
প্রথম ম্যাচে দুই দলের মধ্যে ছিল বিশাল ব্যবধান। ব্যাটে-বলে কোনো বিভাগেই লড়াই জমাতে ব্যর্থ হয় আয়ারল্যান্ড নারী দল। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে কিছুটা প্রতিদ্বন্দিতা করতে পেরেছে দলটি। তবে বাংলাদেশের মেয়েদের জয়ের ক্ষেত্রে সেটা বাধা হতে পারল না অবশ্য। আঁটসাঁট বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে অল্পে আটকে দেওয়ার পর পেশাদার রান তাড়ায় জয় তুলে নিয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তাতে নিশ্চিত হয়ে গেল ওয়ানডে সিরিজ জয়ও।
মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জিতেছে ৫ উইকেটে। প্রতিপক্ষকে ১৯৩ রানে আটকে দেওয়ার পর ৩৭ বল হাতে রেখেই জয়ের দেখা পেয়েছে স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশের লিড ২-০ ব্যবধানে।
মাঝারি মানের এই রান তাড়ায় শুরুতেই মুরশিদা খাতুনকে হারায় বাংলাদেশ। তবে প্রথম ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটাররা যে ফর্ম দেখিয়েছিলেন, সেটা তারা টেনে আনেন এই ম্যাচেও। দ্বিতীয় উইকেটে তাই ফারজানা হক ও শারমিন আক্তার মিলে যে জুটি গড়েন, সেটা ম্যাচের রোমাঞ্চ প্রায় শেষ করে দেয়। দুজন মিলে যোগ করেন ৮৫ রান।
প্রথম ম্যাচে ৬১ করা ফারজানা আরও একবার দারুণ ব্যাটিং করে তুলে নেন টানা দ্বিতীয় ফিফটি। আর আগের ম্যাচে ৮৯ বলে ৯৬ করা শারমিনও বজায় রাখেন ধারা। এদিন অবশ্য কিছুটা ধীরে ইনিংস এগিয়ে নেন তিনি। ৬৩ বলে আসে ৪৩ রান। আর ঠিক পঞ্চাশ করে আউট হয়ে যান ফারজানা। দলীয় ১২৯ রানে চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে সোবহানা মোস্তারির আউটে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
তবে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন নিগার। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলের সাথে পাল্লা দিয়ে খেলেন ১০২ স্ট্রাইক রেটে ৪০ রানের ইনিংস। ৪টি চারের পাশাপাশি ছক্কা হাঁকান একটি। ২৯ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন স্বর্ণা।
আগের ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ের কারনেই কিনা, আয়ারল্যান্ডের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল টিকে থেকে পুরো পঞ্চাশ ওভার ব্যাট করার। ফলে শুরু থেকেই রানের গতি ছিল বেশ ধীর। প্রথম দশ ওভারে রান আসে মাত্র ৩৫, আর তাতেই হারায় দুটি উইকেট। গ্যাবি লুইসকে সুলতানা খাতুন। আর সারাহ ফোবর্সকে শিকার বানান আগের ম্যাচে তিন উইকেট পাওয়া নাহিদা আক্তার।
তবে তৃতীয় উইকেটে ঘুরে দাঁড়ায় আয়ারল্যান্ড। রানের গতি বাড়িয়ে বাংলাদেশের বোলারদের চাপে ফেলে দেন অ্যামি হান্টার ও ওরলা প্রেন্ডারগাস্ট। তবে ইনিংস এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ধীরলয়ে ব্যাটিং করা ওরলা শেষ পর্যন্ত রান আউট হন ৩৭ রানে, বল খেলেন ৭২টি। এরপরই ঘুরে দাঁড়ায় নিগারের দল। ৮ বাউন্ডারিতে ৬৮ রান করা অ্যামিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন স্বর্ণা আক্তার।
শেষের দিকে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আয়ারল্যান্ড পারেনি দ্রুত রান তুলতে। ফলে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে দলটি টেনেটুনে যেতে পারে দুইশ রানের কাছাকাছি। ৩২ রানে ২ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার শারমিন সুলতানা।
No posts available.
১৩ মার্চ ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম
১৩ মার্চ ২০২৬, ৮:৩০ পিএম

কাকতালীয়ই বটে। দুই দিন আগে ঠিক ইফতারের সাইরেন বেজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সিরিজের প্রথম ম্যাচের ফল নিষ্পত্তি হয়েছে। ৪৮ ঘন্টা পরে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের দর্শক যখন ইফতারির পরে পাকিস্তানের ইনিংস শেষ হওয়ার প্রহর গুনেছেন, তখন রিশাদের বলে মোহাম্মদ ওয়াসিমের আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তান অল আউট, ঠিক সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ইফতারির আজানের ধ্বনি শুনেছে মিরপুরে দর্শক! সিরিজের প্রথম ম্যাচে ১১৪রানে অল আউট পাকিস্তান, বৃষ্টি বিঘ্নিত সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেই স্কোরেই বাংলাদেশকে অলআউট করেছে পাকিস্তান।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প ফুটে উঠেছে পাকিস্তান ক্রিকেটারদের অভিব্যক্তিতে।
শিলা বৃষ্টির পর আকাশে বজ্রপাতে ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভিয়ে দিয়েছে বিসিবি। রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন শেষে পিচ কভার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, জ্বলেছে সব কটি ফ্লাড লাইটের বাল্ব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ৩২ ওভারে বাংলাদেশ দলের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রান। অর্থাৎ অবশিষ্ট ২৫.৩ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১৬ রান। ওভারপ্রতি ৮.৫৩ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই নামতে হত বাংলাদেশ দলকে। পুনরায় খেলা শুরুতে লিটনের ব্যাটিংয়ে সেই মেজাজই দেখেছে দর্শক। তবে বাঁ হাতি স্পিনার মাজ সাদাকাতের ৫ ওভারের একটি স্পেলে (৫-০-২৩-৩) প্রথম বলে দর্শনীয় পুল শটে ডিপ মিড উইকেটের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে পরের বলে সুইপ করতে যেয়ে এলবিডাব্লুতে কাটা পড়েছেন লিটন দাস (৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৪৪)। ৪র্থ উইকেট জুটিতে লিটন-হৃদয়ের ৪৮ বলে ৫৪ রানের পার্টনারশিপকে অনুসরণ করতে পারেনি পরবর্তীতে কেউ।
বৃষ্টির পর উইকেটে ধরেছে স্পিন। তাতেই মাজ সাদাকাত চিনিয়েছেন নিজেকে। লিটনকে শিকারে প্রথম আন্তর্জাতিক উইকেট শিকার উদযাপন করা মাজ সাদাকাত নিজের তৃতীয় ওভারে আফিফকে ( ১৫ বলে ২ ছক্কায় ১৪)পুল শটে প্রলুব্ধ করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। তাঁর ৪র্থ ওভারের শেষ বলে রিশাদ ফ্রন্ট ফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে বোল্ড (৫ বলে ২)।
৭৩ রানে ৩ উইকেটের পর মাজ সাদাকাতের ছোবলে স্কোরটা যখন ১০১/৭, তখনই ম্যাচের গতিপথ নির্ধারিত হয়ে গেছে। বাকি আনুষ্ঠানিকতা সেরেছেন পেসার হারিস রউফ তার ভয়ংকর শেষ স্পেলে (২.৩-০-৬-৩)। শেষ ৩ উইকেট পড়েছে মাত্র ১১রানে। তাতেই সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে ১১৪ রানে অলআউটের বদলা নিয়েছে পাকিস্তান, সেই ১১৪ রানে বাংলাদেশকে অলআউট করে।

ক্রিকেটে আউট হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তবে কিছু আউট থাকে, যেগুলো নিয়মের চেয়ে বিতর্কের কারণেই বেশি আলোচিত হয়। যার সবশেষ সংযোজন মিরপুরে আজ বাংলাদেশ-পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সালমান আলি আগাকে করা মেহেদি হাসান মিরাজের আউটটি।
গত এক দশকে বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে এমন কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, যা শুধু মাঠেই উত্তেজনা তৈরি করেনি বরং ক্রিকেট বিশ্বেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দেখে নেওয়া যাক বাংলাদেশের সঙ্গে যত বিতর্কিত আউট
অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসের 'টাইমড আউট'
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে সাকিব আল হাসানের আবেদনের প্রেক্ষিতে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে টাইমড আউট দিলে চরম বিতর্ক হয়। হেলমেটের সমস্যার কারণে মাঠে নামতে দেরি হওয়ায় সাকিবের আপিলে ম্যাথিউসকে টাইমড আউট ঘোষণা করেন আম্পায়ার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটিই প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র ঘটনা।
মুশফিকুর রহিমের 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড'
২০২৩ সালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে নির্বিষ এক ডেলিভারি মুশফিকুর রহিম ডিফেন্স করার পর বল যখন স্ট্যাম্পের দিকে যাচ্ছিল, তখন তিনি হাত দিয়ে সেটি সরিয়ে দেন। কিউইদের আবেদনে আম্পায়ার তাকে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' হিসেবে আউট ঘোষণা করেন। বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে এ ধরনের আউটের ঘটনা।
টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটার হিসেবে এই আউট হন মুশফিক। এর আগে ১৯৫১ সালে ওভাল টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে 'অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড' আউট হয়েছিলেন ইংল্যান্ডের ওপেনার লেন হাটন।
রোহিত শর্মার নো-বল বিতর্ক
২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে রুবেল হোসেনের একটি ফুল টস বলে রোহিত শর্মা ক্যাচ দিলেও আম্পায়ার আলিম দার সেটিকে নো-বল ডাকেন। রিপ্লেতে দেখা যায় বলটি কোমরের নিচে ছিল। সেই ম্যাচে রোহিত জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি করেন এবং বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সময় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল ক্রিকেটবিশ্বে।
সালমান আলী আগার বিতর্কিত রান আউট
বিতর্কিত আউটের সবশেষ সংযোজন মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে আজকের (১৩ মার্চ) ম্যাচে। টস হেরে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ৩৯ তম ওভার করতে আসেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ অধিনায়কের করা চতুর্থ বলটি রক্ষণাত্মক ভঙ্গিমায় খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। অপরপ্রান্তে ৬৪ রানে থাকা সালমান আলি আগা রান নিতে গিয়ে সামনে গিয়ে বলটি এগিয়ে দিতে চেয়েছিলেন মিরাজের হাতে।
তবে মিরাজ বলটি হাতে নিয়ে দ্রুত স্ট্যাম্পে ভাঙ্গেন এবং রান আউটের আবেদন করেন। আম্পায়ার আউট দিলে সালমান আলি আগা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। এই ঘটনার পর আবারও ক্রিকেট বিশ্বে 'স্পিরিট অফ ক্রিকেট' নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। তাহলে কী প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প পাকিস্তানের ?
তবে শিলা বৃষ্টির পর আকাশে বজ্রপাতে ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভিয়ে দিয়েছে বিসিবি। রাত ৮টা ৫৭ মিনিটে মাঠ পরিদর্শন শেষে পিচ কভার উঠিয়ে নেয়া হয়েছে, জ্বলেছে সব কটি ফ্লাড লাইটের বাল্ব। রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে খেলা পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা। ৩২ ওভারে বাংলাদেশ দলের টার্গেট দাঁড়িয়েছে ২৪৩ রান। অর্থাৎ অবশিষ্ট ২৫.৩ ওভারে বাংলাদেশকে করতে হবে ২১৬ রান। ওভারপ্রতি ৮.৫৩ রানের টার্গেট পাড়ি দিতে হবে বাংলাদেশ দলকে। টি-২০ মেজাজে ব্যাটিংয়ের মানসিকতা নিয়েই নামতে হবে বাংলাদেশ দলকে।

বাংলাদেশের ইনিংসের ৫.৪তম ওভারে ঘটেছে বড় ধরণের ইনজুরির ঘটনা। পাকিস্তান পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমকে লিটন দাস কভার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরেছেন। ওই বাউন্ডারি বাঁচাতে যেয়ে বড় ধরনের ইনজুরিতে পড়েছেন ফিল্ডার হুসেইন তালাত। বাউন্ডারি রোপ পেরিয়ে ভিআইপি গ্যালারির দেয়ালের সঙ্গে ধাক্কা খান তিনি। বিসিবির মিডিয়া রিলিজ বলছে, আঘাতটা লেগেছে তার সোলডারে, তাই সিটি স্ক্যানের প্রয়োজন পড়েছে। তাই অ্যাম্বুলেস যোগে সঙ্গে সঙ্গে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
কেনো এমন হলো ? এটাই প্রশ্ন।
এরশাদ সরকারের আমলে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামটি নির্মিত হয়েছে ফুটবল এবং অ্যাথলেটিক্স খেলার কথা মাথায় রেখে। ১৯৮৮ সালে ফুটবল দিয়ে অভিষেক হওয়া এই স্টেডিয়ামটিতে ১৯৯৩ সালে সাফ গেমসকে সামনে রেখে বসেছে অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক। সে কারণে ২০০৫ সালে আয়তকার এই স্টেডিয়ামটিকে ক্রিকেট ভেন্যুতে রূপান্তরে বিসিবিকে পড়তে হয়েছে সমস্যায়। পূর্ব গ্যালারি এবং পশ্চিম প্রান্তের ভিআইপি গ্যালারির ফেন্সিং ভেঙ্গে স্কোয়ার লেগ, এবং কভার পজিশনে মাঠের আয়তন আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বানাতে হয়েছে। মূল স্টেডিয়ামের কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন এনে এই দুই পজিশনে গ্যালারির দুটি ধাপও ভেঙ্গে ফেলতে হয়েছে। তারপরও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য ব্যবহৃত ৩, ৪ এবং ৫ নম্বর পিচ থেকে বাউন্ডারি রোপের দূরত্ব দেশের অন্যসব ক্রিকেট ভেন্যুর তুলনায় ছোট।
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের কিউটের বদিউল আলম খোকন অবশ্য বলেছেন আইসিসির গাইডলাইন অনুযায়ী বাউন্ডারি রোপ থেকে দেয়ালের দূরত্ব রাখা হয়েছে-
‘ আইসিসির শর্ত অনুযায়ী বাউন্ডারি রোপ থেকে গ্যালারির দেয়ালের দূরত্ব ১০ ফুট থাকতে হবে। সেই হিসাব করে এই ম্যাচে সেন্টার উইকেট থেকে কভার পজিশনে মাঠের দূরত্ব ৬৮ মিটার রেখে বাউন্ডারি রোপ থেকে ফেন্সিংয়ের দূরত্ব ২.৭৪ মিটার রাখা হয়েছে।’
আইসিসির শর্ত অনুযায়ী সেন্টার উইকেট থেকে কভার-স্কোয়ার লেগে বাউন্ডারির দূরত্ব ৬০ মিটার রাখলেই আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে সেখানে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের মাঠের আয়তন সেখানে লং অন-লং অফে ৭০ মিটার, পূর্ব দিকে স্কয়ার লেগ-কভার পজিশনে ৬৪ মিটার, পশ্চিম প্রান্তে কভার-স্কোয়ার লেগে সেখানে ৬৮ মিটার। অর্থাৎ যে পজিশনে তালাত ইনজুরিতে পড়েছেন, সেই পজিশনে মাঠ ৮ মিটার ছোট করলেও আইসিসির আপত্তি থাকতো না। আর যদি মাঠের এই পজিশনের আকার ছোট না করা যায়, তাহলে দুই টিমের দুই ড্রেসিং রুমের পাশে থাকা ফেন্সিং ওয়াল ভেঙ্গে ফেলাটাই উত্তম। তা না হলে ভবিষ্যতে হুসেইন তালাতের মতো ইনজুরিতে পড়তে পারেন আরও কেউ কেউ।

সিরিজের প্রথম ম্যাচে যে দলটিকে ১১৪ রানে ইনিংস গুড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ, সেই পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে করেছে ২৭৪/১০! শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া পিচে এই স্কোর প্রত্যাশিতই। ৪৮ ঘন্টা আগে বাংলাদেশ বোলারদের বোলিং তাণ্ডবে ছিন্নভিন্ন হওয়া পাকিস্তান কীভাবে দ্বিতীয় ম্যাচে এতোটা ঘুরে দাঁড়ালো ? এই প্রশ্নের উত্তরে কৃতিত্ব দিতে হবে তাদের ওপেনিং ব্যাটার মাজ সাদাকাত (৪৬ বলে ৭৫), শাহিবজাদা ফারহান (৪৬ বলে ৩১), মিডল অর্ডার মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯ বলে ৪৪), সালমান আগা (৬২ বলে ৬৪)-কে। প্রথম উইকেট জুটির ৭৮ বলে ১০৩, ৪র্থ উইকেট জুটির ১১৫ বলে ১১৯ রান বড় পুঁজির সহায়ক হয়েছে।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর প্রথম ১০ ওভারে পাকিস্তানের স্কোর ৮৩/০, ওভারপ্রতি রান ৮.৩০। তাসকিন এবং নাহিদ রানার অমিতব্যয়ী প্রথম স্পেলের কারনেই শুরুতে ছিল বাংলাদেশের ছন্দহীন। ২ ওভারের প্রথম স্পেলে উইকেটহী তাসকিনের খরচা ২০, নাহিদ রানা সেখানে উইকেটহীন ৩ ওভারে খরচা করেছে ৩২।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে শর্ট বলের ছড়াছড়িতে পাকিস্তান ব্যাটারদের আঁতকে দিয়েছেন দীর্ঘদেহী তরুণ পেসার নাহিদ রানা। সেই ম্যাচে নামতা গুনে প্রথম ৫ ওভারের প্রতিটিতেই একটি করে শিকার করেছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে গতির বোলার। দ্বিতীয় ম্যাচে সেই রূপে দেখা যায়নি নাহিদ রানাকে। ৩ ওভারের প্রথম স্পেলটি তার খরুচে (৩-০-৩২-০)। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারে খরচ করেছেন ২০ রান।
যেভাবে পাকিস্তান ইনিংস শুরু করেছে, তাতে তিনশ প্লাস স্কোরের পূর্বাভাস কিন্তু ছিল। ৪০ ওভার পর্যন্ত রানের গতিটা সেই কক্ষপথেই ছিল। তবে রিশাদের শেষ স্পেলের (১.৩-০-৫-২) সঙ্গে মোস্তাফিজের শেষ স্পেলে (২-০-৮-১) পাকিস্তানকে ২৭৪-এ থামিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ পাওয়ার প্লেতে ৩৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারাতে হয়েছে পাকিস্তানকে।
সিরিজের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের পেস ত্রয়ী ছড়িয়েছে আতঙ্ক। দ্বিতীয় ম্যাচে তাসকিন (৮-০-৫৯-১),নাহিদ রানা (১০-০-৫৯-১), মোস্তাফিজ (৯-০-৫৩-১) করেছেন গড়পড়তা বোলিং। ব্যতিক্রম ছিলেন অফ স্পিনার মিরাজ (১০-২-৩৪-২) এবং লেগ স্পিনার রিশাদ (৯.৩-০-৫৬-৩)।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচটি ছিল মাজ সাদাকাতের ওডিআই অভিষেক। ২৮ বলে ১৮ রানের সেই অভিষেক ইনিংসের অতৃপ্তি ঘোঁচাতে দ্বিতীয় ম্যাচের শুরু থেকে টি-২০ আমেজে ব্যাটিং করেছেন। মোস্তাফিজের প্রথম দুই বলে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মাজ সাদাকাত তাসকিনের এক ওভারে মেরেছেন ২টি ছক্কা। যার মধ্যে একটি নো বলে পুল শটে ছক্কা! নাহিদ রানার প্রথম ওভারে লং অনের উপর দিয়ে তার ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ৯৭ মিটার।
৩১ বলে অভিষেক ফিফটি উদযাপন করেছেন মাজ সাদাকাত। ১০ ওভার শেষে পাকিস্তানের স্কোর যখন ৮৫/০, তখন মাজ সাদাকাতের ৬৩। মিরাজের দ্বিতীয় ওভারে স্কুপ করতে যেয়ে টপ এজ হয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ, ততোক্ষণ ৪৬ বলে ৬ চার, ৫ ছক্কায় ৭৫ রান করেছেন তিনি ১৬৩.০৪ স্ট্রাইক রেটে।
৫০ বলে ফিফটি পূর্ণ করে ৪র্থ উইকেট জুটিতে রিজওয়ানের সাথে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপে নেতৃত্ব দেয়া সালমান আগা-কে কৌশলে ফিরিয়ে দিয়েছেন মিরাজ। ২০২৩ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুউজকে টাইমড আউটে ফিরিয়ে দিয়ে সাকিবের যে দৃষ্টান্তটি এখনো শ্রীলঙ্কা সমর্থকদের চোখে গেম অব স্পিরিটের পরিপন্থি, সেই ছবিটিই মনে করিয়ে দিয়েছেন চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিরাজ। ৩৯তম ওভারের ৪র্থ বলে মিরাজকে পাঞ্চ করেছিলেন রিজওয়ান। সেই বলটি ফলো থ্রুতে ধরতে যখন চেষ্টা করেছেন বোলার মিরাজ, তখন পপিন ক্রিজের বাইরে এসে বলটি নন স্ট্রাইক এন্ডের ব্যাটার সালমান আগা মিরাজের ফিল্ডিংয়ে বাধা তৈরি করতে অপচেষ্টা করেছেন। প্রথম ব্যাট দিয়ে বলটি থামাতে চেয়েছেন, পরে মিরাজের সঙ্গে বলটি ধরতে দিয়েছেন পাল্লা। কিন্তু তার সব অপচেষ্টা হয়েছে বিফল। বলটি ডেড হওয়ার আগে মিরাজ অন্ডার আর্ম থ্রো-তে রান আউটে হতভম্ব করেছেন সালমান আগাকে (৬২ বলে ৭ চার, ২ ছক্কায় ৬৪)। টিভি আম্পায়ার ধর্মসেনাও এটিকে বৈধ রান আউটের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। বল ‘ডেড’ হওয়ার আগে ক্রিজের বাইরে থাকায় নিয়মানুযায়ীই রানআউট হয়ে ফিরতে হয়েছে তাঁকে।তবে এই আউট নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উষ্মা প্রকাশ করেছেন সালমান আগা। মিরাজের উপর ক্ষুব্ধ হতে দেখা গেছে তাকে, লিটনকে উদ্দেশ্য করেও কিছু একটা বলতে দেখা গেছে সালমান আগাকে। মিরাজও পাল্টা জবাব দিয়েছেন। নিজের ভুলে আউট হয়েও ক্রোধ প্রকাশ করতে ড্রেসিং রুমে ফেরার পথে বাউন্ডারি রোপের সামনে ব্যাট-হেলমেট ছুঁড়ে ফেলেছেন!
২৭৬ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ টপ অর্ডাররা দিয়েছে বিপদসংকেত। ৬.৩ ওভার শেষে সন্ধ্যা ৭টা ২১ মিনিটে যখন শিলাবৃষ্টিতে ম্যাচটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা, তখন পাকিস্তান পেসার শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩.৩-০-৯-২) এবং মোহাম্মদ ওয়াসিমের (৩-০-১৮-১) বোলিংয়ে বাংলাদেশের স্কোর ২৭/৩। তাহলে কী প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে বড় লজ্জার বদলা নেয়ার সংকল্প পাকিস্তানের ? এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ( রাত ৮টা ১৫ মিনিট) খেলা পুনরায় শুরু হয়নি। ফ্লাড লাইটের অনেকগুলো বাল্বও নিভে গেছে।