১৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম

ইনিংসের প্রথম বলেই কিছুটা ওভারপিচড ডেলিভারি করলেন শরিফুল ইসলাম। সুযোগ পেয়ে বাউন্ডারি মেরে দিলেন হাসান ইসাখিল। গুছিয়ে নিতে একদমই সময় নিলেন না শরিফুল। তার পরের সাত বলে মাত্র ২ রান নিতে পারলেন ইসাখিল। আর অষ্টম বলে হারালেন নিজের উইকেট।
ইসাখিলের এই উইকেট দিয়ে শুরু। পরে দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে আরও দুর্বার শরিফুল। পুরোনো বলে ডেথ ওভারে ১.৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার। সব মিলিয়ে মাত্র ৯ রানে ৫ উইকেট নিয়ে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।
এমন বোলিংয়ের পর শরিফুল জানালেন, বিপিএলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্সের পেছনে রয়েছে তার এক ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট সাব্বিব বিন সাত্তার রাহুলের বড় অবদান। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচের পর থেকেই রাহুলের পরামর্শ নিচ্ছেন শরিফুল। নিয়মিত পাচ্ছেন সুফলও।
উদাহরণ হিসেবে আনা যায় ইসাখিলের উইকেটের কথাই। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে আসেন শরিফুল। দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পান ইসাখিল। টানা ৪টি বল ১৩০ কিমি. প্রতি ঘণ্টার চেয়ে বেশি গতিবেগে করেন বাঁহাতি পেসার। মাত্র ২ রান নিতে পারেন ইসাখিল।
পরে ওভারের শেষ বল গতি কমিয়ে কিছুটা টেনে করেন শরিফুল। তাতেই ভড়কে যান ইসাখিল। গতির তারতম্য বুঝতে না পেরে ক্যাচ তুলে দেন আফগান ব্যাটার। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তাকে আউট করার পরিকল্পনা খোলাসা করেন শরিফুল।
"আমি লক্ষ্য করছিলাম, আমি একটু পেছনে পেছনে বল করলে, ও আগেভাগে সরে যাচ্ছিল। তখন আমি আর কি মাথায় নিয়েছি যে, একটু স্লোয়ার মারলে হয়তোবা চান্স থাকবে। তো সামনে ওই জায়গার মতো পড়ছিল, তাই আর কি (আউট হয়েছে)।"
এসময় ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট রাহুলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শরিফুল।
"অবশ্যই (রাহুলের অবদান অনেক)। প্রতি ম্যাচের পরে তিনি আমাকে সব কিছু পাঠিয়ে দেন। যেখানে ভুল করি, সেগুলো আর কি আমি পরের ম্যাচে যাতে না করি, সেগুলো নিয়ে ম্যাচের আগে সেগুলো আর কি দেখে আসি বা ঠিক করে আসি।"
বিপিএলের প্রথম ম্যাচে ১৪ রানে ২ উইকেট পেয়েছিলেন শরিফুল। ওই ম্যাচ থেকে শুরু হয় তাকে নিয়ে রাহুলের বিশ্লেষণ। প্রতি ম্যাচের পরই নানান ইনপুট দিয়ে থাকেন তিনি। এর ছাপ পড়ছে শরিফুলের বোলিংয়েও।
পরের ৭ ম্যাচে ১৬ শিকার ধরে এখন পর্যন্ত চলতি বিপিএলের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ২৪ বছর বয়সী বাঁহাতি পেসার। শরিফুলের সঙ্গে কী বিষয়ে কাজ করছেন সেসব বিষয়ে ধারণা দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহুল।
“আমরা প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে কাজ করছি। যেমন, কোনো একটি নির্দিষ্ট ম্যাচের জন্য আমরা এমনকি ফিল্ড সেটআপও ঠিক করি- এই ব্যাটসম্যানের জন্য ফিল্ডিং হবে এমন।”
“শুরু থেকেই আমরা যা লক্ষ্য করেছি, তা হলো শরিফুলের নতুন বলের ওভারগুলোতে লাইন ও লেংথে সামান্য পার্থক্য ছিল। সে যা করছিল, প্রয়োজনের তুলনায় একটু বেশি ফুল লেংথ বল করা।”
ফুল লেংথে বল করে শুক্রবার ইসাখিলের কাছেও শুরুতেই বাউন্ডারি হজম করেন শরিফুল। পরে সেটি শুধরে নিয়ে পান সাফল্য। রাহুলও বললেন, ব্যাটারদের ড্রাইভ বন্ধ করে দিয়ে উইকেটের সুযোগ বাড়ানোর কথা।
“পাওয়ার প্লেতে ব্যাটসম্যানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্কোরিং শটগুলোর একটি হলো ড্রাইভ। টি-টোয়েন্টিতে যদি আমরা ব্যাটসম্যানের কাছ থেকে ড্রাইভ শটটা কেড়ে নিতে পারি- গুড লেংথ বা শর্ট অব গুড লেংথ বল করে- তাহলে ড্রাইভ খেলা কঠিন হয়ে যায়। তখন ব্যাটসম্যান স্কয়ার দিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। পাওয়ার প্লেতে যদি ব্যাটসম্যান স্কয়ার দিয়ে খেলেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উইকেট পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।”
মাঝের ওভারগুলোতে পরিকল্পনা সাজানোর বিষয়টিও খোলাসা করেন রাহুল।
“মিডল ওভার ও ডেথ ওভারগুলোতে আমরা যে বিষয়টা ঠিক করার চেষ্টা করেছি, তা হলো বেশির ভাগ ব্যাটসম্যানের বিপক্ষে তার বল প্যাডের দিকে ড্রিফট করছিল। তাই আমরা সেটাকে একটু ফিরিয়ে এনে মিডল ও মিডল–অফে আক্রমণ শুরু করি। এর ফলে যেসব বল আগে রান দিত, সেগুলো এখন হয় উইকেট দিচ্ছে, না হয় এজ হচ্ছে বা ব্যাটসম্যানকে বিট করছে।”
“লেগ সাইডে ড্রিফট হওয়ার ব্যাপারে আমি প্রস্তাব দিয়েছিলাম, তুমি যদি রিলিজ পয়েন্টটা ক্রিজের ডান দিকের দিকে সামান্য সরাও, তাহলে বিষয়টা ঠিক হয়ে যাবে। তাই যখনই আমরা কোনো সমস্যা দেখি, সেভাবেই আলোচনা করি।”
এছাড়া শেষ দিকে ইয়র্কারে জোর দেওয়া নিয়েও কাজ করছেন শরিফুল, এমনটাই জানালেন তার ব্যক্তিগত অ্যানালিস্ট।
“ডেথ ওভারের জন্য আমরা একটি নির্দিষ্ট বোলিং প্যাটার্ন তৈরির কাজও করেছি। তার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ইয়র্কার, কিন্তু সে সেটা করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এখন সে আবার ইয়র্কার বল করছে, সঙ্গে ডেথ ওভারে একটি ঠিকঠাক প্যাটার্ন মেনে বল করছে।”
No posts available.
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৩ পিএম
২৫ এপ্রিল ২০২৬, ৫:১০ পিএম

হঠাৎ দেখে মনে হবে বুঝি হাইলাইটস চলছে। দুই দলের ৩৯ ওভারে রান হলো ৫২৯। কেবল বাউন্ডারি থেকেই এলো ৩৯৪ রান। মোট ছক্কা ৩৩, চার ৪৯। দিল্লির অরুন জেটলি স্টেডিয়ামে আজ চার-ছক্কার মুষলধারে বৃষ্টি নামিয়ে আনল দিল্লি ক্যাপিটালস ও পাঞ্জাব কিংস।
প্রথমে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে হয়তো বেশ তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছিল দিল্লি। তবে ব্যাটারদের রান উৎসবের দিনে পাঞ্জাব তো আর বসে থাকবে না! আইপিলের রেকর্ড বইয়ের পাতা ওলট-পালট করে দিয়ে ৭ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করল তারা।
আইপিএলে রেকর্ড বন্যার দিনে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে ২ উইকেটে ২৬৪ রান করে দিল্লি। জবাবে ৬ উইকেট আর ৭ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাঞ্জাব। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান করে জয়ের রেকর্ড গড়ল তারা। এর আগের রেকর্ডটিও অবশ্য পাঞ্জাবেরই। এর আগে ২০২৪ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে ২৬২ রান তাড়া করে জিতেছিল দলটি।
বৃথা গেল লোকেশ রাহুলের ৬৭ বলে অপরাজিত ১৫২ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস। ৬ চার আর ৯ ছক্কায় সাজানো দিল্লির এই ব্যাটারের টর্নেডো ইনিংসই আইপিএলে ভারতীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ। শুধু আইপিএলই নয়, টি–টুয়েন্টি ক্রিকেটেই ভারতের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে এর চেয়ে বড় ইনিংস ইনিংস আর কারও নেই। আইপিএলে এর আগে ভারতীয়দের সর্বোচ্চ ছিল অভিষেক শর্মার ১৪১।
রাহুলকে যোগ্য সঙ্গ দেন ৪৪ বলে ৯১ রানের ইনিংস খেলা নিতিশ রানা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রানার সঙ্গে রাহুল গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা আইপিএলের ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।
দিল্লির রান পাহাড়ের জবাবটা যেন হেসেখেলেই দিল পাঞ্জাব। যেখানে পাওয়ার প্লেতে দিল্লির স্কোরবোর্ডে ছিল ৬৮ রান, সেখানে ৬ ওভার শেষেই ১১৬ রান তুলে নেয় পাঞ্জাব। ২৯২ স্ট্রাইকরেটে ২৬ বলে ৭৬ করেন প্রাভসিমরান সিং। আরেক ওপেনার প্রিয়ানশ আরিয়ার ব্যাট থেকে আস ১৭ বলে ৪৩ রান। দুই ওপেনারের বিদায়ের পর পাঞ্জাবকে পথ দেখান শ্রেয়াস আইয়ার। ৩৬ বলে ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন তিনি।

আইপিএলে অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে আজ দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে পাঞ্জাব কিংসের ম্যাচে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ফিল্ডিং করার সময় মাথায় মারাত্মক চোট পান দিল্লির দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার লুঙ্গি এনগিডি। মারাত্মক এই চোটের পরপরই মাঠের আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয় ম্যাচ। দ্রুত মেডিকেল টিম মাঠে প্রবেশ করে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয় এবং পরে পরীক্ষার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে নেওয়া হয় পুসা রোডের ম্যাক্স হাসপাতালে।
ঘটনা পাঞ্জাব কিংসের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে। অক্ষর প্যাটেলের একটি স্লোয়ার ডেলিভারি মিড-অফের ওপর দিয়ে তুলে মারেন ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য। বলটি লুফে নিতে এনগিডি পেছনের দিকে দৌড়ান এবং হাত বাড়িয়েও বলের নাগাল পাননি। ঠিক সেই মুহূর্তেই ভারসাম্য হারিয়ে বেশ বাজেভাবে পিঠের ওপর আছড়ে পড়েন এবং মাথা সজোরে মাটিতে আঘাত করে তাঁর।
মাটিতে পড়ার পর এনগিডি বেশ কিছুক্ষণ নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন, যা সবাইকে আতঙ্কিত করে তোলে। তবে স্বস্তির খবর হলো, মেডিকেল টিম যখন তাকে দেখছিল, তখন কিছুটা সাড়া দিচ্ছিলেন ৩০ বছর বয়সী প্রোটিয়া পেসার । মাঠে প্রাথমিক শুশ্রূষার পর তাকে স্ট্রেচারে করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয়। এনগিডি মাঠ ছাড়ার পর বিকল্প ফিল্ডার হিসেবে দুশমন্ত চামিরা মাঠে নামেন।
এবারের আইপিএলে নিলামে ২ কোটি টাকায় দলে এনগিডিকে দলে ভিড়িয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস। চলতি মৌসুমে দিল্লির হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে আছেন এনগিডি। ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট নিয়ে এই পেসারই ছিলেন দলের সেরা বোলার। আইপিএল ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত চেন্নাই সুপার কিংস, আরসিবি এবং দিল্লির হয়ে মোট ২৩টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি, যেখানে ৮.৫৭ ইকোনমি রেটে শিকার করেছেন ৩৬টি উইকেট।
এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস আইপিএল ইতিহাসের এক রেকর্ড গড়া পারফরম্যান্স উপহার দেয়। কে এল রাহুল মাত্র ৬৭ বলে ১৫২ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন। তাঁর অসাধারণ ইনিংস দিল্লিকে আইপিএলের ইতিহাসে তাদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৬৪/২-এ পৌঁছে দেয়। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে নিতিশ রানার (৪৪ বলে ৯১ রান) সঙ্গে গড়েন ২২০ রানের অবিস্মরণীয় জুটি। যা ফ্রাঞ্চাইজিটির ইতিহাসে যে কোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড।

টানা তিন ওয়ানডে
সিরিজ জয়—বাংলাদেশ দলের জন্য অসাধারণ অর্জনই বটে। তার পরও কিছুটা দুশ্চিন্তা ভর করেছে
টিম ম্যানেজমেন্টকে। কারণও বেশ স্পষ্ট—হ্যাটট্রিক সিরিজ জয়ে বোলিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
ছিল পেসারদের, কয়েক সিরিজ ধরেই সেভাবে সুবিধা করতে পারছিলেন না স্পিনাররা।
নিউ জিল্যান্ড
সিরিজেও উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ-শরিফুলরা। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ কিপটে বোলিং করলেও
তিন ওয়ানডে মিলে উইকেট পেয়েছেন ৩টি। পুরো সিরিজে বোলিং করেছেন ২৮.৫ ওভার। বোলিং গড়
৪২.৬৬, স্ট্রাইক রেট ৫৭.৬৬। রিশাদ প্রথম দুই ম্যাচ মিলিয়ে নেন ৩ উইকেট। তৃতীয় ওয়ানডের
একাদশেই জায়গা হারান।
শেষ ম্যাচে
রিশাদের জায়গায় সুযোগ পাওয়া তানভীরও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। ১০ ওভারে ৭০ রান
দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। পাকিস্তান সিরিজেও মাঝের ওভারে মিরাজ-রিশাদরা ভালো অবদান রাখতে
পারেননি।
নিউ জিল্যান্ডের
বিপক্ষে আগামী পরশু থেকে শুরু হচ্ছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং পরামর্শক
মুশতাক আহমেদের আশা, কুড়ি ওভারের সিরিজে স্পিন আক্রমণকেও দেখা যাবে সেরা ছন্দ, ‘আমি
বিশ্বাস করি মাঝের ওভারে স্পিনারদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি স্পিনাররা রান আটকে
দিয়ে উইকেট নিতে পারে, তবে জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।’
ওয়ানডে সিরিজের
আগে পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) চার ম্যাচ খেলে মাত্র ২টি উইকেট পেয়েছিলেন রিশাদ।
প্রত্যেক ম্যাচেই দিয়েছেন ৩৫ কিংবা তার বেশি রান। রিশাদও গা জুড়ানোর সময় নিচ্ছেন না,
নিজেকে আরও শাণিত করতে মুশতাকের বিশেষ ক্লাসে ঘাম ঝরিয়ে চলছেন।
রিশাদের বোলিংয়ে আরো বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং গুগলি আয়ত্ত নেওয়ার দীক্ষা দিচ্ছের মুশতাক,
‘হ্যাঁ, আমরা তার বৈচিত্র্য এবং ক্রিজের ব্যবহার নিয়ে কাজ করছি, বিশেষ করে তার গুগলির জন্য। তার গুগলিটা আরও একটু উন্নত করতে হবে। গুগলির অ্যাঙ্গেল কেমন হবে, ডানহাতি ব্যাটারদের কোন দিকে বল করতে হবে—স্টাম্পের কাছ থেকে নাকি দূর থেকে, সেসব নিয়ে কাজ চলছে।’
মুশতাকের নিজের দর্শনের কথা উল্লেখ করে বলেন,
‘আমি সবসময় একটি কথা বলি, একটি শক্তিশালী এবং পুনরাবৃত্তিযোগ্য অ্যাকশনের সঙ্গে ক্রিজ ব্যবহার করা একজন লেগ স্পিনারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা জানেন, লেগ স্পিনাররা কিছুটা খরুচে হতে পারে। তাই আমরা তার অ্যাকশন নিয়ে কাজ করছি যাতে সে কেবল ভালো বল নয়, বরং ভালো ওভার করতে পারে। সে অনেক উন্নতি করেছে।’
ওয়ানডে সিরিজ
জয়ের পর অধিনায়ক মিরাজ বলেছিলেন, মুশতাক আহমেদের সঙ্গে - সেশনগুলো তাঁর খুব কাজে লেগেছে।
তিনি ভালো বল করছেন, তবে অনেকে মনে করেন তিনি রান আটকে রাখার বোলার। আধুনিক ক্রিকেটে
স্পিনারদের আরও বৈচিত্র্য দরকার। মিরাজ কি সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন?
মুশতাকও মনে করেন বোলিংয়ে বৈচিত্র্য গুরুত্বপূর্ণ,
‘সে সেটি করে দেখিয়েছে। মাঝের ওভারে সে উইকেট পাচ্ছে। গত ম্যাচে সে লাথামের মতো গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়েছে। মিরাজ উন্নতি করছে। তার কাজ এখন শুধু রান আটকে রাখা নয়। সে তার বৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছে এবং এর কৃতিত্ব তার। স্পিন কোচ হিসেবে আমি মনে করি বৈচিত্র্য থাকতেই হবে। বিশেষ করে পশ্চিমা দেশগুলোর ব্যাটারদের হাত খুব দ্রুত চলে, তাই গতির পরিবর্তন করে তাদের পরাস্ত করতে হয়। ক্রিকেট হলো অ্যাঙ্গেলের খেলা। যদি আপনি ট্যাকটিক্যাল মুভ এবং ফিল্ডিং পজিশন দিয়ে ব্যাটারকে রান করা থেকে আটকাতে পারেন এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেন, তবে আপনার জেতার সুযোগ বাড়বে।’

দারুণ
জয়ে পথচলা শুরু করে সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে
আর সেই সম্ভাবনার পূর্ণতা দিতে পারলেন না নিগার সুলতানা জ্যোতি, নাহিদা আক্তাররা। ঘুরে
দাঁড়িয়ে সিরিজ জিতল শ্রীলঙ্কা।
রাজশাহী
বিভাগীয় স্টেডিয়ামে শনিবার সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭
উইকেটে হারিয়েছে শ্রীলঙ্কা। আগে ব্যাট করে ৮ উইকেতে ২১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে ২১
বল বাকি থাকতে জিতে যায় সফরকারীরা।
এই
জয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল লঙ্কান নারীরা। আর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা
আরও বাড়ল বাংলাদেশের।
টস
জিতে ব্যাট করতে নেমে পাওয়ার প্লেতে দুই ওপেনার শারমিন সুলতানা (১৭) ও ফারজানা হক পিঙ্কি
(১১)। ভালো শুরু করেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি শারমিন আক্তার সুপ্তা (২৫)।
চাপ
সামলে চতুর্থ উইকেটে ৬৫ রানের জুটি গড়েন জ্যোতি ও সোবহানা মোস্তারি। তবে রানের গতি
বাড়াতে পারেননি তারা। ৯০ বলে ৪০ রান করে আউট হন জ্যোতি।
এরপর
একাই দলকে এগিয়ে নেন মোস্তারি। ইনিংসের শেষ বলে আউট
হওয়ার আগে ৮ চারে ৮০ বলে ৭৪ রান করেন তিনি। ওয়ানডেতে এটি তার তৃতীয় ফিফটি।
এছাড়া
রিতু মনির ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২০ রান।
শ্রীলঙ্কার
পক্ষে ৩ উইকেট নেন কাভিশা দিলহারি। নিমাশা মাদুশানির
শিকার ২ উইকেট।
রান
তাড়ায় শুরুতেই চামারি আতাপাত্তুর উইকেট নেন মারুফা আক্তার। দ্বিতীয় উইকেটে ১০৮ রানের
জুটি গড়েন হাসিনি পেরেরা ও ইমেশা দুলানি। ওই জুটিতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
৭৬
বলে ৫৬ রান করা দুলানিকে ফিরিয়ে
এই জুটিও ভাঙেন মারুফা। পরে হার্শিতা মাধবীর সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন হাসিনি।
তবে
সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়েও পারেননি হাসিনি। ১৩ বলে ১৩১ বলে ৯৫ রান করেন লঙ্কান ওপেনার।
আর হার্শিতা অপরাজিত থাকেন ৪৪ রানে।
ওয়ানডের
লড়াই শেষে এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হবে দুই দল। সিলেটে আগামী ২৮ এপ্রিল শুরু
হবে সিরিজ।

সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের
পর সংবামাধ্যমের সামনে এসেছেন ইংল্যান্ডের টেস্ট অধিনায়ক বেন স্টোকস। স্টোকসের চেহারা
দেখে রীতিমতো আঁতকে উঠেছেন অনেকেই। ইংলিশ অলরাউন্ডারের এমন পরিবর্তন বিশ্বাসই হচ্ছিল
না অনেক ভক্ত-সমর্থকরা।
সম্প্রতি একটি ভিডিওতে বেন
স্টোকসকে অনেক বেশি রোগা
বা ছিপছিপে দেখা গেছে। মূলত
মুখের এক ভয়াবহ চোটের
কারণে অস্ত্রোপচার করানোর পর তাঁর চেহারায় এই
পরিবর্তন এসেছে। ইংল্যান্ড ক্রিকেটের সঙ্গে যৌথভাবে 'টয়োটা ইউকে'র অফিসিয়াল
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও প্রকাশিত
হয়েছে। সেখানে ইংল্যান্ডের তিন ফরম্যাটের নতুন
'কাস্টোর' কিট বা জার্সি
উন্মোচন করা হয়।
টয়োটা ইউকে-র শেয়ার করা সেই ভিডিও ক্লিপটিতে স্টোকসের শারীরিক পরিবর্তন ছিল চোখে পড়ার মতো। ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের এতটাই রোগা দেখাচ্ছিল যে, ক্যারিয়ারের আর কোনো সময়েই তাকে এমন রূপে দেখা যায়নি। ভিডিওটিতে মার্ক উড এবং বেন ডাকেটের মতো অন্য তারকারাও ছিলেন, কিন্তু সবার নজর কেড়েছে অধিনায়কের এই নতুন লুক।
https://www.instagram.com/toyotauk/?utm_source=ig_embed&ig_rid=a5451926-5f2d-467d-aa9f-0de97e605444
মূলত বছরের শুরুর দিকে নেটে ব্যাটিং
অনুশীলনের সময় বল সরাসরি
স্টোকসের মুখে এসে লাগে।
এই ভয়াবহ চোটের কারণেই তাকে ফেসিয়াল সার্জারি
বা মুখে অস্ত্রোপচার করাতে
হয়। সেই চোট কতটা
গুরুতর ছিল, তা স্টোকসের
কথাতেই স্পষ্ট।
বিবিসি স্পোর্টসকে স্টোকস বলেন, ‘পরিস্থিতিটা সত্যিই ভয়াবহ ছিল। বলটা সরাসরি
আমার মুখে এসে লাগে।
মাত্র কয়েক ইঞ্চির এদিক-সেদিক হলে কিংবা আমি
মাথাটা না ঘোরালে হয়তো
আজ এই সাক্ষাৎকার দেওয়ার
জন্য আমি বেঁচে থাকতাম
না। আমার গালের হাড়ের
নিচের অংশটা একদম তছনছ হয়ে
গিয়েছিল। আমি খুব অল্পের
জন্য বেঁচে গেছি। ভাগ্য ভালো যে আমি
এখনো এখানে আছি এবং সবকিছু
ঠিক আছে।’
আসন্ন ক্রিকেট মৌসুম স্টোকস এবং ইংল্যান্ড দলের
জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অ্যাশেজ সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে
বিধ্বস্ত হওয়ার পর আগামী জুনে
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট
সিরিজ দিয়ে তারা নতুন
করে শুরু করতে যাচ্ছে।
বিপর্যয়ের মাঝেও টিম ম্যানেজমেন্টের পূর্ণ
আস্থা ধরে রেখেছেন স্টোকস
এবং টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে তিনিই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
অ্যাশেজে দলের ভরাডুবির মধ্যেও ব্যক্তিগতভাবে স্টোকস উজ্জ্বল ছিলেন; ব্যাট হাতে ১৮৪ রান
করার পাশাপাশি বল হাতে নিয়েছিলেন
১৫টি উইকেট। ইংল্যান্ড তাদের এই মৌসুমে প্রথমে
নিউজিল্যান্ড এবং পরে আগস্টের
শেষ দিকে পাকিস্তানের বিপক্ষে
তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে মুখোমুখি হবে।