
লাহোরে ফেব্রুয়ারিতে বসবে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নিলাম। তার আগে আজ একটি কর্মশালার আয়োজন করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি উপস্থিত ছিলেন।
খেলোয়াড়দের মধ্যে পিএসএলের ইতিহাসে দুই সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক বাবর আজম ও ফখর জামান এবং সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি দুই বোলার হাসান আলি ও শাহিন শাহ আফ্রিদিও কর্মশালায় অংশ নেন।
কর্মশালায় পিএসএল ব্যবস্থাপনা দল খেলোয়াড় ধরে রাখা (রিটেনশন) ও অকশন প্রক্রিয়ার বিস্তারিত কাঠামো তুলে ধরে। অংশগ্রহণকারীদের মতামতের ভিত্তিতে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি পিএসএল নিলাম বসবে।
এ সময় জানানো হয়, খেলোয়াড়দের ভিত্তিমূল্য। নিলামের সব মূল্য পাকিস্তানি রুপিতে নির্ধারণ করা হবে। সর্বোচ্চ ক্যাটাগরির ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৪ কোটি ২০ লাখ রুপি। অন্য ক্যাটাগরিগুলোর ভিত্তিমূল্য ২ কোটি ২০ লাখ, ১ কোটি ১০ লাখ এবং ৬০ লাখ রুপি।
নূন্যতম ইনক্রিমেন্টাল বিড বা বাড়তি দরও নির্ধারণ করা হয়েছে। ১ কোটি ১০ লাখ রুপির নিচে বিডের ক্ষেত্রে বাড়তি দর হবে ২ লাখ ৫০ হাজার রুপি, ২ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে ৫ লাখ রুপি, ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির নিচে ১০ লাখ রুপি এবং ৪ কোটি ২০ লাখ রুপির ওপরে বিডের ক্ষেত্রে ১৫ লাখ রুপি। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো চাইলে এই নূন্যতম সীমার চেয়েও বেশি দর হাঁকাতে পারবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, প্রতিটি দলের স্কোয়াডে সর্বনিম্ন ১৬ জন ও সর্বোচ্চ ২০ জন খেলোয়াড় থাকতে পারবে। স্কোয়াডের আকার অনুযায়ী বিদেশি খেলোয়াড় রাখা যাবে ৫ থেকে ৭ জন। একাদশে ন্যূনতম ৩ জন এবং সর্বোচ্চ ৪ জন বিদেশি খেলোয়াড় খেলানো বাধ্যতামূলক।
প্রতিটি দলে অন্তত দুজন অনক্যাপড (অনিভিষিক্ত) অনূর্ধ্ব–২৩ খেলোয়াড় থাকতে হবে এবং একাদশে অন্তত একজনকে খেলাতে হবে। অকশন বা রিটেনশনের মাধ্যমে দলে আসা খেলোয়াড়দের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি হবে। পিএসএলের একাদশ সংস্করণ শেষে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি সর্বোচ্চ সাতজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে ১২তম আসরের জন্য।
পিএসএল-১২ শেষে একটি ‘গ্র্যান্ড অকশন’ হবে, যেখানে প্রতিটি দল সর্বোচ্চ পাঁচজন খেলোয়াড় ধরে রাখার সুযোগ পাবে। যেসব খেলোয়াড় ছেড়ে দেওয়া হবে, তারা আবার অকশন পুলে ফিরে আসবেন।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো সরাসরি একজন বিদেশি খেলোয়াড় সাইন করতেও পারবে, যিনি পিএসএল দশম আসরে খেলেননি। এ ক্ষেত্রে দলের মূল পার্স ৪৫ কোটি রুপি থেকে বাড়িয়ে ৫০ কোটি ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত করা যাবে। এলিট বিদেশি খেলোয়াড় আনতে পিসিবিও আর্থিক সহায়তা দেবে।
পিএসএল নিলামের জন্য নাম জমা দিয়েছেন
বাংলাদেশের ১০ জন ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান, মোস্তাফিজুর রহমান, রিশাদ হোসেন, তানজিদ
হাসান তামিমরা রয়েছেন তালিকায়।
কর্মশালা শেষে উজ্জ্বল পিএসএলের কথা বললেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি,
‘আজ ফ্র্যাঞ্চাইজি, খেলোয়াড় ও ব্যবস্থাপনার মধ্যে একটি ফলপ্রসূ ও পরামর্শভিত্তিক আলোচনা হয়েছে। এর ফলে যে কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়েছে, তা পিএসএলের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে। প্লেয়ার অকশন মডেল এইচবিএল পিএসএলের জন্য একটি মাইলফলক। এতে খেলোয়াড়রা বাড়তি আর্থিক সুযোগ পাবে, একই সঙ্গে লিগ আরও প্রতিযোগিতামূলক ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।’
লিগের প্রধান নির্বাহী সালমান নাসির অপেক্ষায় রোমাঞ্চকর পিএসএলের,
‘এইচবিএল পিএসএলের নতুন যুগ শুরু হলো। অকশন পদ্ধতি খেলোয়াড় দলে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, ন্যায্য ও বাজারভিত্তিক করবে। আজকের কর্মশালায় পাওয়া মতামতগুলো আমরা সফল একটি প্লেয়ার অকশন আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করব। সমর্থকদের জন্য সামনে আরও রোমাঞ্চ অপেক্ষা করছে।’
No posts available.
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০৮ পিএম
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৪১ পিএম
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩৫ পিএম
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২:৩৩ পিএম

জয় এবং ‘অস্ট্রেলিয়া’ হওয়ার সুযোগ—বিগ ব্যাশ ফাইনালে সিডনি সিক্সার্সের মুখোমুখির আগে এই দুই সমীকরণ মেলানোর সুযোগ ছিল পার্থ স্কোর্চার্সের। দুটিই নিজেদের করে নিতে পেরেছেন অ্যাস্টন টারনার ও মিচেল মার্শরা।
বিগ ব্যাশের প্রথম ১৪ আসরে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন ছিল পার্থ স্কোর্চার্স। এবার শিরোপা জিতলে ৬টি শিরোপা হতো তাদের। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়াও ট্রফি জিতেছে ছয় বার। এবার বিগ ব্যাশের অস্ট্রেলিয়া হওয়ার সুযোগ ছিল পার্থের। সেটা ধাপ ভালোভাবেই পেরিয়েছে তারা। টুর্নামেন্টে তিন বারের চ্যাম্পিয়ন সিক্সার্সের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে পার্থ।
আজ পার্থ স্টেডিয়ামে আগে ব্যাটিং করে মাত্র ১৩২ রানে গুটিয়ে যায় সিডনি। মামুলি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় তুলেছে পার্থ।
১৩২ রানের জবাব দিতে পার্থের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন মিচেল মার্শ ও ফিন অ্যালন। ৮০ রানে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে, ৩৬ রানে মিচেল স্টার্কের বলে অ্যালন ফিরলে। নিউ জিল্যান্ড ডান হাতি ব্যাটার ফেরান মাত্র ৫ রান দুরত্বে অ্যারন হার্ডির উইকেট নেন শন অ্যাবট। হার্ডি করতে পারেন মাত্র ৫ রান। বল মোকাবিলা করেন ৫টি।
৫ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট পতনের পর জস ইংলিসকে নিয়ে দেখে শুনে পথ চলেন মার্শ। শুরু থেকেই ধীরে ও ধরে খেলা মার্শ শেষ পর্যন্ত অ্যাবটকে উইকেট বিলিয়ে দেন। ৪৩ বলে ৪৪ রান করেন তিনি। ৪টি চার এবং ২টি ছক্কা হাঁকান অজি অলরাউন্ডার।
মার্শ যখন ফিরেন তখন পার্থের দলীয় রান ১১৮। জয় থেকে ১৪ রান দূরে ছিল দল। তবে এরমধ্যে ক্যাপ্টেন অ্যাসটন কেবল বিড়ম্বনা বাড়িয়েছেন। এডওয়াডর্সের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি। শেষটা অসুন্দর হতে দেননি জস ইংলিশ। কোপার কনলিকে নিয়ে জয় বন্দরে পৌঁছান তিনি।
সিডনির হয়ে অ্যাবট সর্বোচ্চ দুটি এবং মিচেল স্টার্ক, জ্যাক এডওয়াডর্স একটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দ্বিতীয় ওভারে ড্যান হিউজকে হারায় সিডনি। ষষ্ঠ ওভারে একই পথ ধরেন তারকা ব্যাটার স্মিথ। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বল ২৪ রান।
এরপর আর কোনো ব্যাটার তেমন লম্বা সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। স্মিথের ২৪ রানের বেশিও করতে পারেননি কেউ। জশ ফিলিপ ২৪ রান করতে খেলে ২৪ বল। আর ২৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন সিডনি অধিনায়ক ময়সেস হেনরিকস।
পরে লাচলান শ ১২ বলে ১৪ ও জোয়েল ডেভিস ১৪ বলে ১৯ রান করলে একশ পেরিয়ে যেতে পারে সিডনি। তবে শেষ পর্যন্ত বড় হয়নি তাদের পুঁজি।
৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ডেভিড পেইন। ঝাই রিচার্ডসন ৩ উইকেটের জন্য খরচ করেন ৩২ রান। আর মাহ্লি বেয়ার্ডম্যানের ঝুলিতে জমা পড়ে ২ উইকেট।

পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তি লেগ স্পিনার আবদুল কাদিরের ছেলে সুলামান কাদিরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এক গৃহকর্মীর দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্র জানায়, গৃহকর্মী তাঁর করা এজাহারে অভিযোগ করেছেন, তিনি সুলামান কাদিরের বাসায় কাজ করতেন। একপর্যায়ে সুলামান তাঁকে জোর করে নিজের ফার্মহাউসে নিয়ে যান এবং সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করেন। অভিযোগের পর পুলিশ সুলামান কাদিরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অভিযোগকারী গৃহকর্মীকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর যৌন নিপীড়নের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
৪১ বছর বয়সী সুলামান কাদির নিজেও একসময় পেশাদার ক্রিকেট খেলেছেন। তিনি ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ২৬টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ ও ৪০টি লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেছেন।
সুলামানের বাবা আবদুল কাদির পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম বড় নাম। তিনি ৬৭টি টেস্ট ও ১০৪টি ওয়ানডে ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ১৯৮০–এর দশকে লেগ স্পিন বোলিংয়ের শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছেন তিনি। আবদুল কাদির ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মারা যান।

শুরুতে ঝড় তুললেন স্টিভেন স্মিথ। কিন্তু তাকে বেশি দূর যেতে দিলেন না অ্যারন হার্ডি। বাকিরাও তেমন বলার কিছু করতে পারল না। তাই অল্পেই গুটিয়ে গেল সিডনি সিক্সার্স। বিগ ব্যাশের ১৫তম সংস্করণের চ্যাম্পিয়ন হতে পার্থ স্কর্চার্সের সামনে এখন মামুলি লক্ষ্য।
পার্থ স্টেডিয়ামে রোববারের ফাইনালে সিডনিকে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করে দিয়েছে পার্থ।
বিগ ব্যাশের প্রথম ১৪ আসরে পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পার্থ। এবার শিরোপা জিতলে ৬টি শিরোপা হয়ে যাবে দলটি। ওয়ানডে বিশ্বকাপের সফলতম দল অস্ট্রেলিয়াও ট্রফি জিতেছে ৬ বার। এবার বিগ ব্যাশের অস্ট্রেলিয়া হওয়ার সুযোগ পার্থের।
ফাইনালে টস জিতে সিডনিকে আগে ব্যাট করতে পাঠায় পার্থ। দ্বিতীয় ওভারে ফিরে যান ওপেনার ড্যান হিউজ। ষষ্ঠ ওভারে একই পথ ধরেন তারকা ব্যাটার স্মিথ। তার ব্যাট থেকে আসে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বল ২৪ রান।
এরপর আর কোনো ব্যাটার তেমন লম্বা সময় ক্রিজে থাকতে পারেননি। স্মিথের ২৪ রানের বেশিও করতে পারেননি কেউ। জশ ফিলিপ ২৪ রান করতে খেলে ২৪ বল। আর ২৭ বলে ২৪ রান করে আউট হন সিডনি অধিনায়ক ময়সেস হেনরিকস।
পরে লাচলান শ ১২ বলে ১৪ ও জোয়েল ডেভিস ১৪ বলে ১৯ রান করলে একশ পেরিয়ে যেতে পারে সিডনি। তবে শেষ পর্যন্ত বড় হয়নি তাদের পুঁজি।
৪ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন ডেভিড পেইন। ঝাই রিচার্ডসন ৩ উইকেটের জন্য খরচ করেন ৩২ রান। আর মাহ্লি বেয়ার্ডম্যানের ঝুলিতে জমা পড়ে ২ উইকেট।

বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় বয়কটের হুমকি দিয়ে রাখলেও রোববার নিজেদের স্কোয়াড ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। তবে আগামী মাসে তারা বিশ্বকাপ খেলবে কিনা সেটি নির্ভর করছে সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর।
মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া ও এর জের ধরে নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে গিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আপত্তি জানিয়েছিল বাংলাদেশ। সমাধান হিসেবে ম্যাচের ভেন্যু বদলে সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার দাবিও করেছিল তারা।
আইসিসি সেই অনুরোধ রাখেনি। উল্টো নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উড়িয়ে বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে বলে তারা। কিন্তু বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকায় এখন তাদের বদলে বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়া হয়েছে স্কটল্যান্ডকে।
শনিবার দুপুরে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি বলেছিলেন, বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হলে প্রয়োজনে পাকিস্তানও বিশ্বকাপ খেলবে না। তবে শনিবার সন্ধ্যায় এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা চলে আসার পরও নিজেদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানায়নি পিসিবি।
এর মধ্যে রোববার সকালে পিসিবি হাই পারফরম্যান্স ডিরেক্টর ও নির্বাচক আকিব জাভেদ এবং প্রধান কোচ মাইক হেসন মিলে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করেছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বিশ্বকাপ বয়কটের ভাবনা থেকে সরে এসেছে পাকিস্তান?
উত্তরে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করার কথা বলেন আকিব জাভেদ।
“আমরা নির্বাচক এবং আমাদের কাজ হলো দল বাছাই করা। ডেডলাইনের খুব কাছে গিয়ে দলটা ঘোষণা করেছি। বিশ্বকাপে আমাদের অংশগ্রহণের বিষয়টি সরকার নির্ধারণ করবে। আমি এই বিষয়ে কিছু বলতে পারি না। (পিসিবি) চেয়ারম্যানও এই কথা বলেছেন। তাই আমরা তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করব।”
আগামী ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত রয়েছে বিশ্বকাপের দল ঘোষণার সময়। এরপর দলে কোনো পরিবর্তন করা লাগলে নিতে হবে আইসিসির অনুমোদন। ওই সময়ের ৬ দিন আগেই নিজেদের দল ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।
ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঠে ২০ দলের টুর্নামেন্ট শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি। উদ্বোধনী দিনেই কলম্বোতে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে খেলবে তারা। 'এ' গ্রুপে তাদের অন্য তিন প্রতিপক্ষ ভারত, নামিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্বকাপের আগে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একটি তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে পাকিস্তান। আগামী ২৯, ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি মাঠে গড়াবে ম্যাচ তিনটি।
পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড
সালমান আলি আগা (অধিনায়ক), আবরার আহমেদ, বাবর আজম, ফাহিম আশরাফ, ফাখার জামান, খাজা নাফি (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, মোহাম্মদ সালমান মির্জা, নাসিম শাহ, সাহিবজাদা ফারহান (উইকেটরক্ষক), সাইম আইয়ুব, শাহিন শাহ আফ্রিদি, শাদাব খান, উসমান খান (উইকেটরক্ষক) ও উসমান তারিক

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক দুই তারকা ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদি ও জেসন গিলেস্পি। বাংলাদেশের ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়ার ঘটনায় আইসিসির ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ ও অসঙ্গতির অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। ভারতের ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির উদাহরণ টেনে আইসিসির সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন দুই সাবেক ক্রিকেটার।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক আফ্রিদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আইসিসি সদস্য দেশগুলোর ক্ষেত্রে সমান নীতি অনুসরণ করছে না। তাঁর মতে, ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানালে ভারতকে নিরপেক্ষ ভেন্যু দুবাইয়ে ম্যাচ খেলার সুযোগ দিয়েছিল আইসিসি। সেই টুর্নামেন্টে ভারত ফাইনাল পর্যন্ত খেললেও পাকিস্তান নিজেদের দেশে ফাইনাল আয়োজনের সুযোগ পায়নি।
আফ্রিদি বলেন, ‘বাংলাদেশে এবং আইসিসি ইভেন্টে খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসির এই অসঙ্গতিতে আমি গভীরভাবে হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তানে না যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি গ্রহণ করেছিল, অথচ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয় মানতে চায়নি।’
দুই দলের জন্য আলাদা মানদণ্ড পছন্দ নয় আফ্রিদির, ‘বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনায় ধারাবাহিকতা ও ন্যায্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের ক্রিকেটার ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার। দ্বৈত মানদণ্ড নয়, আইসিসির উচিত সেতু তৈরি করা, সেতু ভাঙা নয়।’
অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অলরাউন্ডার ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধান কোচ জেসন গিলেস্পিও আলাদা এক পোস্টে আইসিসির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনিও ভারতের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। যদিও পরে তিনি সেই পোস্টটি মুছে ফেলেন।
গিলেস্পি লেখেন, ‘আইসিসি কি ব্যাখ্যা দিয়েছে কেন বাংলাদেশ ভারতের বাইরে গিয়ে ম্যাচ খেলতে পারল না? আমার মনে আছে, ভারত পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের দেশের বাইরে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টা কেউ কি পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা করতে পারে?’
ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে সেখানে দল পাঠাতে না চাওয়ার আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিষয়টি অমীমাংসিত থাকার পর শেষ পর্যন্ত আইসিসি বাংলাদেশের আবেদন নাকচ করে দেয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।