৬ মে ২০২৬, ৪:৪৮ পিএম

বাংলাদেশের পেস আক্রমণে নতুন উত্তেজনার নাম নাহিদ রানা। গতি ও আগ্রাসন মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা এই তরুণ পেসারের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স দেখছেন তার আত্ম-সচেতনতা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের আগে বুধবার সংবাদ সম্মেলনে নাহিদকে নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তরুণ পেসার প্রশংসায় ভাসান সিমন্স।
“নাহিদ রানার সবচেয়ে ভালো দিক হলো, সে নিজের অবস্থানটা বোঝে- সে কোথায় আছে এবং তাকে কী করতে হবে, সেটা পরিষ্কারভাবে জানে। এত অল্প সময়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসে এই বোঝাপড়াটা খুবই বুদ্ধিদীপ্ত।”
পাকিস্তান সুপার লিগে পেশাওয়ার জালমির হয়ে ফাইনাল খেলে পরে জাতীয় দলে যোগ দেন নাহিদ। ছোট্ট ক্যারিয়ারে অল্প সময়েই তিনি তৈরি করেছেন আলোড়ন। তবে তার এই গতি ও সম্ভাবনাকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে সতর্ক থাকতে চান সিমন্স।
“তাকে আমাদের দেখেশুনে ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। আধফিট অবস্থায় টেস্ট খেলানো যাবে না। আমরা চাই, সে দীর্ঘ সময় ধরে এই গতিটা ধরে রাখুক।”
বাংলাদেশের পেস আক্রমণকে ‘শক্তিশালী ইউনিট’ হিসেবে উল্লেখ করে সিমন্স জানান, গতির দিক থেকে এখন নাহিদই সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাই তাকে রক্ষা করাও দলের দায়িত্ব।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল নাহিদকে। তবুও তার ওয়ার্কলোড নিয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
“প্রথম টেস্টের পর আমরা দেখব সে কত ওভার বল করেছে, শারীরিক অবস্থা কেমন। সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে, নাকি বিশ্রাম পাবে।”
নাহিদের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ প্রতিপক্ষ শিবিরও। পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদিও প্রশংসা করেছেন এই তরুণকে।
“আমি মনে করি, সে বাংলাদেশের জন্য খুব ভালো সম্ভাবনা। আশা করি, তারা তাকে ঠিকভাবে ব্যবহার করবে। সাম্প্রতিক সময়ে সে দারুণ ফর্মে আছে। আশা করি, সেটা আমাদের বিপক্ষে কাজ করবে না।”
No posts available.
১১ মে ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম
১১ মে ২০২৬, ১২:৪৩ পিএম

সাকিবের অনুপস্থিতিতে ২০১৩ সালে গল টেস্টে হয়েছে মুমিনুলের অভিষেক। টেস্ট অভিষেকেই হাফ সেঞ্চুরিতে (৫৫) ছড়িয়েছেন সৌরভ। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে টানা ১১ টেস্টে ফিফটির ইনিংসে ক্যারিবিয়ান লিজেন্ডারি ভিভ রিচার্ডস, ভারতের বীরেন্দ্র শেভাগ, গৌতম গম্ভীরকে ছুঁয়ে অনন্য উচ্চতায় নিজেকে উঠিয়ে আনা মুমিনুল একটার পর একটা মাইলস্টোনে নিজেকে সেরাদের কাতারে উঠিয়ে এনেছেন। মাত্র ১১ টেস্টে হাজার রান, ২৬ টেস্টে ২ হাজার রানে নিজেকে ভালই চিনিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাটারদের মধ্যে টেস্টে সবার আগে উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ডটা তারই।
২০১৮ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ( ১৭৬ও ১০৫ রান) উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরিতে ক্যারিয়ারটা বড় করার আভাস দিয়েছেন। এই টেস্ট শুরুর আগে টেস্টে ৫ হাজারী ক্লাবের সদস্যপদের হাতছানি ছিল তাঁর। মাত্র ১৪১ রান দূরে ছিলেন মুমিনুল। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৯ রানের জন্য সেঞ্চুরি মিস করা মুমিনুলের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে টার্গেট ছিল কাটায় কাটায় ৫০। পাকিস্তান স্পিনার নোমান আলীকে ব্যাকওয়ার্ড স্কোয়ার লেগে খেলে সিঙ্গল নিয়ে পূর্ণ করেছেন হাফ সেঞ্চুরি এবং ৫ হাজার রান। তামিম ( ৭০ টেস্টে ৫১৩৪ রান), মুশফিকের ( ১০১ টেস্টে ৬৫৮১ রান) পর তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রান পূর্ণ করতে খেলতে হয়েছে মুমিনুল হক-কে ৭৬ টেস্ট। ১৪১তম ইনিংসে এসে ৫ হাজার রান পূর্ণ করতে লেগেছে তার ১৩ বছর ২ মাস ৩ দিন।
তবে এমন একটি মাইলস্টোনের ইনিংসটি থেমেছে ৫৬ রানে এসে। শাহিন আফ্রিদির অফ স্ট্যাম্পের উপর পিচিং ডেলিভারি উইকেট কিপারের গ্লোভসের দিকে যখন ধাবিত, তখন দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে ডিফেন্স করতে যেয়ে দিয়েছেন উইকেট কিপারকে ক্যাচ। টেস্টে সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ ব্যাটারদের মধ্যে সবার উপরে উঠে এসে (১৩ সেঞ্চুরি) টানা ২২ ইনিংসে সেঞ্চুরিহীন কাটানোর যন্ত্রনা নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন মুমিনুল।
তবে অধিনায়ক শান্ত'র সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরির পার্টনারশিপে ( ১৭০ ও ১০৫) বাংলাদেশকে ম্যাচে ড্রাইভিং সিটে রেখে গেছেন মুমিনুল।

আইসিসির সর্বশেষ বার্ষিক হালনাগাদেও ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত। ১১৮ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায় থাকলেও আগের চেয়ে ১ পয়েন্ট হারিয়েছে রোহিত শর্মার দল। ১১২ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে নিউজিল্যান্ড এবং ১০৯ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে অস্ট্রেলিয়া।
আইসিসির এই বার্ষিক হালনাগাদে ২০২৫ সালের মে মাস থেকে খেলা ম্যাচগুলোকে শতভাগ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আর আগের দুই বছরের ফলাফলকে বিবেচনা করা হয়েছে ৫০ শতাংশ হারে।
র্যাঙ্কিংয়ের বড় পরিবর্তন এসেছে চার নম্বর পজিশনে। ১০২ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তানকে টপকে সেরা চারে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯৮ পয়েন্ট নিয়ে পাকিস্তান রয়েছে পঞ্চম স্থানে। তালিকার পরবর্তী তিনটি স্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি; শ্রীলঙ্কা (৯৬), আফগানিস্তান (৯৩) এবং ইংল্যান্ড (৮৯) আছে যথাক্রমে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম স্থানে।
আরও পড়ুন
| নেপালে ঐতিহাসিক সফরের পরিকল্পনা ইংল্যান্ডের |
|
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির খবর হলো, ৮৪ পয়েন্ট নিয়ে তারা নবম স্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৭৪ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে থাকলেও বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের ব্যবধান আগের চেয়ে বেড়েছে। আগে এই ব্যবধান ৬ পয়েন্ট থাকলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ পয়েন্টে। ২০২৭ বিশ্বকাপের সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের দৌড়ে টিকে থাকতে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—উভয় দলের জন্যই এই ব্যবধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালের ৩১ মার্চ তারিখের র্যাঙ্কিং অনুযায়ী শীর্ষ আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে। স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ইতিমধ্যেই সরাসরি কোয়ালিফাই করে ফেলেছে।
এই হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা যদি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট-এর মধ্যে থাকে, তবে সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার জন্য নয় নম্বর স্থানটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। (যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা শীর্ষ আট-এর কোটা পূরণ করলে সেই জায়গাটি খালি হবে এবং নয় নম্বর দল সরাসরি সুযোগ পাবে)।
র্যাঙ্কিংয়ের নিচের দিকেও কিছু রদবদল হয়েছে। ৫৪ পয়েন্ট নিয়ে জিম্বাবুয়েকে (৫৩) টপকে ১১তম স্থানে উঠে এসেছে আয়ারল্যান্ড। ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে স্কটল্যান্ডকে (৪৪) পেছনে ফেলে ১৩তম স্থানে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া কানাডাকে টপকে ১৯তম স্থানে উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।

নেপালের ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় সম্ভবত সবচাইতে বড় ও রোমাঞ্চকর অধ্যায়টি এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে—হিমালয়ের দেশটিতে পা রাখতে পারে ক্রিকেটের পরাশক্তি ইংল্যান্ড। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ২০২৭-৩১ সালের ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম (এফটিপি) চক্রে নেপালের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নেপালের ক্রিকেটে এক অভূতপূর্ব উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে কোনো আইসিসি পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়েছিল নেপাল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশ পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলতে নেপাল সফরে যায়নি।
আরও পড়ুন
| পাকিস্তানের চ্যালেঞ্জটা কঠিন করে দিচ্ছেন শান্ত-মুমিনুল |
|
মাঠের ক্রিকেটে দুর্দান্ত সব সাফল্যে ডানা মেলা নেপাল ক্রিকেটের পরিমণ্ডল দ্রুতই বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত মার্চে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড ঘোষণা করেছে, তারা নেপাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিএএন) সঙ্গে পাঁচ বছরের একটি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি সই করেছে। এই চুক্তির অধীনে ২০২৬-২৭ সালের শীতকালীন মৌসুমে নেপালে একটি সাদা বলের সিরিজ (ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি) খেলার পরিকল্পনা রয়েছে আইরিশদের।
গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও নেপাল। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালি সমর্থকদের উন্মাদনার মাঝে সেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে শেষ বলে মাত্র ৪ রানে জয় পায় ইংল্যান্ড। মূলত সেই ম্যাচের পর থেকেই নেপাল ক্রিকেটের সম্ভাবনা নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা শুরু হয়।
সেই ম্যাচের পর নেপালের সাবেক অধিনায়ক এবং বর্তমানে ক্যান-এর সম্পাদক পারস খড়কা ভারতে ইসিবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নেপাল ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।
ইসিবি বর্তমানে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে ২০২৭-৩১ সালের এফটিপি চক্রের সূচি নিয়ে কাজ করছে। তবে চূড়ান্ত সূচি নির্ভর করছে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন ফরম্যাট নিয়ে আইসিসি-র সিদ্ধান্তের ওপর। বিশেষ করে, প্রতিটি সিরিজে ন্যূনতম দুটি টেস্ট থাকার নিয়মটি বহাল থাকবে কি না—সেটি একটি বড় বিবেচ্য বিষয়।
ইংল্যান্ডের আন্তর্জাতিক সূচি চরম ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও, ইসিবি নেপালে পুরুষ দলের একটি সংক্ষিপ্ত সফরের কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এই সফরে সম্ভবত দুই বা তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ থাকতে পারে। প্রস্তাবিত এই সফরটি এশিয়ায় ইংল্যান্ডের অন্য কোনো সাদা বলের সিরিজের (যেমন ভারত সফর) আগে যুক্ত করা হতে পারে। এতে ইংল্যান্ডের মূল ভ্রমণসূচিতে মাত্র কয়েকদিন বাড়তি সময় লাগবে, যা আবার প্রস্তুতির জন্যও বেশ কাজে দেবে।

প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাটিংয়ে ব্যর্থ দুই ওপেনার। স্কোরশিটে ২৩ উঠতে মাহামুদুল হাসান জয় (৫)-সাদমান (১০) গেছেন ফিরে। প্রাথমিক দুর্যোগ সামাল দিয়ে পাকিস্তানের ৪র্থ ইনিংসের চ্যালেঞ্জটা ধীরে ধীরে কঠিন করে দিচ্ছে তৃতীয় উইকেট জুটির দুই ব্যাটার মুমিনুল হক-নাজমুল হোসেন শান্ত। ৪র্থ দিনের লাঞ্চ ব্রেকের সময় বাংলােদেশের স্কোর দ্বিতীয় ইনিংসে ৯৩/২। ১২০ রানের লিড নিয়ে লাঞ্চ ব্রেকে গেছেন মুমিনুল-শান্ত। মুমিনুল ৩৭ রানে এবং শান্ত ৩৪ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবালের পর তৃতীয় বাংলাদেশী হিসেবে টেস্টে ৫ হাজার রানের মাইলফলকের খুব কাছে এখন মুমিনুল। আর মাত্র ১৩ রান করতে পারলেই পৌছে যাবেন ৫ হাজারী ক্লাবে।
মিরপুরে ৪র্থ ইনিংসে ২০৯রানের বেশি তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই কারো। মিরপুরে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ২০৯ রানের বেশি কেউ তাড়া করতে পারেনি। ২০১০ সালে ওই রান তাড়া করে জিতেছিল ইংল্যান্ড। ২০০৮ সালে ২০৫ রান তাড়া করে দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছিল ৫ উইকেটে। ২০১৬ সালে ৪র্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ২৭২ রানের টার্গেট দিয়ে ১০৮ রানে এবং ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়াকে ২৬৪ রানের টার্গেট দিয়ে ২০ রানে বাংলাদেশের জয়ের অতীত থেকে টনিক নিতেই পারে শান্ত'র দল।
দিনের প্রথম ঘন্টার কর্তৃত্ব ছিল পাকিস্তানের দুই পেসার মুহাম্মদ আব্বাস-হাসান আলীর। দিনের ১৮তম মিনিটে আব্বাসের হাঁটু সমান উচ্চতার লো বাউন্সি ডেলিভারিতে মাহামুদুল হাসান জয় এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন। রিভিউ আপীলে বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পের ক্লিপ নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ভেসে উঠেছে। আম্পায়ার্স কলে আউটের কষ্ট নিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন জয় (২৬ বলে ৫)। আর এক মিডিয়াম পেসার হাসান আলী প্রথম ওভারেই সফল। তাঁর এক্সট্রা বাউন্স ছেড়ে দিতে চেয়েও পারেননি, গালিতে দিয়েছেন ক্যাচ (২২ বলে ১০)।
দিনের পরের ঘন্টায় উইকেটহীন ৬০ রান যোগ করতে পেরেছে বাংলাদেশ অধিনায়ক শান্ত'র ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে। পাকিস্তান পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির উপর একটু বেশি চড়াও হয়েছেন তিনি। এই পেসারকে মেরেছেন ৪টি বাউন্ডারি। যার মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদিকে মেরেছেন পর পর ২ বলে মিড অফ, মিড উইকেট দিয়ে বাউন্ডারি।

বাঁ-হাঁটুর চোট কাটিয়ে অবশেষে নেটে ব্যাটিং অনুশীলনে ফিরেছেন বাবর আজম। তাতে সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তানের তারকা এই ব্যাটারের খেলার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হলো।
বাঁ-হাঁটুর চোটের কারণে মিরপুর টেস্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন বাবর। পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক দ্রুত সেরে উঠছেন এবং দলের সঙ্গে পুরোদমে অনুশীলন শুরু করেছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘পাকিস্তান অবজারভার’ দলের সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিকের তত্ত্বাবধানে বাবর আজম দীর্ঘসময় ব্যাটিং সেশন করেছেন। এ সময় দলের ফিজিওথেরাপিস্ট এবং ট্রেনার তার শারীরিক অবস্থার ওপর কড়া নজর রাখেন।
অনুশীলন চলাকালীন বাবরের মধ্যে কোনো অস্বস্তি দেখা যায়নি। এমনকি ৩১ বছর বয়সী ব্যাটার উইকেটের মধ্যে দৌড়ানোর (রানিং বিটুইন দ্য উইকেট) ড্রিলগুলোও বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে করেছেন, যা তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার ইতিবাচক ইঙ্গিত।
আরও পড়ুন
| শক্তিশালী দল নিয়ে বাংলাদেশে আসছে অস্ট্রেলিয়া |
|
আগামী ১৬ থেকে ২০ মে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাবরের ইনজুরি খুব একটা গুরুতর ছিল না। মূলত সতর্কতা হিসেবেই প্রথম টেস্টে তাকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। আরও জানা গেছে, বাবর নিজে দল থেকে বাদ পড়ার কোনো অনুরোধ করেননি; এই সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণভাবে ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছিল।
বাবর আজম এখন উড়ন্ত ছন্দে আছেন। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসরে ৫৮৮ রান করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হয়েছিলেন তিনি।