দুই দলের সবশেষ দিবারাত্রির টেস্টের প্রথম বলেই উইকেট নিয়ে বেঁধে দিয়েছিলেন ম্যাচের সুর। ভারতের বিপক্ষে আরেকটি দিবারাত্রির টেস্টের প্রথম বলেই আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ইয়াশাশভি জয়সওয়ালকে ফিরিয়ে দিলেন মিচেল স্টার্ক। অভিজ্ঞ এই পেসারের ফাইফারে ঘুরে দাঁড়াতেই পারল না ভারতের ইনিংস। সম্ভব হলো না দুইশ ছোঁয়াও। শুরুতেই উইকেট হারালেও অস্ট্রেলিয়ার দিনটা শেষ করল সুবিধাজনক অবস্থায় থেকেই।
অ্যাডিলেড ওভালে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফ্রির দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে ভারত গুটিয়ে গেছে মাত্র ১৮০ রানেই। অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ১ উইকেটে ৮৬ রান, পিছিয়ে আছে ৯৪ রানে।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ফেলে আইপিএলের নিলামে যাচ্ছেন স্পিন কোচ ভেট্টোরি |
![]() |
প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং লাইনআপের ওপর দাপট দেখিয়ে শতক হাঁকান জয়সওয়াল। ওই ইনিংসে স্টার্ককে বেধড়ক পিটুনিই দিয়েছিলেন ভারত ওপেনার। ফলে এই দুজনের লড়াইয়ের আশায় ছিলেন সবাই। তবে এবার শতভাগ সফল নন অজি তারকা পেসার। সুইং করা ডেলিভারিটি আঘাত হানে জয়সওয়ালের প্যাডে। গোল্ডেন ডাকের তেতো অভিজ্ঞতা হয় তরুণ এই ব্যাটারের।
এই ম্যাচ দিয়ে একাদশ ফেরা অধিনায়ক রোহিত শর্মা ওপেনিং ছেড়ে নেমে যান ছয় নম্বরে। প্রথম টেস্টে মেকশিফট ওপেনার হিসেবে খেলা লোকেশ রাহুল প্রথম ঘণ্টায় অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামাল দেন সলিড ডিফেন্সে। এই টেস্ট দিয়ে একাদশে ফেরা তিনে নামা শুবমান গিল প্রথম ওভারে ক্রিজেই গিয়েই মারেন তানা দুই বাউন্ডারি।
এরপর রয়েসয়ে খেলে রাহুলকে দেন যোগ্য সঙ্গ। জমে যাওয়া এই জুটিতে যোগ হয় ৬৯ রান। দুজনই যখন পুরোপুরি সেট, তখন ফের আঘাত হানেন সেই স্টার্কই। ৬ চারে ৩৭ রানে শেষ হয় রাহুলের প্রতিরোধ। ভারতকে আরও চাপে ফেলে আগের ম্যাচের আরেক সেঞ্চুরিয়ান বিরাট কোহলিকেও ফিরিয়ে দেন বাঁহাতি এই পেসার। অফস্ট্যাম্পের বাইরের বল তাড়া করে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এই তারকা ব্যাটার।
জশ হ্যাজলউডের চোটে এই ম্যাচে সুযোগ পাওয়া স্কট বোল্যান্ড দিবারাত্রির টেস্টে বরাবরই দারুণ এক বোলার। সেই খ্যাতি ধরে রেখে জোড়া ধাক্কায় ভারতের চাপ আরও বাড়িয়ে দেন তিনি। ৩১ রান করা গিলের পর শিকার বানান ২৩ বলে ৩ করা রোহিতকেও। ১৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ভারত চলে যায় ব্যাকফুটে।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে গিলকে ‘পাচ্ছে না’ ভারত |
![]() |
স্বভাবসুলত আগ্রাসী ব্যাটিং না করে কিছুটা ধরে খেলার দিকেই মনোযোগী ছিলেন রিশাভ পান্ত। তবে পারেননি বড় স্কোর গড়তে। ২ বাউন্ডারিতে করতে পারেন ২১ রান। তবে আগ্রাসী ব্যাটিংটা করেন এই ম্যাচ দিয়েই একাদশে আসা অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দন অশ্বিন। খেলেন ২২ বলে ২২ রানের ক্যামিও।
তবে ভারতের দেড়শ পার করে দুইশ রানের কাছাকাছি যাওয়ার একমাত্র কৃতিত্ব পেস বোলিং অলরাউন্ডার নিতিশ রেড্ডির। প্রথম টেস্টেও জানান দিয়েছিলেন ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের। এবার দলের বিপদে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে পরীক্ষাই নেন অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের। সমান তিনটি করে চার ও ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে মূল্যবান ৪২ রান।
৪৮ রানে ৬ উইকেট নেন স্টার্ক। টেস্টে এই নিয়ে ১৫বার ইনিংসে পাঁচ বা তার বেশি উইকেট পেলেন তিনি।
পার্থ টেস্টের প্রথম ইনিংসেও দুইশর কম করেও শেষ পর্যন্ত বড় জয় পেয়েছিল ভারত, যেখানে অবদান রাখেন দলটির পেসাররা। এবারও শুরু থেকেই অজি ওপেনারদের প্রতিটি রানের জন্য রীতিমত সংগ্রাম করিয়ে ছাড়েন জাসপ্রিত বুমরাহ ও মোহাম্মদ সিরাজ। বিশেষ করে বুমরাহকে ব্যাটাররা যেন একটু বেশিই সমীহ করে খেলছিলেন। সাথে হারশিত রানাও আঁটসাঁট বোলিং ধরে রাখেন চাপটা।
আরও পড়ুন
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে গিলকে ‘পাচ্ছে না’ ভারত |
![]() |
ফলে রানের জন্য হাঁসফাঁস করতে থাকা দুই ওপেনার নাথান ম্যাকসুইনি ও উসমান খাজা কয়েকবার বেঁচে যান অল্পের জন্য। তাদের অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ ব্যাটিং দেখে ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রি বলছিলেন, এই ধরণের ব্যাটিং ভারতকে ম্যাচে ফেরার বিশ্বাসটা বাড়িয়ে দিতে পারে। ১০ ওভারে রান আসে মাত্র ২৪।
শেষ পর্যন্ত ফর্মের তুঙ্গে থাকা বুমরাহ শেষ পর্যন্ত পান সাফল্যের দেখা। অফস্ট্যাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে ব্যাটের কানায় লেগে প্রথম স্লিপে রোহিতের ক্যাচ শেষ হয় খাজার ১৩ রানের সংগ্রামী ইনিংস।
সেই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার সামনে ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জই। কারণ, টেস্ট ক্রিকেটে এখনও নতুন ম্যাকসুইনি প্রথম টেস্টে পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। আর মার্নাস লাবুশেন তো লম্বা সময় ধরেই নেই রানের মধ্যে। বেশ খানিকটা সময়েই তাই দুই ব্যাটারকে ভারতের পেসারদের সামনে দিতে হয় কঠিন পরীক্ষা।
বুমরাহর কয়েকটি ইনসুইঙ্গার দুই ব্যাটারকে পারেননি অল্পের জন্য আউট করতে। কয়েকটি দুর্দান্ত আউটসুইঙ্গার আবার পরাস্ত করে পুরোপুরিভাবে। তবে সেই সময়ে দাঁতে দাঁত চেপে ব্যাটিংয়ের সুফল ধীরে ধীরে পেতে শুরু করেন ম্যাকসুইনি ও লাবুশেন।
রানের চাকাও তাতে সচল হয় কিছুটা। দুজনই হাঁকান চমৎকার কিছু শটে বাউন্ডারি। রানের জন্য সংগ্রাম করতে থাকা লাবুশেন কিছু শটে মনে করান সেরা সময়ের কথা। আর তরুণ ম্যাকসুইনিও নির্বাচকদের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ক্রমশ ব্যাটিংয়ে দেখান আত্মবিশ্বাসের ছাপ। দর্শকদের আনন্দে মাতিয়ে নিতিশকে মারেন টানা দুটি চার।
আরও পড়ুন
শাহিন-নাসিম-রউফ তোপে উড়ে গেল অস্ট্রেলিয়া, সিরিজ জয় পাকিস্তানের |
![]() |
জমে ওঠা এই জুটি একবার রান-আউটে কাঁটা পড়ার খুব কাছাকাছি গিয়ে রক্ষা পায়। ফিরতি স্পেলে শেষ ঘণ্টায় নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেন্থে বোলিং করে আরও একবার ব্যাট-বলের লড়াই জমিয়ে তোলেন বুমরাহ। সেটা সামলে দিনটা শেষ পর্যন্ত পার করে দিতে সমর্থ হন ম্যাকসুইনি-লাবুশেন জুটি।
ম্যাকসুইনি অপরাজিত আছেন ৩৮ রানে, আর লাবুশেনের সংগ্রহ ২০ রান।
৩১ আগস্ট ২০২৫, ২:৪২ পিএম
সংবাদ সম্মেলনের নির্ধারিত সময়ে হাজির নেদারল্যান্ডসের মিডল-অর্ডার ব্যাটার নোয়াহ ক্রোয়েস। প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনার জন্য তার সঙ্গী মিডিয়া ম্যানেজার কোরি রুটগারস। সাধারণত এমনটাই হয়ে থাকে যে কোনো সংবাদ সম্মেলনে। একজন ক্রিকেটারকে সঙ্গে নিয়ে আসেন মিডিয়া ম্যানেজার।
কিন্তু ব্যতিক্রম রোববারের এই সংবাদ সম্মেলন। কারণ ক্রোয়েস আর রুটগারসের পিছু পিছু চলে এলেন ম্যাক্স ও’ডাউড। তবে উত্তরদাতা নয়, ডাচ ওপেনার বসলেন প্রশ্নকর্তা অর্থাৎ সংবাদকর্মীদের নির্ধারিত আসনে। সেখান থেকেই সাংবাদিক পরিচয়ে একাধিক প্রশ্ন করলেন সতীর্থ ক্রোয়েসকে।
মিডিয়া ম্যানেজার রুটগারসও যেন মজা পেলেন ও’ডাউডের কাণ্ডে। তাই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরুর আগে তিনি সবাইকে জানিয়ে দিলেন, ‘হ্যালো বন্ধুরা, ম্যাক্স আজকে আমাদের সঙ্গে সাংবাদিক হিসেবে যোগ দিয়েছে।’
নতুন এই পরিচয় পাওয়ার পর ও’ডাউডকে দেখে একজন যে কেউ চাইলে বলতেই পারেন ‘এক অঙ্গে কত রুপ।’ কারণ তার মূল পরিচয় এখন নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের ক্রিকেটার। এর পাশাপাশি গানের ডিজে (ডিস্ক জকি) হিসেবেও পরিচিতি আছে তার।
এমনকি নিজের ইউটিউব চ্যানেল খুলে বিভিন্ন ভ্লগিংও করে থাকেন ও’ডাউড। চ্যানেলটি তিনি মূলত খুলেছিলেন ২০০৯ সালে। তবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করেন না সেভাবে। তবে বাংলাদেশের আসার পর ‘নতুন শুরু’ শিরোনামে ভ্লগ আপলোড করেছেন তিনি।
ক্রোয়েসের সংবাদ সম্মেলনেও ও’ডাউড আসেন একটি ‘গো প্রো’ ক্যামেরা হাতে নিয়ে। সেই ক্যামেরায় রেকর্ড করতে করতেই ক্রোয়েসের জন্য প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন ও’ডাউড। ক্রোয়েসের ডাকনাম ‘টঙ্কার’র রহস্য জানতে চান তিনি।
হাসিমুখে উত্তর দেন ক্রোয়েস।
“ধন্যবাদ ম্যাক্স। আমার পাশে থাকার বদলে তোমাকে সাংবাদিকদের কাতারে দেখে ভালো লাগছে। তুমি জানো আমাদের মিডিয়া ম্যানেজার এই নামটি দিয়েছে। একসময় সে আমাকে ‘ট্রাকস’ ডাকত, বলত আমি নাকি এমএলবি (মেজর লিগ বেসবল) স্লগারের মতো ব্যাট করি। পরে সেটা বদলে গিয়ে হলো ‘টংকার’। এখন মনে হচ্ছে তুমি এই নামের যোগ্য উত্তরসূরী।”
উত্তর পেয়ে খুশি হয়ে যান ও’ডাউড। কিছুক্ষণ পর ক্রোয়েসকে আরেকটি প্রশ্ন করেন তিনি। যেখানে জানতে চান, বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্রোয়েসের সবচেয়ে পছন্দের কে? উত্তরে মুস্তাফিজুর রহমানের নাম বলেন মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
“ভালো একটা প্রশ্ন করেছ, ম্যাক্সি। আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা যায়, তবে আমার মনে হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। আমি তাকে গত বছর ২০২৪ বিশ্বকাপে বোলিং করতে দেখেছি, আর মুস্তাফিজের মুখোমুখি হওয়াটা সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা ছিল।”
চলতি বছর বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য এক ধরনের 'লাকি চার্ম' হয়ে গেছেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি একাদশে থাকলেই টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতে বাংলাদেশ। আর সেই ধারায় সাকিব আল হাসানকে টপকে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ডও গড়ে ফেলেছেন মুস্তাফিজ।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের ৫৩টি জয়ের ম্যাচে একাদশে ছিলেন মুস্তাফিজ। দেশের হয়ে এটিই সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। ১১২ ম্যাচ খেলে এই সাফল্য পেয়েছেন অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার।
এতদিন ধরে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতার সাক্ষী ছিলেন সাকিব। দীর্ঘ ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে ১২৯ ম্যাচ খেলে ৫২টিতে দলকে জিততে দেখেছেন সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে ছাড়িয়ে গেছেন মুস্তাফিজ।
আরও পড়ুন
‘লিটনের ভালো খেলা দলের জন্য জরুরি’ |
![]() |
বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি জয়ের ফিফটি নেই আর কোনো ক্রিকেটারের। তবে খুব কাছেই আছেন লিটন কুমার দাস। ১০৮ ম্যাচের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত দলকে ৪৯ ম্যাচে জিততে দেখেছেন বাংলাদেশের বর্তমান টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
এরই মধ্যে অবসর নিয়ে ফেলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৪১ ম্যাচে পেয়েছিলেন ৪৯ জয়ের দেখা। এছাড়া ৩০ বা এর বেশি জয় আছে মুশফিকুর রহিম (৩৭), সৌম্য সরকার (৩৩), তাসকিন আহমেদ (৩৩) ও আফিফ হোসেন ধ্রুবর (৩০)।
নতুন রেকর্ড গড়ার পথে চলতি বছর দলে নিজেকে অপরিহার্যও প্রমাণ করে তুলেছেন মুস্তাফিজ। এই বছর এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচ খেলে ৬টি জিতেছে বাংলাদেশ। এই ৬টিতেই একাদশে ছিলেন বাঁহাতি কাটার মাস্টার। তাকে বাইরে রেখে খেলা ৭ ম্যাচের একটিতেও জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে বিশ্ব ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি জয়ের রেকর্ড ভারতের রোহিত শর্মার। ১৫৯ ম্যাচের ক্যারিয়ারে ১০৯টি ম্যাচে দলকে জিততে দেখেছেন দেশটির সাবেক অধিনায়ক। আর কোনো ক্রিকেটারের একশ জয় নেই।
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই লিটন কুমার দাসের প্রতিভা নিয়ে সন্দেহ নেই কারও। কিন্তু ধারাবাহিকতার অভাবে সবসময়ই ভুগতে দেখা যায় তাকে। তবে যেদিন ভালো খেলেন লিটন, সেদিন অনায়াসেই জিততে পারে বাংলাদেশ। তাই তাসকিন আহমেদও বললেন, লিটনের ভালো করার গুরুত্ব।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সহজ জয়ের নায়ক তাসকিন। প্রথমভাগে বল হাতে ২৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনিই জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
তবে পরেরভাগে বাংলাদেশের রান তাড়ার কাজ সহজ করে দেন অধিনায়ক লিটন। দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে মাত্র ২৬ বলে করেন রেকর্ডগড়া ফিফটি। ক্যারিয়ারের ১৩তম পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংসে তিনি শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ২৯ বলে ৫৪ রান করে।
আরও পড়ুন
ওয়াইড বলে এ কেমন আউট! |
![]() |
পুরো ইনিংসে লিটনের ব্যাটিং ছিল নিখুঁত। উইকেটের চারপাশে খেলেছেন চমৎকার কিছু শট। যা মনে করিয়ে দেয়, হয়তো সেরা ছন্দে আছেন লিটন।
কিন্তু এই সিরিজের আগেই পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচ মিলিয়ে করেছিলেন মোটে ১৭ রান। আবার এর আগে শ্রীলঙ্কা সফরের প্রথম ম্যাচে অল্পে ফেরার পর পরের দুই ম্যাচে খেলেন ৭৬ ও ৩২ রানের দারুণ দুটি ইনিংস।
এরও আগে ফিরলে পাকিস্তান সফরের এক ম্যাচে খেলেন ৩০ বলে ৪৮ রানের ইনিংস। কিন্তু বাকি দুই ম্যাচ মিলিয়ে করেন মাত্র ২৮ রান। তার আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সিরিজে এক ম্যাচে ৪০ করলেও বাকি দুই ম্যাচে ব্যর্থ।
সব মিলিয়ে অধারাবাহিকতার অপর নাম যেন লিটন। তাই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে তাকে রান করতে দেখে বেশ খুশি তাসকিন। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়কের প্রশংসাই করেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
“লিটন খুব ভালো ব্যাট করেছে। লিটনের ভালো খেলা বা ফর্মে থাকা আমাদের দলের জন্য অনেক জরুরি। সাম্প্রতিক সময়ে ও ফর্মে আসছে এবং ভালো ব্যাটিং করছে। নেটেও দেখছি।”
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এই সিরিজটি মূলত এশিয়া কাপের আগে নিজেদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি দেখে নেওয়ার সুযোগ বাংলাদেশের জন্য। সেই অভিযানে প্রথম ম্যাচ বেশ ভালো কাটিয়েছে বাংলাদেশ।
বোলিংয়ে তাসকিনের পাশাপাশি বড় অবদান রাখেন সাইফ হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। পরে ব্যাট হাতে লিটনের ফিফটি ছাড়াও ঝড়ো ইনিংস খেলেন দীর্ঘ দিন পর ফেরা সাইফ। শুরুতে পারভেজ হোসেন ইমন আর তানজিদ হাসান তামিমও করেন ইতিবাচক ব্যাটিং।
তাসকিনের আশা, সম্মিলিত পারফরম্যান্সের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বড় টুর্নামেন্টেও আসবে সাফল্য।
“এই ধারাবাহিকতা যদি আমাদের এগোতে থাকে, সামনে বড় ইভেন্টেও ভালো করা সম্ভব। স্পোর্টিং কন্ডিশনে যে কোনো এক দিক দিয়ে জেতা সম্ভব নয়। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং, সবই লাগে। আমাদের মতো দলে সবার অবদান আরও বেশি লাগে। এটা খুব ভালো ব্যাপার যে ব্যাটিং-বোলিং দুটিই ভালো হচ্ছে।”
“সবাই এগিয়ে যাচ্ছি। অনেক মেহনত করছি সবাই, সত্যি বলতে। সামনে অনেক খেলা, এশিয়া কাপের পর আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ আছে। এই ধারাবাহিকতা থাকলে ভালো কিছু হতে যাচ্ছে আশা করি।”
অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে ওয়াইড লাইন থেকেও বেশ দূরে বল করেছিলেন টেরেন্স হাইন্ডস। উইকেট পাওয়ার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না ওই ডেলিভারিতে। কিন্তু কল্পনাতীতভাবে তাকে উইকেট উপহার দিলেন শাই হোপ।
ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) রোববার ভোরের ম্যাচে ওয়াইড বলে হিট উইকেট হয়ে বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছেন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের উইকেটকিপার-ব্যাটার। আর খুবই বাজে এক ডেলিভারিতে উইকেটের আনন্দে মেতেছেন ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হাইন্ডস।
আরও পড়ুন
৪২ বলে সেঞ্চুরিতে ১৮ বছর বয়সী পেরিনের রেকর্ড |
![]() |
ম্যাচের প্রথম ইনিংসের ১৫তম ওভারের ঘটনা। ২৯ বলে ৩৯ রানে খেলছিলেন হোপ। ওভারের দ্বিতীয় বলটি অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে স্লোয়ার শর্ট ডেলিভারি করেন হাইন্ডস। ওয়াইড লাইন পেরিয়ে আরও দূর দিয়ে চলে যাচ্ছিল বল।
কিন্তু আগে থেকেই রিভার্স র্যাম্প খেলার কথা ঠিক করে ফেলেছিলেন হোপ। তাতেই ঘটল বিপত্তি। এত দূর দিয়ে যাওয়া বল ব্যাটের নাগালে পাননি অভিজ্ঞ ব্যাটার। উল্টো ব্যাট পুরোটা ঘুরিয়ে ফেলায় নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি।
সেই একই মোমেন্টামের সঙ্গে ঘোরার পথে স্টাম্পে লেগে যায় হোপের ব্যাট। ফলে ওয়াইড বলেই হিট উইকেট হয়ে যান হোপ। তিনি যখন ফিরছিলেন ড্রেসিং রুমের দিকে, তার হতাশা বাড়িয়ে তখন ওয়াইডের সঙ্কেত দিচ্ছিলেন আম্পায়ার।
বিশ্ব ক্রিকেটে হিট উইকেটের ঘটনা নতুন কিছু নয়। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেই এখন পর্যন্ত ১৭০ জন হিট উইকেট হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন আবার আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতেই। এমনকি সিপিএলেও এর আগে তিন জন ফিরেছেন হিট উইকেট হয়ে।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
তবে হোপের মতো ওয়াইড বলে হিট উইকেটের ঘটনা নিশ্চিতভাবেই বিশ্ব ক্রিকেটে বিরল।
হোপের বিদায়ের পর বড় সংগ্রহের আশাও মিইয়ে যায় গায়ানার। তবু শেষ ৩ ওভারে ঝড় তুলে ৪৬ রান করে ১৬৩ রানের পুঁজি পায় তারা। তবে অ্যালেক্স হেলস ও কলিন মুনরোর ঝড়ে ১৬ বল বাকি থাকতেই সেটি টপকে যায় টেবিল টপার ত্রিনবাগো।
আগামী মাসে ১৯ বছর পূর্ণ হবে দাভিনা পেরিনের। নিজের জন্মদিনের আগে বিধ্বংসী এক ইনিংসে যেন উপলক্ষ্য রাঙানোর অগ্রীম আভাস দিলেন তরুণ ব্যাটার।। মাত্র ৪৩ বলে ১০১ রান করে রেকর্ড বইয়ে ঝড় তুললেন ইংল্যান্ডের এই টপ-অর্ডার।
দা হান্ড্রেডের নারীদের প্রতিযোগিতায় শনিবার রাতে নর্দার্স সুপার চার্জার্সের হয়ে এই ইনিংস খেলেন পেরিন। এলিমিনেটর ম্যাচে লন্ডন স্পিরিটের বোলারদের বেধড়ক পিটিয়ে দা হান্ড্রেডের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন তিনি।
আরও পড়ুন
৫ উইকেটের আক্ষেপ নেই, সামনে হবে: তাসকিন |
![]() |
তিন অঙ্ক ছুঁতে ৪২ বল খেলেন পেরিন। দা হান্ড্রেড তো বটেই, স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের যে কোনো ব্যাটারের এটিই দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে ২০১৩ সালে সমারসেটের হয়ে ৪৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন আনা শ্রাবসোল।
সব মিলিয়ে মেয়েদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এর চেয়ে কম বলে সেঞ্চুরি আর মাত্র দুটি- ২০২১ সালে ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন নিউ জিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন আর ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেয়ান্দ্রা ডটিন তিন অঙ্কে পা রেখেছিলেন ৩৮ বলে।
পেরিনের সমান ৪২ বলে সেঞ্চুরির রেকর্ড আছে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেস হ্যারিসের, ২০১৮ সালে। সবগুলো সেঞ্চুরিই ঘরোয়া টুর্নামেন্টে করা।
দা হান্ড্রেডে ছেলে-মেয়েদের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে পেরিনের চেয়ে দ্রুত সেঞ্চুরি আছে শুধু হ্যারি ব্রুকের। ২০২৩ সালে ৪২ বলে ১০৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ৪১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন ইংল্যান্ডের মারকুটে এই ব্যাটার।
পেরিনের সেঞ্চুরির দিনে নির্ধারিত একশ বলে ৫ উইকেটে ২১৪ রান করে সুপারচার্জার্স। মেয়েদের দা হান্ড্রেডে এটিই দলীয় সর্বোচ্চ। এর আগে কোনো দল ১৯০ রানও করতে পারেনি। ২০২৩ সালে ৩ উইকেটে ১৮১ রান করে রেকর্ড ছিল ওয়েলশ ফায়ারের।
আরও পড়ুন
দুর্দান্ত কামব্যাকের পর সাইফ বললেন, 'ভালোর শেষ নেই, কেবল শুরু' |
![]() |
ইনিংসের ২১ বল বাকি থাকতে রান আউট হন পেরিন। ৪৩ বলের ইনিংসে ১৫ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মারেন ১৮ বছর বয়সী ব্যাটার। এছাড়া ১২ বলে ৩১ রানের ক্যামিও খেলে অপরাজিত থাকেন পাঁচ নম্বরে নামা নিকোলা ক্যারি।
রান তাড়ায় লন্ডন স্পিরিট ৯ উইকেট হারিয়ে করতে পারে ১৭২ রান। ২৯ বল খেলে দলের সর্বোচ্চ ৫০ রান করেন জর্জিয়া রেডমেইন। দুই ইনিংস মিলিয়ে ম্যাচে হয় ৩৮৬ রান। দুই দলের ব্যাটাররা মিলে মারেন ৬৩টি বাউন্ডারি। দুটিই দা হান্ড্রেডের ইতিহাসের রেকর্ড।
লন্ডনকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেছে নর্দার্ন সুপারচার্জার্স। রোববার সন্ধ্যার ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সাউদার্ন ব্রেভ।
১০ ঘণ্টা আগে
১১ ঘণ্টা আগে
৫ দিন আগে
৫ দিন আগে
৬ দিন আগে
৮ দিন আগে
১০ দিন আগে
১০ দিন আগে
১২ দিন আগে
১২ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৪ দিন আগে
১৫ দিন আগে
১৫ দিন আগে
১৫ দিন আগে