
চলতি বিপিএলে ভালো কয়েকটি ইনিংস খেললেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা সমালোচনাও পেতে হয়েছে। তনে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে নাঈম শেখ উপহার দিলেন মারকুটে ব্যাটিংই। তার ফিফটির সাথে শেষের দিকে আফিফ-অঙ্কনদের দুটি ক্যামিওতে খুলনা টাইগার্স পেল চ্যালেঞ্জ জানানো এক স্কোর। দাভিদ মালানের ফিফটির পরও এক পর্যায়ে হারের শঙ্কা জাগল বরিশাল শিবিরে। তবে কঠিন ম্যাচ সহজ করে শেষ হাসি হাসল তামিম ইকবালের দলই।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৩৫তম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৫ উইকেটে। আগে ব্যাট করা খুলনার করা ৫ উইকেটে ১৮৭ রান বরিশাল পাড়ি দিয়েছে ৫ বল হাতে রেখেই।
বড় রান তাড়ায় বরিশালের চাওয়া ছিল ভালো একটা সূচনা। তবে গত কয়েক ম্যাচ ধরে ওপেনার হিসেবে খেলা তাওহীদ হৃদয় আরও একবার ব্যর্থ হন নতুন ভূমিকায় সফল হতে। আবু হায়দার রনিকে ছক্কা মেরে পরের বলেই পড়েন লেগ বিফোরের ফাঁদে। তামিম ইকবাল কিছুটা ধীরলয়ে শুরু করলেও ক্রিজে গিয়েই দুই বাউন্ডারিতে ইতিবাচক ব্যাটিং করেন দাভিদ মালান।
এরপর আবু হায়দার ও হাসান মাহমুদের দুই ওভারে হাঁকান তিনটি চার ও একটি ছক্কা, যা অনেকটাই চাপ কমিয়ে দেয় তামিমের ওপর। বরিশাল অধিনায়কের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পরও তাই পাওয়ার প্লেতে দলীয় ফিফটি হয়ে যায় দলটির।
খুলনার পেস ও স্পিন আক্রমণকে একই তালে সামলানো মালান ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন বড় কিছু শটের মাধ্যমে। রানের চাকাও তাতে বেড়ে যাচ্ছিল বেশ। সালমান ইরশাদের শর্ট পিচ ডেলিভারিতে তামিম পারেননি টাইমিং করতে, ২৭ রানেই থামে তার পথচলা।
নাসুম আহমেদকে ছক্কা মেরে মুশফিকুর রহিম আভাস দেন ছন্দে ফেরার। তবে ঠিক এরপরই খুলনাকে বড় ব্রেকথ্রুটা এনে দেন আফিফ হোসেন। তার অফ স্পিনে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় ৩৭ বলে ৬৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা মালানকে।
ম্যাচ যখন খুলনার দিকে কিছুটা ঝুঁকে যাচ্ছিল, তখনই মোহাম্মদ নাওয়াজকে দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে পরের ওভারে তিনি রান আউট হওয়ার পর সাজঘরের পথ ধরতে হয় ২ ছক্কায় ২৭ করা মুশফিকুরকেও। আবু হায়দারকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে চার মারার পর লং অফ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ফাহিম দলকে ধরে রাখেন জয়ের লড়াইয়ে।
চাপের মুখে ১৮তম ওভারটা ভালো করলেও শেষ ডেলিভারিতে নবির হাতে ছক্কা হজম করে খুলনাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন হাসান। এরপর দ্রুতই বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারেন ফাহিম ও নবি মিলেই।
এর আগে দুপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার নাঈম শেখ ইনিংসের প্রথম ওভারেই জেমস ফুলারকে ওড়ান ছক্কায়। শুরুতে কিছুটা জড়তা ছিল মিরাজের ব্যাটে, তবে ঘুরে দাঁড়ান মোহাম্মদ নবিকে পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে। পরের ওভারে চড়াও হন আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া ফাহিম আশরাফের ওপর। হাঁকান টানা দুই ছক্কা।
শেষ পর্যন্ত মিরাজের বিদায় ঘটে ইবাদত হোসেনের শিকার হয়ে। চোট কাটিয়ে লম্বা বিরতির পর বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে বোল্ড করেন ১৯ বলে ২৮ করা মিরাজকে। তবে একই ওভারে টানা দুই বাউন্ডারিতে তাকে চাপেফ ফেলে দেন নাঈম।
তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ইতিবাচক ব্যাটিং উপহার দেন অ্যালেক্স রস। অস্ত্রেলিয়ান এই ব্যাটার তানভির ইসলামের তিন বলে দুই চার ও এক ছক্কা সহ নেন ১৬ রান। তবে তারচেয়েও বেশি আগ্রাসন দেখানো নাঈম এদিন ছিলেন সেরা ছন্দে। একের পর এক বড় শট খেলে ছক্কা মেরে মাত্র ২৬ বলে পূর্ণ হয় ফিফটি।
তবে ফাহিমকে দুই ছক্কা ও এক চার মারার পর অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। খানিক বাদে রসেরও বিদায় ঘটলে ম্যাচে ফিরে আসার আভাস দেয় বরিশাল। তবে আফিফ ও উইলিয়াম বোসিস্টো মিলে গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়ে সেটা হতে দেননি।
আফিফ ৩২ রানে আউট হওয়ার পর অবশ্য খুলনার ১৮০ রান পার করার বড় একটা কৃতিত্বের দাবিদার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ভীষণ কার্যকর এক ক্যামিও খেলার পথে ২০তম ওভারে ইবাদকে মারেন দুই ছক্কা। শেষ পর্যন্ত তরুণ এই ব্যাটার অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ২৭ রানে। বোসিস্টোর নামের পাশে ছিল ২০ রান।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৭ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১৩ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৮ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৫:২৭ পিএম
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:৩৫ পিএম

বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যাটা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অন্যরকম। রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক ছাদের নিচে পাওয়া গেল স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের শফিকুল হক হীরা থেকে শুরু করে সবশেষ জাকের আলি অনিক এবং তাদের মাঝে আরও যারা ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক।
তারা সবাই একত্রিত হয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নতুন প্রবর্তিত ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ গ্রহণ করার জন্য। যা মূলত বিসিবির বর্তমান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবালের দারুণ এক উদ্যোগ। এই ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবাদে বেশ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকবেন অধিনায়কেরা।
ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবিধাদির মধ্যে সবচেয়ে বড় যেটি, এই কার্ড দেখিয়ে বাংলাদেশের যে কোনো মাঠে হওয়া যে কোনো খেলা আজীবন ফ্রিতে দেখতে পারবেন অধিনায়কেরা। এসিসি কিংবা আইসিসি ইভেন্টের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা পাবেন তারা।
সাবেক অধিনায়কদের জন্য আগে খেলা দেখার ব্যবস্থা ছিল সৌজন্য টিকিটের মাধ্যমে। সবার জন্য বরাদ্দ থাকত ২টি করে টিকিট। যা বিসিবি থেকে ফোন করে সংগ্রহ করতে হতো তাদের। পরে সাধারণ দর্শকদের সঙ্গে একই লাইনে দাঁড়িয়ে স্টেডিয়ামে ঢুকতে হতো।
নতুন এই কার্ডের আওতায় ভিআইপি সুবিধা পাবেন ক্রিকেটাররা। কার্ড দেখিয়ে সরাসরি স্টেডিয়ামের ক্যাপ্টেনস বক্সে বসে খেলা দেখতে পারবেন তারা। এর সঙ্গে আগের মতো দুটি ম্যাচ টিকিটও তারা পাবেন নিজেদের পরিবারের সদস্যদের জন্য।
ক্যাপ্টেনস কার্ডের সুবাদে স্টেডিয়ামের ভেতরে ভিআইপি এরিয়াতে ফ্রি পার্কিং সার্ভিস পাবেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়কেরা। এছাড়াও জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতো হেলথ ইনস্যুরেন্সের আওতায় ঢুকে যাবেন তারা।
ক্যাপ্টেনস কার্ড হস্তান্তর অনুষ্ঠানের শুরুতে এর পেছনে নিজের ভাবনার কথা জানান তামিম।
“কেন এই ক্যাপ্টেনস কার্ড আইডিয়াটা এলো? আমরা ক্রিকেটার বা একজন অধিনায়ক যখন অবসরে যাই, সবার একটাই আশা থাকে, সেটা হলো সম্মান। এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এখানে আমাদের যারা অধিনায়ক আছেন যাদের কারণে আজকে বাংলাদেশ ক্রিকেট এই জায়গায়, যারা এর পিলার, এত কিছু আলোচনা-সমালোচনা; এগুলো কিন্তু উনাদের কারণেই।”
“আমরা হয়তোবা সুফলটা ভোগ করছি। কিন্তু একটা সময় ছিল, যখন এত সুযোগ-সুবিধা ছিল না। তখন তাদের প্যাশন ছিল। তাদের এই ভালোবাসা, প্যাশনের কারণেই তারা ক্রিকেট খেলেছেন এবং আজকে আমাদের এত খ্যাতি-যশ ও সবকিছু আছে। এই সবকিছুর শুরুটা তাদের থেকেই। আমি এটিকে মন থেকে সম্মান করি।”
তামিম বারবার মনে করিয়ে দেন, এই ক্যাপ্টেনস অনেক বড় কিছু নয়। তবে সাবেক অধিনায়কদের সম্মান দেওয়ার একটি প্রয়াস মাত্র।
“ এই ক্যাপ্টেনস কার্ড কি অনেক বড় কোনো কিছু? অবশ্যই না। ক্রিকেটে তাদের যে অবদান, ওই হিসেবে এই ক্যাপ্টেনস কার্ড অনেক বড় কিছু না। তবে এটা সবেমাত্র শুরু। ক্রিকেট বোর্ড যত বড় হবে, এই কার্ডের সুবিধাও তত বাড়তে থাকবে। আমি খুবই সামান্য জিনিস করেছি, খুব বেশি কিছু না। আজকে থেকে আজীবন এই কার্ডটা হলো আপনাদের পরিচয়।”
স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ১৯৭৭ সালে প্রথম জাতীয় ক্রিকেট দল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ২৭ জন অধিনায়ক পেয়েছে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেট দল। আর ২০০৭ সাল থেকে শুরু করে নারী ক্রিকেটে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬ জন।
এদের মধ্যে সশরীরে উপস্থিত থেকে ক্যাপ্টেনস কার্ড গ্রহণ করেছেন রকিবুল হাসান, শফিকুল হক হীরা, গাজী আশরাফ হোসেন লিপু, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আকরাম খান, খালেদ মাহমুদ সুজন, হাবিবুল বাশার সুমন, রাজিন সালেহ, শাহরিয়ার নাফীস, মোহাম্মদ আশরাফুল, মুশফিকুর রহিম, তামিম ইকবাল, মাহমুদউল্লাহ, মুমিনুল হক, লিটন কুমার দাস, নুরুল হাসান সোহান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মেহেদী হাসান মিরাজ ও জাকের আলি অনিক।
বাংলাদেশের প্রথম অধিনায়ক শামীম কবির আর বেঁচে নেই। এছাড়া ফারুক আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাইমুর রহমান দুর্জয়, খালেদ মাসুদ পাইলট, মাশরাফি বিন মুর্তজা ও সাকিব আল হাসান নানাবিদ কারণে উপস্থিত থাকতে পারেননি।
নারী অধিনায়কদের মধ্যে এদিন উপস্থিত ছিলেন শুধু সাবেক অলরাউন্ডার রোমানা আহমেদ। এছাড়া তাজকিয়া আক্তার, সালমা খাতুন, জাহানারা আলম, নিগার সুলতানা জ্যোতি ও ফাহিম খাতুন নানাবিদ কারণে আসতে পারেননি।
তবে সবার সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্যাপ্টেনস কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

গত শুক্রবার শুরু হওয়া প্রাইম ব্যাংক জাতীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বৃহস্পতিবার দেখা গেল এক অনবদ্য বোলিং ফিগার। বরগুনা স্টেডিয়ামে বাঁহাতি পেসার রাফিন আহমেদ ৪ ওভার বোলিং করে কোনো রান না দিয়েই নিয়েছেন ৬টি উইকেট।
বরগুনা জেলা স্কুলের বিপক্ষে টসে জিতে আগে ব্যাটিংয়ে নামা কেওড়াবুনিয়া হাইস্কুল সর্বসাকুল্যে স্কোরবোর্ডে যুক্ত করতে পারে মাত্র ৩২ রান। এর মধ্যে অতিরিক্ত রানই ছিল ১৮টি।
দলের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক বিতান শাহার। তিনি ৯ বল মোকাবিলায় করেন ৭ রান। দলের ৬ জন ব্যাটারই কোনো রান না করে সাজঘরে ফেরেন। দুই অঙ্কের রান স্পর্শ করতে পারেননি কেউই।
আরাফ শুরুটা রাঙানোর পর রাফিন ছড়ি ঘোরান কেওড়াবুনিয়া হাইস্কুলের ব্যাটারদের ওপর। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৬ দলের এই পেসার ৪ ওভার বোলিং করে সবগুলো ওভারই ‘মেডেন’ রাখেন এবং তুলে নেন ৬ উইকেট। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট নেন আরাফ এবং মুসা নেন একটি।
রান তাড়ার সহজ লক্ষ্যে নেমে বরগুনা জেলা স্কুলের দুই ওপেনার দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন। সিয়াম মোল্লা ৫ বলে ১০ রান এবং ফারহান ৭ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন। ২ ওভারে অতিরিক্ত থেকে আসা ১২ রানের সবকটিই ছিল ওয়াইড!

প্রায় এক মাস পর আবারও মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। প্রতিপক্ষ সফররত নিউ জিল্যান্ড। মিরপুরের শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি অনুষ্ঠিত হবে শুক্রবার। ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে গত ১৫ মার্চ শেষ ওয়ানডে খেলার পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেটে ঘটেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ পূর্ববর্তী বোর্ড ভেঙে দেওয়ার পর অ্যাড-হক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তামিম। পাশাপাশি নতুন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনসহ নির্বাচক প্যানেলেও এসেছে পরিবর্তন।
এই পরিবর্তনের মাঝেই জাতীয় দল ব্যস্ত ছিল অনুশীলন ক্যাম্প নিয়ে। দলের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স আগেই বলেছিলেন, এসব পরিবর্তন খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলেছে কি না- তা তারাই ভালো বলতে পারবে। তবে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ জানালেন, মাঠের বাইরের কোনো কিছুই তাদের মনোযোগ নষ্ট করতে পারেনি।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বলেন, “গত তিন সপ্তাহ আমরা খুব ভালোভাবে অনুশীলন করেছি। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে বাইরের বিষয় আমাদের প্রভাবিত করে না। আমাদের কাজ হচ্ছে মাঠে পারফর্ম করা।” তিনি আরও যোগ করেন, “অনুশীলনটা খুব ভালো হয়েছে, আমরা বাইরের বিষয় নিয়ে ভাবিনি।”
এই সিরিজটি বাংলাদেশের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে সামনে থাকা ২০২৭ বিশ্বকাপকে মাথায় রেখে (যা অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায়)। সরাসরি বিশ্বকাপে খেলতে হলে আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে নবম বা তার ওপরে থাকতে হবে। তাই এই সিরিজ থেকে আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে চান মিরাজ।
তার ভাষায়, “এই সিরিজগুলোতে যদি আমরা আত্মবিশ্বাস পাই, তাহলে আমাদের প্রস্তুতি ভালো হবে। ২০২৩ বিশ্বকাপের আগেও আমরা অনেক ম্যাচ জিতেছিলাম, কিন্তু আসরে ভালো করতে পারিনি। তবে আত্মবিশ্বাস খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
সম্প্রতি ওয়ানডে ফরম্যাটে বাংলাদেশের পারফরম্যান্সও বেশ ইতিবাচক। একসময় টানা ১১ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেলেও, এখন টানা দুই সিরিজ জিতে আত্মবিশ্বাসী দলটি। তারা ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতে মাঠে নামছে।
অন্যদিকে নিউ জিল্যান্ড এসেছে তুলনামূলক দুর্বল দল নিয়ে, কারণ তাদের অনেক তারকা ক্রিকেটার ব্যস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে। তবুও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথাম বাংলাদেশকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন।
ল্যাথাম বলেন, “বাংলাদেশ খুবই শক্তিশালী দল। তারা সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে। নিজেদের কন্ডিশনে তারা সবসময়ই ভয়ঙ্কর। আমরা এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।”
প্রতিপক্ষের শক্তি-দুর্বলতা যাই হোক, মিরাজের চোখে এই সিরিজ জেতা বড় অর্জনই হবে। তিনি বলেন, “কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সেরা চেষ্টা করব। র্যাঙ্কিংয়ের দিক থেকেও এই সিরিজ আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।”
সব মিলিয়ে, একাধিক পরিবর্তনের পর নতুন উদ্যমে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। এখন দেখার বিষয়—অনুশীলনের সেই প্রস্তুতি মাঠের পারফরম্যান্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।

আগামী বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য প্রতি
সিরিজে এখন বাংলাদেশকে চোখ রাখতে হচ্ছে র্যাঙ্কিংয়ে। ব্যতিক্রম নয় নিউ
জিল্যান্ড সিরিজও। আর এই সিরিজটিতে
কিউইদের হোয়াইটওয়াশ করতে পারলে র্যাঙ্কিংয়ে সুখবরই পাবে মেহেদী
হাসান মিরাজের দল।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার শুরু বাংলাদেশ ও নিউ জিল্যান্ডের
মধ্যকার তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। বেলা ১১টায় মাঠে গড়াবে প্রথম বল।
সিরিজটি শুরুর আগে ৭৯ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে ৯
নম্বরে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। আর ১১৪ রেটিং
পয়েন্ট নিয়ে পাঁচ নম্বরে নিউ জিল্যান্ড।
তিন ম্যাচের
সবকটি জিততে পারলে ৬ রেটিং যোগ হবে
বাংলাদেশের। আর ৮৫ রেটিং
নিয়ে ৯ নম্বরেই থাকবে তারা।
তবে ৮৮
পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে থাকা ইংল্যান্ডের
সঙ্গে ব্যবধান কমে আসবে ৩ পয়েন্টে। এছাড়া ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতলে বাংলাদেশের রেটিং হবে ৮৩ পয়েন্ট। আর ১-২ ব্যবধানে সিরিজ হেরে গেলেও তাদের হবে ৮০ রেটিং পয়েন্ট।
আর নিউ
জিল্যান্ড যদি তিন ম্যাচের সবকটিই জিতে যায়, তাহলে তাদের যোগ হবে
স্রেফ ১ পয়েন্ট। তখন ১১৫
রেটিং পয়েন্ট নিয়ে দুইয়েই থাকবে তারা। আর হোয়াইটওয়াশড হলে বাংলাদেশ
হারাবে ১ পয়েন্ট। তবে ৭৮
পয়েন্ট নিয়ে ৯ নম্বরেই থাকবে তারা।
আগামী বছরের ৩১ মার্চ
তারিখে র্যাঙ্কিংয়ের ওপর ভিত্তি
করে চূড়ান্ত হবে আগামী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলা দলগুলোর নাম। স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে ছাড়া র্যাঙ্কিংয়ের অন্য সেরা ৮ দল সরাসরি
খেলবে বিশ্বকাপে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ের র্যাঙ্কিং যাই হোক, স্বাগতিক হওয়ায় সরাসরি বিশ্বকাপের আসরে খেলবে তারা। বিশ্বকাপের আরেক স্বাগতিক নামিবিয়া আইসিসির পূর্ণ সদস্য না হওয়ায় তাদেরকে আসতে হবে বাছাই প্রক্রিয়া হয়েই।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ও পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ক্রিকেটে খেলতে ব্যস্ত দলের মূল ক্রিকেটারদের বেশিরভাগ। তাই একরকম বাধ্য হয়েই দ্বিতীয় (অথবা তৃতীয়) সারির দল নিয়েই বাংলাদেশে খেলতে এসেছে নিউ জিল্যান্ড।
তবে মূল দল না হলেও, সিরিজ জয়ের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে কিউইদের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম ল্যাথামের। আর এই বিশ্বাসের উৎস, ২০২৩ সালের বাংলাদেশ সফর। সেবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঠিক আগে দ্বিতীয় সারির দল নিয়েই বাংলাদেশকে সিরিজ হারিয়েছিল নিউ জিল্যান্ড।
ভারতের অনুষ্ঠিত ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলতে বাংলাদেশে এসেছিল নিউ জিল্যান্ড। সেবার বিশ্বকাপ স্কোয়াডের মাত্র ৫ ক্রিকেটারকে বাংলাদেশ সফরের দলে রেখেছিল কিউইরা।
লকি ফার্গুসনের নেতৃত্বে খেলতে এসে সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল নিউ জিল্যান্ড। আর বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল প্রথম ম্যাচ।
এবারও দ্বিতীয় সারির দল। যেখানে নেতৃত্বের ভার ল্যাথামের কাঁধে। সিরিজ শুরুর আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে বাঁহাতি এই ব্যাটার বললেন, মূল ক্রিকেটাররা না থাকলেও এবারও সিরিজ জিততে এসেছেন তারা।
“আমাদের লক্ষ্যটা তো পরিষ্কার, আমরা এখানে এসেছি সিরিজ জিততে। সবার দৃষ্টিকোণ থেকেই, এটাই মূল লক্ষ্য। তবে আমরা জানি, ওই জায়গায় পৌঁছাতে হলে আমাদের সামনে অনেক কাজ বাকি আছে। তাই আমাদের জন্য বিষয়টা হলো- প্রতিটি ম্যাচ থেকে শেখা ও ধীরে ধীরে উন্নতি করা।”
বাংলাদেশে আসার আগে নিউ জিল্যান্ড থেকে বিমানে ওঠার সময়ই সংবাদমাধ্যমে ল্যাথাম বলেছিলেন, এই সিরিজ তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য বড় সুযোগ। সিরিজ শুরুর আগের দিনও একই কথা বললেন তিনি।
ল্যাথামের বিশ্বাস, ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে পারলে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারবে তার দল।
“আমাদের দলে এমন খেলোয়াড় আছে যাদের অভিজ্ঞতা একটু কম, বিশেষ করে এই ধরনের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা কম। তারা যত বেশি বাংলাদেশের মতো জায়গায় সুযোগ পাবে, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। আমরা যদি ম্যাচ ধরে ধরে উন্নতি করতে পারি, শেখার প্রক্রিয়াটা চালিয়ে যেতে পারি, সিরিজের শেষ দিকে গিয়ে ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারব।”
এই সিরিজের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের মধ্যে ল্যাথামসহ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে শুধু হেনরি নিকোলস ও উইল ইয়াংয়ের। তবে 'এ' দলের হয়ে বাংলাদেশে খেলে গেছেন নিক কেলি, ড্যান ক্লেভার, ডিক্স ফক্সক্রফট, আদিত্য অশোক, জেডেন লেনক্সরা।
তাদের এই অভিজ্ঞতা বাকিদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার তাগিদ দিলেন ল্যাথাম।
“যখন দলে অভিজ্ঞতা কম থাকে, তখন আমার মতো যারা একটু বেশি খেলেছি, আর যারা এই কন্ডিশনে আগে খেলেছে, তাদের দায়িত্ব হলো নতুনদের যতটা সম্ভব অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ভাগ করে দেওয়া। আমরা অবশ্যই পরিকল্পনা, অনুশীলন আর প্রস্তুতির সব কিছুই ঠিকভাবে করতে চাই। তবে ম্যাচে নামার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- সামনে যা আসবে, সেটার সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে নিজের সেরাটা দেওয়া।”
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুক্রবার বেলা ১১টায় শুরু হবে প্রথম ওয়ানডে। এই সিরিজের সবগুলো ম্যাচ সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস।