৭ এপ্রিল ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম

স্বাধীনতার পর থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বর্তমানে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) পরিচালিত হয়েছে অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি দিয়ে। ১৯৯৭ সালে প্রথমবারের মতো কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) গণতান্ত্রিকভাবে বোর্ড পরিচালনা শুরু করে। ২০০১, ২০০৫, ২০০৮, ২০১৩, ২০১৭, ২০২১ এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
১৯৯৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদ এবং পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন হয়েছে সভাপতি পদ বাদ দিয়ে। সরকার মনোনীত সভাপতিই ১৯৭২ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালনায় দিয়েছেন নেতৃত্ব। ২০০৮ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে সভাপতি পদে পরিবর্তন এসেছে। ২০১২ সালের অক্টোবরে আইসিসির সহ সভাপতি পদে ( পরবর্তীতে আইসিসির সভাপতি) বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আ.হ.ম মোস্তফা কামাল নির্বাচিত হলে তার স্থলে নাজমুল হাসান পাপনকে বিসিবির সভাপতি পদে নিযুক্ত করে ক্রীড়া মন্ত্রানালয়। দায়িত্ব গ্রহনের ঠিক এক বছর পর অর্থাৎ ২০১৩ সালের অক্টোবরে সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান যুক্ত করে পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করেন তিনি। সেই থেকে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে বিসিবির সভাপতি নির্বাচনের ধারা প্রচলিত আছে।
নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা পরিষদ গঠিত হওয়ার রেওয়াজে বেশ ক'দফায় বাধা এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের (১৯৯৬-২০০১) শেষ দিকে ২০০১ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিসিবিবর পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের ১৮ মাস পর ভেঙ্গে দেয়া হয় সেই নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ। কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে পরিচালনা পরিষদে বিসিবির গঠণতন্ত্রের সংশোধনীতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন নেওয়া হয়নি, এই অভিযোগে বিসিবির পরিচালনা পরিষদ কেনো অবৈধ হবে না, বিসিবির কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম বাবুর এই রিট মামলার প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত রুল জারি করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। ২০০২ সালের ১১ আগষ্ট বিসিবির পরিচালনা পরিষদের কার্যক্রমে স্থগিতাদেশ দেয় আদালত।
বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আলী আসগর লবি এমপিকে বিসিবি পরিচালনায় একক ক্ষমতা দিয়ে ৬০ দিনের মধ্যে নির্বাচন পরিচালনার আদেশ দেয় আদালত। তবে এই সময়ের মধ্যে বিসিবির নিয়মিত কমকাণ্ড পরিচালনার পাশাপাশি গঠণতন্ত্র সংশোধন করা কঠিন হয়ে পড়ায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অনুমোদন নিয়ে ১০ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেন বিসিবির তৎকালীন সভাপতি আলী আসগর লবি। গঠণতন্ত্র সংশোধন করে নির্বাচন দিতে অপেক্ষার প্রহর বাড়তে বাড়তে লেগে যায় ৩ বছর।
৪ বছরের জন্য নির্বাচিত ২০০৫ সালে বিসিবির নির্বাচিত কার্যনির্বাহী পরিষদ ২ বছরের মাথায় ভেঙ্গে যায়। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার গণ পদত্যাগে বাধ্য করে বিসিবির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের। কার্যনির্বাহী কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে লে. জে. সিনা ইবনে জামালীকে সভাপতি করে ১১ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। সেই উপদেষ্টা কমিটিকে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার শর্ত জুড়ে দিয়েছিল এনএসসি। তবে বিসিবির গঠণতন্ত্রে ব্যাপক সংশোধনী এনে নির্বাচন আয়োজনে সিনা ইবনে জামালীর নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের লেগে যায় ১৬ মাস। ২০০৮ সালের নভেম্বরে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনের পর সেই কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ন হলে ২০১২ সালের নভেম্বরে নাজমুল হাসান পাপনকে সভাপতি পদে বহাল রেখে নির্বাচিত পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে এনএসসি গঠন করে অ্যাডহক কমিটি। সেই কমিটিও ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে পারেনি। সময় নিয়েছে এক বছর। গঠণতন্ত্রে সংশোধনী এনে সভাপতি পদে নির্বাচনের বিধান রেখে ২০১৩ সালের অক্টোবরে বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করেছে। উপর্যুপরি ৩টি নির্বাচনে ( ২০১৩, ২০১৭ এবং ২০২১) প্রথমে পরিচালক পদে নির্বাচিত হয়েছেন, পরবর্তীতে পরিচালকদের ভোটে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন।
তবে জুলাই বিপ্লবে ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত হলে সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ বিসিবির অধিকাংশ পরিচালক দেশত্যাগ করলেও বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দেয়নি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। ২৫ সদস্যের পরিচালনা পরিষদে অনুপস্থিত পরিচালকদের শুণ্যপদে নির্বাচনও দেয়নি এনএসসি। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটায় সরাসরি নির্বাচিত ২ পরিচালকের একজনকে ( জালাল ইউনুস) জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়, অন্য আর এক পরিচালককে ( আহমেদ সাজ্জাদুল আলম ববি) গঠণতন্ত্র বর্হিভুতভাবে কাউন্সিলর এবং পরিচালক পদ শুণ্য করে এই দুটি পদে ফারুক আহমেদ এবং নাজমুল আবেদিন ফাহিমকে প্রথমে এনএসসির কাউন্সিলর এবং পরবর্তীতে পরিচালনা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের ২১ আগষ্ট ক্রীড়া মন্ত্রানালয়ে অনুষ্ঠিত সেই সভাতেই পরিচালকদের কণ্ঠভোটে ফারুক আহমেদকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেই থেকে বিসিবির সভাপতির চেয়ারটি হয়ে পড়েছে মিউজিক্যাল চেয়ার।
অন্তবর্তীকালীন সরকারের যুবও ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ায় বিসিবির ৮ পরিচালকের স্বাক্ষরে ফারুক আহমেদকে অপসারিত করে তার স্থলে পুনরায় গঠণতন্ত্র লংঘন করে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে প্রথমে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কোটায় কাউন্সিলর, পরবর্তীতে পরিচালক এবং সভাপতি পদে নির্বাচিত করা হয়। সভাপতি পদে মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি ফারুক আহমেদ। ৯ মাস পর থামিয়ে দেয়া হয়েছে তাকে। তবে আইসিসির ডেভেলপম্যান্ট ম্যানেজারের চাকরি ছেড়ে বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ৫পর নির্বাচন দিয়ে সেই নির্বাচনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়ে ৬ মাসে থেমে গেল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কার্যক্রম।
বিসিবি নির্বাচনে এনএসসির গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি বলে গণমাধ্যমকে বলেছিলেন তদন্ত কমিটি প্রধান সুপ্রীম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। তবে ৩৪ পৃষ্টার সেই রিপোর্ট বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে সব ক্যাটাগরির নির্বাচনেই অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের কমিটি, মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান।
বিসিবির নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়নে গঠণতন্ত্র লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বিসিবির পরিচালনা পরিষদ ভেঙ্গে দিয়ে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। তামিম ইকবালের নেতৃত্বে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ তিন মাস। বিসিবির পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করবে এই অ্যাডহক কমিটি।
তবে বিসিবির নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম তদন্তে স্বাধীন তদন্ত কমিটির রিপোর্টের সুপারিশমালায় গঠণতন্ত্র ব্যাপকভাবে সংশোধনের কথা বলা আছে। ফলে এই সুপারিশকে গুরুত্ব দিলে ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করা কতোটা সম্ভব, তা সময়ই বলে দিবে। কারণ, ইতোপূর্বে কখনোই অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ হয়নি। অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা নির্বাচন করতে পারবেন কি না, মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ প্রশ্নের কোনো পরিষ্কার উত্তর দেননি এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান। কারণ, ২০০৫, ২০০৮ এবং ২০১৩ সালে বিসিবির নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন অ্যাডহক কমিটির অধিকাংশ সদস্য, এবং তাদের অনেকেই নির্বাচিত হয়েছেন। গঠণতন্ত্রেও এ ব্যাপারে সুনিদ্দিষ্ট কোনো বিধি নেই। অর্থাৎ চাইলেই তামিম কেনো, অ্যাডহক কমিটির সকল সদস্য বিসিবির পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
No posts available.
৬ এপ্রিল ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ এম

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। ব্র্যান্ড ভেল্যু, তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি এবং সম্প্রচারের দিক থেকে ভারতের ঘরোয়া এই লিগের ধারে কাছে নেই পিএসএল, এসএ টি-টোয়েন্টি ও লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নকভির বিশ্বাস, শিগগিরই আইপিএলকে ছাড়িয়ে যাবে পিএসএল।
সোমবার লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড অব গভর্নরসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নকভি বলেন, বিনিয়োগকারীদের বাড়তি আগ্রহই পিএসএলের দ্রুত অগ্রগতির প্রমাণ। তার মতে, এই লিগ এখন বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে এবং খুব শিগগিরই বিশ্বসেরার কাতারে উঠে আসবে।
তিনি বলেন, “পিএসএল এখন বিনিয়োগের জন্য সেরা বাজার। খুব বেশি দেরি নেই, যখন এটি বিশ্বের এক নম্বর লিগ হবে।”
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপ জিতিয়ে মার্চের সেরার লড়াইয়ে ভারতের দুই তারকা |
|
লিগের সম্প্রসারণের পাশাপাশি বোর্ড ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনও অনুমোদন দিয়েছে, যা মাঠের বাইরেও স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দেয়। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিলামেও ছিল ব্যাপক সাড়া। ৬ দল থেকে বেড়ে ৮ দলে উন্নীত হয়েছে পিএসএল, নতুন করে যুক্ত হয়েছে সিয়ালকোট ও হায়দরাবাদ।
১.৮৫ বিলিয়ন রুপিতে সিয়ালকোট ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনেছে ওজেড ডেভেলপারস দলটির নাম দিয়েছে সিয়ালকোট স্ট্যালিয়নজ। এফকেএস গ্রুপ ১.৭৫ বিলিয়ন রুপিতে হায়দরাবাদ দল কিনে নাম রেখেছে হায়দরাবাদ কিংসমেন।
এত কিছুর পরও কিছু চ্যালেঞ্জ কিন্তু রয়ে গেছে। মাত্র দুই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে পিএসএল। জ্বালানি সংকটের কারণে ম্যাচগুলো দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে হচ্ছে। অন্যদিকে আইপিএল একাধিক শহরে পূর্ণ গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং বিশ্বজুড়ে এর বিশাল দর্শক রয়েছে। ২০০৮ সালে শুরু হয় আইপিএল। আর ২০১৬ সালে শুরু হয় পিএসএল।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের টানতেও কিছুটা সমস্যায় পড়ে পিএসএল। অনেক সময় আইপিএলে সুযোগ না পাওয়া ক্রিকেটাররা পিএসএলে খেলেন। পরে আইপিএল দলগুলো তাদের বদলি হিসেবে দলে ভেড়ায়—মাঝ মৌসুমেই তাদের ছাড়তে হয় পিএসএল। আর্থিক দিক থেকেও আইপিএল অনেক এগিয়ে; অনেক ক্ষেত্রে আইপিএলের একজন ক্রিকেটারের চুক্তির খরচ পিএসএলে একটি দলের বাজেটের সমান।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের চাকরি ছেড়ে যাওয়ার আগে 'স্পিন বোলিং মেশিনের' গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছিলেন নিক পোথাস। তার বিদায়ের পর তাৎক্ষণিকভাবে না হলেও, অবশেষে সেই স্পিন বোলিং মেশিন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। যার নাম মার্লিন বাই বোলা।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সাদা বলের দুই সিরিজ শুরুর আগে চলমান অনুশীলন ক্যাম্পে সোমবার প্রথম এই স্পিন বোলিং মেশিন ব্যবহার করা হয়। যা দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো অফ স্পিন, লেগ স্পিন বা স্ট্রেইট ডেলিভারির অনুশীলন করতে পেরেছেন ব্যাটাররা।
এর আগে শুধু এনালগ বোলিং মেশিনের ব্যবহার ছিল বাংলাদেশের ক্রিকেটে। যা দিয়ে গতি বাড়ানো বা কমানো ও বাউন্সের তারতম্যের অনুশীলন করা যেত। এখন নতুন করে মার্লিন বাই বোলা নিয়ে আসায় স্পিনের বিপক্ষেও নিজেদের ঝালাই করতে পারবেন ব্যাটাররা।
মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের জাতীয় একাডেমি মাঠে সোমবার সকালেই যেমন সাইফ হাসান, জাকের আলি অনিকরা ব্যাটিং করেছেন এই মেশিনের সামনে। এটি দিয়ে চাইলে সময় ঠিক করে দিয়ে একসঙ্গে ৩০টি বলও খেলা যাবে।
আরও পড়ুন
| প্রধানমন্ত্রীর হাতে ট্রফি তুলে দিতে চান সাফজয়ী অধিনায়ক |
|
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই মেশিনের ব্যাপারে ধারণা দেন বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগের ইনচার্জ শাহরিয়ার নাফীস।
“এই বোলিং মেশিনের নাম মার্লিন বাই বোলা। এটা নিয়ে অনেকদিন ধরেই কথা হচ্ছিল। কিছুদিন আগেই অর্ডার করা হয়। মেশিনটা অনেক ভারী হওয়ায় ফ্লাইটের মাধ্যমে না এনে জাহাজের মাধ্যমে আনা হয়েছে।”
“এটা দিয়ে অফ স্পিন, লেগ স্পিন এবং আর্মার- তিন ধরনের বল খেলা যায়। বলের লেন্থ পরিবর্তন করা যায়, পেস বাড়ানো-কমানো যায়। ম্যানুয়ালি বা অটোমেটিক, দুই মোডেই চালানো যায়। অটোমেটিক মোডে একসঙ্গে ২৫-৩০টা বল খেলা যায়।”
জানা গেছে, মেশিনটি কিনতে বিসিবির খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ড বা ১৬ লাখ টাকা।

ভারতকে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতানোর পথে বড় অবদান রেখে এবার আরেকটি স্বীকৃতির সম্ভাবনা জাগিয়েছেন সাঞ্জু স্যামসন ও জাসপ্রিত বুমরাহ। মার্চ মাসের আইসিসি প্লেয়ার অব দা মান্থ পুরস্কারে মনোনীত হয়েছেন ভারতের এই দুই তারকা।
স্যামসন ও বুমরাহ ছাড়াও পুরুষ ক্যাটাগরিতে মাসসেরার পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার উদীয়মান তারকা কনর এস্থেইজেন। আর নারী ক্রিকেটে মনোনয়ন পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের অ্যামিলিয়া কার, অস্ট্রেলিয়ার বেথ মুনি ও দক্ষিণ আফ্রিকা আয়াবোঙ্গা খাকা।
আরও পড়ুন
| বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে স্টেডিয়ামের বাইরে পাঠিয়ে মজা পেয়েছেন ডেভিড |
|
ঘরের মাঠে হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুরুর দিকে তেমন সুযোগ পাননি স্যামসন। তবে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে তিনিই হয়ে ওঠেন দলের বড় ভরসা। সব মিলিয়ে মার্চ মাসে খেলা তিন ম্যাচে ২৭৫ রান করেন স্যামসন। সেমি-ফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ৮৯ রানের ইনিংস।
ওই তিন ম্যাচে বল হাতে আলো ছড়ান বুমরাহ। ওভারপ্রতি মাত্র ৭ রান খরচ করে ১২ গড়ে ৭টি উইকেট নিয়েছিলেন ভারতের এই তারকা পেসার। শিরোপা নির্ধারণী ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ১৫ রানে নেন ৪ উইকেট।
বিশ্বকাপের পরপর নিউ জিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এস্থেইজেন। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ৫০ গড় ও ১৪৫.৯৮ স্ট্রাইক রেটে ২০০ রান করেছিলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটার।
মার্চ মাসে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি' দুই সংস্করণেই দারুণ ছন্দে ছিলেন অ্যামিলিয়া কার। গত মাসে খেলা ৪ ওয়ানডে ১৭৬ রানের পাশাপাশি বল হাতে ১৮ উইকেট নেন হোয়াইট ফার্ন অধিনায়ক। এছাড়া ৬ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ২৭৬ রানের সঙ্গে ৬ উইকেট নেন তিনি।
আরও পড়ুন
| কাঁথা-বালিশ নিয়ে ‘মাঠেই ঘুমাতে চান’ মুলতান অধিনায়ক |
|
মার্চে খেলা দুই ওয়ানডেতে ১৭১ রান করেন বেথ মুনি। এর মধ্যে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে ১০৬ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করেন ৬৫ রান। এছাড়া ৩ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১২৮.৯১ স্ট্রাইক রেটে তিনি করেন ১০৭ রান।
নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের ৪ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়ে সেরা বোলার ছিলেন আয়াবোঙ্গা খাকা। পরে প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ৫৬ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন অভিজ্ঞ পেসার।

চেন্নাই সুপার কিংসের বোলারদের তখন রীতিমতো কচুকাটা করছেন টিম ডেভিড। একের পর এক ছক্কা মারছেন অবলীলায়। এর মাঝেই জেমি ওভারটনের বলে একটি শট সোজা গেল স্টেডিয়ামের গ্যালারির ওপর দিয়ে মাঠের বাইরে। সেই ছক্কাটি মেরেই মজা পেয়েছেন ডেভিড।
চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রোববার রাতে ডেভিডের আগুনে ব্যাটিংয়ে পুড়েছে চেন্নাই। ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে ৩ চারের সঙ্গে ৮টি বিশাল ছক্কা মেরে মাত্র ২৫ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ান এই মারকুটে ব্যাটার।
তার বিধ্বংসী ইনিংসে চলতি আইপিএলের সর্বোচ্চ ২৫০ রানের পুঁজি পায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পরে ৪৩ রানে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়ে তারা। অসাধারণ এই ইনিংসে বেশ কিছু রেকর্ডও ৩০ বছর বয়সী মিডল-অর্ডার ব্যাটার।
ডেথ ওভার তথা শেষের চার ওভার থেকেই ৬৮ রান করেছেন ডেভিড। আইপিএলে শেষ চার ওভারে কোনো ব্যাটারের এটিই সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। এছাড়া ১৫তম ওভারে ক্রিজে গিয়ে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে তার চেয়ে বেশি রান আছে শুধু ড্যানিয়েল স্যামসের, ২৪ বলে ৭১।
খুনে ব্যাটিংয়ের এই ইনিংসে ডেভিডের সবচেয়ে ভালো লেগেছে ১৯তম ওভারের চতুর্থ ও শেষ ছক্কাটি। জেমি ওভারটনের ওই ওভারে মোট ৩০ রান নেন ডেভিড। এর মধ্যে শেষ ছক্কাটির দূরত্ব ছিল ১০৬ মিটার। যা কিনা গ্যালারি পেরিয়ে চলে যায় মাঠের বাইরে।
বেঙ্গালুরুকে জিতিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পাওয়ার পর ওই ছক্কার কথা বলেন ডেভিড।
“(অনুশীলনে) আমরা ছাদের ওপরে বল পাঠানোর প্রতিযোগিতা করে থাকি। তখন অবশ্য এক প্রান্তের উইকেটগুলোতে খেলে থাকি আমরা। ম্যাচের সময় মাঝ উইকেট থেকে এরকম কিছু করতে পারা তাই সত্যিই সন্তুষ্টির।”
“জেমি (ওভারটন) তখন বেশ দ্রুতগতিতে বল করছিল। বল ছাদের ওপরে পাঠাতে এটাও সহায়তা করেছে। বেশ মজা পেয়েছি।”

রোববারের ম্যাচ শেষ করার ২০ ঘণ্টার মধ্যে নামতে হবে পরের খেলায়। কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে হারানোর পর এবার মুলতান সুলতান্সের সামনে রাওয়ালপিন্ডি পিন্ডিজ। ব্যস্ত এই সূচিতে তাই কিছুটা মজাই করে নিলেন মুলতান অধিনায়ক অ্যাশটন টার্নার।
লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে রোববার রাতের ম্যাচে কোয়েটার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জিতেছে মুলতান। এই জয়ের পর কোনো ফুরসৎ নেই তাদের। সোমবার রাতেই পিন্ডিজের বিপক্ষে লড়তে হবে তাদের।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে দুই ম্যাচ। পরদিন বিকেলে আবার মাঠে যেতে হবে, তাই মাঠ ছেড়ে যেন টিম হোটেলে যেতেই চান না টার্নার। বরং কাঁথা-বালিশ নিয়ে মাঠেই ঘুমিয়ে পড়া ভালো মনে করেন অস্ট্রেলিয়ান এই অধিনায়ক।
“দুই ম্যাচের মাঝে এত কম সময়। হয়তো আজ রাতে এখানেই কাঁথা-বালিশ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হবে! তবে এটাই পেশাদার ক্রিকেটের বাস্তবতা। আমরা জানি, সূচি এমনই হয়।আমরা পরের ম্যাচে নতুন সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় আছি।”
কোয়েটার বিপক্ষে দাপুটে জয়ই পেয়েছে মুলতান। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৬ রানের বেশি করতে পারেনি কোয়েটা। জবাবে সাহিবজাদা ফারহান, স্টিভেন স্মিথের ঝড়ে ১৫ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় মুলতান।
দলের এমন পারফরম্যান্সে তৃপ্ত অধিনায়ক টার্নার।
“গত দুই ম্যাচের তুলনায় আজকের কন্ডিশন কিছুটা ভিন্ন ছিল। তবে আমরা এমন একটি পারফরম্যান্স খুঁজছিলাম যেখানে খেলার দুই দিকই একসঙ্গে ঠিকভাবে করতে পারি। আমার মনে হয়, আজ আমরা তিনটি বিভাগেই সেটা করতে পেরেছি-যা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক।”
পাকিস্তান সুপার লিগে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচের তিনটি জিতে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে মুলতান।