৫ মার্চ ২০২৬, ১২:১৮ এম

গ্রুপ পর্বে ৪ ম্যাচের পর সুপার এইটেও ৩ ম্যাচ- টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচ জিতে রীতিমতো আকাশে উড়ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেমি-ফাইনালে তাদের এক ঝটকায় মাটিতে নামিয়ে এনেছে নিউ জিল্যান্ড। প্রোটিয়া অধিনায়ক এইডেন মার্করামের কাছে এটি মুখে চড় খাওয়ার মতো অনুভূতি।
কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের সামনে পাত্তাই পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। মার্কো ইয়ানসেনের ঝড়ো ফিফটিতে ১৬৯ রানের পুঁজি দাঁড় করালেও, ফিন অ্যালেনের তাণ্ডবে সেটিকে মামুলিই বানিয়ে দেয় কিউইরা। মাত্র ১২.৫ ওভারে জিতে ফাইনালে উঠে যায় নিউ জিল্যান্ড।
ম্যাচ শেষে তাই আক্ষেপ ও হতাশা একদমই লুকালেন না মার্করাম।
“হ্যাঁ অবশ্যই অনেক বেশি হতাশার, অনেক বড় (ধাক্কা)। এটি হয়তো মুখে চড় মারার মতো নয়, কিন্তু তেমনই অনুভূত হচ্ছে। তবে হ্যাঁ, এটির কারণেই দিন শেষে আমাদের আরও শক্তভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হবে ও দল হিসেবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রোটিয়া অধিনায়ক আগেই বুঝতে পেরেছিলেন ইডেন গার্ডেন্সের উইকেট ভালো থাকবে এবং প্রথাগত পদ্ধতিতে খেলতে পারলে ১৯০ রানের আশপাশে করা সম্ভব। কিন্তু ওপরের সারির ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ১৬৯ রানের বেশি করতে পারেনি তারা।
পরে ফিন অ্যালেন ১০ চারের সঙ্গে ৮ ছক্কায় ৩৩ বলে ১০০ রানের ইনিংস খেলে গড়েন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড। এই উইকেটে যথেষ্ট রান করতে না পারার কারণেই পরাজয়ের কথা বললেন মার্করাম।
“দল হিসেবে এটি পর্যালোচনা করব। আমরা বুঝতে পারছিলাম উইকেট ভালো থাকবে। তাই দ্রুত মানিয়ে নিয়ে, প্রথাগতভাবে খেলে গেলেও হতো। কোনোভাবে ১৯০ রান করতে পারলেও হয়তো ম্যাচে থাকা যেত। এই ফলে হতাশ। তবে ছেলেদের নিয়ে আমি গর্বিত। তারা টুর্নামেন্টজুড়ে দারুণ খেলেছে।”
No posts available.
৪ মার্চ ২০২৬, ৪:৪৪ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মনের মতো করে কাটিয়েছেন পাকিস্তানের ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান। সাত ম্যাচে দুই সেঞ্চুরিতে তাঁর রান ৩৮৩। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান বেনেটের চেয়ে ৯১ রান বেশি করেছেন তিনি। কুড়ি কুড়ির বিশ্বকাপে দারুণ পারফরম্যান্সের ফল পেয়েছেন ফারহান।
বুধবার প্রকাশিত আইসিসির সাপ্তাহিক র্যাঙ্কিংয়ে বড় লাফ দিয়েছেন ফারহান। পাকিস্তানের ওপেনারের রেটিং পয়েন্ট তাঁর ক্যারিয়ারসেরা ৮৪৮। শীর্ষে থাকা অভিষেকের রেটিং পয়েন্ট ৮৭৪। অর্থাৎ অভিষেকের সঙ্গে ফারহানের পার্থক্য এখন ২৬ পয়েন্টের। দুইয়ে ওঠার পথে ফারহান পেছনে ফেলেন ইংল্যান্ডের ফিল সল্টকে। তিনে থাকা এই ইংলিশ ব্যাটসম্যানের রেটিং পয়েন্ট ৮০৩।
বিশ্বকাপের সুপার এইট পর্ব শেষ হওয়ার পর ব্যাটারদের র্যাঙ্কিংয়ে আরও পরিবর্তন এসেছে। ভারতের ইশান কিশান (চতুর্থ) ও তিলক বার্মা (ষষ্ঠ) দুজনই এক ধাপ করে এগিয়ে সেরা দশে জায়গা পোক্ত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসও এক ধাপ উঠে এখন অষ্টম।
জিম্বাবুয়ের বেনেট টুর্নামেন্টে ২৯২ রান করে ছয় ধাপ এগিয়ে ১১ নম্বরে উঠেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার রায়ান রিকেল্টন ১৩তম ও এইডেন মার্করাম ১৬তম স্থানে উঠে এসেছেন।
বোলারদের তালিকায়ও একই চিত্র। ভারতের স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী শীর্ষে থাকলেও রশিদ খানের সঙ্গে তাঁর মাত্র ১৮ রেটিং পয়েন্ট দূরত্ব। টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ১২ উইকেট নেওয়া এই স্পিনারের পেছনে আছেন পাকিস্তানের আবরার আহমেদ। যিনি দুই ধাপ এগিয়ে তিন নম্বরে উঠে এসেছেন।
ভারতের জাসপ্রিত বুমরাহ (সপ্তম) ও আর্শদীপ সিং (১৩তম) দুজনই উন্নতি করেছেন। ইংল্যান্ডের লিয়াম ডসন ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিদি র্যাঙ্কিংয়ে ওপরে উঠেছেন।
অলরাউন্ডারদের তালিকায় শীর্ষস্থান ধরে রেখেছেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। হার্দিক পাণ্ডিয়া এক ধাপ এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। পেছনে ফেলেছেন পাকিস্তানের সায়েম আইয়ুবকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার জেসন হোল্ডারও বড় লাফ দিয়েছেন। আট ধাপ এগিয়ে এখন ১১ নম্বরে।

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সুপার এইট পর্বেই বিদায়—পাকিস্তান ক্রিকেটে আবারও অস্থিরতার ঝড়। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর অধিনায়কত্ব, কোচিং ও দল পরিচালনা, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। এর মধ্যেই সামনে এসেছে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ।
জিও সুপারের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, টুর্নামেন্ট চলাকালেই পাকিস্তানের কয়েকজন ক্রিকেটার প্রধান কোচ মাইক হেসনের আচরণ নিয়ে সরাসরি অভিযোগ করেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) কর্মকর্তাদের কাছে।
ড্রেসিংরুমে অস্বস্তি?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোচের কঠোর ও একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা ড্রেসিংরুমের পরিবেশ অস্বস্তিকর করে তোলে। অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অধিনায়কের সঙ্গে আলোচনা না করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দল পরিচালনার প্রায় সব ক্ষেত্রে হেসনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ক্রিকেটারদের একাংশ অসন্তুষ্ট ছিলেন।
বিশ্বকাপে সালমান আলী আগার নেতৃত্বাধীন দলটি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল ও ইংল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলর কাছে বড় ব্যবধানে হারে। ব্যাটিং–বোলিং দুই বিভাগেই ছিল অসংগতি। মাঠের পারফরম্যান্সের সঙ্গে ড্রেসিংরুমের অস্থিরতার যোগ আছে কি না, সেটিও এখন আলোচনায়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নির্বাচক প্যানেল ও অধিনায়ক—কেউই নাকি হেসনের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে পারেননি। টিম ম্যানেজমেন্টে তাঁর ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ ছিল বলেও দাবি সূত্রগুলোর।
বোর্ডের পর্যালোচনা, তবে…
পিসিবির শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে জানা গেছে। টুর্নামেন্ট–সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর কোচের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হবে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কারণ, হেসনের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেছে বোর্ড। প্রধান কোচের পদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার নীতিতে আপাতত অনড় পিসিবি। ফলে সমালোচনা ও অভিযোগের মধ্যেও দায়িত্বে টিকে যেতে পারেন এই নিউ জিল্যান্ডের কোচ।
বিশ্বকাপ–ব্যর্থতার পর জরিমানা, নেতৃত্ব পরিবর্তন কিংবা কোচিং স্টাফে রদবদল—সবই এখন আলোচনার টেবিলে। পাকিস্তান ক্রিকেট কোন পথে হাঁটবে, সেটাই দেখার।
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির পর সাবেক কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ উঠেছিল। কঠোর আচরণ, এক হাতে দলের নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বকাপের আগে অধিনায়ক তামিম ইকবালের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, টিম ম্যানেজমেন্টও জানিয়েছিল অস্বস্তির কথা।

চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে
সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় যৌথভাবে তিন আছেন বরুণ চক্রবর্তী। তবে সর্বোচ্চ উইকেট
নেওয়া এই ‘রহস্য স্পিনারকে’ নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় ভারত। এই বোলার যে দেদারসে রান বিলিয়েই
যাচ্ছেন। ব্যাটারদের জন্য আতঙ্ক হয়ে আবির্ভাব ঘটা বরুণই এখন রান বিলি করছেন প্রতি ম্যাচে।
আর ব্যাটারদের বেদড়ক মার খেয়ে নাকি ঘুরে দাড়ানোর পরিবর্তে উল্টে হতভম্ব হয়ে যান বরুণ।
বিশ্বকাপের গ্রুপপর্ব আর
সুপার এইট মিলিয়ে ৭ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছেন বরুণ চক্রবর্তী। এই সাত ম্যাচে ২৪ ওভার
করা ৩৪ বছর বয়সী স্পিনারের ইকোনোমি রেট ৭.৬৬। সবশেষ সুপার এইটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে
অঘোষিত কোয়ার্টার ফাইনালে ৪০ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়েছেন বরুণ। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার
বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া ম্যাচে ছিলেন আরও খরুচে, ৪৭ রান দিয়ে নেন একটি উইকেট।
বরুণের যে চার ওভারের ওপর
ভারত ভরসা করত, সেই চার ওভারই এখন চিন্তার কারণ। লাইন লেংথ ঠিক রাখতে না পেরে নিয়মিতই
ব্যাটারদের পিটুনি খাচ্ছেন তিনি। ব্যাটাররা তাঁর ওপর হলেই নার্ভাস হয়ে পড়েন বরুণ, এমনটাই
মনে করেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ কৈফ।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে
কৈফ বলেছেন, ব্যাটাররা এখন বরুণের খেলা বোঝে এবং তিনি আর ভারতের ‘রহস্য স্পিনার’ নন।
রান খাওয়ালে বরুণ নার্ভাস হয়ে পড়েন এবং তার প্রাকৃতিক উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে
প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করেন।
কৈফ বলেন,
‘এখন অনেক ব্যাটাররা আগে থেকে প্রস্তুত হয়ে আসছে, ঠিক জানে কিভাবে বরুণকে মোকাবিলা করতে হবে। আর এখানেই তার একটি ছোট সমস্যা দেখা দেয়। আমি লক্ষ্য করেছি, যখন তাকে রান খাওয়ানো হয়, তখন সে কিছুটা নার্ভাস হয়ে পড়ে। প্রতিক্রিয়ায় তা দেখা যায়। উইকেট-টু-উইকেট লেন্থের পরিবর্তে সে প্যাডের দিকে বল করতে শুরু করে।’
কৈফ পরামর্শ দেন,
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন, ‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
বরুণকে আরও বেশি লেগ স্পিন করতে হবে এবং ব্যাটাররা কেন তাকে খেলা সহজ মনে করছে, তার কারণ ব্যাখ্যা করেন,
‘এই বিশ্বকাপে আমি লক্ষ্য করেছি, তিনি খুব কম লেগ স্পিন করছেন। লেগ স্পিনের ওপর কাজ করতে হবে, কারণ এখন ব্যাটররা তার গুগলির জন্য অপেক্ষা করছে। বল স্টাম্পের দিকে আসছে, তাই তারা এটিকে অফ-স্পিনারের মতো ধরে নেয় এবং ভেতরে ঘুরবে মনে করে। তাই অনেকেই তাকে লং-অন বা সরাসরি ব্যাটে সহজে মারতে পারছে।’
এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে ভারতের সব ম্যাচেই খেলেছেন বরুণ। কুলদীপ যাদবের পরিবর্তে তাঁর ওপরই ভরসা
রেখেছে ভারত। আগামীকাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজকরা।
ফাইনাল নিশ্চিতের মঞ্চে নিজের চেনা রূপ দেখাতে পারেন কি না বরুণ সেটাই দেখার এখন।

আরব সাগরের হাওয়া বয়ে যায়
গ্যালারির ওপর দিয়ে। সূর্য ডোবার পর আলো জ্বলে উঠলে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম যেন আরেক রূপ
নেয়। ভারতের ক্রিকেট–ইতিহাসে মুম্বাইয়ের এই মাঠ শুধু একটি
ভেন্যু নয়, আবেগের আরেক নাম। কাল ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড-ভারতের
দেখা হওয়ার আগে তাই স্মৃতির পাতা উল্টে দেখার এটাই সময়। ওয়াংখেড়েতে ভারতের সেমিফাইনাল
মানেই নাটক, উত্তেজনা আর ইতিহাস।
১৯৮৭: স্বপ্নভঙ্গের
শুরু
১৯৮৩ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন
ভারত চার বছর পর ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্নে বিভোর। গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত
খেলে সেমিফাইনালে ওঠে স্বাগতিকেরা। সেবরাও প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড।
গ্রাহাম গুচের লড়াকু সেঞ্চুরি
ভারতকে চাপে ফেলে দেয়। রান তাড়ায় নেমে সুনীল গাভাস্কারের দ্রুত বিদায় ছিল বড় ধাক্কা।
মাঝের দিকে লড়াই থাকলেও শেষ ৫ উইকেট মাত্র ১৫ রানে হারিয়ে ৩৫ রানের হারে বিদায় নেয়
ভারত। ওয়াংখেড়েতে সেটিই ছিল স্বাগতিকদের প্রথম বড় ধাক্কা—স্বপ্নভঙ্গের
শুরু।
২০১৬: ১৯২ রানও যথেষ্ট
নয়
সময়ের স্রোতে বদলে গেছে
প্রজন্ম, বদলেছে ফরম্যাট। ২০১৬ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মঞ্চ
সেই ওয়াংখেড়ে। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বিরাট কোহলির ব্যাটে আগুন
ঝরা ইনিংসে ১৯২ রান তোলে ভারত। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আমেজ। কিন্তু টি–টোয়েন্টির
নির্মম বাস্তবতা বুঝিয়ে দেয় ক্যারিবীয়রা। লেন্ডন সিমন্সের স্থিরতা আর আন্দ্রে রাসেলের
ঝড়ে দুই বল বাকি থাকতে ম্যাচ বের করে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১৯২ রানের স্কোরও যে নিরাপদ
নয়, সেই শিক্ষা দেয় সেই রাত।
২০২৩: প্রতিশোধের উল্লাস
সবচেয়ে সাম্প্রতিক স্মৃতি
২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ। লিগ পর্বে অপরাজিত ভারত সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় নিউজিল্যান্ডের।
চার বছর আগের আঘাতের জবাব দেওয়ার মঞ্চও যেন তৈরি ছিল।
রোহিত শর্মার ঝড়ো শুরু,
শুভমান গিলের লড়াকু ইনিংস, আর বিরাট কোহলির রেকর্ড ভাঙা ৫০তম সেঞ্চুরি—সব মিলিয়ে প্রায়
৪০০ রানের পাহাড় গড়ে ভারত। জবাবে ড্যারিল মিচেল লড়াই করলেও শেষ কথা বলেন মোহাম্মদ শামি।
তাঁর সাত উইকেটে উল্লাসে ফেটে পড়ে ওয়াংখেড়ে। সেই রাতে ইতিহাসের সঙ্গে আবেগের মেলবন্ধন
ঘটে।
ওয়াংখেড়ের সেমিফাইনাল ইতিহাস
তাই মিশ্র অনুভূতির—হতাশা আছে, আছে গৌরবও। ১৯৮৭-এর কান্না, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের
আক্ষেপ আর ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের উল্লাস—সব মিলিয়ে এই মাঠ ভারতের জন্য এক আবেগঘন
অধ্যায়।
এবার ২০২৬ টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নতুন গল্প লেখার অপেক্ষা। ইতিহাস কি আবার
হাসবে ভারতের দিকে? নাকি ওয়াংখেড়ে উপহার দেবে আরেক নাটকীয় রাত—উত্তর মিলবে আগামীকাল।

টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের ব্যর্থতায় এবার ওয়ানডে দলেও জায়গা হারালেন বাবর আজম। একইসঙ্গে ধাক্কা খেলেন
সাইম আইয়ুবও। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে রাখা হয়নি পাকিস্তানের এই দুই
তারকা ব্যাটারকে।
মিরপুর
শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১ মার্চ (বুধবার) শুরু হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। এর সপ্তাহখানেক আগেই ১৫ সদস্যের দল ঘোষণা করে দিয়েছে পাকিস্তান
ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
শাহিন
শাহ আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন দলে ডাক
পেয়েছেন ওয়ানডে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা ৬ জন ক্রিকেটার। তারা হলেন- আব্দুল সামাদ, মাজ
সাদাকাত, মোহাম্মদ গাজী ঘড়ি, সাহিবদজাদা ফারহান, সাদ মাসুদ ও শামিল হোসেন।
নতুন
ডাক পাওয়া ক্রিকেটারদের মধ্যে আব্দুল সামাদ, মাজ সাদাকাত, সাদ মাসুদ ও শামিল হোসেন
সম্প্রতি আবু ধাবিতে ইংল্যান্ড লায়ন্সের ('এ' দল) বিপক্ষে সিরিজের পাকিস্তান শাহিন্স
('এ') দলেও ছিলেন।
পূর্ব
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৯ মার্চ (সোমবার) বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে পাকিস্তান
দলের। তবে ফ্লাইটের সূচির ওপর নির্ভর করে এক দিন এগিয়ে আসতে পারে তাদের আগমন।
মিরপুরে
১১, ১৩ ও ১৫ মার্চ হবে সিরিজের তিন ম্যাচ। সবগুলো ম্যাচ শুরু দুপুর আড়াইটায়।
বাংলাদেশ সফরের পাকিস্তান স্কোয়াড
শাহিন
শাহ আফ্রিদি (অধিনায়ক), আব্দুল সামাদ, আবরার আহমেদ, ফাহিম আশরাফ, ফয়সাল আকরাম, হারিস
রউফ, হুসাইন তালাত, মাজ সাদাকাত, মোহাম্মদ রিজওয়ান (উইকেটরক্ষক), মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র,
মোহাম্মদ গাজী ঘড়ি (উইকেটরক্ষক), সাদ মাসুদ, সাহিবজাদা ফারহান, সালমান আলি আগা, শামিল
হোসেন