৩০ নভেম্বর ২০২৫, ৪:০৬ পিএম

সব জল্পনা-কল্পনা উড়িয়ে সকল অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) ক্রিকেটের দ্বাদশ আসরের নিলাম। যেখান থেকে দর কষাকষি করে অংশগ্রহণকারী ছয়টি দল গুছিয়ে নেবে নিজেদের স্কোয়াড।
রাজধানীর পাঁচ তারকা হোটেল র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেনে বসেছে ক্রিকেটার বেচা-কেনার মেলা। এই নিলাম উপলক্ষ্যে নিলামের ভেন্যু যেন পরিণত হয়েছে সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটারদের মিলনমেলায়।
নিলামের আগে অংশগ্রহণকারী ছয় দলের সামনে সুযোগ ছিল দুজন করে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করার। চট্টগ্রাম রয়্যালস শুধু দলে নিয়েছে একজন বিদেশি। বাকি সবাই নিজেদের কোটা পূরণ করেছে।
অর্থাৎ নিলামের আগে চূড়ান্ত হয়েছে ২৩ ক্রিকেটারের ঠিকানা। নিলাম থেকে আরও প্রায় ৮০ জন দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারের দল নিশ্চিত হবে।
পরে নিলাম থেকে নিজেদের দল গুছিয়ে নিয়েছে সবাই। দেখে নিন সব দলের স্কোয়াড
রংপুর রাইডার্স
সরাসরি চুক্তি: নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান, খাজা নাফি, সুফিয়ান মুকিম
নিলাম থেকে: লিটন কুমার দাস (৭০ লাখ), তাওহিদ হৃদয় (৯২ লাখ), নাহিদ রানা (৫৬ লাখ), রকিবুল হাসান (৪২ লাখ), আলিস আল ইসলাম (২৮ লাখ), মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি (১৮ লাখ), নাঈম হাসান (১৮ লাখ), ইফতেখার হোসেন ইফতি (১৪ লাখ), মেহেদি হাসান সোহাগ (১১ লাখ), মাহমুদউল্লাহ (৩৫ লাখ), আব্দুল হালিম (১১ লাখ), এমিলো গে (১০ হাজার ডলার), মোহাম্মদ আখলাক (১০ হাজার ডলার)
ঢাকা ক্যাপিটালস
সরাসরি চুক্তি: তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান, উসমান খান, অ্যালেক্স হেলস
নিলাম থেকে: শামীম হোসেন পাটোয়ারী (৫৬ লাখ), মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন (৬৮ লাখ), মোহাম্মদ মিঠুন (৫২ লাখ), তাইজুল ইসলাম (৩০ লাখ), সাব্বির রহমান (২৮ লাখ) , নাসির হোসেন (১৮ লাখ), তোফায়েল আহমেদ (১৮ লাখ), ইরফান শুক্কুর (১৮ লাখ), আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৪ লাখ), মারুফ মৃধা (১৪ লাখ), জায়েদ উল্লাহ (১১ লাখ), দাসুন শানাকা (৫৫ হাজার ডলার), জুবাইরউল্লাহ আকবর (২০ হাজার)
সিলেট টাইটান্স
সরাসরি চুক্তি: নাসুম আহমেদ, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইম আইয়ুব, মোহাম্মদ আমির
নিলাম থেকে: পারভেজ হোসেন ইমন (৩৫ লাখ), সৈয়দ খালেদ আহমেদ (৪৭ লাখ), আফিফ হোসেন ধ্রুব (২২ লাখ), রনি তালুকদার (২২ লাখ), জাকির হাসান (২২ লাখ), রুয়েল মিয়া (২৩ লাখ), আরিফুল ইসলাম (২৬ লাখ), ইবাদত হোসেন চৌধুরি (২২ লাখ), শহিদুল ইসলাম (১৪ লাখ), রাহাতুল ফেরদৌস জাভেদ (১৪ লাখ), তৌফিক খান তুষার (১৪ লাখ), মুমিনুল হক (২২ লাখ), রবিউল ইসলাম রবি (১১ লাখ), অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস (৩৫ হাজার ডলার), অ্যারন জোন্স (২০ হাজার ডলার),
রাজশাহী ওয়ারিয়র্স
সরাসরি চুক্তি: নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিম, সাহিবজাদা ফারহান, মোহাম্মদ নওয়াজ
নিলাম থেকে: তানজিম হাসান সাকিব (৬৮ লাখ), ইয়াসির আলি চৌধুরি (৪৪ লাখ), আকবর আলি (৩৪ লাখ), রিপন মন্ডল (২৫ লাখ), জিসান আলম (১৮ লাখ), হাসান মুরাদ (১৮ লাখ), আব্দুল গাফফার সাকলাইন (৪৪ লাখ), এসএম মেহেরব হাসান (৩৯ লাখ), ওয়াসি সিদ্দিকি (১৯ লাখ), মোহাম্মদ রুবেল (১১ লাখ), মুশফিকুর রহিম (৩৫ লাখ), দুশান হেমান্থ (২৫ হাজার ডলার), জাহান্দাদ খান (২০ হাজার ডলার)
চট্টগ্রাম রয়্যালস
সরাসরি চুক্তি: শেখ মেহেদি হাসান, তানভির ইসলাম, আবরার আহমেদ
নিলাম থেকে: মোহাম্মদ নাঈম শেখ (১ কোটি ১০ লাখ), শরিফুল ইসলাম (৪৪ লাখ), আবু হায়দার রনি (২২ লাখ), মাহমুদুল হাসান জয় (৩৭ লাখ), মাহমুদুল হাসান জয় (২২ লাখ), সুমন খান (৩২ লাখ), জিয়াউর রহমান (৩০ লাখ), আরাফাত সানি (১৮ লাখ), মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ (৩৩ লাখ), সালমান হোসেন (১৪ লাখ), শুভাগত হোম (১৪ লাখ), জাহিদুজ্জামান সাগর (১১ লাখ), নিরোশান ডিকভেলা (৩৫ হাজার ডলার), অ্যাঞ্জেলো পেরেয়া (২০ হাজার ডলার)
নোয়াখালী এক্সপ্রেস
সরাসরি চুক্তি: হাসান মাহমুদ, সৌম্য সরকার, জনসন চার্লস, কুশল মেন্ডিস
নিলাম থেকে: জাকের আলি অনিক (৩৫ লাখ), মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (৩৫ লাখ), হাবিবুর রহমান সোহান (৫০ লাখ), নাজমুল ইসলাম অপু (১৮ লাখ), আবু হাশিম (১৮ লাখ), মুশফিক হাসান (১৮ লাখ), শাহাদাত হোসেন দীপু (১৮ লাখ), রেজাউর রহমান রাজা (১৮ লাখ), মেহেদি হাসান রানা (১৪ লাখ), সৈকত আলি (১৪ লাখ), সাব্বির হোসেন (১৪ লাখ), ইহসানউল্লাহ (২৮ হাজার ডলার), হায়দার আলি (২৫ হাজার ডলার)
No posts available.

টি-টোয়েন্টিতে ২২৬ লক্ষ্য তাড়া করে জয় মোটেও সহজ নয়। ওভারপ্রতি প্রয়োজন ১১ রানের উপরে। অথচ এই কঠিনকে সহজ করে তুলল মুলতান সুলতানস। সহজ করে বললে সাহিবজাদা ফারহান। পাকিস্তানি ওপেনারের ঝড়ো সেঞ্চুরিতে পিএসএলে টানা দ্বিতীয় জয় পেল সাবেক চ্যাম্পিয়নরা।
বুধবার লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে ২২৫ রান সংগ্রহ করে হায়দরাবাদ কিংসম্যান। জবাব দিতে নেমে ৮ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মুলতান।
কিংসম্যানের বড় সংগ্রহের জবাবে পিএসএলের সাবেক চ্যাম্পিয়নদের হয়ে ওপেনিংয়ে নামেন সাহিবজাদা ফারহান ও স্টিভেন স্মিথ। শতরান পেরোনোর পর অস্ট্রেলিয়ান অলরাউন্ডার ফিরলে উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। অর্ধশতক থেকে মাত্র ৪ রান দূরে থামেন স্মিথ।
স্মিথ ফেরার পর জশ ফিলিপে সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ৯ রানে ফেরেন তিনি। ক্যাপ্টেন অ্যাশটন টার্নারও থেকেছেন ব্যর্থতার বৃত্তে। তবে শান মাসুদ ভালোই সঙ্গ দিয়েছেন ফারহানকে। ২৯ রানে যখন তিনি থামেন তখন ফারহান তার পিএসএল ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে।
দলের ১৯০ রানে ফেরেন টার্নার। এরপর আরাফাত মিনহাসকে নিয়ে বাকিটা পথ পাড়ি দেন ফারহান। ৫৭ বলে ১০৬ রানে অপরাজিত থেকে দলকে উপহার দেন জয়। চার থেকে ছক্কাই বেশি হাঁকিয়েছেন তিনি। সাতটি বাউন্ডারি ও আটটি ওভার বাউন্ডারি পাকিস্তানি ওপেনারের।
অপর ব্যাটার মিনহাসও শেষ দিকে ব্যাটিং ঝড় তোলেন। ১১ বলে করেন ২৬ রান।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে ধারাবাহিকতা দেখান কিংসম্যানের ব্যাটাররা। ৫৯ রানে তাদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। তবে চেষ্টা চালিয়ে যান মাজ সাদাকাত। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। কিংসম্যানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান করেন শারজিল খান। ২৬ বলে ৫১ রান করেন তিনি।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) এবং পাকিস্তান সুপার লিগের ( পিএসএল) ধাক্কা ভালই লেগেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটে। বোর্ডের অনাপত্তিপত্র নিয়ে এই দুটি ফ্রাঞ্চাইজি লিগে নিউ জিল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটাররা এখন খেলছেন। সে কারণেই নিউ জিল্যান্ডের নিয়মিত অধিনায়ক স্যান্টনার, গ্লেন ফিলিপ এবং রাচিন রবীন্দ্রকে বাইরে রেখে বাংলাদেশ সফরের ওডিআই স্কোয়াড ঘোষণা করতে হয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটকে।
১৫ সদস্যের স্কোয়াডে অধিনায়ক টম ল্যাথাম, হেনরি নিকোলাস এবং ইস সোধি ছাড়া অভিজ্ঞ ক্রিকেটার নেই তেমন একটা। দলের মিডল অর্ডার বেভন জ্যাকবসের হয়নি ওডিআই অভিষেক। লেগ স্পিনার জসুয়া ক্লার্কসন এবং পেসার ম্যাট ফিশার খেলেছেন ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাত্র ১টি। বাঁ হাতি স্পিনার জায়দান লিনাক্স সেখানে খেলেছেন ২টি ওডিআই। পেস বোলার ক্রিস্টার্ন ক্লার্ক, বাঁ হাতি স্পিনার নিক বেলি এবং লেগ স্পিনার অদ্বিতীয়া অশোকার ওডিআই ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা মাত্র ৩টি করে।
পরিস্থিতির মুখে ইনজুরি থেকে ফেরা জাতীয় দলের ৩ অনিয়মিত পেসার ম্যাট ফিশার, ও রোর্কে এবং ব্লেয়ার টিকনারকে নিয়ে ১৫ সদস্যের স্কোয়াড গঠন করতে হয়েছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটকে।
ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত একটি মৌসুম কাটানোর পর অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার ডিন ফক্সক্রফট সাদা বলের দলে ফিরেছেন। নিউজিল্যান্ড 'এ' দলের হয়ে দারুণ পারফর্ম করে মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক এবং বেন সিয়ার্সের মতো খেলোয়াড়রা ওডিআই স্কোয়াডে ঢুকেছেন।
আগামী ১৩ এপ্রিল ঢাকায় পা রাখার কথা নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট দলের। আগামী ১৭ এপ্রিল থেকে ৩ ম্যাচের ওডিআই এবং ২৭ এপ্রিল থেকে ৩ ম্যাটের টি-২০ সিরিজের জন্য ইতোমধ্যে দুটি পৃথক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেট। উভয় দলকে নেতৃত্ব দিবেন টম ল্যাথাম।
বাংলাদেশ সফরে নিউজিল্যান্ড ওডিআই স্কোয়াড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), মোহাম্মদ আব্বাস, আদিত্য অশোক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ডিন ফক্সক্রফট, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, হেনরি নিকোলস, উইল ও'রোর্ক, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার এবং উইল ইয়ং।
বাংলাদেশ সফরে নিউ জিল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াড: টম ল্যাথাম (অধিনায়ক), কেটেন ক্লার্ক, ক্রিস্টিয়ান ক্লার্ক, জশ ক্লার্কসন, ডেন ক্লিভার, ম্যাট ফিশার, ডিন ফক্সক্রফট, বেভন জ্যাকবস, নিক কেলি, জেডেন লেনক্স, টিম রবিনসন, বেন সিয়ার্স, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, ব্লেয়ার টিকনার।

দীর্ঘদিন ভারত জাতীয় দলে উপেক্ষিত মোহাম্মদ শামি। টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডের পর টেস্ট দলেও এখন ব্রাত্য এই পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরও জাতীয় দলে ডাক না পাওয়ায় নিজের হতাশা লুকিয়ে রাখতে পারেননি শামি।
সবশেষ ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি ফাইনালে ভারতের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন শামি। পুরোপুরি ফিট হওয়া সত্ত্বেও এরপর জাতীয় দলে আর ফেরা হয়নি তাঁর। ২০২৫-২৬ ঘরোয়া মৌসুমে ৬৭টি উইকেট নিয়েছেন শামি। তবুও মন গলেনি ভারতের প্রধান নির্বাচক অজিত আগারকারের।
ভারতের জনপ্রিয় সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্র শুভঙ্কর মিশ্রর পডকাস্টে নিজের হতাশা ঝাড়েন শামি,
‘আইপিএলের কথাই ধরুন, আমার রেকর্ড দেখুন। অন্য কোনো ভারতীয় বোলার আমার ধারেকাছে নেই। তবুও বলা হয় আমি টি-টোয়েন্টি বোলার নই। গত ৫-৬ বছরে আমি প্রায় ১৩০টি উইকেট নিয়েছি। আর কী চান আপনারা?’
২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে অভিষেক হয় শামির। ভারতের জার্সিতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত নিয়েছেন ৪৬২ উইকেট। বিরাট কোহলি-রবি শাস্ত্রী যুগে ভারতীয় বোলিং আক্রমণে বড় অস্ত্র ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী পেসার।
তিনটি ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা শামি ঘরের মাঠে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে (২০১৮-১৯ এবং ২০২০-২১) টানা দুটি টেস্ট সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন এই পেসার।
অবশ্য ভারতের হয়ে এখন পর্যন্ত যত সাফল্য পেয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে চাচ্ছেন শামি। দলে আবার সুযোগ পাওয়া নিয়ে মাথা ঘামাতে চান না তিনি,
‘সত্যি বলতে, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। আমার ঘরোয়া রেকর্ড দেখুন; বল দিলে তো আমি উইকেট নেব, তা না হলে আমি বড়জোর 'ওয়াটার বয়' হিসেবে কাজ করতে পারি। কিন্তু আমি এই নিয়ে খুব একটা বিচলিত নই। ভারতের হয়ে যতটুকুই খেলেছি, অনেক নাম, যশ আর অর্থ পেয়েছি। আমি দেশের জন্য অনেকগুলো বছর দিয়েছি এবং অনেকগুলো বিশ্বকাপ খেলেছি, এতেই আমি তৃপ্ত।‘
এবারের আইপিএলে লখনউ সুপার জায়ান্টসের (এলএসজি) হয়ে খেলবেন শামি। গত নভেম্বরে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ থেকে ১০ কোটি রুপিতে ট্রেডে তাকে দলে ভেড়ায় লখনউ।

প্রথমবার বিগ ব্যাশে নাম লিখিয়েই অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া রিশাদ হোসেন পেলেন বিশেষ এক স্বীকৃতি। ক্রিকেট তাসমানিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী এই লেগ স্পিনার। আনুষ্ঠানিকভাবে আজ তারা রিশাদের নাম ঘোষণা করে।
বিগ ব্যাশের ২০২৫-২৬ মৌসুমে ব্যাট-বল হাতে পারফরমেন্সের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দিয়ে থাকে ক্রিকেট তাসমানিয়া। রিশাদের সঙ্গে বর্ষসেরা বিগ ব্যাশ খেলোয়াড়ের মনোনয়ন পেয়েছেন নাথান এলিস, ক্রিস জর্ডান এবং নিখিল চৌধুরী।
রিশাদকে বর্ষসেরা মনোনয়নের ব্যাখ্যায় ক্রিকেট তাসমানিয়া নিজেদের ওয়েবসাইটে লিখেছিল, ‘বেগুনি জার্সিতে নিজের প্রথম বছরেই দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েছেন বাংলাদেশের লেগ-স্পিনার রিশাদ হোসেন।’
বল হাতে নিয়মিত আলো ছড়িয়ে হোবার্ট হারিকেন্সকে প্লে-অফে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রিশাদ। সবশেষ বিগ ব্যাশের প্লে অফ থেকে বিদায় নিয়েছে হোবার্ট। আসরে ১১ ইনিংসে ১৫ উইকেট নেন রিশাদ। হ্যারিকেন্সের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী বোলার ছিলেন তিনি। ওভারপ্রতি খরচ করেছেন ৭.৮২ রান, বোলিং গড় ২০.৮৬। ২৬ রানের বিনিময়ে ৩ উইকেট রিশাদের সেরা বোলিং।

গত বছরের স্থগিত হওয়া সিরিজ খেলতে আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট দলের। সেই সফরের সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে এর আগে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে জিম্বাবুয়েতে যাবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
বুধবার আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ভারতের বিপক্ষে সিরিজের সূচি প্রকাশ করেছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট (জেসি)। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ২৩, ২৫ ও ২৬ জুলাই হবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় শুরু হবে সব খেলা।
আরও পড়ুন
| আইপিএলে টাকা কম, তাই পিএসএল খেলছেন জাম্পা |
|
২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর এটিই হবে ভারতের প্রথম জিম্বাবুয়ে সফর। এরপর আবার ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে তিন ওয়ানডে খেলতে ভারতে যাবে জিম্বাবুয়ে দল। ২০০২ সালের পর সেটিই হবে জিম্বাবুয়ের প্রথম ভারত সফর।
সবশেষ চলতি বছরের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হয়েছে ভারত ও জিম্বাবুয়ে। সুপার এইটের ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২৫৬ রানের পুঁজি নিয়ে জিম্বাবুয়েকে সেদিন ৭২ রানে হারায় ভারত।
জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেছেন, ভারতের বিপক্ষে এই সিরিজটি খেলোয়াড় ও সমর্থক- উভয়ের জন্যই বড় একটি সুযোগ তৈরি করেছে।
“ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিপক্ষে নিজেদের মাটিতে খেলা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের সামর্থ্য যাচাই করার দারুণ সুযোগ।”
“বিশ্বকাপে আমাদের উৎসাহব্যঞ্জক পারফরম্যান্সের পর এই সিরিজ আমাদের জন্য গতি ধরে রাখার ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতামূলক শক্তি হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার একটি শক্ত ভিত্তি তৈরি করবে।”
দুই দশকের বেশি সময় পর ভারতের মাটিতে জিম্বাবুয়ের সামনের সফরটিও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে বলে মনে করছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট।
আরও পড়ুন
| ম্যাচ জিতে দুঃসংবাদ পেলেন শ্রেয়াস আইয়ার |
|
“দুই দশকেরও বেশি সময় পর দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ভারতে যাওয়া জিম্বাবুয়ের জন্য একটি মাইলফলক মুহূর্ত। বিশ্ব ক্রিকেটে ভারত অন্যতম শীর্ষ গন্তব্য, তাই এই সফর আমাদের জন্য যেমন সম্মানের, তেমনি খেলোয়াড়দের জন্য মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ।”
“আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উচ্চমানের ক্রিকেট দেখার অপেক্ষায় আছি। একই সঙ্গে বিশ্বাস করি, এই সিরিজ দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং আমাদের দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা এনে দেবে।”