
সিলেট পর্ব শেষ হওয়ার পর অধিনায়কত্বে পরিবর্তন আনল রংপুর রাইডার্স। বিপিএলের ঢাকা পর্বে দলকে নেতৃত্ব দেবেন জাতীয় দলের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধান কোচ মিকি আর্থার।
গত কয়েক মৌসুম ধরে রংপুর রাইডার্সের নেতৃত্বে ছিলেন নুরুল হাসান সোহান। তার অধিনায়কত্বে গত আসরেও প্লে-অফ খেলার কৃতিত্ব দেখিয়েছে বিপিএলের ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নরা। চলতি বিপিএলেও সেরা চারে ওঠার পথেই আছে তারা।
তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে খুব একটা সুবিধাজনক অবস্থায় নেই সোহান। এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচের ৬ ইনিংসে মাত্র ৯০.৯০ স্ট্রাইক রেটে ৩০ রান করেছেন অভিজ্ঞ উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
রংপুরের কোচ মিকি আর্থার জানিয়েছেন, নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্যই অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সোহান। নতুন অধিনায়ক হিসেবে লিটনকে বেছে নেওয়ার ব্যাখ্যাও দেন আর্থার।
“লিটন যেহেতু জাতীয় দলের অধিনায়ক, এটা তাই খুবই সহজ ছিল। লিটন যেভাবে ক্রিকেটটা এপ্রোচ করে আমার খুব ভালো লাগে। সে খুব এগ্রেসিভ। তার মাইন্ডসেট দারুণ। দলের নেতা সে, সবাই তাকে ফলো করে, শ্রদ্ধা করে।”
এসময় আর্থারের পাশেই ছিলেন লিটন। সামনে বিশ্বকাপ থাকলেও আপাতত রংপুরকে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানান বাংলাদেশ জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক।
“এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের চিন্তা মাথায় নেই। যেহেতু একটা ফ্র্যাঞ্চাইজি হয়ে খেলতেছি, সম্পূর্ণ ডেডিকেশন এখানে আমার ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্যই থাকবে। তারা যখন এই জিনিস চেয়েছে আমি অবশ্যই... ফ্র্যাঞ্চাইজি যখন এই জিনিসটা আপনার কাছে চায়, ক্রিকেটার হিসেবে আমার দায়িত্ব এটা গ্রহণ করার জন্য... আমি মনে হয় সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।”
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে খেলবে রংপুর। এখন পর্যন্ত ৮ ম্যাচে ৪ জয় নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের চার নম্বরে আছে তারা। আর একটি ম্যাচ জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে প্লে-অফ।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১০ পিএম
শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেও ফায়দা পেলেন না ফখর জামান। বহাল রইল তার নিষেধাজ্ঞা। তাই পরের দুই ম্যাচে বাঁহাতি ওপেনারকে পাবেন না মোস্তাফিজুর রহমান, পারভেজ হোসেন ইমনরা।
পাকিস্তানের সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচে বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের দায়ে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ফখর। ম্যাচ রেফারি রোশান মহানামার এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন লাহোর কালান্দার্সের ওপেনার।
আপিলের ফল পক্ষে পাননি ফখর। পিএসএলের নীতি অনুযায়ী, লেভেল থ্রি অপরাধ করায় সর্বোচ্চ শাস্তি- দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাই বহাল থাকছে ফখরের।
ঘটনা গত রোববার করাচি কিংসের বিপক্ষে ম্যাচে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য করাচির প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। শেষ ওভারটি করতে আসেন হারিস রউফ। তখন তার কাছেই ছিলেন অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ও ফখর।
তিন জনের ছোট্ট আলোচনা শেষে বোলিং মার্কে প্রস্তুত হন হারিস। তখন তার হাত থেকে বল নিয়ে নেন আম্পায়ার ফয়সাল আফ্রিদি। পরে আরেক আম্পায়ার শরফুদৌল্লাহ ইবনে শহীদ সৈকতের সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা করেন তিনি।
এসময় দুই আম্পায়ার মিলে সিদ্ধান্ত নেন, বলের কন্ডিশন পরিবর্তন করা হয়েছে। তাই ৫ রান পেনাল্টি করা হয় লাহোরকে। করাচির সমীকরণ নেমে আসে ৬ বলে ৯ রানে। যা সহজেই পূরণ করে ফেলে করাচি কিংস।
ম্যাচ শেষে জানা যায়, বলের কন্ডিশন পরিবর্তনের অভিযোগ মূলত ফখরের বিরুদ্ধে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ম্যাচ রেফারি রোশান সিদ্ধান্ত নেন, এটি লেভেল থ্রি অপরাধ। তাই দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় বাঁহাতি ওপেনারকে।
পিএসএলের নিয়ম অনুযায়ী, ক্রিকেটাররা চাইলে ম্যাচ রেফারির শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করেন। ফখর সেই সুযোগ কাজে লাগালে প্রফেসর জাভেদ মালিক, ড. মুমরাইজ নকশবন্দ ও সৈয়দ আলি নাকির টেকনিক্যাল কমিটি এটি পর্যালোচনা করেন।
সেখানেও ফখর দোষী সাব্যস্ত হন। তাই শাস্তি বাতিল হয়নি বা শাস্তির মাত্রাও কমেনি। শুক্রবার মুলতান সুলতান্স ও আগামী বৃহস্পতিবা ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে খেলা হবে না মোস্তাফিজদের দলের অভিজ্ঞ এই ওপেনারের।

উইকেট না পেলেও নিজের প্রথম দুই ওভার দারুণই করলেন রিশাদ হোসেন। দলকে প্রায়ই ব্রেকথ্রু এনে দেওয়া বাংলাদেশি লেগ স্পিনার পরের দুই ওভারেও উইকেট পেলেন না, উল্টো অনেক বেশি রানই হজম করতে হলো তাকে। রিশাদের খরুচে দিনে হেরেছে তাঁর দল রাওয়ালপিন্ডিজও।
পিএসএল আজ কিংসের কাছে ৫ উইকেটে হেরেছে রিশাদ হোসেনদের রাওয়ালপিন্ডিজ। ৪ ওভারে ৩৮ রান খরচায় উইকেটের দেখা পাননি রিশাদ। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হারলো রাওয়ালপিন্ডিজ।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডিজ ৬ উইকেটে ১৯৭ রান করে। ফিফটি করেন ড্যারিল মিচেল ও স্যাম বিলিংস। রান তাড়ায় পাঁচ উইকেট ও ৪ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে করাচি। ডেভিড ওয়ার্নারের ফিফটির সঙ্গে আজম খানের ৩৪ বলে ৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে হেসেখেলেই জয় তুলে নেয় করাচি।
ডেভিড ওয়ার্নার এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওপেনিং জুটিতে ২৭ রান তোলে করাচি কিংস। ১১ বলে ২৩ রান করে সাজঘরে ফিরে যান ওয়াসিম। তিনে নামা সালমান আলী আগার ব্যাট থেকে আসে ২৪ বলে ২৯।
তৃতীয় উইকেটে ওয়ার্নার-আজম খানের জুটিতেই মূলত ম্যাচ জয়ের ভিত পেয়ে যায় করাচি। তাদের ৪১ বলে ৭৬ রানের জুটিতে ছেদ ঘটে ৩৬ বলে ফিফটি করা ওয়ার্নার আউট হলে। এরপর বাকি কাজ আজম খান একাই করেন।
রিশাদ বোলিংয়ে আসেন দলীয় ৮ম ওভারে। ওই ওভারে কোনো বাউন্ডারি হজম না করে ৬ রান দেন তিনি। পরের ওভারে একটি প্রথম বলেই চার মারেন ওয়ার্নার। তবে ওভারের শেষ তিন বল ডট দিয়ে সেটা উশুল করেন রিশাদ।
তৃতীয় ওভারের রিশাদ খরচ করেন ১০ রান। শেষ ওভারে লাইন-লেংথ হারিয়ে ১৪ রান হজম করেন তিনি। চতুর্থ ডেলিভারিতে লং অন দিয়ে তাকে ছক্কা হাঁকান আজম, আর শেষ বলে চার মারেন ওয়ার্নার।
রিশাদের গড়পড়তার দিনে রাওয়াপিন্ডিজের সব বোলারই ছিলেন খরুচে। ৩.২ ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট নেওয়া ড্যারিল মিচেল ছিলেন সবচেয়ে সফল। ১ উইকেট শিকার মোহাম্মদ আমির ও নাসিম শাহের।
এর আগে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নামা রাওয়ালপিন্ডিজ ৫৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন মিচেল ও বিলিংস। ৫ চার ও ৩ ছক্কা ৪১ বলে ৬৫ করেন মিচেল। চতুর্থ উইকেটে কিউই ব্যাটারের সঙ্গে ১২০ রানের জুটি গড়া বিলিংস ৮ চার ১ ছয়ে করেন ৩৫ বলে ৫৮।

জাতীয় দলে নতুন দুই কোচ নিয়োগ দিলো শ্রীলঙ্কা। রায়ান ফন নিইকার্ককে বোলিং এবং জর্ডান গ্রেগরিকে ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রায়ান ফন নিইকার্ক এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের বোলিং কোচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ডাচদের পারফরম্যান্সে ছিল দারুণ। নিইকার্ক দায়িত্বথাকালীন তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সব বিভাগের ফাস্ট বোলিং কার্যক্রম তদারকি করবেন তিনি।
জর্ডান গ্রেগরিকে জাতীয় ফিল্ডিং ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলটির বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুই কোচ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসারের বাদ পড়ার তিন মাস পর মুখ খুললেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়ায় কেকেআর। তবে ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধুমাল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন,
“আমি শুধু এটুকুই বলব, এটি দুঃখজনক। এর বাইরে আমার খুব বেশি ধারণা নেই।”
ধুমাল আরও বলেন,
“এটি দুঃখজনক। কখনও কখনও বিষয়গুলো এইভাবেই ঘটে। ক্রিকেটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। সাধারণভাবে সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করে। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে কিছু ঘটনা ঘটে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে স্বাভাবিক যুক্তি ও বিবেচনা কাজ করবে এবং এরকম পরিস্থিতি আর হবে না।”
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রতিবাদ জানায়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বিসিবি। নিরাপত্তা বিষয়টি সামনে এনে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করবে তখনই, যদি ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ প্রত্যাখান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলছেন খেলছেন মোস্তাফিজ। ৬.৪৪ কোটি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন তিনি। এখন পর্যন্ত পিএসএলে দুটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার। নিয়েছেন দুটি উইকেট। সঙ্গে দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ৪.৮৭।

আইপিএলে খেলার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) না দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দলটির পেসার নুয়ান থুশারা। এনওসি না মেলায় কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এবারের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলার কথা ছিল থুশারার। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় বোর্ড তাঁকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এই পেসার।
থুশারার অভিযোগ, গত দুই আইপিএল মৌসুমে একই ধরনের ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এবার তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে না, তারপরও একই ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি আটকে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোডালিয়াড্ডা এবং সিইও অ্যাশলে ডি সিলভাকে বিবাদী করেছেন থুশারা। কলম্বো জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় থুশারাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। পাঁচটি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্টের মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট—বিদেশি লিগে খেলতে হলে এই ফিটনেস পরীক্ষা পাস করাই বাধ্যতামূলক।
তবে থুশারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, ক্যারিয়ারজুড়েই তার ফিটনেস একই রকম রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ আইপিএল মৌসুমে কোনো ফিটনেস ইস্যু না তুলেই তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার এসএলসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি সেটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগেই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, এসএলসির কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তার জায়গা নেই—এমন অবস্থায় ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি না দেওয়া তার কাছে পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
থুশারা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাকে এনওসি পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করেছেন, যাতে এসএলসি-কে অবিলম্বে সনদটি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে চলতি মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে যোগ দিতে পারেন তিনি।
থুশারার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনওসি না পেলে আরসিবি বাধ্য হবে ৩১ বছর বয়সী এই পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে। ফলে তিনি শুধু চলতি আইপিএলের পারিশ্রমিকই হারাবেন না, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইপিএলই এখন তার আয়ের প্রধান উৎস।
আইপিএলে থুশারা এখন পর্যন্ত দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০২৪ মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। আর আরসিবির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। গত মৌসুমে—যেখানে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট।