২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেটের শুরুটা চ্যাম্পিয়নের মতোই করল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে আইপিএল ইতিহাসের রেকর্ড গড়েই নতুন আসর শুরু করল টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
নিজেদের ঘরের মাঠে শনিবার রাতে হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জিতেছে বেঙ্গালুরু। আগে ব্যাট করে ইশান কিষান ও অনিকেত বর্মার ঝড়ে ২০১ রান করে হায়দরাবাদ। জবাবে দেবদূত পাডিক্কাল ও ভিরাট কোহলির তাণ্ডবে ১৫.৪ ওভারে ম্যাচ জিতে নেয় বেঙ্গালুরু।
আইপিএল তো বটেই, বিশ্বের যে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের ইতিহাসেই, এত কম ওভারে দুইশর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতার রেকর্ড নেই আর কোনো দলের। গত আসরে গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ২১০ রানের লক্ষ্যে ১৫.৫ ওভারে জিতেছিল রাজস্থান রয়্যালস।
রান তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারে ফিল সল্টের উইকেট হারায় বেঙ্গালুরু। তবে দলের ওপর চাপ আসতে দেননি দেবদূত পাডিক্কাল। বিরাট কোহলিকে সঙ্গে নিয়ে হায়দরাবাদের বোলারদের কচুকাটা করেন বাঁহাতি এই ব্যাটার।
পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ৭৬ রান করে ফেলে বেঙ্গালুরু। ৬ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ২১ বলে ফিফটি করে ফেলেন পাডিক্কাল। তবে এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ২৬ বলে ৬১ রান করে ফেরেন তিনি। পাডিক্কালের বিদায়ে ভাঙে ৪৫ বলে ১০১ রানের জুটি।
বিধ্বংসী জুটি ভাঙার পর চার নম্বরে নেমে একই ছন্দে এগোতে থাকেন অধিনায়ক রজত পাতিদার। চার-ছক্কার ঝড় তুলে তিনি খেলেন ২ চার ও ৩ ছক্কায় ১২ বলে ৩১ রানের ইনিংস। কোহলির সঙ্গে জুটিতে আসে ২২ বলে ৫৩ রান।
১৩তম ওভারে পরপর দুই বলে পাতিদার ও জিতেশ শর্মাকে আউট করেন ডেভিড পেইন। পরে কিছুটা কমে আসে রানের গতি। একপ্রান্ত ধরে রেখে ৩৩ বলে ফিফটি করেন কোহলি।
আইপিএলে এটি তার ৬৪তম ফিফটি, সঙ্গে আছে ৮টি সেঞ্চুরি। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ১০৬ নম্বর ফিফটি করলেন কোহলি। সেঞ্চুরি মোট ৯টি।
ফিফটি ছুঁয়ে আর ম্যাচ শেষ করার জন্য সময় নেননি কোহলি। ১৬তম ওভারে হার্শাল প্যাটেলের বলে ১ ছক্কা ও ৩ চার মেরে বেঙ্গালুরুর জয় নিশ্চিত করে দেন ভারতের ব্যাটিং গ্রেট। সব মিলিয়ে ৫টি করে চার-ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে হায়দরাবাদের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। আইপিএল অভিষেকে দুর্দান্ত বোলিং করেন জ্যাকব ডাফি। তৃতীয় ওভারে হায়দরাবাদের দুই ওপেনার অভিশেক শর্মা (৮ বলে ৭) ও ট্রাভিস হেডকে (৯ বলে ১১) ফিরিয়ে দেন নিউ জিল্যান্ডের পেসার।
তার পরের ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন চার নম্বরে নামা নিতিশ কুমার রেড্ডি (৬ বলে ১)। মাত্র ২৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে খাঁদের কিনারায় চলে যায় হায়দরাবাদ।
সেখান থেকে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অধিনায়ক ইশান কিষান ও হেনরিখ ক্লাসেন। দুজন মিলে ৫৩ বলে গড়ে তোলেন ৯৭ রানের জুটি। যেখানে অগ্রণী ভূমিকায় ছিলেন ইশান। ১৪তম ওভারে আউট হওয়ার আগে ২২ বলে ৩১ রান করেন ক্লাসেন।
৬ চারের সঙ্গে ২ ছক্কা মেরে ২৭ বলে ফিফটি পূরণ করেন ইশান। এরপর একই ছন্দে এগিয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগোতে থাকেন উইকেটকিপার-ব্যাটার। কিন্তু ১৬তম ওভারের শেষ বলে ফিল সল্টের দুর্দান্ত এক হাতের ক্যাচে বিদায়ঘণ্টা বাজে তার।
ড্রেসিং রুমে ফেরার আগে ৮ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে মাত্র ৩৮ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন ইশান।
এরপর দলকে এগিয়ে নেন অনিকেত বর্মা। শেষের তাণ্ডবে ৩ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ১৮ বলে ৪৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার। ইশানের পর অনিকেতের এই তাণ্ডবেই চাপ সরিয়ে দুইশ পেরোয় হায়দরাবাদ। যদিও শেষ পর্যন্ত তা যথেষ্ট হয়নি।
আইপিএল অভিষেকে মাত্র ২২ রানে ৩ উইকেট নেন ডাফি। রোমারিও শেফার্ড ৩ উইকেটের জন্য দেন ৫৪ রান।
No posts available.

দিনটা ছিল ব্যাটারদের। তবে বল হাতে খুব একটা বাজে দিন দেখেননি বাংলাদেশের দুই বোলার শরীফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন। পিএসএলে আজ রিশাদদের রাওয়ালপিন্ডিকে সহজেই হারিয়েছে শরীফুলদের পেশোয়ার জালমি।
রান বন্যার ম্যাচে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৪ উইকেটে ২১৪ রান করে রাওয়ালপিন্ডি। জবাবে পাঁচ বল আর ৫ উইকেট হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পেশোয়ার।
পিএসএলে অভিষেকে উইকেটশূন্য ছিলেন শরীফুল। অন্যদিকে একটি উইকেট নেন রিশাদ। তবে ৪ ওভারে ৩১ রান দেওয়া শরীফুলই ছিলেন বেশি কার্যকরী। বিপরীতে প্রথম তিন ওভারে মাত্র ১৭ রান দিয়েও নিজের শেষ ওভারে ১৮ রান খরচ করে দলের বিপদ বাড়ান লেগ স্পিনার রিশাদ।
টসে জিতে শুরুতে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডি মোহাম্মদ রিজওয়া-ইয়াসির খানের উদ্বোধনী জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায়। ১২.১ ওভারে যখন তাদের জুটি ভাঙে স্কোরবোর্ডে রান তখন ১২৫। রিজওয়ান আউট হন ৩২ বলে ৪১ করে। আর খুনে মেজাজে ব্যাট করা ইয়াসির ৭ চার ও ৬ ছয়ে করেন ৪৬ বলে ৮৩। দুই ওপেনারের পর কামরান ঘুলাম, ডেরিল মিচেল ও স্যাম বিলিংসের ছোটো তবে বিধ্বংসী ইনিংসে রাওয়ালপিন্ডির সংগ্রহ দাড়ায় ২১৪।
ম্যাচের প্রথম ওভারে বল হাতে পান শরিফুল। বাংলাদেশি এই পেসারের প্রথম চার বলে কোনো রান নিতে পারেননি ইয়াসির। এরপর হয় একটি ওয়াইড। পঞ্চম বলে ছক্কা হজম করেন। শর্ট ডেলিভারি ডিপ স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকান ইয়াসির। শেষ বল ডট। প্রথম ওভারে ৭ রান দেওয়া শরিফুল পরের ওভারে দেন ৮।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে দারুণ বোলিং করেন শরিফুল। একটি ওয়াইডসহ এবার দেন কেবল ৫ রান। শরিফুলকে আবার বোলিংয়ে ফেরানো হয় ১৯তম ওভারে। প্রথম বলে লো ফুল টসে চার মারেন স্যাম বিলিংস। পরের বলে ব্যাটার ঠিকমতো খেলতে না পারলেও, শরিফুল ওভারস্টেপ করায় ‘নো’ বলের সংকেত দেন আম্পায়ার। এরপর টানা দুটি ওয়াইড দেন তিনি। বৈধ দ্বিতীয় বলে বিলিংস কাভারে ধরা পড়লেও ফ্রি হিটের কারণে উইকেট মেলেনি। শেষ চার বলে মাত্র চার রান দিলে ওভার থেকে আসে মোট ১১ রান।
রান তাড়ায় ৭৮ রানে প্রথম উইকেট হারায় পেশোয়ার। ২৮ বলে ৩৯ করা বাবর আজম এলবিড্লুর ফাঁদে পড়েন আসিফ আফ্রিদির বলে। ঝোড়ো ব্যাটিং করা আরেক ওপেনার ২৮ বলে ৪৭ করে। ১০ ওভার শেষে ২ উইকেট হারিয়ে ৯৬ করা পেশোয়ার পরের চার ওভারে স্কোরবোর্ডে ৩৪ রান যোগ করে হারায় আরও দুই উইকেট। তবে এরপর মিচেল ব্রাসওয়েল ও আব্দুল সামাদের বিধ্বংসী জুটিতেই ম্যাচ হেলে যায় পেশোয়ারের দিকে। ৩০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা নামাদ ১১ বলে ৩৩ করে আউট হন। আর ১৭ বলে ৩৫ করা ব্রাসওয়েল দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন।
নিজের প্রথম তিন ওভারে দুর্দান্ত বল করা রিশাদ খেই হারান শেষ ওভারে। দলীয় অষ্টম ওভারে প্রথম বল হাতে নেওয়া রিশাদ ওই ওভারে খরচ করেন পাঁচ রান। তাঁর করা পরের ওভার থেকে দুইটি সিঙ্গেল একটি ছক্কা হাঁকায় পেশোয়ার। পঞ্চম বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে তাকে ছক্কা মারেন কুসাল মেন্ডিস।
নিজের তৃতীয় ওভারে মাত্র চার রান দিয়ে একটি উইকেট নেন রিশাদ। আব্দুল্লাহ ফজলের হাতে ক্যাচ দেন অ্যারন হার্ডি।
১৬তম ওভারে যখন আবার বল হাতে নেন রিশাদ, ৩০ বলে ৭৪ রান লাগতো পেশোয়ারের। তবে রিশাদকে পিটিয়ে কঠিন এই সমীকরণ অনেকটাই সহজ বানিয়ে ফেলেন ব্রাসওয়েল ও সামাদ। প্রথম বলে রিশাদের মাথার ওপর দিয়ে ছয় মারেন সামাদ। দ্বিতীয় বলে এক রানের পর তৃতীয় ডেলিভারি থেকে রান নিতে পারেননি ব্রাসওয়েল। তবে পরের দুই বলেই ছয় ও চার মেরে ডট বল উশুল করেন নিউজিল্যান্ডের অলরাউন্ডার। শেষ বলে এক রান দেওয়ার পর ওই ওভার মোট ১৮ রান আসে, আর পেশোয়ারের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৪ বলে ৫৬।
অবশ্য চার ওভার করা রাওয়ালপিন্ডির চার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো ইকোনমি ছিল রিশাদেরই। ৫১ রান দেওয়া নাসিম শাহ ছিলেন সবচেয়ে খরুচে। মোহাম্মদ আমীরের চার ওভার থেকে পেশোয়ারের ব্যাটাররা নিয়েছে ৪৯ আর আমাদ বাট দিয়েছেন ৪৫।
জয় দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা পেশোয়ারের পরের ম্যাচ মঙ্গলবার করাচি ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে। আর রিশাদের রাওয়ালপিন্ডি বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবে করাচি কিংসের বিপক্ষে।

স্বার্থের সংঘাত এড়াতে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ওয়াহাব রিয়াজ ও সরফরাজ আহমেদকে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) কোনো ধরনের দায়িত্ব পালনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এতে সরাসরি প্রভাব পড়েছে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ততায়।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বের দ্বৈততা থেকে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত দূর করা। বোর্ডের বর্তমান দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে যুক্ত থাকা নিয়ে আপত্তি উঠেছিল, যার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ।
এর আগে কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের দল ব্যবস্থাপনায় যুক্ত ছিলেন ওয়াহাব ও সারফরাজ। তবে পিসিবির দায়িত্বে থাকায় এখন তাঁদের সেই সম্পৃক্ততা থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছে।
বর্তমানে পিসিবিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন দুজনই। সারফরাজ জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেলের সদস্য হওয়ার পাশাপাশি টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবেও কাজ করছেন। ওয়াহাব রিয়াজ পাকিস্তান নারী দলের মেন্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বোর্ডের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, একই সঙ্গে বোর্ড ও ফ্র্যাঞ্চাইজির দায়িত্বে থাকলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তাই এমন দ্বৈত ভূমিকা সীমিত করাই ছিল প্রয়োজনীয়।
পিসিবির এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে সুশাসন জোরদারের বার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে পিএসএলের মতো বড় টুর্নামেন্টে স্বচ্ছতা ও আস্থা বজায় রাখতে এই ধরনের পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বোর্ড।

পাকিস্তান ক্রিকেটে বিতর্কে ঘি ঢাললেন সাবেক অধিনায়ক মিসবাহ উল হক। আরেক সাবেক ব্যাটার আহমেদ শেহজাদের বিরুদ্ধে মানহানির নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি।
সামা টিভির প্রতিবেদন, সম্প্রতি মিসবাহকে নিয়ে একটি অভিযোগ করেন শেহজাদ। দাবি করেন, পিএসএলে এক ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন মিসবাহ। এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও তাঁর সুনামের জন্য ক্ষতিকর মনে করছেন সাবেক এই অধিনায়ক। সে কারণেই আইনি পদক্ষেপ হিসেবে শেহজাদকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে শেহজাদের করা মন্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে শেহজাদের পক্ষের আইনজীবীরা বিষয়টি পর্যালোচনা করছেন। এক-দুই দিনের মধ্যেই এ নিয়ে তাঁদের পক্ষ থেকে জবাব আসতে পারে।
বিতর্কের সূত্রপাত শেহজাদ দাবি করেছিলেন, ক্রিকেটার হাসিবুল্লাহ খানের বেতন পরিশোধ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন মিসবাহ। তবে এই অভিযোগ এখন আইনি পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।
দুই পক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে আলোচনা চলমান রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। ফলে বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যেই নিষ্পত্তির দিকে এগোচ্ছে।

শনিবার শুরু হচ্ছে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১৯তম সংস্করণ। বল মাঠে গড়ানোর আগেই বড় ধাক্কা দিল্লি ক্যাপিটালসের। ইংল্যান্ডের ওপেনার বেন ডাকেট নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার পর বদলি খেলোয়াড় হিসেবে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন আরও দুই ব্রিটিশ তারকা জেমি স্মিথ ও জশ টাং।
গত ডিসেম্বরে নিলামে ২ কোটি রুপিতে ডাকেটকে দলে ভিড়িয়েছিল দিল্লি। টুর্নামেন্ট শুরুর কয়েক দিন আগে নাম প্রত্যাহার করে নেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ঘরোয়া ক্রিকেট ও ইংল্যান্ডের হয়ে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত হতে নাম সরিয়ে নেন ডাকেট।
ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডাকেটের বিকল্প হিসেবে জেমি স্মিথ ও পেসার জশ টাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল দিল্লি। কিন্তু দুজনেই ইংল্যান্ডে থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে সময় দেওয়াকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
আইপিএলের মতো জমকালো টুর্নামেন্টে ইংলিশ ক্রিকেটারদের অনীহা এখন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে ২৪ জনের স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে দিল্লি ক্যাপিটালসকে।
দলে লোকেশ রাহুল ও পাথুম নিশাঙ্কার মতো ওপেনার থাকলেও ডাকেটের মতো বিধ্বংসী একজনের অভাব বোধ করতে পারে দলটি। বুধবার লখনৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের আইপিএল অভিযান শুরু করবে দিল্লি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট শুরুর দিনে বড় ধাক্কা খেল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দল চেন্নাই সুপার কিংস। পায়ের পেশির চোটে অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য ছিটকে গেলেন মহেন্দ্র সিং ধোনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় ধোনির ছিটকে যাওয়ার খবর জানিয়েছে চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজি। আপাতত চোটের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সারছেন ৪৪ বছর বয়সী উইকেটকিপার-ব্যাটার।
গুয়াহাটিতে সোমবার রাতে রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের আইপিএল শুরু করবে চেন্নাই। এরপর প্রথম দুই সপ্তাহে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলবে রুতুরাজ গাইকোয়াড়ের নেতৃত্বাধীন দল।
ধোনির অনুপস্থিতিতে উইকেটকিপিংয়ের দায়িত্বে দেখা যেতে পারে এবার রাজস্থান থেকে চেন্নাইয়ে যোগ দেওয়া সাঞ্জু স্যামসন। এছাড়া দলে কার্তিক শর্মা ও উরভিল প্যাটেলের মতো কিপার-ব্যাটাররাও আছেন। নিলাম থেকে ১৪ কোটি ২০ লাখ রুপিতে কার্তিককে নিয়েছে চেন্নাই।
আইপিএলের গত মৌসুমে চেন্নাইয়ের হয়ে সবকটি ম্যাচ খেলেছেন ধোনি। উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ে শেষের দিকে নেমে ঝড় তোলার কাজটি করেছিলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার।