
বৃহস্পতিবার সুপার ওভারে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে হারের পর শুক্রবারের ম্যাচটি রংপুর রাইডার্সের জন্য হয়ে ওঠে বিশেষ এক লড়াই। প্লে-অফের দৌড়ে টিকে থাকতে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে সিলেট টাইটান্সকে ১৪৪ রানে আটকে দেয় সাবেক চ্যাম্পিয়নরা। জিততে হলে রংপুর রাইডার্সকে করতে হবে ১৪৫ রান।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠান রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান। শুরুতে ধাক্কা খেলেও মিডল অর্ডারের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে লড়াইয়ের মতো পুঁজি গড়ে সিলেট।
দলীয় ১২ রানে সাইম আইয়ুবের বিদায়ের পর ৩৫ রানের মধ্যেই মেহেদী হাসান মিরাজ ও রনি তালুকদারের উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে স্বাগতিকরা। এরপর ইথান ব্রুকস ও আফিফ হোসেনের জুটি কিছুটা স্বস্তি ফেরায় সিলেট শিবিরে।
টপঅর্ডার ভেঙে পড়ার পর আফিফ ও ব্রুকস মিলে গড়েন ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। হাফ সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে থামেন আফিফ হোসেন। ৩১ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলেন এই বাংলাদেশি স্পিন অলরাউন্ডার। ইথান ব্রুকস ৩০ বল খেলে করেন ৩২ রান।
তবে শেষদিকে বড় সংগ্রহের আশা জাগাতে পারেননি সিলেট। আজমত উল্লাহ ওমরজাই বিপিএলের ১২তম আসরে নিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হন। ফাহিম আশরাফের বলে ক্যাচ তুলে দেওয়ার আগে মাত্র ৬ রান করেন তিনি। নির্ধারিত ২০ ওভারে সবমিলিয়ে ১৪৪ রানেই থামে সিলেট টাইটান্স।
বল হাতে রংপুরের হয়ে আলো ছড়ান মোস্তাফিজুর রহমান ও ফাহিম আশরাফ। সিলেট অধিনায়ক মিরাজকে ফিরিয়ে স্বীকৃত ক্রিকেটে ৪০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন মোস্তাফিজ। এরপর আরও তিনটি উইকেট যোগ করে ইনিংসে বড় প্রভাব রাখেন তিনি।
বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৮৫ ম্যাচে মোস্তাফিজের উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ১১১। টুর্নামেন্টের ইতিহাসে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ। সামনে সুযোগ রয়েছে তাসকিন আহমেদের (১২৮) উইকেটসংখ্যা ছাড়িয়ে যাওয়ার।
No posts available.
২ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:০৩ পিএম

শরিফুল ইসলামের আগুনঝরা পেস আর তানভীর ইসলামের নিখুঁত ঘূর্ণিতে ম্যাচের ভাগ্য তখনই হেলে পড়ে। ব্যাট হাতে বাকি কাজটা সেরে দেন মোহাম্মদ নাইম ও অ্যাডাম রশিংটন। দুই ওপেনারের অবিচ্ছিন্ন ১২৩ রানের জুটিতে বিপিএলে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিতে কোনো বেগই পেতে হয়নি চট্টগ্রাম রয়্যালসের।
বিপিএলের দ্বাদশ আসরে এটি ছিল চট্টগ্রামের তৃতীয় ম্যাচ। আসরের শুরুতে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের কাছে হোঁচট খায় বন্দরনগরীর দলটি। তবে তৃতীয় ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্সে আবারও জয়ের ধারায় ফেরে তারা।
তিন ম্যাচে দুই জয়ে পয়েন্ট টেবিলে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তত্ত্বাবধানে থাকা চট্টগ্রাম রয়্যালস। শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। নাজমুল হোসেন শান্তদের দলটি চার ম্যাচে তিনটি জয় পেয়েছে, যদিও একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে তারা।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার ইনিংসটা যেন ছিল ক্রিজে আসা–যাওয়ার মিছিল। নির্ধারিত ২০ ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই, দুই বল বাকি থাকতে ১২২ রানেই গুটিয়ে যায় রাজধানীর দল। জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন ইংলিশ উইকেটকিপার ব্যাটার অ্যাডাম রশিংটন।
মোট পাঁচটি ডিসমিসালে সরাসরি জড়িত ছিলেন—একটি রানআউট ও চারটি স্ট্যাম্পিং। চারটি স্ট্যাম্পিং করে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ স্ট্যাম্পিংয়ের বিশ্বরেকর্ডে যৌথভাবে নিজের নাম লেখান রশিংটন।
রশিংটনের আগে এক ম্যাচে চারটি স্ট্যাম্পিং করেছিলেন আরও ছয়জন উইকেটরক্ষক। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো চট্টগ্রাম রয়্যালসের নামও।
বল হাতে শুরুতেই ঢাকার ব্যাটারদের নাকাল করে দেন শরিফুল ইসলাম। তীব্র শীত উপেক্ষা করে ধারাবাহিক গতিতে আগুন ঝরান এই বাঁহাতি পেসার। তার সঙ্গে সমান তালে ঘূর্ণি জাদু দেখান তানভীর ইসলাম। দুজনে মিলে শিকার করেন ছয়টি উইকেট। সঙ্গে ছিল মেহেদি হাসানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং। শেষ পর্যন্ত ১২২ রানেই থামে ঢাকার ইনিংস।
জবাবে নেমে একেবারেই কোনো সুযোগ দেয়নি চট্টগ্রাম। মাত্র ১২.৪ ওভারেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় তারা। মোহাম্মদ নাইমের ৪০ বলে ৫৪ আর অ্যাডাম রশিংটনের ৩৬ বলে অপরাজিত ৬০ রানের ইনিংসে সহজ ও দাপুটে জয় নিশ্চিত করে বন্দরনগরীর দলটি।

বিপিএলের সর্বশেষ সংস্করণে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ১৪ ম্যাচে ৪২.৫৮ গড়, ১৪৩.৯৪ স্ট্রাইক রেটে করেছেন ৫১১ রান। সে কারণেই বিপিএলের এবারের নিলাম ঘরে ঝড় তুলতে পেরেছিলেন নাঈম শেখ। ভিত্তিমূল্য ৫০ লাখ টাকা থেকে দর বাড়তে বাড়তে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় কিনেছে তাকে চট্টগ্রাম রয়্যালস। নিলামে একমাত্র কোটি টাকার ক্রিকেটার নাঈম শেখের শুরুটা হয়নি ভাল। নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ১১, রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে ৩৯ রানে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এই বাঁ হাতি ওপেনার। তৃতীয় ম্যাচে এসে ঢাকা ক্যাপিটালসকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়ে ফিরে পেয়েছেন ছন্দ। ৩৩ বলে ফিফটি, ৭ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় হার না মানা ৫৪ রানে চিনিয়েছেন নিজেকে। নাঈম শেখের ওপেনিং পার্টনার ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যাডাম রশিংটনও ফিফটি (৩৬ বলে ৯ চার, ২ ছক্কায় ৬০*) করেছেন।
নাঈম শেখ-অ্যাডাম রশিংটনের অবিচ্ছিন্ন ওপেনিং পার্টনারশিপে ৪৪ বল হাতে রেখে ১২৪ রান তাড়া করে ১০ উইকেটে জিতেছে ফ্রাঞ্চাইজিহীন দল চট্টগ্রাম রয়্যালস।
কীভাবে ১২২ রানে অল আউট হলো ঢাকা ক্যাপিটালস ? কীভাবেএতো বড় জয় পেল চট্টগ্রাম রয়্যালস ? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথমে কৃতিত্ব দিতে হবে চট্টগ্রাম ক্যাপিটালসের ১ পেসার, ২ স্পিনারকে। বাঁ হাতি পেসার শরিফুলের প্রথম স্পেলে (৩-০-১০-২) ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ঝাঁকুনি খেয়েছে ঢাকা ক্যাপিটালস (৩৮/২)। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে'র পরে বাঁ হাতি স্পিনার তানভীর-অফ স্পিনার শেখ মেহেদী দুই এন্ডে বল করে কাঁপিয়ে দিয়েছেন ঢাকা ক্যাপিটালসকে। এই স্পিন জুটির ছোবলে ৩৮/২ থেকে ১০ ওভার শেষে স্কোরশিটের চেহারা হয়ে গেছে ৫৫/৬।
এই দুই স্পিনার মিলে নিয়েছেন ৫ উইকেট। যার মধ্যে ৪টি স্ট্যাম্পিং! ডাউন দ্য উইকেটে খেলার প্রবণতায় আত্মাহুতি দিয়েছেন ঢাকা রয়্যালসের ৪ ব্যাটার। ওয়াইড ডেলিভারী দেখেও ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে প্রলুব্ধ হয়েছেন তাঁরা। তানভীরের বলে সিঙ্গল বের করা দু:সাধ্য হয়ে উঠেছে যখন, তখন তার বলে বিগ শট নিতে যেয়ে ডাউন দ্য উইকেটে খেলতে মনস্থির করে উসমান খান (১৫ বলে ২১), মিঠুন (১২ বলে ৮)ম শেখ মেহেদীর বলে শামীম (৭ বলে ৪), সাব্বির রহমান রুম্মান (৮ বলে ৯) স্ট্যাম্পিংয়ে কাটা পড়েছেন!
চারটি স্ট্যাম্পিংই করেছেন উইকেট কিপার অ্যাডাম রশিংটন। এমন একটা পরিস্থিতিতে স্কোর তিন অঙ্কে টেনে নেয়াটা ছিল ঢাকা ক্যাপিটালসের বড় চ্যালেঞ্জ। সেই চ্যালেঞ্জে সফল টেল এন্ডার সাইফউদ্দিন ২৫ বলে ৪ বাউন্ডারিতে ৩৩ রানে ছিলেন অবিচ্ছিন্ন। ৮ম উইকেট জুটিতে নাসিরকে সঙ্গে নিয়ে ৩৬ বলে ৪৮ রানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। শরীফুলের কিপ্টে বোলিংয়ে ৩ উইকেটের বিপরীতে খরচ ১৮ (৪-০-১৮-৩)। দুই স্পেলের এই বোলিংয়ে ২৪টি ডেলিভারীর মধ্যে ১৬টি দিয়েছেন ডট। বাঁ হাতি স্পিনার তানভীর তো ছিলেন মহা কিপ্টে (৪-০-৮-৩)। ২৪টি ডেলিভারীর মধ্যে ১৭টি দিয়েছেন তিনি ডট। আশ্চর্য হলেও সত্য, একটিও বাউন্ডারি হজম করতে হয়নি তানভীরকে।
সিলেটের উইকেট কী হয়ে গেলো স্পিন ফ্রেন্ডলি ? ঢাকা ক্যাপিটালসের ইনিংস দেখে এ প্রশ্ন করেছেন যারা, চট্টগ্রাম রয়্যালস ওপেনার নাঈম শেখ-অ্যাডাম রশিংটনের ব্যাটিং দেখে তাঁদের ধারনা পাল্টে গেছে।

২০২৬ সালে ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করবে বাংলাদেশ। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ ও আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ খেলতে এ দেশে সফর করবে অস্ট্রেলিয়া, পাকিস্তান, নিউ জিল্যান্ড, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আজ ঘরের মাঠে আন্তর্জাতিক সিরিজের সূচী প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কুড়ি কুড়ির টুর্নামেন্ট শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ঘরোয়া মৌসুম শুরু হবে বাংলাদেশের। ১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ ম্যাচগুলো।
এপ্রিল–মে মাসে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে বাংলাদেশে সফর করবে নিউ জিল্যান্ড। এরপর মে মাসে পাকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের দুটি টেস্ট ।
জুনে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া। এই সিরিজে থাকছে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি। সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলতে আগস্টের শেষ দিকে দেশে আসবে ভারত।
অক্টোবর–নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি টেস্ট দিয়ে ঘরোয়া মৌসুম শেষ হবে বাংলাদেশের।
এছাড়া মে মাসে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল বাংলাদেশ সফর করবে। সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে তারা। কোন সিরিজেরই ভেন্যু এখনো চূড়ান্ত করেনি বিসিবি।
২০২৬ সালে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সূচিঃ
পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফর: মার্চ ২০২৬
ম্যাচ: ৩টি ওয়ানডে
১২ মার্চ: ১ম ওয়ানডে
১৪ মার্চ: ২য় ওয়ানডে
১৬ মার্চ: ৩য় ওয়ানডে
নিউ জিল্যান্ডের বাংলাদেশ সফরঃ এপ্রিল-মে ২০২৬
ওয়ানডে সিরিজ
১৭ এপ্রিল: ১ম ওয়ানডে
২০ এপ্রিল: ২য় ওয়ানডে
২৩ এপ্রিল: ৩য় ওয়ানডে
টি-টোয়েন্টি সিরিজ
২৭ এপ্রিল: ১ম টি-টোয়েন্টি
২৯ এপ্রিল: ২য় টি-টোয়েন্টি
২ মে: ৩য় টি-টোয়েন্টি
পাকিস্তানের বাংলাদেশ সফরঃ মে ২০২৬ ( আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ)
৮–১২ মে: ১ম টেস্ট
১৬–২০ মে: ২য় টেস্ট
অস্ট্রেলিয়ার বাংলাদেশ সফরঃ জুন ২০২৬
ওয়ানডে সিরিজ
৫ জুন: ১ম ওয়ানডে
৮ জুন: ২য় ওয়ানডে
১১ জুন: ৩য় ওয়ানডে
টি-টোয়েন্টি সিরিজ
১৫ জুন: ১ম টি-টোয়েন্টি
১৮ জুন: ২য় টি-টোয়েন্টি
২০ জুন: ৩য় টি-টোয়েন্টি
ভারতের বাংলাদেশ সফরঃ আগস্ট-সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওয়ানডে সিরিজ
১ সেপ্টেম্বর: ১ম ওয়ানডে
৩ সেপ্টেম্বর: ২য় ওয়ানডে
৬ সেপ্টেম্বর: ৩য় ওয়ানডে
টি-টোয়েন্টি সিরিজ
৯ সেপ্টেম্বর: ১ম টি-টোয়েন্টি
১২ সেপ্টেম্বর: ২য় টি-টোয়েন্টি
১৩ সেপ্টেম্বর: ৩য় টি-টোয়েন্টি
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাংলাদেশ সফরঃ অক্টোবর ২০২৬ (বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ)
২২–২৪ অক্টোবর: তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ
২৮ অক্টোবর–১ নভেম্বর: ১ম টেস্ট
৫–৯ নভেম্বর: ২য় টেস্ট
শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বাংলাদেশ সফরঃ মে ২০২৬
মে মাসে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দল বাংলাদেশ সফর করবে। এই সফরে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের বিপক্ষে দুটি চার দিনের ম্যাচ ও তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে তারা।

এবারের নারী ফুটবল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো দল গড়েছে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। দলে ভিড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের ৫ তারকা নারী ফুটবলার- মারিয়া মান্দা, তহুরা খাতুন, মনিকা চাকমা এবং দুই শামসুন্নাহারকে। সিনিয়র শামসুন্নাহার বাদে রক্ষণে সে অর্থে পরীক্ষিত কোনো সেনা নেই। যে কারণে নেপাল থেকে দুজন ডিফেন্ডারকে উড়িয়ে এনেছে পুরান ঢাকার ক্লাবটি। একজনের নাম পূজা রানা মাগার, অন্যজন সামিক্ষা ঘিমিরে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা রেঞ্জার্সের বিপক্ষে ১০-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ফরাশগঞ্জ। প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে দারুণ খুশি নেপালের এই দুই ডিফেন্ডার। যাদের মধ্যে সামিক্ষা ইংরেজি বলতে পারেন না; তবে বুঝতে পারেন। হিন্দি ভাষায় এক কথায় যা বললেন তার অর্থ দাঁড়ায়- ‘খুব ভালো লাগছে।’
আরও পড়ুন
| চেলসি ম্যাচের আগে হলান্ডদের ‘মাথা উঁচু’ রাখতে বললেন গার্দিওলা |
|
পূজা রানা আবার যোগাযোগে বেশ দক্ষ। ম্যাচ জেতা নিয়ে তিনি বলেন, ‘সবার আগে আমি আমার সতীর্থদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। তাঁরা খুব ভালো খেলেছে এবং আজকের (গতকাল) ম্যাচটি আমি সত্যিই খুব উপভোগ করেছি।’
বাংলাদেশে এর আগেও নেপাল জাতীয় নারী ফুটবল দলের হয়ে খেলে গেছেন পূজা। ঢাকার আবহাওয়া, পরিবেশ মোটামুটি জানা-ই নেপালি ডিফেন্ডারের জন্য। এবার নতুন ভূমিকায় এলেন বাংলাদেশে। এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচই খেলেছেন, তবে ক্লাবের আতিথেয়তা এবং এখানকার দর্শকদের উৎসাহ উপভোগ করছেন বলে জানান তিনি, ‘সবাইকে নমস্কার। বাংলাদেশের নারী ফুটবল লিগে অংশ নিতে পেরে আমরা সত্যিই অনেক আনন্দিত। এখানে আসতে পেরে আমরা খুব খুশি এবং অনেক উপভোগ করছি। ফরাশগঞ্জে যোগ দিতে পেরে আমি সত্যিই গর্বিত।’
বাংলাদেশে এসেছেন মাত্র কয়েকদিন হলো। মাঠ এবং ক্লাবের বাইরে এখনো সেভাবে যাওয়া হয়নি দুই নেপালি ফুটবলারের। তবে পুরাণ ঢাকার নানা ঐতিহ্যের গল্প শুনেছেন সতীর্থদের কাছে। এখানকার খাবারের কথাও ইতোমধ্যে জানা হয়েছে পূজা-সামিক্ষাদের। সময় হলে সেসব ঘুরে দেখবেন বলে জানান।
বাংলাদেশে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে পূজা বলেন, ‘না, এখানে আমাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের টিম ম্যানেজার, সতীর্থরা- সবাই খুব ভালো। এখানে থাকতে পেরে আমরা সত্যিই খুশি।’ কেবল এক ম্যাচ খেলেছে ফরাশগঞ্জ। প্রতিপক্ষ দলগুলোর মধ্যে অনেকেই নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলার সুযোগ পায়নি। তাই অন্য দলগুলোর শক্তিমত্ত্বা, সামর্থ্য জানাও সম্ভব নয়। তারপরও এই দল নিয়ে আশাবাদী পূজা রানা, ‘আমাদের দলটি খুবই শক্তিশালী। দেখা যাক কী হয়।’

গত কয়েক বছরই ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মারকুটে ব্যাটার ট্রাভিস হেডের চাহিদা তুঙ্গে। চলতি অ্যাশেজ সিরিজেও রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। তবে সিরিজ শেষে নিজেদের ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট বিগ ব্যাশে দেখা যাবে না হেডকে। শারীরিক ও মানসিক ধকল সামলানোর জন্যই এই সিদ্বান্ত নিয়েছেন তিনি।
রোববার থেকে শুরু হচ্ছে অ্যাশেজের শেষ টেস্ট। এই ম্যাচের পর অজি দলে থাকা অনেক খেলোয়াড়ই যোগ দেবেন বিগ ব্যাশে। লিগটিতে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্সের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে হেডের।
বিগ ব্যাশে খেলার বিষয়ে ডেইলি টেলিগ্রাফকে হেড বলেন, ‘অ্যাশেজ সিরিজের মানসিক চাপ আর সামনে বিশ্বকাপ থাকায় সম্ভবত খেলা হবে না।’
আরও পড়ুন
| লাইভে বাবরের কড়া সমালোচনায় গিলক্রিস্ট |
|
চলতি অ্যাশেজে চার ম্যাচে ৪৩৭ রান নিয়ে সিরিজের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হেড। অ্যাশেজের মতো সিরিজ মানসিকভাবে ক্লান্তিকর বলেন এই ব্যাটার, ‘প্রতিটি সিরিজেই ভালো অবদান রাখার লক্ষ্য থাকে। এবার সেটা বেশ ভালোভাবেই করতে পেরেছি। কিন্তু অ্যাশেজে খেলা এবং পুরো সিরিজ জুড়ে থাকা মানসিকভাবে সবসময়ই কঠিন।‘
বর্তমানে খেলোয়াড়দের ওপর ব্যাস্ত সূচির চাপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন হেড, ‘বিশ্বকাপে ভালো অবস্থায় যেতে চাইলে বিশ্রাম নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। বিষয়টা উদ্বেগের- আমরা ইতিমধ্যে কতটুকু খেলেছি আর কতটা সময় রয়েছে সামনে।‘
ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে। টুর্নামেন্টে 'বি’ গ্রুপে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ২০২২ সালের বিশ্বকাপজয়ীরা তাঁদের অভিযান শুরু করবে ১১ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে।