
পুরো সিরিজে বাংলাদেশ তো বটেই, ওয়েস্ট ইন্ডিজও ব্যাটিং করেছে ভীষণ ধীরলয়ে। তবে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রতিপক্ষকে চমকে দেয় সফরকারীরা। গোটা ইনিংসেই ওয়ানডে মেজাজে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ পায় এমন স্কোর, যা শেষ পর্যন্ত এনে দেয় দুর্দান্ত এক জয়। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ মনে করেন, ইতিবাচক ক্রিকেট ছাড়া এই ম্যাচ জেতার আর উপায়ও ছিল না।
১৮ রানের লিড নিয়ে বাংলাদেশ যখন দ্বিতীয় দফায় ব্যাট করতে নামে, তখন টিকে থাকার চেয়ে রান করাটাই ছিল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অসুস্থতার কারণে মুমিনুল হক আট নম্বরে নেমে যাওয়া ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পাওয়া শাহাদাত হোসেন দিপু (২৬ বলে ২৮) ও মিরাজ (৩৯ বলে ৪২) দুজনই খেলেন ক্যামিও ইনিংস। সাথে ওপেনার সাদমান ইসলাম ও শেষের দিকে জাকের আলি অনিকের ফিফটিও আসে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের মন্ত্রেই।
আরও পড়ুন
| সিরিজে সমতা আনতে পারবেন মিরাজ-তাসকিনরা? |
|
সংবাদ সম্মেলনে এসে মিরাজ বলেছেন, দ্রুত রান তোলার চেষ্টাই তাদের নিয়ে গেছে জয়ের পথে। “বার্তাটা এই ছিল যে, আমাদের ইতিবাচক খেলতে হবে। সৌরভ (মুমিনুল হক) ভাই অসুস্থ হয়ে পড়ার পর দলের সবাই একটু চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম, কারণ ওই জায়গাটায় ব্যাট করাটা কঠিন। দিপুকে আমি তিনে খেলতে বলেছিলাম, ও রাজি হয়েছে। ওকে শুধু একটা কথা বলেছিলাম যে, ‘এই উইকেটে তুমি ইতিবাচক ব্যাটিংটাই করো। প্রথম বল মারার মতো পেলে মেরে দাও। কেউ তোমাকে কিছু বলবে না।’ সেভাবেই খেলেছে ও, ওর ২৮টা রান খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”
মাটি কামড়ে পড়ে থাকা ব্যাটিং করার কাজটা ভালো করা দিপু তিনে নেমে যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবিদার অবশ্যই। তবে চারে নেমে মিরাজ যেভাবে ক্যারিবিয়ান পেসারদের দম নেওয়ার সুযোগ না দিয়ে রান বের করেছেন একশর বেশি স্ট্রাইক রেটে, সেটাও ম্যাচের ভাগ্য বদলে রেখেছে বিশাল ভূমিকা। সাথে জাকেরের প্রায় ১০০ স্ট্রাইক রেটে ৯১ এর সুবাদে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ওভারপ্রতি ৪.৪৭ রানে, যা সিরিজেরই সর্বোচ্চ।
মিরাজের মতে, যেভাবেই হোক দ্রুত রান করাটাই ছিল সেরা পন্থা। “আমি যখন চার নম্বরে গেলাম, একই মানসিকতা নিয়ে খেললাম। কারণ এই উইকেটে রান করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল, আর ক্রিকেটারদের প্রতিও এই বার্তা ছিল যে, প্রতিটা রানই অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ব্যাটসম্যান যেন স্রেফ রানের জন্য খেলে। আমরা এই পরিকল্পনাতেই খেলেছি।”
আরও পড়ুন
| ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’ দেখছেন মিরাজ |
|
নাজমুল হোসেন শান্তর চোটে প্রথমবার টেস্ট অধিনায়কত্ব পাওয়া মিরাজ বাংলাদেশকে এনে দিলে ক্যারবিয়ানে ১৫ বছর পর প্রথম টেস্ট জয়, সাথে সিরিজ হয়েছে ড্র। স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বাসটা একটু বেশি তাই। “খুবই ভালো লাগছে। প্রথম ম্যাচে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচ জিততে পেরেছি, এটা অবশ্যই আমার জন্য বড় একটা অজর্ন। যেহেতু আমি প্রথম অধিনায়কত্ব করছি, এটা আমার জন্য বড় একটি পাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে।”
No posts available.
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০০ পিএম
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৩ পিএম
২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৫১ পিএম

অধিনায়কত্বে বড় পরিবর্তন আনছে অস্ট্রেলিয়া। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সংস্করণে নারী দলের নতুন অধিনায়ক হিসেবে বাঁহাতি স্পিনার সোফি মোলিনিউয়ের নাম ঘোষণা করতে যাচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ)।
ক্রিকেটভিত্তিক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ক্রিকবাজের তথ্য অনুযায়ী, তাহ্লিয়া ম্যাকগ্রাকে পেছনে ফেলে শীর্ষ পছন্দ হিসেবে উঠে এসেছেন ২৮ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।
চলতি মাসের শুরুতে বর্তমান অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি ঘোষণা দেন, ফেব্রুয়ারি–মার্চে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চান তিনি।
যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠেয় ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মাত্র চার মাস বাকি থাকায়, দল ও তার উত্তরসূরিকে প্রস্তুতির সময় দিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের টি-টোয়েন্টি অংশ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন হিলি।
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজের দল ঘোষণার সময়ই মোলিনিউয়ের অধিনায়কত্বের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে জানা গেছে। সিরিজ শুরু হবে তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দিয়ে।
মোলিনিউয়ের এই উত্থান এক উল্লেখযোগ্য প্রত্যাবর্তনের গল্প। পায়ের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের কারণে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ২০২২ অ্যাশেজ জয়, ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ঐতিহাসিক কমনওয়েলথ গেমসের স্বর্ণপদক জয়ের সময় দলের বাইরে ছিলেন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে ফিরে মেলবোর্ন রেনেগেডসকে প্রথম বিগ ব্যাশ শিরোপা জিততে নেতৃত্ব দেন, নেন ১৬ উইকেট। একই বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে ডব্লিউপিএল জিতে পান আরও সাফল্য। ১২ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন তিনি।
এই পারফরম্যান্স তাকে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকায় ফিরিয়ে আনে। তবে মোলিনিউকে চোট পুরোপুরি ছাড়েনি। হাঁটুর সমস্যার কারণে তিনি অ্যাশেজ ও ডব্লিউপিএল ২০২৫ মিস করেন। ভারতের মাটিতে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ঠিক আগে দলে ফেরেন তিনি। তবে বেছে বেছে খেলার সুযোগ পান।
বিগ ব্যাশে অধিনায়ক হিসেবে মোলিনিউ ৩৭ ম্যাচে ১৭টিতে জয় পেয়েছেন, হেরেছেন ১৯টিতে; একটি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়।
হিলির নেতৃত্বে সহ-অধিনায়কের দায়িত্বে থাকা তাহ্লিয়া ম্যাকগ্রাকে উপেক্ষা করার পেছনে ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক ফর্মহীনতার কারণ। সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে তিনি সাত ম্যাচের চার ইনিংসে মাত্র ৫৫ রান করেন।
পরবর্তী বিগ ব্যাশে ৯ ইনিংসে তার সংগ্রহ ছিল মাত্র ৯৮ রান; বল হাতে আট ম্যাচে ৫ উইকেট। তবে অধিনায়ক হিসেবে ম্যাকগ্রাথর রেকর্ড দারুণ। ছয়টি ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে নেতৃত্ব দিয়ে শতভাগ জয় পান তিনি।
হিলির অনুপস্থিতিতে ৯ টি-টোয়েন্টিতেও দলকে নেতৃত্ব দেন ম্যাকগ্রাথ, যেখানে আটটিতেই জয় আসে। একমাত্র হারটি ছিল ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে।

দুর্নীতির অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ব্যাটার অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাঁচটি ধারায় অভিযোগ এনেছে আইসিসি ও ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ (সিডব্লিউআই)। অভিযোগের পর তাকে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
আইসিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলোর বেশির ভাগই ২০২৩-২৪ মৌসুমের বিম১০ টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে। ওই টুর্নামেন্ট ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুর্নীতিবিরোধী বিধির আওতাভুক্ত।
এর বাইরে আন্তর্জাতিক ম্যাচসংক্রান্ত দুটি অভিযোগ আইসিসির দুর্নীতিবিরোধী বিধির অধীনে আনা হয়েছে।
সিডব্লিউআই কোডের ২.১.১ ধারায় অ্যারন জোন্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের ফল, অগ্রগতি বা আচরণ প্রভাবিত করার চেষ্টা কিংবা এ–সংক্রান্ত কোনো সমঝোতার অংশ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই সঙ্গে ২.৪.২ ধারায় দুর্নীতিমূলক প্রস্তাব বা যোগাযোগের বিষয়ে ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অবহিত না করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২.৪.৪ ধারায় সিডব্লিউআইয়ের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসি কোডের অধীনে জোন্সের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। ২.৪.৪ ধারায় দুর্নীতিবিরোধী ইউনিটকে (এসিইউ) ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি ২.৪.৭ ধারায় তদন্তে বাধা দেওয়া, প্রাসঙ্গিক তথ্য গোপন বা তথ্যের সঙ্গে কারসাজির অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইসিসি জানিয়েছে, এটি একটি চলমান ও বিস্তৃত তদন্তের অংশ। এই তদন্তের ধারাবাহিকতায় সংশ্লিষ্ট অন্যদের বিরুদ্ধেও ভবিষ্যতে অভিযোগ আনা হতে পারে।
জোন্সকে তাৎক্ষণিকভাবে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু করে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে তাকে অভিযোগগুলোর জবাব দিতে হবে।
এই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না বলে জানিয়েছে আইসিসি।

পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে আরও জোরালোভাবে। সামনের মৌসুমে যুক্ত হওয়া দুটি নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজির একটি- হায়দরাবাদ তাদের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধান কোচ জেসন গিলেসপিকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় গিলেসপির নাম ঘোষণা করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কিংসমেন ক্রিকেট। পোস্টে লেখা হয়, লক্ষ্য পরিষ্কার, দিক নির্ধারিত। একটি নতুন যুগে পা রাখছে হায়দরাবাদ।
ইএসপিএনক্রিকইনফোকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় গিলেসপি বলেন,
“হায়দরাবাদের কিংসমেন দলের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। সামনে অনেক কিছু করার আছে, কাজ শুরু করার জন্য আমি মুখিয়ে আছি।”
পিএসএলের নিলাম শুরু হতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি হওয়ায় হায়দরাবাদকে শূন্য থেকেই দল গড়তে হবে। এমন সময় একজন অভিজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সুপরিচিত কোচের নিয়োগ দল গঠনের কৌশলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তানে গিলেসপির কোচিংয়ে ফেরাটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৪ সালে পাকিস্তানের লাল বলের দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরুর ঠিক আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে দায়িত্ব ছাড়েন গিলেসপি।
সেই ঘটনার পর এই প্রথম পাকিস্তানের ক্রিকেটে কোনো ভূমিকায় ফিরলেন তিনি।
পিএসএলের আরেক শক্তিশালী দল ইসলামাবাদ ইউনাইটেডও কোচিং প্যানেলে পরিবর্তন এনেছে। নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার লুক রনকি।
খেলোয়াড়ি জীবনে ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের হয়ে খেলেছেন রনকি এবং ২০১৮ সালের শিরোপা জয়ে ছিলেন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। পিএসএল ইতিহাসে অন্তত ১ হাজার রান করা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট (১৬৬.১২) রনকির।

ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান শাহিনসের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজ খেলবে ইংল্যান্ড লায়নস (‘এ’ দল)। সংযুক্ত আরব আমিরাতে এই সফরে দলের কোচিং স্টাফে যুক্ত হচ্ছেন বেন স্টোকস ও মঈন আলী। সফরে প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের সঙ্গে কাজ করবেন দুই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।
এই সফরে তিনটি টি-টোয়েন্টি ও পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ড লায়নস। তিন বছর পর প্রথমবার লায়নস প্রোগ্রামে প্রতিযোগিতামূলক সাদা বলের ক্রিকেট ফিরছে, যা ইংল্যান্ড ক্রিকেটের উন্নয়ন কাঠামোয় নতুন দিক নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ইংল্যান্ড মূলত কাউন্টি ক্রিকেট, শীতকালীন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং অনূর্ধ্ব-১৯ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তরুণদের সাদা বলের প্রস্তুতি চালিয়েছে। তবে পাকিস্তান শাহিনস সফর দিয়ে লায়ন্স দলকে আবারও সাদা বলের উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সক্রিয় করা হচ্ছে।
লায়নসের টি-টোয়েন্টি সিরিজটি হবে ২০১৮ সালের পর প্রথম। এ ছাড়া ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরের পর তারা আর কোনো ৫০ ওভারের ম্যাচও খেলেনি।
স্টোকস এই সফরকে ব্যবহার করবেন অ্যাশেজ সিরিজের শেষ টেস্টে পাওয়া কুঁচকির চোট থেকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে। চলতি গ্রীষ্মে দ্য হান্ড্রেডে নর্দার্ন সুপারচার্জার্সে ‘মেন্টর’ ভূমিকায় ফ্লিনটফের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তিনি। এবার আবুধাবিতে আবারও সেই জুটি একসঙ্গে কাজ করবে।
ইয়র্কশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্ট খেলতে অবসর ভেঙে ফেরার ঘোষণা দেওয়া মঈন কোচিংয়ের দিকে রূপান্তর প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাবেন এই সফরের মাধ্যমে। ফ্লিনটফের কোচিং স্টাফে আরও আছেন নিল ম্যাকেঞ্জি, সারাহ টেলর, নিল কিলিন, আমার রশিদ এবং পেস বোলিং বিশেষজ্ঞ ট্রয় কুলি, যিনি সম্প্রতি আবার দায়িত্ব পেয়েছেন।
টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে অধিনায়ক করা হয়েছে জর্ডান কক্সকে। দলে ফিরেছেন হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর সাকিব মাহমুদ। বিশ্বকাপ চলাকালীন কোনো ইংল্যান্ড খেলোয়াড় চোট পেলে বিকল্প হিসেবে কাছেই থাকবেন এই খেলোয়াড়রা।
দলে উল্লেখযোগ্য নাম হিসেবে আছেন জেমস কোলস, যিনি এসএ২০ মৌসুমে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপের শিরোপা জয়ে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়া ডারহাম ও ওভাল ইনভিন্সিবলসের হয়ে ভালো ফর্মের পুরস্কার পেয়েছেন নাথান সাউটার। টম মুরসও নটিংহ্যামশায়ার ও ট্রেন্ট রকেটসের হয়ে সফল মৌসুমের পর দলে ফিরেছেন।
৫০ ওভারের দলে অধিনায়কত্ব করবেন ড্যান মাউসলি। স্কোয়াডে রয়েছেন সোমারসেটের উইকেটকিপার জেমস রিউ এবং পেসার ম্যাথিউ পটসও, যিনি অ্যাশেজের বাজে পারফরম্যান্স ভুলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পাবেন।
ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ডিরেক্টর এড বার্নির ভাষায়, ‘শক্তিশালী একটি ইংল্যান্ড লায়নস স্কোয়াড নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে অভিজ্ঞ পারফরমার ও প্রতিভাবান তরুণদের দারুণ সমন্বয় রয়েছে। সীমিত ওভারের ক্রিকেট কম থাকায় এই সিরিজ এবং ২০২৬ সালের অন্যান্য সফর খেলোয়াড়দের উন্নয়নে বড় সুযোগ দেবে।’তিনি আরও জানান, লক্ষ্য ২০২৭ আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ভবিষ্যৎ দল গঠন।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে পাকিস্তানের সম্ভাব্য বয়কট বিতর্কে এবার যুক্ত হলো আইসল্যান্ড ক্রিকেট। বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির মন্তব্যের পর টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে জল্পনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে কেন্দ্র করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তানকে ট্রল করেছে আইসল্যান্ড।
আইসল্যান্ড ক্রিকেট একটি পোস্টে লিখেছে, ‘পাকিস্তান যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে তারা প্রস্তুত রয়েছে বদলি হিসেবে মাঠে নামতে।’ পোস্টে তারা রসিকতা করে আরও উল্লেখে করেছে, ‘পাকিস্তানের সিদ্ধান্ত দ্রুত জানা দরকার, কারণ ২ ফেব্রুয়ারি যদি তারা সরে দাঁড়ায়, তাহলে আমাদের কলম্বো পৌঁছানোর ফ্লাইট শিডিউল ঠিক করা কঠিন হয়ে যাবে। আর আমাদের ওপেনার নাকি ঘুমোতে পারে না!’
এই রসিকতা দ্রুতই আলোচনায় আসে এবং বিশ্বকাপ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করে। তবে এর পেছনে রয়েছে আরেকটি প্রেক্ষাপট। বাংলাদেশ নিরাপত্তাজনিত কারণ ভারতে যেতে অস্বীকৃতি জানালে আইসিসি তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে। এ সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন মহসিন নাকভি। তিনি বলেন, পূর্ণ সদস্য দেশ হিসেবে বাংলাদেশেরও পাকিস্তানের মতো ‘হাইব্রিড মডেল’ সুবিধা পাওয়া উচিত ছিল।
আইসিসি অবশ্য জানিয়েছে, স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে বাংলাদেশের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ যেতে রাজি না হওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়।
নাকভির মন্তব্যের পর পাকিস্তানও কি শেষ মুহূর্তে বয়কট করতে পারে—এমন জল্পনা তৈরি হয়েছে। যদিও পিসিবি এরই মধ্যে ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ খেলবে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে, হাইব্রিড মডেলের অংশ হিসেবে।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের এই নাটকীয় পরিস্থিতিতে আইসল্যান্ড ক্রিকেটের ট্রল পোস্ট বিশ্বকাপ বিতর্ককে আরও আলোচিত করে তুলেছে।