাধারণ এই ইনিংসে বেশ কিছু রেকর্ডও ৩০ বছর বয়সী মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
ডেথ ওভার তথা শেষের চার ওভার থেকেই ৬৮ রান করেছেন ডেভিড। আইপিএলে শেষ চার ওভারে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার চেয়ে বেশি রান আছে শুধু ড্যানিয়েল স্যামসের, ২৪ বলে ৭১।
খুনে ব্যাটিংয়ের এই ইনিংসে ডেভিডের সবচেয়ে ভালো লেগেছে ১৯তম ওভারের চতুর্থ ও শেষ ছক্কাটি। জেমি ওভারটনের ওই ওভারে মোট ৩০ রান নেন ডেভিড। এর মধ্যে শেষ ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ১০৬ মিটার। যা কিনা গ্যালারি পেরিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।
বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ওই ছক্কার কথা বলেন ডেভিড।
“(অনুশীলনে) আমরা ছাদের ওপরে বল পাঠানোর প্রতিযোগিতা করে থাকি। তখন অবশ্য এক প্রান্তের উইকেটগুলোতে খেলে থাকি আমরা। ম্যাচের সময় মাঝ উইকেট থেকে এরকম কিছু করতে পারা তাই সত্যিই সন্তুষ্টির।”
“জেমি (ওভারটন) তখন বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিল। বল ছাদের ওপরে পাঠাতে এটাও সহায়তা করেছে। বেশ মজা পেয়েছি।”

রোববারের ম্যাচ শেষ করার ২০ ঘণ্টার মধ্যে নামতে হবে পরের খেলায়। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারানোর পর এবার মুলতান সুলতান্সের সামনে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ। ব্যস্ত এই সূচিতে তাই কিছুটা মজাই করে নিলেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কোয়েটার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে মুলতান। এই জয়ের পর কোনো ফুরসৎ নেই তাদের। সোমবার রাতেই পিন্ডিজের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ম্যাচ। পরদিন বিকেলে আবার মাঠে যেতে হবে, তাই মাঠ ছেড়ে যেন টিম হোটেলে যেতেই চান না টার্নার। বরং কাঁথা-বালিশ নিয়ে মাঠেই ঘুমিয়ে পড়া ভালো মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান এই অধিনায়ক।
“দুই ম্যাচের মাঝে এত কম সময়। হয়তো আজ রাতে এখানেই কাঁথা-বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে! তবে এটাই পেশাদার ক্রিকেটের বাস্তবতা। আমরা জানি, সূচি এমনই হয়।আমরা পরের ম্যাচে নতুন সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
কোয়েটার বিপক্ষে দাপুটে জয়ই পেয়েছে মুলতান। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৬ রানের বেশি করতে পারেনি কোয়েটা। জবাবে সাহিবজাদা ফারহান, স্টিভেন স্মিথের ঝড়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের এমন পারফরম্যান্সে তৃপ্ত অধিনায়ক টার্নার।
“গত দুই ম্যাচের তুলনায় আজকের কন্ডিশন কিছুটা ভিন্ন ছিল। তবে আমরা এমন একটি পারফরম্যান্স খুঁজছিলাম যেখানে খেলার দুই দিকই একসঙ্গে ঠিকভাবে করতে পারি। আমার মনে হয়, আজ আমরা তিনটি বিভাগেই সেটা করতে পেরেছি-যা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।”
পাকিস্তান সুপার লিগে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মুলতান।