১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৩:০১ পিএম

আকিফ জাভেদের শর্ট বল পুল করে ছক্কা মেরে দিলেন হাসান ইসাখিল। সেঞ্চুরি হয়ে গেছে ভেবে হেলমেট খুলতে নিলেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ব্যাটার। তাকে তখন থামিয়ে দেন হায়দার আলি। তবে পরের বলেই ২ রান নিয়ে প্রথম সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়ে গেলেন মোহাম্মদ নবীর ছেলে।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দুপুরের ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে তাণ্ডব চালালেন ইসাখিল। ৪টি চারের সঙ্গে ১১টি বিশাল ছক্কা মেরে ৭২ বলে ১০৭ রানের ইনিংস খেলেন নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ওপেনার।
বিপিএল ইতিহাসে এক ইনিংসে এর চেয়ে বেশি ছক্কা আছে শুধু ক্রিস গেইলের। ভিন্ন তিন ম্যাচে ১২, ১৪ ও ১৮টি ছক্কা মেরেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের দা ইউনিভার্স বস।
ইসাখিলের ৩৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই প্রথম সেঞ্চুরি। এক ম্যাচ আগেই সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও ৯২ রানে ফিরে গিয়েছিলেন নবীর ছেলে। তবে এবার আর ভুল করলেন না। রয়েসয়ে শুরু করে পরে ঝড় তুলে পৌঁছে গেলেন তিন অঙ্কের কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায়।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে একদম মন্থর শুরু করেন ইসাখিল। প্রথম ৩৫ বলে তিনি করেন মাত্র ২৩ রান। দশম ওভারে আকিফ জাভেদের বলে ছক্কা মেরে তার ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। সেখান থেকে ঠিক ৫০ বলে তিনি করেন ফিফটি।
এরপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে মাত্র ২০ বলে করে ফেলেন পরের পঞ্চাশ রান। অর্থাৎ সব মিলিয়ে তিন অঙ্ক ছুঁতে তার লেগেছে ৭০ বল। প্রথম ৩৫ বলে ২৩ রান করার পর, দ্বিতীয় ৩৫ বলে তিনি নিয়েছেন ৭৮ রান।
বিপিএল ইতিহাসে এটি সবচেয়ে মন্থর সেঞ্চুরির রেকর্ড। ২০১২ সালে টুর্নামেন্টের প্রথম সংস্করণে সিলেট রয়্যালসের বিপক্ষে ঠিক ৭০ বলেই সেঞ্চুরি করেছিলেন খুলনা রয়্যাল বেঙ্গলসের ক্যারিবিয়ান তারকা ডোয়াইন স্মিথ।
নোয়াখালীর প্রথম সাত ম্যাচে দলে ছিলেন না ইসাখিল। শেষ তিন ম্যাচে সুযোগ পেয়ে ১৪৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে এক সেঞ্চুরি ও এক ফিফটিতে তিনি করলেন ২২৪ রান।
এই তিন ম্যাচে ইসাখিলের ব্যাট থেকে এসেছে মোট ১৮টি ছক্কা। যা এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ। ১০ ইনিংসে ১৭টি ছক্কা মেরে এত দিন শীর্ষে ছিলেন পারভেজ হোসেন ইমন। তার চেয়ে ৭ ইনিংস কম খেলেই ওপরে উঠে গেলেন ইসাখিল।
ইসাখিলের সেঞ্চুরির সৌজন্যে ২ উইকেটে ১৭৩ রানের পুঁজি পেয়েছে নোয়াখালী। অথচ প্রথম ১০ ওভারে তাদের সংগ্রহ ছিল মাত্র ৪৭ রান। সেখান থেকে পরের ১০ ওভারে নিয়েছে আরও ১২৬ রান। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৭৪ বলে ১৩৭ রান যোগ করেছেন ইসাখিল ও হায়দার।
No posts available.
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম
১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৯ পিএম

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে ইতালি। প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করতে যাওয়া ইউরোপের দেশটির নেতৃত্ব দেবেন ওয়েন ম্যাডসেন। অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি পরিচিত কয়েকটি মুখ নিয়ে গড়া হয়েছে এই স্কোয়াড।
স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার জেজে স্মাটস। এ ছাড়া ইতালির বিশ্বকাপ দলে আছেন দুই জোড়া ভাই—হ্যারি ও বেঞ্জামিন মানেন্তি এবং অ্যান্থনি ও জাস্টিন মোসকা।
এর আগে বাছাইপর্বে সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জো বার্নস ইতালির নেতৃত্ব দিলেও, গত বছরের শেষ দিকে তাকে অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং স্কোয়াড থেকেও বাদ পড়েন তিনি।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইউরোপ আঞ্চলিক বাছাইপর্বে নেদারল্যান্ডসের পর দ্বিতীয় হয়ে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইতালি। দলটির কোচিং স্টাফে আছেন প্রধান কোচ জন ডেভিসন। ইতালির কোচের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কেভিন ও’ব্রায়েন ও ডাগি ব্রাউন।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘সি’-তে ইতালির সঙ্গী বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, নেপাল ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে অভিযান শুরু করবে ইতালি। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ে নেপালের মুখোমুখি হবে তারা। পরে আবার কলকাতায় ফিরে ১৬ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ড এবং ১৯ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলবে দলটি।
ইতালির বিশ্বকাপ স্কোয়াড :
জাইন আলী, মার্কাস ক্যাম্পোপিয়ানো (উইকেটকিপার), আলি হাসান, ক্রিশান কালুগামাগে, ওয়েন ম্যাডসেন (অধিনায়ক), হ্যারি মানেন্তি, জিয়ান পিয়েরো মিড, অ্যান্থনি মোসকা, জাস্টিন মোসকা, সাঈদ নাকভি, বেঞ্জামিন মানেন্তি, জসপ্রীত সিং, জেজে স্মাটস, গ্রান্ট স্টুয়ার্ট ও থমাস ড্রাকা।

৬ বছর আগে ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দলকে হারিয়ে যুব বিশ্বকাপের শিরোপা প্রথমবারের মতো জিতেছে বাংলাদেশ আকবর আলীর ক্যাপ্টেনসিতে। শনিবার বুলাওয়েতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটা যখন উত্তজনায়, তখন ৬ বছর আগের স্মরণীয় ছবিটাই যেনো ভেসে উঠেছে আকবর আলীর চোখে। বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে প্রথম শিরোপা জয়ে আকবর আলী গণমাধ্যমে হয়ে উঠেছিলেন ‘আকবর দ্য গ্রেট’। শনিবার শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে আকবর দ্য গ্রেট রূপেই ২২ গজী পিচে হাজির রংপুরের এই ক্রিকেট বীর।
৩৬ বলে ৪৯ রানের টার্গেট যখন দুরূহ বলে ধরে নিয়েছে সবাই, তখন ১৫তম ওভারে চাবুক চালিয়েছেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদীকে। ওই ওভারের শেষ ৩ বলে তিন ছক্কায় জয়ের দোরগোড়ায় রাজশাহী ওরিয়র্স। ১৮তম ওভারে বাঁ হাতি পেসার আবু হায়দার রনির বলে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন আকবর আলী (৪১ বলে ১ চার, ৪ ছক্কায় ৪৮), তখন জয়ের খুব কাছে রাজশাহী ওরিয়র্স। ১২ বলে ১২ রানের মামুলি টার্গেট পাড়ি দিতে মোটেও বেগ পেতে হয়নি। ৩ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটের জয়ে পয়েন্ট টেবিলে এককভাবে শীর্ষে উঠে গেছে (১০ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট) নাবিল গ্রুপের মালিকানাধীন দলটি।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটিং দুর্গতিতে পড়েছে উভয় দল। ইনিংসের প্রথম ৬ ওভারে চট্টগ্রাম রয়্যালস হারিয়েছে ৩ উইকেট (৪১/৩), রাজশাহী ওরিয়র্স ও হারিয়েছে সমসংখ্যক উইকেট (২৭/৩)। ১১৯ বলের ইনিংসে চট্টগ্রাম ব্যাটারদের ডট বলের সমষ্টি ৬২টি। রাজশাহী ব্যাটাররা অবশ্য তুলনামূলক কম ডট করেছে, ১১৭ বলের মধ্যে ৪৭টি ডট তাদের।
প্লে অফ নিশ্চিত করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে এই ম্যাচে যুদ্ধটা হয়েছে দু দলের দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ভার্সেস শরিফুল ইসলামের মধ্যে। তানজিম সাকিবের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে ( ৪-০-১৭-৪) চট্টগ্রাম রয়্যালস থেমেছে ১২৫/১০-এ। ১২৬ রানের জবাব দিতে এসে বাঁ হাতি পেসার শরিফুলের প্রথম স্পেলে (৩-০-১৩-৩) ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে রাজশাহী খেয়েছে প্রচন্ড ঝাঁকুনি, স্কোরশিটে ২৭ উঠতে হারিয়েছে তাঁরা ৩ উইকেট।
৯ ম্যাচে ২১ উইকেট পেয়ে চলমান আসরে উইকেট শিকারে সবার উপরে এই পেসার। আর মাত্র ৪টি উইকেট পেলে বিপিএলের এক আসরে সর্বাধিক উইকেট শিকারী (২৫টি) তাসকিনকে স্পর্শ করবেন শরিফুল। সর্বশেষ ২ ম্যাচে ৮ উইকেট শিকারে ( ৫/৯ ও ৩/১৩) এক আসরে সর্বাধিক উইকেট শিকারের কক্ষপথে আছেন শরিফুল।
এমন এক লো স্কোরিং ম্যাচে মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা রাজশাহী ওরিয়র্সের কাজে এসেছে। নিজের ভুল কলে জেমি নিশাম রান আউটে কাটা পড়ায় অনুতপ্ত মুশফিক ফিনিশারের ভুমিকা পালন করেছেন। আকবর আলীকে নিয়ে ৫ম উইকেট জুটিতে ৬৬ বলে ৮৪ রানে দলকে পৌছে দিয়েছেন জয়ের বন্দরে। ৪০ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৪৫ রানের হার না মানা ইনিংসে ম্যাচ উইনার মুশফিকুর রহিম। বিপিএলের চলমান আসরে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম দুই ম্যাচে নিজের অপরিহার্যতার জানান দিতে পারেননি আকবর আলী, ১৭ এবং ২ রানের ইনিংস দুটিতে ফ্রাঞ্চাইজির আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। বিগ ম্যাচের ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেছেন আকবর আলী শনিবার।

সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বের হতেই রমিজ রাজার সঙ্গে দেখা নাহিদ রানার। বিপিএলের ধারাভাষ্যকার ও পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটারের সঙ্গে কিছুক্ষণ কথার পর তরুণ পেসারকে নিয়ে ধারাভাষ্যকারদের কক্ষের দিকে হাঁটা ধরলেন রংপুর রাইডার্সের কর্মকর্তা তাসভির উল ইসলাম।
প্রেসবক্সের ঠিক পাশেই ধারাভাষ্যকারদের কক্ষে ঢুকে কিংবদন্তি পেসার ওয়াকার ইউনিসের দেখা পেয়ে গেলেন নাহিদ। পরের ১৫ মিনিটে চলল ওয়াকারের পেস বোলিং ক্লাস আর মন্ত্রমুগ্ধের মতো সব পরামর্শ শুনলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার। যেখানে ছিল ৩টি বিশেষ বার্তা- খেলা ভালোবাসো, উপভোগ করো আর জোরে বোলিং করো।
শুরুতেই ভারী ও গম্ভীর আলাপে না গিয়ে নাহিদকে ওয়াকার বলেন,
'উপভোগ করছ তো? যদি উপভোগ করো, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উপভোগ করো, জোরে বল করো- এইটাই সবকিছু।'
উত্তরে নাহিদ ছোট্ট উত্তরে জানিয়ে দেন, খেলার বাইরে তেমন কিছু নিয়ে চিন্তা করেন না,
'আমি শুধু খেলতে চাই আর নিজের প্রভাব রাখতে চাই- এর বাইরে কিছু ভাবি না। যা আসার, আমার রিজিকের মধ্যেই আসবে।'
এরপর শুরু হয় বোলিং নিয়ে ওয়াকারের গভীর আলোচনা। স্কিল বাড়ানো, সাহস ধরে রাখা কিংবা নতুন কিছু করা- সব পরামর্শের ভিড়ে একটি কথা বারবার বলছিলেন পাকিস্তানের কিংবদন্তি পেসার। সেটি হলো, কোনোভাবেই ১৫০ কিমি প্রতি ঘণ্টায় বোলিং থেকে সরা যাবে না।
“কপালে যা লেখা আছে, কেউ সেটা কেড়ে নিতে পারে না। একভাবে না হোক, অন্যভাবে ঠিকই আসবে। তোমার গতি আছে- এটা কখনও কমাবে না। ফিট থাকো, সেটার ওপরই ফোকাস করো। যখন জোরে বল করো, শরীর কেমন লাগছে, ফুসফুস কীভাবে রিঅ্যাক্ট করছে- সেগুলো বোঝো।”
“তোমার গতি আছে, তুমি ১৫০-র বোলার। লোকজন তোমাকে ভয় পাবে। তারা সামনে এসে খেলবে না। এটা হারিও না। যদি এটা হারিয়ে ১৩৫-এ নেমে যাও, তাহলে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে যাবে। তাই কিছু বদলাবে না।”
এসময় নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের উদাহরণও টেনে আনেন ওয়াকার।
“আমার ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকবার পিঠের চোটে পড়েছি। আমার অধিনায়ক ছিলেন ইমরান খান। তিনি বারবার বলতেন, 'যত যাই হোক, ১৫০ কিমিতে বল করবে। গতি এর চেয়ে কমলে তোমাকে নামাব না!' আমিও এটাই ভাবতাম। পিঠে সমস্যা হলে সেরে যাবে। কিন্তু গতি কমানো যাবে না।”
তবে গতির পাশাপাশি স্কিলের প্রয়োজনীয়তাও মনে করিয়ে দিতে ভোলেননি পাকিস্তানি কিংবদন্তি।
“সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তুমি কিছু জিনিস শিখে নেবে। বল করতে করতেই স্কিল আপগ্রেড হবে। কিন্তু গতি হারাবে না। আর কারও কথা শুনবে না। আমার অ্যাকশন, তোমার অ্যাকশন, ওর অ্যাকশন- সব আলাদা। আমার পথ আর তোমার পথ আলাদা।”
“যেটা তোমার জন্য কাজ করে, সেটা বদলাবে না। সব সময় হাতে একটা ক্রিকেট বল রেখো, ওটা নিয়ে খেলো। নিজেই অনেক কিছু আবিষ্কার করবে। কিন্তু নিজের স্বাভাবিকতা কখনও হারিও না।”
ওয়াকার জানতে চান, বোলিংয়ের কোন জিনিসটি সহজাতভাবে করতে পারেন নাহিদ। এর উত্তরে তরুণ গতিতারকা বলেন, নতুন বলে আউটসুইংটা এমনিতেই করতে পারেন তিনি। তাই এটি ধরে রাখার পরামর্শ দেন ওয়াকার।
অন্য কারও কথা শুনে কখনও যেন গতি না কমান, সেটি বারবার জোর দিয়ে বলেন একসময় গতির ঝড় তোলা সাবেক পেসার।
“মানুষ বলবে কিছু জিনিস বদলাতে। তুমি বদলাবে না। হাজার জন ঘিরে ধরবে- ‘এটা কাজ করছে না, ঠিক করতে হবে।’ প্লিজ, কিছু ঠিক করতে যেও না। যা নিয়ে এখানে এসেছ, এটাই তোমাকে এতদূর এনেছে। জোরে বল করতে গিয়ে আমার চোটও লেগেছে। সেটি থেকে ফিরে আসা যায়। কিন্তু ১৫০-র নিচে নামবে না। শরীরে শক্তি আছে। সাহসী হও, জোরে বল করো।”
নাহিদ তখন জানান, অন্য কারও কথায় কান দেন না তিনি। তবে নিজের কোনো সমস্যা মনে হলে তিনি ফিরে যান ছোটবেলার কোচের দুয়ারে। তার সঙ্গে কথা বলেই শুধরে নেন নিজের সমস্যা। যা ভালোভাবে স্বাগত জানান ওয়াকার।
“জোরে বল করো- বাকি সব নিজে থেকেই আসবে। সবার সঙ্গেই এমন হয়। মানুষ তোমাকে হাজারটা কথা বলবে। সেগুলো করতে গিয়ে হঠাৎ দেখবে তুমি মিডিয়াম পেসার হয়ে গেছ। তখন অনেকে বলবে, কে তাকে মিডিয়াম পেসার বানাল? আগে তো ঠিকই ছিল।”
“তুমি বললে আগে তোমার কন্ট্রোল ছিল না- এখন তো আছে, তাই না? তাহলে সময়ের সঙ্গে আসবেই। তুমি বল করতে থাকো, এটিই স্কিল এনে দেয়।”
এসময় নিজের কোচিং মেথড সম্পর্কেও ধারণা দেন ওয়াকার।
“এজন্যই আমি কোচিং করি না, মোটিভেট করি। কোচিংয়ে আমি একটাই কথা বলি- একটা বক্স আছে, সেটাকে ব্যবহার করো। মাঝখান থেকে, চওড়া লাইনে আর আম্পায়ারের কাছাকাছি থেকে বল করো। নিজের ভিডিও দেখো- কিছু করলে বল কীভাবে আচরণ করে। সেগুলো নিজেই শিখে নাও। কিন্তু গতি কমাবে না। সবসময় ১৫০ কিমি গতি ধরে রাখো।”
আলোচনা চলতে চলতে মাঠে ততক্ষণে হয়ে যায় দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের টস। তাই ওঠার তাড়া দেখা যায় দুজনের মাঝেই। শেষ করার আগে নাহিদ বলেন, বল ছাড়ার সময় যখন আঙুলে ভালো অনুভূতি হয়, তখনই তিনি বুঝতে পারেন ভালো করতে পারবেন। ওয়াকারও সায় দেন, 'আঙুল থেকে বল ভালোভাবে বের হলেই তোমার দিন ভালো যাবে।'
প্রায় ১৫ মিনিটের আলোচনা শেষে দুজনের ছবি তোলার পালা। তখনও নাহিদের চোখেমুখে অন্যরকম তৃপ্তি ও ভালো লাগা আর কিংবদন্তির কাছ থেকে শিখতে পারার আনন্দের ঝিলিক!

আল ফাহাদের দারুণ বোলিংয়ে ভারতকে নাগালেই রাখল বাংলাদেশ। বৃষ্টির আগে-পরে ব্যাটিংয়েও ম্যাচ জেতার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখল তারা। কিন্তু এরপর নামল ব্যাটিং ধস। তাতেই শেষ জয়ের আশা। ভারতের কাছে হেরে বিশ্বকাপ শুরু করল বাংলাদেশ।
বুলাওয়ায়োতে শনিবারের ম্যাচে ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ১৮ রানে হারিয়েছে ভারত। আগে ব্যাট করে ২৩৮ রানে অলআউট হয় তারা। পরে বৃষ্টির কারণে ২৯ ওভারে ১৬৫ রানের লক্ষ্য পায় বাংলাদেশ। কিন্তু ২২ রানের মধ্যে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই জাওয়াদ আবরারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শুরুর ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়েন আজিজুল হাকিম তামিম ও রিফাত বেগ। ৩৭ বলে ৩৭ রান করে রিফাত আউট হলে ভাঙে জুটি।
এরপর কালাম সিদ্দিকি এলিনকে নিয়ে এগোতে থাকেন তামিম। ইনিংসের ১৮তম ওভারে নামে বৃষ্টি। ফলে ম্যাচ নেমে আসে ২৯ ওভারে। পুনরায় খেলা শুরুর সময় বাংলাদেশের জয়ের জন্য বাকি থাকে ৭০ বলে ৭৫ রান।
দলকে ১০০ পার করিয়ে আউট হন ১৫ রান করা কালাম। এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি করেন তামিম। কিন্তু এরপর আর টিকতে পারেননি তিনি। খিলান প্যাটেলের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দেন ৫১ রান করা বাংলাদেশ অধিনায়ক।
এরপর আর পারেননি কোনো ব্যাটার। একপর্যায়ে ৩ উইকেটে ১২৪ রান থেকে ১৪৬ রানেই অল আউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
ভারতের পক্ষে মাত্র ১৪ রানে ৪ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক বিহান মালহোত্রা।
এর আগে এদিন বৃষ্টির কারণে দেরিতে হয় টস। নিয়মিত অধিনায়ক তামিমের বদলে টস করেন সহ-অধিনায়ক জাওয়াদ আবরার। টস জিতে তিনি ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান।
ফাহাদের তোপে পাওয়ার প্লের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। পরপর দুই বলে ভারত অধিনায়ক আয়ুশ মাত্রে (৬) ও ভেদান্ত ত্রিভেদি (০) ড্রেসিং রুমে ফেরেন। বিহান মালহোত্রাও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি।
চাপের মুখে অবিচল ছিলেন বৈভব সূর্যবংশী। অন্য প্রান্তের ব্যাটাররা টুকটুক করলেও মাত্র ৩০ বলে ফিফটি করে ফেলেন বাঁহাতি ওপেনার। ৬৭ বলে ৭২ রান করা সূর্যবংশীকে আউট করেন ইকবাল হোসেন ইমন।
এরপর একপ্রান্ত ধরে রেখে খেলতে থাকেন অভিজ্ঞান কুন্ডু। রয়েসয়ে খেলে দলকে দুইশ পার করান তিনি।
নতুন স্পেলে ফিরে খিলান প্যাটেলের পর ৮০ রান করা কুন্ডুকেও ফেরান ফাহাদ। আর ভারতের শেষ ব্যাটার দিপেশ দেবেন্দ্রকে আউট করে নিজের ৫ উইকেট পূর্ণ করেন তরুণ পেসার।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দারুণ বোলিং করে ৯.২ ওভারে ৩৮ রান খরচ করে ৫ উইকেট নেন ফাহাদ। যুব বিশ্বকাপে ৫ উইকেট নেওয়ার বাংলাদেশের অষ্টম বোলার তিনি। এছাড়া ইকবাল হোসেন ইমন ও আজিজুল হাকিম তামিম নেন ২টি করে উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ভারত: ৪৮.৪ ওভারে ২৩৮ (আয়ুশ ৬, সূর্যবংশী ৭২, বেদন্ত ০, বিহান ৭, কুন্ডু ৮০, পাঙ্গালিয়া ২, কনিষ্ক ২৮, আমব্রিশ ৫, খিলান ৮, হেনিল ৭*, দিপেশ ১১; ফাহাদ ৯.২-১-৩৮-৫, ইমন ৮-১-৪৫-২, জীবন ১০-১-৪৬-১, তামিম ১০-১-৪২-২, রিজান ৮-০-৪৩-০, সাদ ২.২-০-১৮-০, রাতুল ১-০-৬-০)
বাংলাদেশ: (নতুন লক্ষ্য ২৯ ওভারে ১৬৫) ২৮.৩ ওভারে ১৪৬ (জাওয়াদ ৫, রিফাত ৩৭, তামিম ৫১, কালাম ১৫, জীবন ৭, রিজান ১৫, রাতুল ২, ফরিদ ১, ফাহাদ ০, ইমন ২, সাদ ১*; দিপেশ ৪-০-২৭-১, হেনিল ৪.৩-১-১৭-১, আমব্রিশ ৩-০-১৮-০, কনিষ্ক ৬-০-২২-১, খিলান ৬-০-৩৫-২, আয়ুশ ১-০-৭-০, বিহান ৪-০-১৪-৪)
ফল: ডিএলএস পদ্ধতিতে ১৮ রানে জয়ী ভারত

প্রথম রাউন্ডের শেষটা দারুণভাবেই করল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যার ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৩ উইকেটে হারাল তারা। মাত্র ১২৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে অবশ্য শেষ ওভার পর্যন্ত খেলতে হয় তাদের।
এ নিয়ে টানা চার ম্যাচ জিতল রাজশাহী। সব মিলিয়ে প্রথম রাউন্ডের ১০ ম্যাচের ৮টি জিতে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান পাকা করে ফেলল তারা। অর্থাৎ এক নম্বরে থেকেই প্লে-অফ শুরু করবে রাজশাহী। অন্য দিকে ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে চট্টগ্রাম।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। এক পর্যায়ে ১৩ ওভারের মধ্যে ৭৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা। সেখান থেকে আসিফ আলি ২৪ বলে ৩৯ করে দলকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৮ রান করেন হাসান নাওয়াজ।
বল হাতে আগুন ঝরান রাজশাহীর তানজিম হাসান সাকিব। ৪ ওভারে এক মেডেনসহ মাত্র ১৭ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। এছাড়া জাহান্দাদ খান ও রায়ান বার্লের শিকার ২টি করে উইকেট।
রান তাড়ায় রাজশাহীর শুরুটা ছিল বেশ বাজে। ৭ ওভারের মধ্যে মাত্র ৩১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় তারা। পরে আকবর আলি ও মুশফিকুর রহিম মিলে ৬৬ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের কাছে নিয়ে যান।
তবে দুজনের কেউই ফিফটি করতে পারেননি। ১ চার ও ৪ ছক্কায় ৪১ বলে ৪৮ রান করে আউট হন আকবর। আর ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪২ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জেতান মুশফিকুর।
আগের দিন ৫ উইকেট নেওয়া শরিফুল ইসলাম এদিন ১৩ রানে নেন ৩ উইকেট। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ২১ উইকেট নিয়ে সবার ওপরে বাঁহাতি এই পেসার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
চট্টগ্রাম রয়্যালস: ১৯.৫ ওভারে ১২৫ (হারিস ১৬, নাইম ০, জয় ১৯, রবিন ১০, নাওয়াজ ১৮, মেহেদি ১, আসিফ ৩৯, জামাল ১, রনি ৭, শহিদুল ৩*, সানি ২; নিশাম ৩-০-১৬-১, জাহান্দাদ ৩.৫-০-২৯-২, সাকিব ৪-১-১৭-৪, সাকলাইন ৪-০-১৬-০, মুরাদ ৩-০-২৬-১, বার্ল ২-০-১৫-২)
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স: ১৯.৩ ওভারে ১২৬/৭ (সাহিবজাদা ৭, তামিম ৮, শান্ত ৩, মুশফিক ৪৬*, নিশাম ৩, আকবর ৪৮, বার্ল ০, সাকিব ২, জাহান্দাদ ৫*; শরিফুল ৪-০-১৩-৩, রনি ৪-০-২৫-১, জামাল ৪-০-২২-০, মেহেদি ৪-০-৪০-২, সানি ৩.৩-০-২৩-০)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৩ উইকেটে জয়ী