
চলতি বিপিএলে ভালো কয়েকটি ইনিংস খেললেও ধীরগতির ব্যাটিংয়ের জন্য কিছুটা সমালোচনাও পেতে হয়েছে। তনে ফরচুন বরিশালের বিপক্ষে নাঈম শেখ উপহার দিলেন মারকুটে ব্যাটিংই। তার ফিফটির সাথে শেষের দিকে আফিফ-অঙ্কনদের দুটি ক্যামিওতে খুলনা টাইগার্স পেল চ্যালেঞ্জ জানানো এক স্কোর। দাভিদ মালানের ফিফটির পরও এক পর্যায়ে হারের শঙ্কা জাগল বরিশাল শিবিরে। তবে কঠিন ম্যাচ সহজ করে শেষ হাসি হাসল তামিম ইকবালের দলই।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ৩৫তম ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা জিতেছে ৫ উইকেটে। আগে ব্যাট করা খুলনার করা ৫ উইকেটে ১৮৭ রান বরিশাল পাড়ি দিয়েছে ৫ বল হাতে রেখেই।
বড় রান তাড়ায় বরিশালের চাওয়া ছিল ভালো একটা সূচনা। তবে গত কয়েক ম্যাচ ধরে ওপেনার হিসেবে খেলা তাওহীদ হৃদয় আরও একবার ব্যর্থ হন নতুন ভূমিকায় সফল হতে। আবু হায়দার রনিকে ছক্কা মেরে পরের বলেই পড়েন লেগ বিফোরের ফাঁদে। তামিম ইকবাল কিছুটা ধীরলয়ে শুরু করলেও ক্রিজে গিয়েই দুই বাউন্ডারিতে ইতিবাচক ব্যাটিং করেন দাভিদ মালান।
এরপর আবু হায়দার ও হাসান মাহমুদের দুই ওভারে হাঁকান তিনটি চার ও একটি ছক্কা, যা অনেকটাই চাপ কমিয়ে দেয় তামিমের ওপর। বরিশাল অধিনায়কের ধীরগতির ব্যাটিংয়ের পরও তাই পাওয়ার প্লেতে দলীয় ফিফটি হয়ে যায় দলটির।
খুলনার পেস ও স্পিন আক্রমণকে একই তালে সামলানো মালান ক্রমেই বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন বড় কিছু শটের মাধ্যমে। রানের চাকাও তাতে বেড়ে যাচ্ছিল বেশ। সালমান ইরশাদের শর্ট পিচ ডেলিভারিতে তামিম পারেননি টাইমিং করতে, ২৭ রানেই থামে তার পথচলা।
নাসুম আহমেদকে ছক্কা মেরে মুশফিকুর রহিম আভাস দেন ছন্দে ফেরার। তবে ঠিক এরপরই খুলনাকে বড় ব্রেকথ্রুটা এনে দেন আফিফ হোসেন। তার অফ স্পিনে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হয় ৩৭ বলে ৬৩ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলা মালানকে।
ম্যাচ যখন খুলনার দিকে কিছুটা ঝুঁকে যাচ্ছিল, তখনই মোহাম্মদ নাওয়াজকে দুই ছক্কা মেরে ম্যাচ জমিয়ে দেন মাহমুদউল্লাহ। তবে পরের ওভারে তিনি রান আউট হওয়ার পর সাজঘরের পথ ধরতে হয় ২ ছক্কায় ২৭ করা মুশফিকুরকেও। আবু হায়দারকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে চার মারার পর লং অফ দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে ফাহিম দলকে ধরে রাখেন জয়ের লড়াইয়ে।
চাপের মুখে ১৮তম ওভারটা ভালো করলেও শেষ ডেলিভারিতে নবির হাতে ছক্কা হজম করে খুলনাকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন হাসান। এরপর দ্রুতই বাকি আনুষ্ঠানিকতা সারেন ফাহিম ও নবি মিলেই।
এর আগে দুপুরে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার নাঈম শেখ ইনিংসের প্রথম ওভারেই জেমস ফুলারকে ওড়ান ছক্কায়। শুরুতে কিছুটা জড়তা ছিল মিরাজের ব্যাটে, তবে ঘুরে দাঁড়ান মোহাম্মদ নবিকে পরপর দুই বলে চার ও ছক্কা মেরে। পরের ওভারে চড়াও হন আগের ম্যাচে পাঁচ উইকেট নেওয়া ফাহিম আশরাফের ওপর। হাঁকান টানা দুই ছক্কা।
শেষ পর্যন্ত মিরাজের বিদায় ঘটে ইবাদত হোসেনের শিকার হয়ে। চোট কাটিয়ে লম্বা বিরতির পর বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচে বোল্ড করেন ১৯ বলে ২৮ করা মিরাজকে। তবে একই ওভারে টানা দুই বাউন্ডারিতে তাকে চাপেফ ফেলে দেন নাঈম।
তাকে যোগ্য সঙ্গ দিয়ে ইতিবাচক ব্যাটিং উপহার দেন অ্যালেক্স রস। অস্ত্রেলিয়ান এই ব্যাটার তানভির ইসলামের তিন বলে দুই চার ও এক ছক্কা সহ নেন ১৬ রান। তবে তারচেয়েও বেশি আগ্রাসন দেখানো নাঈম এদিন ছিলেন সেরা ছন্দে। একের পর এক বড় শট খেলে ছক্কা মেরে মাত্র ২৬ বলে পূর্ণ হয় ফিফটি।
তবে ফাহিমকে দুই ছক্কা ও এক চার মারার পর অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন। খানিক বাদে রসেরও বিদায় ঘটলে ম্যাচে ফিরে আসার আভাস দেয় বরিশাল। তবে আফিফ ও উইলিয়াম বোসিস্টো মিলে গুরুত্বপূর্ণ এক জুটি গড়ে সেটা হতে দেননি।
আফিফ ৩২ রানে আউট হওয়ার পর অবশ্য খুলনার ১৮০ রান পার করার বড় একটা কৃতিত্বের দাবিদার মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। ভীষণ কার্যকর এক ক্যামিও খেলার পথে ২০তম ওভারে ইবাদকে মারেন দুই ছক্কা। শেষ পর্যন্ত তরুণ এই ব্যাটার অপরাজিত থাকেন ১২ বলে ২৭ রানে। বোসিস্টোর নামের পাশে ছিল ২০ রান।
No posts available.
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২৭ পিএম
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:২০ পিএম
১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৫৭ পিএম

সিরিজ বাঁচাতে জিততেই হতো—এমন সমীকরণে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মাঠে নেমেছিল নিউ জিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেলের দুর্দান্ত অপরাজিত সেঞ্চুরিতে আশা বাঁচিয়ে রেখেছে কিউইরা। স্বাগতিকদের বিপক্ষে ৭ উইকেটের বড় জয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারীরা।
রাজকোটে আজ প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ২৮৪ রান করে ভারত। জবাবে ১৫ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড।
ভারতের মাটিতে এটি সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয় নিউ জিল্যান্ডের। এর আগে ২০২৩ সালে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে আহমেদাবাদে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করেছিল কিউইরা।
২০২৩ সালের পর টানা ৮ ওয়ানডে হারের পর ভারতের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের প্রথম জয় এটি। ভারতের মাটিতে ২০১৭ সালের পর টানা ৮ ওয়ানডে হারের পর প্রথম জয়।
রান তাড়ায় নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনার দ্রতই ফিরে যান। তৃতীয় উইকেটে ১৬২ রানের জুটি গড়েন উইল ইয়াং ও ড্যারিল মিচেল। ইয়াং ৯৮ বলে ৮৭ রানে ফেরেন।
তবে সেঞ্চুরি তুলে দলকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন মিচেল। ১১৭ বলে ১৩১ রানের ইনিংস খেলেন এই ব্যাটার। ভারতের বিপক্ষে গত ৪ ম্যাচের তিনটিতেই শতক পেলেন ম্যাচসেরার পুরষ্কার তোলা মিচেল।
এর আগে টসে হেরে লোকেশ রাহুলের অপরাজিত ১১২ ও শুবমান গিলের ৫৬ রানের উপর ভর করে ২৮৫ রানের সংগ্রহ পায় ভারত।
ইন্দোরে সিরিজ নির্ধারর্ণী ম্যাচে রোববার ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে নিউ জিল্যান্ড। এরপর দুইদল ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে।

দেশের ক্রিকেটারদের নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করায় বিসিবি পরিচালক ও অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলামের পদত্যাগের দাবি করেছে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।
সম্প্রতি ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ইস্যুতে তামিম ইকবালকে ‘দালাল’ বলে সম্বোধন করে আলোচনায় আসেন নাজমুল। বুধবার সন্ধ্যায় দেশের সকল ক্রিকেটারদের নিয়েও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করেন তিনি।
নাজমুল বলেন, ক্রিকেটারদের পেছনে কোটি টাকা খরচ করছি কিন্তু তারা খারাপ খেললে কি টাকা ফেরত চাচ্ছি? এই বিষয়ে আরও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যও করেন তিনি। সেই মন্তব্যের জেরে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকেও দুঃখপ্রকাশ করা হয়।
সবার সম্মানহানি করা নাজমুলের মন্তব্য মেনে নিতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। তাই বৃ্হস্পতিবার দুপুরের ম্যাচের তার পদত্যাগ দাবি করেছেন ক্রিকেটারদের স্বার্থ সংরক্ষণের সংগঠন কোয়াব। বুধবার রাতে এক ভিডিওবার্তায় এই কথা বলেন কোয়াব সভাপতি মিঠুন।
নিচে মিঠুনের পূর্ণাঙ্গ ভিডিওবার্তা তুলে ধরা হলো
“আসসালামু আলাইকুম সবাইকে। আপনারা বেশ কিছুদিন ধরে দেখছেন যে আমাদের ক্রিকেটারদেরকে নিয়ে যেভাবে কমেন্টস করা হচ্ছে, একজন থেকে শুরু করে এখন সব ক্রিকেটারদের নিয়ে যে ধরনের ওয়ার্ড ইউজ করা হচ্ছে সেটা আমাদের কাছে কখনোই গ্রহণযোগ্য নয় এবং আমরা এটা কখনও এক্সপেক্ট করি না। তো আশা করি, একজন বোর্ড পরিচালকের আরো চিন্তাভাবনা করে প্লেয়ারদের ব্যাপারে কথা বলা উচিত বলে আমি মনে করি।”
“আমরা ক্রিকেট বোর্ডকে বিভিন্ন ইস্যুতে বিভিন্ন সময় অনেক সময় দিয়েছি। তাদের সঙ্গে আপনারাও সে বিষয়ে অবগত আছেন যে আমরা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সমাধান করার চেষ্টা করেছি কিন্তু তারা কখনোই আমাদেরকে রেসপন্স করে নাই। সবসময় তারা সময় বের করেছে কিন্তু আমরা এখন পর্যন্ত কোন একটা সিঙ্গেল বিষয়ে সমাধান পাইনি। আর বিশেষ করে লাস্ট যেই আমাদের বোর্ড পরিচালক যিনি যেই কথাটা বলেছেন এটা আমাদের পুরা ক্রিকেট অঙ্গনকে খুবই হার্ট করেছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়।”
“আমরা ইভেন ফার্স্ট ডিভিশন ক্রিকেট লিগ নিয়েও বোর্ডকে অনেক টাইম দিয়েছি, এখন পর্যন্ত কোন পজিটিভ রেজাল্ট পাইনি। আর লাস্ট যেই বোর্ড পরিচালক প্রতিনিয়ত যেই শব্দগুলো ইউজ করছে এটা টোটাল ক্রিকেট অঙ্গনকে অনেক হার্ট করেছে এবং প্লেয়াররা এটা কোনোভাবেই একসেপ্ট করতে চাচ্ছে না। সেজন্যে আমরা তার রিজন দাবি করছি। উনি যদি কালকে ম্যাচের আগে যদি রিজাইন না করেন, থেকে আমরা আমাদের সব ধরনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করছি।”

২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
বাংলাদেশের অংশগ্রহণ অনেকটাই দোলাচলে। এ বিষয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)
তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। বিসিবির স্পষ্ট অবস্থান হলো—বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যদি ভারত থেকে অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়, তবেই
দল পাঠানো হবে। সবশেষ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসির সঙ্গে বৈঠকেও একই
কথা জানিয়ে দিয়েছে বোর্ড।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ যেখানে ধোঁয়াশায়, সেখানে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এবং আর্থিক বিষয়াদি নিয়ে তির্যক মন্তব্য করলেন বিসিবির অর্থ কমিটির প্রধান এম নাজমুল ইসলাম। বুধবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,
‘ক্রিকেটারদের পেছনে কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, খারাপ খেললে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি আমরা।’
এম নাজমুল ইসলাম জানান, বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ না করলেও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে না বিসিবি। কারণ, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ফি হিসেবে ইতোমধ্যে আইসিসি থেকে ৫ লাখ ডলার পেয়েছে বোর্ড।
বিসিবির এই পরিচালকের দাবি, আইসিসি থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ ২০.৪ মিলিয়ন ডলার পায়। রিজার্ভ মানি থেকেও চার বছর পর পায় ৪ মিলিয়ন ডলার। ২০২৭ সাল পর্যন্ত আইসিসি থেকে বিসিবির রাজস্ব আয়ে কোনো হেরফের হবে না।
নাজমুল জানিয়েছেন, বিসিবি ক্ষতির মুখে না পড়লেও ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন ক্রিকেটাররা। তিনি বলেন,
‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোনো ক্ষতি হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। কারণ, খেললে প্রতিটা খেলায় ক্রিকেটাররা ম্যাচ ফি পায়।’
গতবছর কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপ থেকে ৭ লাখ ২০ হাজার ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ দল। প্রাইজমানির অঙ্কটা এবার আইসিসির আরও বাড়ানোর কথা। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলা না হলে এই টাকাও পাবেন না ক্রিকেটাররা।
এ বিষয়ে নাজমুল বলেন,
‘ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, তাহলে ওদের পিছনে আমরা যে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ওদের কাছ থেকে ওই টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি!’
তিনি এও বলেন,
‘আমরা যে ওদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। আজ পর্যন্ত আমরা একটাও বৈশ্বিক অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি? কোনো একটা জায়গায় আমরা কতটুকু কী করতে পারছি? আমরা তাহলে তো প্রত্যেকবারই বলতে পারি, তোমরা খেলতে পারোনি, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি, এটা এবার তোমাদের কাছ থেকে আমরা নিতে থাকি, ফেরত দাও।’

নানা দোলাচলের মধ্য দিয়ে গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে মাঠে গড়িয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বাদশ সংস্করণ। রাজনৈতিক অস্থীরতা, ভেন্যু পরিবর্তন, কোচের মৃত্যু, ম্যাচ স্থগিত, ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রথমবার বাবা ছেলের একই দলে খেলা— সব মিলিয়ে শেষ হয়েছে ১৮ দিনে ২৪ ম্যাচের ঘটনাবহুল সিলেট পর্ব।
আগামীকাল চট্রগ্রাম রয়্যালস-নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ম্যাচ দিয়ে ঢাকায় ফিরছে বিপিএল। ছয়টি লিগ ম্যাচসহ ঢাকা পর্বে হবে এলিমেনটর, দুই কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল। দেখে নেওয়া যাক কেমন ছিল বিপিএলের সিলেট পর্ব-
৭০ শতাংশ ম্যাচ সিলেটে—বড় রানের ইঙ্গিত দিয়েও ছিল না ছন্দ
বিপিএল এবারই প্রথম শুরু হয় ঢাকার বাইরে। সিলেট পর্বে শুরুটাও হয়েছিল রানপ্রসবায়। উদ্বোধনী ম্যাচেই সিলেটের দেওয়া ১৯১ রানের লক্ষ্য তাড়া করে দারুণ পায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে সেই ম্যাচে টুর্নামেন্টে বড়-বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিয়েও সেই ধারাবাহিকতা আর থাকেনি।
সময় যত গড়িয়েছে ততই বিপিএলের বেশিরভাগ ম্যাচই হয়েছে লো-স্কোরিং। পিচে রান কম হওয়ার জন্য যথেষ্ট কারণও ছিল—চট্রগ্রাম পর্বের ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ায় সিলেটের উইকেটে চাপ ছিল বেশি। সেই ধকল ঠিকঠাক সামলাতে পারেনি উইকেট।
চট্রগ্রাম পর্বের ১২ ম্যাচ হয়েছে সিলেটে। সব মিলিয়ে ৩৪ ম্যাচের ২৪ ম্যাচই হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। ২০২৬ বিপিএলের ৭০.৫৮ শতাংশ খেলা হয়েছে এই মাঠে। সিলেটে দলগুলোর প্রথম ইনিংসের গড় ১৪৬.৬২ রান। দুইশ রান ছুঁতে পারেনি কোনো দল। সর্বোচ্চ ১৯৮ রান করেছে চট্রগ্রাম রয়্যালস।
বিশ্বকাপ দলে না থেকেও শান্তর চমক
সিলেট পর্বে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত। আট ইনিংসে তাঁর ২৯২ রান। উদ্বোধনী ম্যাচেই করেছিলেন অসাধারণ এক সেঞ্চুরি।
তালিকায় দুই নম্বরে রয়েছেন সিলেট টাইটানসের ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন। ৯ ম্যাচে তিন ফিফটিতে করেছেন ২৮৮ রান, নজকাড়া গড় ৪১.১৪, স্ট্রাইক রেট ১৩০.৩২।
বিপিএল শুরুর আগমুহূর্তে হঠাৎ চট্রগ্রাম ফ্র্যাঞ্চাইজির স্বত্বাধিকারী পরিবর্তন। ঝড়ের মধ্যেও সিলেট পর্বে বেশ সফল ছিল তারা। টেবিলের দুইয়ে চট্টগ্রাম। দলের ফুয়েল হিসেবে কাজ করছিলেন ইংলিশ ওপেনার অ্যাডাম রসিংটন। ছয় ম্যাচে তাঁর রান ২৫৮, গড় ৬৪.৫০ স্ট্রাইক রেট ১৩৯.৪৬। বিপিএলে টানা তিনটি ফিফটি হাঁকিয়েছেন রসিংটন, ১ রানের জন্য মিস করেছেন টানা চতুর্থ ফিফটি। অনাকাঙ্খিতভাবে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই ব্যাটার ছিটকে গেছেন বিপিএল থেকেই।
তালিকায় তিন ও চারে রয়েছেন রংপুরের দুই ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ও ডেভিড মালান। ৮ ম্যাচে ২৯.৫৭ গড়ে ২০৭ রান হৃদয়ের, স্ট্রাইক রেট ১২৭.৭৮। সেঞ্চুরির দেখা না পেলেও অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলেছেন এই ব্যাটার। মালান ৬ ম্যাচে করেছেন ২০৩ রান, গড় ৪০.৬০ হলেও স্ট্রাইক রেট ১০৫.৭৩।
বোলিংয়ে রিপন-মৃত্যুঞ্জয়ের ঝলক
সিলেট পর্বে উইকেটে ছিল ভালো বোলিং সহায়ক। বোলাররা সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে করেছেন তিন হ্যাটট্রিক। বিপিএলের এক সংস্করণে সর্বোচ্চ হ্যাটট্রিকও হয়ে গেল এবার। আসরের প্রথম হ্যাটট্রিকের মালিক পেসার মেহেদি হাসান রানা। পরেরটি মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীর। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার তিন বলে তিন উইকেট নিলেন তিনি। হ্যাটট্রিক করেছেন রিপন মন্ডলও।
উইকেটশিকারিদের মধ্যে বোলিংয়ে সবার ওপরে রয়েছেন নোয়াখালীর হাসান মাহমুদ। সিলেট পর্বে ৮ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিয়েছেন এই পেসার, নজরকাড়া ইকোনমি ৬.০৭। ২৬ রানে ৪ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে জায়গা না পাওয়ার ক্ষোভই যেন মেটাচ্ছেন হাসান।
তালিকায় দুইয়ে রয়েছেন চট্রগ্রামের পেসার শরিফুল ইসলাম। ৭ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি, ইকোনমি ৬.৯২। ৮ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে তালিকার তিন নম্বরে রংপুরের পেসার মোস্তাফিজুর রহমান, ইকোনমি ৭.০৬।
এক হ্যাটট্রিকসহ ৬ ম্যাচে ১৩ উইকেট নিয়ে তালিকার ৪ নম্বরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের পেসার রিপন মন্ডল। ৭ রানে ৫ উইকেট তাঁর সেরা বোলিং। সেরা পাঁচে একমাত্র স্পিনার হিসেবে রয়েছেন সিলেটের নাসুম আহমেদ। ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১২ উইকেট, ইকোনমি ৬.২৬।
সিলেট পর্বে দলগুলোর পারফরম্যান্স
সিলেট পর্ব শেষে প্লে অফ নিশ্চিত করেছে তিনটি দল—চট্টগ্রাম রয়্যালস, রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স ও সিলেট টাইটানস। মিরপুর পর্বে আরেকটি দলের ভাগ্য নির্ধারণ হবে। পয়েন্ট টেবিলে কার কি অবস্থা-
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স—৮ ম্যাচে ছয় জয় ও দুই হারে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে সবার ওপরে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবেই বিপিএল শুরু করেছে হান্নান সরকারের দলটি।
চট্টগ্রাম রয়্যালস—প্রতিকূলতার মধ্যেও উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করছে দলটি। ৭ ম্যাচে পাঁচ জয় ও দুই হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে তারা।
সিলেট টাইটানস—৯ ম্যাচে পাঁচ জয় ও চার হারে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রয়েছে সিলেট টাইটানস। নিজেদের মাঠে ৯০ শতাংশ ম্যাচ খেলেও ভালো-মন্দে মিশ্র ছিল তাদের পারফরম্যান্স।
রংপুর রাইডার্স—৮ ম্যাচে চার জয় ও চার হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের ৪ নম্বরে রংপুর রাইডার্স। বিপিএলে সবচেয়ে শক্তিশালী ও ভারসমাপূর্ণ দল রংপুর। তবে মাঠের লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত সেই রূপটা দেখা যায়নি তাদের।
ঢাকা ক্যাপিটালস—৮ ম্যাচে দুই জয় ও ৬ হারে ৪ পয়েন্ট পেয়ে পাঁচ নম্বরে ঢাকা ক্যাপিটালস।
নোয়াখালী এক্সপ্রেস—৮ ম্যাচে দুই জয় ও ছয় হারে ৪ পয়েন্ট নিয়ে নেট রান রেটের হিসেবে টেবিলে সবার নিচে খালেদ মাহমুদ সুজনের নোয়াখালী।
বাবা ছেলের একই ম্যাচে মাঠে নামা
ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো একই দলে টি-টোয়েন্টিতে নামেন আফগানিস্তানের তাঁরকা মোহাম্মদ নবী ও তাঁর ছেলে হাসান ইসাখিল।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে বিপিএল অভিষেকে নবীরে ছেলে ইসাখিল ব্যাট হাতে ৯২ রান করে হয়েছেন ম্যাচসেরা। নবী-ইসাখিলের বাবা-ছেলে জুটি চতুর্থ উইকেটে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৩০ বলে গড়েন ৫৩ রানের জুটি।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া অনেক ক্রিকেটারই সিলেট পর্বে নামের প্রতি সুবিচার পারেননি। আগামীকাল শুরু হওয়া ঢাকা পর্বে অফফর্মে থাকা অনেকেই চাইবেন শেষটা অন্তত রাঙাতে।
সিলেট পর্বে সবচেয়ে হতাশ করেছেন ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘোষিত বাংলাদেশ দলের সহ অধিনায়ক সাইফ হাসান। ৭ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৪৮ রান, গড় ৬.৮৫। ঢাকার হয়ে সর্বোচ্চ ২২ রান এসেছে সাইফের ব্যাট থেকে। সুবিধা করতে পারেনি নুরুল হাসান সোহানও।
এবারের বিপিএলে সম্প্রচার ও ধারাভাষ্যের মান প্রশংসা কুড়িয়েছে। টুর্নামেন্টের বাকি ম্যাচগুলোতে টি-টোয়েন্টির হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখার অপেক্ষায় সমর্থকরা।
কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দুপুর ১ টায় চট্রগ্রাম রয়্যালস-নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ম্যাচ দিয়ে শুরু ঢাকা পর্বের বিপিএল। সন্ধ্যা ৬ টায় মাঠে নামবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও সিলেট টাইটানস।

প্রথমবার বিগ ব্যাশ লিগে (বিবিএল) খেলছেন—তাও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দুষ্প্রাপ্য লেগ স্পিনার! এক অজানা উত্তেজনা, অদৃশ্য চাপ থাকার কথা ছিল রিশাদ হোসেনের মনে। নতুন লিগ, নতুন দর্শক, নতুন প্রতিদ্বন্দ্বী। তবে সব ধৈর্য আর মনোযোগের মিশ্রণে সব পরীক্ষায় যেন ভালো নম্বর পেয়ে উতরে যাচ্ছেন তিনি।
বিগ ব্যাশে রিশাদের দল হোবার্ট হারিকেনস ইতিমধ্যে প্লে-অফ নিশ্চিত করেছে। লিগ পর্বে ব্রিসবেন হিটের বিপক্ষে বল হাতে আজও উজ্জ্বল ছিলেন ২৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার। নিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট। দলের পূর্ণ ৪ ওভার বোলিং করা সতীর্থদের মধ্যে দারুণ হিসেবি ছিলেন রিশাদ। ৪ ওভারে ২৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।
দুই মিডল অর্ডার—বিধ্বংসী ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে রিশাদ থামিয়েছেন ঝড়। বেশি দূর যেতে দেননি মার্নস লাবুশেনেকে। তবে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে হোবার্ট হেরে গেছে ৩ রানে। নিজেদের মাঠ বেলেরিভ ওভাল টস জিতে ব্রিসবেন হিটকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠায় হোবার্ট।
নাথান ম্যাকসুয়েনির ৩২ বলে ৪৯ ও রেনশোর ২৫ বলে ৩৭ রানের সৌজন্যে ৮ উইকেটে ১৬০ রান স্কোরে জমা করে ব্রিসবেন। ১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দ্রুত দুই ওপেনারকে হারায় হোবার্ট।
তৃতীয় উইকেটে বিউ ওয়েবস্টার (৫১) ও বেন ম্যাকডারমটের (৫৯) ৬৬ বলে ৯৮ রানের বিধ্বংসী জুটিতে জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে হোবার্ট। শেষ ওভারে জিততে ৬ রান প্রয়োজন ছিল তাদের, কিন্তু পাকিস্তানি পেসার জামান খানের বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ের বিপক্ষে মাত্র ২ রান নিতে পারে তারা। ৮ উইকেটে ১৫৭ রানে থেমে যায় হোবার্টের ইনিংস। টেবিলের শীর্ষে থাকা হোবার্টের ১০ ম্যাচে অর্জন ১৩ পয়েন্ট। ৯ ম্যাচে ব্রিসবেনের ১০ পয়েন্ট।
শেষ বলে যখন পাঁচ রান দরকার, উইকেটে আসেন রিশাদ। তবে ১ রানের বেশি নিতে পারেননি তিনি। এই ম্যাচ হারলেও বিগ ব্যাশে এবার হোবার্টের ছন্দে থাকার দৌড়ে বেশ ফুয়েল দিচ্ছেন রিশাদই। বলের লাইন-লেংথ দেখে বোঝার উপায় নেই প্রথমবার বিগ ব্যাশে ছড়ি ঘোরাচ্ছেন! এরই মধ্যে নামের পাশে ১০ ম্যাচে ১৩ উইকেট। উইকেট শিকারের তালিকায় আট নম্বরে থাকলেও স্পিনারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল তিনি।
রিশাদের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলে আরেক লেগ স্পিনার লয়েড পোপের শিকারও ১৩টি। তবে তাঁর ইকোনমি ৮.৪৮, বোলিং গড় ২০.২৩। বিপরীতে রিশাদের ইকোনমি ৭.৫২, গড় ১৯.৬৯। রিশাদের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার।