১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ২:৪৮ এম

প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের সামনে সেভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই জানাতে পারেনি শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল। তবে তৃতীয় ম্যাচে ভালোই লড়াই জমাল স্বাগতিকরা। ব্যাটিং ব্যর্থতার দিনে লো-স্কোরিং ম্যাচে দলের ত্রাতা হয়ে আসলেন বোলাররা। তাতে মিলল জয় আর নিশ্চিত হল ওয়ানডের পর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ও।
রবিবার সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ১০ রানে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে রাবেয়া খানের দলের লিড এখন ৩-০ ব্যবধানে। এর আগে ওয়ানডে সিরিজে রাবেয়া-নিগাররা জিতেছিলেন ১-০ তে।
আগের ম্যাচে রান তাড়ায় প্রথম থেকে আগ্রাসী ব্যাটিং উপহার দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ওপেনাররা। সেই ধারা বজায় থাকে এই ম্যাচেও। প্রথম ১৬ বলেই বোর্ডে জমা হয় ২৮ রান, যা আভাস দিচ্ছিল দলের ভালো একটা স্কোর গড়ার। তবে গত ম্যাচের মত এই ম্যাচেও কয়েকটি দারুণ শট খেলে ২ বাউন্ডারিতে ১৩ রানে বিদায় নেন দিলারা আক্তার, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের।
৯ বলে সোবহানা মোস্তারির ১ রানে বিদায়ের পর গত ম্যাচে ফিফটি করা সাথি রানিও সাজঘরের পথ ধরেন ২৬ রান করে। জাতীয় দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানাও আউট হন অল্পে। ৬৩ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে এরপর ঘোর বিপদের সম্মুখীন হয় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে বোলারদের একটা মোটামুটি লড়াই করার মত একটা স্কোর এনে দেওয়ার মূল কৃতিত্ব রিতু মনির। অন্যপ্রানে আসা-যাওয়ার মিছিলের মাঝে একপ্রান্ত আগলে তিনি লড়ে যান শেষ পর্যন্ত। ৩ চারে অপরাজিত থাকেন ২৫ রানে। বাংলাদেশের ইনিংসে মাত্র চারজন দুই অঙ্কের ঘরে যেতে সমর্থ হন। ২০ ওভারে স্কোর দাঁড়ায় ৯ উইকেটে ৯৭ রান।
এই ধরনের একটা রান ডিফেন্ড করতে হলে শুরু থেকে উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার কোনো বিকল্প নেই। প্রথম ওভারেই উইকেট নিয়ে সেই কাজটা করে দেন মারুফা আক্তার। পাওয়ার প্লেতে রান আটকে দিয়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের চাপে ফেলে দেওয়া বাংলাদেশকে দ্বিতীয় সাফল্য এনে দেন বাঁহাতি স্পিনার নাহিদা আক্তার, নেতমি পূর্ণাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন পাঁচ রানে।
২৮ রানে চার উইকেট হারানোর শ্রীলঙ্কা জয়ের আশা যোগান কৌশিনি নুতিয়াঙ্গা ও নীলকশনা সন্দামিনী। এই দুজন ক্রমশ বাংলাদেশের জন্য বিপদের কারণ হয়ে উঠছিলেন। আক্রমণে এসে বাংলাদেশকে সেখান থেকে ম্যাচে ফেরান অধিনায়ক রাবেয়া খান। এরপর শ্রীলঙ্কার দলীয় সর্বোচ্চ ২২ রান করা নীলকশনাকে ফেরান ফাহিমা আক্তার।
জয়ের আশা জাগিয়েও বাংলাদেশের বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে ৮৭ রানে গিয়ে থাকে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। দুটি করে উইকেট নেন নাহিদা, ফাহিমা ও রাবেয়া।
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৫:৫৫ পিএম

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের শুরুটা বেশ ছন্নছাড়া। ১১৬ রানে নেই ৬ উইকেট। দুই শর মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। তখনও উইকেটে আস্থার প্রতীক হয়েছিলেন লিটন কুমার দাস।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে কি করা উচিত, সেটি ভালো করেই জানেন অভিজ্ঞ লিটন। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের বাকি অংশ এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারেরই। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। যার সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলেছে ২৭৮ রান।
টেস্ট ব্যাটিং বিপর্যয়ের দলের চালক হওয়া যেন লিটনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি কিংবা মিরপুর—‘ক্রাইসিস মোমেন্টে’ একের পর এক অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে বাঁচিয়েছেন। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির পর লিটন জানিয়েছেন, বিপর্যয়ে দলকে প্রত্যাশিত ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁর আনন্দ।
২০২২ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে ১৪১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে ভালো অবস্থা নিয়ে যান লিটন। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে সেবার খেলেছিলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
টেলএন্ডারদের নিয়ে চাপের মুখে খেলা, মিরপুর ও রাওয়ালপিন্ডির সেঞ্চুরির সঙ্গে আজকের ইনিংসের তুলনা করতে গিয়ে লিটন বলেন,
‘দুটা জিনিস হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ইনিংসটা ছিল ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জুটি ছিল। একজন ব্যাটার যখন আপনার পার্টনার থাকবে, মানিসকভাবে পরিস্কার থাকা যায়। রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ছিল, মিরাজ একজন ব্যাটার অনেকক্ষণ ইনিংস অলমোস্ট আমার ৮০ রানের মতো ছিল ২০ রান আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। বাট আজকেরটা টোটালি ডিফারেন্ট।’
সেঞ্চুরি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে লিটন স্পষ্ট করে বলেন,
‘আমি মনে হয় যখন দুই বা তিন রানে তখন তাইজুল ভাই স্ট্রাইকে আসে। সেঞ্চুরি এটা মানুষ বলে কয়ে করতে পারে না আর এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিতও না যে সেঞ্চুরি করা লাগবে। আমার টার্গেট ছিল যে রানটা কীভাবে বোর্ডে আসে। কারণ যে সময়টাতে তাইজুল ভাই আসছে আমাদের বোর্ডে রান মাত্র ১১০ কি সামথিং ১৬। হ্যাঁ, ১৬। তো আমার টার্গেট ছিল যে কীভাবে টিমকে একটা ২০০ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। অবশ্যই টার্গেট আমাকেই ফিলাপ করতে হবে। আমার টেল তো রান করবে না, রান আমাকেই করতে হবে। তো আমি একটা ইনফরমেশন পাঠিয়েছিলাম যে আমরা কি অ্যাটাকিংয়ে যাব কি না জাস্ট। উপর থেকে বলেছে রানের জন্য খেলার জন্য তো আমি চেষ্টা করেছি রান করার।’
দলের কঠিন পরিস্থিতিতে বারবার দায়িত্ব নেওয়া এবং এই ক্রাইসিস মোমেন্টগুলো লিটন বেশি উপভোগ করেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জটা তিনি নিজের মতো করে নিতে ভালোবাসেন।
বললেন,
‘না না, আমি বললাম তো আমার রোলটাই ডিফারেন্ট। দেখবেন কোনো কোনোদিন টপ অর্ডার উপর থেকে রান করতেছে। আমি ব্যাটিং করতেছি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামলাম উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। আমার ক্রিকেটটাই এমন, আমাকে পার্টিকুলার যে সময়টা আসবে সে সময়টা এনজয় করে খেলা। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এখানেও এনজয় করার অনেক কিছু ছিল।’

লেজের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করলেন ১৮০ রান। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন। মাঝেমধ্যেই তাসকিন আহমেদ-শরিফুলদের স্ট্রাইক না দিতে সিঙ্গেল নেননি। তবে হঠাৎ লিটন দাসের অসাধারণ এই ইনিংস ‘পূর্ণতা’ না পাওয়ার একটা শঙ্কাও জাগে। লিটনের ৯৯ রানের সময় অলআউট হতে পারত বাংলাদেশ। ওই পরিস্থিতিতে কি চিন্তা করছিলেন তিনি? হার্টবিট তো বেড়েই যাওয়ার কথা!
সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে উদ্ধার করা লিটন মিস করতে পারতেন সেঞ্চুরি। শতক থেকে এক রান দূরে থাকতে ১০ নম্বর ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল পড়েন এলবিড্লুর ফাঁদে। পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খানের বল লাগে শরিফুলের পায়ে আম্পায়ারের আঙুলও উঠে গেল! তবে মুহূর্তেই রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শরিফুল। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেল বলটি লেগ স্টাম্প লাইনের বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছে, ফলে বেঁচে গেলেন শরিফুল! পাশপাশি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ১২৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা লিটনও।
৭০ ওভার পুরোটাই খেলতে হয়েছে শরিফুলকে। ওই মুহূর্তে শরিফুল আউট হলে ১১ নম্বর ব্যাটার নাহিদ রানাও দ্রুত ফিরতে পারত, তাতে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হতে পারত লিটনের। তখন কি চলছিল উইকেটকিপার ব্যাটারের মনে? সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা লিটনের মুখ থেকেই শোনা যাক,
‘আমি অনেক টেনশনে ছিলাম, বিশেষ করে যখন শরিফুলের পায়ে লাগছে আরকি। আমি ওরে বারবার গিয়ে বলতেছিলাম যে সামনে খেলার জন্য কারণ ও তো অনেক লম্বা, সো ব্যাক অফ দ্য লেংথে গেলেই বলটা পায়ে লাগার চান্স বেশি। কিন্তু ও খুবই ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’
সিলেটের উইকেটে পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খানের বিপক্ষে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটারদের আগলে রাখাটা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শেষ দিকে দলের টেল-এন্ডারদের ব্যাটিং সামর্থ্যের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছিলেন না লিটন, যার কারণে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন তিনি। শেষ ব্যাটারদের সামলানোর সেই স্নায়ুচাপের মুহূর্ত নিয়ে লিটন দাস বলেন,
‘ওই যে আমি বললাম যে আমার টেল-এন্ডারগুলো তো অতটা ভালো না যে আমি কনফিডেন্স সহকারে দিয়ে দিতে পারব ছয় বলের জন্য। তাই একজনকে দিয়েছিলাম সে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছে। সো ওর পরে আমি আরও নিজে সতর্ক হয়ে গেছি যে খেলা আমারই লাগবে আর যত কম দেওয়া যায় আরকি এক-দুই বল।’
লিটনের ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ দুর্দান্ত ইনিংসই এসেছে দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে। বিশেষ করে টেস্টে দলের কঠিন পরিস্থিতি কি লিটন বাড়তি উপভোগ করেন? এমন প্রশ্নের মুখে নিজের ব্যাটিং পজিশন ও ভিন্ন ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন এই স্টাইলিশ ব্যাটার। লিটন জানান, পরিস্থিতির ওপর তাঁর হাত না থাকলেও নিজের অর্পিত দায়িত্বটা তিনি সবসময় উপভোগ করার চেষ্টা করেন।
উইকেটের পরিস্থিতি আর ম্যাচের অবস্থান অনুযায়ী লিটনের দায়িত্বটা একেক সময় একেক রূপ নেয়, যেখানে কখনো টপ-অর্ডারের তৈরি করা ভিতে রান বাড়াতে হয়, আবার কখনো ৬০-৭০ ওভার পর পুরোনো ও টার্নিং বলের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়। বৈচিত্র্য এই দায়িত্বই উপভোগ করেন লিটন, ‘দেখবেন কোনো কোনোদিন টপঅর্ডার উপর থেকে রান করতেছে। আমি ব্যাটিং করতেছি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামলাম উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। তো আমার ক্রিকেটটাই এমন যে আমাকে নির্দিষ্ট সময়টা আসবে সে সময়টাএনজয় করে খেলা। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ কিন্তু এখানেও উপভোগের অনেক কিছু ছিল।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডে দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন, শাহাদাত হোসেন দীপু, আশিকুর রহমান শিবলি। বল হাতে কারিশমা দেখিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
মোহামেডানকে হারিয়ে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ ওভারে গিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা। প্রথম পরাজয়ে দুইয়ে নেমে গেছে মোহামেডান।
মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার ১০৭ বলে ৯৯ রানের সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন ৫২ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৪৯ রানের ইনিংস খেললে ৬ উইকেটে ৩০৩ রান করে মোহামেডান। আবু হাশিম নেন ৪ উইকেট।
রান তাড়ায় চমৎকার সেঞ্চুরি করেন শাহাদাত। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১২৩ বলে ১১৮ রান। এছাড়া আকবর আলি ৩০ বলে ৪০ ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী ২১ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললে শেষ ওভারে গিয়ে জিতে যায় প্রাইম ব্যাংক। সাইফ উদ্দিন নেন ৪ উইকেট।
আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
পরপর দুই ম্যাচ হেরে যাত্রা শুরুর পর টানা তৃতীয় জয় পেল আবাহনী লিমিটেড। মিরপুরে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৬ উইকেটে হারাল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২০৯ রান করতে পারে বসুন্ধরা। জবাবে ৩৯.২ ওভারে জিতে যায় আবাহনী।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয়ে টেবিলের তিন নম্বরে আবাহনী। সমান ম্যাচে দুই জয়ে বসুন্ধরার অবস্থান নবম।
বসুন্ধরার পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এছাড়া নাহিদুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৯ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন তরুণ পেসার রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ।
রান তাড়ায় আবাহনীর হয়ে ৩ চার, ৫ ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এছাড়া ৫৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির রহমান। জাকের আলি অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান।
মিঠুনের ৮ ছক্কার তাণ্ডব
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৬ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছেন ঢাকা লেপার্ডসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এছাড়া মইন খানের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৯ রান।
এই দুজনের পাশাপাশি ইফতেখার হোসেন ইফতি ৫১ রানের ইনিংস খেলে ৩৫১ রানের পুঁজি পায় ঢাকা লেপার্ডস। জবাবে মাত্র ২৩১ রানের গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। গোলাম কিবরিয়া শাকিল করেন সর্বোচ্চ ৫১ রান। ১২০ রানের জিতে যায় লেপার্ডস।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে লেপার্ডস।
শিবলির সেঞ্চুরি, রূপগঞ্জের বিশাল জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২০৫ রানে হারিয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৫৪ রান করে রূপগঞ্জ। জবাবে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান।
পাঁচ ম্যাচে রূপগঞ্জের এটি তৃতীয় জয়। গুলশান জিতেছে এক ম্যাচ।
রূপগঞ্জের পক্ষে ১৩০ বলে ১১৯ রানের ইনিংস খেলেন আশিকুর রহমান শিবলি। এর আগে এক ম্যাচে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এবার পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ।
এছাড়া রবিউল ইসলাম রবি ৭৩ বলে ৬৫ ও সামিউর বশির রাতুল ৩০ বলে করেন ৪৭ রান।
গুলশানের পক্ষে ৬৫ বলে ৬১ রান করেন শাহরিয়ার সাকিব। নাসুম আহমেদ ৩২ রানে নেন ৪ উইকেট।
সাকলাইনের ৬ উইকেট
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে মাত্র ৩৯.৩ ওভারে জিতে যায় সিটি ক্লাব।
এটি তাদের তৃতীয় জয়। এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি রূপগঞ্জ টাইগার্স।
প্রতিপক্ষের ৭ উইকেটের মধ্যে একাই ৬টি নেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৭ রান খরচ করেন তিনি।
রূপগঞ্জের পক্ষে ১৪৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদুল হাসান লিমন। এছাড়া আব্দুল মজিদ ৮৫ বলে ৫২ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ৩৭ বলে করেন ৫০ রান।
রান তাড়ায় ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৫ বলে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাদিকুর রহমান। এছাড়া এনামুল হক এনামের ব্যাট থেকে আসে ১ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৫ বলে ৯০ রান।
গাজী গ্রুপকে হারাল অগ্রণী ব্যাংক
পিকেএসপিতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রীতম কুমারের ৬২ বলে ৭২ রানের সৌজন্যে ২৫২ রানের পুঁজি পায় গাজী গ্রুপ। জবাবে ৪৮.৫ ওভারে জিতে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
শুভাগত হোম ৬৭ বলে ৭৮ রান করে আউট হন। নাসির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৭৯ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচ সেরাও হন নাসির। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন আরিফ আহমেদ।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা হয়েছে। আজ প্রধান নির্বাচন কমিশনার আহসানুল করিম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তফসিল প্রকাশ করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন বিসিবি নির্বাচন হবে।
নির্বাচনে তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। এর মধ্যে ক্যাটাগরি-১ থেকে ১০ জন, ক্যাটাগরি-২ থেকে ১২ জন এবং ক্যাটাগরি-৩ থেকে ১ জন পরিচালক পদের জন্য ভোট গ্রহণ করা হবে।
তফসিল অনুযায়ী, আগামীকাল বিকেল ৪টায় মিরপুরের বিসিবি কার্যালয় ও বোর্ডের ওয়েবসাইটে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই তালিকার ওপর ১৮ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আপত্তি গ্রহণ করা হবে এবং ১৯ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত আপত্তির ওপর শুনানি হবে। একই দিন বিকেল ৫টায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছুক প্রার্থীরা আগামী ২০ ও ২১ মে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মিরপুর বিসিবি কার্যালয়ের রিটার্নিং অফিসারের কক্ষ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকার (অফেরতযোগ্য) বিনিময়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। সংগৃহীত মনোনয়নপত্র দাখিল করা যাবে ২১ ও ২২ মে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে।
২৩ মে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাই ও প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপীল গ্রহণ ও শুনানি হবে ২৪ মে। সেদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত আপীল গ্রহণ এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলবে। ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করা যাবে এবং একই দিন বেলা ২টায় প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
পোস্টাল বা ই-ব্যালটের ব্যবস্থা রয়েছে। ২৫ মে বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলরের রেজিস্টার্ড ই-মেইল থেকে নির্দিষ্ট ই-মেইল আইডিতে (bcbec2026@gmail.com) আবেদন করতে হবে। তারপর ১ জুন থেকে ৬ জুনের মধ্যে ভোটারদের বর্তমান ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট এবং নির্ধারিত ই-মেইলে ই-ব্যালট প্রেরণ করা হবে। পূরণকৃত পোস্টাল ও ই-ব্যালট আগামী ৭ জুন দুপুর ১টার মধ্যে বিসিবি কার্যালয়ে বা নির্ধারিত ই-মেইলে পৌঁছাতে হবে, এর পরে প্রাপ্ত কোনো ব্যালট গ্রহণযোগ্য হবে না।
আগামী ৭ জুন মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি বোর্ড রুমে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে ওই দিনই সন্ধ্যা ৬টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয় থেকে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

ব্যাটারদের ব্যর্থতার মিছিলে শক্ত হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন লিটন কুমার দাস। লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে লড়াকু ব্যাটিংয়ে তিনি পেলেন সেঞ্চুরির উষ্ণ ছোঁয়া। কিন্তু বাকিদের হতাশায় বেশি বড় হলো না পুঁজি। তাই দিন শেষে এগিয়েই রইল পাকিস্তান।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনে লিটনের সেঞ্চুরির পরও ২৭৮ রানে অলআউট হয়ে গেছে বাংলাদেশ। পরে ৬ ওভারের জন্য ব্যাটিংয়ে নেমে কোনো উইকেট না হারিয়ে ২১ রান করেছে পাকিস্তান।
প্রথম সেশনে ২৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান করেছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে পরের সেশনে ২৮ ওভার খেলে মাত্র ৬৭ রান করতে আরও ৩ উইকেট হারিয়েছে তারা। শেষ সেশনে ২৩ ওভার খেলে বাকি ৪ উইকেটে ১১০ রান করে স্বাগতিকরা।
বাংলাদেশকে আড়াইশ পার করানোর কারিগর লিটন। একপর্যায়ে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে বাকি ৪ উইকেটে তারা করে আরও ১৬২ রান। যেখানে লিটনের একার অবদান ১২৪ রান।
টেস্ট ক্যারিয়ারে লিটনের এটি ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। আর পাকিস্তানের বিপক্ষে তার সেঞ্চুরি হয়ে গেল ৩টি। এই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটারের একটির বেশি সেঞ্চুরি নেই।
মেঘাচ্ছন্ন সকালে কয়েনভাগ্য পাশে পান পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ। বাবর আজমকে ফেরানোর পাশাপাশি মোট তিন পরিবর্তন নিয়ে আগে ফিল্ডিং নেন তিনি। অধিনায়কের সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করে প্রথম দিনই বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়েছে বোলাররা।
সাদমান ইসলামের চোটে এই ম্যাচ দিয়ে টেস্ট অভিষেক হয় তানজিদ হাসান তামিমের। বাংলাদেশের ১০৯তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিজাত সংস্করণে খেলতে নেমে শুরুটা ইতিবাচক করেন বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু ইনিংস টেনে নিতে পারেননি তিনি।
অন্য প্রান্তে শুরুতেই ফেরেন আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। ইনিংসের প্রথম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের দ্বিতীয় বলে আরও একবার খোঁচা মেরে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ২২ টেস্টের ক্যারিয়ারে এ নিয়ে ৮ বার শূন্য রানে ফিরলেন তরুণ এই ওপেনার।
পরে মুমিনুল হককে নিয়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন তামিম। ইতিবাচক ব্যাটিং করে প্রতি ওভারে গড়ে চারের বেশি রান নিতে থাকেন দুই বাঁহাতি ব্যাটার। তবে বেশিক্ষণ টানতে পারেনি এই জুটি। আব্বাসের শর্ট বলে আলগা শট খেলতে গিয়ে ফিরতি ক্যাচ দেন তামিম।
অভিষেক ইনিংসে ৩ চারে ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার।
এরপর মুমিনুল বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। শাহিন শাহ আফ্রিদির জায়গায় একাদশে ফিরে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড করেন খুররাম। আগের পাঁচ ইনিংসেই ফিফটি করা মুমিনুল এদিন ৪১ বলে করতে পারেন ২২ রান।
সেশনের বাকি অংশে আর বিপদ ঘটতে দেননি শান্ত ও মুশফিক। শান্ত ৫১ বলে ২৬ ও মুশফিক ৩১ বলে ১৮ রানে দ্বিতীয় সেশনের খেলা শুরু করেন। কিন্তু মধ্যাহ্ন বিরতির পর একদমই সুবিধা করতে পারেননি তারা দুজন।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যান মুশফিক। সাজিদ খানের অফ স্পিন তার গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটকিপারের হাতে গেলেও আউট দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই ১৮ রানে বেঁচে যান অভিজ্ঞ ব্যাটার।
তবে বেশিক্ষণ তিনি টিকতে পারেননি। খুররাম শাহজাদের ভেতরে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন ২৩ রান করা মুশফিক। রিভিউ নিয়েও লাভ হয়নি তার। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্টাম্প হালকা ছুঁয়ে যেত বল। অর্থাৎ আম্পায়ার্স কল।
মুশফিক ফেরার আগে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন শান্ত। আব্বাসের চমৎকার আউটসুইং ডেলিভারিতে খোঁচা মেরে কট বিহাইন্ড হন ৭৪ বলে ২৯ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক। বামে নিচু হয়ে দারুণ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান।
দলের বিপদ আরও বাড়িয়ে শাহজাদের শর্ট বলে দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো অযথা পুল শট খেলে ফাইন লেগ সীমানায় ক্যাচ দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। মাত্র ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে তখন বিপদে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন ও তাইজুল। দুজন মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ৬০ রানের জুটি। যেখানে তাইজুলের অবদান শুধু ১৬ রান। লিটনের ফিফটির কিছুক্ষণ আগে সাজিদের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তাইজুল।
এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়ে আবার লড়াই শুরু করেন লিটন। ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি পূরণ করে কিছুটা মনোসংযোগ হারান তিনি। তাতেই ঘটতে পারত বিপদ। তবে পাকিস্তানের ভুল সিদ্ধান্তে বেঁচে যান লিটন।
ইনিংসের ৬১তম ওভারে শাহজাদের পুল করতে গিয়ে লিটনের গ্লাভস ছুঁয়ে বল যায় উইকেটকিপারের হাতে। কিন্তু সাড়া দেননি আম্পায়ার। জোরাল আবেদনের পরও রিভিউ নেয়নি পাকিস্তান। তাই বেঁচে যান লিটন। পরে করেন চমৎকার এক সেঞ্চুরি।
তাসকিনের সঙ্গে লিটনের জুটিতে আসে ৩৮ রান। শাহজাদের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন ৭ রান করা তাসকিন। পরে শরিফুলকে নিয়ে এগোতে থাকেন লিটন। পরিস্থিতি বুঝে ওভারের চতুর্থ, পঞ্চম বা শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে বেশিরভাগ সময় স্ট্রাইক নিজের কাছেই রাখেন তিনি।
শাহজাদের বলে বাউন্ডারি মেরেই পূর্ণ করেন সেঞ্চুরি। শতক ছোঁয়ার ঠিক পরের বলে পুল শট করে ছক্কা মেরে নিজের অভিপ্রায়ও পরিষ্কার করে দেন লিটন। এরপর ইতিবাচক ব্যাটিংয়েই দলকে এগিয়ে নেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত হাসান আলির বলে বড় শট খেলতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়েন লিটন। সব মিলিয়ে ১৬ চার ও ২ ছক্কায় ১৫৯ বলে তিনি খেলেন ১২৬ রানের ইনিংস। যা বাংলাদেশকে পাইয়ে দেন আড়াইশ ছাড়ানো পুঁজি।
আর শরিফুল অপরাজিত থাকেন ১২ রানে। পাকিস্তানের পক্ষে শাহজাদ ৪ ও আব্বাস নেন ৩ উইকেট।
শেষ বিকেলে ব্যাট করতে নেমে দলের বিপদ ঘটতে দেননি পাকিস্তানের দুই তরুণ ওপেনার আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল। আজান ১৩ ও ফজল ৮ রানে নতুন দিনের খেলা শুরু করবেন।