২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০১ পিএম

চলতি বছরের এখনও বাকি ২৯ দিন। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য বছর এরই মধ্যে শেষ হয়ে গেছে। কারণ এই বছরের বাকি দিনগুলোতে আর কোনো খেলা নেই তাদের। আর এই বিদায়ী বছরে নিজেদের সেরা সময়ই কাটিয়েছে বাংলাদেশ।
পরিসংখ্যানের বিচারে, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এত সাফল্যময় বছর আর যায়নি বাংলাদেশ দলের। ম্যাচ জয়ের সংখ্যা কিংবা রানের জোয়ার বা ব্যাটারদের চার-ছক্কার ফুলঝুরি অথবা বোলারদের উইকেট শিকারের উৎসব- সব কিছুতেই আগের যে কোনো বছরকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে সংখ্যার খেলায় বাংলাদেশের ২০২৫
জয়ের রেকর্ড
প্রায় ২০ বছরের টি-টোয়েন্টি অধ্যায়ে ২০২৫ সালেই সবচেয়ে বেশি ৩০ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর আগে ২০২১ সালে তারা খেলেছিল ২৭টি কুড়ি ওভারের ম্যাচ।
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার বছরে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ জেতার রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর তারা জিতেছে ১৫ ম্যাচ। বিপরীতে হেরেছে ১৪টি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ১.০৭১!
২০২৪ সালে ২৪ ম্যাচ খেলে ১২ ম্যাচ জিতেছিল বাংলাদেশ। হেরেছিলও ১২টি। জয়-পরাজয়ের অনুপাত ছিল ১.০০- গত বছরের রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে ২০২৫ সাল।
রানের জোয়ার
সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলায় স্বাভাবিকভাবেই বছরে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশের ২৩ ব্যাটার মিলে খেলেছেন ২৪৩টি ইনিংস। সব মিলে তারা করেছেন ৪ হাজার ২৩৯ রান।
২০২৫ সালে দলীয় ব্যাটিং গড় ২২.১৮ ও স্ট্রাইক রেট ১২৫.৯৭। অন্তত ১৫শ রান করা বছরগুলোর মধ্যে রান, ব্যাটিং গড় ও স্ট্রাইক রেট- সবই সর্বোচ্চ।
বছরে সর্বোচ্চ রান ছিল ২০২৪ সালে। সেবার ২৪ ম্যাচে ২১ ব্যাটার মিলে ২০৬ ইনিংস খেলে করেছিলেন ৩ হাজার ১৮৬ রান। দলীয় ব্যাটিং গড় ছিল বিশের নিচে আর স্ট্রাইক রেট ছিল ১২০-র নিচে।
ফিফটির মেলা
বছরে সর্বোচ্চ ফিফটির রেকর্ডটিও ২০২৫ সালে গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর ২৩ ফিফটির সঙ্গে একটি সেঞ্চুরিও করেছে বাংলাদেশের ব্যাটাররা। তারা ছাড়িয়ে গেছে গত বছর করা ১৪ ফিফটির রেকর্ড।
এই রেকর্ডে সবচেয়ে বড় অবদান তানজিদ হাসান তামিমের। এই বছর ৮টি পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস খেলেছেন বাঁহাতি ওপেনার। এছাড়া অধিনায়ক লিটন কুমার দাসের ফিফটি ৫টি। আরেক বাঁহাতি ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ৩ ফিফটির সঙ্গে করেছেন বছরের একমাত্র সেঞ্চুরি।
চার-ছক্কার ফুলঝুরি
২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যাটাররা মেরেছে মোট ২০৬টি ছক্কা। তারা ভেঙে দিয়েছে গত বছর হাঁকানো ১২২টি ছক্কার রেকর্ড। নির্দিষ্ট পঞ্জিকাবর্ষে অন্তত দুইশ ছক্কা মারা বিশ্বের চতুর্থ দেশ বাংলাদেশ।
তাদের আগে এক বছরে দুইশ বা এর বেশি ছক্কার রেকর্ড আছে শুধু ভারত (২০২২ সালে ২৮৯ ও ২০২৪ সালে ২৩৬), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (২০২৪ সালে ২৪৩, ২০২১ সালে ২১৪ ও ২০২৫ সালে ২১৪) ও পাকিস্তানের (২০২৫ সালে ২৩৫)।
ছক্কার রেকর্ডেও সবচেয়ে বড় অবদান তামিমের। বাঁহাতি ওপেনার ২৭ ইনিংসে মেরেছেন ৪১টি ছক্কা। যা এক বছরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। আরেক ওপেনার ইমনের ব্যাট থেকে এসেছে ৩৪টি ছক্কা।
এক টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ডটিও ২০২৫ সালে গড়েছে বাংলাদেশ। মে মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৯১ রান করার পথে মোট ১৩টি ছক্কা মারে তারা। সেদিন ৯টি ছক্কা মারেন সেঞ্চুরি করা ইমন। যা এক ম্যাচে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কা।
ব্যক্তিগত রানেও জোয়ার
২০২৫ সালে ২৭ ম্যাচ খেলে ৮ ফিফটিতে ৭৭৫ রান করেছেন তামিম। এক বছরে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তিনি ভেঙেছেন ২০২১ সালে মোহাম্মদ নাঈম শেখের গড়া ২৬ ইনিংসে ৫৭৫ রানের রেকর্ড।
চলতি বছরের আগে এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের ব্যাটারদের ৫০০ রান করার ঘটনা ছিল মাত্র তিনটি। নাঈম শেখ ছাড়া ২০২২ সালে ৫৪৪ রান করেছিলেন লিটন কুমার দাস। একই বছর আফিফ হোসেন ধ্রুবর ব্যাট থেকে আসে ৫০০ রান।
আর শুধু ২০২৫ সালেই বাংলাদেশের তিন ব্যাটার পেরিয়েছেন ৫০০ রানের মাইলফলক। তামিম ছাড়াও লিটনের ব্যাট থেকে এসেছে ৬৩৫ রান। আর ইমন করেছেন ৫১৯ রান।
উইকেটের উৎসব
২০২৫ সালে ৩০ ম্যাচে বাংলাদেশের ২৩ বোলার মিলে নিয়েছেন ১৮৮ উইকেট। যা ভেঙে দিয়েছে ২০২১ সালে ২২ ম্যাচে নেওয়া ১৬০ উইকেটের রেকর্ড।
এই বছর বাংলাদেশের সম্মিলিত বোলিং গড় ২৩.২৯ আর ইকোনমি রেট ৭.৮৪ ও স্ট্রাইক রেট মাত্র ১৭.৮!
২০২১ সালে বাংলাদেশের বেশিরভাগ ম্যাচই ছিল মিরপুরের স্পিনসহায়ক উইকেটে। তাই সহজেই বেশি উইকেট নিতে পেরেছিলেন বোলাররা। তবে চলতি বছর মিরপুরে তারা খেলেছে মাত্র ৩টি ম্যাচ। অর্থাৎ তুলনামূলক ভালো উইকেট-কন্ডিশনেও সাফল্য পেয়েছেন রিশাদ হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমানরা।
আবার ওপরে রিশাদ
গত বছর ৩৫ উইকেট নেওয়া রিশাদ হোসেন এবার পেয়েছেন ৩৩ উইকেট। বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে একাধিক পঞ্জিকাবর্ষে ৩০ বা এর বেশি উইকেটের রেকর্ড গড়েছেন তরুণ লেগ স্পিনার।
সব মিলিয়ে বিদায় নেওয়ার পথে থাকা বছরে অন্তত ২০ উইকেট পেয়েছেন বাংলাদেশের পাঁচ বোলার- রিশাদ (৩৩), মোস্তাফিজ (২৬) তাসকিন (২৪), তানজিম হাসান সাকিব (২৩) ও শেখ মেহেদি হাসান (২২)।
এর আগে ২০২১ সালে মিরপুরের স্পিন সহায়ক উইকেটে বেশিরভাগ ম্যাচ খেলা বছরেও অন্তত ২০ উইকেট নিয়েছিলেন বাংলাদেশের পাঁচ বোলার।
তামিমের বিশ্ব রেকর্ড
ব্যাট হাতে বছরজুড়ে আলো ছড়ানো তামিম বছরের শেষ ম্যাচে গড়েছেন ক্যাচের বিশ্ব রেকর্ড। একের পর এক বল তালুবন্দী করে তিনি নিয়েছেন পাঁচটি ক্যাচ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে নন-উইকেটকিপারদের সর্বোচ্চ ক্যাচের রেকর্ড এটিই।
চলতি বছর সব মিলিয়ে মোট ২০টি ক্যাচ নিয়েছেন তামিম। এক বছরে এর চেয়ে বেশি ক্যাচ আছে শুধু আরব আমিরাতের মোহাম্মদ ওয়াসিমের, ২০২৪ সালে ২৪টি।
উইকেটকিপারব্যতীত বাংলাদেশের ফিল্ডাররা ২০২৫ সালে নিয়েছেন মোট ১২০টি ক্যাচ। এবারই প্রথম কোনো নির্দিষ্ট বছরের একশর বেশি ক্যাচ নিয়েছেন তারা। এত দিন সর্বোচ্চ ছিল ২০২৪ সালে নেওয়া ৯৫টি ক্যাচ।
বাদ যায়নি জুটির রেকর্ডও
সব কিছুতে নিজেদের ছাড়িয়ে যাওয়া বছরে পার্টনারশিপেও রেকর্ড গড়েছে বাংলাদেশ। এই বছর খেলা ৩০ ম্যাচে মোট ২৪টি পঞ্চাশোর্ধ্ব রানের জুটি গড়েছে তারা। যা ভেঙে দিয়েছে গত বছর গড়া ১৫টি পঞ্চাশোর্ধ্ব জুটির রেকর্ড।
এছাড়া ২০২৫ সালে বাংলাদেশের শতরানের জুটি দুইটি। গত বছরও তারা মোট দুইটি শতরানের জুটি গড়েছিল।
No posts available.
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম

বিস্ময় শব্দটিকে যেন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মাত্রা দিচ্ছেন বৈভব সূর্যবংশী। অবিশ্বাস ব্যাটিংয়ের নতুন নতুন অধ্যায় যোগ করে তিনি লিখে চলেছেন নিজের গল্প। বাঁহাতি এই কিশোরের উড়ন্ত পথচলায় স্বাভাবিকভাবেই আসছে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার আলোচনা।
তবে এখনই তার আন্তর্জাতিক অভিষেকের পক্ষে নন কার্লোস ব্রাথওয়েট। বরং ক্যারিবিয়ান কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার মতো করে সূর্যবংশীকে গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা।
আইপিএলের গত আসরে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন সূর্যবংশী। সেবার মাত্র ৭ ম্যাচে ২০৬.৫৫ স্ট্রাইক রেটে ২৫২ রান করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালসের এই ওপেনার।
আরও পড়ুন
| আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করার রেকর্ড পাঞ্জাবের |
|
প্রথম আসর হিসেবে অনেকেই সেটিকে ধরে নিয়েছিলেন এক মৌসুমের চমক। তবে সেই ধারাবাহিকতা সূর্যবংশী ধরে রেখেছেন এবারের আইপিএলেও। এরই মধ্যে ৮ ইনিংসে ২৩৪.৮৬ স্ট্রাইক রেটে তিনি করে ফেলেছেন ৩৫৭ রান।
শনিবার রাতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৬ বলে সেঞ্চুরি করেছেন সূর্যবংশী। মাত্র ১৫ বছর বয়সে আইপিএলে তার সেঞ্চুরি এখন ২টি। আর সব মিলিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাঁহাতি ওপেনারের সেঞ্চুরি ৪টি।
মাত্র ২৬ ইনিংসে ৪টি টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি করে সূর্যবংশীই সবচেয়ে দ্রুততম। এত দিন এই রেকর্ডটি ছিল পাকিস্তানের উসমান খানের। প্রথম ৪ সেঞ্চুরি করতে ৩৩ ইনিংস লেগেছিল তার।
দুরন্ত এই ব্যাটিংয়ে এর মধ্যে আলোচনায় এসেছে, আয়ারল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে সুযোগ পেতে পারেন সূর্যবংশী। এর বিপক্ষে নন ব্রাথওয়েট। তবে এখনই অভিষেকের পক্ষে নন তিনি। বরং ব্রায়ান লারার মতোই, জাতীয় দলের সঙ্গে রেখে সূর্যবংশীকে তৈরি করার পরামর্শ ব্রাথওয়েটের।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর আলোচনা অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক অধিনায়ক।
“আমি দুঃখিত, বৈভব। তবে আপনি যদি দেখেন ব্রায়ান লারাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল কীভাবে সামলেছিল। তিনি ছিলেন এক প্রজন্মের সেরা প্রতিভা- এটা সবাই জানত। তারপর তারা তাকে নিয়ে কী করেছিল?”
“তারা তাকে ভিভ রিচার্ডসের মতো সিনিয়রদের সঙ্গে দলে রেখেছিল, তবে তখনই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলায় নামায়নি। তখন সময়টা ভিন্ন ছিল- অনেক ট্যুর ম্যাচ হতো। আন্তর্জাতিক অভিষেকের আগে সে (লারা) সিনিয়রদের সঙ্গে খেলতে খেলতে নিজেকে তৈরি করে নিয়েছিল। এরপর অভিষেকের পর তার ক্যারিয়ার কীভাবে গড়িয়েছে, তা তো আমরা সবাই জানি।”
তাই সূর্যবংশীকেও তারকা ক্রিকেটারদের সঙ্গে রেখে প্রস্তুত করার পরামর্শ ব্রাথওয়েটের।
“তাই হয়তো দুই দিকই মিলিয়ে একটা সেরা পথ হতে পারে। যেখানে তাকে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দলের সঙ্গে রাখা যায়, যেন সে বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, সূর্যকুমার যাদবদের কাছ থেকে শিখতে পারে। তার কাছাকাছি বয়সী তরুণ খেলোয়াড়রাও আছে, যাদের কাছ থেকেও সে শিখতে পারবে, সরাসরি তাকে গভীর জলে ঠেলে দেওয়ার আগে।”

হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

আইপিএলে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফিল্ডিং করার সময় মাথায় মারাত্মক চোট পান দিল্লির দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। মারাত্মক এই চোটের পরপরই মাঠের আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ম্যাচ। দ্রুত মেডিকেল টিম মাঠে প্রবেশ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে পরীক্ষার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় পুসা রোডের ম্যাক্স হাসপাতালে।
ঘটনা পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। অক্ষর প্যাটেলের একটি স্লোয়ার ডেলিভারি মিড-অফের ওপর দিয়ে তুলে মারেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য। বলটি লুফে নিতে এনগিডি পেছনের দিকে দৌড়ান এবং হাত বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে বেশ বাজেভাবে পিঠের ওপর আছড়ে পড়েন এবং মাথা সজোরে মাটিতে আঘাত করে তাঁর।
মাটিতে পড়ার পর এনগিডি বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন, যা সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে স্বস্তির খবর হলো, মেডিকেল টিম যখন তাকে দেখছিল, তখন কিছুটা সাড়া দিচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী প্রোটিয়া পেসার । মাঠে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এনগিডি মাঠ ছাড়ার পর বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে দুশমন্ত চামিরা মাঠে নামেন।
এবারের আইপিএলে নিলামে ২ কোটি টাকায় দলে এনগিডিকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। চলতি মৌসুমে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এনগিডি। ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এই পেসারই ছিলেন দলের সেরা বোলার। আইপিএল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংস, আরসিবি এবং দিল্লির হয়ে মোট ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে ৮.৫৭ ইকোনমি রেটে শিকার করেছেন ৩৬টি উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল ইতিহাসের এক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স উপহার দেয়। কে এল রাহুল মাত্র ৬৭ বলে ১৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাঁর অসাধারণ ইনিংস দিল্লিকে আইপিএলের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৬৪/২-এ পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিতিশ রানার (৪৪ বলে ৯১ রান) সঙ্গে গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা ফ্রাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

টানা তিন ওয়ানডে
সিরিজ জয়—বাংলাদেশ দলের জন্য অসাধারণ অর্জনই বটে। তার পরও কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছে
টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণও বেশ স্পষ্ট—হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ে বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ছিল পেসারদের, কয়েক সিরিজ ধরেই সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না স্পিনাররা।
নিউ জিল্যান্ড
সিরিজেও উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ-শরিফুলরা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ কিপটে বোলিং করলেও
তিন ওয়ানডে মিলে উইকেট পেয়েছেন ৩টি। পুরো সিরিজে বোলিং করেছেন ২৮.৫ ওভার। বোলিং গড়
৪২.৬৬, স্ট্রাইক রেট ৫৭.৬৬। রিশাদ প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডের
একাদশেই জায়গা হারান।
শেষ ম্যাচে
রিশাদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া তানভীরও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১০ ওভারে ৭০ রান
দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তান সিরিজেও মাঝের ওভারে মিরাজ-রিশাদরা ভালো অবদান রাখতে
পারেননি।
নিউ জিল্যান্ডের
বিপক্ষে আগামী পরশু থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং পরামর্শক
মুশতাক আহমেদের আশা, কুড়ি ওভারের সিরিজে স্পিন আক্রমণকেও দেখা যাবে সেরা ছন্দ, ‘আমি
বিশ্বাস করি মাঝের ওভারে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্পিনাররা রান আটকে
দিয়ে উইকেট নিতে পারে, তবে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।’
ওয়ানডে সিরিজের
আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) চার ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি উইকেট পেয়েছিলেন রিশাদ।
প্রত্যেক ম্যাচেই দিয়েছেন ৩৫ কিংবা তার বেশি রান। রিশাদও গা জুড়ানোর সময় নিচ্ছেন না,
নিজেকে আরও শাণিত করতে মুশতাকের বিশেষ ক্লাসে ঘাম ঝরিয়ে চলছেন।
রিশাদের বোলিংয়ে আরো বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং গুগলি আয়ত্ত নেওয়ার দীক্ষা দিচ্ছের মুশতাক,
‘হ্যাঁ, আমরা তার বৈচিত্র্য এবং ক্রিজের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে তার গুগলির জন্য। তার গুগলিটা আরও একটু উন্নত করতে হবে। গুগলির অ্যাঙ্গেল কেমন হবে, ডানহাতি ব্যাটারদের কোন দিকে বল করতে হবে—স্টাম্পের কাছ থেকে নাকি দূর থেকে, সেসব নিয়ে কাজ চলছে।’
মুশতাকের নিজের দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন,
‘আমি সবসময় একটি কথা বলি, একটি শক্তিশালী এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশনের সঙ্গে ক্রিজ ব্যবহার করা একজন লেগ স্পিনারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা কিছুটা খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি যাতে সে কেবল ভালো বল নয়, বরং ভালো ওভার করতে পারে। সে অনেক উন্নতি করেছে।’
ওয়ানডে সিরিজ
জয়ের পর অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, মুশতাক আহমেদের সঙ্গে - সেশনগুলো তাঁর খুব কাজে লেগেছে।
তিনি ভালো বল করছেন, তবে অনেকে মনে করেন তিনি রান আটকে রাখার বোলার। আধুনিক ক্রিকেটে
স্পিনারদের আরও বৈচিত্র্য দরকার। মিরাজ কি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন?
মুশতাকও মনে করেন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ,
‘সে সেটি করে দেখিয়েছে। মাঝের ওভারে সে উইকেট পাচ্ছে। গত ম্যাচে সে লাথামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। মিরাজ উন্নতি করছে। তার কাজ এখন শুধু রান আটকে রাখা নয়। সে তার বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছে এবং এর কৃতিত্ব তার। স্পিন কোচ হিসেবে আমি মনে করি বৈচিত্র্য থাকতেই হবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাটারদের হাত খুব দ্রুত চলে, তাই গতির পরিবর্তন করে তাদের পরাস্ত করতে হয়। ক্রিকেট হলো অ্যাঙ্গেলের খেলা। যদি আপনি ট্যাকটিক্যাল মুভ এবং ফিল্ডিং পজিশন দিয়ে ব্যাটারকে রান করা থেকে আটকাতে পারেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে আপনার জেতার সুযোগ বাড়বে।’

দারুণ
জয়ে পথচলা শুরু করে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে
আর সেই সম্ভাবনার পূর্ণতা দিতে পারলেন না নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তাররা। ঘুরে
দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা।
রাজশাহী
বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭
উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেতে ২১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২১
বল বাকি থাকতে জিতে যায় সফরকারীরা।
এই
জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল লঙ্কান নারীরা। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা
আরও বাড়ল বাংলাদেশের।
টস
জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা (১৭) ও ফারজানা হক পিঙ্কি
(১১)। ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শারমিন আক্তার সুপ্তা (২৫)।
চাপ
সামলে চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। তবে রানের গতি
বাড়াতে পারেননি তারা। ৯০ বলে ৪০ রান করে আউট হন জ্যোতি।
এরপর
একাই দলকে এগিয়ে নেন মোস্তারি। ইনিংসের শেষ বলে আউট
হওয়ার আগে ৮ চারে ৮০ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।
এছাড়া
রিতু মনির ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২০ রান।
শ্রীলঙ্কার
পক্ষে ৩ উইকেট নেন কাভিশা দিলহারি। নিমাশা মাদুশানির
শিকার ২ উইকেট।
রান
তাড়ায় শুরুতেই চামারি আতাপাত্তুর উইকেট নেন মারুফা আক্তার। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রানের
জুটি গড়েন হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি। ওই জুটিতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
৭৬
বলে ৫৬ রান করা দুলানিকে ফিরিয়ে
এই জুটিও ভাঙেন মারুফা। পরে হার্শিতা মাধবীর সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন হাসিনি।
তবে
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি হাসিনি। ১৩ বলে ১৩১ বলে ৯৫ রান করেন লঙ্কান ওপেনার।
আর হার্শিতা অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
ওয়ানডের
লড়াই শেষে এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিলেটে আগামী ২৮ এপ্রিল শুরু
হবে সিরিজ।