১ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ৬:১৮ পিএম

দুর্বার রাজশাহীর হ্যাটট্রিক জয়ে কাজটা কিছুটা কঠিনই হয়ে গিয়েছিল। তবে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জিততেই হবে, এমন সমীকরণের প্রথম ম্যাচে জিতে কাজটা এগিয়েই রেখেছিল খুলনা টাইগার্স। আর টুর্নামেন্টের অন্যতম অধারাবাহিক দল ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে জয়ের কাজটা অনেকটাই করে দিলেন বোলাররাই। সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ করলেন ম্যাচ জেতানো ফিফটি, যা তার দলকে জায়গা করে দিল প্লে-অফে।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৪১তম ম্যাচে খুলনা হেসেখেলেই জিতেছে ৪ উইকেটের ব্যবধানে। ঢাকার করা ৯ উইকেটে ১২৩ রান মিরাজের দল পাড়ি দিয়েছে ১৬.৫ ওভারেই।
এই জয়ে ১২ ম্যাচে খুলনার পয়েন্ট হয়েছে ১২। রাজশাহীর পয়েন্টও সমান ম্যাচে ১২। তবে নেট রান-রেটে বেশি এগিয়ে থেকে শেষ চারের টিকিট পেয়েছে খুলনাই।
নিজেদের প্রথম ১০ ম্যাচে আত্র চার জয় পাওয়া খুলনা আগের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে উপহার দেয় দাপুটে পারফরম্যান্স। বিশাল সে জয়ের আত্মবিশ্বাসকে সঙ্গী করে ঢাকার বিপক্ষে শুরুতে অবশ্য ব্যাকফুটেই চলে গিয়েছিল খুলনা। লিটন দাস অল্পেই ফিরলেই তানজিদ হাসান তামিম একের পর এক ছক্কার মারে চাপে ফেলে দেন প্রতিপক্ষের বোলারদের।
আগের ম্যাচে তিন উইকেট পাওয়া মুসফিক হাসানকে হাঁকান টানা দুই ছক্কা। তবে ছয় থেকে দশ ওভারের মধ্যে ঘুরে দাঁড়ান খুলনার বোলাররা। ওই সময়ে রানের গতি অনেকটাই কমে যায়। ফারমানউল্লাহ শাফি খেলেন দৃষ্টিকটু এক ইনিংস, যেখানে প্রতিটি রানের জন্যই তাকে করতে হয় সংগ্রাম।
স্বাভাবিকভাবেই তা চাপ বাড়িয়ে দেয় অন্য ব্যাটারদের ওপর। সেটা সরাতে গিয়ে তিনি নিজে আউট হন ২০ বলে মাত্র ৭ রানে। একই ওভারে ৭ ছক্কা ও এক চারে উইলিয়াম বোসিস্টোর বলে। আউট হওয়ার আগে তানজিদ খেলেন দলীয় সর্বোচ্চ ৫৮ রানের ইনিংস।
এরপরই ধস নামে ঢাকার। ৯৫ রানেই চলে যায় ৭ উইকেট। সেখান থেকে টেনেটুনে ১২০ পার করার অবদান রাখেন সাব্বির রহমান। দুই চার ও এক ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ২০ রান।
চার ওভারে এক মেডেন সহ মাত্র ৫ চারে ২ উইকেট নেন হাসান মাহমুদ। বিপিএলের ইতিহাসে চার ওভার পূর্ণ হয়েছে, এমন স্পেলে এটি এখন যৌথভাবে দ্বিতীয় সেরা ইকোনমি রেটের বোলিং।
আগের ম্যাচে রংপুরের বিপক্ষে ২২০ করা খুলনার জন্য মামুলি এই রান তাড়া করাটা কঠিন হওয়ার কথা ছিল না। তবে ম্যাচে দারুণ বল করা মুস্তাফিজুর রহমান প্রথম ওভারেই শেষ ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান নাঈম শেখকে ফিরিয়ে রোমাঞ্চের আভাস দেন। পরের ওভারে আফিফ হোসেনকেও শূন্য রানে ফিরিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই পেসার।
তবে সেই চাপে ভেঙে না পড়ে, মিরাজ শুরু করেন পাল্টা আক্রমণ। তাতে ফলও মিলতে শুরু করে দ্রুত। পেসার মেহেদি হাসানের এক ওভারে চার ও ছক্কা সহ আদায় করেন ১৫ রান। এরপর শাফিকে দুটি চারের পাশাপাশি ওড়ান ছক্কায়।
সেই শাফিকেই ছক্কা মেরে মাত্র ৩২ বলে ফিফটি তুলে নেন খুলনা অধিনায়ক। অন্যপ্রান্তে কয়েকটি উইকেট হারালেও একপ্রান্ত আগলে শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন মিরাজ। ৫৫ বলে ৭৪ রানের ইনিংস সাজান ৫ চার ও চার ছক্কায়। চার ওভারে ১৬ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নেন মুস্তাফিজুর।
No posts available.
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৩০ পিএম
২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:০৬ পিএম

প্রথম ইনিংসের পরই ম্যাচের ফলাফল নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল অনেকটা। তবে বাকি ছিল পাকিস্তানের সেমি-ফাইনাল খেলার সমীকরণ। আশা জাগিয়েও সেই সমীকরণ মেলাতে পারেনি তারা। তাই ম্যাচ জিতেও বিদায় নিলো পাকিস্তান। আর সেমি-ফাইনালে উঠল নিউ জিল্যান্ড।
পাল্লেকেলেতে শনিবার সুপার এইটের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫ রানে হারায় পাকিস্তান। আগে ব্যাট করে সাহিবজাদা ফারহানের ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরিতে ৮ উইকেটে ২১২ রান করে তারা। জবাবে ৬ উইকেট হারিয়ে ২০৭ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
এই জয়ে তিন ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের সমান ৩ পয়েন্ট হয়েছে পাকিস্তানের। কিন্তু নেট রান রেটে নিউ জিল্যান্ডের (+১.৩৯০) চেয়ে পিছিয়ে আছে পাকিস্তান (-০.১২৩)। তাই সমান পয়েন্ট থাকার পরও বিদায়ঘণ্টা বাজল তাদের। আর সেরা চারে উঠল নিউ জিল্যান্ড।
সেমি-ফাইনালের টিকেট পাওয়ার জন্য শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকাতে হতো পাকিস্তানের। তবে ১৬ ওভারের মধ্যেই এই রান করে ফেলে স্বাগতিকরা। তাই ৪ ওভার বাকি থাকতেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় পাকিস্তানের।
সুপার এইটে তিন ম্যাচের সবকটি হেরে খালি হাতেই টুর্নামেন্ট শেষ করল শ্রীলঙ্কা। এই গ্রুপ থেকে নিউ জিল্যান্ডের আগে সেমি-ফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড।
বিশাল রান তাড়ায় শুরুর দিকে একবারও মনে হয়নি জিততে পারে শ্রীলঙ্কা। পাওয়ার প্লেতে তারা করে ৪৯ রান। দশ ওভার শেষে দলের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৮৫ রান। একশ ছুতেই আরও দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা।
সেখান থেকে শুরু হয় পবন রত্নায়েকে ও দাসুন শানাকার ঝড়। দুজন মিলে মাত্র ৩৩ বলে গড়েন ৬১ রানের জুটি। ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৭ বলে ৫৮ রান করে আউট হন পবন।
এরপর জয়ের জন্য বাকি ছিল ১৫ বলে ৫১ রান। তাণ্ডব চালিয়ে ১৩ বলে ৪৫ রান করে ফেলেন শানাকা। কিন্তু শেষ দুই বলে ৬ রানের সমীকরণে ব্যাটেই লাগাতে পারেননি। ইনিংসের শেষ বলটি অবশ্য ওয়াইড হতেও পারত। তবে আম্পায়ার তা দেননি।
শেষ পর্যন্ত ২ চার ও ৮টি ছক্কা মেরে ৩১ বলে ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। তবে দলকে সুপার এইটের প্রথম জয় এনে দিতে পারেননি তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নামা দলকে সেমি-ফাইনালের সম্ভাবনা দেখানোর কারিগর সাহিবজাদা ও তার উপযুক্ত সঙ্গী ফাখার জামান। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ১৭৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
এত দিন সর্বোচ্চ ছিল টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেনের অবিচ্ছিন্ন ১৭৫ রানের জুটি। চলতি বিশ্বকাপেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তারা।
১৬তম ওভারে দুশমন্থ চামিরার বলে ফাখার বোল্ড হয়ে গেলে ভাঙে বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটি। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৪ রান করে আউট হন ফাখার।
সঙ্গীকে হারালেও অন্য প্রান্তে এগোতে থাকেন সাহিবজাদা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে তিনি গড়েন এক আসরে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ড। ৯ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ৫৯ বলে সেঞ্চুরি করেন ৩০ ছুঁইছুঁই ওপেনার।
এর আগে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫৮ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাহিবজাদা। বিশ্বের আর কোনো ব্যাটার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিক সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একাধিক সেঞ্চুরি আছে শুধু ক্রিস গেইলের। ২০০৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৬টি বিশ্বকাপ খেলে ৩১ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি করেছিলেন ইউনিভার্স বস। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে মাত্র ৬ ইনিংসে তাকে ছুঁয়ে ফেলেন সাহিবজাদা।
সেঞ্চুরির রেকর্ডের বাইরেও বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের ইতিহাসও গড়েছেন সাহিবজাদা। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬ ইনিংসে ৯৫.৭৫ গড়ে তার সংগ্রহ ৩৮৩ রান। এক বিশ্বকাপে এত দিন সর্বোচ্চ রান ছিল বিরাট কোহলির, ২০১৪ সালে ১০৬.৩৩ গড়ে ৩১৯ রান।
সাহিবজাদা ও ফাখারের বিশ্ব রেকর্ড জুটি ভাঙার পর অবশ্য প্রত্যাশিত গতি পায়নি পাকিস্তানের ইনিংস। সব মিলিয়ে শেষের ২৬ বলে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৬ রান করতে পেরেছে তারা।
রান বন্যার ইনিংসে ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন দিলশান মাদুশঙ্কা। এছাড়া ২ উইকেট নেন দাসুন শানাকা।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্প্রচার চুক্তিতে সই করল টুর্নামেন্ট আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ২০২৬ থেকে ২০২৯ পর্যন্ত চার আসরের জন্য ২ হাজার ৬১১ কোটি রুপিতে সম্প্রচার স্বত্ব কিনে নিয়েছে ওয়ালি টেকনোলজিস।
আগামী মার্চে শুরু হতে যাওয়া ২০২৬ মৌসুম থেকেই কার্যকর হবে নতুন চুক্তি। এবার থেকে টিভি ও ডিজিটাল- দুই প্ল্যাটফর্মেই স্বত্ব থাকবে ওয়ালির হাতে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওয়ালি একই সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানার সঙ্গেও যুক্ত।
চুক্তির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় কারণ ম্যাচসংখ্যা বৃদ্ধি। ছয় থেকে আট দলে পরিণত হওয়ায় ম্যাচ বেড়ে ৩৪ থেকে ৪৪টি হয়েছে। তবে শুধু ম্যাচ বাড়াই নয়, প্রতি ম্যাচের গড় মূল্যও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।
এর আগের চক্রে যেখানে প্রতি ম্যাচের মূল্য ছিল ১২ কোটি ২০ লাখ রুপি। এবার সেটি ২১ শতাংস বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়ে ১৪ কোটি ৮০ লাখ রুপিতে।
এর আগে চলতি বছরের নিলামেও তিনটি নতুন দলের মূল্য ছিল আকাশছোঁয়া। মুলতান সুলতানস- যা এখন ‘পিন্ডি’ নামে পরিচিত, ১০ বছরের জন্য বছরে ২৪৫ কোটি রুপিতে বিক্রি হয়েছে, যা লিগের বাণিজ্যিক সম্ভাবনার শক্ত বার্তা দেয়।
পিএসএলের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসের বলেন, এটি শুধু পিএসএল নয়, পুরো পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রচার চুক্তি।
“পিএসএলের বাণিজ্যিক সম্পদের মূল্য যে হারে বেড়েছে, তা লিগের বিশ্বাসযোগ্যতার ও বিশ্বমানের অবস্থানের প্রতিফলন। ২০২৬ থেকে ২০২৯- চার বছরের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রিতে আমরা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছি।”
তিনি আরও জানান, টিভি ও লাইভ-স্ট্রিমিং স্বত্ব একই কাঠামোয় আনার ফলে দর্শকেরা একাধিক প্ল্যাটফর্মে আরও আধুনিক অভিজ্ঞতা পাবেন; যেখানে সময়ের সঙ্গে যুক্ত হবে নতুন প্রযুক্তি।
পিএসএলের আগামী মৌসুম শুরু হবে ২৬ মার্চ, ফাইনাল ৩ মে।

দলের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আবারও জ্বলে উঠলেন সাহিবজাদা ফারহান। তার সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে বিশ্ব রেকর্ড গড়লেন ফাখার জামান। দুজনের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে কঠিন সমীকরণ মিলিয়ে সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান।
পাল্লেকেলেতে সুপার এইটে নিজেদের শেষ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৮ উইকেটে ২১২ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছে পাকিস্তান। ম্যাচটি অন্তত ৬৫ রানে জিতলে সেমি-ফাইনালের টিকেট পাবে তারা। অর্থাৎ শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের মধ্যে আটকাতে হবে তাদের।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা দলকে এই সম্ভাবনা দেখানোর কারিগর সাহিবজাদা ও তার উপযুক্ত সঙ্গী ফাখার জামান। দুজন মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেছেন ১৭৬ রান। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
এত দিন সর্বোচ্চ ছিল টিম সেইফার্ট ও ফিন অ্যালেনের অবিচ্ছিন্ন ১৭৫ রানের জুটি। চলতি বিশ্বকাপেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এই রেকর্ড গড়েছিলেন তারা।
১৬তম ওভারে দুশমন্থ চামিরার বলে ফাখার বোল্ড হয়ে গেলে ভাঙে বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটি। ৯ চার ও ৪ ছক্কায় ৪২ বলে ৮৪ রান করে আউট হন ফাখার।
সঙ্গীকে হারালেও অন্য প্রান্তে এগোতে থাকেন সাহিবজাদা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে তিনি গড়েন এক আসরে দুটি সেঞ্চুরির রেকর্ড। ৯ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ৫৯ বলে সেঞ্চুরি করেন ৩০ ছুঁইছুঁই ওপেনার।
এর আগে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়ার বিপক্ষে ৫৮ বলে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন সাহিবজাদা। বিশ্বের আর কোনো ব্যাটার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিক সেঞ্চুরি করতে পারেননি।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে একাধিক সেঞ্চুরি আছে শুধু ক্রিস গেইলের। ২০০৭ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৬টি বিশ্বকাপ খেলে ৩১ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি করেছিলেন ইউনিভার্স বস। নিজের প্রথম বিশ্বকাপে মাত্র ৬ ইনিংসে তাকে ছুঁয়ে ফেললেন সাহিবজাদা।
সেঞ্চুরির রেকর্ডের বাইরেও বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রানের ইতিহাসও গড়েছেন সাহিবজাদা। এই বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ৬ ইনিংসে ৯৫.৭৫ গড়ে তার সংগ্রহ ৩৮৩ রান। এক বিশ্বকাপে এত দিন সর্বোচ্চ রান ছিল বিরাট কোহলির, ২০১৪ সালে ১০৬.৩৩ গড়ে ৩১৯ রান।
কোহলির রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের প্রথম ব্যাটার হিসেবে এক বিশ্বকাপে ৪০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করার সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সাহিবজাদা। তবে সেজন্য এখন বোলারদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে পাকিস্তানের।
সাহিবজাদা ও ফাখারের বিশ্ব রেকর্ড জুটি ভাঙার পর অবশ্য প্রত্যাশিত গতি পায়নি পাকিস্তানের ইনিংস। সব মিলিয়ে শেষের ২৬ বলে ৮ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৬ রান করতে পেরেছে তারা।
রান বন্যার ইনিংসে ৪ ওভারে মাত্র ৩৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন দিলশান মাদুশঙ্কা। এছাড়া ২ উইকেট নেন দাসুন শানাকা।

ইরানে আজ যৌথভাবে হামলা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ হয়েছে। জবাবে ইরানও ‘শত্রুপক্ষের’ বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে এমন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি)।
আইসিসি আনুষ্ঠানিক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যের ‘উৎকণ্ঠাপূর্ণ পরিস্থিতি’ পর্যবেক্ষণ করছে। চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে–এ সকল অংশগ্রহণকারীর ভ্রমন, লজিস্টিক এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপক জরুরি পরিকল্পনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ক্রিকেট নিয়ন্তা সংস্থা।
আজ শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যায়, যা স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়। অনেক এয়ারলাইনের ফ্লাইট বাতিল বা রুট পরিবর্তন করতে হয়েছে।
আইসিসি একটি বিবৃতিতে বলেছে,
‘মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সরাসরি টুর্নামেন্টের খেলার ওপর কোনো প্রভাব ফেলছে না। তবে আমরা স্বীকার করি যে খেলোয়াড়, দলীয় ম্যানেজমেন্ট, ম্যাচ অফিসিয়াল, সম্প্রচার দল এবং ইভেন্ট স্টাফসহ অনেকেই গালফের হাব বিমানবন্দরগুলো, বিশেষ করে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের, ব্যবহার করছেন নিজের দেশে ফেরার জন্য প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে।’
বিবৃতিতে আইসিসি আরও জানিয়েছে,
‘আমাদের ভ্রমন ও লজিস্টিক টিম আন্তর্জাতিক বড় এয়ারলাইনের সঙ্গে কাজ করছে বিকল্প রুট নির্ধারণ ও নিশ্চিত করার জন্য, যার মধ্যে রয়েছে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার হাবগুলো। আইসিসির নিরাপত্তা পরামর্শকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী রিয়েল-টাইম সতর্কতা প্রদান করবেন। এছাড়া একটি নিবেদিত আইসিসি ট্রাভেল সাপোর্ট ডেস্কও সক্রিয় করা হয়েছে।’
ভারত-শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজিত ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শেষপর্যায়ে আছে। রোববার ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচের মধ্য দিয়ে শেষ হবে সুপার এইট পর্ব। সেমিফাইনাল হবে ৪ ও ৫ মার্চ এবং ফাইনাল ৮ মার্চ।

চলমান টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ফল যাই হোক, টুর্নামেন্ট শেষে দলটিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, টি–টোয়েন্টি অধিনায়ক সালমান আলী আগার ভবিষ্যৎ প্রায় নিশ্চিতভাবেই শেষের পথে।
প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে জানা গেছে এই খবর। যেখানে বলা হয়েছে, পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন।
সূত্রের ভাষ্য, নির্বাচক, টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে বিশ্বকাপে ভালো করার নিশ্চয়তা পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মাঠের ফলাফলে সেই আস্থার প্রতিফলন মেলেনি।
ফলে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছেন নাকভি- বিশ্বকাপ শেষে সালমান আগাকে টি-টোয়েন্টি নেতৃত্ব থেকে সরানো হবে। একই সঙ্গে প্রধান কোচ মাইক হেসন ও নির্বাচকদের সঙ্গে বসে কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করবেন তিনি।
সালমান ছাড়াও বাবর আজম, উসমান খানসহ আরও কয়েকজনের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে পর্দা নামতে পারে এই বিশ্বকাপের পর। ১৪৫টি টি-টোয়েন্টি খেলা বাবর হয়তো জাতীয় দলের হয়ে এই সংস্করণে শেষ ম্যাচ খেলেই ফেলেছেন। কারণ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও একাদশে জায়গা হয়নি তার।
নেতৃত্বে পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নতুন অধিনায়ক হিসেবে শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির নাম বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই কোচ হেসন বোর্ড চেয়ারম্যানকে জানিয়েছিলেন, আধুনিক টি-টোয়েন্টির চাহিদা মেটাতে হলে তরুণদের গড়ে তোলার বিকল্প নেই। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই টুর্নামেন্টের পর দল পুনর্গঠনের পথে হাঁটতে পারে পাকিস্তান।
সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপ শেষেই পাকিস্তানের টি–টোয়েন্টি সেটআপে বড় রদবদলের আভাস স্পষ্ট। ফল যাই হোক, সামনে যেন নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষা।