
অক্টোবর সদ্য বিদায় নিয়েছে। নভেম্বরের শুরু—শীতের নিঃশ্বাসে জমে গেছে শহর। মাসের প্রথম সপ্তাহ। ছেলেটার ঠিক মনে নেই দিন-তারিখ, এমনকি বারও। শুধু এটুকু জানে—সেদিনের রাতটা ছিল হিমশীতল, নিঃশব্দ, জমে যাওয়া এক শহরের বুকের মতো নিস্তব্ধ।
পায়রা, সীগাল, রবিন—সবাই ঘুমিয়ে গভীর শীতনিদ্রায়। কাতালানদের এই নগর এখন বরফে মোড়া স্বপ্নপুরী।
হঠাৎ একটুখানি শব্দ—একটা ছোট্ট ইঁদুরের পায়চারি। ছেলেটার ঘুম ভাঙে তাতে। অন্ধকার ঘরের কোণে তাকিয়ে ভাবতে থাকে—ও ইঁদুরটাও কি তার মতোই বাঁচার লড়াইয়ে, খাবারের খোঁজে, টিকে থাকার সংগ্রামে? ভাবতে ভাবতে কেমন যেন ভারী হয়ে ওঠে বুকটা।
রাতের এই নিস্তব্ধতায় জেগে ওঠা মানেই এক অনিবার্য বিপদ—চিন্তা। চিন্তার দল মিছিল নামায় ধ্যানের রাজপথে। কৈফিয়ত চায়—আজ কোথায় দাঁড়িয়ে তুমি? কেন এসেছে এত দূরে? কোথায় হারিয়েছে পুরোনো পরিচিত মুখগুলো? অতীত আর বর্তমানের হিসাব মিলাতে মিলাতে হারিয়ে যায় সে এক অদ্ভুত মোহে।
জীবনের এ ধারা-ওধারা ভাবতে ছেলেটার চোখ পড়ে দূরের পাইন গাছে। পাতায় জমেছে বরফ, ভারে নুয়ে পড়েছে শাখা। একসময় যে পাতাগুলো ছিল চিরসবুজ, আজ তারা হারিয়েছে প্রাকৃতিক রূপ। ছেলেটা ভাবে—তার জীবনও কি এমনই হয়ে গেছে? বরফে ঢেকে যাওয়া, রঙহীন, পরিচয়হীন এক অস্তিত্ব?
নতুন দেশ। অচেনা ভাষা। অপরিচিত মানুষ। দিনের শেষে একাকীত্ব তাকে চেপে ধরে। সুযোগ পেলেই সে আড়াল খোঁজে—ওয়াশরুমে গিয়ে চুপচাপ দাঁড়িয়ে কাঁদে। চোখের জল যেন ভাষাহীন যন্ত্রণা। রাতের ঘুমও আজকাল বড় অপরিচিত।
আর আজ—যে ইঁদুরটা হঠাৎ ঘুম ভাঙিয়ে দিল, যে পাইন পাতায় বরফ জমেছে—তারা যেন টাইম ট্রাভেলের দরজা খুলে দিল তার সামনে।
শান্ত ছবির মতো রোজারিও শহরটা কেমন আছে? মা সেলিয়া মারিয়া কুচ্চিটিনি এখনও তার জন্য প্রিয় ‘এমপানাদা’ নিয়ে অপেক্ষা করেন। কেমন আছে আন্তোনেলা রোকুজ্জো। ড্রিভলিং কিংবা গোলের পর উচ্ছ্বাসে হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকে যে তার ভীষণ মনে পড়ে।
চিন্তার জগত অস্তমিত হতেই চোখের পাতাজোড়া এক হয়। শুরু হয় নতুন ভোর, নতুন জীবন। তিনি জানেন, যে কাতালুনিয়া শহরে তার আগমন, সেখানে ফুটবল শুধু খেলা নয়, জীবনযাপন। বার্সেলোনার লা মাসিয়া নামের এক জাদুঘরে ঠাঁই হয়েছে তার, যেখানে স্বপ্নকে বাস্তবে গড়া হয়।
সেই স্বপ্নের পথে পা বাড়িয়ে, লিওনেল মেসি হয়ে ওঠেন বিশ্ব সমাধৃত। লা মাসিয়া থেকে মূল দলে, লা লিগা, চ্যাম্পিয়নস লিগ—আরও কতশত শিরোপা ট্রফি ধরা দিয়েছে তার হাতে। আর্জেন্টিনার জার্সিতেও হয়েছে দুঃখ মোচন। ২০০৬ থেকে ২০১৮-এ সময়ে চারটি বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ ট্রফিতে চুমু আঁকেন মেসি। ৮ বার ব্যালন ডি’অর, ক্লাব ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ৮৭২ গোল—সবকিছু মিলিয়ে লিওনেল মেসি যেন এক জীবন্ত কিংবদন্তি, ফুটবলের দূত।
মেসির মতো যাপিত জীবন বয়ে বেড়ানো একজন আছেন ক্রিকেটে। যার গল্পটা একই রকম না হলেও একপ্রান্তে গিয়ে ঠেকেছেন দু’জন। তিনি ভারত নারী দলের ব্যাটসম্যান জেমিমাহ রদ্রিগেজ। পরিশ্রমের বিপরীতে হতাশা-গ্লানি হয়ে ওঠেছিল সম্ভল। কান্নায় ভিজে যেত তার বালিশ। একেকটি রাত হয়ে ওঠেছিল হাজার রজনীর সমান। সেই জেমিমাহ সফল হয়েছেন। সৃষ্টিকর্তা যেভাবে মেসিকে ভাঙ্গা-গড়া থেকে উঠিয়ে সম্মান দিয়েছেন, ভারতীয় ব্যাটারও তাঁরই দেখানো পথে।
বৃহস্পতিবার নাভি মুম্বাইয়ে অনিন্দ্য সুন্দর ইনিংস উপহার দিয়েছেন জেমিমাহ। অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংস খেলেছেন তিনি। পুরো বিশ্বকাপে জোয়ার-ভাটার মধ্য দিয়ে থাকা জেমিমাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, পরিশ্রম, একাগ্রতা, নিবেদন, সততা থাকলে সৃষ্টিকর্তা একদিন মুখ তুলে তাকাবেন, বিজয় মালা পরাবেন।
সেটি হয়েছে গতকাল। ২২ গজে সুনিপুণ দক্ষতায় তুলির আঁচড় চালিয়েছেন। একটু দ্রুতই চলেছে তাঁর তুলিটি। তবে জেমিমাহকে চিনতে মোটেও ভুল করেননি দর্শকরা। তিনি মাঠে নামলেন, খেললেন, হাসলেন, ভুল করলেন। আবার জেগে উঠলেন। চক্রের মতো ঘুরতে থাকলেন। শেষপর্যন্ত শিরদাঁড়া উচু করে মাঠ ছাড়লেন।
জেমিমাহর এই গল্পের আদোপ্রান্তে রয়েছে নিরবতা, রয়েছে দুঃখ, গ্লানি, হতাশা ও বাদ পড়ার বিচ্ছিরি কাহিনি। তবে তিনি দমে যাননি। নিরবে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন মেসির মতো।
মেসির যেখানে শেষ, জেমিমাহর সেখানে শুরু:
আর্জেন্টাইন মহাতারকা ক্যারিয়ারের অন্তিমলগ্নে। বয়স ৩৮। হয়তো ২০২৬ বিশ্বকাপের পর বুট জোড়া তুলে রাখবেন। সেখানে ভারতের নারী দলের ব্যাটসম্যান জেমিমাহর কেবল শুরু। বয়স সবে ২৫। ক্যারিয়ারের দাপুটে সকাল। ভারতকে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে তুলেছেন মিডল-অর্ডার এই ব্যাটসম্যান। বৃহস্পতিবার তাঁর ইনিংসে ফাইনালে ভারত।
এদিন রদ্রিগেজ তিনে ব্যাটিংয়ে নেমে টিকে থাকেন শেষ পর্যন্ত। বার দুয়েক বিপদে পড়লেও শান্ত-ক্ষুরদার মেধায় সবই সামাল দেন। দলকে নিয়ে যান জয় বন্দরে। তার ব্যাটে ভর করে ছেলে-মেয়েদের ওয়ানডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছে ভারত। ওয়ানডেতে ৩৩৮ রান তাড়া করে জয় তোলার কথা বিশ্বের কেউ যেখানে কল্পনা করতে পারতো না, সেটা করে দেখান জেমিমাহ।
নীরব প্রার্থনা:
পুরো পৃথিবী একদিকে রেখে স্পেনে পাড়ি জমিয়েছিলেন মেসি। শারীরিক অসুস্থতা—গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি—যা আর্জেন্টাইন সুপারস্টারকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছিল। সেখান থেকে উৎরাতে প্রতিরাতে ঈশ্বরের শরনাপন্ন হতেন মেসি। কান্নাভেজা কন্ঠে ফরিয়াদ করতেন—“ঈশ্বর, সব সহজ করে দাও।” চুপ থেকে চেষ্টা চালিয়ে যেতেন। একা থাকা, সবার চেয়ে আলাদা থাকা ছেলেটা একদিন মন জয় করলেন বিশ্বের।
জেমিমাহর জীবনে যেমনটা হয়েছে, তার কণ্ঠে—
‘আমি প্রতিদিন কেঁদেছি, উদ্বেগে ভুগেছি। প্রতিদিন নিজেকে সামলাতে হয়েছে, ঈশ্বরই আমাকে এগিয়ে নিয়েছেন। গত বছর আমাকে বিশ্বকাপের দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তখনো আমি ফর্মে ছিলাম, কিন্তু নানা কিছু ঘটছিল। আমার চারপাশে অসাধারণ মানুষ ছিল, যারা আমাকে সহায়তা করেছে।’
স্থির থাকো, ঈশ্বর তোমাকে সাহায্য করবেন:
লিওনেল মেসি যেমন বলেছিলেন, ‘সফলতা সহজে আসে না। প্রতিদিন ছোট ছোট কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমেই বড় লক্ষ্য অর্জন করা যায়।’ যে আর্জেন্টাইন জাদুকর হেঁটেছিলেন, তা ছিল কন্টকময়। পা ফসকালেই ছিল হারিয়ে যাওয়ার ভয়। জীবনের প্রতিটি সিঁড়ি তিনি ডিঙিয়েছেন সতর্কতার সঙ্গে। ঈশ্বরও তার সঙ্গে ছিলেন।
গতকাল নিজের ইনিংসের সময় বাইবেলের একটি বাণী মনে করে সাহস পেয়েছেন জেমিমাহ।
‘শেষের দিকে আমি শুধু একটি বাণী বলছিলাম—“স্থির থাকো, ঈশ্বর তোমাকে সাহায্য করবেন।” আমি শান্ত থাকার চেষ্টা করছিলাম।’
জেমিমাহ স্থির থেকেছেন। আঙুলের কড়ায় গুণে খারাপ সময় পার করেছেন। কখনও বাসে-ট্রামে-ট্রেনে, গভীর রাতে ধ্যানে বসেছেন। একাগ্রতা তাঁকে সাফল্য দিয়েছে।
পরিবার, প্রিয়জন, আস্থাভাজন:
ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির পর নভি মুম্বাইয়ের ভিআইপি স্ট্যান্ডে বসে থাকা পরিবারের দিকে একটি উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে বাবা এবং কোচ ইভানকে ধন্যবাদ জানাতে দেখা যায় জেমিমাহকে। যারা তাঁর পথপ্রদর্শক ও শক্তি। জেমিমাহ বলেছিলেন,
‘আমি আমার মা, বাবা, কোচ এবং আমার উপর বিশ্বাসকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। গত মাসে এটি সত্যিই কঠিন ছিল, এটি একটি স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে।’
লিওনেল মেসির জীবন বদলে দেওয়ার পেছনে পরিবারের ভূমিকা ছিল অনন্য। তড়িৎ এক সিদ্ধান্তে বার্সেলোনার সঙ্গে চুক্তি। বাবা জর্জ মেসি, মা কুচ্চিটিনি থেকে শুরু করে স্ত্রী রোকুজ্জো—সবাই তাঁর জীবনের অবিচ্ছেদ অংশ। তিনি প্রায়শঃ বলেন, পরিবার ছাড়া কোনো কিছুই সম্ভব হতো না।
পারিবারিক পাশে থাকায় মেসি ফুটবল বিশ্বের আইডল, জেমিমাহ হারিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন।
মেসির স্বপ্ন পূরণ, জেমিমাহর অপেক্ষা:
চারবার স্বপ্নভঙ্গ। অপেক্ষা যে কত দীর্ঘ তা লিওনেল মেসির চেয়ে বেশি কে জানে। একটি সময় মনে হচ্ছিল, চাঁদের নিখুঁত দাগ হারিয়েছিল মেসির জীবনে—বিশ্বকাপ না পাওয়া।
সেটি পূরণ হয়েছে ২০২২ সালে। ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ ট্রফি উপহার দেন মেসি। স্বপ্ন তাঁর পূরণ হয়েছে। এক জীবনে নিশ্চয়ই তার আর কিছু পাওয়ার থাকার কথা নয়।
জেমিমাহও এমন একটি স্বপ্ন উপাখ্যানের অপেক্ষায়। এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে ভারত। আগের দু’বার কূলে গিয়ে ডুবে গিয়েছিল। এবার দারুণ ছন্দে থাকা দলটির প্রতিপক্ষ চোকার্স দক্ষিণ আফ্রিকা। দেখার বিষয়, স্বপ্নের পথে নিজেকে কতটা জলাঞ্জলি দিতে পারেন জেমিমাহ। তবেই দুইয়ে দুইয়ে চার মেলানো যাবে, সার্থক হবে মেসির পথ ধরে হাঁটা।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১০ পিএম
২ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

জাতীয় দলে নতুন দুই কোচ নিয়োগ দিলো শ্রীলঙ্কা। রায়ান ফন নিইকার্ককে বোলিং এবং জর্ডান গ্রেগরিকে ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রায়ান ফন নিইকার্ক এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের বোলিং কোচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ডাচদের পারফরম্যান্সে ছিল দারুণ। নিইকার্ক দায়িত্বথাকালীন তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সব বিভাগের ফাস্ট বোলিং কার্যক্রম তদারকি করবেন তিনি।
জর্ডান গ্রেগরিকে জাতীয় ফিল্ডিং ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলটির বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুই কোচ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসারের বাদ পড়ার তিন মাস পর মুখ খুললেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়ায় কেকেআর। তবে ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধুমাল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন,
“আমি শুধু এটুকুই বলব, এটি দুঃখজনক। এর বাইরে আমার খুব বেশি ধারণা নেই।”
ধুমাল আরও বলেন,
“এটি দুঃখজনক। কখনও কখনও বিষয়গুলো এইভাবেই ঘটে। ক্রিকেটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। সাধারণভাবে সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করে। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে কিছু ঘটনা ঘটে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে স্বাভাবিক যুক্তি ও বিবেচনা কাজ করবে এবং এরকম পরিস্থিতি আর হবে না।”
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রতিবাদ জানায়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বিসিবি। নিরাপত্তা বিষয়টি সামনে এনে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করবে তখনই, যদি ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ প্রত্যাখান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলছেন খেলছেন মোস্তাফিজ। ৬.৪৪ কোটি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন তিনি। এখন পর্যন্ত পিএসএলে দুটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার। নিয়েছেন দুটি উইকেট। সঙ্গে দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ৪.৮৭।

আইপিএলে খেলার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) না দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দলটির পেসার নুয়ান থুশারা। এনওসি না মেলায় কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এবারের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলার কথা ছিল থুশারার। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় বোর্ড তাঁকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এই পেসার।
থুশারার অভিযোগ, গত দুই আইপিএল মৌসুমে একই ধরনের ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এবার তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে না, তারপরও একই ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি আটকে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোডালিয়াড্ডা এবং সিইও অ্যাশলে ডি সিলভাকে বিবাদী করেছেন থুশারা। কলম্বো জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় থুশারাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। পাঁচটি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্টের মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট—বিদেশি লিগে খেলতে হলে এই ফিটনেস পরীক্ষা পাস করাই বাধ্যতামূলক।
তবে থুশারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, ক্যারিয়ারজুড়েই তার ফিটনেস একই রকম রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ আইপিএল মৌসুমে কোনো ফিটনেস ইস্যু না তুলেই তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার এসএলসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি সেটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগেই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, এসএলসির কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তার জায়গা নেই—এমন অবস্থায় ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি না দেওয়া তার কাছে পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
থুশারা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাকে এনওসি পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করেছেন, যাতে এসএলসি-কে অবিলম্বে সনদটি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে চলতি মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে যোগ দিতে পারেন তিনি।
থুশারার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনওসি না পেলে আরসিবি বাধ্য হবে ৩১ বছর বয়সী এই পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে। ফলে তিনি শুধু চলতি আইপিএলের পারিশ্রমিকই হারাবেন না, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইপিএলই এখন তার আয়ের প্রধান উৎস।
আইপিএলে থুশারা এখন পর্যন্ত দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০২৪ মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। আর আরসিবির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। গত মৌসুমে—যেখানে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য বড় সংবাদই বটে। এক যুগ পর তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে অষ্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল অজিরা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হবে ১৫ সেপ্টেম্বর, এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ও ২০ সেপ্টেম্বর হবে শেষ ওয়ানডে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নামিবিয়া। ঘরের মাঠে মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই সিরিজটি স্বাগতিকদের জন্য বড় পরীক্ষা।
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেন,
‘আমরা অস্ট্রেলিয়াকে আবারও জিম্বাবুয়েতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। এই ধরনের বড় দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের দলের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই সফরটি অমূল্য ভূমিকা রাখবে।’
এই সিরিজের আগে জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতকে স্বাগত জানাবে জিম্বাবুয়ে। সেই সিরিজে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ঘরোয়া ওয়ানডে কাপের ফাইনাল চলাকালীন দলকে মাঝপথে ফেলে যান বেয়ার্স সোয়ানেপোল। এ ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার।
গত রোববার জোহানেসবার্গে লায়ন্স ও টাইটান্সের মধ্যে ঘরোয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। সোয়ানেপোল বল হাতে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও ইনিংস শেষ হওয়ার ৮ ওভার বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়েন।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট ধরার জন্য মূলত ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে যান সোয়ানেপোল। শুক্রবার থেকে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে তাঁর খেলার কথা ছিল। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে কিছুই জানত না লায়ন্স কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানোর দাবি ইউরোপের দেশগুলোর |
|
এ ঘটনায় সোয়ানেপোলকে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার ‘অনাপত্তিপত্র’ বা ‘এনওসি’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে সোয়ানেপোলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও চুক্তিবিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওরচেস্টারশায়ার ক্লাবের ডিরেক্টর অ্যাশলে জাইলস বিষয়টিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন, ‘কেন এমনটা ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে সোয়ানেপোল সম্ভবত এখন বুঝতে পারছেন যে তিনি একটি ভুল করে ফেলেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কোনো চাপ ছিল না। মানুষ ভুল করে, সোয়ানেপোল ভালো ছেলে, কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি বড় একটি ভুল করে ফেলেছেন।’
পুরো মৌসুম খেলার কথা থাকলেও লায়ন্স দলের সাথে সোয়ানেপোলের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাকে এনওসি না দেওয়া বিষয়টি ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড। আইনি প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সোয়ানেপোলের।