২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৬ পিএম

বছরের শেষদিকে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে তিনটি করে টেস্ট ও ওয়ানডে খেলবে ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) ভবিষ্যৎ সফর সূচি (ফিউচার ট্যুরস প্রোগ্রাম) অনুযায়ী, এই সফরে তিনটি টি–টোয়েন্টিও থাকার কথা ছিল। তবে সূচি জটিলতায় কুড়ি কুড়ির সিরিজ স্থগিত করা হয়েছে।
২০২৭ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এসএ টোয়েন্টি। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার অধিকাংশ ক্রিকেটার এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন দলের হয়ে খেলে থাকেন। এ কারণে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ও ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা যৌথভাবে টি–টোয়েন্টি সিরিজটি সূচি থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ইসিবির বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“সূচি জটিলতার কারণে পূর্বনির্ধারিত টি–টোয়েন্টি সিরিজটি বাদ দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে সুবিধাজনক সময়ে সিরিজটি আয়োজনের সুযোগ খুঁজছে।”
সফরের সূচি (অপরিবর্তিত)
১৭–২১ ডিসেম্বর: প্রথম টেস্ট, জোহানেসবার্গ
২৬–৩০ ডিসেম্বর: দ্বিতীয় টেস্ট, সেঞ্চুরিয়ন
৩–৭ জানুয়ারি: তৃতীয় টেস্ট, কেপটাউন
১০ জানুয়ারি: প্রথম ওয়ানডে, পার্ল
১৩ জানুয়ারি: দ্বিতীয় ওয়ানডে, ব্লুমফন্টেইন
১৫ জানুয়ারি: তৃতীয় ওয়ানডে, ব্লুমফন্টেইন
No posts available.
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৭:৪৮ পিএম

গ্রুপ স্টেপ বীরদর্পে পেরুনো জিম্বাবুয়ে সুপার এইটে বড় মসিবতে। শিমরন হেটমায়ার ও রভম্যান পাওয়েলরা রীতিমতো তাণ্ডব লীলা চালিয়েছে সিকান্দার রাজা ও গ্রাহেম ক্রেমারদের ওপর। দ্রুততম ফিফটি ও চার-ছক্কার পসরা সাজানো ম্যাচে আসরের সর্বোচ্চ এবং টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের পুঁজি এখন ক্যারিবিয়ানদের। পাহাড়সম ২৫৪ রান টপকে জিততে হবে রাজাদের।
টি-টিয়োন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ সংগ্রহ শ্রীলঙ্কার। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে কেনিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ২৬০ রান করেছিল লঙ্কানরা। পরেরটি ছিল আয়ারল্যান্ডের। যা চলতি বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের দখলে ছিল। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৫ উইকেটে ২৩৫ রান করেছিল আইরিশরা। জবাবে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় প্রতিপক্ষ ওমান। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল শ্রীলঙ্কার। ওমানের বিপক্ষে ২২৫ রান করেছিল তারা।
কুড়ি কুড়ির সংস্করণে এ নিয়ে চতুর্থবার ২০০ উর্ধ্ব সংগ্রহ তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সর্বোচ্চ দক্ষিণ আফ্রিকার। ছয় বারের মতো দুশো উর্ধ্ব রান তুলেছে প্রোটিয়ারা। এতকাল ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে যৌথভাবে ছিল ক্যারিবিয়ানদের। এবার তারা ভারতের কাতারে এলো।
মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়েতে আজ টসে জিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান সিকান্দার রাজা। লাল মাটির বাউন্সি উইকেটে জিম্বাবুয়ে অধিনায়কের সিদ্ধান্ত বড় ভুল ছিল তা প্রমাণে বেশি সময় নেননি হেটমায়ার। ১৭ ও ৫৪ রানে ব্রেন্ডন কিং ও শাই হোপ ফিরলেও ক্যারিবিয়ানদের আশাহত হতে দেননি হেটমায়ার ও পাওয়েল।
স্পিনারদের বিপক্ষে ঝড় তুলেছেন হেটমায়ার। ইনিংসের সপ্তম ওভারে ক্রেমারের বলে দুই ছক্কা মারার পর অষ্টম ওভারে রাজার ওভারে তিন ছক্কা মেরেছেন তিনি। তাঁর করা ১৯ বলে ফিফটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্রুততম। এর আগের রেকর্ডটিও তাঁরই ছিল। এবারের বিশ্বকাপেই স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২২ বলে ফিফটি করে রেকর্ড গড়েছিলেন হেটমায়ার।
এদিন হেটমায়ার ফিরেছেন ব্যক্তিগত ৮৫ রানে। সাতটি করে চার-ছক্কায় ৩৪ বলে এই স্কোর করেন তিনি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক আসরে সর্বোচ্চ (যৌথভাবে) ছক্কার (১৭টি) মালিক এখন হেটমায়ার। যা তাকে আসরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারির কাতারে দাঁড় করিয়েছে। পাঁচ ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাটারের রান ২১৯। স্ট্রাইক রান রেট ১৮৬। দুটি অর্ধশতক রয়েছে হেটমায়ারের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়েলের। ৩৫ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে দুটি করে উইকেন নেন রিচার্ড এনগারাভা ও ব্লেসিং মুজরাবানি। একটি করে উইকেট নেন ইভান্স ও গ্রাহেম ক্রেমার।

১২তম বিসিএল ওয়ানডে টুর্নামেন্টের ম্যাচে ইস্ট জোনকে ৫৪ রানে হারিয়েছে নর্থ জোন। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে আকবর আলীর ঝোড়ো সেঞ্চুরির সঙ্গে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিমের ফিফটিতে ভর করে ৩৩৫ রানের বড় সংগ্রহ পায় নর্থ জোন। রান তাড়ায় মুমিনুল হক ইয়াসির আলি ও নাইম হাসান উইকেটে থিতু হয়েও বড় ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। বল হাতে নর্থের জয়ে দারুণ অবদান রাখেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
বিসিএলের অন্য ম্যাচে রাজশাহী ডিভিশনাল স্টেডিয়ামে সেন্ট্রাল জোনের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে সাউথ জোন। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন দক্ষিণাঞ্চলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। মধ্যাঞ্চলের হয়ে নাঈম শেখ ৭৬ বলে ৬৯ রান করেন। মাহফিজুল রবিন খেলেন ৭৬ বলে ৬৩ রানের ইনিংস। এরপর দলের হাল ধরেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ৭৩ বলে ২টি চার ও ৩ ছক্কায় ৬৭ করেন। দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে তানভীর ইসলাম ও সৌম্য সরকার দুটি করে উইকেট পান।
জবাবে এক রানেই প্রথম উইকেট হারায় দক্ষিণাঞ্চল। ডাক মেরে ফেরেন সৌম্য সরকার। তারপর আনিসুল ইসলাম ও জাওয়াদ আবরারের জুটি থেকে আসে ৮১ রান। আনিসুল আউট হন ৪৩ করে আর আকবর ৪০। তৃতীয় উইকেট পতনের পর আর উইকেট হারায়নি দক্ষিণাঞ্চল। ১৫৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন আফিফ ও মিঠুন। ৮ চার ও ৫ ছক্কায় ৮৬ বলে বরাবর ১০০ রানে অপরাজিত ছিলেন আফিফ আর মিঠুন করেন ৬৫ বলে ৭২ রান, দক্ষিণাঞ্চল জয় নিশ্চিত করে ৪.৩ ওভার হাতে রেখেই।
অন্য ম্যাচে শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে নর্থ জোন। মাত্র ২০ রানে ভাঙে হাবিবুর রহমান সোহান ও তানজিদ হাসান তামিমের উদ্বোধনী জুটি। ১৪ বলে ১৬ রান আসে সোহানের ব্যাট থেকে। দ্বিতীয় উইকেটে ৮২ রানের জুটি গড়ে শান্ত ও তামিম। দ্রুত রান তুলে মাত্র ৩৭ বলে ফিফটি হাঁকান তামিম৷ এরপর অবশ্য বেশিদূর এগোতে পারেননি এই ক্রিকেটার। ৮টি চার ও ৩ ছক্কা ৪৪ বলে ৫৪ রান করেন তামিম ।
দ্বিতীয় উইকেটে তামিম শান্তের জুটি ভাঙতেই হঠাৎ খেই হারায় নর্থ জোন। ১০২/১ থেকে স্কোর হয়ে যায় ১১৮/৪। তবে পঞ্চম উইকেটে অধিনায়ক শান্ত ও আকবরের দারুণ এক জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়ে যায় তারা। দুইজনেই দেখা পান ফিফটির। ৮৭ বলে চারটি চার ও এক ছক্কায় ৬৮ রান করে শান্ত আউট হলে ভাঙে আকবর-শান্তর ১২০ রানের জুটি।
ফিফটি হাঁকিয়ে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন আকবর। ৮১ বলেই সেঞ্চুরির দেখা পান এই ব্যাটার। ৮টি চার ও ৬ ছক্কা হাঁকিয়ে আকবর থামেন ১১১ রান করে। শেষ দিকে লোয়ার অর্ডারের ব্যাটারদের নৈপুন্যে ৫০ ওভারে শেষ পর্যন্ত ৩৩৫ রানে অলআউট হয় নর্থ জোন।
ইস্ট জোনের হয়ে ১০ ওভার বল করে ৫২ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন সৈয়দ খালেদ আহমদ। ২ উইকেট শিকার করলেও ৯৮ রান খরচ করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইস্ট জোন। উদ্বোধনী জুটিতে ২১ রান তোলেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও জাকির হাসান। শরিফুল ইসলামের শিকার হওয়ার আগে ১৮ বলে ৮ রান করেন জাকির হাসান।
১৪.৫ ওভারে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে ইস্ট জোনের। অমিতকে ২২ রানে আউট করে দ্বিতীয় উইকেটে ৪৩ রানের জুটি ভাঙেন এস এম মেহেরব। ২৮ বলে ২২ করেন অমিত। এরপর দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন ইমনও। নাহিদ রানার বলে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন এই ব্যাটার। তার আগে ৩৮ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৩৫ রান।
এরপর মুমিনুল হক-অধিনায়ক ইয়াসির আলী রাব্বির ৭১ রানের জুটিই ছিল তাদের ইনিংসের সর্বোচ্চ। তাদের জমে যাওয়া এই জুটিতে ছেদ ঘটান রিশাদ হোসেন। ব্যক্তিগত ৪২ রানে ইয়াসিরকে সাজঘরে ফেরান এই লেগ স্পিনার। ৪টি চারের সাথে ২ ছক্কা হাঁকান ইস্ট জোনের অধিনায়ক।
৪৩.১ ওভারে ২৩৬ রানেই ৯ উইকেট হারায় ইস্ট জোন। ৮২ বলে ৮২ করেন মুমিনুল। নয় নম্বর ব্যাটার হিসেবে মাঠে নামা নাইম হাসান ৪৩ বলে ফিফটি করে কেবল হারের ব্যবধানই কমিয়েছেন।
নর্থ জোনের হয়ে ১০ ওভার বল করে ৫৭ রানে ৪ উইকেট শিকার করেন রিশাদ হোসেন।

চলতি বছরের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ২০২৬-২৭ মৌসুমে ঘরের মাঠে পূর্ণাঙ্গ সূচি প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট (সিএসএ)। সূচি অনুযায়ী এ বছরের শেষে দুটি টেস্ট, তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি–টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেবে প্রোটিয়ারা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ড সিরিজের সূচিও প্রকাশ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নিজেদের মাঠে তাদের মৌসুম শুরু হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ দিয়ে। ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে ওয়ানডে সিরিজ। এরপর ৯ অক্টোবর থেকে শুরু হবে লাল বলের সিরিজ। সবশেষ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া। আর ২০১৮ সালের পর এবারই প্রথম দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে অজিরা।
অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম টেস্টটি ১৫–১৯ নভেম্বর জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৩–২৭ নভেম্বর সেঞ্চুরিয়নে হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। তারপর সাদা বলের লড়াইয়ে নামবে দুই দল। ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচগুলো ১, ৪ ও ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ইস্ট লন্ডন, গকেবেরহা ও কেপটাউনে।
১০, ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর তিন ম্যাচের টি–টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শেষ হবে বাংলাদেশের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। এই সংস্করণে ভিন্ন ভিন্ন তিনটি ভেন্যু কিম্বার্লি, বেনোনি ও সেঞ্চুরিয়নে খেলবে লিটন দাসের দল।
সবশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় দুই টেস্টের সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতে প্রোটিয়ারা।
ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর করবে ইংল্যান্ড ক্রিকেট দল। দুই দল তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে, প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৭ ডিসেম্বর। ঘরের মাঠে ইংলিশদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজও প্রোটিয়ারা।

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর পর থেকেই শিরোপার দৌড়ে এগিয়ে থাকা দল হিসেবে আলোচনায় রয়েছে ভারত, ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে হট ফেভারিটদের এই তালিকায় পাকিস্তানকেও রাখছেন অনেকেই। যদিও সাবেক চ্যাম্পিয়নদের অবস্থান এতোটা মজবুত নয়। গ্রুপ পর্বে গ্রিন শার্টসরা যেসব দলের মুখোমুখি হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই ছিল অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষ।
গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় হয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলটি বাঁচা–মরা পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আগামীকাল মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াইয়ের আগে আশার বার্তা শোনালেন দেশের সাবেক অধিনায়ক শাহিদ আফ্রিদি।
২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম সদস্য আফ্রিদি মনে করেন, বর্তমান দলটির মধ্যে শিরোপা জয়ের সামর্থ্য রয়েছে। তিনি বলেন,
“কোচ ও অধিনায়ক—দুজনকেই দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে। পাকিস্তান দল সব দিক থেকেই ভারসাম্যপূর্ণ। সঠিক পরিকল্পনা থাকলে বিশ্বকাপ জেতার মতো শক্তি এই দলের আছে।”
পাকিস্তানের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল সামা টিভি-এর জনপ্রিয় টক শো জোর কা জোর-এ কথা বলতে গিয়ে আফ্রিদি বিশ্বকাপ পরবর্তী নিউজিল্যান্ড সিরিজ নিয়েও মন্তব্য করেন। সাবেক এই অলরাউন্ডার জানান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দল নির্বাচনের কিছু সিদ্ধান্ত তাঁকে বিস্মিত করেছে।
আফ্রিদির ভাষায়,
“আবহাওয়া খারাপ থাকলে সাধারণত বোলিংয়ের পক্ষেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ওই ম্যাচে কোচকে কিছুটা বিভ্রান্ত মনে হয়েছে। দলে ফখর জামান থাকলে দলের পারফরম্যান্সে বড় পার্থক্য তৈরি হয়—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।”
ঘরোয়া ক্রিকেট নিয়েও কথা বলেন আফ্রিদি। তিনি জানান, কায়েদ-ই-আজম ট্রফি-তে অনেক মানসম্পন্ন ক্রিকেটার নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করছেন। আফ্রিদির মতে, নির্বাচক কমিটির উচিত ছিল সেই প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের তালিকা পিএসএল-এর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সামনে উপস্থাপন করা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের অজেয় যাত্রা থামল অবশেষে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭৬ রানের অনকাঙ্ক্ষিত হারে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অক্ষর প্যাটেলকে একাদশে না রাখার বিষয়টি বেশিই আলোচনায়। অতিরিক্ত ভাবনা এবং সহ-অধিনায়কে বেঞ্চে বসানোয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের করুণ পরিণতি বলে মনে করেন সাবেক ভারত অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে।
কেন ওয়াশিংটন সুন্দর, কেন প্যাটেল নয়—দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একাদশ গঠন নিয়ে হেড কোচ গৌতম গম্ভীর ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব নেতৃত্বাধীন টিম ম্যানেজমেন্ট ব্যাখ্যা দিয়েছিল—দক্ষিণ আফ্রিকার টপ অর্ডারে বেশি বাঁহাতি ব্যাটার থাকায় অফ স্পিনার সুন্দরকে অগ্রাধিকার দিয়েছিল তারা। যদিও তাদের সেই কৌশল পুরোপুরি ব্যর্থ।
ওয়াশিংটন সুন্দর মাত্র দুই ওভার বোলিং করেন। ১৭ রান দিয়ে তাঁর ইকোনমি রেট ছিল ৮.৫। মিডল অর্ডারে তিনি কোনো চাপই তৈরি করতে পারেননি। ডেভিড মিলার ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস তাঁকে সহজেই সামলে নেন। যদিও জাসপ্রিত বুমরাহ শুরুতেই কুইন্টন ডি কক ও রায়ান রিকেলটনকে ফিরিয়েছিলেন।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ খুললেন সাবেক ভারত অধিনায়ক অজিঙ্কা রাহানে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হতাশা প্রকাশ করেন। রাহানে বলেন,
“আমি সত্যিই অবাক হয়েছি যে অক্ষর প্যাটেল খেলেনি। কী হচ্ছে, বুঝতে পারছি না। ওয়াশিংটন সুন্দর ভালো খেলোয়াড়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু অক্ষর বিভিন্ন পরিস্থিতিতে দারুণ পারফর্ম করেছে। অনেক সময় দেখা যায়, সিলেকশনে বেশি ‘অতিরিক্ত কৌশলী’ হতে গিয়ে উল্টো ক্ষতি হয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন,
“আপনি সুন্দরকে এনেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার দলে বেশি বাঁহাতি থাকায়। কিন্তু সে তো মাত্র দুই ওভারই বল করেছে। ম্যাচ-আপ মানেই যে সফলতা আসবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাঁহাতিদের বিপক্ষে অক্ষরের রেকর্ড খুবই ভালো। আমরা দেখেছি কেশভ মহারাজ কীভাবে বল করেছে। যে খেলোয়াড় আপনার জন্য নিয়মিত ভালো করছে, তাকেই খেলানো উচিত।”
অক্ষর প্যাটেল দলের সহ-অধিনায়ক। অথচ এর আগেও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল, তখনই এই বিশ্বকাপে প্রথম সুযোগ পান সুন্দর। সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অক্ষর ফিরবেন—এটাই ছিল সবার প্রত্যাশা। কিন্তু ম্যানেজমেন্ট সুন্দরকেই রেখে দেয়, যা শেষ পর্যন্ত বড় ভুল প্রমাণিত হয়।
রাহানে আবারও বলেন,
“অতিরিক্ত ভাবনাই হয়তো দলের ক্ষতি করেছে। অক্ষর প্যাটেল মানসম্পন্ন খেলোয়াড়, আগেও আপনার জন্য ভালো করেছে। সে চরিত্রবান বাঁহাতি স্পিনার। কেউ সুন্দরকে খাটো করছে না, কিন্তু আপনার মূল খেলোয়াড়কে ব্যাক করতেই হবে। সে দলের সহ-অধিনায়ক। যদি কোনো চোট না থাকে—যেটা আমরা জানি না—তাহলে ওকে একাদশে রাখা উচিতই ছিল।”
আহমেদাবাদের এই বড় হারের পর গম্ভীর ও টিম ম্যানেজমেন্টের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। এখন ভারতের সামনে ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। বৃহস্পতিবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারলেই কার্যত সেমিফাইনালের স্বপ্ন শেষ হয়ে যাবে ভারতের।