
সিরিজের প্রথম ম্যাচে ন্যাথান স্মিথের লো বাউন্সি ডেলিভারিতে নাজমুল হোসেন শান্ত বোল্ড আউট হয়েছেন, তা দেখে সমালোচকদের তিরে বিদ্ধ হতে হয়েছে নির্বাচকদের। সিরিজের প্রথম ম্যাচে গোল্ডেন ডাক পাওয়া এই শান্তই সিরিজে সর্বাধিক রান সংগ্রাহক। ১ সেঞ্চুরি, ১ ফিফটিতে করেছেন ৭৭.৫০ গড়ে ১৫৫ রান। কীভাবে সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে এতোটা ইউটার্ন দিলেন শান্ত ? এটাই এখন গবেষণার বিষয়।
তবে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৫০ এবং শেষ ম্যাচে ১০৫ রানের পেছনে অন্যতম কারন ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন। তিন থেকে চার নম্বরে ব্যাটিং অর্ডার নামিয়ে আনায় স্বাচ্ছন্দে ব্যাটিং করতে পেরেছেন শান্ত। সিরিজের প্রথম ম্যাচে শান্ত ব্যাটিং করেছেন ৩ নম্বর পজিশনে, ওডিআই ক্রিকেটে যে পজিশনে ৬৪টি ইনিংসের মধ্যে ৪৮টি ইনিংসে করেছেন ব্যাটিং। এই ৪৮টি ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৩০.৫০। অথচ, সিরিজের পরের দুই ম্যাচে ৪ নম্বরে ব্যাট করেছেন শান্ত, যে পজিশনে শান্ত ৮ ইনিংসে ২ সেঞ্চুরি, ২ ফিফটি করেছেন, চার নম্বরে তার ব্যাটিং গড় ৬৫.৫০, স্ট্রাইক রেট ৮১.৮৭।
চার নম্বরটা যে তার সঙ্গে বেশ মানিয়ে নেয়, তা জানিয়ে দিয়েছেন শান্ত এই পজিশনে প্রথম ব্যাট করে। ২০২৩ সালে লাহোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ৪ নম্বরে নেমে লাহোরে দিয়েছিলেন সেঞ্চুরি উপহার (১০৪)। ৪ নম্বরে নেমে পরের ম্যাচে ও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধর্মশালায় খেলেছেন ম্যাচ উইনিং ইনিংস (৫৯*)। ২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের ম্যাচ উইনারকে পরের ৮টি ম্যাচের মধ্যে ২টিতে চার নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রিয় পজিশনে ব্যাটিং ফিরে পেয়েছেন শান্ত দুই বছর পর, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪৪ রানের ইনিংসের পর আবারো ফিরে যেতে হয়েছে তাকে ৩ নম্বরে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ম্যাচে সৌম্যকে ফেরানোয় সৌম্য'র যতোটা না লাভ হয়েছে, তার চেয়ে ঢের বেশি লাভ হয়েছে শান্ত'র। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ফর্ম ফিরে পেয়েছেন, ১৩ ইনিংস পর পেয়েছেন ফিফটি। সিরিজের শেষ ম্যাচে সেঞ্চুরিটি সেখানে প্রতীক্ষিত। সময়ের হিসেবে ২৫ মাস, আর ম্যাচের হিসেবে ২০ ইনিংস পর উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি।
ওডিআই ক্রিকেটে নুতন বলে মানিয়ে নিতে সময়ক্ষেপন হলেও সমস্যা নেই, ব্যাটিং পাওয়ার প্লে পেরিয়ে যাওয়ার পর ইনিংসের মাঝপথে সিঙ্গল-ডাবলে অনায়াসে স্কোর সমৃদ্ধ করতে পারেন। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে তা জানিয়ে দিয়েছেন শান্ত। প্রথম রানটির জন্য অপেক্ষা করেছেন ৭ম বলের মোকাবেলা পর্যন্ত। ও' রোর্কেকে স্ট্রেইট ড্রাইভে লং অনে খেলে ২ রানে শুরু তার ইনিংস। পুরো ইনিংসে একটিবারও দেননি সুযোগ।
বৃহস্পতিবার বিশেষ আতিথি হিসেবে প্রেসিডেন্ট বক্সে পুরো খেলা দেখেছেন সাবেক অধিনায়ক শফিকুল হক হীরা। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ের জন্য শান্ত আদর্শ বলে মনে করছেন-‘ তিন এবং চার নম্বরের ব্যাটারের বৈশিষ্ট্য পুরো আলাদা। চার নম্বরে ব্যাটিংয়ে প্রধান দায়িত্ব সিঙ্গল-ডাবলে ইনিংসটা টেনে নিয়ে যাওয়া। শান্ত সে কাজটাই করেছে। উপরে খেলার প্রবনতা দেখিনি। ব্যাটিংয়ের সময়ে অধৈর্য হতে দেখিনি। রান রেটটাও ঠিক রেখেছে। লিটনকে গাইড করে ১৬০ রানের পার্টনারশিপেও শান্ত নেতৃত্ব দিয়েছে। এমন এক বৈশিষ্ট্যের ব্যাটারের জন্য ৪ নম্বর পজিশন পারফেক্ট। তিন নম্বরের জন্য একজন জেনুইন ব্যাটার দরকার। এ ব্যাপারে নির্বাচকরা বিশেষ ভুমিকা রাখবে বলে আশা করছি।’
No posts available.
৬ মে ২০২৬, ৫:৪৬ পিএম
৬ মে ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম
৬ মে ২০২৬, ৪:৪৭ পিএম

দুজনেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পরিচিত উইকেট কিপার ব্যাটার হিসেবে। দুজনেই তিন ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের হয়ে ক্যাপ্টেন্সি করেছেন। বলছি মুশফিকুর রহিম এবং সরফরাজ আহমেদের কথা। সরফরাজ আহমেদের চেয়ে বয়সে ১১৩ দিন বড় মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও এই দুইজনের মধ্যে সিনিয়র মুশফিকুর রহিম। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের আড়াই বছর পর অভিষেক হয়েছে সরফরাজ আহমেদের। তবে সরফরাজ আহমেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেমে গেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে। সেখানে টেস্টে ধারাবাহিক পারফরমেন্সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আরও কিছুদিন খেলার পথটা মসৃন করেছেন মুশফিকুর রহিম।
আসন্ন টেস্ট সিরিজে দুজনকে দেখবে দর্শক দুই ভুমিকায়। মাঠে খেলবেন মুশফিক, ডাগ আউট আর ড্রেসিংরুম থেকে পাকিস্তান দলকে নির্দেশনা দিবেন সরফরাজ আহমেদ।
৫৪ টেস্ট, ১১৭ ওডিআই ৬১ টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে তিন ফরম্যাটেই ক্যাপ্টেনসি করেছেন। ক্যাপ্টেনসি ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি ২০১৭ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা। ক্রিকেটের বৈশ্বিক কোনো আসরে এটাই পাকিস্তানের সর্বশেষ ট্রফি। ওডিআই ক্রিকেটে ক্যাপ্টেন্স রেকর্ডটাও তাঁর দারুণ। ক্যাপ্টেন্সির ৫০ ম্যাচে ২৮ জয়। সংক্ষিপ্ত সংস্করনের ক্রিকেটে পাকিস্তান অধিনায়কদের মধ্যে সাফল্যাঙ্কটা তাঁর সবচেয়ে বেশি। তাঁর ক্যাপ্টেনসি অধ্যায়ে ৩৭ ম্যাচের ২৯টিতে জিতেছে পাকিস্তান, সাফল্যাঙ্ক ৭৮.৩৭%।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ২০২৩ সালে থামলেও আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছেন এ বছরের মার্চে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে গুডবাই বলার আগে পেয়েছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে (পিসিবি)-এ কাজ করার সুযোগ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান শাহিনস এবং অনূর্ধ্ব-১৯ দল দেখভালের দায়িত্ব পেয়ে দেখিয়েছেন কারিশমা। সে বছরের ডিসেম্বরে এশিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে মেন্টরের ভুমিকায় পাকিস্তানকে দিয়েছেন শিরোপা উপহার। তাঁর পুরস্কার পেয়েছেন সফরফরাজ আহমেদ। এ বছরের এপ্রিলে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়ে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টে এসেছেন বাংলাদেশ সফরে। লাল বলের ক্রিকেটের জন্যই তাঁকে হেড কোচ হিসেবে বেছে নিয়েছে পিসিবি।
অধিনায়ক হিসেবে সফল সরফরাজ আহমেদ আন্তর্জাতিক কোচিং ক্যারিয়ারেও সফল হতে চান। বাংলাদেশ সফর দিয়ে নুতন পরিচয়কে রাখতে চান স্মরণীয় করে। সম্প্রতি এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে এমনটাই জানিয়েছেন- ‘ক্রিকেট ক্যারিয়ারটা বেশ ভালভাবেই কাটিয়েছি। কোচ হিসেবেও সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চাই। ঘরোয়া পর্যায়ে এবং ক্রিকেট একাডেমিতে কোচিংয়ের কিছু অভিজ্ঞতা আমার আছে। টেস্ট ক্রিকেট নিঃসন্দেহে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সময়ের সাথে সাথে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক সাহায্য করবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।’
টেস্টে সরফরাজ আহমেদের দুই ডেপুটি ওমর গুল-আসাদ শফিক। ২০০৩ সালে মুলতান টেস্ট এবং ২০১২ সালে মিরপুরে এশিয়া কাপের ফাইনালে বাংলাদেশকে কাঁদিয়েছেন যিনি, এক সময়ের সেই গতির বোলার ওমর গুল এবার বাংলাদেশে এসেছেন বোলিং কোচের দায়িত্ব নিয়ে। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তান জাতীয় দলের খন্ডকালীন এই বোলিং কোচের জন্যও বাংলাদেশ সফর চ্যালেঞ্জিং।
টেস্টে ব্যাটিংয়ে সফল আসাদ শফিকের রেকর্ডটা বাংলাদেশের বিপক্ষে দারুণ। ৫ টেস্টে ৬৯.৩৩ গড়ে ৪১৬ রানের মধ্যে ২০১১ সালে চট্টগ্রামে এবং ২০১৫ সালে মিরপুরে সেঞ্চুরি আছে তাঁর। উইকেটে পাহাড় হয়ে দাঁড়ানো যার অভ্যেস, ৪০ বছর বয়সী সেই আসাদ শফিক এখন বাবর আজমকে ব্যাটিং গুরু।
পাকিস্তানের কোচিং স্টাফের এই তিনজনের দিকে চোখ রাখতে হবে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টকে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সেই বাইশ গজে অবিশ্বাস্য ব্যাটিং নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ক্রিকেট বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন উদীয়মান বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। চলমান আইপিএলেও রাজস্থান রয়্যালসের জার্সিতে ব্যাটিংয়ে সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিচ্ছেন তিনি। অবিশ্বাস্য ব্যাটিং প্রতিভায় ক্রিকেট বোদ্ধাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখা এই কিশোরের বিরুদ্ধে এবার উঠেছে 'শোষিত' হওয়ার অভিযোগ।
কর্ণাটকের এক সমাজকর্মী তাকে দিয়ে পেশাদার ক্রিকেট খেলানোকে ‘শিশুশ্রম’ ও ‘আইন লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৈভবের অনবদ্য পারফরম্যান্সের সুফল ভোগ করা রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে এখন রীতিমতো মামলা দায়ের করার ঘোষণা দিয়েছেন ওই ব্যক্তি। সিএম শিবকুমার নায়ক নামের ওই সমাজকর্মী একটি কন্নড় নিউজ চ্যানেলের টকশোতে রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘শিশুশ্রম’-এর অভিযোগ তোলেন।
রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো কী
রিপাবলিক ওয়ার্ল্ডের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ওই আলোচনায় নায়ক বলেন, ‘রাজস্থান রয়্যালসের এই ১৫ বছর বয়সী ছেলে বৈভব সূর্যবংশীকে শোষণ করা হচ্ছে। সে নেহাতই একজন শিশু, যার বয়স মাত্র ১৫। তাকে আইপিএলের মতো জায়গায় পেশাদার ক্রিকেট খেলার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। এটি শিশুশ্রম ছাড়া আর কিছুই নয়। এত বড় একটি লিগে তারা কীভাবে একজন নাবালককে খেলাতে পারে? এই অল্প বয়সে ক্রিকেট খেলার বদলে তার এখন পড়াশোনায় মন দেওয়া এবং স্কুলে গিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং শিশু অধিকার ও শিশুশ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে রাজস্থান রয়্যালস ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ বা আইনি মামলা দায়ের করব। এই ছেলেকে আইপিএল খেলতে দেবেন না, এটা শিশুশ্রম; তার পড়াশোনা করা উচিত।’
আইসিসি-র নিয়ম কী বলছে
সদ্য ১৫ বছরে পা দিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী, যা তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার জন্য আইসিসি-র 'ন্যূনতম বয়স যোগ্যতা' অনুযায়ী বৈধ করে তুলেছে। আইসিসি-র নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় তখনই আন্তর্জাতিক ম্যাচ বা অনূর্ধ্ব-১৯ ইভেন্টে অংশ নিতে পারবেন, যদি স্কোয়াড জমা দেওয়ার দিনে বা টুর্নামেন্ট শুরুর তারিখে তার বয়স অন্তত ১৫ বছর হয়।
অবশ্য প্রশ্ন উঠেছে বৈভবের গত বছরের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। এক্ষেত্রে আইসিসি-র নিয়মে একটি 'বিশেষ প্রেক্ষপট' রাখা হয়েছে। যদি কোনো জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড মনে করে যে কোনো খেলোয়াড় অসাধারণ প্রতিভাবান, তবে ১৫ বছরের নিচে হলেও আইসিসি-র 'এক্সেপশনাল সারকামস্ট্যান্সেস কমিটি'-র অনুমতি নিয়ে তাকে খেলানো সম্ভব। বৈভবের ক্ষেত্রেও ভারত সেই বিশেষ অনুমতি পেয়েছিল।
বিসিসিআই-এর নিয়ম
বিসিসিআই-এর বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো অনূর্ধ্ব-১৬ বা অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটারকে আইপিএলে সুযোগ পেতে হলে অন্তত একটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সূর্যবংশীর ক্ষেত্রে আইপিএল ২০২৫ বা ২০২৬ মৌসুমে খেলতে কোনো বাধা নেই, কারণ মাত্র ১২ বছর বয়সেই বিহারের হয়ে মুম্বাইয়ের বিপক্ষে রঞ্জি ট্রফিতে তাঁর অভিষেক হয়েছিল। ফলে বিসিসিআই-এর প্রোটোকল অনুযায়ী সে সম্পূর্ণ যোগ্য।
বিতর্ক একপাশে রেখে আইপিএলে এখন পর্যন্ত ১০ ম্যাচে ৪০৪ রান করেছেন সূর্যবংশী। একটি সেঞ্চুরিসহ তার স্ট্রাইক রেট দাঁড়িয়েছে ঝোড়ো ২৩৭-এ। বাঁহাতি এই ওপেনারকে নিয়ে এরই মধ্যে জাতীয় দলে ডাকার দাবি উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী জুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজেই ভারতের জার্সিতে তাঁর অভিষেক হতে পারে।

রিয়াল মাদ্রিদের অনুশীলনে সতীর্থ আন্তোনিও রুডিগারের সঙ্গে হাতাহাতির খবর নিয়ে নীরবতা ভেঙেছেন তরুণ ডিফেন্ডার আলভারো কারেরাস। লস ব্লাঙ্কোস শিবিরে উত্তেজনা ও শৃঙ্খলাভঙ্গের যে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, এক বিবৃতির মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিষ্কার করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার রাতে নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে কারেরাস জানান, সম্প্রতি তাঁকে নিয়ে যেসব মন্তব্য বা ইঙ্গিত করা হয়েছে, তা বাস্তবের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, ‘প্রথম দিন থেকেই ক্লাবের প্রতি আমার অঙ্গীকার পূর্ণ ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও সম্মান বজায় রেখেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’
অনুশীলন সেশনের একটি ঘটনায় গুঞ্জন উঠেছিল, রুডিগার তাঁকে থাপ্পড় মেরেছেন। জার্মানির এই তারকার নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও কারেরাস স্বীকার করেছেন, এক সতীর্থের সঙ্গে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছিল। তবে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন তিনি। তাঁর ভাষায়, ‘সতীর্থের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি একটি বিচ্ছিন্ন বিষয় যার কোনো প্রাসঙ্গিকতা নেই, এটি ইতিমধ্যে সমাধান হয়ে গেছে। পুরো দলের সঙ্গেই আমার সম্পর্ক অত্যন্ত চমৎকার।’
শুধু কারেরাস-রুডিগার বিতর্কই নয়, কোচ আলভারো আরবেলোয়াকে আরও অনেক অভ্যন্তরীণ ঝামেলা সামলাতে হচ্ছে। আরবেলোয়ার সঙ্গে মিডফিল্ডার দানি সেবালোসের মধ্যে একটি অপ্রীতিকর মুখোমুখি বৈঠক হয়েছে বলে আলোচনা রয়েছে।
অনুশীলনের সময় কিলিয়ান এমবাপেকেও বেশ কয়েকবার হতাশ ও ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে। দলের বাজে ফর্ম এবং ট্রফিহীন মৌসুমের আশঙ্কায় রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ কিছুটা বিষিয়ে উঠেছে বলে ইতিমধ্যে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
সব বিতর্ক একপাশে সরিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের এখন লক্ষ্য চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে আসন্ন এল ক্লাসিকো। চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বিদায় ও লা লিগার শিরোপা দৌড়ে পিছিয়ে পড়ার পর মান বাঁচাতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই কারেরাসদের সামনে। আগামী রোববার ক্যাম্প ন্যুতে নিজেদের ঐক্যবদ্ধ প্রমাণ করার বড় চ্যালেঞ্জ এখন আরবেলোয়ার শিষ্যদের সামনে।

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নতুন উত্তেজনার নাম নাহিদ রানা। গতি ও আগ্রাসন মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এই তরুণ পেসারের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স দেখছেন তার আত্ম-সচেতনতা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নাহিদকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তরুণ পেসার প্রশংসায় ভাসান সিমন্স।
“নাহিদ রানার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে নিজের অবস্থানটা বোঝে- সে কোথায় আছে এবং তাকে কী করতে হবে, সেটা পরিষ্কারভাবে জানে। এত অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে এই বোঝাপড়াটা খুবই বুদ্ধিদীপ্ত।”
পাকিস্তান সুপার লিগে পেশাওয়ার জালমির হয়ে ফাইনাল খেলে পরে জাতীয় দলে যোগ দেন নাহিদ। ছোট্ট ক্যারিয়ারে অল্প সময়েই তিনি তৈরি করেছেন আলোড়ন। তবে তার এই গতি ও সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সতর্ক থাকতে চান সিমন্স।
“তাকে আমাদের দেখেশুনে ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। আধফিট অবস্থায় টেস্ট খেলানো যাবে না। আমরা চাই, সে দীর্ঘ সময় ধরে এই গতিটা ধরে রাখুক।”
বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে ‘শক্তিশালী ইউনিট’ হিসেবে উল্লেখ করে সিমন্স জানান, গতির দিক থেকে এখন নাহিদই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই তাকে রক্ষা করাও দলের দায়িত্ব।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল নাহিদকে। তবুও তার ওয়ার্কলোড নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
“প্রথম টেস্টের পর আমরা দেখব সে কত ওভার বল করেছে, শারীরিক অবস্থা কেমন। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে, নাকি বিশ্রাম পাবে।”
নাহিদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ প্রতিপক্ষ শিবিরও। পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিও প্রশংসা করেছেন এই তরুণকে।
“আমি মনে করি, সে বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো সম্ভাবনা। আশা করি, তারা তাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করবে। সাম্প্রতিক সময়ে সে দারুণ ফর্মে আছে। আশা করি, সেটা আমাদের বিপক্ষে কাজ করবে না।”

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের স্মৃতি এখনও টাটকা। তবে সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। নতুন সিরিজ শুরুর আগে তার চোখ কেবল সামনের দিকেই।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৮ মে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। ঠিক এক বছর আগেই রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ।
যা ছিল এই ফরম্যাটে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাদের প্রথম সিরিজ জয়। তবে সিমন্স স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সেই অধ্যায় এখন অতীত। বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে তাই নতুন ইতিহাস গড়ার কথা বললেন বাংলাদেশের প্রধান কোচ।
“ওটা (পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা) এখন ইতিহাস, আর সেই ইতিহাস শেষ। আমরা এখন নতুন ইতিহাস গড়তে চাই। শুক্রবার কী হয়, সেটার দিকেই তাকিয়ে আছি। আগে কী হয়েছিল, সেটা এখন গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
তবু সিমন্স স্বীকার করলেন, আগের সাফল্য খেলোয়াড়দের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে।
“মনে তো থাকেই, শেষ ম্যাচটা জিতেছিলে, এটা ভেতরে একটা বাড়তি শক্তি দেয়। কিন্তু এটা নতুন ম্যাচ, নতুন ভেন্যু। আমরা এখন বাংলাদেশে খেলছি, পাকিস্তানে নয়। তাই সেগুলো পেছনে ফেলে সামনে মনোযোগ দিতে হবে।”
সিরিজ জয়ের স্মৃতি বাড়তি চাপ তৈরি করবে, এমনটা মনে করেন না বাংলাদেশ কোচ। বরং তার মতে, প্রত্যাশার চাপ ড্রেসিংরুমের ভেতরের চেয়ে বাইরে বেশি।
“৯৫ শতাংশের বেশি প্রত্যাশা ড্রেসিংরুমের বাইরে। আপনারা, দর্শক- সবার প্রত্যাশা বেশি। আমরা শুধু প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং খেলাটার জন্য মুখিয়ে আছি। আগের সিরিজের প্রত্যাশা আমাদের সাহায্য করে না, তাই আমরা সেটা বাইরে রাখার চেষ্টা করি।”
প্রায় ছয় মাস পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরছে বাংলাদেশ। যদিও এই সময়ে দল ব্যস্ত ছিল সাদা বলের ক্রিকেটে, তবু ফরম্যাট বদলটা কঠিন হবে না বলেই বিশ্বাস সিমন্সের।
“এটা মানসিকতা পরিবর্তনের ব্যাপার। তবে অনেকেই এই সময়ে লাল বল নিয়েই কাজ করেছে। তাই পরিবর্তনটা যতটা ভাবছেন, ততটা কঠিন হবে না।”
দুই দলের শক্তির জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও শুরুতেই কোনো দলকে এগিয়ে রাখতে রাজি নন সিমন্স। তার মতে, ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো যারা দখলে নিতে পারবে, তারাই এগিয়ে থাকবে।
“দুই দলেরই ভালো পেস আক্রমণ আছে, স্পিন আক্রমণও শক্তিশালী। শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিজেদের করে নিতে পারে। প্রতিটি সেশনে এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যেগুলো জিততে হয়। যে দল সেগুলো জিতবে, তারাই ম্যাচে এগিয়ে থাকবে।”