
এক ম্যাচের জন্য যেন নিজেকেই
হারিয়ে ফেলেছিলেন মোস্তাফিজুর রহমান। ফেরাটা তাই ছিল ভীষণ জরুরি। বৃহস্পতিবার রংপুর
রাইডার্সের হারের ম্যাচে সুপার ওভারে দায়িত্ব ছিল তাঁর কাঁধেই। স্লগ ওভার স্পেশালিস্ট
হিসেবে পরিচিত মোস্তাফিজ সেদিন আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি।
কিন্তু আজ আর ভুল করেননি
তিনি। ছন্দে ফিরেই নিজের জাত চেনালেন বাংলাদেশের এই বাঁহাতি পেসার। ম্যাচের প্রথম ওভারেই
এক অনন্য মাইলফলক ছুঁয়ে ফেলেন মোস্তাফিজ—স্বীকৃত টি–টোয়েন্টি
ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের ক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি। দেশীয় বোলারদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এই
তালিকার শীর্ষে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। দেশসেরা স্পিন অলরাউন্ডারের উইকেট সংখ্যা ৫০৭।
বিশ্ব ক্রিকেটারদের তালিকায় শীর্ষে রশিদ খান। আফগানিস্তান অধিনায়কের উইকেট সংখ্যা ৬৮৬। মোস্তাফিজের অবস্থান ১১তম। পঞ্চমস্থানে সাকিব।
সিলেট টাইটান্সের ইনিংসের চতুর্থ ওভারের দ্বিতীয় বলে মোস্তাফিজের বলে ক্যাচ তুলে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আলিস আল ইসলামের হাতে ধরা পড়েন সিলেট অধিনায়ক। নিজের প্রথম ওভারে মাত্র ৪ রান দেন মোস্তাফিজ।
বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৮৫ ম্যাচ খেলে মোস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা ১১১। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে তিনি তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী। সামনে সুযোগ রয়েছে তাসকিন আহমেদের (১২৮) উইকেটসংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার।
গত মৌসুমে রাজধানী ঢাকার হয়ে খেলেছিলেন মোস্তাফিজ। ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। যদিও পারফরম্যান্সের বিচারে সেরা দশে জায়গা হয়নি, তবুও তার অভিজ্ঞতা ও চাপের মুহূর্তে বল করার দক্ষতা তাকে আলাদা করে তোলে।
No posts available.
৪ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় যৌথভাবে তিন আছেন বরুণ চক্রবর্তী। তবে সর্বোচ্চ উইকেট
নেওয়া এই ‘রহস্য স্পিনারকে’ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় ভারত। এই বোলার যে দেদারসে রান বিলিয়েই
যাচ্ছেন। ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে আবির্ভাব ঘটা বরুণই এখন রান বিলি করছেন প্রতি ম্যাচে।
আর ব্যাটারদের বেদড়ক মার খেয়ে নাকি ঘুরে দাড়ানোর পরিবর্তে উল্টে হতভম্ব হয়ে যান বরুণ।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব আর
সুপার এইট মিলিয়ে ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। এই সাত ম্যাচে ২৪ ওভার
করা ৩৪ বছর বয়সী স্পিনারের ইকোনোমি রেট ৭.৬৬। সবশেষ সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে
অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে ৪০ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন বরুণ। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে ছিলেন আরও খরুচে, ৪৭ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
বরুণের যে চার ওভারের ওপর
ভারত ভরসা করত, সেই চার ওভারই এখন চিন্তার কারণ। লাইন লেংথ ঠিক রাখতে না পেরে নিয়মিতই
ব্যাটারদের পিটুনি খাচ্ছেন তিনি। ব্যাটাররা তাঁর ওপর হলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন বরুণ, এমনটাই
মনে করেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কৈফ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে
কৈফ বলেছেন, ব্যাটাররা এখন বরুণের খেলা বোঝে এবং তিনি আর ভারতের ‘রহস্য স্পিনার’ নন।
রান খাওয়ালে বরুণ নার্ভাস হয়ে পড়েন এবং তার প্রাকৃতিক উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে
প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করেন।
কৈফ বলেন,
‘এখন অনেক ব্যাটাররা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে আসছে, ঠিক জানে কিভাবে বরুণকে মোকাবিলা করতে হবে। আর এখানেই তার একটি ছোট সমস্যা দেখা দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি, যখন তাকে রান খাওয়ানো হয়, তখন সে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ায় তা দেখা যায়। উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে সে প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করে।’
কৈফ পরামর্শ দেন,
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন,
‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে ভারতের সব ম্যাচেই খেলেছেন বরুণ। কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে তাঁর ওপরই ভরসা
রেখেছে ভারত। আগামীকাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
ফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চে নিজের চেনা রূপ দেখাতে পারেন কি না বরুণ সেটাই দেখার এখন।

আরব সাগরের হাওয়া বয়ে যায়
গ্যালারির ওপর দিয়ে। সূর্য ডোবার পর আলো জ্বলে উঠলে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম যেন আরেক রূপ
নেয়। ভারতের ক্রিকেট–ইতিহাসে মুম্বাইয়ের এই মাঠ শুধু একটি
ভেন্যু নয়, আবেগের আরেক নাম। কাল ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-ভারতের
দেখা হওয়ার আগে তাই স্মৃতির পাতা উল্টে দেখার এটাই সময়। ওয়াংখেড়েতে ভারতের সেমিফাইনাল
মানেই নাটক, উত্তেজনা আর ইতিহাস।
১৯৮৭: স্বপ্নভঙ্গের
শুরু
১৯৮৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
ভারত চার বছর পর ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে বিভোর। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত
খেলে সেমিফাইনালে ওঠে স্বাগতিকেরা। সেবরাও প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
গ্রাহাম গুচের লড়াকু সেঞ্চুরি
ভারতকে চাপে ফেলে দেয়। রান তাড়ায় নেমে সুনীল গাভাস্কারের দ্রুত বিদায় ছিল বড় ধাক্কা।
মাঝের দিকে লড়াই থাকলেও শেষ ৫ উইকেট মাত্র ১৫ রানে হারিয়ে ৩৫ রানের হারে বিদায় নেয়
ভারত। ওয়াংখেড়েতে সেটিই ছিল স্বাগতিকদের প্রথম বড় ধাক্কা—স্বপ্নভঙ্গের
শুরু।
২০১৬: ১৯২ রানও যথেষ্ট
নয়
সময়ের স্রোতে বদলে গেছে
প্রজন্ম, বদলেছে ফরম্যাট। ২০১৬ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মঞ্চ
সেই ওয়াংখেড়ে। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বিরাট কোহলির ব্যাটে আগুন
ঝরা ইনিংসে ১৯২ রান তোলে ভারত। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ। কিন্তু টি–টোয়েন্টির
নির্মম বাস্তবতা বুঝিয়ে দেয় ক্যারিবীয়রা। লেন্ডন সিমন্সের স্থিরতা আর আন্দ্রে রাসেলের
ঝড়ে দুই বল বাকি থাকতে ম্যাচ বের করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯২ রানের স্কোরও যে নিরাপদ
নয়, সেই শিক্ষা দেয় সেই রাত।
২০২৩: প্রতিশোধের উল্লাস
সবচেয়ে সাম্প্রতিক স্মৃতি
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। লিগ পর্বে অপরাজিত ভারত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ডের।
চার বছর আগের আঘাতের জবাব দেওয়ার মঞ্চও যেন তৈরি ছিল।
রোহিত শর্মার ঝড়ো শুরু,
শুভমান গিলের লড়াকু ইনিংস, আর বিরাট কোহলির রেকর্ড ভাঙা ৫০তম সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে প্রায়
৪০০ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। জবাবে ড্যারিল মিচেল লড়াই করলেও শেষ কথা বলেন মোহাম্মদ শামি।
তাঁর সাত উইকেটে উল্লাসে ফেটে পড়ে ওয়াংখেড়ে। সেই রাতে ইতিহাসের সঙ্গে আবেগের মেলবন্ধন
ঘটে।
ওয়াংখেড়ের সেমিফাইনাল ইতিহাস
তাই মিশ্র অনুভূতির—হতাশা আছে, আছে গৌরবও। ১৯৮৭-এর কান্না, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
আক্ষেপ আর ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের উল্লাস—সব মিলিয়ে এই মাঠ ভারতের জন্য এক আবেগঘন
অধ্যায়।
এবার ২০২৬ টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষা। ইতিহাস কি আবার
হাসবে ভারতের দিকে? নাকি ওয়াংখেড়ে উপহার দেবে আরেক নাটকীয় রাত—উত্তর মিলবে আগামীকাল।

টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় এবার ওয়ানডে দলেও জায়গা হারালেন বাবর আজম। একইসঙ্গে ধাক্কা খেলেন
সাইম আইয়ুবও। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে রাখা হয়নি পাকিস্তানের এই দুই
তারকা ব্যাটারকে।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১ মার্চ (বুধবার) শুরু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এর সপ্তাহখানেক আগেই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান
ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
শাহিন
শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলে ডাক
পেয়েছেন ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ৬ জন ক্রিকেটার। তারা হলেন- আব্দুল সামাদ, মাজ
সাদাকাত, মোহাম্মদ গাজী ঘড়ি, সাহিবদজাদা ফারহান, সাদ মাসুদ ও শামিল হোসেন।
নতুন
ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, সাদ মাসুদ ও শামিল হোসেন
সম্প্রতি আবু ধাবিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের ('এ' দল) বিপক্ষে সিরিজের পাকিস্তান শাহিন্স
('এ') দলেও ছিলেন।
পূর্ব
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ মার্চ (সোমবার) বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে পাকিস্তান
দলের। তবে ফ্লাইটের সূচির ওপর নির্ভর করে এক দিন এগিয়ে আসতে পারে তাদের আগমন।
মিরপুরে
১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ হবে সিরিজের তিন ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচ শুরু দুপুর আড়াইটায়।
বাংলাদেশ সফরের পাকিস্তান স্কোয়াড
শাহিন
শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস
রউফ, হুসাইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র,
মোহাম্মদ গাজী ঘড়ি (উইকেটরক্ষক), সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা, শামিল
হোসেন

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক এইডেন মার্করাম সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের কাঁধে নিতে নারাজ। তাঁর ভাষায়, তিনি শুধু একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আজ সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের সঙ্গে দেখা হবে দক্ষিণ আফ্রিকার। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল প্রোটিয়ারা। তবে বড় ম্যাচের আগে আত্মবিশ্বাসী হলেও সতর্ক সুরই শোনা গেল মার্করামের কণ্ঠে।
টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্করাম বলেন, ‘আমি শুধু ভাগ্যবান যে এত শক্তিশালী একটি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছি। আমাদের দলে তরুণ ও অভিজ্ঞদের দারুণ সমন্বয় আছে। কখনও সন্দেহ হলে অভিজ্ঞদের ওপর ভরসা করা যায়, তারা পথ দেখায়।’
আরও পড়ুন
| নিয়ম লঙ্ঘন করে জরিমানা ধোনির |
|
অধিনায়কত্ব নিয়ে তিনি বলেন, চাপের মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই আসল। এ ক্ষেত্রে উইকেটের পেছন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন কুইন্টন ডি কক। বললেন, ‘কুইনি (ডি কক) উইকেটের পেছন থেকে কন্ডিশন খুব ভালো বোঝে। ওর পরামর্শ আমাদের অনেক সহায়তা করে।
ব্যাট হাতেও দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন মার্করাম। সাত ম্যাচে ২৬৮ রান করেছেন, গড় ৫৩.৬০। নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটিংয়ের দায়িত্ব আলাদা করে দেখার বিষয়টিও শিখেছেন, ‘এই বিশ্বকাপ ও সাম্প্রতিক মাসগুলো থেকে আমি শিখেছি, অধিনায়ক ও ব্যাটার—দুই ভূমিকাকে আলাদা করে দেখতে হয়। ব্যাটার হিসেবে নিজের কাজটা ঠিকমতো করতে পারলে সেটাই দলের জয়ে অবদান রাখবে।’
সেমিফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে আগের ছন্দ ধরে রাখা কতটা সহজ হবে, এ প্রশ্নে সতর্ক মার্করাম, ‘ইশ, ক্রিকেট যদি এত সহজ হতো! এটা একেবারে নতুন শুরু। সেমি-ফাইনাল সব সময়ই আলাদা ম্যাচ। আগের পারফরম্যান্স হুবহু পুনরাবৃত্তি করা এতটা সহজ নয়।’
অপরাজিত থেকে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে মার্করামের কথায় স্পষ্ট, আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই; বড় ম্যাচে নতুন করেই নিজেদের প্রমাণ করতে হবে প্রোটিয়াদের।

রাঁচিতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দায়ে জরিমানারমুখে পড়েছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন, এক হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে ভারতের সাবেক অধিনায়ককে। শহরের স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থায় তাঁর গাড়ির গতি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ধরা পড়লে মোটরযান আইনের ১৮৩ ধারায় ই-চালান ইস্যু করা হয়।
রাঁচির ট্রাফিক বিভাগের সূত্র জানায়, ধোনির বাসভবনের কাছাকাছি এলাকায় স্থাপিত ক্যামেরায় গাড়ির গতি সীমা লঙ্ঘনের প্রমাণ ধরা পড়ে। তারপর ডিজিটাল পদ্ধতিতে জরিমানার নোটিশ পাঠানো হয়। বিষয়টি আইনগতভাবে ছোটখাটো হলেও জনপ্রিয় ক্রিকেটার হওয়ায় ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
এর কয়েক দিন আগেই আরেকটি আইনি নোটিশ পেয়েছিলেন ধোনি। ঝাড়খন্ড স্টেট হাউজিং বোর্ড অভিযোগ তোলে, রাঁচির হারমু রোড এলাকায় তাঁর নামে বরাদ্দ একটি আবাসিক প্লট বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ধোনির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। হারমু রোডের সেই বাড়িতেই আগে থাকতেন তিনি। বর্তমানে রিং রোডের বাসভবনে বসবাস করছেন।
আরও পড়ুন
| নতুন কোচ নিয়ে বাংলাদেশে আসবে পাকিস্তান |
|
আইনগত জটিলতার মধ্যেই ২০২৬ ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) প্রস্তুতি শুরু করেছেন ধোনি। তাঁর দল চেন্নাই সুপার কিংস নতুন মৌসুম সামনে রেখে অনুশীলন জোরদার করেছে। গত মৌসুমে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। ২০২৫ আসরে ১৪ ম্যাচে ১০ হারে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে শেষ করেছিল তারা।
আনক্যাপড খেলোয়াড় নীতির আওতায় ৪ কোটি রুপিতে ধোনিকে ধরে রেখেছে চেন্নাই, যা ২০২৬ মৌসুমেও বহাল আছে। ব্যাটিং অর্ডারে আগের মতো ওপরে না খেললেও ইনিংসের শেষ দিকে তাঁর উপস্থিতি এখনও কার্যকর। গত মৌসুমে ১৪ ম্যাচে ১৯৬ রান করেন তিনি, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৩৫.১৭—মূলত শেষের দিকে দ্রুত রান তোলার ভূমিকায়।
৪৪ বছর বয়সেও মাঠের কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা ও ড্রেসিংরুম নিয়ন্ত্রণে রাখার সামর্থ্য ধোনিকে এখনও দলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ করে রেখেছে। নতুন মৌসুমে সাফল্যে ফেরার লক্ষ্যেই প্রস্তুতি নিচ্ছে চেন্নাই।