১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম

টানা তিন ম্যাচের ব্যস্ত সূচির দিনের শেষটি গড়ালো মিনিট পাঁচেক পর। খেলা কিছুটা দেরিতে গড়ালেও গোল পেতে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের খুব একটা দেরি হলো না। সপ্তম মিনিটে গোলের খাতা খোলেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। ২৩ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি তহুরা খাতুনের। এরপর একের পর এক ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাবকে গোলবন্যায় ভাসালেন তাঁরা। দুজনেই করলেন হ্যাটট্রিক; তবে কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারলেন না।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নারী ফুটবল লিগের পঞ্চম ম্যাচে ফরাশগঞ্জকে মোকাবিলা করে ঢাকা রেঞ্জার্স। খেলায় ১০-০ গোলে জেতে ফরাশগঞ্জ। জোড়া হ্যাটট্রিকের ম্যাচে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪টি করে গোল করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুন। একবার করে জালের দেখা পান মনিকা চাকমা ও মারিয়া মান্দা।
সপ্তম মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের গোলে এগিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ। মাঝ মাঠ খেকে উড়ে আসা বল পায়ে নামিয়ে তহুরা খাতুন পাস দেন ছোট শামসুন্নাহারকে। দৌড়ে বক্সে ঢুকে প্লেসিং শটে দলকে এগিয়ে দেন জাতীয় দলের এই ফরোয়ার্ড।
২৩ মিনিটে ঢাকার গোলকিপার হোমায়রা আক্তার হিমির দৃঢ়তায় গোলবঞ্চিত হয় ফরাশগঞ্জ। বক্সের সামনে তহুরাকে পাস দেন সিনিয়র শামসুন্নাহার। তবে তহুরার শট ঠেকিয়ে দেন প্রতিপক্ষেল গোলকিপার। ফিরতি বলে শামসুন্নাহারের জোরালো শট ঠেকিয়ে দিলেও বল ছিল গোলকিপারের সামনেই; এবার তহুরার আরেকটি প্রচেষ্টাও আটকে দেন হিমি। এ সময় টানা তিনটি সেভ করেন তিনি।
তিন মিনিট পর পোস্টের সেই উঁচু কর্নার দিয়েই জাল কাঁপান তহুরা। বক্সে মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন ফরাশগঞ্জের নম্বর টেন। ২-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা। ৩৩ মিনিটে অনামিকা ত্রিপুরার বাড়ানো উঁচু বলে হেডে সরাসরি লক্ষ্যভেদ করে শামসুন্নাহার জুনিয়র।
৩৭ মিনিটে দলের চতুর্থ এবং নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। আক্রমনের শুরু মাঝ মাঠ থেকে। মারিয়ার কাছ থেকে বল পেয়ে ছোট পাসে মনিকাকে দেন তহুরা। এরপর ফরাশগঞ্জ মিডফিল্ডারের কাছ থেকে বল পান শামসুন্নাহার; প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার কল্পনা আক্তার এবং গোলকিপারকে কাটিয়ে প্লেসিং শটে বল জালে জড়ান ছোট শামসুন্নাহার।
৪০ মিনিটে দলের মারিয়ার আড়াআড়ি নিচু শটে বল বেরিয়ে যায় পোস্ট ঘেঁষে। কয়েক সেকেন্ড পর বক্সের কয়েক গজ সামনে থেকে দূরপাল্লার শটে গোল করেন মারিয়া।
তিন মিনিট পর মনিকার লং বলে মাথা ছোয়াতে পারেননি শামসুন্নাহার জুনিয়র; তবে পেছনে থাকা তহুরা মিস করেননি। বল এক টার্ফে পড়ে লাফিয়ে উঠলে হেডে ব্যবধান ৬-০ করেন তহুরা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে কর্নারের কাছ থেকে বড় শামসুন্নাহারের লং বলে মাথা ছোয়ালেও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি ছোট শামসুন্নাহার। তারপরও ৬-০ গোলের বড় লিড নিয়ে বিরতিয়ে যায় ফরাশগঞ্জ।
বিরতির পর গোলবন্যা শুরু হলো কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই। বাম প্রান্ত ধরে আক্রমণে উঠে বক্সে উড়িয়ে মারেন অনামিকা। বা পায়ে বল নিচে নামিয়ে জোরালো শটে টপ কর্নার দিয়ে লক্ষ্যভেদ করেন তহুরা। সেই সঙ্গে ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিকও পুরণ করেন এই ফরোয়ার্ড।
৪৯ মিনিটে দলের স্কোরলাইন ৮-০ করেন শামসুন্নাহার জুনিয়র। আক্রমণের সূর বেধে দেন তহুরা। তার কাছ থেকে বল পান মারিয়া। এরপর তার থ্রু পাস ধরে বা পায়ের প্লেসিং শটে গোল করেন শামসুন্নাহার।
৬১ মিনিটে দলের গোল উদযাপনে যোগ দেন মনিকা চাকমা। প্রতিপক্ষের রক্ষণচিড়ে বল বের করেন শামসুন্নাহার, ডিফেন্ডার মৌসুমী আক্তারের আগে বক্সে ঢুকে বা পায়ের কুনাকুনি শটে উঁচু কর্নার দিয়ে জালে বল জড়ান মনিকা। ৯-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার খানিক পর ম্যাচে চার গোল করা শামসুন্নাহার জুনিয়রকে উঠিয়ে নেন ফরাশগঞ্জের কোচ আবু ফয়সাল।
৭৮ মিনিটে মারিয়ার উড়িয়ে মারা বল ফিস্ট করতে গিয়ে পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি ঢাকার বদলি গোলকিপার শিফা আক্তার আসমা। জটলার মধ্য ফাঁকা গোলে শট নেন অনামিকা,তবে কল্পনা আক্তার গোললাইন ক্লিয়ার করেন।
৮৩ মিনিটে এই ম্যাচে ব্যক্তিগত গোলসংখ্যায় শামসুন্নাহর জুনিয়রকে ধরে ফেলেন তহুরা। মারিয়ার পাস থেকে বল পেয়ে বক্সে ঢুকে প্রকিপক্ষের গোলকিপারের পাস দিয়ে নিচু শটে জাল খুঁজে পান তিনি। হতভম্ব গোলকিপার দাঁড়িয়ে থেকেই দেখলেন। তাতে গোলের ডাবল ডিজিটে পৌছে যায় ফরাশগঞ্জ।
এর আগে দিনের প্রথম ম্যাচে আনসার ভিডিপি ফুটবল ক্লাবকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে সদ্যপুস্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। পরের ম্যাচে জামালপুরের কাচারিপাড়া একাদশকে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারায় সিরাজ স্মৃতি সংসদ।
No posts available.
৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৪২ পিএম

সাত মাসের চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফিরেই ম্যাচসেরা সাদাব খান। ডাম্বুলায় টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম–আপ সিরিজের প্রথম ম্যাচে তাঁর অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় পেয়েছে পাকিস্তান।
বল হাতে চার ওভারে ২৫ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন সাদাব। পরে ব্যাট হাতে ১২ বলে অপরাজিত ১৮ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। দারুণ এই পারফরম্যান্সের জন্য ম্যাচ শেষে সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই।
গত বছরের জুনে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের পর কাঁধে অস্ত্রোপচার করাতে হয় সাদাবকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে বিগ ব্যাশ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরলেও, ডাম্বুলার ম্যাচটি ছিল তার জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথম ম্যাচ।
ফেরা নিয়ে ম্যাচ শেষে সম্প্রচার চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদাব বলেন,
“আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসা কঠিন, কারণ এখানে আপনাকে আবার শূন্য থেকে শুরু করতে হয়। বোলিং ও ব্যাটিং ভালোই হচ্ছে—আমি সহজ বিষয়গুলোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছি। উইকেট সহায়ক ছিল, তবে ক্রিকেটে সব সময় পরিস্থিতি বুঝে নিতে হয়। এখানে ভালো লেংথের চেয়ে একটু ফুল লেংথে বল করাই বেশি কার্যকর ছিল।”
সামনে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ—এ বিষয়েও কথা বলেন পাকিস্তানের এই অলরাউন্ডার।
“একজন খেলোয়াড় হিসেবে সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলা সব সময়ই স্বপ্ন। আমার জন্য বিষয়টা এক ধাপ এক ধাপ করে এগোনো। দল দারুণ খেলেছে—মির্জা ও ওয়াসিম তাদের সিম বোলিং দিয়ে স্পিনারদের জন্য দারুণ ভিত তৈরি করে দিয়েছে,”
—বলেন সাদাব।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) টাইটেল রেসে ইঁদুর-বিড়াল দৌড় চলছে রংপুর রাইডার্স ও চট্টগ্রাম রয়্যালসের মধ্যে। একবার চট্টগ্রাম শীর্ষস্থান দখলে নেয় তো পরোক্ষণে তা হয়ে যায় রংপুরের।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার সন্ধ্যার ম্যাচে সিলেটকে ১৪ রানে হারায় চট্টগ্রাম। তাতে ছয় ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রেয়তর নেট রান রেটের সৌজন্যে এখন এক নম্বরে চট্টগ্রাম। রংপুর রাইডার্স সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে ২ নম্বরে।
চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই ম্যাচে ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েছেন মাহমুদুল হাসান জয়। দেশীয় ব্যাটারদের মধ্যে তিনি সর্বোচ্চ ২১ বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছেন। প্রায় ২১০ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন জাতীয় দলের এই ব্যাটার।
বিপিএলের ১২তম আসরে এটি সর্বোচ্চ রানের ইনিংস জয়ের। এর আগে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। ম্যাচ শেষে রিদমে ফেরা ও নিজের ইনিংস নিয়ে কথা বলেন ২৫ বর্ষী ডান হাতি এই ব্যাটার।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জয় বলেন,
‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই তখন মনে হয়েছিল উইকেট খুবই ভালো। মারলে হয়তোবা লাগবে। তাই আমি চেষ্টা করেছি।’
এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেট ছিল জয়ের। সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীও ছিলেন তিনি। টেস্ট স্পেশালিস্ট জয় কী তবে টি-টোয়েন্টির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছেন। সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে জয় বলেন,
‘চেষ্টা তো থাকবেই। পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে চেষ্টা তো থাকবেই। আমি সব জায়গায় খেলার চেষ্টা করি। এখন বিপিএল হচ্ছে তাই বিপিএলে চেষ্টা করছি ভালো করার।’
চট্টগ্রাম রয়্যালসের দেওয়া ১৯৯ রানের লক্ষ্য থেকে ১৪ রান দূরে থামে সিলেট টাইটানস। ১৯.৪ বলে ১৮৪ রানে গুটিয়ে গেছে সিলেট। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে তানভীরের বলে আউট হয়েছেন খালেদ আহমেদ। এই খালেদের ২৫ রানের ইনিংসেই খেলা কিছুটা জমিয়ে তুলেছিল সিলেট।
খালেদের ব্যাটিংটা একটা সারপ্রাইজ ছিল কিনা চট্টগ্রামের জন্য?
জয় বলেন,
‘হ্যাঁ অবশ্যই। খালেদ ভাই একটু সারপ্রাইজ করেই দিয়েছিল সবাইকে। আমাদের মেইন বোলার শরিফুল-তানভীর। ওদের কয়েকটা ভালো ছয় মেরে দিয়েছিল। একটু তো সারপ্রাইজ সবাই হয়ে গেছিল।’

সহজ লক্ষ্য—১২৯ রান। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে ওয়ার্ম-আপ সিরিজের প্রথম ম্যাচে শ্রীলঙ্কার দেওয়া সাদামাটা টার্গেট তাড়া করতে নেমে ২০ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে জিতেছে পাকিস্তান। এই জয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সালমান আলী আগা নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান।
বুধবার ডাম্বুলায় টস জিতে স্বাগতিকদের ব্যাটিংয়ে পাঠায় পাকিস্তান। শুরুতেই শ্রীলঙ্কার ওপর পেস আক্রমণ শানায় সালমান মির্জা ও মোহাম্মদ ওয়াসিম। পাশাপাশি স্পিন বিষে ছাড়েন আবরার আহমেদ ও সাদাব খান। পেস ও স্পিন দুই সেকশন থেকে সমান ৫টি করে উইকেট নেয়া হয়। তাতেই ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় লঙ্কানরা।
৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর স্বাগতিকদের হয়ে হাল ধরেন জনিথ লিয়ানাগে। তিনি সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিস খেলেন। দলের সাত ব্যাটার দুই অংকের রান নিলেও একমাত্র ইনিংস বড় করতে পারেন লঙ্কান এই ব্যাটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান ছিল চারিথ আসালাঙ্কা ও ওয়েনিন্দু হাসারাঙ্গার। দুজন ১৮ করে রান করেন। লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে সালমান মির্জার ষাড়াশি অভিযানে। সবমিলিয়ে কোটার ২০ ওভার খেলতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ১৯.২ ওভারে ১২৮ রানে গুটিয়ে যায় তারা।
জবাব দিতে নেমে শাহিবজাদা ফারহান ৩৬ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে যাত্রা শুভ করেন। আরেক ওপেনার সাইম আইয়ুবও ১৮ বলে ২৪ রানের ইনিংস খেলেন। আর শেষটা ইতি টেনে দেন সাদাব খান। এই স্পিনার হাত ঘুরিয়ে দুই উইকেট নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে ১২ বলে করেন ১৮ রান।

দুই ইনিংসে নেই কারো ফিফটি। অথচ, এমন এক ম্যাচে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ১৯৮/৫-এর জবাবে সিলেট টাইটান্সের স্কোর ১৮৪/১০। ১৪ রানে চট্টগ্রাম রয়্যালসের জয়ের ম্যাচেও শেষ ওভার পর্যন্ত উত্তেজনা জিইয়ে রেখেছিল সিলেট টাইটান্স।
চলমান বিপিএলে এ পর্যন্ত হয়ে যাওয়া সর্বোচ্চ স্কোরের ম্যাচে শেষ পাওয়ার প্লে-তে কী ধুমধাড়াক্কা ব্যাটিংই না দেখেছে দর্শক। শেষ ৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে চট্টগ্রাম যোগ করেছে ৬৬, সেখানে ৪ উইকেট হারিয়ে সিলেট টাইটান্স যোগ করেছে ৫৯ রান।
শেষ পাওয়ার প্লে-তে বোলারদের চুল ছিঁড়ে ফেলার দশা করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালস মিডল অর্ডার শেখ মেহেদী (১২ বলে ৪ বাউন্ডারি, ১ ছক্কায় ৩১*)। জবাব দিতে এসে শেষ ১২ বলে ৪২ রানের টার্গেটের মুখে দাঁড়িয়েও সিলেট টাইটান্স টেল এন্ডার খালেদের বেপোরোয়া ব্যাটিং দেখেছে দর্শক (৯ বলে ১ চার, ৩ ছক্কায় ২৫)।
১৯তম ওভারে শেখ মেহেদী চড়াও হয়েছিলেন পেস বোলার খালেদের উপর। মেরেছেন সেই ওভারে ২ চার, ১ ছক্কা, একটি ২ রান। জবাব দিতে এসে ১৯ তম ওভারে পেস বোলার শরীফুলকে খালেদ মেরেছেন ২ ছক্কা, ১ চার।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বোলারদের বধ্যভূমি বানিয়ে ফেলা ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মার খেয়েছেন সিলেট টাইটান্স পেসার খালেদ (৪-০-৫৫-০)। দলের অন্য দুই পেসার রুয়েল মিয়া (৪-০-৪১-৩) এবং আজমতউল্লাহ ওমরজাই (৪-০-৪৭-১)ও ছিলেন অমিতব্যয়ী। প্রশংসা প্রাপ্য শুধু বাঁ হাতি স্পিনার নাসুম ( ৪-০-২৪-০)।
টানা চতুর্থ ম্যাচে ফিফটির কক্ষপথে ছিলেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের অ্যাডাম রশিংটন। তবে ফিফটি থেকে যখন মাত্র ১ রান দূরে, তখন রুয়েল মিয়াকে পুল করতে যেয়ে ডিপ স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়েছেন রশিংটন ( ৩৮ বলে ৬ চার, ১ ছক্বায় ৪৯)। এই ম্যাচে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রকৃত টি-টোয়েন্টি মেজাজে ব্যাটিং করেছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের মাহামুদুল হাসান জয় (২১ বলে ৩ চার, ৪ ছক্বায় ৪৪)। রুয়েল মিয়াকে পর পর ২টি ছক্কা মেরে আর একটি ছক্কার শটে প্রলুব্ধ হয়ে এক্সট্রা কভারে দিয়েছেন ক্যাচ। রশিংটনের সঙ্গে দারুণ বোঝাপড়ায় ২য় উইকেট জুটিতে ৩৮ বলে ৬০ রানে রেখেছেন মাহামুদুল হাসান জয় বিশেষ অবদান।
ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫০ উঠতে ৩ উইকেট হারিয়েও ম্যাচে সিলেটকে রাখতে প্রানান্ত চেষ্টা করেছেন আফিফ। তবে বাঁ হাতি স্পিনার তানভিরের বলে এলবিডাব্লু হয়ে থেমেছেন ৪৬ রানে ( ৩৩ বলে ৪ চার, ২ ছক্কা)। এই ম্যাচে দুদলের মধ্যে ব্যবধান গড়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের পাকিস্তানি পেসার আমের জামাল (৪-০-৩৪-৪)।
সিলেটের জামাই মঈন আলী ইকোনমি বোলিংয়ে (৪-০-২৩-১) নাঈম শেখ-কে শিকার করেছেন। তবে ব্যাটিংয়ে সুবিধা করতে পারেননি। মোহাম্মদ নেওয়াজের বলে বোল্ড হয়েছেন (১১ বলে ১৩)।
এই ম্যাচে ব্যবধান গড়েছে ডট বল এবং বাউন্ডারির সংখ্যা। চট্টগ্রামের (৪৩) চেয়ে ৫টি বেশি ডট করেছে সিলেট (৪৮)। চট্টগ্রামের ১৯টি বাউন্ডারির বিপরীতে ৯টি বাউন্ডারি মেরেছে সিলেট। ৩টি বেশি ছক্কা (১২টি) মেরেও তাই হেরে গেছে সিলেট।
৬ষ্ঠ ম্যাচে চতুর্থ জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রংপুরের সঙ্গে শীর্ষে উঠে এসেছে (৮ পয়েন্ট)। সিলেট নেমে গেছে পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে (৭ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট)।

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) এবারের সংস্করণের সম্প্রচারের দায়িত্ব পেয়েছে ট্রান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিস (টিপিটি)। তাদের আয়োজনে এবার মোট ১১ জন দেশি-বিদেশি ধারাভাষ্যকার দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে চারজন দেশি ধারাভাষ্যকার রয়েছেন।
ধারাভাষ্য প্যানেলে এবার যুক্ত হলো নতুন তারা। বিদেশী কণ্ঠে যুক্ত হচ্ছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার নিক কম্পটন। ৪২ বছর বয়সী সাবেক এই ক্রিকেটার ও বর্তমানে বিশ্লেষক ও ধারাভাষ্যকার কম্পটন স্কাই স্পোর্টস, বিবিসি এবং ইএসপিএনের মতো প্লাটফর্মে কাজ করছেন।
কিংবদন্তি ইংলিশ অলরাউন্ডার ডেনিস কম্পটন-এর নাতি নিক কম্পটন। ক্রিকেট পরিবারে জন্ম নেওয়া এই ব্যাটার ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কম্পটন ইংল্যান্ডের হয়ে ২০১২ থেকে ২০১৩ সালে টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। ১৬ টেস্টে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি।
অবশ্য ক্রিকেটীয় ক্যারিয়ার খুব একটা দীর্ঘ হয়নি কম্পটনের। ২০১৮ সালের শেষে টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় বলেন তিনি। বর্তমানে ক্রিকেটে ধারাভাষ্যকার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ক্রিকেটে তাঁর বিশ্লেষণী দক্ষতা টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ায় বেশ পরিচিত।
এবারের বিপিএলে দেশি ধারাভাষ্যকারদের তালিকায় আছেন ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ খ্যাত আতহার আলী খান। তাঁর সঙ্গে ধারাভাষ্য আছেন শামীম চৌধুরী, সমন্বয় ঘোষ ও মাজহার উদ্দিন অমি।
বিদেশীদের মধ্যে আছেন পাকিস্তানের দুই কিংবদন্তি ওয়াকার ইউনুস ও রমিজ রাজা। রমিজ রাজা এর আগেও বিপিএলে ধারাভাষ্য দিলেও ওয়াকার ইউনিসের জন্য এটি প্রথম। এছাড়া ধারাভাষ্য প্যানেলে আছেন সাবেক শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ফারভেজ মাহরুফ। মাঝে ওয়াকার ইউনুস বাংলাদেশ ছাড়লে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ও সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ড্যারেন গফ যোগ দেন।