
ভারতের বিপক্ষে চলমান ম্যাচের শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের বেশ চাপে রেখেছেন নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। আর তাদের দশে দশ সমর্থন যুগিয়ে ক্যাচের পর ক্যাচ নিয়েছেন ফিল্ডাররা। তাতে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে সবচেয়ে বেশি নিখুঁত ক্যাচের রেকর্ড গড়েছে কিউইরা।
ফিফটির আগেই তিন উইকেট হারানো ভারত শ্রেয়াস আইয়ারের লড়িয়ে ৭৯ রানে ভর করে দাঁড় করায় ৯ উইকেটে ২৪৯। এর মধ্যে আটটি উইকেটই ছিল ক্যাচ। স্রেফ শুবমান গিলই হয়েছেন এলবিডব্লিউয়ের শিকার। পাঁচ উইকেট নেওয়া ম্যাট হেনরির চারটি ছিল ক্যাচ।
আরও পড়ুন
| রোজা রেখেই অনুশীলনে ব্যস্ত ইয়ামাল |
|
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে দারুণ সব ক্যাচ নেওয়া নিউজিল্যান্ড এবারের চাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখন পর্যন্ত ড্রপ করেছে মাত্র একটি ক্যাচ। ফলে তাদের ক্যাচ নেওয়ার হার দাঁড়িয়েছে ৯৬ শতাংশ, যা আসরের সব দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
৮৮.২ শতাংশ নিয়ে তালিকায় দুইয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা, দলটি ফেলেছে দুটি ক্যাচ। তিনে থাকা সমান দুটি ড্রপ ক্যাচে ৮৭.৫ শতাংশ অস্ট্রেলিয়ার, অজিরাও ফেলেছে দুটি ক্যাচ।
এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সম্পম। তিন ম্যাচের দুটি হেরে আসর থেকে বিদায় নেওয়া শান্ত-তাসকিনরা ড্রপ করেছে তিনটি ক্যাচ। ৬৬.৬ শতাংশ ক্যাচ ধরার হার বাংলাদেশের।
No posts available.
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:১৬ পিএম
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
১২ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম

ঢাকা ক্যাপিটালসকে ১৩১ রানে থামিয়ে জয়ের অর্ধেক কাজ করে রেখেছিলেন রিপন মণ্ডল ও আবদুল গাফফার সাকলাইন। ব্যাট হাতে বাকি কাজ সারলেন তানজিদ হাসান তামিম। রাজধানীর ফ্রাঞ্চাইজির বিপক্ষে ৭ উইকেটের এ জয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের (বিপিএল) শীর্ষে এখন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। একই সঙ্গে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে নাজমুল হোসেন শান্তরা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের মুখোমুখির আগে ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট ছিল রাজশাহীর। সমান পয়েন্ট ছিল চট্টগ্রাম রয়্যালস ও সিলেট টাইটান্সের। শ্রেয়তর রান রেটে এগিয়ে থাকায় শীর্ষে ছিল চট্টগ্রাম এবং দুইয়ে সিলেট। দুই ফ্রাঞ্চাইজিকে টপকে এক নম্বরে উঠে এলো রাজশাহী। ৮ ম্যাচে ৬ জয়ে দলটির পয়েন্ট ১২। নেট রান রেট ০.৩৬৭।
রাজশাহীর এই জয়ে শীর্ষে থাকা তিন দলের প্লে-অফ অনেকটা নিশ্চিত! রাজশাহীর হাতে অবশিষ্ট দুই ম্যাচ। দুইয়ে থাকা চট্টগ্রামের তিনটি ম্যাচ এবং একটি ম্যাচ বাকি সিলেটের। রংপুর রাইডার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস ও নোয়াখালী এক্সপ্রেসের দুটি করে ম্যাচ বাকি।
পয়েন্টে অনেক পিছিয়ে ঢাকা ক্যাপিটালস ও বিপিএলে প্রথমবার অংশ নেওয়া নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দুই দলের পয়েন্ট ৪। এক্ষেত্রে শেষ চার নিশ্চিত করতে পরের দুই ম্যাচে নূন্যতম একটিতে জিততে হবে রংপুরকে। তাতে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের পয়েন্ট দাঁড়াবে ১০। থাকবে না শঙ্কা।
এদিন টস জিতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩১ রান করে ঢাকা। শেষ ওভারেই আসল ভেলকি দেখান রিপন মণ্ডল। শেষ তিন বলে তিন উইকেট তুলে নেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই পেসার। চলতি বিপিএলে এর আগে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছিলেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদি হাসান রানা (সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে) ও রংপুর রাইডার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে)। সব মিলিয়ে বিপিএল ইতিহাসে ১১তম হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন৷
১৯তম ওভারের চতুর্থ বলে সাব্বির রহমানকে ফেরান রিপন। পরের বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান শরিফি। আর হ্যাটট্রিক বল ফেরাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। তাঁকে বোল্ড করে আনন্দে মাতেন রিপন।
কোটার ৪ ওভারে ৩০ রান খরচায় তিন উইকেট নেন রিপন। যদিও রাজশাহীর সর্বোচ্চ উইকেট সাকলাইনের। এই ফার্স্ট বোলার ৪ ওভারে ২৪ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। স্পিনার রুবেল হোসেন নেন দুটি উইকেট।
আগে ব্যাটিং করা ঢাকার শুরুটা ছিল আশাজাগানীয়া। আব্দুল্লাহ আল মামুনকে নিয়ে উসমান খান বেশ দাপটের সঙ্গেই রাজশাহীর বোলারদের মোকাবিলা করেন। তবে দলীয় ৫৪ রানে দলকে বিপদে ফেলেন উসমান। ব্যক্তিগত ৪১ রানে ফেরেন তিনি। সাকলাইনের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার ব্যাটার।
প্রথম উইকেট পতনের পর মাত্র ৬ রান যোগ হতেই আরও দুই ব্যাটারকে হারায় ঢাকা। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ও অলরাউন্ডার নাসির হোসেনদের চেষ্টা ছিল বৈকি, তবে ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং বিড়ম্বনা বাড়িয়েছে বেশ। মিঠুন ১৬ বলে ১৩ রান করে ফেরেন। নাসিরের রান ছিল ২৭ বলে ২৪। শেষ দিকে রিপন একাই তোপ দাগান। সর্বোপরি ১৩১ রানে থামতে হয় ঢাকাকে।
টেবিল টপারের মিশনে রান তাড়ায় রাজশাহীর হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন মোহাম্মদ ওয়াসিম ও তানজিদ হাসান। উদ্বোধনী জুটি ৩৮ রানে ভাঙলেও মনোবল ভাঙেনি তানজিদ হাসানের। ২০২৫-২৬ বিপিএলে তুলে নেন নিজের প্রথম অর্ধশতক। এর আগে সর্বোচ্চ ২৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের এই ওপেনার।
ওয়ান ম্যান আর্মি শো ছিল তানজিদের। চার-ছক্কার পসরা সাজান বাঁ-হাতি এই ব্যাটার। ইমাদ ওয়াসিমের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার ৪৩ বলে করেন ৭৬ রান। ১৭৬ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালান তিনি। ছিল ৭টি চার এবং ৫টি বাউন্ডারি।
তানজিদ ফেরার পর অসুবিধায় পড়তে হয়নি রাজশাহীকে। সুন্দর ইতি টেনে দেন মুশফিকুর রহিম ও জিমি নিশাম। বাংলাদেশি উইকেটকিপার ব্যাটার ১২ রান এবং অস্ট্রেলিয়ান পেস অলরাউন্ডার ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ঢাকার হয়ে ইমাদ, সাইফ হাসান ও নাসির একটি করে উইকেট নেন।

চলতি বিপিএলে তৃতীয় বোলার হিসেবে হ্যাটট্রিকের স্বাদ পেলেন রিপন মন্ডল। ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সিলেট পর্বের শেষ ম্যাচে ক্রিকেটের কঠিন এই কীর্তিতে নাম লেখালেন রাজশাহী ওয়ারয়ির্সের তরুণ পেসার।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ১৯ ওভারে ৭ উইকেটে ১২৮ রান করে ঢাকা। শেষ ওভারে বল করতে আসেন প্রথম ৩ ওভারে ২৮ রান দেওয়া রিপন। ওভারের প্রথম তিন বলে মাত্র ৩ রান দেন ছন্দে থাকা পেসার।
পরে চতুর্থ বলে বড় শটের খোঁজে ক্যাচ আউট হয়ে যান সাব্বির রহমান। পরের বলে জিমি নিশামের হাতে ক্যাচ দেন জিয়াউর রহমান শরিফি। আর হ্যাটট্রিক বল ফেরাতে পারেননি তাইজুল ইসলাম। তাকে বোল্ড করে আনন্দে মাতেন রিপন।
চলতি বিপিএলে তার আগে হ্যাটট্রিকের দেখা পান নোয়াখালী এক্সপ্রেসের মেহেদি হাসান রানা (সিলেট টাইটান্সের বিপক্ষে) ও রংপুর রাইডার্সের মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে)।
সব মিলিয়ে বিপিএল ইতিহাসে ১১তম হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন৷ তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ১০ জন বোলার। একমাত্র বোলার হিসেবে দুটি হ্যাটট্রিক করেছেন মৃত্যুঞ্জয়। এর আগে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে ২০২২ সালের বিপিএলে প্রথম হ্যাটট্রিক করেন তিনি।
এছাড়া স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতেও বাংলাদেশের বোলারদের ১১তম হ্যাটট্রিক এটি। তবে এই ১১টি হ্যাটট্রিক করেছেন মোট ৯ জন বোলার। মৃত্যুঞ্জয় ছাড়াও আল আমিন হোসেনের আছে দুইটি হ্যাটট্রিকের কীর্তি।
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশি বোলারদের হ্যাটট্রিক তালিকা
১/ আলআমিন হোসেন (বিসিবি একাদশ) - প্রতিপক্ষ আবাহনী লিমিটেড (২০১৩)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ মানিক খান (প্রাইম দোলেশ্বর) - প্রতিপক্ষ বিকেএসপি (২০১৯)
৫/ কামরুল ইসলাম রাব্বি (ফরচুন বরিশাল) - প্রতিপক্ষ মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী (২০২০)
৬/ আলাউদ্দিন বাবু (ব্রাদার্স ইউনিয়ন) - প্রতিপক্ষ লেজেন্ডস অব রুপগঞ্জ (২০২১)
৭/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স)- প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৮/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
৯/ মেহেদি হাসান রানা (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) - প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স (২০২৫)
১০/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (রংপুর রাইডার্স) - প্রতিপক্ষ নোয়াখালী এক্সপ্রেস (২০২৬)
১১/ রিপন মন্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস (২০২৬)
বিপিএলে হ্যাটট্রিক তালিকা
১/ মোহাম্মদ সামি (দুরন্ত রাজশাহী) - প্রতিপক্ষ ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস (২০১২)
২/ আলআমিন হোসেন (বরিশাল বুলস) - প্রতিপক্ষ সিলেট সুপারস্টারস (২০১৫)
৩/ আলিস আল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ রংপুর রাইডার্স (২০১৯)
৪/ ওয়াহাব রিয়াজ (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস) - প্রতিপক্ষ খুলনা টাইটানস (২০১৯)
৫/ আন্দ্রে রাসেল (ঢাকা ডায়নামাইটস) - প্রতিপক্ষ চিটাগং ভাইকিংস (২০১৯)
৬/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স) - প্রতিপক্ষ সিলেট সানরাইজার্স (২০২২)
৭/ শরিফুল ইসলাম (দুর্দান্ত ঢাকা) - প্রতিপক্ষ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (২০২৪)
৮/ মঈন আলি (কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স) - প্রতিপক্ষ চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স (২০২৪)
৯/ মেহেদি হাসান রানা (নোয়াখালী এক্সপ্রেস) - প্রতিপক্ষ সিলেট টাইটান্স (২০২৫)
১০/ মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুন (রংপুর রাইডার্স) - প্রতিপক্ষ নোয়াখালী এক্সপ্রেস (২০২৬)
১১/ রিপন মন্ডল (রাজশাহী ওয়ারিয়র্স) - প্রতিপক্ষ ঢাকা ক্যাপিটালস (২০২৬)

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাঈদ আজমল। তাঁর দাবি, বর্তমান কাঠামোয় আইসিসির আর কোনো বাস্তব গুরুত্ব নেই।
করাচিতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আজমল আইসিসির ভূমিকা ও নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) প্রভাবের কারণে আইসিসি নিরপেক্ষ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। বর্তমানে আইসিসির চেয়ারম্যান সাবেক বিসিসিআই সভাপতি জয় শাহ।
সাঈদ আজমল বলেন, ‘যদি আইসিসি ভারতীয় বোর্ডের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারে, তাহলে এই সংস্থার অস্তিত্বেরই কোনো প্রয়োজন নেই।’ তাঁর ভাষায়, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের কারণে আইসিসি পক্ষপাতহীনভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে কাজ করতে পারছে না।’
আজমল আরও দাবি করেন, অনেক টেস্ট খেলুড়ে দেশ তার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেও প্রকাশ্যে তা বলতে সাহস পায় না।
নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে ভারত ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে পাকিস্তানে খেলতে অস্বীকৃতি জানায়। সে সময় আইসিসি ভারতের অনুরোধ মেনে দলটিকে দুবাইয়ে রেখে বাকি দলগুলোকে পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে যাতায়াত করতে বাধ্য করে।
এ প্রসঙ্গে আজমল বলেন, ‘ভারতের পাকিস্তানে না খেলার পেছনে কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। তবে আইসিসি ভারতীয়দের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তারা কিছু করতে পারছে না।’
ভারতের সেই সিদ্ধান্তের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানও ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতে খেলতে না যাওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে একই টুর্নামেন্টে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশও ভারতে খেলতে অনীহা প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আইসিসির কাছে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের আবেদন করেছে। তবে আইসিসি সেই অনুরোধে সাড়া দেবে কি না, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।

ধীরগতির ব্যাটিংয়ের কারণে বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) বিরল ও বিব্রতকর ঘটনার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানের তারকা ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান। মেলবোর্ন রেনেগেডসের হয়ে খেলতে নেমে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে ম্যাচে তাঁকে ‘রিটায়ার্ড আউট’ করে মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
আজ বিগ ব্যাশে সিডনি থান্ডারের বিপক্ষে রেনেগেডসের ইনিংসের ১৮তম ওভারে এই ঘটনা ঘটে। তখন দলের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ১৫৪ রান। রিজওয়ান ২৩ বলে ২৬ রান করে ব্যাট করছিলেন। তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। স্ট্রাইক রেট ছিল ১১৩।
ম্যাচ চলাকালে ধারাভাষ্যকাররাও মন্তব্য করেন, রিজওয়ানকে আরও আগেই রিটায়ার্ড আউট করা হলে রেনেগেডস ভালো অবস্থানে যেতে পারত। ধীরগতির ব্যাটিংয়ে দল চাপের মুখে পড়ে বলে মনে করা হয়। শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক উইল সাদারল্যান্ড তাকে মাঠ ছাড়ার ইঙ্গিত দেন এবং তিনি ড্রেসিংরুমে ফিরে যান। এর মাধ্যমে বিবিএলের ইতিহাসে প্রথম বিদেশি ব্যাটার হিসেবে রিটায়ার্ড আউট হলেন রিজওয়ান।
রিজওয়ানের বিদায়ের পরও রেনেগেডস বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে দলটির রান দাঁড়ায় ৮ উইকেটে ১৭০। পরে বৃষ্টির কারণে ম্যাচটি ১৬ ওভারে নামিয়ে আনা হয় এবং সিডনি থান্ডারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয় ১৪০ রান। থাণ্ডার ১৫.২ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে।
এটি ছিল রিজওয়ানের প্রথম বিগ ব্যাশ লিগ মৌসুম। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই রান তুলতে ভুগছেন পাকিস্তানের এই উইকেটকিপার-ব্যাটার। এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে তার সংগ্রহ মাত্র ১৬৭ রান, স্ট্রাইক রেট ১০০–এর সামান্য বেশি।
এই ঘটনার মাধ্যমে চলতি বিবিএলে দ্বিতীয়বারের মতো কোনো ব্যাটারকে রিটায়ার্ড আউট করা হলো, যা টি–টোয়েন্টি ক্রিকেটে দলীয় কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ব্যাপারে নিজেদের অবস্থানে অনড় বাংলাদেশ। এর মধ্যেই আইসিসির কাছ থেকে এসেছে তিনটি প্রস্তাব। এর মধ্যে আছে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া। তবে এই প্রস্তাবে একদমই রাজি নয় বাংলাদেশ।
সোমবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবন পরিদর্শনে যান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সেখানে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে সবশেষ তথ্য জানান তিনি।
“ক্রিকেটের ক্ষেত্রে কোনো ডেভেলপমেন্ট নাই। আমরা দুইটা চিঠি দিয়েছি, চিঠি দেওয়ার পর আমরা আইসিসির যে উত্তর সেটার প্রত্যাশা করছি।”
এসময় আইসিসির কাছ থেকে তিনটি প্রস্তাব পাওয়া চিঠির কথা বলেন আসিফ নজরুল।
“এর মধ্যে একটা জিনিস ঘটেছে আপনাদের আমার জানানো প্রয়োজন। সেটা হচ্ছে আইসিসির যে সিকিউরিটি টিম আছে, তারা একটা চিঠি দিয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে তিনটা জিনিস হলে বাংলাদেশ টিমের নিরাপত্তা আশঙ্কা বাড়বে।”
“১. বাংলাদেশ টিমে যদি মুস্তাফিজ অন্তর্ভুক্ত হয়। ২. বাংলাদেশ দলের যে সমর্থকরা আছেন তারা যদি বাংলাদেশের জার্সি পরে ঘোরাফেরা করে। ৩. ইলেকশন যত এগিয়ে আসবে তত নাকি বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।”
আইসিসির এই প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ার কথাও জোর দিয়ে বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
“আইসিসি সিকিউরিটি টিমের এই বক্তব্য সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করেছে যে ভারতে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলার কোনো রকম পরিস্থিতি নাই। আইসিসি যদি আশা করে আমরা আমাদের শ্রেষ্ঠ বোলারকে বাদ দিয়ে আমরা ক্রিকেট টিম করব, আমাদের যারা সমর্থক আছে তারা বাংলাদেশের জার্সি পরতে পারবে না, আর আমরা ক্রিকেট খেলার জন্য বাংলাদেশের নির্বাচন পিছিয়ে দেব- এর চেয়ে উদ্ভট, অবাস্তব ও অযৌক্তিক কোনো প্রত্যাশা হতে পারে না।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বাংলাদেশকে কলকাতার বদলে চেন্নাই ও কেরালায় খেলারও প্রস্তাব দিয়েছে আইসিসি। এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে আসিফ নজরুল জানান, কোনোভাবেই এটি সম্ভব নয়।
“তারা (আইসিসি) শ্রীলঙ্কায় দেবে না, দুইটা ভেন্যু চেঞ্জ করে কেরালা এবং... (চেন্নাই)। দুইটা ভেন্যুই তো ভারতে! ইন্ডিয়া মানে তো ইন্ডিয়াই। আমরা ইন্ডিয়ার কথা বলছি, আমরা তো কলকাতা বলি নাই। আমাদের বক্তব্য যদি আপনার কলকাতা থেকে চেঞ্জ করে অন্য ভেন্যুতে দেওয়া যায়, শ্রীলঙ্কায় দেওয়া যাক সমস্যা না।”
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি বলেছেন, প্রয়োজনে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো তারাও আয়োজন করতে পারবে। এর প্রেক্ষিতে আসিফ নজরুল জানান, ভারত ছাড়া যে কোনো মাঠেই খেলতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
“আমি পত্রিকায় দেখলাম আমি জানি না সত্যি নাকি মিথ্যা, পাকিস্তান নাকি আমাদের ম্যাচগুলো আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে। পাকিস্তানে করেন কোনো সমস্যা না, সংযুক্ত আরব আমিরাতে করেন কোনো সমস্যা না। কিন্তু যেখানে আমাদের দলের একটা প্লেয়ারকে খেলার পরিবেশ নাই, এই উগ্র সাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা নত করে ভারতের জাতীয় ক্রিকেট বোর্ড, ন্যাশনাল একটা অথরিটি- তারা যখন বলে তাকে এখানে খেলানো না হোক, এর চেয়ে বড় প্রমাণ আর কী আছে আইসিসির সামনে আমি বুঝলাম না।”
“আর আইসিসি সিকিউরিটি টিমের যে চিঠি আছে এটার তো একটা সময় চিঠির কপি আপনাদেরকে দিয়ে দেব। এটা তো সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে আমাদের ওখানে খেলার পরিবেশ নাই। ভারতের কোনো জায়গাতেই খেলার পরিবেশ নাই। ধন্যবাদ।”