১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম

সবকিছু ঠিক থাকলে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে হবে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সবশেষ এই সংস্করণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। এবারও শিরোপা জয়ের দৌড়ে নিজের পছন্দের দল হিসেবে ভারতকেই এগিয়ে রাখছেন দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক গ্রায়েম স্মিথ।
স্বাগতিক হওয়ার সুবিধা ও বিপুল প্রতিভার কারণ দেখিয়ে তিনি ভারতকে শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার মনে করছেন স্মিথ, যদিও তাঁর নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকেই এবার সরাসরি ফেভারিট হিসেবে রাখেননি।
ডারবানে সংবাদমাধ্যমকে স্মিথ বলেন, ‘ভারতকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।’ তাঁর মতে, ঘরের মাঠে খেলা এবং বর্তমান দলটির প্রতিভা ভারতের জন্য বড় শক্তি হয়ে উঠবে। ভারতীয় দলের বর্তমান রূপান্তর প্রক্রিয়াকেও তিনি বেশ আগ্রহ নিয়ে দেখছেন।
হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া বক্তব্যে স্মিথ বলেন, ‘ভারতের প্রতিভা বিবেচনায় তাদের কখনোই বাদ দেওয়া যায় না। এটা তাদের ঘরের বিশ্বকাপ। গৌতম গম্ভীরের অধীনে দলটি একটা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে—সিনিয়র খেলোয়াড়দের পরবর্তী ধাপ, নতুনদের দায়িত্ব নেওয়া—সব মিলিয়ে বিষয়টা বেশ আকর্ষণীয়। প্রতিভার দিক থেকে বললে, ভারত যদি অন্তত শেষ চার দলে না থাকে, তাহলে আমি খুবই বিস্মিত হব।’
তবে নিজের দেশ দক্ষিণ আফ্রিকাকে পুরোপুরি খাটো করতেও রাজি নন স্মিথ। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের কাছে মাত্র সাত রানে হারের স্মৃতি এখনও তাঁকে তাড়া করে ফেরে। তিনি মনে করেন, বর্তমান প্রোটিয়া দল উপমহাদেশের কন্ডিশনে, বিশেষ করে স্পিন সামলাতে সক্ষম—যা ভারত ও শ্রীলঙ্কার উইকেটে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
ফাইনাল নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথাও খোলাখুলি বলেছেন স্মিথ। বললেন, ‘অবশ্যই চাইব আমরা যেন ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে জিতে যাই (হাসি)। শুকরি কনরাড আর দল যদি সঠিক কম্বিনেশন খুঁজে পায়, তাহলে এই দল অনেক দূর যেতে পারে। মাঝের ওভারে স্পিন খেলার মতো যথেষ্ট দক্ষতা আছে বলেই আমি মনে করি। আশা করছি সামনে একটা দারুণ বিশ্বকাপ অপেক্ষা করছে।’
সব মিলিয়ে, স্মিথের চোখে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ফেভারিট তকমা বেশ শক্তই। তবে প্রোটিয়াদের ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার ফাইনালে ওঠার স্বপ্নও ছাড়ছেন না দক্ষিণ আফ্রিকার এই কিংবদন্তি।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারত ও শ্রীলঙ্কার হবে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম সংস্করণ। ২০টি দল অংশ নেবে ৫৫ ম্যাচের এই টুর্নামেন্টে। গ্রুপ পর্ব, সুপার এইট ও নকআউট—২০২৪ সালের মতোই একই ফরম্যাটে হবে। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম ও কলম্বোর আর. প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামসহ আটটি ভেন্যুতে ম্যাচগুলো আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ৮ মার্চ ফাইনাল হওয়ার কথা, সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রিকেট স্টেডিয়াম নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম।
No posts available.
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম

রংপুর রাইডার্সের ১৭৮/৪ তাড়া করে জেতার চ্যালেঞ্জটা সহজ হওয়ার কথা নয়। মোস্তাফিজ, নাহিদ রানা, খুশদিল শাহ, আকিফ জাভেদ, আলিস আল ইসলামরা আছেন যে দলে, সেই রংপুর রাইডার্সের পক্ষেই বাজি ধরবে অধিকাংশ বাজিকর। অথচ, ১৭৯ রানের টার্গেটটা অনায়াসে পাড়ি দিয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স।৫ বল হাতে রেখে রাজশাহী ওরিয়র্স ৭ উইকেটে জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট তালিকায় ( ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট) শীর্ষে উঠে এসেছে।
কীভাবে এতো সহজে জয় পেল রাজশাহী ? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই কৃতিত্ব দিতে হবে রাজশাহী ওরিয়র্সের দ্বিতীয় উইকেট জুটিকে। নাজমুল হোসেন শান্ত-মোহাম্মদ ওয়াসিমের ৮২ বলে ১৪২ রানের বড়সড় এই পার্টনারশিপ দুদলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করেছে সন্দেহ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে উড়িয়ে আনা মোহাম্মদ ওয়াসিমের চওড়া ব্যাটে ৫৯ বলে ৭ চার ৫ ছক্কায় ৮৭ রানের হার না মানা ইনিংসের পাশে শান্ত'র ৪২ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ৭২ রানের ইনিংস রংপুর রাইডার্সের বোলিং এলোমেলো করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সুক্ষ্ণ চোখে ব্যবধান তৈরি করেছে আরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে। পুরো ইনিংসে রংপুর রাইডার্স যেখানে ৪২টি বল ডট করেছে, সেখানে রাজশাহী ওরিয়র্স করেছে ৩১টি ডট। ছক্কার সংখ্যায়ও তৈরি হয়েছে ব্যবধান। রংপুর রাইডার্স ব্যাটারদের ছক্কার সমষ্টি যেখানে ৯টি, সেখানে রাজশাহী ওরিয়র্সের ১৩টি! ইনিংসের দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে'র ৯ ওভারেও (৭ম থেকে ১৫তম) ব্যবধান স্পষ্ঠ। রংপুর রাইডার্স এই পর্বে উইকেট বাঁচিয়ে ব্যাট করেছে ধীরগতিতে, যোগ করেছে ৫০ রান। সেখানে দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটটা একটু বেশি চওড়া করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স ব্যাটাররা। যে পর্বে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান যোগ করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স। শেষ পাওয়ার প্লে-তে তাই বেশি চাপ নিয়ে হয়নি রাজশাহীকে। ৩০ বলে ৩৪ রানের মামুলি টার্গেট অনায়াসে পার করেছে রাজশাহী।
দর্শকের পয়সা উশুল হওয়া এই ম্যাচে ম্লান হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের হৃদয় জুড়ানো ব্যাটিং। সেঞ্চুরির মাত্র ৩ রান দূরে থেকে থেমেছেন তিনি। তবে ৫৬ বলে ৮ চার, ৬ ছক্কায় শোভিত ৯৭ রানের হার না মানা ইনিংসটা সত্যিই আক্ষেপে ভোগাবে হৃদয়কে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে খুশদিল শাহ-কে নিয়ে ৫১ বলে ১০৫ রানের পার্টনারশিপটাও বিফলে যাওয়ার কষ্টটা পেতে হচ্ছে হৃদয়কে।
এই ম্যাচে ডেথ ওভারে রিপন মন্ডলকে পাড়া মহল্লা মানে নামিয়ে এনেছিলেন হৃদয়-খুশদিল শাহ। ১৯তম ওভারে হৃদয়-খুশদিল শাহ ২টি করে ছক্কা মেরেছেন ডেথ ওভারের বিপজ্জনক এই পেস বোলারদের। ওই ওভারে ২৮ রান খরচা করে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল রিপন মন্ডলের। তবে দলের জয়ে সেই রিপনের মুখেই ফুটে উঠেছে হাসি। এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের পেসার জেমস নিশামকে (৩-০-২৭-১) অন্তর্ভুক্ত করার সুফলও পেয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স। নেপালের লেগ স্পিনার স্বন্দ্বীপ লামিচানের মিতব্যয়ী বোলিং (৪-০-২১-১)ও রংপুরের স্কোরকে স্ফীত করতে দেয়নি।

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পিসিবি ইতিমধ্যে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে
বলা হয়, বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অনীহার
কথা জানানোয় টুর্নামেন্টের সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিসিবি
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজন করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো
পিসিবি বা আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
পাকিস্তানের জিও সুপারকে
পিসিবির একটি সূত্র বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পাওয়া না গেলে বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের
সব ভেন্যুই বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
সেই সূত্র আরও দাবি করে,
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে পাকিস্তান।
সূত্রের ভাষায়, ‘পাকিস্তান ইতিমধ্যে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং আইসিসি উইমেনস কোয়ালিফায়ারের
মতো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। তাই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নির্বিঘ্নে আয়োজন করার সক্ষমতা
পাকিস্তানের আছে।’
এই জটিলতার সূত্রপাত মূলত
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় উত্তেজনা থেকে। এর আগে ভারতীয়
ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়ার
নির্দেশ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এএনআইকে জানান,
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
এবং প্রয়োজনে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হবে।
বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের
প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত কঠোর অবস্থান নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইপিএল থেকে
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বাংলাদেশ দল ২০২৬ টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। পাশাপাশি আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে
সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধও জানায় বিসিবি।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি, বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই প্রেক্ষাপটে পিসিবির প্রস্তাব পরিস্থিতিকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো ইনিংসের জবাবে তাণ্ডব চালালেন নাজমুল
হোসেন শান্ত। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুই ব্যাটারের সৌজন্যে রংপুর
রাইডার্সের বিপক্ষে আবারও জয় পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দুপুরের ম্যাচে রংপুরকে ৭ উইকেটে হারায় রাজশাহী।
আগে ব্যাট করা রংপুরের ছিল ১৭৮ রানের পুঁজি। তবে শান্ত-ওয়াসিমের ঝড়ে ৫ বল বাকি থাকতেই
জিতে যায় রাজশাহী।
সাত
ম্যাচে রাজশাহীর এটি পঞ্চম জয়। দুই ধাপ লাফিয়ে দুইয়ে উঠে এসেছে তারা। সমান ম্যাচে চার
জয় নিয়ে তিন নম্বরে এখন রংপুর।
টানা
তিন জয়ের পর চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে হেরেছিল রাজশাহী। রংপুরের বিপক্ষে দলকে জয়ে
ফেরানোর কারিগর শান্ত ও ওয়াসিম। মাত্র ৪২ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে আউট হন শান্ত। আর
ওয়াসিমের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ বলে ৮৭ রান।
রান
তাড়ায় শুরুটা একদমই ভালো ছিল না রাজশাহীর। তৃতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ৭ বলে
৩ রান করা তানজিদ হাসান তামিম। তবে চাপ আসতে দেননি শান্ত ও ওয়াসিম। দুজনের পাল্টা আক্রমণে
জুটির শুরু থেকেই জয়ের পথে ছিল রাজশাহী।
চমৎকার
ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৩ বলে পূর্ণ হয় জুটির পঞ্চাশ রান। বিপিএল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি
করতে ৩২ বল খেলেন ওয়াসিম। অন্য দিকে মাত্র ২৮ বলে বিপিএলে নিজের সপ্তম পঞ্চাশ করে ফেলেন
রাজশাহী অধিনায়ক শান্ত।
একপর্যায়ে
মনে হচ্ছিল, এই দুজনের জুটিতেই জিতে যাবে রাজশাহী। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের বলে
বড় শট খেলতে গিয়ে ফিরে যান ৪২ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রান করা শান্ত। তার বিদায়ে ভাঙে
৮২ বলে ১৪২ রানের জুটি।
তবে
ওয়াসিম কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। ৭ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তারকা ব্যাটার।
এর
আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চমক দেখায় রংপুর রাইডার্স। কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে
ইনিংস সূচনা করতে নামেন হৃদয়। এসএম মেহেরব হাসানের করা প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলে
বাউন্ডারি মেরে নিজের ইন্টেন্ট পরিষ্কার করে দেন হৃদয়।
অন্য
প্রান্ত থেকে অবশ্য তেমন সঙ্গ পাননি ২৫
বছর বয়সী ব্যাটার। মেয়ার্স ৬ বলে ৮, লিটন কুমার দাস ১৪ বলে ১১ ও ইফতিখার আহমেদ ১৫ বলে
মাত্র ৮ রান করে ফিরে গেলে একপর্যায়ে ১৩ ওভারে মাত্র ৮০ রানে দাঁড়ায় রংপুর।
এরপর
শুরু হয় হৃদয় ও খুশদিল শাহর ঝড়। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাত্র ৫১ বলে যোগ করেন
১০৫ রান। এতেই বড় সংগ্রহে পৌঁছে যায় রংপুর। শুরু থেকে চমৎকার ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ফিফটি
পূর্ণ করেন হৃদয়।
পঞ্চাশ
করার পর উত্তাল ব্যাটিং করেন রংপুর ওপেনার। পরের ১৭ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান।
শেষ পর্যন্ত ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। বিপিএলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার
৯০ পেরিয়েও শতরানের আগে অপরাজিত রইলেন তিনি।
এছাড়া
৪ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ২৯
বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন খুশদিল।
সংক্ষিপ্ত
স্কোর
রংপুর
রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৭৮/৪ (হৃদয়
৯৭*, মেয়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতিখার ৮, খুশদিল ৪৪, সোহান ১*; মেহেরব ১-০-১৩-০, সাকিব
৪-০-৩৫-১, রিপন ৪-০-৫৬-১, নিশাম ৩-০-২৭-১, লামিচানে ৪-০-২১-১, সাকলাইন ৪-০-২২-০)
রাজশাহী
ওয়ারিয়র্স: ১৯.১ ওভারে ১৭৯/৩
(ওয়াসিম ৮৭*, তামিম ৩, শান্ত ৭৬, নিশাম ১, বার্ল ৭*; নাহিদ ২.১-০-১৬-০, আলিস ৪-০-৩৭-০,
আকিফ ৪-০-৪৩-২, মোস্তাফিজ ৪-০-৩৪-১, খুশদিল ৪-০-২৯-০, ইফতিখার ১-০-১৬-০)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৭ উইকেটে জয়ী

সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে দাঁড়িয়ে তাওহিদ হৃদয়। তবে ইনিংসের বাকি শুধু এক বল। জিমি নিশাম করলেন ইয়র্কার লেংথ ডেলিভারি। সোজা বোলারের হাতেই খেললেন হৃদয়। নিতে পারলেন না কোনো রান। তিন অঙ্ক ছুঁতে না পারায় নিজের ওপরই রাগ ঝাড়লেন হৃদয়।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সেঞ্চুরি করতে না পারলেও, ৬ ছক্কার ঝড়ে ৯৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রংপুর রাইডার্সের ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার। ওপেনিংয়ে নেমে ৫৬ বলের ইনিংসে ৬ ছক্কার সঙ্গে ৮টি চার মারেন তিনি।
হৃদয়ের ঝড়ো ইনিংসে ভর করে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে বদলা নেওয়ার মিশনে ৪ উইকেটে ১৭৮ রান করেছে রংপুর। রাজশাহীর সামনে তাই এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে এদিন শুরুতেই চমক দেখায় রংপুর রাইডার্স। কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে ইনিংস সূচনা করতে নামেন হৃদয়। এসএম মেহেরব হাসানের করা প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলে বাউন্ডারি মেরে নিজের ইন্টেন্ট পরিষ্কার করে দেন হৃদয়।
অন্য প্রান্ত থেকে অবশ্য তেমন সঙ্গ পাননি ২৫ বছর বয়সী ব্যাটার। মেয়ার্স ৬ বলে ৮, লিটন কুমার দাস ১৪ বলে ১১ ও ইফতিখার আহমেদ ১৫ বলে মাত্র ৮ রান করে ফিরে গেলে একপর্যায়ে ১৩ ওভারে মাত্র ৮০ রানে দাঁড়ায় রংপুর।
এরপর শুরু হয় হৃদয় ও খুশদিল শাহর ঝড়। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাত্র ৫১ বলে যোগ করেন ১০৫ রান। এতেই বড় সংগ্রহে পৌঁছে যায় রংপুর। শুরু থেকে চমৎকার ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন হৃদয়।
পঞ্চাশ করার পর উত্তাল ব্যাটিং করেন রংপুর ওপেনার। পরের ১৭ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান। শেষ পর্যন্ত ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। বিপিএলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার ৯০ পেরিয়েও শতরানের আগে অপরাজিত রইলেন তিনি।
সবচেয়ে বেশি ঝড় বয়ে যায় রিপন মন্ডলের ওপর। ১৯তম ওভারে হৃদয় ও খুশদিলের কাছে ২টি করে ছক্কা হজম করেন তরুণ পেসার। সব মিলিয়ে ওই ওভারে তিনি দেন ২৮ রান। ৪ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ২৯ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন খুশদিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৭৮/৪ (হৃদয় ৯৭*, মেয়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতিখার ৮, খুশদিল ৪৪, সোহান ১*; মেহেরব ১-০-১৩-০, সাকিব ৪-০-৩৫-১, রিপন ৪-০-৫৬-১, নিশাম ৩-০-২৭-১, লামিচানে ৪-০-২১-১, সাকলাইন ৪-০-২২-০)

বিগ ব্যাশ লিগে প্রথমবারের মতো খেলতে গিয়ে দারুণ সময় পার করছেন বাংলাদেশের লেগস্পিনার রিশাদ হোসেন। এরই মধ্যে এক ম্যাচ বাকি রেখেই প্লে-অফ নিশ্চিত করে ফেলেছে তার দল হোবার্ট হারিকেন্স।
বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে জয় ছাড়াই রোববার প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে হারিকেন্স। সিডনিতে টস জিতে প্রথম বোলিংয়ের সিদ্বান্ত নেয় তারা। সিডনি পাঁচ ওভারে বিনা উইকেটে ৩২ রান করার পরই শুরু হয় বৃষ্টি। টানা বৃষ্টিতে শেষ পর্যন্ত ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
এক পয়েন্ট করে ভাগাভাগি করে হারিকেন্স ও সিডনি। এতেই টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে প্লে-অফে জায়গা করে নেয় হারিকেন্স। ৯ ম্যাচে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের সবার ওপরে তারা।
এই সাফল্যে বড় অবদান রিশাদের। ৯ ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়ে দলটির সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি তরুণ এই লেগ স্পিনার। চলতি মৌসুমের বিগ ব্যাশে এখন পর্যন্ত স্পিনারদের মধ্যে উইকট নেওয়ার তালিকায় সবার ওপরে রিশাদ।
বিগ ব্যাশে রিশাদের আগে একমাত্র বাংলাদেশি ক্রিকেটার ছিলেন সাকিব আল হাসান। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন দিয়েছেন।
সাকিব আল হাসান তার দুই মৌসুমের বিগ ব্যাশ ক্যারিয়ারে মোট ৯ উইকেট পেয়েছিলেন। নিজের প্রথম মৌসুমেই সাকিবকে ছাড়িয়ে গেলেন এই লেগস্পিনার।