
ক্রিকেট বোর্ডের সুবিধাভোগী ক্রিকেটারদের সংখ্যা খুব বেশি নয়। সেন্ট্রাল কন্ট্রাক্ট, ফার্স্ট ক্লাস কন্ট্রাক্ট ক্রিকেটাররা ঘুরে-ফিরে খেলছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন (ডিপিএল), জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল) এবং বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) টি-২০তে। বিসিবি থেকে পাচ্ছে বেতন, ম্যাচ ফি, ক্লাব এবং ফ্রাঞ্চাইজি থেকে পাচ্ছে সম্মানী। অথচ, প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটাররা সারা বছরে মাত্র একটি আসরে পাচ্ছে খেলার সুযোগ। নিচের ধাপের ক্রিকেটারদের পর্যাপ্ত সংখ্যক ক্রিকেট ম্যাচ খেলার সুবিধা করে দেওয়ার কথা ভাবছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। ঢাকা ক্রিকেট লিগের নিয়মিত আসরের বাইরে একটি দীর্ঘ পরিসরের আসরে খেলার সুযোগ করে দেয়ার পরিকল্পনার কথা বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন বিসিবি বস তামিম ইকবাল-
‘বিসিবি এমনভাবে ডিজাইন করা আছে, যারা জাতীয় দলে খেলছেন, তারাই বিপিএল, এনসিএল, বিসিএলে খেলছেন। কিন্তু প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগে যারা খেলছেন, লিগ ছাড়া তাঁদের কোনো খেলাই নেই। আমরা তাদেরকে কোনো প্লাটফর্ম করে দেইনি। তাই তাদের জন্য কিছু একটা করে দিতে চাই।’
ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটের দৃষ্টান্ত এক্ষেত্রে অনুসরন করতে চান তামিম-
‘ইংলিশ কাউন্টি ক্রিকেটে প্রতিটি কাউন্টি টিমে ফার্স্ট ইলেভেনের পাশে সেকেন্ড ইলেভেন টিম আছে। এনসিএলে প্রতিটি বিভাগের জন্য একটি ফার্স্ট ইলেভেনের পাশে একটি সেকেন্ড ইলেভেন টিম করতে চাইছি। প্রথম একাদশের টিমগুলোর ম্যাচগুলো ৪ দিনের, তবে সেকেন্ড ইলেভেনের টিমগুলোর ম্যাচ হবে ৩ দিনের।’
সেকেন্ড ইলেভেনের খেলোয়াড়দের জন্য থাকবে ম্যাচ ফি। এবং তাঁরা পারফর্ম করে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলতে পারবেন, ফার্স্ট ইলেভেনের মধ্যে যারা পারফর্ম করতে ব্যর্থ হবেন, তারা অবনমিত হয়ে খেলবেন সেকেন্ড ইলেভেনে। এমন পরিকল্পনাই বিসিবি বস তামিম ইকবালের-
‘সেকেন্ড ইলেভেনের জন্যও ন্যূনতম ম্যাচ ফি থাকবে। সেকেন্ড ইলেভেন থেকে ফার্স্ট ইলেভেনে খেলার জন্য তাঁরা চ্যালেঞ্জ নিবে। ইংল্যান্ডের পেসার জোফরা আর্চার ইনজুরি থেকে সেরে উঠে কিন্তু সরাসরি কাউন্টির ফার্স্ট ইলেভেনে খেলেননি। তিনি সেকেন্ড ইলেভেনে খেলে জাতীয় দলে ফিরেছেন।’
এ বছর থেকেই ইংলিশ কাউন্টির আদলে এই ফর্মূলায় যাবে প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট আসর, সে আশ্বাস দিয়েছেন তামিম ইকবাল-
‘এর জন্য আমরা বাজেট তৈরি করছি। এ বছর থেকে দেখতে পারবেন।’
দেশের প্রথম শ্রেনির ক্রিকেট আসর জাতীয় লিগকেও হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে ফিরিয়ে আনতে চান তামিম ইকবাল- হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিস্টেমে এখন খেলা হচ্ছে না। আমার মনে আছে, লঞ্চে করে বরিশাল যেয়ে জাতীয় লিগ খেলেছি। হয়তবা হোম অ্যান্ড অ্যাওয়েতে সব ম্যাচ আয়োজন করতে পারব না। তবে যে সব জায়গায় মাঠ আছে, সে সব জায়গায় হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে সিস্টেমে খেলা হবে। এই সিজন থেকে দেখতে পাবেন।’
No posts available.
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১৭ পিএম
২৯ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪৫ পিএম

পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলের ড্রেসিংরুমে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করতে দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। এবার ম্যাচ চলাকালীন 'ধূমপান' করার অপরাধে রিয়ান পরাগকে তাঁর ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ জরিমানা করেছে বিসিসিআই।
পরাগকে এক নোটিশে বিসিসিআই জানিয়েছে, তিনি খেলোয়াড়দের আচরণবিধির ২.১ অনুচ্ছেদের অধীনে লেভেল-১ পর্যায়ের অপরাধ করেছেন। এই ধারাটি সাধারণত খেলোয়াড় বা কর্মকর্তাদের সাধারণ কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। বিধি অনুযায়ী ড্রেসিংরুমে ধূমপান করে পরাগ খেলার ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন।
আইপিএলের চলতি মৌসুমে পরাগ তাঁর ১৪ কোটি রুপির চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি ম্যাচের পারিশ্রমিক দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি রুপি। সেই হিসেবে ২৫ শতাংশ জরিমানার পরিমাণ প্রায় ২৫ লক্ষ। যেহেতু এটি তাঁর প্রথম অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়েছে, সেই বিবেচনায় ২৫ লক্ষ টাকা বেশ বড় অংকের জরিমানাই।
আচারণবিধি অনুযায়ী এতে বেপরোয়া এবং এড়ানো সম্ভব এমন আচরণের কথাও উল্লেখ আছে। অপরাধটি কতটা গুরুতর তা বিচারের সময় কয়েকটি বিষয় দেখা হয়—কাজটি কি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল, নাকি বেপরোয়া, অবহেলাজনিত, এড়ানো সম্ভব ছিল এমন, নাকি স্রেফ দুর্ঘটনাবশত। এছাড়া, যিনি অভিযোগ দায়ের করবেন, তিনিই ঠিক করবেন এই অপরাধটি কতটা মারাত্মক (যা সামান্য অপরাধ বা 'লেভেল-১' থেকে শুরু করে চরম পর্যায়ের অপরাধ বা 'লেভেল-৪' পর্যন্ত হতে পারে)।
বিসিসিআই এবং রাজস্থান রয়্যালস ম্যানেজমেন্টের সূত্র অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে পরাগকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর আপিল করার অধিকার থাকলেও, তাতে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। জানা গেছে, এই পরাগ জরিমানা মেনে নিয়ে বিষয়টি এখানেই মিটিয়ে ফেলতে চান।
২৪ বছর বয়সী রিয়ান পরাগ এবার রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সঞ্জু স্যামসন দল পরিবর্তন করে চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়ায় পরাগের ওপর নেতৃত্বের ভার তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটে হাতেও তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে করেছেন ১১৭ রান, গড় ১৪.৬৩।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বশেষ আসর কী বাজেভাবেই না কেটেছে বাবর আজমের ? সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটের মেগা আসরে ৪ ইনিংসে রানের সমষ্টি মাত্র ৯১। পাকিস্তান সেনসেশনের নামের সঙ্গে বড়ই বেমানান। গত ফেব্রুয়ারিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই বাজে পারফরমেন্সের বিরূপ প্রভাব পড়েছে তার ক্যারিয়ারে। পরের মাসে বাংলাদেশ সফরে ওয়ানডে স্কোয়াডে বিবেচ্য হননি বাবর আজম।
পিএসএলের দশম সংস্করনেও নিজেকে চেনাতে পারেননি (২৮৮ রান)। তবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সর্বাধিক রানের মালিকের (১৪৫ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি, ৩৯ ফিফটিতে ৪৩৮০ রান) কদর অবশ্য কমেনি পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল)। প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ৭ কোটি রুপিতে (বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩ কোটি ৮ লাখ ১৫ হাজার ১৮৬ টাকা) পেশোয়ার জালমিতে ডাইরেক্ট সাইনিংয়ে থেকে গেছেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দুঃসময়ে পিএসএল ফ্রাঞ্চাইজি পেশোয়ার জালমির কদর তাকে করেছে পারফরমেন্সে উদ্বুদ্ধ। পিএসএলের ১১তম সংস্করণে চেনা বাবর আজম ছড়াচ্ছেন দ্যুতি। পিএসএলে চলমান আসরে বাবর আজমের পারফরমেন্স অতীতের সব রেকর্ডকে গেছে ছাড়িয়ে।
২০২১, ২০২৩, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত পিএসএলে সর্বাধিক রানের মালিক এক আসরে করেছেন সর্বাধিক ৫৬৯ রান। চলমান আসরে ফাইনালের আগেই ছাড়িয়ে গেছেন সেই রেকর্ড। ইতোমধ্যে পেশোয়ার জালমির সুপার স্টার বাবর আজম ১০ ইনিংসে ৮৪.০০ গড়ে করেছেন ৫৮৮ রান। ২ সেঞ্চুরি, ৩ ফিফটিতে তার স্ট্রাইক রেট ১৪৬.২৬ প্রশংসনীয়। ৬০টি বাউন্ডারির পাশে ১৫টি ছক্কায়ও নিজেকে নতুনভাবে চিনিয়েছেন বাবর আজম এই আসরে। পিএসএলএর ১১টি সংস্করণের মধ্যে এর আগে ফখর জামান এক আসরে (২০২২) করেছেন ৫৮৮ রান। কোয়ালিফাইয়ারে এসে ফখর জামানকে ছুঁয়ে এখন পিএসএলে এক আসরে সর্বাধিক রানের রেকর্ডে চোখ বাবর আজমের।
পিএসএলের চলমান আসরে ৯ দিনের ব্যবধানে করেছেন ২টি সেঞ্চুরি, ১৯ এপ্রিল কোয়েটা গ্লাডিয়েটর্সের বিপক্ষে ৫২ বলে ১০০*-এর পর ২৮ এপ্রিল কোয়ালিয়াইয়ার ম্যাচে লাহোর কালান্দার্সের বিপক্ষে ৫৯ বলে ১০৩। তাঁর এই ইনিংসেই পেশোয়ার জালমি উঠেছে ফাইনালে।
পিএসএলে রানের ধারাবাহিকতায় টি-২০ ক্রিকেটে ২টি মাইলস্টোন পূর্ণ করেছেন বাবর আজম। শোয়েব মালিকের পর দ্বিতীয় পাকিস্তানী হিসেবে ১২ হাজার রানের মাইলফলকে রেখেছেন পা। অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড ওয়ার্নার (১২৮) এবং ভারতের বিরাট কোহলির (১০৮) পর তৃতীয় ব্যাটার হিসেবে টি-২০ ক্রিকেটে ফিফটির সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন (১০১টি)।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ৫ হাজার রানের দিকে ধাবিত বাবর আজম এখন সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে আছেন ফর্মের তুঙ্গে। এক সময়ে তিন সংস্করণের ক্রিকেটে ৫০-এর আশেপাশে গড় রানে ভারত সেনসেশন বিরাট কোহলিকে ছুঁড়েছিলেন চ্যালেঞ্জ। কিছুদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অধারাবাহিক বাবর সেই চেনারূপে ফেরার আভাস দিচ্ছেন।

বৈভব সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে অতিমানবীয় ব্যাটিং দেখে কারও মনে কৌতূহল জাগতেই পারে—১৫ বছর বয়সী এই বালকের মধ্যে কী এমন বিশেষ কিছু আছে? কিভাবে এমন অবলীলায় বিশ্বের সেরা সব বোলারদের পাড়ার বোলার বানিয়ে ছাড়েন ভারতীয় এই ব্যাটার? কোনো ছলছাতুরির আশ্রয় নিচ্ছেন কি না সূর্যবংশী, এমন সন্দেহেরও উদ্রেক হচ্ছে অনেকের মনে।
এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের ব্যাটার সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে সামাজিক মাধ্যমে তো রীতিমতো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে—তাঁর ব্যাটের ভেতর কি কোনো 'এআই চিপ' লুকানো আছে? প্রশ্নটা প্রযুক্তির চেয়েও বেশি ছিল বিস্ময়ের। সূর্যবংশীর ব্যাটিং দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছিল, সাধারণ ব্যাটে এমন শট খেলা তো অসম্ভব!
রাজস্থান রয়্যালস তাদের সামাজিক মাধ্যম এক্স অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছে, যেখানে বৈভবকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হয়, ‘তোমার ব্যাটে কি এআই চিপ আছে?’ এমন অদ্ভুত প্রশ্নের জবাবে কোনো নাটকীয়তা নয়, বরং একগাল হাসি আর কিশোরসুলভ সারল্য নিয়ে বৈভব কাঁধ ঝাঁকিয়ে যে উত্তরটা দিয়েছে, তা হয়তো তাঁর মারা ছক্কাগুলোর মতোই অনেক দূর যাবে। আসলে মানুষের এই অবিশ্বাসটাই বুঝিয়ে দিচ্ছে বৈভবের ব্যাটিং কতটা অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ এখন অলৌকিক বা অবাস্তব ব্যাখ্যা খুঁজতে শুরু করেছে।
বৈভব হেসেই উত্তর দিল, ‘ঈশ্বর লাগিয়ে দিয়েছেন। ওপর থেকেই বলে দিয়েছিলেন যে, তোমার ব্যাটে আমি কিছু একটা লাগিয়ে দিচ্ছি। আমি শুধু সেটারই ব্যবহার করছি।’
সূর্যবংশীর এই জবাবের পেছনে অবশ্য একটা প্রেক্ষাপট আছেও। পাকিস্তানের ক্রিকেট বিশ্লেষক ডক্টর নোমান নিয়াজ বৈভবের ব্যাটিং দেখে অনেকটা নাটকীয় ঢঙেই রসিকতা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বৈভবের ব্যাট পরীক্ষা করা উচিত এবং তাকে ল্যাবে পাঠানো দরকার—ঠিক যেভাবে ওয়াদা ডোপ টেস্ট করে। তিনি আরও যোগ করেছিলেন, বৈভবের ব্যাটে সম্ভবত কোনো ‘এআই চিপ’ আছে, কারণ তার ব্যাটিংটা একদমই ‘অবাস্তব’ মনে হচ্ছিল।
নোমান নিয়াজের এই মন্তব্যটি সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। বৈভবের ব্যাটিংয়ের ধার এখন এতটাই যে, তা ক্রিকেটের সাধারণ ব্যাকরণকেও যেন হার মানাচ্ছে। সূর্যবংশী কিন্তু নিজের ব্যাটের গুণগান গায়নি, নিজের টেকনিক নিয়েও কথা বলেনি, এমনকি সে অপমানিতও বোধ করেনি। খুব সহজভাবে আলোচনার মোড় প্রযুক্তি থেকে বিশ্বাসে, অভিযোগ থেকে রসবোধে এবং ল্যাব টেস্ট থেকে ঈশ্বরের উপহারে সরিয়ে নিয়েছেন।
মাঠে নামলেই রেকর্ড উৎসব করা সূর্যবংশী আইপিএলের চলতি আসরে ৯ ইনিংসে দুই ফিফটি ও একটি সেঞ্চুরি ৪০০ রান করে সবার ওপরে আছেন। চোখ কপালে তোলা ২৩৮ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করা সূর্যবংশীর গড় ৪৪.৪৪।

দেশের মাঠে সাকিব আল হাসানকে বিদায় দেওয়া নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি। বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটার একাধিকবার ঘরের মাঠে অবসর নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক। এবার আরও একবার অধরা স্বপ্ন পূরণের কথা বললেন সাকিব।
মুম্বাইয়ে ইইউ টি২০ বেলজিয়াম ইভেন্টে জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাকিব। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এসময় নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার, বাংলাদেশের ক্রিকেটের বর্তমান-ভবিষ্যত সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন এই অলরাউন্ডার। দেশে ফিরে একটি টেস্ট খেলে বিদায় নিতে চান কি না এমন প্রশ্নে সাকিব সবকিছু ছেড়ে দেন সময়ের কাছেই।
সাকিব বলেন, ‘সেটা না হয় পরে দেখা যাবে। তবে আমি বিশ্বাস করি, আজ হোক বা কাল পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে। সময়ের সঙ্গে সবকিছুই ঠিক হয়ে যায়। আমি আশাবাদী, আমি যা চাই (সম্মানজনক বিদায়), তা পাবো।’
এর আগেও তিন সংস্করণেই বাংলাদেশের জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠে নামার স্বপ্নের কথা জানিয়েছিলেন সাকিব। ৩৯ বছর বয়সী ক্রিকেটারকে ফেরানোর কথা বলেছিলেন সদ্য ভেঙে যাওয়া বিসিবির পরিচালক আসিফ আকবরও। তবে শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন জটিলতায় সাকিবের ফেরা বারবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
২০২৪ সালে ভারত সফরের পর থেকেই জাতীয় দলের বাইরে সাকিব। তবে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিতই খেলে বেড়াচ্ছেন সাকিব। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা সাকিব দেশকে মিস করা নিয়ে বলেন, ‘আমি তো দেশের জন্য অনেক খেলেছি। এখন তরুণদের সুযোগ দেওয়ার সময়।’
বাংলাদেশ দলের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ তারকাদের নিয়েও আশার কথা শোনান সাকিব। তাঁর মতে বাংলাদেশ আর আগের মতো নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং দল হয়ে খেলা শিখেছেন লিটন দাস-মেহেদী হাসান মিরাজরা, ‘একটা সময় বাংলাদেশ দল ব্যক্তি-নির্ভর ছিল, কিন্তু এখন দল হিসেবে তারা দারুণ খেলছে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে জয়ই তার প্রমাণ। এখন আর আগের মতো ব্যক্তি-কেন্দ্রিক খেলা নেই, বরং পুরো দল মিলে পারফর্ম করছে—এটাই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সঠিক পথ।’
তরুণ তুর্কি নাহিদ রানা প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ‘নাহিদ রানাকে আমাদের খুব যত্ন করে গড়ে তুলতে হবে। সে এখনো অনেক তরুণ। ওর প্রতিভা আর মানসিকতা অসাধারণ, তবে সঠিক নির্দেশনার প্রয়োজন আছে। যদি তাকে ঠিকভাবে পরিচালনা করা যায়, তবে সে বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হবে।’

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) নতুন বিতর্ক রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক রিয়ান পরাগকে নিয়ে। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলের ড্রেসিংরুমে বসে তাঁকে ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নড়েচড়ে বসেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। বিষয়টি নিয়ে বিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
গতকাল মুল্লানপুরে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে রাজস্থানের ম্যাচ চলাকালীন এই অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্যটি সরাসরি সম্প্রচারের সময় ধরা পড়ে। রাজস্থান যখন ২২৩ রান তাড়া করছিল, ঠিক সেই সময় আউট হয়ে সাজঘরে ফেরার পর পরাগকে এমন অপেশাদার আচরণ করতে দেখা যায়। এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পরপরই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন, বিসিসিআইয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বোর্ড বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই ইস্যুতে রিয়ানের কাছে ব্যাখ্যা চাইব। ড্রেসিংরুমে বা মাঠের ভেতরে এ ধরনের কার্যকলাপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তার ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে আইপিএল কর্তৃপক্ষ।’
চলতি আসরে রাজস্থান রয়্যালস দলের ভেতরে এটি দ্বিতীয় দফার শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা। এর আগে গুয়াহাটিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালীন দলের ম্যানেজার রভিন্দর ভিন্ডারকে মুঠোফোন ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছিল। সেই ঘটনায় তাঁকে সতর্ক করার পাশাপাশি ১ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছিল। এবার খোদ অধিনায়কের বিরুদ্ধেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠল।
২৪ বছর বয়সী রিয়ান পরাগ এবার রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সঞ্জু স্যামসন দল পরিবর্তন করে চেন্নাই সুপার কিংসে যোগ দেওয়ায় পরাগের ওপর নেতৃত্বের ভার তুলে দেয় কর্তৃপক্ষ। তবে নেতৃত্বের পাশাপাশি ব্যাটে হাতেও তিনি চূড়ান্ত ব্যর্থ। এখন পর্যন্ত ৯ ম্যাচে করেছেন ১১৭ রান, গড় ১৪.৬৩।
বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্ত চলছে। শুক্রবার জয়পুরে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচে মাঠে নামবে রাজস্থান। সেই ম্যাচের আগে বিসিসিআইয়ের এই কড়া অবস্থানে পরাগের অধিনায়কত্ব বা দলে তাঁর অবস্থান ঝুঁকির মুখে পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আইপিএলের নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের আচরণবিধি এবং শৃঙ্খলার বিষয়ে বোর্ড সবসময়ই আপসহীন অবস্থানে থাকে।