
টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংস ৪১৮-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড নেই। সিলেট টেস্ট জিততে হলে অ্যান্টিগায় ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেই রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড করতে হবে পাকিস্তানকে। পাকিস্তান ক্রিকেট ইতিহাসে ৪র্থ ইনিংসে ৪শ রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই। ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৯৫ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জয়-ই তাদের চতুর্থ ইনিংসে সেরা সফলতা। চলমান সিলেট টেস্টে সেই পাকিস্তানকে চতুর্থ ইনিংসে বাংলাদেশ দিয়েছে ৪৩৭ রানের মহাচ্যালেঞ্জ।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে স্বাগতিকদের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের অতীত সুখস্মৃতিই ফিরতি টেস্ট সিরিজে বুক চিতিয়ে বাংলাদেশকে খেলতে অনুপ্রাণিত করছে। মিরপুর টেস্টে জয়ের রেশটাই সিলেটে স্মরনীয় প্রাপ্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করছে শান্ত'র দলকে। এই প্রথম হোমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ দল।
১১০/৩ স্কোর নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করতে এসে বাংলাদেশ তৃতীয় ইনিংস শেষ করেছে ৩৯০/১০-এ। দ্বিতীয় দিন ৭ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ দল যোগ করেছে ২৮০রান। তা সম্ভব হয়েছে মুশফিকুর রহিমের সেঞ্চুরি ১৩৭, লিটনের ফিফটি (৬৯), চতুর্থ উইকেট জুটিতে মুশফিক-লিটনের ১৮৮ বলে ১২৩ রান এবং ৭ম উইকেট জুটিতে মুশফিক-তাইজুলের ১২৮ বলে ৭৭ রানে।
সিলেটে তৃতীয় দিনের পিচটা ছিল ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি। সবুজ পিচে বল পেয়েছে প্রত্যাশিত বাউন্স। ফলে পাকিস্তান বোলারদের বোলিং খেলতে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশ মিডল অর্ডারদের।
এদিন প্রথম সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে ৯৭, দ্বিতীয় সেশনে ২ উইকেট হারিয়ে ১০৪ এবং শেষ সেশনে ৪ উইকেট হারিয়ে ৮৩ রান যোগ করেছে বাংলাদেশ দল।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘন্টা নির্বিঘ্নে পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দুই মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ এবং মুহাম্মদ আব্বাসের ছোট-ছোট সুইং ডেলিভারি খেলতে সতর্ক থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। এই ঘন্টায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৪০ রান।
দিনের দশম ওভারে খুররম শেহজাদকে ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন শান্ত (৪৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৫)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে হিটের ধরা পড়েছে।
১ বল পর লিটন বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন। খুররম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লিটন। ০ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া লিটন খেলছেন লিটনের মতো।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ঘন্টাটা অবশ্য ভালই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘন্টায় উইকেটহীন ৫৩ রান যোগ করেছে শান্ত'র দল।
লাঞ্চ ব্রেকের সময় ৪৮ রানে ব্যাটিংয়ে থাকা লিটন দাস লাঞ্চ ব্রেকের পর ৫৪তম টেস্টে ২০তম ফিফটি উদযাপন করেছেন। তবে ফিফটির পর ইনিংসটা বড় করতে পারেননি। পেসার হাসান আলীর আউটসাইড অফ পিচিং ডেলিভারিতে স্ল্যাশ করতে যেয়ে বাউন্ডারি রোপের কাছে ক্যাচে থেমেছেন লিটন (৯২ বলে ৫ বাউন্ডারিতে ৬৯ রান)। ৫ম উইকেট জুটিতে মুশফিককে নিয়ে ১৮৮ বলে ১২৩ রানে রেখেছেন লিটন অবদান।
লিটন ফিরে যাওয়ার পর মুশফিকুর রহিমকে খুব বেশিক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেননি মিরাজ। খুররমের শর্ট অব লেন্থের বল লেগ সাইডে ঘোরাতে যেয়ে বোল্ড আউটে থেমেছেন তিনি (৩৯ বলে ১৯)।
বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন শততম টেস্ট। সেঞ্চুরি টেস্টে বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি। ৬ মাস আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সেই কৃতি গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলের সেঞ্চুরির সংখ্যাকে (১৩) ছুঁয়েছেন। সোমবার সিলেটে টি ব্রেকের পর মুহাম্মদ আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুলকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান (১৪টি) এখন তিনি।
সিলেটে তিন অঙ্কে পৌছে যাওয়ার সংকল্প ছিল মুশফিকুর রহিমের। তৃতীয় দিনে একবারও ভুল করেননি। ১০৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০তম টেস্ট ফিফটির পর সেঞ্চুরির লক্ষ্যে ব্যাট করেছেন। পরবর্তী ফিফটির জন্য খেলেছেন তিনি ৭৫টি বল। মেরেছেন এই সময়ে ৬টি বাউন্ডারি। খুররম শেহজাদকে এক ওভারে ২টি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে মনযোগী মুশফিক ৯০-এর ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি। শেষ ১০ রানে খেলেছেন তিনি ২৩টি বল। ৯০-এর ফরে অফ স্পিনার সাজিদ খানকে ডাউন দ্য উইকেটে মেরেছেন বাউন্ডারি। ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌছুঁতে বেছে নিয়েছেন বাউন্ডারি শট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের এটি ১০ম টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে ম্যাচ উইনিং ১৯১ রানের ইনিংসের পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২ টেস্ট বিরতি দিয়ে করেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন। উদযাপনের অভিব্যক্তি সেই নিজস্ব স্টাইল। হেলমেট খুলে পিচের উপর সেজদা দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে করেছেন ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন।
সেঞ্চুরির পর দ্রুতগতিতে রান তোলার চেষ্টা করেছেন মুশফিক। তবে বাংলাদেশের লিড যখন ৪৩৬ রান, তখন সাজিদ খানকে এক হাতে ডাউন দ্য উইকেটে শট নিতে যেয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছেন মুশফিক (২৩৩ বলে ১২ চার,১ ছক্কায় ১৩৭)।
তৃতীয় ইনিংসে পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ সবচেয়ে সফল (২০-৩-৮৬-৪)। অফ স্পিনার সাজিদ খান পেয়েছেন ৩ উইকেট (৩৩.২-২-১২৬-৩)।
No posts available.
১৮ মে ২০২৬, ১২:০৪ পিএম

টেস্ট উপভোগ করেন বলেই ওডিআই, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে দিয়ে থেকে গেছেন মুশফিকুর রহিম লাল বলের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন শততম টেস্ট। সেঞ্চুরি টেস্টে বিশ্বের ১১তম ব্যাটার হিসেবে উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি। ৬ মাস আগে শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সেই কৃতি গড়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে টেস্টে সর্বাধিক সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুলের সেঞ্চুরির সংখ্যাকে (১৩) ছুঁয়েছেন। সোমবার সিলেটে টি ব্রেকের পর মুহাম্মদ আব্বাসকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারি মেরে মুমিনুলকে টপকে বাংলাদেশের সর্বাধিক টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান (১৪টি) এখন তিনি।
পার্টনারের অভাবে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্টে মিস করেছেন সেঞ্চুরি (৭১)। সে কারণেই সিলেটে তিন অঙ্কে পৌছে যাওয়ার সংকল্প ছিল মুশফিকুর রহিমের। প্রথম ইনিংসে আম্পায়ার্স কলে ২৩ রানে এলবিডাব্লু হয়ে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন। তৃতীয় দিনে একবারও ভুল করেননি। ১০৩ বলে ৩ চার, ১ ছক্কায় ৩০তম টেস্ট ফিফটির পর সেঞ্চুরির লক্ষ্যে ব্যাট করেছেন। পরবর্তী ফিফটির জন্য খেলেছেন তিনি ৭৫টি বল। মেরেছেন এই সময়ে ৬টি বাউন্ডারি। খুররম শেহজাদকে এক ওভারে ২টি বাউন্ডারি মেরে ইতিবাচক ব্যাটিংয়ে মনযোগী মুশফিক ৯০-এর ঘরে বেশিক্ষণ আটকে থাকেননি। শেষ ১০ রানে খেলেছেন তিনি ২৩টি বল। ৯০-এর ফরে অফ স্পিনার সাজিদ খানকে ডাউন দ্য উইকেটে মেরেছেন বাউন্ডারি। ৯৯ থেকে সেঞ্চুরিতে পৌছুঁতে বেছে নিয়েছেন বাউন্ডারি শট।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মুশফিকুর রহিমের এটি ১০ম টেস্টে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের আগস্টে রাওয়ালপিণ্ডি টেস্টে ম্যাচ উইনিং ১৯১ রানের ইনিংসের পর এই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২ টেস্ট বিরতি দিয়ে করেছেন দ্বিতীয় সেঞ্চুরি উদযাপন। উদযাপনের অভিব্যক্তি সেই নিজস্ব স্টাইল। হেলমেট খুলে পিচের উপর সেজদা দিয়ে মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সন্তুষ্টি প্রকাশের মাধ্যমে করেছেন ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি উদযাপন।

২০২৪ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান সফরে স্বাগতিকদের টেস্ট সিরিজে হোয়াইট ওয়াশের অতীত সুখস্মৃতিই ফিরতি টেস্ট সিরিজে বুক চিতিয়ে বাংলাদেশকে খেলতে অনুপ্রাণিত করছে। মিরপুর টেস্টে জয়ের রেশটাই সিলেটে স্মরনীয় প্রাপ্তির জন্য উদ্বুদ্ধ করছে শান্ত'র দলকে। এই প্রথম হোমে পাকিস্তানকে হোয়াইট ওয়াশের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ দল। দ্বিতীয় দিন শেষে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে ড্রাইভিং সিটে উঠে আসা বাংলাদেশ দল তৃতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষে ২৪৯ রানের লিড পেয়েছে। তৃতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের স্কোর তৃতীয় দিনের লাঞ্চ ব্রেক পর্যন্ত ২০৩/৪। লিটন ৪৮ এবং মুশফিক ৩৯ রানে ব্যাটিংয়ে আছেন। দিনের প্রথম সেশনে ১ উইকেট হারিয়ে যোগ করেছে বাংলাদেশ ৯৩ রান।
সিলেটে চতুর্থ ইনিংসে ১৭৪-এর বেশি রান তাড়া করে জয়ের অতীত নেই কারো। গত বছরের এপ্রিলে এই রান তাড়া করে ৩ উইকেটে জয়ের রেকর্ডটা জিম্বাবুয়ের। আড়াই বছর আগে সিলেটে ৪র্থ ইনিংসে ৩৩২ রান তাড়া করে বাংলাদেশের কাছে ১৫০ রানে নিউ জিল্যান্ডের হারের সেই অতীত থেকে টনিক নিতে পারে শান্ত এন্ড কোং।
তৃতীয় দিনের প্রথম ঘন্টা নির্বিঘ্নে পার করতে পারেনি বাংলাদেশ। পাকিস্তানের দুই মিডিয়াম পেসার খুররম শেহজাদ এবং মুহাম্মদ আব্বাসের ছোট-ছোট সুইং ডেলিভারি খেলতে সতর্ক থাকতে হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাটারদের। এই ঘন্টায় অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে হারিয়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ৪০ রান।
দিনের দশম ওভারে খুররম শেহজাদকে ক্রস খেলতে যেয়ে এলবিডাব্লুউতে কাটা পড়েছেন শান্ত (৪৬ বলে ১ বাউন্ডারিতে ১৫)। রিভিউ আপীলে লাভ হয়নি। বল ট্র্যাকিংয়ে লেগ স্ট্যাম্পে হিটের ধরা পড়েছে।
১ বল পর লিটন বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছেন। খুররম শেহজাদের বলে স্লিপে ক্যাচ থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন লিটন। ০ রানের মাথায় বেঁচে যাওয়া লিটন খেলছেন লিটনের মতো।
তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় ঘন্টাটা অবশ্য ভালই কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এই ঘন্টায় উইকেটহীন ৫৩ রান যোগ করেছে শান্ত'র দল। ৫ম উইকেট জুটিতে লিটন-মুশফিক লাঞ্চ ব্রেক পর্যন্ত যোগ করেছে ৮৮ রান।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাবর আজম অন্যতম সেরা ব্যাটার হলেও নাহিদ রানা যেন তার সামনে এক গোলকধাঁধার নাম। যার গতি আর বাউন্সের সামনে বারবারই খেই হারিয়ে ফেলছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত লাল বলের ক্রিকেটে নাহিদের ৩৯টি বল খেলে বাবর রান করতে পেরেছেন মাত্র ২২। তিন-তিনবার আউট হওয়ায় বাংলাদেশের এই তরুণের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটারের ব্যাটিং গড় এখন অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৭.৩৩! রাওয়ালপিন্ডি থেকে সিলেট—সব মাঠেই বাবরের সামনে যেন এক চেনা ধাঁধার নাম নাহিদ।
নাহিদের সামনে বারবার পরাস্ত হওয়ার পর বাবর আজম নিজেই জানিয়েছেন, বাংলাদেশি এই তরুণের শক্তির জায়গা ঠিক কোথায়। একই সাথে এই ডানহাতি ফাস্ট বোলারের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনাও জানিয়েছেন তিনি। প্রশংসাও করেছেন মন খুলে। পাকিস্তানি এই ব্যাটারের মতে, টেস্ট ক্রিকেটে এই মুহূর্তে অন্যতম সেরা পেসারদের একজন নাহিদ।
নাহিদের ভূয়সী প্রশংসা করে বাবর বলেন,
‘বর্তমানে লাল বলের ক্রিকেটে দ্রুততম বোলারদের মধ্যে একজন নাহিদ রানা। সে খুব ভালো করছে। আমার মনে হয় সে খুবই প্রতিভাবান এবং গতিই তার প্রধান শক্তির জায়গা। সে দুর্দান্ত এবং বোলিংয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণও বেশ ভালো। দিন দিন সে নিজের বোলিংয়ে উন্নতি করছে। ওর ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা রইল।’
বাবর আরও যোগ করেন, ‘নাহিদ খুব মেধাবী ক্রিকেটার। তার দারুণ গতি আছে। সে নিয়মিত উন্নতি করছে, সামনে আরও ভালো করবে। সত্যি বলতে (সিলেটের) পিচ ভালো ছিল, আমাদের বোলাররাও ভালো করেছে। তবে ব্যাটার হিসেবে আমরা আরও দায়িত্ব নিতে পারতাম।’
এখন পর্যন্ত টেস্ট ক্রিকেটে মাত্র তিন ম্যাচে নাহিদ রানার মুখোমুখি হয়ে তিনবারই আউট হয়েছেন বাবর। তবে নিজের কোনো দুর্বলতা মানতে নারাজ সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়ক।
নাহিদের বিপক্ষে আলাদা কোনো অস্বস্তি আছে কি না—এমন প্রশ্নে বাবর আজম বলেন,
‘আমি তেমনটা মনে করি না। তবে লাল বলের ক্রিকেটে সে (নাহিদ) বর্তমানে অন্যতম সেরা একজন পেস বোলার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যেকোনো দলের বিপক্ষে খেললেই ১৪০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার গতিতে বোলিং করা বোলারদের মুখোমুখি হতে হয়। আপনাকে সেই পরিস্থিতি সামলানো জানতে হবে। আমি সবসময়ই আমার স্বাভাবিক খেলাটা খেলার চেষ্টা করি।’

আইপিএলের উদ্বোধনী আসরে ১৪ ইনিংসে ৩১ ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার সাবেক অধিনায়ক সনাৎ জয়াসুরিয়া। মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে তাঁর সেই রেকর্ড ১৮ বছর পর ভেঙে দিলেন অস্ট্রেলিয়ার কুপার কোনালি।
ক্যারিয়ারে প্রথম আইপিএলে নাম লিখিয়ে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে যাচ্ছেন ২২ বছর বয়সী ব্যাটিং অলরাউন্ডার কোনালি। পাঞ্জাব কিংসের জার্সিতে এখন পর্যন্ত ১২টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তাতে তাঁর ছক্কার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২।
রবিবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ২২ বলে ৩৭ রানের ইনিংস খেলেন কোনালি। যাতে ছিল তিনটি করে ছক্কা ও চার। ঝোড়ো এই ইনিংসের সুবাদে জয়াসুরিয়ার রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি।
আসরে ১৬২.৫৪ স্ট্রাইক রেটে এখন পর্যন্ত কনোলির ব্যাট থেকে এসেছে ৪৭৩ রান। দুটি ফিফটির পাশে সেঞ্চুরি একটি। এই মাসের শুরুতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে আইপিএলের ইতিহাসে বিদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান হওয়ার কীর্তি গড়েন তিনি।

টেস্টে বাবর আজমকে আউট করাটা রীতিমতো অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন নাহিদ রানা। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে যে গল্পের শুরু হয়েছিল, সিলেট টেস্টেও তারই পুনরাবৃত্তি ঘটালেন বাংলাদেশি তরুণ। ঢাকা টেস্টে অনুপস্থিত থাকা বাবর সিলেটে ফিরতেই তাকে আবারও চেনা ছকে পরাস্ত করলেন নাহিদ।
সিলেট টেস্টের আগে বাবরের বিরুদ্ধে নাহিদ বোলিং করেছিলেন আরও দুইবার, ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে। সেবার সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারকে অল্পতেই ফিরিয়েছিলেন দেশের এই ডানহাতি পেসার।
সফরের দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবরকে নিজের শিকার বানান নাহিদ। পাকিস্তানের মাটিতে সেই সিরিজে নাহিদ রানা মাত্র ২৪টি বল করতে পেরেছিলেন বাবরকে, তাতেই আউট করেন দুইবার।
রাওয়ালপিন্ডির সেই চেনা গল্পটাই এবার ঘরের মাঠে নতুন করে লিখলেন নাহিদ। ঢাকা টেস্টে অনুপস্থিত থাকা বাবরকে সিলেট টেস্টে ফিরতেই দারুণভাবে চেপে ধরেন তিনি। দ্বিতীয় দিনে বাবর যখন ফিফটি পেরিয়ে আরও সামনে ছুটছিলেন, ঠিক তখনই নাহিদের হাতে বল তুলে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিয়ে ব্যক্তিগত ৬৮ রানেই পাকিস্তানি এই তারকাকে থামিয়ে দেন নাহিদ।
সব মিলিয়ে তিন টেস্টে নাহিদের ৩৯ বল খেলে বাবর রান করতে পেরেছেন মাত্র ২২। তিন-তিনবার আউট হওয়ায় বাংলাদেশের এই তরুণের সামনে পাকিস্তানি ব্যাটারের ব্যাটিং গড় এখন অবিশ্বাস্যভাবে মাত্র ৭.৩৩!
এরকম বিশ্বমানের ব্যাটসম্যানদের আউট করার রোমাঞ্চটাও এমনিতে বেশি থাকার কথা। তবে নাহিদকে মনে হলো এটা নিয়ে একদমই নির্লিপ্ত। বাংলাদেশি পেসার বলেন,
‘আসলে প্রত্যেক ব্যাটসম্যানকে আউট করতেই মজা লাগে। কারণ প্রত্যেকটি উইকেটই আমার জন্য এবং আমার দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আপনি একটা ব্যাটসম্যানকে বলে বলে আউট করতে পারবেন না যে, এই ব্যাটসম্যানটা ভালো ব্যাটসম্যান কিংবা বিশ্ব ক্রিকেটের বড় নাম… কখনও বলে বলে আউট করতে পারবেন না। আমি শুধু আমার প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকার চেষ্টা করি এবং চেষ্টা করি যে কীভাবে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করে দলকে সহায়তা করা যায়।’
বারবার একজন বিশ্বসেরা ব্যাটারকে বাইশগজ ছাড়া করার পেছনে নিজের চেষ্টা ও বৈচিত্র্যই মূল ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন নাহিদ।
বাংলাদেশের এই তরুণ ফাস্ট বোলার বলেন,
‘কোয়ালিটি ব্যাটসম্যানকে কোয়ালিটি বোলিং করতে হয়… কিংবা যে কোনো ব্যাটসম্যানকে বোলিং করেন, আপনার পেসে কিংবা স্কিলে ভিন্ন কিছু একটু এলে ব্যাটসম্যানরা অস্বস্তিতে পড়ে। আমি শুধু চেষ্টা করছি, কাজে লেগে গেছে।’