২৮ অক্টোবর ২০২৫, ১১:৩১ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) স্পট ফিক্সিংয়ের অভিযোগে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। গত আগস্টে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। আজ মঙ্গলবার রাতে বিসিবি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে, চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনও তাদের কাছে জমা পড়েছে।
বিসিবিকে দেওয়া প্রতিবেদনের আকার প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠা। এতে বিপিএলের দুর্নীতিগ্রস্ত কার্যপ্রণালি ও পরিচালনাগত ত্রুটি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক পুনর্গঠন, ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রক্রিয়া, খেলোয়াড়দের সুরক্ষা বাড়ানো, ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সবার জন্য যোগাযোগ কাঠামো আরও শক্তিশালী করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কাজ শেষ হলেও এখনই বিসিবি সব তথ্য প্রকাশ করবে না। চলমান প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্যও করেনি দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশগুলো বিসিবি বিবেচনায় নেবে এবং আইসিসির দুর্নীতি দমন কোড অনুযায়ী নির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনে আরও তদন্ত করবে।
দেশীয় ক্রিকেটকে নিরাপদ রাখতে বিসিবি একটি স্বাধীন ইন্টিগ্রিটি ইউনিট গঠন করেছে। ইউনিটটির নেতৃত্বে থাকবেন একজন স্বাধীন চেয়ারম্যান, যা বোর্ডের স্বচ্ছতা ও নিয়মভিত্তিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
No posts available.
৬ মে ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম

ঐতিহ্যগতভাবে
স্পিন নির্ভর দল হিসেবে দেখা হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে পেস বোলিং বিভাগে চমৎকার উন্নতি
করেছে বাংলাদেশ দল। প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের মনে কাঁপন ধরাতে পারদর্শী তাসকিন আহমেদ, নাহিদ
রানারা। তাই পাকিস্তানের চেয়ে নিজেদের পেস বিভাগকেই এগিয়ে রাখছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার শুরু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের প্রথম
টেস্ট। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের স্পোর্টিং উইকেটের কথা মাথায় রেখে পাঁচ পেসার নিয়ে
খেলতে এসেছে পাকিস্তান।
সফরকারীদের
পেস আক্রমণে আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, মোহাম্মাদ আব্বাস, হাসান আলি, খুররাম শাহজাদ ও
আমাদ বাট। বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে পেসার আছে চার জন- তাসকিন আহমেদ, নাহিদ
রানা, শরিফুল ইসলাম ও ইবাদত হোসেন চৌধুরি।
২০২৪
সালের ডিসেম্বরের পর আবার টেস্ট খেলার অপেক্ষায় তাসকিন। আর সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডে
ও টি-টোয়েন্টিতে আগুনঝরা বোলিং করে 'টক অব দা টাউন' হয়ে গেছেন নাহিদ। এছাড়া শরিফুল
আর ইবাদতও আছেন দারুণ ছন্দে।
সব
মিলিয়ে তাই ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দুই দলের পেস আক্রমণের তুলনামূলক বিচারে
নিজ দলকেই এগিয়ে রাখেন বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত।
“পেস বোলিং বিভাগে আমি বলব, দুই দলেরই ভালো পেস আক্রমণ। তবে আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন আমি বলব যে, আমাদের পেস বোলিং আক্রমণ হয়তো সামান্য একটু এগিয়ে আছে। গত কয়েক বছর ধরে তারা যেভাবে বোলিং করছে।”
“পাকিস্তান নিয়ে যখনই কথা বলি, সবসময় ওদের পেস বোলিং নিয়ে কথা বলি। এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই, তারা খুব ভালো দল ও খুব ভালো পেস বোলিং বিভাগ। তবে গত কয়েক বছর আমরা যেভাবে পেস বোলাররা বল করছে, তাদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে।”

অষ্টম ব্যাটার হিসেবে আহমেদ শরীফ যখন ফিরে যান, তখনও ৬৯ রানে অপরাজিত সামিউন বশির রাতুল। সেঞ্চুরি তখনও নেই দৃষ্টিসীমানায়। তবে সেটিকেই বাস্তব করে দিলেন তরুণ অলরাউন্ডার। চমৎকার ব্যাটিংয়ে চলতি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের প্রথম শতক উপহার দিলেন তিনি।
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সের বিপক্ষে তাণ্ডব চালিয়েছেন রাতুল। ৬ চারের সঙ্গে ১০টি ছক্কা মেরে মাত্র ৭০ বলে তিনি খেলেছেন ১১৬ রানের অপরাজিত ইনিংস। লিস্ট 'এ' তো বটেই, স্বীকৃত ক্রিকেটেই এটি তার প্রথম সেঞ্চুরি।
রাতুলের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ৮ উইকেটে ৩৫৮ রানের বড় পুঁজি পেয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। এছাড়া আইচ ৭১ বলে ৬২ ও তানবীর হায়দার খেলেছেন ৫১ বলে ৫৬ রানের ইনিংস। শেষ দিকে মাসুম খান টুটুলের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে অপরাজিত ৩৫ রান।
আরও পড়ুন
| রিয়াল ড্রেসিংরুমে অস্থিরতা, এবার হাতাহাতিতে জড়ালেন ভালভার্দে-চুয়ামেনি |
|
লিগের প্রথম রাউন্ডের ম্যাচে অল্পের জন্য প্রথম সেঞ্চুরিয়ান হতে পারেননি রাতুলের সতীর্থ আশিকুর রহমান শিবলি। সেদিন ৯৯ রানের অপরাজিত থেকে যান তরুণ ওপেনার। এবার শিবলির দল রূপগঞ্জ থেকেই দেখা মিলল ডিপিএলের প্রথম সেঞ্চুরিয়ানের।
২৮তম ওভারে আইচ মোল্লার বিদায়ের পর সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামেন রাতুল। তার ঝড়ে ইনিংসের বাকি ১৩৬ বল থেকে ১৮৮ রান করতে পারে রূপগঞ্জ। যেখানে রাতুলের অবদান ৭০ বলে ৬ চার ও ১০ ছক্কায় ১১৬ রান।
শুরু থেকেই তাণ্ডব চালিয়ে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ৩৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন রাতুল। সেখান থেকে একই ছন্দে এগিয়ে ২৭ বলে করেন পরের পঞ্চাশ রান।
নবম উইকেটে রাতুলকে দারুণ সঙ্গ দেন মাসুম খান টুটুল। দুজন মিলে মাত্র ৪৬ বলে গড়ে তোলেন ৮৫ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি। যার সৌজন্যে রূপগঞ্জ পায় চলতি লিগে এখন পর্যন্ত দলীয় স্কোর।

বাংলাদেশ সফরের আগে নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পাকিস্তানে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী ৩০ মে রাওয়ালপিন্ডিতে প্রথম ওয়ানডের মধ্য দিয়ে শুরু হবে তিন ম্যাচের এই দ্বিপাক্ষিক সিরিজ।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ঘোষণা অনুযায়ী, ২৩ মে অস্ট্রেলিয়া দল ইসলামাবাদে পৌঁছাবে। ৩০ মে রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে হবে। এরপর দল দুটি পাড়ি জমাবে লাহোরে। সেখানে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ২ জুন দ্বিতীয় এবং ৪ জুন সিরিজের শেষ ওয়ানডে ম্যাচটি হবে।
আরও পড়ুন
| নুতন পরিচয়ে বাংলাদেশ মিশনে সরফরাজ-গুল-শফিক |
|
২০২২ সালের পর এটিই পাকিস্তানে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ। এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল অজিরা। যেখানে তারা হেরেছিল ৩-০ ব্যবধানে।
ঘরের মাঠে সবশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে অস্ট্রেলিয়াকে উড়িয়ে দিলেও ওয়ানডেতে খুব একটা স্বস্তিতে নেই পাকিস্তান। মার্চে বাংলাদেশের মাটিতে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হেরেছে তারা।
গত বছরের অক্টোবরে ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজের পর এটি অজিদের প্রথম ওয়ানডে অ্যাসাইনমেন্ট। পাকিস্তান সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার একাধিক সিনিয়র খেলোয়াড়ের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার অধিকাংশ ক্রিকেটার ভারতে আইপিএল খেলতে ব্যস্ত। টুর্নামেন্ট শেষ হবে ৩১ মে।
পাকিস্তানে ওয়ানডে সিরিজ শেষ করে বাংলাদেশে সফরে আসবে অজিরা। ৯ জুন থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ১৭ জুন শুরু হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ।

দুজনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত উইকেট কিপার ব্যাটার হিসেবে। দুজনেই তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে ক্যাপ্টেন্সি করেছেন। বলছি মুশফিকুর রহিম এবং সরফরাজ আহমেদের কথা। সরফরাজ আহমেদের চেয়ে বয়সে ১১৩ দিন বড় মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও এই দুইজনের মধ্যে সিনিয়র মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের আড়াই বছর পর অভিষেক হয়েছে সরফরাজ আহমেদের। তবে সরফরাজ আহমেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেমে গেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সেখানে টেস্টে ধারাবাহিক পারফরমেন্সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও কিছুদিন খেলার পথটা মসৃন করেছেন মুশফিকুর রহিম।
আসন্ন টেস্ট সিরিজে দুজনকে দেখবে দর্শক দুই ভুমিকায়। মাঠে খেলবেন মুশফিক, ডাগ আউট আর ড্রেসিংরুম থেকে পাকিস্তান দলকে নির্দেশনা দিবেন সরফরাজ আহমেদ।
৫৪ টেস্ট, ১১৭ ওডিআই ৬১ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিন ফরম্যাটেই ক্যাপ্টেনসি করেছেন। ক্যাপ্টেনসি ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো আসরে এটাই পাকিস্তানের সর্বশেষ ট্রফি। ওডিআই ক্রিকেটে ক্যাপ্টেন্স রেকর্ডটাও তাঁর দারুণ। ক্যাপ্টেন্সির ৫০ ম্যাচে ২৮ জয়। সংক্ষিপ্ত সংস্করনের ক্রিকেটে পাকিস্তান অধিনায়কদের মধ্যে সাফল্যাঙ্কটা তাঁর সবচেয়ে বেশি। তাঁর ক্যাপ্টেনসি অধ্যায়ে ৩৭ ম্যাচের ২৯টিতে জিতেছে পাকিস্তান, সাফল্যাঙ্ক ৭৮.৩৭%।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ২০২৩ সালে থামলেও আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন এ বছরের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুডবাই বলার আগে পেয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি)-এ কাজ করার সুযোগ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান শাহিনস এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দল দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে দেখিয়েছেন কারিশমা। সে বছরের ডিসেম্বরে এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে মেন্টরের ভুমিকায় পাকিস্তানকে দিয়েছেন শিরোপা উপহার। তাঁর পুরস্কার পেয়েছেন সফরফরাজ আহমেদ। এ বছরের এপ্রিলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে এসেছেন বাংলাদেশ সফরে। লাল বলের ক্রিকেটের জন্যই তাঁকে হেড কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে পিসিবি।
অধিনায়ক হিসেবে সফল সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ারেও সফল হতে চান। বাংলাদেশ সফর দিয়ে নুতন পরিচয়কে রাখতে চান স্মরণীয় করে। সম্প্রতি এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমনটাই জানিয়েছেন- ‘ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা বেশ ভালভাবেই কাটিয়েছি। কোচ হিসেবেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চাই। ঘরোয়া পর্যায়ে এবং ক্রিকেট একাডেমিতে কোচিংয়ের কিছু অভিজ্ঞতা আমার আছে। টেস্ট ক্রিকেট নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সময়ের সাথে সাথে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’
টেস্টে সরফরাজ আহমেদের দুই ডেপুটি ওমর গুল-আসাদ শফিক। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্ট এবং ২০১২ সালে মিরপুরে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশকে কাঁদিয়েছেন যিনি, এক সময়ের সেই গতির বোলার ওমর গুল এবার বাংলাদেশে এসেছেন বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়ে। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান জাতীয় দলের খন্ডকালীন এই বোলিং কোচের জন্যও বাংলাদেশ সফর চ্যালেঞ্জিং।
টেস্টে ব্যাটিংয়ে সফল আসাদ শফিকের রেকর্ডটা বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ। ৫ টেস্টে ৬৯.৩৩ গড়ে ৪১৬ রানের মধ্যে ২০১১ সালে চট্টগ্রামে এবং ২০১৫ সালে মিরপুরে সেঞ্চুরি আছে তাঁর। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো যার অভ্যেস, ৪০ বছর বয়সী সেই আসাদ শফিক এখন বাবর আজমকে ব্যাটিং গুরু।
পাকিস্তানের কোচিং স্টাফের এই তিনজনের দিকে চোখ রাখতে হবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বাইশ গজে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উদীয়মান বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। চলমান আইপিএলেও রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে ব্যাটিংয়ে সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিচ্ছেন তিনি। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রতিভায় ক্রিকেট বোদ্ধাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই কিশোরের বিরুদ্ধে এবার উঠেছে 'শোষিত' হওয়ার অভিযোগ।
কর্ণাটকের এক সমাজকর্মী তাকে দিয়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলানোকে ‘শিশুশ্রম’ ও ‘আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৈভবের অনবদ্য পারফরম্যান্সের সুফল ভোগ করা রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে এখন রীতিমতো মামলা দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সিএম শিবকুমার নায়ক নামের ওই সমাজকর্মী একটি কন্নড় নিউজ চ্যানেলের টকশোতে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘শিশুশ্রম’-এর অভিযোগ তোলেন।
রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো কী
রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই আলোচনায় নায়ক বলেন, ‘রাজস্থান রয়্যালসের এই ১৫ বছর বয়সী ছেলে বৈভব সূর্যবংশীকে শোষণ করা হচ্ছে। সে নেহাতই একজন শিশু, যার বয়স মাত্র ১৫। তাকে আইপিএলের মতো জায়গায় পেশাদার ক্রিকেট খেলার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। এটি শিশুশ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। এত বড় একটি লিগে তারা কীভাবে একজন নাবালককে খেলাতে পারে? এই অল্প বয়সে ক্রিকেট খেলার বদলে তার এখন পড়াশোনায় মন দেওয়া এবং স্কুলে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং শিশু অধিকার ও শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে রাজস্থান রয়্যালস ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ বা আইনি মামলা দায়ের করব। এই ছেলেকে আইপিএল খেলতে দেবেন না, এটা শিশুশ্রম; তার পড়াশোনা করা উচিত।’
আইসিসি-র নিয়ম কী বলছে
সদ্য ১৫ বছরে পা দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী, যা তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য আইসিসি-র 'ন্যূনতম বয়স যোগ্যতা' অনুযায়ী বৈধ করে তুলেছে। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় তখনই আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা অনূর্ধ্ব-১৯ ইভেন্টে অংশ নিতে পারবেন, যদি স্কোয়াড জমা দেওয়ার দিনে বা টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখে তার বয়স অন্তত ১৫ বছর হয়।
অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে বৈভবের গত বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এক্ষেত্রে আইসিসি-র নিয়মে একটি 'বিশেষ প্রেক্ষপট' রাখা হয়েছে। যদি কোনো জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড মনে করে যে কোনো খেলোয়াড় অসাধারণ প্রতিভাবান, তবে ১৫ বছরের নিচে হলেও আইসিসি-র 'এক্সেপশনাল সারকামস্ট্যান্সেস কমিটি'-র অনুমতি নিয়ে তাকে খেলানো সম্ভব। বৈভবের ক্ষেত্রেও ভারত সেই বিশেষ অনুমতি পেয়েছিল।
বিসিসিআই-এর নিয়ম
বিসিসিআই-এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অনূর্ধ্ব-১৬ বা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারকে আইপিএলে সুযোগ পেতে হলে অন্তত একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে আইপিএল ২০২৫ বা ২০২৬ মৌসুমে খেলতে কোনো বাধা নেই, কারণ মাত্র ১২ বছর বয়সেই বিহারের হয়ে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর অভিষেক হয়েছিল। ফলে বিসিসিআই-এর প্রোটোকল অনুযায়ী সে সম্পূর্ণ যোগ্য।
বিতর্ক একপাশে রেখে আইপিএলে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে ৪০৪ রান করেছেন সূর্যবংশী। একটি সেঞ্চুরিসহ তার স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছে ঝোড়ো ২৩৭-এ। বাঁহাতি এই ওপেনারকে নিয়ে এরই মধ্যে জাতীয় দলে ডাকার দাবি উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই ভারতের জার্সিতে তাঁর অভিষেক হতে পারে।