৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১০:০১ পিএম

দুই দলের শেষ দেখায় শেষ হাসিটা ছিল চিটাগং কিংসের। তবে এবার আগে ব্যাটিং করলেও দলটি পারল না দেড়শ করতেও। মোহাম্মাদ আলির ফাইফার সামলে একাই লড়লেন শামিম হোসেন। তাতে একটা ফাইটিং স্কোর তার দল পেল বটে, তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফরচুন বরিশালকে তা পারল না সামান্য চ্যালেঞ্জ জানাতে। ম্যাচ জেতানো ফিফটিতে তাওহীদ হৃদয় দলকে এনে দিলেন দাপুটে জয়।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) প্রথম কোয়ালিফায়ারে ফরচুন বরিশাল জিতেছে ৯ উইকেটে। কুড়ি ওভারে চিটাগংয়ের স্কোর ছিল ৯ উইকেটে ১৪৯। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বরিশাল এই রান পাড়ি দিয়েছে ১৬ বল হাতে রেখেই।
ফাইনালে যাওয়ার জন্য আরেকটা সুযোগ পাবে চিটাগং। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে আগামী বুধবার তাদের প্রতিপক্ষ খুলনা টাইগার্স। সোমবার প্রথম এলিমিনেটর ম্যাচে দলটি ৯ উইকেটে হারায় রংপুর রাইডার্সকে।
টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নামা চিটাগংয়ের ইনিংসকে দুই ভাগে ভাগ করা যেতেই পারে। যেখানে এক অংশে থাকবেন শামিম হোসেন, আর অন্য অংশে দলটির বাকি ব্যাটাররা। ইনিংসের প্রথম বলে চার মেরে শুরু করে খাওয়াজা নাফায়কে পরের বলে রীতিমতো স্তব্ধ করে দেন কাইল মায়ার্স। অফস্ট্যাম্পের বেশ বাইরে পিচ করা ডেলিভারিটি ইনসুইং করে শেষ পর্যন্ত বোল্ড করে দেয় নাফায়কে। ব্যাটারের বিস্ময় বলে দিচ্ছিল, কতোটা ‘আনপ্লেয়বল’ ছিল ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারের সেই ডেলিভারিটি।
গ্রাহাম ক্লার্কও রানের খাতা খোলেন চার মেরে। তবে তাকেও ফেরান সেই মায়ার্সই। দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে ৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপেই পড়ে যায় চিটাগং। একপ্রান্ত আগলে পারভেজ হোসেন ইমন ব্যাট করলেও ব্যাটে ছিল না আগ্রাসনের সুর। ক্রিজে গিয়ে ঠিক সেই কাজটাই করেন শামিম, ইবাদত হোসেনকে মারেন দুটি চার।
তিনি ছন্দময় ব্যাটিং চালিয়ে গেলেও সেভাবে তাল মেলাতে সংগ্রাম করতে হচ্ছিল ইমনকে। ২৬ বলে ২০ রানে থাকা অবস্থায় মোহাম্মদ নবিকে দুই ছক্কা মেরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন কিছুটা। অতি আগ্রাসী হয়ে রিশাদ হোসেনের বলে তাকে ক্যাচ দিয়ে ইমনের ১০০ স্ট্রাইক রেটে করা ৩৬ রানেদ ইনিংসের।
তবে আপন ছন্দে ব্যাট করা শামিম মাত্র ২৯ বলে পা রাখেন পঞ্চাশে। রিশাদের পর ইবাদতের ওভারেও তার ব্যাট থেকে আসে একটি করে চার ও ছয়ের মার। ১৯তম ওভারে আউট হওয়ার আগে দলের প্রায় অর্ধেক রানই করেন শামিম। ৪৭ বলে ৭৯ রানের ইনিংস সাজান ৯ চার ও ৪ ছক্কায়।
ইনিংসের শেষ ওভারের শেষ দুই বলে উইকেট সহ ওভারে চার উইকেট নেন আলি। উপহার দেন ২৪ রানে ৫ উইকেটের দুর্দান্ত এক বোলি ফিগার।
রান তাড়ায় বরিশাল শুরু থেকেই ছিল লক্ষ্যের পথে স্থির। পাওয়ার প্লেতে কেবল বাজে বল পেলেই আগ্রাসী শটের চেষ্টা করেছেন তামিম ইকবাল ও তাওহীদ হৃদয়। আলিস আল ইসলাম ও শরিফুল ইসলামের করা দুটি ওভারে আসে দুটি করে বাউন্ডারি। তাতে ছয় ওভারে হয়ে যায় ৪০ রান।
৫৫ রানের ওপেনিং জুটির অবসান ঘটান খালেদ আহমেদ। আসরে বেশ ভালো বোলিং করা এই ডানহাতি এই পেসার তামিমকে থামান ২৯ রানে। তবে বল ও রানের ব্যবধান চেপে বসার আগেই ক্রিজে গিয়ে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন দাভিদ মালান।
মালান তার স্বভাবসুলভ আগ্রাসী ব্যাটিং করলেও অন্যপ্রান্তে তাওহীদকে অনেকটা সময় স্বাচ্ছন্দ্যে দেখা যায়নি। এক পর্যায়ে ৩৫ বলে মাত্র ৩৫ একই সময়ে মাত্র ১১ বলেই ২২ রান করে ফেলেন মালান, ফলে তাওহীদের ওপর চাপটা সেভাবে বাড়েনি।
আর সেটাই তিনি কাজে লাগান বাকি ইনিংস জুড়ে। ৪৫ বলে পঞ্চাশ করার পর তাওহীদ ম্যাচ দ্রুত শেষ করার দিকেই মনোযোগী হন। মালানকে দর্শক বানিয়ে একাই দলকে নিয়ে যান জয়ের বন্দরে। শামিমকে চার মেরে জয়সূচক রানটা আসে জাতীয় দলেই এই ব্যাটারের কাছ থেকেই।
তাওহীদ অপরাজিত থাকেন ৮২ রানে। ৫৬ বলের ইনিংস সাজান ৯টি চার ও দুই ছক্কায়। আর আগের ম্যাচে ফিফটি করা মালানের অবদান ২২ বলে ৩৪।
No posts available.
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০১ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৪৮ পিএম

ঘরের মাঠে টানা তিন জয়ের রীতিমতো আকাশে উড়ছিল শ্রীলঙ্কা। এরপর জিম্বাবুয়ের কাছে হার। আর সেখান থেকেই যেন পতনের শুরু। পরের দুই ম্যাচসহ টানা তিন পরাজয়ে সুপার এইট থেকে প্রথম দল হিসেবে বিদায় নিলো লঙ্কানরা।
কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৬১ রানে হারিয়েছে নিউ জিল্যান্ড। আগে ব্যাট করে ৭ উইকেটে ১৬৮ রানের পুঁজি পায় কিউইরা। জবাবে ১০৭ রানের বেশি করতে পারেনি স্বাগতিকরা।
সুপার এইটের দ্বিতীয় গ্রুপে দুই ম্যাচের দুটিই হেরে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেল শ্রীলঙ্কার। আর দুই ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমি-ফাইনালের পথে কিছুটা এগিয়ে গেল নিউ জিল্যান্ড। লঙ্কানদের পরাজয়ে আরও কঠিন হলো পাকিস্তানের পথ।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নিউ জিল্যান্ডের অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। ফিন অ্যালেন (১৩ বলে ২৩), টিম সেইফার্ট (৯ বলে ৮), রাচিন রবীন্দ্র (২২ বলে ৩২), গ্লেন ফিলিপসরা (১৮ বলে ১৮) অল্পে আউট হলে চাপে পড়ে যায় কিউইরা।
পরে ড্যারেল মিচেল (৩) ও মার্ক চ্যাপম্যান (০) হতাশ করলে মাত্র ৮৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদেই পড়ে যায় নিউ জিল্যান্ড। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাকঙ্কি।
দুজন মিলে সপ্তম উইকেটে গড়েন ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সপ্তম উইকেটে এটিই সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড। এত দিন সর্বোচ্চ ছিল মাইক হাসি ও স্টিভেন স্মিথের ৭৪ রান, বাংলাদেশের বিপক্ষে।
ইনিংসের শেষ বলে আউট হন ২ চার ও ৪ ছক্কায় মাত্র ২৬ বলে ৪৭ রান করা স্যান্টনার। আর ম্যাকঙ্কির ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ২ ছক্কায় ২৩ বলে ৩১ রান।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন মাহিশ থিকশানা ও দুশমন্থ চামিরা।
লঙ্কানদের রান তাড়ায় প্রথম বলেই ছন্দে থাকা পাথুম নিসাঙ্কাকে বোল্ড করে দেন ম্যাট হেনরি। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২০ রান করতে পারে শ্রীলঙ্কা। একপর্যায়ে তাদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮.২ ওভারে ২৯ রানে ৪ উইকেট।
সেখান থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি স্বাগতিকরা। কামিন্দু মেন্ডিস ২৩ বলে ৩১ ও দুনিথ ওয়েলালাগে ২৩ বলে ২৯ রান করে দলকে কোনোমতে একশ পার করান।
নিউ জিল্যান্ডের পক্ষে ২৭ রানে ৪ উইকেট নেন রবীন্দ্র। দুই ওভারে এক মেডেনসহ ৩ রানে ২ উইকেট নেন হেনরি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফেভারিট ভারতকে ছাড়াই হয়তো দেখতে হবে সেমি ফাইনাল। আগামীকাল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার ম্যাচে হারলেই ঘরের মাঠে কেবল দর্শক বনে যেতে হবে ভারতের সমর্থকদের। সুপার এইটে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকদের মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে আলোচনায় ‘ডিউ ফেক্টর’। শিশিরের ঝামেলা থেকে বাঁচতে এই ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনা ‘ডিউ কিউর’ নামের নতুন এক রাসায়নিক ব্যবহার করা হবে।
চেন্নাইয়ের এম এ চিদাম্বারাম স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের মুখোমুখি হবে ভারত। সন্ধ্যার সময় মাঠে জমে থাকা আর্দ্রতা বা শিশির নিয়ে বিপাকে পড়তে দুই দলই। আর এই সমস্যা মোকাবিলায় নেওয়া হয়েছে রাসায়নিক ব্যবহারের পদক্ষেপ।
তবে শিশিরের এই সমস্যায় নাও পড়তে পারে ভারত-জিম্বাবুয়ে। এর আগে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিপাকের আউটফিল্ড নতুন করে বসানোর সময় তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন এই রাসায়নিক আমদানি করে, যা মেজর লিগ বেসবলের বিভিন্ন ভেন্যুতেও বহুল ব্যবহৃত।
ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ও বুধবার দুপুরে গ্রাউন্ড স্টাফরা পানি মিশিয়ে ‘ডিউ কিউর’ আউটফিল্ডে স্প্রে করেছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরেও এটি প্রয়োগ করা হবে, যাতে ম্যাচ শুরুর আগেই এর পূর্ণ কার্যকারিতা পাওয়া যায়। প্রক্রিয়া সম্পর্কে অবগত সূত্র জানিয়েছে, একবার স্প্রে করার পর ঘাসের পাতায় আর আর্দ্রতা থাকে না; ভেজা ভাব দ্রুত শোষিত হয়ে ঘাস শুকনো হয়ে যায়।
বুধবার ভারতের দীর্ঘ অনুশীলন শেষে ক্রিকেটাররা শিশিরের সম্ভাব্য প্রভাব যাচাই করতে মাঠে কিছুটা সময় অতিরিক্ত কাটান। জানা গেছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্ট এবং এ নিয়ে বড় কোনো উদ্বেগ নেই। ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও ‘ডিউ কিউর’ ব্যবহার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। তবে আগামী মাসে আইপিএল শুরু হলে সব ভেন্যুতে এটি বাধ্যতামূলক করার চিন্তাভাবনা করছে বিসিসিআই। কারণ অনেক ম্যাচর ফল নির্ধারণে বড় প্রভাবক হয়েছে এই শিশির।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার এইটের গ্রুপ ‘টু’তে থাকা ভারত পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে নেট রান রেটেও বড় ধাক্কা খেয়েছে সূর্যকুমার যাদবের দল। তাতে গ্রুপের বাকি দুই ম্যাচ জিতলেও সেমি নিশ্চিত হবে না তাদের। সমীকরণ মেলাতে তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি দলগুলোর ফলের দিকেও।

রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে বিতর্কিত এক ঘটনায় শাস্তি পেলেন জম্মু ও কাশ্মীর অধিনায়ক পারাস ডোগরা। ফাইনালে কর্ণাটকের বদলি ফিল্ডার কেভি অনীশ-কে মাথা দিয়ে আঘাত করার ঘটনায় তাঁর ম্যাচ ফি’র ৫০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে এবং সঙ্গে যোগ হয়েছে দুটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
হুব্বলিতে ম্যাচের দ্বিতীয় দিনের উত্তপ্ত মুহূর্তে ঘটনাটি ঘটে। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম ইনিংসের ১০১তম ওভারে কানহাইয়ো ওয়াধাওয়ান-কে সঙ্গে নিয়ে ব্যাট করছিলেন ডোগরা। প্রদিশ কৃষ্ণা-র বলে ব্যাটের কানায় লেগে চার পাওয়ার পর শর্ট লেগে ফিল্ডিং করা অনীশের সঙ্গে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে ডোগরা এগিয়ে গিয়ে হেলমেট পরা অবস্থায় অনীশকে মাথা দিয়ে আঘাত করেন। পরে কর্ণাটক অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগারওয়ালের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটে শৃঙ্খলাভঙ্গের অন্যতম বড় উদাহরণ হিসেবে আলোচনায় এসেছে এই ঘটনা। ওই ঘটনায় আম্পায়ারদের দ্রুত হস্তক্ষেপ করতে হয়, কারণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। ওভার শেষ হওয়ার পর ডোগরা নাকি ক্ষমা চেয়েছিলেন, তবে কেভি আনীশ তা গ্রহণ করেননি। ঘটনার পর পাশেই ফিল্ডিং করা লোকেশ রাহুল ও আগাওয়ালও ডোগরার সঙ্গে কথার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন।
এর কিছুক্ষণ পরই আরেকটি উত্তপ্ত মুহূর্ত তৈরি হয়। রান নেওয়ার সময় শারীরিক সংস্পর্শের জেরে কর্ণাটক পেসার বিজয়কুমার ভাইষাক ও জম্মু-কাশ্মীরের ব্যাটার কানহাইয়া ওয়াধাওয়ান বিতণ্ডতায় জড়িয়ে পড়েন।
৪১ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ক্রিকেটার ডোগরা ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম সিনিয়র পেশাদার। সম্প্রতি রঞ্জি ট্রফি-তে ১০ হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। জরিমানার শাস্তি যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, ঘটনাটি ভারতের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় মঞ্চে আচরণগত শৃঙ্খলার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

কলম্বোতে বিশ্বকাপ সুপার এইটে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ চার ওভারে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটাররা তুলেছে ৭০ রান। যদিও ৮৪ রানে ছয় উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দলটি, সেখানে দুই অলরাউন্ডার—কল ম্যাকনকি ও মিচেল স্যান্টনার উদ্ধার করেছেন কিউইদের। ৪৭ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে তারা দলের ইনিংসকে শক্তিশালী করেছেন।
ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে স্যান্টনার করেছেন ২৬ বলে ৪৭ রান, অপরাজিত ছিলেন ২৩ বলে ৩১ রান করা ম্যাকনকি। এই জুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সাত নম্বর উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল মাইক হাসি ও স্টিভ স্মিথের। ০১০ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭৪ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। আজ নিউ জিল্যান্ড রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশকে লজ্জার হাত থেকে রেহাই দিয়েছে।
শতরানের নিচে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৬০-এর বেশি রান তোলা দলগুলোর মধ্যে নিউ জিল্যান্ডের কীর্তি অনন্য। এর আগে ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নামিবিয়া ৯৩ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৬৩/৭-এ পৌঁছেছিল। ২০০৭ সালে কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকা-ইংল্যান্ড ম্যাচে প্রোটিয়াররা ৯৪ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৫৪ রান করেছিল। ২০২১ সালে দুবাইয়ে আফগানিস্তান আফগানিস্তান-পাকিস্তান ম্যাচে ৭৬ রানে ছয় উইকেট হারানোর পর ১৪৭ রানে ইনিংস শেষ করেছিল। এবার এই সব ঘটনা অতিক্রম করে নিউ জিল্যান্ড ইতিহাস গড়েছে।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে আর্জেন্টিনা ছাড়তে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। সময়ের প্রয়োজনে পাড়ি জমিয়েছিলেন বার্সেলোনায়। স্পেনের এই জায়ান্ট ক্লাবেই তাঁর বেড়ে ওঠা, তারকাখ্যাতি পাওয়া, ফুটবল দুনিয়ায় চূড়ায় ওঠা।
২০০৫ সালেই আলবিসেলেস্তেদের হয়ে অভিষেক হয়েছিল মেসির। পরের বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে নেমে গোল-অ্যাসিস্টও পেয়ে যান। তবে ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে মেসি চাইলে ২০১০ সালের আসরে দল পাল্টে স্প্যানিশদের প্রতিনিধিত্ব করতে পারতেন। কারণ দ্বৈত নাগরিকত্ব রয়েছে আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর। আর্জেন্টিনার পাশাপাশি তিনি স্পেনেরও নাগরিক।
বার্সার যুব একাডেমিতে বেড়ে ওঠার সময়, স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ মেসির প্রতি আগ্রহ দেখায়। স্পেনে উদীয়মান এক তরুণ খেলোয়াড়ের জন্য এমন আগ্রহ স্বাভাবিকই বলা যায়। এমনকি স্পেনকে ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ও ২০১২ সালের ইউরো জেতানো কোচ ভিসেন্তে ডেল বস্কো জানিয়েছিলেন, মেসিকে স্পেনের হয়ে খেলতে রাজি করার জন্য সব চেষ্টা করেছিল ফেডারেশন।
স্পেনের হয়ে খেলার সব সুযোগ পেয়েও একটি কারণেই আর্জেন্টিনাকে বেছে নেন মেসি। দেশপ্রেম নামক শব্দের কাছে নতি স্বীকার করেন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার। সম্প্রতি আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক নাহুয়েল গুসমানের পডকাস্ট 'মিরো দে আট্রাসে' উপস্থিত হয়ে এমনটাই জানিয়েছে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।
মেসি তাঁর কিশোর বয়সের বেশির ভাগ সময় স্পেনে কাটালেও, আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক সবসময়ই দৃঢ় ছিল। ইন্টার মায়ামির তারকা বলেন, ‘আমার হৃদয় সবসময় আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছিল।’
মেসির মুখ থেকেই শোনা যাক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই সিদ্ধান্তের গল্প, ‘আসলে, একটা মুহূর্ত ছিল এই প্রসঙ্গে কথা উঠেছিল। আমি তখন ইতোমধ্যেই বার্সার হয়ে খেলছিলাম, এবং তারা সেটা ইঙ্গিত দিয়েছিল, প্রস্তাব দিয়েছিল… যা স্বাভাবিক, তাই না? এমনটা অনেক প্রতিভাবান কিশোরের সঙ্গে হয়। সেই সময়, যদিও আমি আর্জেন্টাইন, আমি খুব ছোটবেলায় বার্সেলোনায় চলে এসেছিলাম এবং তাদের যুব সিস্টেমে বেশিরভাগ অনুশীলন করেছি, তাই সম্ভাবনা ছিল। এমনটা ঘটতে পারত। কিন্তু না, আমি সবসময়… আমার হৃদয় সবসময় আর্জেন্টিনার সঙ্গে ছিল।’
২০১৪ সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা যখন জার্মানির বিপক্ষে ফাইনাল হারে, তখনও অনেকেই তাঁর জাতীয় দল নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলতেন। এমনকী এমন কথাও উঠেছিল যে, তিনি স্পেনের হয়ে খেললে হয়তো আরও সহজে জয় পেতেন। কিন্তু মেসি কখনো তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করেননি। ৩৮ বছর বয়সী মহাতারকা সবসময় বিশ্বাস করতেন যে একদিন আকাশী-সাদা জার্সি গায়ে শিরোপা জিতবেন।
এরপরের ইতিহাস তো সবারই জানা। কোপা আমেরিকা-বিশ্বকাপ-কোপা আমেরিকা, এভাবেই টানা তিনটি আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পূর্ণতা দিয়েছেন মেসি।