২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৬ পিএম

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো রুবেল হোসেনকে বিশেষ সম্মাননা দিলো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুর আগে সাবেক এই পেসারের সম্মানে রাখা হয় বিশেষ আয়োজন।
টস হেরে বাংলাদেশ দল ফিল্ডিংয়ে নামার আগে গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে সামনে জড়ো হন দলের ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্টের সদস্যরা। সেখানে রুবেলের হাতে তুলে দেওয়া হয় বিশেষ ক্রেস্ট ও বাধাই করা তিন সংস্করণের তিনটি জার্সি। যেখানে তার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যান লেখা রয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সভাপতি তামিম ইকবাল ও এডহক কমিটির দুই সদস্য ফাহিম সিনহা ও রফিকুল ইসলাম বাবু এবং সিইও নিজামউদ্দীন চৌধুরি সুজন।
পরে নিজের বক্তব্যে বাবা-মাকে মিস করার কথা বলেন রুবেল।
“আমি আজকে এখানে দাঁড়াতে পেরেছি দুইজন মানুষের জন্য। তারা হলেন আমার বাবা ও আমার মা। যারা আমাকে আন্তরিকভাবে আমাকে সাহস জুগিয়েছে আমার পাশে ছিলেন আমাকে নিঃস্বার্থভাবে ভালোবেসেছেন। আমি তাদেরকে আজকে খুব মিস করছি।”
গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের সামনে আয়োজনের পর নিজের ছেলেকে নিয়ে উইকেটের কাছে যান বাংলাদেশের এই সাবেক পেসার। উইকেটের কাছে কিছুক্ষণ বসে থেকে হয়তো খেলোয়াড়ি জীবনের কথাই স্মরণ করছিলেন তিনি।
অবসরের ঘোষণার পর এমন সম্মাননা পাওয়ায় বিসিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান রুবেল।
“আমি যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে অবসরের সিদ্ধান্ত জানাই, বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ফোন করে বলেন, 'রুবেল, তোকে আমরা সম্মানিত করতে চাই।' যে বিষয়টা আমার কাছে খুবই গর্বের ও আনন্দের ছিল। আর আজকে এত সুন্দর একটা পরিবেশ... এজন্য আমি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট তামিম ইকবালকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
২০০৯ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেক হওয়া রুবেলের উত্থান মূলত পেসার হান্টের মাধ্যমে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান সেই পেসার হান্টে রুবেলকে প্রথম দেখার পর ধীরে ধীরে সুযোগ করে দেন শীর্ষ পর্যায়ের ক্রিকেটে।
.jpeg)
দীর্ঘ পর্যায়ের শেষ অধ্যায়ে এসে নিজের শুরুর দিনের সেই কোচের কথাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করলেন অভিজ্ঞ পেসার।
“একজন মানুষের নাম না বললেই নয়, আমার রুবেল হোসেন হওয়ার পেছনে যে মানুষটার অবদান অন্যরকম। পেসার হান্ট থেকে থেকে নিয়ে এসে যে আমাকে ওপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছেন, তিনি আমার প্রিয় কোচ শ্রদ্ধেয় সারোয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। স্যারের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।”
একইসঙ্গে ক্যারিয়ারে সবসময় পাশে পাওয়ার সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রুবেল।
“স্কুল পর্যায় থেকে শুরু করে বিসিবির সকল কোচ, গ্রাউন্ডসম্যান, সকল ফিজিক্যাল ট্রেইনার- সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই যারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন, সাহস যুগিয়েছেন ও আমার পাশে ছিলেন।”
“আমার বন্ধুবান্ধব থেকে শুরু করে যারা খারাপ সময়ে পাশে ছিলেন, মিডিয়াকর্মী সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আর বিশেষ করে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যারা আমি যখন জাতীয় দলে খেলা শুরু করি তখন থেকে আজ পর্যন্ত আমাকে সাপোর্ট করে যাচ্ছেন। সবাইকে ধন্যবাদ।”
২০২১ সালের এপ্রিলে সর্বশেষ নিউ জিল্যান্ড সফরের দলে জায়গা হয়েছিল রুবেলের। এরপর আর তাকে লাল সবুজ জার্সিতে আর দেখা যায়নি। ২০২০ সালের পর থেকে তিনি আর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলেননি। খেলেননি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের সর্বশেষ আসরেও।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২৭ টেস্টে ৩৬ উইকেট, ১০৪ ওয়ানডেতে ১২৯ উইকেট ও ২৮ টি-টোয়েন্টিতে ২৮ উইকেট নিয়েছেন রুবেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানালেও ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
No posts available.
২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এম


প্রথম বলেই ফিরতে পারতেন ড্রেসিং রুমে। মোহাম্মদ সিরাজের বলে বিরাট কোহলির সহজ ক্যাচ ছেড়ে দিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর। জীবন পেয়ে এর সদ্ব্যবহার করতে ভুল করলেন না কোহলি। দারুণ ইনিংসে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে বেশ কিছু রেকর্ডও গড়লেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট।
আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে গড়েছেন ৮০০ চার মারার রেকর্ড। একইসঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো দলের হয়ে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৩০০ ছক্কা মারার রেকর্ডও গড়েছেন বেঙ্গালুরুর এই কিংবদন্তি।
ঘরের মাঠে শুক্রবার গুজরাট টাইটান্সকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে বেঙ্গালুরু। ২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রান তাড়ায় নিজের সেরা সময়কে মনে করিয়ে ৪৪ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন কোহলি। জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
ওপেনিংয়ে নেমে ৮ চারের সঙ্গে ৪টি ছক্কা মেরেছেন কোহলি। ম্যাচ শুরুর আগে আইপিএলে কোহলির নামের পাশে ছিল ৭৯৯ চার ও ২৯৯টি ছক্কা।
জীবন পাওয়ার পরের ওভারেই কাগিসো রাবাদার বলে বাউন্ডারি মেরে ৮০০ চার পূর্ণ করেন কোহলি। এই ক্লাবে তার কোনো সঙ্গী নেই। তিনি একাই আছেন আইপিএলে ৮০০ চারের অভিজাত ক্লাবে।
সর্বোচ্চ চারের তালিকায় দুই নম্বরে আছেন শিখর ধাওয়ান, ৭৬৮টি চার। এছাড়া ডেভিড ওয়ার্নার ৬৬৩ ও রোহিত শর্মা মেরেছেন ৬৫৩টি চার।
পরে রশিদ খানকে ছক্কা মেরে ৩০০ ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেন কোহলি। আইপিএল ইতিহাসে এই প্রথম একটি দলের হয়ে ৩০০ ছক্কা মারলেন কোনো ব্যাটার। এই ক্লাবে ঢুকতে কোহলি খেলেছেন মোট ২৬৬ ইনিংস।
তবে সব মিলিয়ে আইপিএলে ৩০০ ছক্কা আছে ক্রিস গেইল ও রোহিত শর্মার। কলকাতা নাইট রাইডার্স, কিংস এলেভেন পাঞ্জাব ও বেঙ্গালুরুর হয়ে ১৪১ ইনিংসে ৩৫৭টি ছক্কা মেরেছেন গেইল। আর মুম্বাই ইন্ডিয়ান ও ডেকান চার্জার্সের হয়ে ২৭১ ইনিংস খেলা রোহিতের ছক্কা ৩১০টি।
গুজরাটের বিপক্ষে ম্যাচে ৪৯তম রান নিয়ে ভারতের মাঠে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার রানও পূর্ণ করেছেন কোহলি। এই সংস্করণে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো দেশে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি। এজন্য লেগেছে ২৯১ ম্যাচ।
এই তালিকার দুইয়ে রোহিত। এখন পর্যন্ত ভারতের মাঠে ৩১৯ ম্যাচে তার সংগ্রহ ৮ হাজার ৫৬৩ রান।
আরেকটি দারুণ মাইলফলকও হাতছানি দিচ্ছে কোহলির সামনে। আইপিএল ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে ৯ হাজার রান করতে আর মাত্র ১১ রান প্রয়োজন তার। পরের ম্যাচেই হয়তো সেই কীর্তি গড়ে ফেলবেন ভারতের কিংবদন্তি।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ন্যাথান স্মিথের লো বাউন্সি ডেলিভারিতে নাজমুল হোসেন শান্ত বোল্ড আউট হয়েছেন, তা দেখে সমালোচকদের তিরে বিদ্ধ হতে হয়েছে নির্বাচকদের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে গোল্ডেন ডাক পাওয়া এই শান্তই সিরিজে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। ১ সেঞ্চুরি, ১ ফিফটিতে করেছেন ৭৭.৫০ গড়ে ১৫৫ রান। কীভাবে সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে এতোটা ইউটার্ন দিলেন শান্ত ? এটাই এখন গবেষণার বিষয়।
তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫০ এবং শেষ ম্যাচে ১০৫ রানের পেছনে অন্যতম কারন ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন। তিন থেকে চার নম্বরে ব্যাটিং অর্ডার নামিয়ে আনায় স্বাচ্ছন্দে ব্যাটিং করতে পেরেছেন শান্ত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে শান্ত ব্যাটিং করেছেন ৩ নম্বর পজিশনে, ওডিআই ক্রিকেটে যে পজিশনে ৬৪টি ইনিংসের মধ্যে ৪৮টি ইনিংসে করেছেন ব্যাটিং। এই ৪৮টি ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৩০.৫০। অথচ, সিরিজের পরের দুই ম্যাচে ৪ নম্বরে ব্যাট করেছেন শান্ত, যে পজিশনে শান্ত ৮ ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি, ২ ফিফটি করেছেন, চার নম্বরে তার ব্যাটিং গড় ৬৫.৫০, স্ট্রাইক রেট ৮১.৮৭।
চার নম্বরটা যে তার সঙ্গে বেশ মানিয়ে নেয়, তা জানিয়ে দিয়েছেন শান্ত এই পজিশনে প্রথম ব্যাট করে। ২০২৩ সালে লাহোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ৪ নম্বরে নেমে লাহোরে দিয়েছিলেন সেঞ্চুরি উপহার (১০৪)। ৪ নম্বরে নেমে পরের ম্যাচে ও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধর্মশালায় খেলেছেন ম্যাচ উইনিং ইনিংস (৫৯*)। ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের ম্যাচ উইনারকে পরের ৮টি ম্যাচের মধ্যে ২টিতে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় পজিশনে ব্যাটিং ফিরে পেয়েছেন শান্ত দুই বছর পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৪ রানের ইনিংসের পর আবারো ফিরে যেতে হয়েছে তাকে ৩ নম্বরে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচে সৌম্যকে ফেরানোয় সৌম্য'র যতোটা না লাভ হয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি লাভ হয়েছে শান্ত'র। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফর্ম ফিরে পেয়েছেন, ১৩ ইনিংস পর পেয়েছেন ফিফটি। সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরিটি সেখানে প্রতীক্ষিত। সময়ের হিসেবে ২৫ মাস, আর ম্যাচের হিসেবে ২০ ইনিংস পর উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি।
ওডিআই ক্রিকেটে নুতন বলে মানিয়ে নিতে সময়ক্ষেপন হলেও সমস্যা নেই, ব্যাটিং পাওয়ার প্লে পেরিয়ে যাওয়ার পর ইনিংসের মাঝপথে সিঙ্গল-ডাবলে অনায়াসে স্কোর সমৃদ্ধ করতে পারেন। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে তা জানিয়ে দিয়েছেন শান্ত। প্রথম রানটির জন্য অপেক্ষা করেছেন ৭ম বলের মোকাবেলা পর্যন্ত। ও' রোর্কেকে স্ট্রেইট ড্রাইভে লং অনে খেলে ২ রানে শুরু তার ইনিংস। পুরো ইনিংসে একটিবারও দেননি সুযোগ।
বৃহস্পতিবার বিশেষ আতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট বক্সে পুরো খেলা দেখেছেন সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ের জন্য শান্ত আদর্শ বলে মনে করছেন-‘ তিন এবং চার নম্বরের ব্যাটারের বৈশিষ্ট্য পুরো আলাদা। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে প্রধান দায়িত্ব সিঙ্গল-ডাবলে ইনিংসটা টেনে নিয়ে যাওয়া। শান্ত সে কাজটাই করেছে। উপরে খেলার প্রবনতা দেখিনি। ব্যাটিংয়ের সময়ে অধৈর্য হতে দেখিনি। রান রেটটাও ঠিক রেখেছে। লিটনকে গাইড করে ১৬০ রানের পার্টনারশিপেও শান্ত নেতৃত্ব দিয়েছে। এমন এক বৈশিষ্ট্যের ব্যাটারের জন্য ৪ নম্বর পজিশন পারফেক্ট। তিন নম্বরের জন্য একজন জেনুইন ব্যাটার দরকার। এ ব্যাপারে নির্বাচকরা বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’

তৃতীয় দিনেই ইনিংস ব্যবধানে জয়ের সুবাস পাচ্ছিল পূর্বাঞ্চল। চতুর্থ দিনে জয় পেতে খুব একটা সময় নিল না তারা। দ্রুতই মধ্যাঞ্চলের বাকি উইকেট নিয়ে বড় জয় নিশ্চিত করল।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএলে) প্রথম রাউন্ডে ইনিংস ও ৫৩ রানে জিতেছে পূর্বাঞ্চল। চতুর্থ দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেটে ৮২ রান নিয়ে মাঠে নামা মার্শাল আইয়ুবের দল ২১ রান করেই বাকি তিন উইকেট হারায়।
আরও পড়ুন
| ইরানের জায়গায় বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তাবকে ‘লজ্জাজনক’ বলে প্রত্যাখান ইতালির |
|
ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৩০৭ রান করে মধ্যাঞ্চল। জবাবে অমিতের সেঞ্চুরির সঙ্গে মাহমুদুল হাসান জয়, মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলি রাব্বির ফিফটিতে ৪৬৩ রান করে পূর্বাঞ্চল। ১৫৬ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকে মধ্যাঞ্চল। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও সমান চারটি উইকেট নেন ইবাদত হোসেইন।
এর আগে ৩ উইকেটে ২৪৩ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করে পূর্বাঞ্চল। সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগালেও ৮৩ রান করে জিসান আলমের বলে কট বিহাইন্ড হয়ে যান মুশফিক। তার বিদায়ে ভাঙে অমিতের সঙ্গে গড়া ১৫১ রানের চতুর্থ উইকেট জুটি।
এরপর ইয়াসির রাব্বির সঙ্গে ১০৭ রানের জুটি গড়েন অমিত। চমৎকার ব্যাটিংয়ে ৪৯ ম্যাচের প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারে ১১তম সেঞ্চুরি করেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। ডাবল সেঞ্চুরি মনে হচ্ছিল তখন সময়ের ব্যাপার। তবে ১৬২ রানে থামতে হয় তাকে। পরে অন্য প্রান্তে আর সঙ্গী পাননি ইয়াসির। শেষ পর্যন্ত ৭৯ রানে অপরাজিত থেকে যান তিনি। মধ্যাঞ্চলের পক্ষে ১৫২ রানে ৫ উইকেট নেন রকিবুল।

২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিলেন নিউজিল্যান্ড অলরাউন্ডার সুজি বেটস। আর এর মধ্য দিয়েই ইতি ঘটবে নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের দুই দশকের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার।
মে’র শুরুতে নিউজিল্যান্ডের ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সফরের জন্য দলের সঙ্গে ইংল্যান্ড ভ্রমণ করবেন কিংবদন্তি সুজি বেটস। এরপরই ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে 'হোয়াইট ফার্নস' তাদের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে নামবে।
নিজের যাত্রা সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বেটস আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর কাটানো সময়ের জন্য গর্ব ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন, ‘আমি যখন গত ২০ বছরেরও বেশি সময়ের দিকে ফিরে তাকাই, আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে সময় কত দ্রুত কেটে গেছে। নিউজিল্যান্ডের জার্সিতে এতবার মাঠে নামতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। এই দলের জন্য প্রতিদিন একজন ভালো মানুষ, সতীর্থ, ক্রিকেটার এবং অ্যাথলেট হওয়ার চেষ্টায় আমি গভীর উদ্দেশ্য এবং আনন্দ খুঁজে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন
| ‘দেশের সম্পদ নাহিদ’, যত্ন নিতে বললেন মিরাজ |
|
ক্যারিয়ারের শেষ অংশ বিশ্বকাপ জিতে রাঙাতে চান সুজি বেটস, ‘আমার শেষ একটি মিশন বাকি: ইংল্যান্ডে যাওয়া—এমন একটি জায়গা যেখানে আমার অনেক বিশেষ স্মৃতি রয়েছে—এবং আরেকটি বিশ্বকাপ জয় করা। আমি আমার এই শেষ অভিযানে শক্তির শেষ বিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব এবং প্রতিটা মিনিট উৎসর্গ করব এই দলকে এমন ক্রিকেট খেলতে সাহায্য করতে যাতে আমরা এবং আমাদের দেশ গর্ববোধ করতে পারি।’
২০০৩ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে বেটসের ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক হয় এবং এর তিন বছর পর ২০০৬ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায় শুরু হয়। বর্তমানে তিনি ৪,৭১৭ রান নিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এবং ৫,৯৬৪ রান নিয়ে নারী ওয়ানডে-তে চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি প্রায় সাত বছর নিউজিল্যান্ডকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০১৬ সালে উইজডেন তাকে বিশ্বের সেরা নারী ক্রিকেটার হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
নিজের কাছের মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সুজি বেটস বলেন, ‘আমার প্রিয়জন এবং আমার পরিবার—সব সময় পাশে থাকার জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। এবং আমার সঙ্গী স্কটি ও তার ছেলেদের বলছি: তোমরা এই দারুণ খেলাটি আমার জীবনে নিয়ে আসা সব চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী হয়ে ছিলে। আমি সেই সব স্টাফ এবং কোচদের প্রতিও বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে চাই যারা বছরের পর বছর ধরে নারী ক্রিকেটের জন্য এত কিছু দিয়েছেন, অথচ অনেক ক্ষেত্রেই তার স্বীকৃতি বা পুরস্কার পাননি।’
নিউজিল্যান্ডের বর্তমান অধিনায়ক অ্যামেলিয়া কার বেটসকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে অভিহিত করেছেন। কার বলেন, ‘বড় হওয়ার সময় সুজি আমার রোল মডেল ছিলেন এবং তিনি যখন অধিনায়ক ছিলেন তখন আমি দলে সুযোগ পাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করি। আপনি যদি কখনও তার সাথে খেলার সুযোগ পান, তবে জানবেন যে তিনি বিশ্বের অন্যতম নিঃস্বার্থ ক্রিকেটার এবং অন্যতম সেরা সতীর্থ।’