৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৩:২২ পিএম
দাবিটা চলে আসছে বিপিএলের একদম শুরু থেকেই। একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের হাতে দল দিয়ে দেওয়ার সেই আহ্বান বারবার শোনা গেলেও এখনও তা আর বাস্তবে রুপ নেয়নি। প্রতি আসরেই তাই থাকে শঙ্কা-অনিশ্চয়তা। দল আসে নতুন, বাদ হয়ে যায় আগের মালিকানা। এই চিত্রের পরিবর্তন দেখতে চান তামিম ইকবাল। অভিজ্ঞ এই ওপেনার মনে করেন, আইপিলের মত বিপিএলেও লম্বা সময়ের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা বুঝিয়ে দেওয়া উচিত।
তামিমের এমন মন্তব্য এসেছে সদ্য সমাপ্ত আসরকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে। এবারই প্রথম বিপিএলে অংশ নেয় ঢাকা ও রাজশাহীর নতুন মালিকানার দল। চিটাগং কিংস এবার ফিরেছে ১১ বছর বাদে। আবার টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সফলতম ফ্র্যাঞ্চাইজি কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবার অংশই নেয়নি। বিশ্বের শীর্ষ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আইপিএলের দিকে তাকালে দেখা যায়, সেই প্রথম আসর থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি খেলছে নিয়মিতভাবে। আবার খেলোয়াড়দের নিলামে তোলা হলেও দলগুলো চাইলেই পারে পুরনোদের ধরে রাখতে।
তবে বিপিএলে প্রতিটি আসর শুরুর আগে খেলোয়াড়রা থাকেন অনিশ্চয়তায় যে এবার কোন দলে খেলবেন। বিপিএল ২০২৫-এর ফাইনালের পর তামিম দিয়েছেন সমাধানের পথ। “আমার কাছে মনে হয়, এই যে আমরা এত কষ্ট করে একটা ফ্যানবেজ তৈরি করেছ… ঠিক এই জিনিসটাই কিন্তু প্রথম বিপিএল থেকে সবাই চাইছে। প্রতিটা ফ্র্যাঞ্চাইজির যাতে একটা ফ্যানবেজ তৈরি হয়। এখন যদি আইপিএলের উদাহরণ দিই, সেখানে এই নিয়মটা কিন্তু কখনো বদলে যায় না। সেখানে দএর মূল খেলোয়াড়রা কিন্তু একই রাখে। আমি মানছি যে তিন বছরের একটা চক্র শেষ হয়ে গেছে, সামনে হয়ত আবার পাঁচ বছরের চক্র আসবে। কিন্তু এই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর আসল ক্রিকেটারদের ধরে রাখার একটা সুযোগ তো অবশ্যই দেওয়া উচিত। নাহলে এতদিন ধরে আপনি যে পুরো জিনিসটা গড়ে তুলেছেন, সেটা তো নষ্ট হয়ে যাবে। ৫-৬ এমনকি অন্তত চারজন খেলোয়াড়ও যদি ধরে রাখার সুযোগ রাখা হয়, তাহলে ফ্র্যাঞ্চাইজির ফ্যানবেজটা আরও বড় হবে।”
রংপুর, বরিশাল ও খুলনাই এই মুহূর্তে তিনটি ফ্র্যাঞ্চাইজি, যারা অনেকটা সময় ধরে একটা ধারা বজায় রেখে নিয়মিতভাবে বিপিএলে অংশ নিচ্ছে। পেশাদারভাবে দল পরিচালনা করা থেকে শুরু করে বছরব্যাপী নানাভাবে তাদের দেখা যায় সক্রিয় থাকতে। তবে প্রতি বছর নিয়ম বদলে যাওয়ায় চাইলেও অনেক খেলোয়াড়দের ধরে রাখা যায় না। এই বছরই আবার বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে তিন বছরের চক্রের স্বত্বের মেয়াদ শেষ হয়েছে। আগামী আসর থেকে তাই শুর করতে হবে অনেকটা নতুন করেই।
তামিম মনে করেন, একজন খেলোয়াড়কে যেন চাইলেই ফ্র্যাঞ্চাইজি ধরে রাখতে পারে, সেই সুযোগ রাখা উচিত হবে। “আমি আশা করব যখনই তারা পরের বছরের জন্য নিয়মকানুনগুলো করবেন, তখন যেন এসব বিষয় মাথায় থাকে। সমস্যা যেটা হয়, দলের মালিকানাই বদল হয়ে যায়। তবে এরপরও দল তো একই থাকছে। মালিক বদলালেও খেলোয়াড় রিটেইন করার সুযোগটা রাখা উচিত। এরপর কেউ যদি মনে করে তারা সেটা করবে না, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।”
বরিশাল ও রংপুর এই মুহূর্তে বিপিএলের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুই ফ্র্যাঞ্চাইজি। তামিমের মতে, এই ধরণের পেশাদার ফ্র্যাঞ্চাইজিকে সমর্থন দেওয়া উচিত সবার। “আমি মনে করি বিসিবির উচিত এই ধরনের ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের পাশে থাকা। কারণ, উনারাই কিন্তু বিপিএলকে বদলে দিতে পারবেন। শুধু বিপিএল না, উনারা যদি ক্রিকেটের সাথেও থাকেন, আমি মনে করি তাতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ভালো করবে।”
৭ মে ২০২৫, ৯:২৯ পিএম
টেস্ট ফর্মটা ভালো না হলেও অধিনায়ক হওয়ায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলার ছিল জোর সম্ভাবনা৷ তবে সময়ের ডাকে সাড়া দিলেন রোহিত শর্মা৷ লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার।
গত বছর জুড়েই দেশে ও দেশের বাইরে টেস্টে ভীষণ মলিন পারফরম্যান্স ছিল রোহিতের। এক-দুটি ক্যামিও ইনিংস খেলেছেন বটে, তবে ব্যাটে ছিল না সেই চেনা ধার। ফর্ম নিয়ে প্রবল চাপের মুখে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অধিনায়ক হয়েও নিজেকে সরিয়ে নেন একাদশ থেকে। এরপর রঞ্জি ট্রফিতে খেলায় আশা ছিল ইংল্যান্ড সিরিজ খেলার।
তবে বুধবার ইনস্টাগ্রামে পোস্ট দিয়ে রোহিত জানিয়েছেন, তার টেস্ট অধ্যায় শেষ। “আমি আপনাদের সবাইকে জানাতে চাই যে আমি টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি। সাদা পোশাকে দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা ছিল আমার জন্য সর্বোচ্চ সম্মান। বছরের পর বছর ধরে আপনাদের ভালবাসা এবং সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ। আমি ওয়ানডেতে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করে যাব।”
গত বছর ভারতকে টি -টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতিয়ে রোহিত আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেন। এই বছরের শুরুতে তার অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি জেতে ভারত। তবে গেল বছর টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তার রেকর্ড ভালো ছিল না। ভারত নিউজিল্যান্ডের কাছে হোম টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশড হয়। এরপর বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় ভারত। যদিও পাঁচ ম্যাচের মধ্যে তিনি নেতৃত্ব দেন তিন ম্যাচে। ওপেনিং ছেড়ে ব্যাট করেন মিডল অর্ডারে।
শেষটা মলিন হলেও টেস্টে রোহিতের অভিষেকটা ছিল স্মরণীয়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেন ১৭৭ রান। ক্যারিয়ারের শুরুর বছরগুলোতে মিডল-অর্ডারে ব্যাটিংয়ের পর ২০১৯ সালে টেস্টে ওপেনার হিসেবে যাত্রা শুরু হয় ডানহাতি এই ব্যাটারের।
বিরাট কোহলি ২০২২ সালে টেস্ট অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করার পরে রোহিত ভারতের লাল দলের কাপ্তান হন। তার অধিনায়কত্বে ভারত ২০২৩ সালে আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলেছিল।
রোহিত খেলেছেন মোট ৬৭টি টেস্ট। রান করেছেব ৪ হাজার ৩০১। গড় ৪০.৫৭। সেঞ্চুরি ১২টি আর ফিফটি ১৮টি।
খুব দ্রুতই বদলে যাওয়া ভারত ও পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে দুই দেশের মধ্যকার অন্যান্য সম্পর্কে। সবশেষ পাকিস্তানে ভারত হামলা চালানোর পর দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে জেগেছে সংশয়, যেখানে স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে পিএসএল খেলতে অবস্থান করা বিদেশী খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টি। বাংলাদেশের দুই ক্রিকেটার রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানাকে নিয়ে তাই উদ্বিগ্ন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করা তাদের কাছে সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে এখন।
এক বিবৃতিতে বুধবার বিসিবি জানিয়েছে, পাকিস্তানে গত ২৪ ঘন্টা ধরে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে তারা। বর্তমানে পিএসএলের অংশ বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সুস্থতা নিশ্চিত করতে বোর্ড অগ্রাধিকার দিয়ে দেখছে।
আরও পড়ুন
পাকিস্তানের সাথে ভারতের খেলাই উচিত না : গম্ভীর |
![]() |
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লেগ স্পিনার রিশাদ ও নাহিদ রানার সাথে বোর্ড নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ ব্যক্তিগতভাবেও সেখানকার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। দুই বাংলাদেশি ক্রিকেটারের নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি নিশ্চিত করতে পিএসএলের সিইও সালমান নাসির এবং রিশাদের সাথে সরাসরি কথাও বলেছেন।
বিসিবি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এবং ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সাথে সমন্বয় করে যোগাযোগ রাখছে, যা সামনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
বুধবার রাতে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের শিয়ালকোট, ভাওয়ালপুর, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরসহ ছয়টি স্থানে হামলা চালায় ভারত। এর প্রতিশোধ হিসেবে বুধবার ভোর রাতে পাঁচটি ভারতীয় যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী। এরপর করাচিতে সব অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
আরও পড়ুন
অল্প সাজাতেই পার পেলেন রাবাদা |
![]() |
দুই দেশের মধ্যকার এই যুদ্ধময় আবহের সূত্রপাত গত ২২শে এপ্রিল। সেদিন কাশ্মীরের পহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকেই ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমেই তিক্ত হয়ে উঠেছে। বুধবারের হামলার পর তাই পিএসএলে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দিকটি বড় এক আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব জুড়েই।
সাবেক খেলোয়াড়ের সাথে রয়েছে রাজনৈতিক পরিচিতিও। এরপরও ভারত জাতীয় দলের প্রধান কোচ হওয়ায় পাকিস্তানের সাথে দেশটির চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে তার অবস্থান নিরপেক্ষ থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছিল। তবে সেই পথে হাঁটলেন না সাবেক এই ওপেনার। সাফ জানিয়ে দিলেন, প্রতিবেশী দেশের সাথে আপাপত কোনো টুর্নামেন্টেই খেলার পক্ষে নন তিনি।
গত ২২শে এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগামে এক সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হন। এরপর থেকে ভারত সরকার পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি শক্ত পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। যার মধ্যে রয়েছে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত করা, আটারি সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ রাখা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের রাশ টেনে ধরা। স্বাভাবিকভাবেই এতে চলে আসছে এই বছরের এশিয়া কাপের প্রসঙ্গ, যেখানে মুখোমুখি হওয়ার কথা রয়েছে দুই দেশের।
আরও পড়ুন
অল্প সাজাতেই পার পেলেন রাবাদা |
![]() |
গত মঙ্গলবার দিল্লিতে এবিপির এক অনুষ্ঠানে ভারতের নিরপেক্ষ ভেন্যুতে পাকিস্তানের সাথে খেলা চালিয়ে যাওয়া উচিত কিনা, এই প্রশ্নে সপাটে ব্যাট চালান গম্ভীর।
“এই ব্যাপারে আমার ব্যক্তিগত উত্তর হল একেবারেই না। যতক্ষণ পর্যন্ত না এই (সন্ত্রাসবাদ) বন্ধ হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনও সম্পর্কই থাকা উচিত নয়।”
২০১৩ সালের জানুয়ারির পর পাকিস্তানের সাথে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা থেকে বিরত রয়েছে ভারত। এই দুই দল এরপর থেকে কেবল খেলে আসছে এশিয়া কাপ এবং আইসিসি ইভেন্টেই। এই বছরের শুরুতে দুই দেশ সবশেষ দুবাইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে, যে টুর্নামেন্ট খেলতে পাকিস্তানে যেতে রাজি হয়নি ভারত। সামনে ছেলেদের এশিয়া কাপ, নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ২০২৬ সালে ছেলেদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফের দুই দেশের একে অপরের মুখোমুখি হওয়ার জোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন
খালেদ-তানভীরদের তোপে প্রথম ম্যাচে ‘এ’ দলের বড় জয় |
![]() |
ভারতের হয়ে ২০১১ ওয়ানডে বিশ্বকাপ জেতা গম্ভীর অবশ্য মনে করেন, নিকট ভবিষ্যতে পাকিস্তানের সাথে না খেলাই উত্তম।
“দেখুন, শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের সাথে খেলব কি খেলব না, এটা সরকারের সিদ্ধান্ত। আমি আগেও বলেছি, কোনো ক্রিকেট ম্যাচ, বলিউড বা দুই দেশের মধ্যকার অন্য যেকোনো কর্মকাণ্ড ভারতীয় সৈন্য এবং ভারতীয় নাগরিকদের জীবনের চেয়ে কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নয়। এসব ম্যাচ চলতেই থাকবে, সিনেমাও তৈরি হবে, গায়করা এখানে এসে পারফর্ম করে যাবেন… তবে প্রিয়জনকে হারানোর সাথে কিছুরই তুলনা চলে না। সরকার যেই সিদ্ধান্ত নেবে, আমাদের এতে পুরোপুরি সম্মত থাকা উচিত।”
চোট নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ভুগছিলেন বলেই প্রয়োজন স্থায়ী সমাধানের। সেই কারণেই তাসকিন আহমেদ লন্ডনে গেছেন গোড়ালির আঘাত সারাতে, যেখানে ধারণা করা হচ্ছিল করানো হবে তার অস্ত্রোপচার। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, অস্ত্রোপচার ছাড়াই বাংলাদেশ পেসারকে সেরে ওঠার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বিসিবি জানিয়েছে, লন্ডনে অ্যাকিলিস টেন্ডন চোট নিয়ে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের একটি দলের সাথে পরামর্শ করেছেন তাসকিন। সেখানে তার সাথে ছিলেন বিসিবির সিনিয়র চিকিৎসক ডাঃ দেবাশিস চৌধুরী। একজন গোড়ালি সার্জন, একজন স্পোর্টস চিকিৎসক এবং একজন স্পোর্টস ফিজিওথেরাপিস্ট তাসকিনের মূল্যায়ন করেছেন।
আরও পড়ুন
খালেদ-তানভীরদের তোপে প্রথম ম্যাচে ‘এ’ দলের বড় জয় |
![]() |
দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত মূল্যায়নের পর চিকিৎসদের পক্ষ থেকে এই পর্যায়ে তাসকিনের চোট সারাতে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পুনর্বাসন প্রক্রিয়া চালিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সেটা মেনে তাসকিনের সুস্থ হওয়ার জন্য একটি বড় ধরনের পুনর্বাসন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে। বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাপোর্ট স্টাফদের তত্ত্বাবধানে এটি বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বিসিবি ডাঃ দেবাশিস চৌধুরী বলেছেন,
“বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই সময়ে তাসকিনের জন্য অস্ত্রোপচার ছাড়াই এভাবে পুনর্বাসন পদ্ধতিই সম্ভাব্য সেরা পদক্ষেপ। পুনর্বাসন প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে তার ফিটনেস পুনরুদ্ধার এবং টেন্ডনের অবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আমরা তার ফিটনেসের উন্নতির ব্যাপারে আশাবাদী। পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হবে ধরে রেখে তাসকিন জুনের প্রথম দিকে ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।”
তাসকিন যদি জুনের মধ্যে ফিটনেস ফিরে পান, তাহলে তার সামনে ভালো সম্ভাবনা থাকবে আগামী জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার। সেই সময়ে শ্রীলঙ্কার সফরে টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।
আরও পড়ুন
লিটনই টি-টোয়েন্টির নতুন অধিনায়ক |
![]() |
যে অপরাধে আর যেভাবে শাস্তি পেয়েছিলেন, তাতে কাগিসো রাবাদা বড় শাস্তি পাবেন বলেই মনে হচ্ছিল। তবে অল্পেই পার পেয়ে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ এই পেসার। বছরের শুরুতে নিয়ম ভঙ্গ করে মাদক ব্যবহারের জন্য শুরুতে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ হলেও তা কমিয়ে আনা হয়েছে এক মাসে।
সাউথ আফ্রিকান ইনস্টিটিউট ফর ড্রাগ ফ্রি স্পোর্টস (এসএআইডিএস) এর দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, এসএ-২০ চলাকালীন গত ২১ জানুয়ারি এমআই কেপ টাউন এবং ডারবান সুপার জায়ান্টসের মধ্যকার ম্যাচের পর ডোপিং পরীক্ষায় ব্যর্থ হন রাবাদা। আইপিএল খেলতে ভারতে অবস্থান করার সময় গত ১ এপ্রিল তাকে ফলাফল সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
আরও পড়ুন
ব্রাজিল নয়, জাতীয় দলে রাফিনিয়ার প্রথম পছন্দ ছিল ইতালি! |
![]() |
এর দুই দিন পর তার দল গুজরাট টাইটান্স জানায়, মাত্র দুই ম্যাচ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে গেছেন রাবাদা। কারণ বলা হয় ব্যক্তিগত।
এসএআইডিএস আরও জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে রাবাদা মাদকের অপব্যবহার রোধ করার জন্য একটি শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছেন। এই কারণে তার শাস্তি কমানো হয়েছে। ফলে তিনি এখন থেকে ফের স্বীকৃত ক্রিকেট খেলতে পারবেন, যা হতে পারে এই সপ্তাহে আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডীয়ান্সের বিপক্ষে গুজরাটের ম্যাচ দিয়ে।
গত শনিবার এই ঘটনাটিকে ‘দুঃখজনক’ বলে অভিহিত করে বিশাল এক বিবৃতি দেন রাবাদা। ধারণা করা হচ্ছে, তার ওপর দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড আর কোনও শাস্তি আরোপ করবে না।
আরও পড়ুন
পিএসএলের মাঝেই আইপিএলে চুক্তিবদ্ধ মিচেল ওয়েন |
![]() |
শাস্তির বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় রাবাদার আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করায় আর বাধা রইল না। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলমান চক্রে মাত্র ১৯.৯৭ গড়ে ৪৭ উইকেট নিয়ে রাবাদা দক্ষিণ আফ্রিকার সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলার।