
আইপিএলের ১৯তম আসর যত গড়াচ্ছে, শিরোপার লড়াই ততই জমে উঠেছে। মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি মাঠের বাইরের কিছু ঘটনাও বেশ আলোচনার জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে ডাগআউটে ফোন ব্যবহার এবং ড্রেসিংরুমে ভ্যাপিংয়ের ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। এবার নতুন করে ‘হানি ট্র্যাপ’ বা নারীঘটিত ফাঁদ নিয়ে সতর্কবার্তা জারি করেছে বিসিসিআই।
বৃহস্পতিবার আইপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো মেইল পাঠিয়েছে বিসিসিআই। বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার পাঠানো ৮ পাতার সেই নির্দেশিকায় নারীঘটিত ফাঁদ নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমস ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে পাঠানো বিসিসিআইয়ের নির্দেশিকার বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে—আইপিএলে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড় বা স্টাফরা টিম ম্যানেজারকে জানানো বা তাঁর অনুমোদন ছাড়াই হোটেলের রুমে নিয়ে আসার যে প্রথা ছিল, তা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এখন থেকে কোনো খেলোয়াড় তার কোনো বন্ধু, আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তি টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া রুমে নিয়ে যেতে পারবেন না। বরং লবিতেই সাক্ষাৎ সারতে হবে তাদের।
বিসিসিআই হানি ট্র্যাপের প্রসঙ্গ টেনে দলগুলোর উদ্দেশে লিখেছে—বিসিসিআই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে হাই–প্রোফাইল স্পোর্টিং পরিবেশে বিদ্যমান সুপরিকল্পিত আপস (কম্প্রোমাইজ) এবং হানি ট্র্যাপিংয়ের ঝুঁকির দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। যৌন অসদাচরণ–সংক্রান্ত প্রচলিত ভারতীয় আইনসহ গুরুতর আইনি অভিযোগের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে সব সময় এই ধরনের ঝুঁকি প্রশমনে সতর্ক ও সক্রিয় থাকতে হবে।
No posts available.
৮ মে ২০২৬, ৪:০৮ পিএম

১০টি করে চার ও ছক্কা। তাতে সেঞ্চুরি ধরা দিল মাত্র ৩২ বলে। দেশজুড়ে চলমান প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি’র ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় এমনই অবিশ্বাস্য ব্যাটিং উপহার দিয়েছে নরসিংদীর কিশোর ক্রিকেটার তরিকুল ইসলাম পরশ।
শুক্রবার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শিবপুর উপজেলার বিপক্ষে ১৫৫ রানের বিশাল জয় পেয়েছে নরসিংদী সদর উপজেলা। ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন পরশ।
প্রতিযোগিতার প্রথম ম্যাচে ব্যাটিংয়ের সুযোগই মেলেনি পরশের। তবে সেদিন বল হাতে ২ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন এই অলরাউন্ডার। আর আজ ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচে দেখালেন ব্যাটিং রুদ্ররূপ। যতক্ষণ বাইশ গজে ছিলেন, ব্যস্ত রেখেছেন প্রতিপক্ষের ফিল্ডারদের।
নরসিংদী জেলা স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই শিবপুরের বোলারদের ওপর চড়াও হন পরশ। তাঁর ৩২ বলে ১০৮ রানের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ২১১ রান সংগ্রহ করে নরসিংদী সদর উপজেলা।
২১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় নেমে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শিবপুর উপজেলার ব্যাটাররা। সদর উপজেলার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে নির্ধারিত ১০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৬ রান তুলতে সক্ষম হয় তারা। ফলে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে ফাইনালের টিকিট কাটে নরসিংদী সদর উপজেলা।

৮২, ৬৩, ৮৭ এরপর আজ ৯১। টেস্টে মুমিনুল হকের সবশেষ চার ইনিংস যেন এক ধারাবাহিকে ট্র্যাজেডির গল্প বলছে। দুর্দান্ত খেলেও তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার ছোঁয়া হলো না তাঁর। সেঞ্চুরির সুবাস যখন নাকে আসছিল, যখন পুরো স্টেডিয়াম দাঁড়িয়ে করতালি দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই ড্রেসিংরুমের পথ ধরাটাকে অভ্যাসে পরিণত করেছেন মুমিনুল।
মিরপুরে আজ কঠিন এক সময়েই ব্যাটে নেমেছিলেন মুমিনুল হক। ৩১ রানে দুই ওপেনারের বিদায়ে বিপদে পড়া দলকে উদ্ধার করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে দারুণ এক জুটি গড়ে। তাদের ১৭০ রানের জুটিতে শান্ত ঠিকই শতকের দেখা পেয়েছেন। ধীরেসুস্থে একই পথেই হাঁটছিলেন মুমিনুল। তবে ৯ রান দূরে থাকতেই নোমান আলির বলে এলবিডব্লু হলে মৃত্যু ঘটে আরেকটি সম্ভাব্য সেঞ্চুরির।
একের পর এক সেঞ্চুরি হাতছাড়ায় কি আক্ষেপ হয় না মুমিনুলের? আক্ষেপ হওয়াটাই তো স্বাভাবিক, টানা চার ইনিংসে তীরে এসে তরী ডোবানোর এই যন্ত্রণা কেবল একজন ব্যাটারই অনুধাবন করতে পারেন। প্রথম দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল জানালেন, এতদিন পর্যন্ত নাকি আক্ষেপ হয়নি, আজই নাকি একটু হয়েছে। তবে ক্যারিয়ারে ১৪ নম্বর সেঞ্চুরি মিস করার আফসোস থেকে বউয়ের গালির ভয়েই নাকি তটস্থ হয়ে আছেন ৩৪ বছর বয়সী ব্যাটার!
আক্ষেপ কিংবা রসিকতার সুরে মুমিনুল বলেন,
‘না আক্ষেপ হয় না। এতদিন আক্ষেপ হয়নি আজকে একটু হালকা আক্ষেপ হয়েছিল। তাও ভয়ের কারণে যে বউ হয়তো গালি দিবে এইটাই।’
ব্যাক্তিগত অর্জনের চেয়ে মুমিনুলের কাছে দলের জন্য অবদান রাখার গুরুত্বটাই বেশি,
‘আউট হয়ে আসার পর দুই তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল। আর আমার কাছে একশোর চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল নিয়মিত রান করা এবং প্রতিনিয়ত দলের জন্য অবদান রাখা।’
তৃতীয় উইকেটে শান্তর সঙ্গে জুটিতে বেশ রয়েসয়ে খেলতে দেখা যায় মুমিনুলকে। কাউন্টার অ্যাটাকে পাকিস্তানের বোলারদের শান্ত ভড়কে দিলেও ধীরেসুস্থে খেলার কৌশলই বেছে নেন তিনি।
৪৫ স্ট্রাইকরেটে ২০০ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলতে গিয়ে কী একটু বেশিই ধীরগতির ব্যাটিং করছিলেন মুমিনুল? তেমনটা মনে করছেন না বাঁহাতি ব্যাটার,
‘না ওই সময় আমার কাছে মনে হয় নাই যে স্লো হয়ে গেছি। আমি দেখলাম যে রানের তাড়া ছিল না। আমার লক্ষ্য ছিল যে এক ঘণ্টা খেলা আছে ওই এক ঘণ্টা যদি আমি গতানুগতিক ক্রিকেট খেলি। আর ও ভালো বল করছিল। আমি যেভাবে আশা করছিলাম ওইভাবে খেলতে পারিনি। বলটা হঠাৎ করে নিচু হয়ে গেছে।’
প্রথম দিন শেষে মিরপুরের পিচ ব্যাটারদের জন্য দারুণই ছিল বলতে হবে। এমন পিচে প্রথম দিন শেষে ৪ উইকেটে ৩০১ রান করা বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস শেষে কত রান স্কোরবোর্ডে তুললে নিরাপদে থাকবে, এমন প্রশ্নে মুমিনুল বলেন,
‘কালকে সকালের এক ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। উইকেট না হারিয়ে ওই সময়টা পার করতে পারলে ৪০০-৫০০ রান হতে পারে। এখন উইকেটে অনেক কিছু হচ্ছে তাই প্রথম এক ঘণ্টা ভালো খেলাটা জরুরি।’

২০০৫ সালের সেই মে, লর্ডসের ঐতিহাসিক গ্যালারি সাক্ষী ছিল ১৮ বছরের এক কিশোরের স্বপ্নযাত্রার। তখন ঠিক কজন ভেবেছিলেন ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরোনো আর ঐতিহ্যবাহী সংস্করণে নিরলস সাধনার এক অনন্য নাম হয়ে উঠবেন এই ব্যাটার। অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমনের হাত থেকে টেস্ট ক্যাপটি মাথায় পরে যে পথচলা শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই যাত্রা স্পর্শ করল এক অনন্য মাইলফলক। মুশফিকুর রহিম এখন এশিয়ার ক্রিকেট ইতিহাসের দ্বিতীয় দীর্ঘতম টেস্ট ক্যারিয়ারের অধিকারী।
মুশফিকের টেস্ট ক্যারিয়ারের দৈর্ঘ্য এখন ২০ বছর ৩৪৮ দিন। মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামা ৩৮ বছয় বয়সী ছাড়িয়ে গেলেন পাকিস্তানেরই কিংবদন্তি ইমরান খানকে। এশিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী ক্যারিয়ারের তালিকায় তিনি এখন কেবল মহানায়ক শচীন টেন্ডুলকারের পেছনে অবস্থান করছেন।
৮৮ টেস্ট খেলা ইমরান খানের এই সংস্করণে ক্যারিয়ারের দৈঘ্য ছিল ২০ বছর ২১৮ দিন। আর কিংবদন্তি শচীনের রেকর্ড ভাঙতে হলে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে মুশফিককে। সর্বকালের সেরা শচীন ২০০ টেস্ট খেলেছেন ২৪ বছর ১ দিনের ক্যারিয়ারে। আর পুরো বিশ্বের হিসেবে এ তালিকায় শীর্ষে থাকা ইংলিশ ক্রিকেটার উইলফ্রেড রোডস অবশ্য সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন। ১৮৯৯ সালের ১ জুন অভিষেক হওয়ার পর রোডসের পথচলা শেষ হয় ১৯৩০ সালের ১২ এপ্রিলে।
বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে অনেক জায়গাতেই প্রথম মুশফিক। কদিন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলার মাইলফলক স্পর্শ করলেন। শততম টেস্টে শতরানকারী হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটে ১১ নম্বর জায়গাটিও নিজের করে নেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। সবচেয়ে বেশি ম্যাচ, রান, ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ ছাড়াও কত প্রথমে যে মুশফিকের নাম আছে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুরের আজ প্রথম দিন শেষে মুশফিক অপরাজিত ছিলেন ৪৮ রানে। ১৩ শতক আর ২৮ ফিফটির বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে মোট রান এখন ৬৫৫৮।

দূর থেকে উইকেটের সঙ্গে আউট ফিল্ডের পার্থক্য বোঝা দায়। বৃষ্টি পেয়ে মাঠ সবুজাভ, পিচের চেহারাও একই। টেস্টে বাংলাদেশের মাটিতে এমন সবুজ পিচ কী আগে কখনো দেখেছে কেউ ? এটাই ছিল বড় প্রশ্ন। এই সবুজাভ উইকেটে টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে না জানি কতোটা বিপদসংকুল পথ পাড়ি দিতে হয়, ছিল এই শঙ্কা। তবে এমন পিচে পাকিস্তান পেসারদের ভয়ংকর হয়ে উঠতে দেননি ব্যাটাররা। শঙ্কা কাটিয়ে শান্ত'র সেঞ্চুরি (১০১), মুমিনুলের ৯ রানের আক্ষেপের (৯১) দিনটি পাড়ি দিয়েছে বাংলাদেশ স্বস্তিতে। দিন শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩০১/৪, ওভারপ্রতি ৩.৫৪ হারে রান তুলে প্রকৃতই টেস্ট মেজাজের পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ।
উইকেট শুরুতে কিছুটা স্যাঁতসেতে থাকায় দিনের প্রথম ঘন্টাটা ছিল বাংলাদেশ টপ অর্ডারদের জন্য অস্বস্তির। দিনের ৭ম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে যেয়ে মাহামুদুল হাসান জয় দিয়েছেন উইকেটের পেছনে ক্যাচ (৯ বলে ৮)। ৪ ওভার পর শাহিন শাহ আফ্রিদির এন্ডে আর এক পেসার হাসান আলীকে এনে বাংলাদেশকে ঝাকুঁনি দিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক। হাসান আলীর প্রথম ডেলিভারিতে সাদমান দিয়েছেন সেকেন্ড স্লিপে ক্যাচ (৩০ বলে ১৩)। স্কোরশিটে ৩১ উঠতে ২ উইকেট হারিয়েও হতোদ্যম হয়নি বাংলাদেশ। প্রথম ঘন্টার ( ৩৮/২) বিপদ কেটে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ঘন্টা থেকে বাংলাদেশ ব্যাটাররা উল্টো অতিষ্ঠ করে ছেড়েছে পাকিস্তান বোলারদের। দিনের প্রথম সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১০১ রানের মধ্যে দ্বিতীয় ঘন্টায় উইকেটহীন ৬৩। দ্বিতীয় সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে ১০০, দিনের শেষ সেশনেও ১ উইকেট হারিয়ে ১০০! কি হিসেবি ব্যাটিং ?
এমন দিনে তৃতীয় উইকেট জুটিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে মুমিনুল-শান্তর রেকর্ড ১৭০, চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুমিনুল-মুশফিকুর রহিমের ৭৫ রান ম্যাচে বাংলাদেশকে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হয়েছে।
নিউ জিল্যান্ডের সর্বশেষ ওডিআই সিরিজের প্রথম ম্যাচ রানহীন কাটিয়ে ফিরেছেন ফর্মে। মিরপুরে ৫০ রানের হার না মানা ইনিংসের পর চট্টগ্রামে ১০৫। ৬ মাস পর সাদা বল থেকে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেও সেঞ্চুরি (১০১)! প্রথম রানটির জন্য ৭ম বল পর্যন্ত অপেক্ষায় শান্ত নিজের লক্ষ্যটা ঠিক করতে পেরেছেন। মাহামুদ আব্বাসকে মিড অন দিয়ে বাউন্ডারিতে পেয়েছেন আত্মবিশ্বাস। তখন থেকে মনযোগ দিয়েছেন স্ট্রাইক রেটে। ৭১ বলে ফিফটিতে লেগেছে ৯৪ মিনিট। পাকিস্তানের বিপক্ষে ইতোপূর্বের ৫ টেস্টের ৯ইনিংসের একটিতেও ছিল তাঁর ফিফটি। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন লাঞ্চ ব্রেকের আগে সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিফটিতে পেয়েছেন ছন্দ। মুহাম্মদ আব্বাসকে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি শটে পৌছে গেছেন তিন অঙ্কে। টেস্টে ৯ম সেঞ্চুরির ইনিংসে ১২ টি চারের পাশে স্পিনার সালমান আগাকে ডিপ স্কোয়ার লেগের উপর দিয়ে এবং মুহাম্মদ আব্বাসকে লং অনের উপর দিয়ে ছক্কাটি ছিল ছুটির দিনে হাজার তিনেক দর্শকের কাছে সেরা বিনোদন।
১৮৪ মিনিটের ইনিংসে ৭৭.৬৯ স্ট্রাইক রেটে ১৩০ বল খেলেছেন শান্ত। তবে সেঞ্চুরির ইনিংসটি থেমেছে তাঁর টি ব্রেকের মাত্র ৩ মিনিট আগে। যাকে বেশি স্বাচ্ছন্দে খেলেছেন, সেই মুহাম্মদ আব্বাস শিকার করেছেন তাঁকে।
গত নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেট টেস্টে সেঞ্চুরির (১০০) পর মিরপুর টেস্টে শান্ত করেছিলেন হতাশ। ৮ এবং ১ রানে থেমে যাওয়া ওই দুটি ইনিংসের দুঃসহ স্মৃতি মুছে ফেলে লাল বলে ফিরেছেন সেঞ্চুরিতে।
পাকিস্তানের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেট জুটিতে সর্বোচ্চ ১৭০ রানের পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দিয়েছেন শান্ত। মুমিনুলের সঙ্গে ২১১ মিনিটে ১৭০ রানের পার্টনারশিপ থেমেছে তাঁর নিজের কিছুটা ভুলে। আব্বাসের আউট সাইড অফ পিচিং ডেলিভারি ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে থেমেছেন শান্ত। অন ফিল্ড আম্পায়ার ক্যাটেলব্রোর বিবেচনায় সেটি নট আউট। তবে রিভিউ আপীলে আলট্রা এজ চেক করে ব্যাটে বলের স্পর্শ না আসায় টিভি আম্পায়ার আল্লাহউদ্দিন প্লেকার দিয়েছেন আউট।
ছিলেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বাধিক সেঞ্চুরিয়ান। তবে ত্রয়োদশ সেঞ্চুরির পর থেমেছেন মুমিনুল বেশ লম্বা সময়।
কানপুরে ২০ মাস আগে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরির (১৭*) পর সেঞ্চুরিহীন কেটেছে মুমিনুলের ১৯টি ইনিংস। টেস্টে বাংলাদেশের ধারাবাহিক পারফরমার মুমিনুল এই ১৯টি ইনিংসের মধ্যে ৬টিতে ফিফটিতে পরিনত করেছেন। যে ৬টি ফিফটির মধ্যে ৮০'র ঘরে আছে ৩টি। চট্টগ্রামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮২, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিলেটে ৮২ এবং মিরপুরে ৮৭।
এই সময়ে পেছন থেকে সেঞ্চুরির সংখ্যায় মুমিনুলকে ছুঁয়েছেন মুশফিকুর রহিম। শুক্রবার টেস্টে চতুর্দশ সেঞ্চুরিতে মুশফিকুর রহিমকে টপকে বাংলাদেশ ব্যাটারদের মধ্যে শীর্ষে উঠে আসার সম্ভাবনা ছিল মুমিনুলের। টেস্ট ক্যারিয়ারে ৮০'র ঘরে ৭ বার থেমেছেন মুমিনুল। যার মধ্যে গত ২০ মাসে ৩বার এমন পরিনতি বরন করতে হয়েছে তাঁকে। সে কারণেই ৮০'র ঘরে ছিলেন সতর্ক মুমিনুল। ৮০'র ঘরে নোমান আলীর স্লোয়ারে মিড অফ দিয়ে বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরির কক্ষপথে থাকার জানান দিয়েছিলেন মুমিনুল।
তবে ৮০'র ঘর নিরাপদে টপকে গেলেও ৯০'র ঘর পেরুতে পারেননি মুমিনুল। এই প্রথম নাইনটিজে কাঁটা পড়েছেন এই টপ অর্ডার। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে উইকেটে ছিলেন ৫ ঘন্টা ৪ মিনিট। রান করেছেন ৪৫.৫০ স্ট্রাইক রেটে। তবে ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে দিনের পড়ন্ত বেলায়। পাকিস্তানের বাঁ হাতি স্পিনার নোমান আলীর কুইকার ডেলিভারি ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুতে থেমেছেন (২০০ বলে ১০ বাউন্ডারিতে ৯১। প্রথম দিন শেষে ফিফটি থেকে ২ রান দূরে মুশফিকুর রহিম (৪৮ রান)। লিটনের সাথে বোঝাপড়ায় পঞ্চম উইকেট জুটি অবিচ্ছিন্ন ২৫ রানে। দুজনেই টেস্ট মেজাজে দিনের শেষ ঘন্টা পাড়ি দিয়েছেন। মুশফিক ৪৮ রান করেছেন ৪৬.১৫ স্ট্রাইক রেটে, লিটন ৮ রান করেছেন ২২.৩৫ স্ট্রাইক রেটে।
মিরপুর টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪শ স্কোরের টার্গেট ছিল অধিনায়ক শান্ত'র। প্রথম দিনের ব্যাটিংয়ে সেই লক্ষ্য পূরন এখন আর অসম্ভব মনে হচ্ছে না।

আইপিএলে 'অসদাচরণ এবং প্রোটোকল লঙ্ঘনের' কিছু সুনির্দিষ্ট ঘটনার তথ্য পাওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিসিসিআই)। বোর্ডের দুর্নীতি দমন ইউনিটের (এসিইউ) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এখন থেকে আইপিএল খেলোয়াড়দের হোটেলের রুমে পূর্ব অনুমতি ছাড়া আর কেউ প্রবেশ করতে পারবেন না। মূলত সম্ভাব্য ‘হানি ট্র্যাপ’, আইনি জটিলতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আইপিএলের ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য পাঠানো এক বিস্তারিত নির্দেশনায় বিসিসিআই জানিয়েছে, খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের রুমে কোনো অতিথির প্রবেশের জন্য এখন থেকে টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি বাধ্যতামূলক। খেলা চলাকালীন মালিকদের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যেকোনো ধরণের কথা বলা বা দেখা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বিসিসিআই।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া বলেন, ‘চলমান মৌসুমে লক্ষ্য করা কিছু ঘটনার প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত সকল অংশীজনদের মধ্যে পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং প্রোটোকল মেনে চলার মানদণ্ড আরও শক্তিশালী করা।’
আরও পড়ুন
| লাল বলেও শান্ত দ্যুতি |
|
তিনি সতর্ক করে আরও বলেন, ‘বিসিসিআইয়ের নজরে এসেছে যে, বর্তমান আইপিএল চলাকালীন খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ এবং দলের কর্মকর্তাদের মধ্যে কিছু অসদাচরণ ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এই বিষয়গুলো যদি এখনই সমাধান করা না হয়, তবে তা টুর্নামেন্ট, সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিসিসিআইয়ের সম্মানের অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারে। এছাড়া এটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে গুরুতর আইনি দায়বদ্ধতা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।’
বোর্ড বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে যে, কিছু খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফ সদস্য সংশ্লিষ্ট টিম ম্যানেজারের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়াই অননুমোদিত ব্যক্তিদের নিজ নিজ হোটেলের রুমে প্রবেশের সুযোগ দিয়েছেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, টিম ম্যানেজার এই ধরণের অতিথিদের উপস্থিতির বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিলেন। এই চর্চা অবিলম্বে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।’ এখন থেকে টুর্নামেন্টের বাকি সময়ের জন্য সব খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফদের একটি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে চলতে হবে।
নির্দেশনায় স্পষ্ট করা হয়েছে, ‘টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো অতিথিকেই হোটেলের ব্যক্তিগত রুমে নিয়ে যাওয়া যাবে না। বিসিসিআই সকল ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পরিকল্পিত আপস এবং ‘হানি ট্র্যাপ’-এর মতো সুপরিচিত ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করছে, যা হাই-প্রোফাইল ক্রীড়াঙ্গনে সবসময় বিরাজমান থাকে।’
সাইকিয়া আরও জানান, এই নির্দেশিকাগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে বিসিসিআই বা আইপিএল অপারেশনস টিম সময়ে সময়ে আকস্মিক তল্লাশি চালাতে পারে। কোনো ধরনের নিয়মভঙ্গ ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ বা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা থেকে শুরু করে বহিষ্কার বা নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বোর্ডের ভাষায়, ‘আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক এবং তাদের প্রতিনিধিদের জন্য ম্যাচ চলাকালীন ডাগআউট, ড্রেসিংরুম বা খেলার মাঠে থাকা খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা বা সেখানে প্রবেশ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। শুধুমাত্র নির্ধারিত এবং অনুমোদিত চ্যানেল ছাড়া কোনোভাবেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে না।’