
ক্রিকেটে প্রায়ই বলা হয়, ফর্ম ক্ষণস্থায়ী তবে ক্লাস চিরস্থায়ী। আরও একবার যেন সেই কথারই প্রমাণ দিলেন সাকিব আল হাসান। আইএল টি-টোয়েন্টিতে শেষ দিকে এসে একসঙ্গে ব্যাটে-বলে জ্বলে উঠলেন সাকিব, জিতলেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার ডেজার্ট ভাইপার্সকে ৪ উইকেটে হারায় সাকিবের এমআই এমিরেটস। আগে ব্যাট করে ১২৪ রান করে ভাইপার্স। জবাবে ১৮তম ওভারে সাকিবের ব্যাট থেকেই আসে জয়সূচক বাউন্ডারি।
বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান খরচায় ২ উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে ২৫ বলে ১৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার৷ এমন অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে তিনিই পান ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার এটি ৪৫তম ম্যাচ সেরার পুরস্কার। তার চেয়ে বেশি ম্যাচ সেরার পুরস্কার আছে শুধু ক্রিস গেইল (৬০), কাইরন পোলার্ড (৪৮) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (৪৮)। এছাড়া সাকিবের সঙ্গী আছেন অ্যালেক্স হেলস ও রশিদ খান।
তবে টুর্নামেন্ট বা সিরিজ সেরার পুরস্কারে সাকিবই সবার ওপরে। এখন পর্যন্ত ৮ বার এই স্বীকৃতি পেয়েছেন বাঁহাতি অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭ বার আছে ভারতীয় কিংবদন্তি বিরাট কোহলির।
ভাইপার্সের বিপক্ষে ম্যাচটি চলতি টুর্নামেন্টের সাকিবের তৃতীয়। আগের দুই ম্যাচে দুই ওভার করে বোলিং করলেও সাফল্য পাননি। উল্টো খরুচে বোলিং করায় টানা চার ম্যাচ ছিলেন একাদশের বাইরে। এবার নিজের সেরা ছন্দ ফিরিয়ে দলকে জেতালে বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক।
ভাইপার্সের ইনিংসে সপ্তম ওভারে আক্রমণে আসেন সাকিব। ওভারের শেষ বলে স্কিড করা ডেলিভারি ঠিকঠাক খেলতে পারেননি ফখর জামান। দ্রুততার সঙ্গে স্টাম্প এলোমেলো করে তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন নিকোলাস পুরান।
পরের ওভারে আর কারও সহায়তার প্রয়োজন পড়েনি সাকিবের। চমৎকার ডেলিভারিতে স্যাম কারানকে বোকা বানিয়ে ফিরতি ক্যাচ নেন বাঁহাতি অভিজ্ঞ স্পিনার। দুই ওভার শেষে তার বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়ায় ২-০-৮-২!
পরের দুই ওভারেও দারুণ বোলিং করেন সাকিব। তার শেষ ওভারে রিভার্স সুইপ খেলেন ড্যান লরেন্স। অল্পের জন্য থার্ড ম্যানে ক্যাচ নিতে পারেননি জহুর খান। তাই আর উইকেট পাওয়া হয়নি সাকিবের। শেষ পর্যন্ত ১৪ রানে ২ উইকেট নিয়েই থামতে হয় তার।
পরে ছোট লক্ষ্যে তাড়াহুড়ো না করে একপ্রান্ত আগলে রেখে ২৫ বলে ১৭ রানের ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেন সাকিব। প্রশ্ন উঠতে পারে তার স্ট্রাইক রেট (৬৮.০০) নিয়ে। পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে তিনি নিজেই দিয়েছেন ব্যাখ্যা।
“ম্যাচের উইকেট স্পিন সহায়ক ছিল। ব্যাটিং করা একদমই সহজ ছিল না। আমি জানি যে, আমাদের দলে অনেক ভালো সিক্স হিটার আছে। তাই আমি নেগেটিভ রোল (ধরে খেলা) পালন করেছি। সব মিলিয়ে দলীয় পারফরম্যান্সে খুব খুশি।”
No posts available.
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৫৪ পিএম

পিএসএল-এ লাহোর কালান্দার্সের কদরটা প্রথম দুই ম্যাচে অনুমান করতে পারেননি বাংলাদেশের বাঁ হাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। প্রথম দুই ম্যাচে সেট হয়ে ১৪ এবং ১২ রানে থেমেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ওপেনার। শুক্রবার রাতে লাহোরে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে চিনিয়েছেন নিজেকে। ২০ ওভারের ম্যাচ ১৩ ওভারে নেমে আসায় শুরু থেকে ব্যাটটা চওড়া করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন। ব্যাটিং ঝড়ে মাত্র ১৯ বলে ২ চার,৫ ছক্কায় করেছেন ৪৫ রান।
পিটার সিডলকে বাউন্ডারি দিয়ে আত্মবিশ্বাসী ইমন পর পর দুই ওভারে নেওয়াজ এবং ফয়সালকে পাড়া-মহল্লা মানের বোলারে নামিয়ে এনেছেন। ইনিংসের চতুর্থ ওভারের ৩য় এবং ৪র্থ বলে নেওয়াজকে লং অন এবং কাউ কর্নার দিয়ে মেরেছেন উপর্যুপরি ছক্কা। ওই ওভারের ৫ম বলে মিড অফ দিয়ে মেরেছেন বাউন্ডারি।
ইনিংসের ৫ম ওভারের প্রথম তিন বলে ফয়সালকে কভার, স্কোয়ার লেগ এবং লং অফের উপর দিয়ে মেরেছেন ছক্কা! ফিফটিটা ছিল তার প্রাপ্য। তবে ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের এক্সট্রা বাউন্সে পুল করতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে থেমেছেন ফিফটির ৫ রান আগে। আর এক ওপেনার মোহাম্মদ নাইমের সঙ্গে পারভেজ হোসেন ইমনের বোঝাপড়াটা ছিল দারুণ। ৫১ বলে এই পার্টনারশিপের ৮৬ রান লাহোর কালান্দার্সের বড় স্কোরের ভিত্তিটা গড়ে দিয়েছে। পারভেজ হোসেন ইমনের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে উদ্বুদ্ধ মোহাম্মদ নাইম ২৮ বলে ৪ চার, ৪ ছক্কায় থেমেছেন ৬০ রানে। এই দুই ওপেনারের ব্যাটিং ঝড়ে ১৩ ওভারের ম্যাচে লাহোর কালান্দার্স স্কোর টেনে নিয়েছে ১৮৫/৫ পর্যন্ত।
বাকি দায়িত্বটা পালন করেছেন ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ফেরিওয়ালা মোস্তাফিজুর রহমান (২/৩৭)।
পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) চলমান আসরের শুরু থেকে বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজ ছড়াচ্ছেন আলো। প্রথম দুই ম্যাচে হায়দারাবাদ কিংসম্যান ( ৪-০-১৯-১) এবং করাচি কিংসের (৪-০-২০-১) বিপক্ষে মিতব্যয়ী বোলিংয়ে কুড়িয়েছেন সুনাম। তৃতীয় ম্যাচে মুলতান সুলতানসের বিপক্ষে করেছেন উইকেট টেকিং বোলিং (৩-০-৩৭-২)। নিজের প্রথম ওভারের তৃতীয় ডেলিভারিতে স্লোয়ারে শাহিবজাদা ফারহানকে (২৪) লং অনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। মোস্তাফিজ তৃতীয় ওভারে শিকার করেছেন শান মাসুদকে (৪৪)। ফুলটস ডেলিভারিতে এলবিডাব্লুউতে ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি ডেঞ্জারম্যান শান মাসুদকে। শুক্রবার রাতে প্রথম ২ ওভারে মিতব্যয়ী বোলিং করলেও তৃতীয় ওভারটা ছিল খরুচে। এই ওভারে খেয়েছেন ১ চার, ২ ছক্কা।
পারভেজ হোসেন ইমন এবং মোস্তাফিজুর রহমানের রাতে মুলতান সুলতানসকে ২০ রানে হারিয়ে পয়েন্ট তালিকায় দুই নম্বরে উঠে এসেছে লাহোর কালান্দার্স ( ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট)।

পিএসএলে দারুণ ম্যাচ কাটালেন বাংলাদেশের দুই তারকা ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমান ও পারভেজ হোসেন ইমন। ব্যাট হাতে তাণ্ডব চালিয়েছেন ইমন। আর পরে বল হাতে জাদু দেখিয়ে রেকর্ড গড়েছেন কাটার মাস্টার- দা ফিজ।
ইমন-মোস্তাফিজদের উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের দিনে মুলতান সুলতান্সকে হারিয়ে জয়ে ফিরেছে লাহোর কালান্দার্স। শুক্রবার রাতে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ২০ রানে জিতেছে মোস্তাফিজ-ইমনদের দল।
বৃষ্টির কারণে প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা নষ্ট হলে ১৩ ওভারে নেমে আসে ম্যাচ। ইমন ও মোহাম্মদ নাঈমের তাণ্ডবে ১৮৫ রানের বড় পুঁজি দাঁড় করায় লাহোর। জবাবে প্রাণপন চেষ্টা করেও নিজেদের ১৩ ওভারে ১৬৫ রানের বেশি করতে পারেনি মুলতান।
তিন ম্যাচে লাহোরের এটি দ্বিতীয় জয়। প্রথম ম্যাচে হায়দরাবাদ কিংসমেনকে হারানোর পর দ্বিতীয়টিতে করাচি কিংসের সঙ্গে আর পারেনি লাহোর। এবার মুলতানকে হারাল তারা।
২ চার ও ৫ ছক্কায় মাত্র ১৯ বলে ৪৫ রানের ইনিংস খেলে বড় অবদান রাখেন ইমন। বল হাতে ৩ ওভারে ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন মোস্তাফিজ।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি পেসারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উইকেট এখন তার। ৩২৫ ইনিংসে ৪১৬ উইকেট নিয়েছেন কাটার মাস্টার। আর ৩৫৬ ম্যাচে ৪১৫ উইকেট নিয়ে দুইয়ে নেমেছেন মোহাম্মদ আমির।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাঁহাতি বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজের চেয়ে বেশি উইকেট আছে শুধু একজনের- বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার, সাকিব আল হাসান (৪৬১ ইনিংসে ৫০৭ উইকেট)।
টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রানে।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও একই ছন্দে ব্যাটিং করেন। দুজন মিলে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন মাত্র ২৫ বলে ৫৮ রানের জুটি।
নাঈমের ব্যাট থেকে আসে ৪টি করে চার-ছক্কায় ২৮ বলে ৬০ রান। ৩ চার ও ২ ছক্কায় ১৪ বলে ৩৩ রান করেন শফিক।
রান তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো না হলেও, শেষ দিকে ভালোই জবাব দেয় মুলতান। শেষের ২১ বলে ৬৫ রান করে তারা।
২ চারের সঙ্গে ৫ ছক্কায় মাত্র ২২ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার। এছাড়া শান মাসুদ ১৮ বলে ৪৪ ও আরাফাত মিনহাস ১১ বলে করেন ২৫ রান।
বল হাতে নিজের প্রথম ওভারে সাহিবজাদা ফারহানকে ফেরান মোস্তাফিজ। আর তৃতীয় ওভারে তার শিকার হন শান মাসুদ। প্রথম ওভারে মাত্র ৫ রান দিলেও, পরের দুই ওভারে ৩২ রান দিয়ে ফেলেন বাঁহাতি এই পেসার।

প্রথম দুই ম্যাচের ব্যর্থতা ভুলে অবশেষে ছন্দ খুঁজে পেলেন পারভেজ হোসেন ইমন। মুলতান সুলতান্সের স্পিনারদের কচুকাটা করে একের পর এক ছক্কা হাঁকালেন লাহোর কালান্দার্সের বাংলাদেশি ওপেনার। তবে অল্পের জন্য ফিফটি করতে পারলেন না তিনি।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শুক্রবার রাতের ম্যাচে ২ চারের সঙ্গে ৫টি ছক্কা মেরে ২৩৬.৮৪ স্ট্রাইক রেটে ৪৫ রানের ইনিংস খেলেছেন ইমন। চলতি পিএসএলে এখন পর্যন্ত এটিই তার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
বৃষ্টির কারণে ১৩ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে টস হেরে ব্যাটিং পায় ইমন, মোস্তাফিজুর রহমানদের নিয়ে খেলতে নামা লাহোর। মোহাম্মদ ইসমাইলের প্রথম ওভারের প্রথম দুই বলে ১৮ রান পেয়ে যায় দলটি। দুইটি বাউন্ডারি মারেন মোহাম্মদ নাঈম। আর বাকি দুই বলে ওয়াইডসহ ৪ দেন ইসমাইল।
প্রথম ৩ ওভারে কিছুটা গুটিয়েই ছিলেন ইমন। প্রথম ১০ বলে তিনি নেন মাত্র ৯ রান। পরে চতুর্থ ওভারে মোহাম্মদ নাওয়াজ আক্রমণে আসতেই যেন জ্বলে ওঠেন বাঁহাতি এই ওপেনার। ডিপ মিড উইকেট দিয়ে পরপর দুইটি ছক্কার পরে একটি চার মারেন তিনি।
এরপর পঞ্চম ওভারে আক্রমণে আসেন ফয়সাল আকরাম। বাঁহাতি এই লেগ স্পিনারের প্রথম তিন বলে তিনটি ছক্কা মেরে দেন ইমন। মাত্র ১৭ বলে তিনি পৌঁছে যান ৪৪ রান।
ষষ্ঠ ওভারে ইসমাইল আক্রমণে ফিরলে আবার বড় শটের চেষ্টা করেন ইমন। তবে এবার সীমানার কাছে ধরা পড়ে যান ২৩ বছর বয়সী ওপেনার। তার বিদায়ে ভাঙে ৩১ বলে ৮৫ রানের উদ্বোধনী জুটি।
ইমন ফিরলেও ঝড় থামাননি নাঈম। তিন নম্বরে নেমে আব্দুল্লাহ শফিকও। যার সৌজন্যে মাত্র ৭ ওভারে ১২৩ রান করে ফেলেছে লাহোর। নাঈম ১৮ বলে ৪৪ ও শফিক ৭ বলে ১৮ রানে অপরাজিত।

প্রতি বছর এই সময় ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের (ডিপিএল) উত্তেজনায় ব্যস্ত থাকে দেশের ক্রিকেট। কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে, সেরা ব্যাটার-বোলার কারা হবেন, সেই আলোচনা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু চলতি বছর এখনও শুরুই হয়নি ডিপিএল।
তবে বেশি দিন এই অচলাবস্থা অব্যাহত রাখতে চায় না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম)। তাই ডিপিএল শুরুর জন্য ক্লাবগুলোকে নিয়ে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিসিডিএম।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভেতরে সিসিডিএমের অফিসে আগামী বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রিমিয়ার লিগে অংশগ্রহণকারী সব ক্লাব ও অন্যান্য অংশীজনদের নিয়ে করা হবে ডিপিএল বিষয়ক বৈঠক।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানিয়েছে বিসিবি। বার্তায় বলা হয়েছে, এই বৈঠকে ডিপিএল শুরুর সূচি ও লিগ পরিচালনার অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সব অংশীজনদের নিয়ে সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি লিগ আয়োজনের আশা বিসিবির।
শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেও ফায়দা পেলেন না ফখর জামান। বহাল রইল তার নিষেধাজ্ঞা। তাই পরের দুই ম্যাচে বাঁহাতি ওপেনারকে পাবেন না মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমনরা।
পাকিস্তানের সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচে বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের দায়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফখর। ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন লাহোর কালান্দার্সের ওপেনার।
আপিলের ফল পক্ষে পাননি ফখর। পিএসএলের নীতি অনুযায়ী, লেভেল থ্রি অপরাধ করায় সর্বোচ্চ শাস্তি- দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে ফখরের।
ঘটনা গত রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য করাচির প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। শেষ ওভারটি করতে আসেন হারিস রউফ। তখন তার কাছেই ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর।
তিন জনের ছোট্ট আলোচনা শেষে বোলিং মার্কে প্রস্তুত হন হারিস। তখন তার হাত থেকে বল নিয়ে নেন আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি। পরে আরেক আম্পায়ার শরফুদৌল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন তিনি।
এসময় দুই আম্পায়ার মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বলের কন্ডিশন পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই ৫ রান পেনাল্টি করা হয় লাহোরকে। করাচির সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে। যা সহজেই পূরণ করে ফেলে করাচি কিংস।
ম্যাচ শেষে জানা যায়, বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের অভিযোগ মূলত ফখরের বিরুদ্ধে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ম্যাচ রেফারি রোশান সিদ্ধান্ত নেন, এটি লেভেল থ্রি অপরাধ। তাই দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় বাঁহাতি ওপেনারকে।
পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটাররা চাইলে ম্যাচ রেফারির শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন। ফখর সেই সুযোগ কাজে লাগালে প্রফেসর জাভেদ মালিক, ড. মুমরাইজ নকশবন্দ ও সৈয়দ আলি নাকির টেকনিক্যাল কমিটি এটি পর্যালোচনা করেন।
সেখানেও ফখর দোষী সাব্যস্ত হন। তাই শাস্তি বাতিল হয়নি বা শাস্তির মাত্রাও কমেনি। শুক্রবার মুলতান সুলতান্স ও আগামী বৃহস্পতিবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলা হবে না মোস্তাফিজদের দলের অভিজ্ঞ এই ওপেনারের।