১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:০২ পিএম

গত ৪ বছরে ভিন্ন দলের হয়ে বেশ কয়েকবার একই ম্যাচে খেলেছেন মোহাম্মদ নবী ও হাসান ইসাখিল। এই প্রথম একই দলে টি-টোয়েন্টি খেলতে নামবেন আফগানিস্তানের এই বাবা-ছেলে জুটি। নোয়াখালী এক্সপ্রেস একাদশে আছেন তারা দুজন।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং নিয়েছে নোয়াখালী। দলের হয়ে এই ম্যাচ দিয়েই অভিষেক হচ্ছে মোহাম্মদ নবীর ছেলে উইকেটরক্ষক ব্যাটার ইসাখিলের।
আফফগানিস্তানের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে এর আগে ছয়টি ম্যাচে ভিন্ন দুই দলের হয়ে খেলেছেন নবী ও ইসাখিল। এবার বিপিএলের সৌজন্যেই প্রথমবার একই দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলার স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে বাবা-ছেলের।
রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে প্রথম জয়ের স্বাদ পাওয়া একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছে নোয়াখালী। বাদ পড়েছেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, বিলাল সামি, জহির খান। তাদের জায়গায় এসেছেন হাসান ইসাখিল, আবু জায়েদ চৌধুরি রাহি ও ইহসানউল্লাহ।
ঢাকার একাদশে পরিবর্তন শুধু একটি। অভিজ্ঞ পেসার তাসকিনের আহমেদের জায়গায় তারা নিয়েছে অভিজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে।
ঢাকা ক্যাপিটালস একাদশ
রহমানউল্লাহ গুরবাজ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফ হাসান, সাব্বির রহমান, মোহাম্মদ মিঠুন, নাসির হোসেন, শামীম হোসেন, ইমাদ ওয়াসিম, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম, জিয়াউর রহমান শরিফি
নোয়াখালী এক্সপ্রেস একাদশ
হাবিবুর রহমান সোহান, হায়দার আলি, মেহেদি হাসান রানা, মোহাম্মদ নবী, হাসান ইসাখিল, হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, শাহাদাত হোসেন দিপু, সৌম্য সরকার, জাকের আলি অনিক, আবু জায়েদ চৌধুরি রাহি
No posts available.
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৫৬ পিএম
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্ত বার্তা দিচ্ছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। টানা ছয় ম্যাচ হারের পর এবার তারা পেয়েছে পরপর দুই জয়। ঢাকা ক্যাপিটালসকে বড় ব্যবধানেই উড়িয়ে দিয়েছে নবাগত দলটি।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ঢাকার বিপক্ষে নোয়াখালীর জয় ৪১ রানে। আগে ব্যাট করে ১৮৪ রানের বড় পুঁজি পায় নোয়াখালী। জবাবে ৮ বল বাকি থাকতেই ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় ঢাকা।
আট ম্যাচে নোয়াখালীর এটি দ্বিতীয় জয়। অনেক জটিল সমীকরণে মারপ্যাঁচে এখনও টিকে আছে তাদের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনা। বিপরীতে সাত ম্যাচে ঢাকারও জয় দুটি।
ম্যাচে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়েন হাসান ইসাখিল। মাত্র ২৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন সৌম্য। এরপর শাহাদাত হোসেন দীপু ও হাবিবুর রহমান সোহান তেমন কিছুই করতে পারেননি।
১৩তম ওভারে নবী ক্রিজে গেলে জুটি বাধেন আফগান বাবা-ছেলে মোহাম্মদ নবী ও ইসাখিল। ঢাকার বোলারদের তুলোধুনো করে দুজন মিলে দ্রুত বাড়াতে থাকেন দলের সংগ্রহ। তবে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ছেলেকে ক্রিজে রেখে আউট হয়ে যান ১৩ বলে ১৭ রান করা নবী।
ইসাখিলও পরের ওভারে ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ১৯ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংস।
তরুণ ব্যাটারের ৩১ ম্যাচের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই সেরা ইনিংস। নোয়াখালীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলাম।
পরে রান তাড়ায় শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় ঢাকা। পাঁচ ওভারের মধ্যে আউট হয়ে যান রহমানউল্লাহ গুরবাজ (১১), আব্দুল্লাহ আল মামুন (২), সাইফ হাসান (০) ও নাসির হোসেন (০)।
ব্যর্থতার ধারায় চলতি বিপিএলে এখন পর্যন্ত ৬ ইনিংসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহ-অধিনায়ক সাইফের সংগ্রহ মাত্র ৪৮ রান।
পরে প্রতিরোধ গড়েন মোহাম্মদ মিঠুন, শামীম হোসেনরা। কিন্তু একবারও মনে হয়নি জিততে পারে ঢাকা। মিঠুন ৩৩ ও শামীম ২৯ রান করে আউট হন।
শেষ দিকে ঝড় তোলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ৪ চার ও ২ ছক্কায় তিনি খেলেন ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংস। তবে এটি পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো কাজে আসেনি।
নোয়াখালীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মোহাম্মদ নবী ও মেহেদী হাসান রানা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নোয়াখালী এক্সপ্রেস: ২০ ওভারে ১৮৪/৭ (ইসাখিল ৯২, সৌম্য ৪৮, দীপু ৩, সোহান ৪, নবী ১৭, হায়দার ০, জাকের ৮, হাসান ০*, রানা ৪*; ইমাদ ৪-০-৩৬-০, সাইফউদ্দিন ৩-০-২৩-২, জিয়াউর ৩-০-৪৬-০, নাসির ৩-০-২৪-০, তাইজুল ৪-০-২-২, মামুন ৩-০-২৪-২)
ঢাকা ক্যাপিটালস: ১৮.২ ওভারে ১৪৩ (গুরবাজ ১১, মামুন ২, নাসির ০, সাইফ ০, মিঠুন ৩৩, শামীম ২৯, সাব্বির ১৩, ইমাদ ৩, সাইফউদ্দিন ৩৪, তাইজুল ১, জিয়াউর ৪*; হাসান ৩-২-০-২১-২, ইহসানউল্লাহ ৪-০-৩২-২, রানা ৪-০-২৫-২, নবী ৪-০-২৩-২, রাহি ৩-০-৩৫-১)
ফল: নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪১ রানে জয়ী

বিপিএল অভিষেকে বাবা মোহাম্মদ নবীর সামনেই ঝড় তুললেন ছেলে হাসান ইসাখিল। বাবা-ছেলে একসঙ্গে মিলে গড়লেন এক বিধ্বংসী জুটিও। যার সৌজন্যে বড় পুঁজি পেল নোয়াখালী এক্সপ্রেস।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার সন্ধ্যার ম্যাচে ঢাকা ক্যাপিটালসের বিপক্ষে ৭ উইকেটে ১৮৪ রান করেছে নোয়াখালী। দলের ঠিক অর্ধেক বল অর্থাৎ ৬০ বল মোকাবিলা করে রানেরও অর্ধেক ৯২ রান করেছেন ইসাখিল।
বিপিএলে এটিই ইসাখিলের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচ দিয়েই টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবার একই দলে খেললেন নবী-ইসাখিলের বাবা-ছেলে জুটি। আর দুজন মিলে চতুর্থ উইকেটে মাত্র ৩০ বলে গড়েন ৫৩ রানের জুটি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে সৌম্য সরকারের সঙ্গে ১০১ রানের জুটি গড়েন ইসাখিল। মাত্র ২৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংস খেলে আউট হন সৌম্য। এরপর শাহাদাত হোসেন দীপু ও হাবিবুর রহমান সোহান তেমন কিছুই করতে পারেননি।
১৩তম ওভারে নবী ক্রিজে গেলে জুটি বাধেন আফগান বাবা-ছেলে। ঢাকার বোলারদের তুলোধুনো করে দুজন মিলে দ্রুত বাড়াতে থাকেন দলের সংগ্রহ। পরে ১৮তম ওভারের শেষ বলে ছেলেকে ক্রিজে রেখে আউট হয়ে যান ১৩ বলে ১৭ রান করা নবী।
ইসাখিলও পরের ওভারে ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ক্যাচ আউট হন ১৯ বছর বয়সী উইকেটরক্ষক-ব্যাটার। ৭ চার ও ৫ ছক্কায় তার ব্যাট থেকে আসে ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংস।
তরুণ ব্যাটারের ৩১ ম্যাচের স্বীকৃত টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এটিই সেরা ইনিংস।
নোয়াখালীর পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফউদ্দিন ও তাইজুল ইসলাম।

রংপুর রাইডার্সের ১৭৮/৪ তাড়া করে জেতার চ্যালেঞ্জটা সহজ হওয়ার কথা নয়। মোস্তাফিজ, নাহিদ রানা, খুশদিল শাহ, আকিফ জাভেদ, আলিস আল ইসলামরা আছেন যে দলে, সেই রংপুর রাইডার্সের পক্ষেই বাজি ধরবে অধিকাংশ বাজিকর। অথচ, ১৭৯ রানের টার্গেটটা অনায়াসে পাড়ি দিয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স।৫ বল হাতে রেখে রাজশাহী ওরিয়র্স ৭ উইকেটে জিতে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গে যৌথভাবে পয়েন্ট তালিকায় ( ৭ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট) শীর্ষে উঠে এসেছে।
কীভাবে এতো সহজে জয় পেল রাজশাহী ? এ প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই কৃতিত্ব দিতে হবে রাজশাহী ওরিয়র্সের দ্বিতীয় উইকেট জুটিকে। নাজমুল হোসেন শান্ত-মোহাম্মদ ওয়াসিমের ৮২ বলে ১৪২ রানের বড়সড় এই পার্টনারশিপ দুদলের মধ্যে ব্যবধান তৈরি করেছে সন্দেহ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে উড়িয়ে আনা মোহাম্মদ ওয়াসিমের চওড়া ব্যাটে ৫৯ বলে ৭ চার ৫ ছক্কায় ৮৭ রানের হার না মানা ইনিংসের পাশে শান্ত'র ৪২ বলে ৬ চার, ৪ ছক্কায় ৭২ রানের ইনিংস রংপুর রাইডার্সের বোলিং এলোমেলো করে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
সুক্ষ্ণ চোখে ব্যবধান তৈরি করেছে আরও কিছু কিছু ক্ষেত্রে। পুরো ইনিংসে রংপুর রাইডার্স যেখানে ৪২টি বল ডট করেছে, সেখানে রাজশাহী ওরিয়র্স করেছে ৩১টি ডট। ছক্কার সংখ্যায়ও তৈরি হয়েছে ব্যবধান। রংপুর রাইডার্স ব্যাটারদের ছক্কার সমষ্টি যেখানে ৯টি, সেখানে রাজশাহী ওরিয়র্সের ১৩টি! ইনিংসের দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে'র ৯ ওভারেও (৭ম থেকে ১৫তম) ব্যবধান স্পষ্ঠ। রংপুর রাইডার্স এই পর্বে উইকেট বাঁচিয়ে ব্যাট করেছে ধীরগতিতে, যোগ করেছে ৫০ রান। সেখানে দ্বিতীয় পাওয়ার প্লে-তে ব্যাটটা একটু বেশি চওড়া করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স ব্যাটাররা। যে পর্বে ১ উইকেট হারিয়ে ৮৪ রান যোগ করেছে রাজশাহী ওরিয়র্স। শেষ পাওয়ার প্লে-তে তাই বেশি চাপ নিয়ে হয়নি রাজশাহীকে। ৩০ বলে ৩৪ রানের মামুলি টার্গেট অনায়াসে পার করেছে রাজশাহী।
দর্শকের পয়সা উশুল হওয়া এই ম্যাচে ম্লান হয়েছে তাওহিদ হৃদয়ের হৃদয় জুড়ানো ব্যাটিং। সেঞ্চুরির মাত্র ৩ রান দূরে থেকে থেমেছেন তিনি। তবে ৫৬ বলে ৮ চার, ৬ ছক্কায় শোভিত ৯৭ রানের হার না মানা ইনিংসটা সত্যিই আক্ষেপে ভোগাবে হৃদয়কে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে খুশদিল শাহ-কে নিয়ে ৫১ বলে ১০৫ রানের পার্টনারশিপটাও বিফলে যাওয়ার কষ্টটা পেতে হচ্ছে হৃদয়কে।
এই ম্যাচে ডেথ ওভারে রিপন মন্ডলকে পাড়া মহল্লা মানে নামিয়ে এনেছিলেন হৃদয়-খুশদিল শাহ। ১৯তম ওভারে হৃদয়-খুশদিল শাহ ২টি করে ছক্কা মেরেছেন ডেথ ওভারের বিপজ্জনক এই পেস বোলারদের। ওই ওভারে ২৮ রান খরচা করে মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল রিপন মন্ডলের। তবে দলের জয়ে সেই রিপনের মুখেই ফুটে উঠেছে হাসি। এই ম্যাচে নিউ জিল্যান্ডের পেসার জেমস নিশামকে (৩-০-২৭-১) অন্তর্ভুক্ত করার সুফলও পেয়েছে রাজশাহী ওরিয়র্স। নেপালের লেগ স্পিনার স্বন্দ্বীপ লামিচানের মিতব্যয়ী বোলিং (৪-০-২১-১)ও রংপুরের স্কোরকে স্ফীত করতে দেয়নি।

২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির নেতৃত্বাধীন বোর্ড বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি নিয়ে পিসিবি ইতিমধ্যে আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়েছে।
জিও নিউজের প্রতিবেদনে
বলা হয়, বাংলাদেশ দলের পক্ষ থেকে ভারতে গিয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে অনীহার
কথা জানানোয় টুর্নামেন্টের সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিসিবি
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে আয়োজন করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে এখনো
পিসিবি বা আইসিসির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।
পাকিস্তানের জিও সুপারকে
পিসিবির একটি সূত্র বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কায় ভেন্যু পাওয়া না গেলে বাংলাদেশের টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে আগ্রহের কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের
সব ভেন্যুই বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’
সেই সূত্র আরও দাবি করে,
সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করেছে পাকিস্তান।
সূত্রের ভাষায়, ‘পাকিস্তান ইতিমধ্যে ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এবং আইসিসি উইমেনস কোয়ালিফায়ারের
মতো বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে। তাই বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো নির্বিঘ্নে আয়োজন করার সক্ষমতা
পাকিস্তানের আছে।’
এই জটিলতার সূত্রপাত মূলত
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও ক্রিকেটীয় উত্তেজনা থেকে। এর আগে ভারতীয়
ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) আইপিএল ২০২৬ থেকে বাংলাদেশের পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছাড়ার
নির্দেশ দেয় কলকাতা নাইট রাইডার্সকে। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এএনআইকে জানান,
সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে কেকেআরকে মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে
এবং প্রয়োজনে বিকল্প খেলোয়াড় নেওয়ার অনুমতিও দেওয়া হবে।
বিসিসিআইয়ের এই সিদ্ধান্তের
প্রতিক্রিয়ায় দ্রুত কঠোর অবস্থান নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আইপিএল থেকে
মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর বিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, বাংলাদেশ দল ২০২৬ টি–টোয়েন্টি
বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না। পাশাপাশি আইসিসির কাছে ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে
সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধও জানায় বিসিবি।
বাংলাদেশের এই সিদ্ধান্তের পর আইসিসি, বিসিসিআই ও বিসিবির মধ্যে একাধিক বৈঠক হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। ফলে ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর ভেন্যু নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। এই প্রেক্ষাপটে পিসিবির প্রস্তাব পরিস্থিতিকে নতুন দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকেরা।

তাওহিদ হৃদয়ের ঝড়ো ইনিংসের জবাবে তাণ্ডব চালালেন নাজমুল
হোসেন শান্ত। তাকে দারুণ সঙ্গ দিলেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। দুই ব্যাটারের সৌজন্যে রংপুর
রাইডার্সের বিপক্ষে আবারও জয় পেল রাজশাহী ওয়ারিয়র্স।
সিলেট
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রোববার দুপুরের ম্যাচে রংপুরকে ৭ উইকেটে হারায় রাজশাহী।
আগে ব্যাট করা রংপুরের ছিল ১৭৮ রানের পুঁজি। তবে শান্ত-ওয়াসিমের ঝড়ে ৫ বল বাকি থাকতেই
জিতে যায় রাজশাহী।
সাত
ম্যাচে রাজশাহীর এটি পঞ্চম জয়। দুই ধাপ লাফিয়ে দুইয়ে উঠে এসেছে তারা। সমান ম্যাচে চার
জয় নিয়ে তিন নম্বরে এখন রংপুর।
টানা
তিন জয়ের পর চট্টগ্রাম রয়্যালসের বিপক্ষে হেরেছিল রাজশাহী। রংপুরের বিপক্ষে দলকে জয়ে
ফেরানোর কারিগর শান্ত ও ওয়াসিম। মাত্র ৪২ বলে ৭৬ রানের ইনিংস খেলে আউট হন শান্ত। আর
ওয়াসিমের ব্যাট থেকে আসে ৫৯ বলে ৮৭ রান।
রান
তাড়ায় শুরুটা একদমই ভালো ছিল না রাজশাহীর। তৃতীয় ওভারে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন ৭ বলে
৩ রান করা তানজিদ হাসান তামিম। তবে চাপ আসতে দেননি শান্ত ও ওয়াসিম। দুজনের পাল্টা আক্রমণে
জুটির শুরু থেকেই জয়ের পথে ছিল রাজশাহী।
চমৎকার
ব্যাটিংয়ে মাত্র ২৩ বলে পূর্ণ হয় জুটির পঞ্চাশ রান। বিপিএল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় ফিফটি
করতে ৩২ বল খেলেন ওয়াসিম। অন্য দিকে মাত্র ২৮ বলে বিপিএলে নিজের সপ্তম পঞ্চাশ করে ফেলেন
রাজশাহী অধিনায়ক শান্ত।
একপর্যায়ে
মনে হচ্ছিল, এই দুজনের জুটিতেই জিতে যাবে রাজশাহী। কিন্তু মোস্তাফিজুর রহমানের বলে
বড় শট খেলতে গিয়ে ফিরে যান ৪২ বলে ৬ চার ও ৪ ছক্কায় ৭৬ রান করা শান্ত। তার বিদায়ে ভাঙে
৮২ বলে ১৪২ রানের জুটি।
তবে
ওয়াসিম কোনো বিপদ ঘটতে দেননি। ৭ চার ও ৪ ছক্কার ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন
সংযুক্ত আরব আমিরাতের তারকা ব্যাটার।
এর
আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই চমক দেখায় রংপুর রাইডার্স। কাইল মেয়ার্সের সঙ্গে
ইনিংস সূচনা করতে নামেন হৃদয়। এসএম মেহেরব হাসানের করা প্রথম ওভারের প্রথম তিন বলে
বাউন্ডারি মেরে নিজের ইন্টেন্ট পরিষ্কার করে দেন হৃদয়।
অন্য
প্রান্ত থেকে অবশ্য তেমন সঙ্গ পাননি ২৫
বছর বয়সী ব্যাটার। মেয়ার্স ৬ বলে ৮, লিটন কুমার দাস ১৪ বলে ১১ ও ইফতিখার আহমেদ ১৫ বলে
মাত্র ৮ রান করে ফিরে গেলে একপর্যায়ে ১৩ ওভারে মাত্র ৮০ রানে দাঁড়ায় রংপুর।
এরপর
শুরু হয় হৃদয় ও খুশদিল শাহর ঝড়। দুজন মিলে চতুর্থ উইকেট জুটিতে মাত্র ৫১ বলে যোগ করেন
১০৫ রান। এতেই বড় সংগ্রহে পৌঁছে যায় রংপুর। শুরু থেকে চমৎকার ব্যাটিং করে ৩৯ বলে ফিফটি
পূর্ণ করেন হৃদয়।
পঞ্চাশ
করার পর উত্তাল ব্যাটিং করেন রংপুর ওপেনার। পরের ১৭ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৪৭ রান।
শেষ পর্যন্ত ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৯৭ রানে অপরাজিত থাকেন হৃদয়। বিপিএলে এ নিয়ে দ্বিতীয়বার
৯০ পেরিয়েও শতরানের আগে অপরাজিত রইলেন তিনি।
এছাড়া
৪ চারের সঙ্গে ৩ ছক্কায় ২৯
বলে ৪৪ রানের ইনিংস খেলেন খুশদিল।
সংক্ষিপ্ত
স্কোর
রংপুর
রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৭৮/৪ (হৃদয়
৯৭*, মেয়ার্স ৮, লিটন ১১, ইফতিখার ৮, খুশদিল ৪৪, সোহান ১*; মেহেরব ১-০-১৩-০, সাকিব
৪-০-৩৫-১, রিপন ৪-০-৫৬-১, নিশাম ৩-০-২৭-১, লামিচানে ৪-০-২১-১, সাকলাইন ৪-০-২২-০)
রাজশাহী
ওয়ারিয়র্স: ১৯.১ ওভারে ১৭৯/৩
(ওয়াসিম ৮৭*, তামিম ৩, শান্ত ৭৬, নিশাম ১, বার্ল ৭*; নাহিদ ২.১-০-১৬-০, আলিস ৪-০-৩৭-০,
আকিফ ৪-০-৪৩-২, মোস্তাফিজ ৪-০-৩৪-১, খুশদিল ৪-০-২৯-০, ইফতিখার ১-০-১৬-০)
ফল: রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ৭ উইকেটে জয়ী