
বাঁ-হাঁটুর চোটের কারণে মিরপুর টেস্ট থেকে ছিটকে যান বাবর আজম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার আছেন দারুণ ছন্দে। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাবরের মতো ব্যাটারের অনুপস্থিতি বেশ ভালোই ভুগিয়েছে পাকিস্তানকে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে চোট কাটিয়ে ফিরছেন দলটির পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক। আর এই ব্যাটারকে কোথায় আক্রমণ করতে হবে সেটা নাকি ভালোই জানা আছে বাংলাদেশের।
মিরপুর টেস্ট শুরুর আগের দিন অনুশীলনের মাঝপথে মাঠ ছেড়েছিলেন বাবর। অভিজ্ঞ পাকিস্তানি ব্যাটার বাবর আজম ফিট হয়ে সিলেটের দ্বিতীয় টেস্টে খেলার সবুজ সংকেত পেলেও, বাংলাদেশের জন্য তিনি বড় মাথাব্যথা হবেন না, বলছেন মুশফিকুর রহিম।
সিলেট টেস্ট শুরুর আগের দিন শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে দলের প্রতিনিধি হয়ে এসে মুশফিক বললেন, বাবরের জন্য পরিকল্পনা আছে তাদের,
‘তার মতো এরকম একজন বিশ্বমানের ক্রিকেটার যদি দলে থাকেন বা তাকে পাওয়া যায়, তাদের জন্য এটা অবশ্যই বড় পাওয়া। তবে আমরা যখন পাকিস্তানে গিয়ে (২০২৪ সালে) দুটি ম্যাচে ওদেরকে হারিয়েছিলাম, তখনও সে তো দুটি টেস্টই খেলেছে। তারপরও তারা হেরে গিয়েছিল আমাদের কাছে।’
মুশফিক আরও বলেন,
‘আমরা অবশ্যই জানি, কোথায় তাকে আক্রমণ করতে হবে বা কোথায় কীভাবে করতে হবে, পরিকল্পনা আছে। সব যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পানি, তাহলে আশা করি তাকে চাপে ফেলতে পারব এবং তাদের পুরো দলকে চাপে রাখতে পারব।’
২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তান যখন বাংলাদেশের কাছে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল, তখন চার ইনিংসে বাবর করেছিলেন মাত্র ৬৪ রান। গত সপ্তাহে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ৪০ রানে ৫ উইকেট নেওয়া পেসার নাহিদ রানা ওই সিরিজে বাবরকে দুবার আউট করেছিলেন। মুশফিকুর রহিম জানান, এবারও বাবরের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বাংলাদেশের।
মুশফিক বলেন,
‘আমার মনে হয় পাকিস্তান দল টেস্ট, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি সব সংস্করণেই বেশ ভুগছে। তবে আমরা (ঢাকায়) জিতেছি কারণ আমরা আসলেই খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছি। আমরা তাদের বিপক্ষে ধারাবাহিক ছিলাম। এই ম্যাচেও আমরা একইভাবে খেলার চেষ্টা করব। তবে এই টেস্টে ঠিক কতটা খেলার সুযোগ আমরা পাব, তা দেখতে হবে; ম্যাচ থেকে ফল বের করে আনাটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ হবে।’
সিরিজ বাঁচানোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বাবরের ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানের প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাবরের ফেরা আমাদের জন্য ইতিবাচক। গত পিএসএলেও সে দুর্দান্ত খেলেছে। মানসিকভাবে সতেজ ও কৌশলগতভাবে বাবর এখন অনেক শক্তিশালী। তাকে দলে পেয়ে আমরা খুশি।’
No posts available.
১৬ মে ২০২৬, ১০:৫০ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৭:৫০ পিএম
১৬ মে ২০২৬, ৭:৪৩ পিএম

বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে একের পর এক ছক্কা মেরে সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে গেলেন ফিন অ্যালেন। কিন্তু সাই কিশোরের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে নার্ভাস নাইন্টিতেই কাটা পড়ে গেলেন তিনি। তবে সেঞ্চুরি না পেলেও ছক্কার রেকর্ডে ক্রিস গেইলকেও পেছনে ফেললেন কিউই ব্যাটার।
ইডেন গার্ডেন্সে শনিবার রাতের ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় মাত্র ৩৫ বলে ৯৩ রানের ধুন্ধুমার ইনিংস খেলেন অ্যালেন। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২৪৭ রানের পুঁজি পায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। পরে ম্যাচ জিতে যায় ২৯ রানে।
এক ম্যাচ আগেই দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৫ চার ও ১০ ছক্কা মেরে ৪৭ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংসে দলকে জিতিয়েছিলেন অ্যালেন। এবার গুজরাটের বিপক্ষেও তার ব্যাট থেকে এলো ১০টি বিশাল ছয়ের মার।
আইপিএলের দীর্ঘ ১৯ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো ব্যাটার এক আসরে একাধিক ম্যাচে ১০টি করে ছক্কা মারার কীর্তি গড়লেন। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে আর কোনো ব্যাটার একই আসরে একের বেশি ম্যাচে ১০টি ছক্কা মারতে পারেননি।
ইউনিভার্স বসখ্যাত ক্রিস গেইল আইপিএলে ৪টি ভিন্ন ম্যাচে ১০ বা তার বেশি ছক্কা মেরেছেন। তবে এর সবগুলো ছিল ভিন্ন ভিন্ন আসরে। অর্থাৎ একই আসরে একাধিকবার ১০ ছক্কা মারতে পারেননি টি-টোয়েন্টির ফেরিওয়ালা।
২০১৩ সালের আইপিএলে টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৭টি ছক্কা মেরেছিলেন গেইল। যা এখনও আইপিএলে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। এছাড়া আরও তিন ম্যাচে ১৩, ১২ ও ১১টি ছক্কা মারার নজির আছে তার। তবে সবগুলোই ভিন্ন ভিন্ন আসরে।
অ্যালেন ও গেইল ছাড়াও একাধিক ম্যাচে ১০টি করে ছক্কা মারার রেকর্ড আছে অভিশেক শর্মা ও বৈভব সূর্যবংশীর। তবে তারাও একই আসরে একাধিক ম্যাচে ১০টি করে ছক্কা মারতে পারেননি। যা এবার প্রথম করে দেখালেন অ্যালেন।

সংখ্যার খেরোখাতায় আর যাই হোক, সব ইনিংসের মাহাত্ম্য মাপা যায় না। সিলেট টেস্টে লিটন দাসের ১২৬ রানের ইনিংসটি তেমনই এক উদাহরণ। চাপের মুখে বুক চিতিয়ে লড়ে দলকে টেনে তোলার অসামান্য বীরত্বে যে ধ্রুপদী প্রদর্শনী লিটন দেখিয়েছেন, তা এককথায় অনন্য অসাধারণ।
লিটনের ইনিংসের মাহাত্ম্য শুধু ২২ গজের লড়াইয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা মিলেমিশে একাকার হয়েছে এক বাবার গভীর আবেগে। ম্যাচ শেষে হেলমেটের লাল-সবুজ পতাকায় ভালোবাসার চুম্বন এঁকে দিয়ে, ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা এই শতকটি লিটন উৎসর্গ করেছেন তাঁর ছোট্ট রাজকন্যা আনায়রাকে।
লিটন-সঞ্চিতা দম্পতির একমাত্র সন্তান আনায়রা দাস। পূজার সময় মাকে সেই ছোট্ট আনায়রা জিজ্ঞেস করেছিল, প্রার্থনায় কী চাইব? মা বলেছিলেন, বাবার সেঞ্চুরির জন্য প্রার্থনা করো। এরপর থেকে আনায়রার প্রার্থনা জুড়ে একটাই চাওয়া- বাবার সেঞ্চুরি। আর তাই, টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরিটি লিটন দাস উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রিয় কন্যাকেই। সিলেট টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে এক আবেগঘন ফেসবুক বার্তায় ক্যারিয়ারের এই বিশেষ শতকটি মেয়ে আনায়রাকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
সামাজিক মাধ্যমে লিটন লেখেন, ‘শতকটি উৎসর্গ করলাম আমার রাজকন্যা আনায়রা দাসকে।’ এরপর তিনি যোগ করেন,
‘একবার এক পূজার আনুষ্ঠানিকতার সময় ও ওর মাকে জিজ্ঞেস করেছিল, ঈশ্বরের কাছে কী প্রার্থনা করা উচিত। আমার স্ত্রী তখন ওকে বলেছিল, “তোমার বাবার সেঞ্চুরির জন্য প্রার্থনা করো।” সেই থেকে ও ভগবানের কাছে শুধু আমার সেঞ্চুরির জন্যই প্রার্থনা করে আসছে।’
সিলেট টেস্টে প্রথম দিনে টসে হেরে ব্যাটিং নামা বাংলাদেশ ১১০ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে যখন খেই হারাতে থাকে, তখনই ব্যাট চওড়া হয়ে যায় লিটনের। লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নিয়ে অসাধারণ প্রতিরোধ গড়েন ডানহাতি এই ব্যাটার। তুলে নেন লাল বলের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক।
২২ গজের এই মহাকাব্যিক লড়াইয়ের আগে ঘরে যে এমন এক মিষ্টি রূপকথা অপেক্ষা করছিল, তা হয়তো অনেকেরই জানা ছিল না। লিটনের সেই বিশেষ সেঞ্চুরির পেছনে লুকিয়ে ছিল তাঁর ছোট্ট মেয়ের এক অটল ও সরল বিশ্বাস। ম্যাচের আগের মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করে তিনি তুলে ধরেন তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের সেই মধুর কথোপকথন,
‘আজ ম্যাচের আগেও ওর মা ওকে জিজ্ঞেস করেছিল, 'বাবা আজ কী করবে?' একটুও না ভেবে ও সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়—'সেঞ্চুরি।' এমনকি ও আজ টিভিতে ম্যাচটি দেখেছে এবং হেলমেটে থাকা বাংলাদেশের পতাকায় আমার চুমু খাওয়ার দৃশ্যটি ও ভীষণ পছন্দ করেছে ।’
মেয়ের সেই সরল চাওয়া আর অটল বিশ্বাসের মর্যাদা দিতে পেরে একজন বাবা হিসেবে লিটনের বুকটা আজ যেন গর্বে ভরে উঠেছে। আগামী দিনেও ‘রাজকন্যার’ জন্য ব্যাটের এই ধার বজায় রাখার এক মধুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিটন লিখেছেন,
‘আমার ছোট্ট রাজকন্যা, এই সেঞ্চুরিটি শুধু তোমারই জন্য। আশা করি, আগামীবছরগুলোতে তোমাকে এমন আরও অনেকসেঞ্চুরি উপহার দিতে পারব।’

সিলেট টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ের শুরুটা বেশ ছন্নছাড়া। ১১৬ রানে নেই ৬ উইকেট। দুই শর মধ্যে গুটিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলছিল। তখনও উইকেটে আস্থার প্রতীক হয়েছিলেন লিটন কুমার দাস।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে কি করা উচিত, সেটি ভালো করেই জানেন অভিজ্ঞ লিটন। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে প্রথম দিনের বাকি অংশ এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটারেরই। ১৫৯ বলে ১২৬ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। যার সৌজন্যে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ তুলেছে ২৭৮ রান।
টেস্ট ব্যাটিং বিপর্যয়ের দলের চালক হওয়া যেন লিটনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি কিংবা মিরপুর—‘ক্রাইসিস মোমেন্টে’ একের পর এক অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে বাঁচিয়েছেন। আজ পাকিস্তানের বিপক্ষে ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির পর লিটন জানিয়েছেন, বিপর্যয়ে দলকে প্রত্যাশিত ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়াই তাঁর আনন্দ।
২০২২ সালে মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ, সেখান থেকে ১৪১ রানের অসাধারণ এক ইনিংস খেলে দলকে ভালো অবস্থা নিয়ে যান লিটন। ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল, ধ্বংস্তুপে দাঁড়িয়ে সেবার খেলেছিলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
টেলএন্ডারদের নিয়ে চাপের মুখে খেলা, মিরপুর ও রাওয়ালপিন্ডির সেঞ্চুরির সঙ্গে আজকের ইনিংসের তুলনা করতে গিয়ে লিটন বলেন,
‘দুটা জিনিস হতে পারে। আমার কাছে মনে হয়, শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যে ইনিংসটা ছিল ওটা সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গে জুটি ছিল। একজন ব্যাটার যখন আপনার পার্টনার থাকবে, মানিসকভাবে পরিস্কার থাকা যায়। রাওয়ালপিন্ডিতেও একই ছিল, মিরাজ একজন ব্যাটার অনেকক্ষণ ইনিংস অলমোস্ট আমার ৮০ রানের মতো ছিল ২০ রান আমাকে কষ্ট করতে হয়েছে। বাট আজকেরটা টোটালি ডিফারেন্ট।’
সেঞ্চুরি নিয়ে নিজের ভাবনার কথা জানাতে গিয়ে লিটন স্পষ্ট করে বলেন,
‘আমি মনে হয় যখন দুই বা তিন রানে তখন তাইজুল ভাই স্ট্রাইকে আসে। সেঞ্চুরি এটা মানুষ বলে কয়ে করতে পারে না আর এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিতও না যে সেঞ্চুরি করা লাগবে। আমার টার্গেট ছিল যে রানটা কীভাবে বোর্ডে আসে। কারণ যে সময়টাতে তাইজুল ভাই আসছে আমাদের বোর্ডে রান মাত্র ১১০ কি সামথিং ১৬। হ্যাঁ, ১৬। তো আমার টার্গেট ছিল যে কীভাবে টিমকে একটা ২০০ রান পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যায়। অবশ্যই টার্গেট আমাকেই ফিলাপ করতে হবে। আমার টেল তো রান করবে না, রান আমাকেই করতে হবে। তো আমি একটা ইনফরমেশন পাঠিয়েছিলাম যে আমরা কি অ্যাটাকিংয়ে যাব কি না জাস্ট। উপর থেকে বলেছে রানের জন্য খেলার জন্য তো আমি চেষ্টা করেছি রান করার।’
দলের কঠিন পরিস্থিতিতে বারবার দায়িত্ব নেওয়া এবং এই ক্রাইসিস মোমেন্টগুলো লিটন বেশি উপভোগ করেন কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে লিটন জানান, পরিস্থিতির চ্যালেঞ্জটা তিনি নিজের মতো করে নিতে ভালোবাসেন।
বললেন,
‘না না, আমি বললাম তো আমার রোলটাই ডিফারেন্ট। দেখবেন কোনো কোনোদিন টপ অর্ডার উপর থেকে রান করতেছে। আমি ব্যাটিং করতেছি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামলাম উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। আমার ক্রিকেটটাই এমন, আমাকে পার্টিকুলার যে সময়টা আসবে সে সময়টা এনজয় করে খেলা। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ, কিন্তু এখানেও এনজয় করার অনেক কিছু ছিল।’

লেজের দিকের ব্যাটারদের নিয়ে স্কোরবোর্ডে যোগ করলেন ১৮০ রান। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংসে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলেছেন। মাঝেমধ্যেই তাসকিন আহমেদ-শরিফুলদের স্ট্রাইক না দিতে সিঙ্গেল নেননি। তবে হঠাৎ লিটন দাসের অসাধারণ এই ইনিংস ‘পূর্ণতা’ না পাওয়ার একটা শঙ্কাও জাগে। লিটনের ৯৯ রানের সময় অলআউট হতে পারত বাংলাদেশ। ওই পরিস্থিতিতে কি চিন্তা করছিলেন তিনি? হার্টবিট তো বেড়েই যাওয়ার কথা!
সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশকে উদ্ধার করা লিটন মিস করতে পারতেন সেঞ্চুরি। শতক থেকে এক রান দূরে থাকতে ১০ নম্বর ব্যাটার হিসেবে নামা শরিফুল পড়েন এলবিড্লুর ফাঁদে। পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খানের বল লাগে শরিফুলের পায়ে আম্পায়ারের আঙুলও উঠে গেল! তবে মুহূর্তেই রিভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন শরিফুল। বল ট্র্যাকিংয়ে দেখা গেল বলটি লেগ স্টাম্প লাইনের বাইরে দিয়ে চলে যাচ্ছে, ফলে বেঁচে গেলেন শরিফুল! পাশপাশি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন ১২৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা লিটনও।
৭০ ওভার পুরোটাই খেলতে হয়েছে শরিফুলকে। ওই মুহূর্তে শরিফুল আউট হলে ১১ নম্বর ব্যাটার নাহিদ রানাও দ্রুত ফিরতে পারত, তাতে সেঞ্চুরি হাতছাড়া হতে পারত লিটনের। তখন কি চলছিল উইকেটকিপার ব্যাটারের মনে? সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হয়ে আসা লিটনের মুখ থেকেই শোনা যাক,
‘আমি অনেক টেনশনে ছিলাম, বিশেষ করে যখন শরিফুলের পায়ে লাগছে আরকি। আমি ওরে বারবার গিয়ে বলতেছিলাম যে সামনে খেলার জন্য কারণ ও তো অনেক লম্বা, সো ব্যাক অফ দ্য লেংথে গেলেই বলটা পায়ে লাগার চান্স বেশি। কিন্তু ও খুবই ভালো সাপোর্ট দিয়েছে।’
সিলেটের উইকেটে পাকিস্তানের স্পিনার সাজিদ খানের বিপক্ষে লোয়ার-অর্ডার ব্যাটারদের আগলে রাখাটা ছিল বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে শেষ দিকে দলের টেল-এন্ডারদের ব্যাটিং সামর্থ্যের ওপর পুরোপুরি ভরসা করতে পারছিলেন না লিটন, যার কারণে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছিলেন তিনি। শেষ ব্যাটারদের সামলানোর সেই স্নায়ুচাপের মুহূর্ত নিয়ে লিটন দাস বলেন,
‘ওই যে আমি বললাম যে আমার টেল-এন্ডারগুলো তো অতটা ভালো না যে আমি কনফিডেন্স সহকারে দিয়ে দিতে পারব ছয় বলের জন্য। তাই একজনকে দিয়েছিলাম সে প্রথম বলেই আউট হয়ে গেছে। সো ওর পরে আমি আরও নিজে সতর্ক হয়ে গেছি যে খেলা আমারই লাগবে আর যত কম দেওয়া যায় আরকি এক-দুই বল।’
লিটনের ক্যারিয়ারের বেশিরভাগ দুর্দান্ত ইনিংসই এসেছে দলের চরম বিপর্যয়ের মুখে। বিশেষ করে টেস্টে দলের কঠিন পরিস্থিতি কি লিটন বাড়তি উপভোগ করেন? এমন প্রশ্নের মুখে নিজের ব্যাটিং পজিশন ও ভিন্ন ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দেন এই স্টাইলিশ ব্যাটার। লিটন জানান, পরিস্থিতির ওপর তাঁর হাত না থাকলেও নিজের অর্পিত দায়িত্বটা তিনি সবসময় উপভোগ করার চেষ্টা করেন।
উইকেটের পরিস্থিতি আর ম্যাচের অবস্থান অনুযায়ী লিটনের দায়িত্বটা একেক সময় একেক রূপ নেয়, যেখানে কখনো টপ-অর্ডারের তৈরি করা ভিতে রান বাড়াতে হয়, আবার কখনো ৬০-৭০ ওভার পর পুরোনো ও টার্নিং বলের কঠিন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হয়। বৈচিত্র্য এই দায়িত্বই উপভোগ করেন লিটন, ‘দেখবেন কোনো কোনোদিন টপঅর্ডার উপর থেকে রান করতেছে। আমি ব্যাটিং করতেছি ৬০-৭০ ওভারের সময় নামলাম উইকেটে বল ঘোরা শুরু হলো। তো আমার ক্রিকেটটাই এমন যে আমাকে নির্দিষ্ট সময়টা আসবে সে সময়টাএনজয় করে খেলা। এটাও একটা চ্যালেঞ্জ কিন্তু এখানেও উপভোগের অনেক কিছু ছিল।

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের পঞ্চম রাউন্ডে দারুণ ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছেন মোহাম্মদ মিঠুন, শাহাদাত হোসেন দীপু, আশিকুর রহমান শিবলি। বল হাতে কারিশমা দেখিয়ে ৬ উইকেট পেয়েছেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন।
মোহামেডানকে হারিয়ে শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক
বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্স মাঠে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ ওভারে গিয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। পাঁচ ম্যাচের সবকটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে গেছে তারা। প্রথম পরাজয়ে দুইয়ে নেমে গেছে মোহামেডান।
মাত্র ১ রানের জন্য সেঞ্চুরি করতে পারেননি মোহাম্মদ নাঈম শেখ। তার ১০৭ বলে ৯৯ রানের সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমন ৫২ ও আফিফ হোসেন ধ্রুব ৪৯ রানের ইনিংস খেললে ৬ উইকেটে ৩০৩ রান করে মোহামেডান। আবু হাশিম নেন ৪ উইকেট।
রান তাড়ায় চমৎকার সেঞ্চুরি করেন শাহাদাত। তার ব্যাট থেকে আসে ১০ চার ও ২ ছক্কায় ১২৩ বলে ১১৮ রান। এছাড়া আকবর আলি ৩০ বলে ৪০ ও শামীম হোসেন পাটোয়ারী ২১ বলে ৩৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেললে শেষ ওভারে গিয়ে জিতে যায় প্রাইম ব্যাংক। সাইফ উদ্দিন নেন ৪ উইকেট।
আবাহনীর হ্যাটট্রিক জয়
পরপর দুই ম্যাচ হেরে যাত্রা শুরুর পর টানা তৃতীয় জয় পেল আবাহনী লিমিটেড। মিরপুরে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্সকে ৬ উইকেটে হারাল বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ২০৯ রান করতে পারে বসুন্ধরা। জবাবে ৩৯.২ ওভারে জিতে যায় আবাহনী।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয়ে টেবিলের তিন নম্বরে আবাহনী। সমান ম্যাচে দুই জয়ে বসুন্ধরার অবস্থান নবম।
বসুন্ধরার পক্ষে সর্বোচ্চ ৮১ রান করেন আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। এছাড়া নাহিদুল ইসলামের ব্যাট থেকে আসে ৬৩ রান। দুর্দান্ত বোলিংয়ে ৯ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৪ রানে ৪ উইকেট নেন তরুণ পেসার রোহানাত দৌল্লাহ বর্ষণ।
রান তাড়ায় আবাহনীর হয়ে ৩ চার, ৫ ছক্কায় দলের সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। এছাড়া ৫৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন সাব্বির রহমান। জাকের আলি অনিকের ব্যাট থেকে আসে ৪৩ রান।
মিঠুনের ৮ ছক্কার তাণ্ডব
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে ৩ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৬ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেছেন ঢাকা লেপার্ডসের অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন। এছাড়া মইন খানের ব্যাট থেকে এসেছে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৯ রান।
এই দুজনের পাশাপাশি ইফতেখার হোসেন ইফতি ৫১ রানের ইনিংস খেলে ৩৫১ রানের পুঁজি পায় ঢাকা লেপার্ডস। জবাবে মাত্র ২৩১ রানের গুটিয়ে যায় ব্রাদার্স। গোলাম কিবরিয়া শাকিল করেন সর্বোচ্চ ৫১ রান। ১২০ রানের জিতে যায় লেপার্ডস।
পাঁচ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে টেবিলের পাঁচ নম্বরে লেপার্ডস।
শিবলির সেঞ্চুরি, রূপগঞ্জের বিশাল জয়
বিকেএসপির ৪ নম্বর মাঠে গুলশান ক্রিকেট ক্লাবকে ২০৫ রানে হারিয়েছে লেজেন্ডস অব রূপগঞ্জ। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ৩৫৪ রান করে রূপগঞ্জ। জবাবে ১৪৯ রানে গুটিয়ে যায় গুলশান।
পাঁচ ম্যাচে রূপগঞ্জের এটি তৃতীয় জয়। গুলশান জিতেছে এক ম্যাচ।
রূপগঞ্জের পক্ষে ১৩০ বলে ১১৯ রানের ইনিংস খেলেন আশিকুর রহমান শিবলি। এর আগে এক ম্যাচে ৯৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। এবার পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ।
এছাড়া রবিউল ইসলাম রবি ৭৩ বলে ৬৫ ও সামিউর বশির রাতুল ৩০ বলে করেন ৪৭ রান।
গুলশানের পক্ষে ৬৫ বলে ৬১ রান করেন শাহরিয়ার সাকিব। নাসুম আহমেদ ৩২ রানে নেন ৪ উইকেট।
সাকলাইনের ৬ উইকেট
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে সিটি ক্লাব। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ২৪৬ রান করে রূপগঞ্জ টাইগার্স। জবাবে মাত্র ৩৯.৩ ওভারে জিতে যায় সিটি ক্লাব।
এটি তাদের তৃতীয় জয়। এখনও কোনো জয়ের দেখা পায়নি রূপগঞ্জ টাইগার্স।
প্রতিপক্ষের ৭ উইকেটের মধ্যে একাই ৬টি নেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সব মিলিয়ে ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ মাত্র ৩৭ রান খরচ করেন তিনি।
রূপগঞ্জের পক্ষে ১৪৪ বলে ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন মাহমুদুল হাসান লিমন। এছাড়া আব্দুল মজিদ ৮৫ বলে ৫২ ও মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ৩৭ বলে করেন ৫০ রান।
রান তাড়ায় ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৫ বলে ১০৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাদিকুর রহমান। এছাড়া এনামুল হক এনামের ব্যাট থেকে আসে ১ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৫ বলে ৯০ রান।
গাজী গ্রুপকে হারাল অগ্রণী ব্যাংক
পিকেএসপিতে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। প্রীতম কুমারের ৬২ বলে ৭২ রানের সৌজন্যে ২৫২ রানের পুঁজি পায় গাজী গ্রুপ। জবাবে ৪৮.৫ ওভারে জিতে যায় অগ্রণী ব্যাংক।
শুভাগত হোম ৬৭ বলে ৭৮ রান করে আউট হন। নাসির হোসেনের ব্যাট থেকে আসে ৭৯ বলে ৭৮ রানের অপরাজিত ইনিংস। সঙ্গে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ম্যাচ সেরাও হন নাসির। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেন আরিফ আহমেদ।