৬ অক্টোবর ২০২৫, ১০:২৫ পিএম

সব খেলোয়াড়েরই ক্যারিয়ারে একটা প্রিয় মুহূর্ত থাকে—যখন তার ব্যাট-বল বেজে ওঠে নিখুঁত তালে-লয়ে। বহু কাঠখড় পুড়িয়ে তাকে তার অবস্থান তৈরি করতে হয়, জানান দিতে হয় নিজের সক্ষমতা। ক্রান্তিলগ্নে কখনো সে ফেরেন খালি হাতে, কখনো হতাশ করেন নিজেকেই। অভিষেক, প্রথম স্মৃতি কিংবা বৃত্তে বন্দির আর্তনাদ—সবই হজম করতে হয় একাকী।
জীবনের মতো ক্রীড়াও এক বন্ধুর ময়দান। এখানে সবাই বন্ধু, প্রতিযোগীও। পা ফসকালেই সাইড বেঞ্চে অপেক্ষমান তারই প্রিয় কোন সতীর্থ। মারো-মরো নীতির এই ট্র্যাজিক পথচলায় অন্ধকার সুড়ঙ্গের শেষে আলো খুব কমই থাকে। তবে ধৈর্য আর প্যাশনকে যারা ইচ্ছার উর্ধ্বে রেখেছে, জয়টা তাদেরই হয়েছে।
ইতিহাস বলে, ধৈর্যশীল ও ‘গ্রেট’ খেলোয়াড়রা কখনো ব্যর্থতার জ্বালায় পুড়ে ছাই হয়ে যান না। বরং সেই জ্বালা দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দেন। নতুন সাফল্যের তৃপ্তি প্রলেপ বুলিয়ে দেন পুরোনো জ্বালার ক্ষতে। যে মাঠে দুয়ো ধ্বনি শুনেছেন, সে মাঠেই তার জন্য বিছিয়ে রাখা হয় ফুল। স্বাগত জানাতে গলা ফাটান হাজারো সমর্থক-নিন্দুকরাও। বাংলাদেশের তরুণ অলরাউন্ডার সাইফ হাসানের বেলায় এসব ঘটেনি?
নিশ্চয়ই ঘটেছে। সাইফ এখনই ‘গ্রেট’-এর পর্যায়ে চলে যাননি। তাকে নিয়ে কাব্য-গল্প লেখা এখনো অনেক দূর। তবে ডুবতে বসা বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি তরী যে তিনিই বয়ে নিয়ে যাচ্ছেন—সেটা কম কিসে?
এশিয়া কাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স তো বটেই, আফগানিস্তানের বিপক্ষে কুড়ি কুড়ির সিরিজের শেষ ম্যাচ একাই জিতিয়েছেন অলরাউন্ডার সাইফ। শারজায় তার অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংস শুধুই ‘গ্রেট’ না হলেও, চোখের শান্তি তো দিয়েছে বটে। আড়াই পাউন্ড ওজনের উইলো খণ্ডটি দিয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। দৌড়ে রান প্রায় নেনইনি, বাউন্ডারি-বাউন্ডারিতে সাজিয়েছেন ইনিংস। একের পর এক বল ছুটে গেছে সীমানা ছাড়িয়ে।
আফগানিস্তানকে হোয়াইটওয়াশের দিনে মাত্র দুটি বাউন্ডারির বিপরীতে ৭টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাইফ। ১৬৮ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট চালিয়েছেন। ৩৮ বলে খেলেছেন ৬৪ রানের ইনিংস। স্ট্রেইটে ছক্কা ছাড়াও মিড-অফ, অনের সঙ্গে ফাইন-লেগে বল পাঠিয়েছেন। স্টেডিয়াম ছাড়া করেছেন, হারিয়েও দিয়েছেন বল। নিজের চোখে দেখা দৃশ্য সম্পর্কে দর্শকের মনে জাগিয়ে তুলেছেন অবিশ্বাস।
সাইফ যেন শিল্পীর তুলিতে এঁকেছেন এসবই। ক্যানভাসে হয়তো একটু বেশি দ্রুতগতিতে, একটু বেশি জোরেই ব্রাশ চালিয়েছেন ২৬ বর্ষী ব্যাটার। তাতেও চিনতে অসুবিধা হয়নি সাইফকে। শারজায় যতক্ষণ চলেছে সেই ছবি আঁকার পর্ব, ততক্ষণ সবাই মুগ্ধ দর্শক। ছবি আঁকা শেষ হয়ে গেলেও আসলে তা শেষ হয়নি-মাঠ থেকে তা চলে গেছে দর্শকদের মনের ক্যানভাসে। সত্যিকার অর্থে কি ছিল না সাইফের সে ইনিংসে?
অথচ একূল-ওকূল হারিয়ে নিঃশ্ব হতে বসেছিলেন সাইফ হাসান। ২৫-এই ফুরিয়ে গেছেন—এমন কথাও শুনতে হয়েছে তাকে। ধীরে-ধীরে খেলেন, ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো খেলার সুবাদে ২০২০ সালে সাদা শুভ্র পোশাকে অভিষেক হয় সাইফের। আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি অভিষেক ম্যাচে। রাওয়ালপিন্ডিতে সেদিন মাত্র ১৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট, সেখানেও ব্রাত্য সাইফ। শ্রীলঙ্কা টেস্টে তো একদমই হতাশ করেছেন। ক্যারিয়ারের নিজেদের সবশেষ টেস্ট খেলেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে, ২০২১ সালে। সে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে রান এসেছে কেবল ৩২।
লাল বলের ক্রিকেটে সেখানেই দাঁড়ি পড়ে সাইফের। ২০২০ সালের শুরুতে অভিষেকের পর ২০২১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মোটে ছয়টি টেস্ট খেলেছেন । রান করেছেন ১৫৯। হাত ঘুরিয়ে তুলেছেন এক উইকেট। জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার জন্য এর চেয়ে বড় কারণ কি হতে পারে?
টেস্টে না হয় থিতু হতে পারেননি, টি-টোয়েন্টিতে কেমন ছিল সাইফের যাত্রা? ২০২৫ এশিয়া কাপের আগ পর্যন্ত ৫ বছরের ক্যারিয়ারে মাত্র ৭টি কুড়ি কুড়ি ওভারের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন তিনি। যেখানে একটি ফিফটি ছিল। ডাক মেরে আউট হয়েছেন দুইবার। এক রান করে রান করেছে দুই ইনিংসে।
এমন মন্থর ব্যাটিংয়ে একপ্রকার নির্বাচকেরা সাইফ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত পারফর্ম এবং নিজেকে বদলে জাতীয় দলে ফিরেই আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন বেশ ভালোভাবে। ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে প্রত্যাবর্তন তার। এরপর এশিয়া কাপ ও আফগানিস্তান সিরিজ মিলিয়ে খেলেছেন ৭টি টি-টোয়েন্টি। এ সময় ২১টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাইফ।
সাইফ এ নিয়ে বলেছেন,
‘গত এক-দুই বছর ধরে আমি এভাবেই খেলছি। আমি শুধু ব্যাটিংটা উপভোগ করছি, ব্যস এতটুকুই।’
ব্যস এতটুকুই-২৮ বর্ষী ব্যাটারের উচ্চারিত শব্দ ছোট হলেও এর মাহাত্ম্য কিন্তু বিশাল। কারণ, ডাল-ভাতে রূপ নেওয়া চার-ছক্কার পেছনে রয়েছে তার দিনের পর দিন নেটে অনুশীলন আর ঘাম ঝরানোর কষ্ট।
তরুণ অলরাউন্ডার নিজেকে ভেঙে-চুরে, আবার ভেঙে গড়েছেন খুবই তীক্ষ্ণভাবে। তার স্পেশালিটি স্ট্রেইট শট-যার জন্য সাধনা আর অধ্যবসায় করতে হয়েছে তাকে। দ্বারস্থ হতে হয়েছে দেশি-বিদেশি কোচদের কাছে। সাইফ নিজেই জানিয়েছেন,
‘সাধারণত আমি সোজা ব্যাটে (সোজা উইকেটের দিকে) খেলার চেষ্টা করি এবং স্পিনের সঙ্গে একই দিকে বল পাঠাই—এটাই আমার শক্তির জায়গা।’
টেস্টের ব্যাকরণ শিখেই হাতেখড়ি তাঁর। হয়তো হতে চেয়েছিলেন টেস্ট ক্রিকেটার। ধীরে ও ধরে চলো নীতিতেই চলছিলেন। তবে সেই ‘লং ফরম্যাট ব্যাটার’ তকমা ঝেড়ে এশিয়া কাপে নিজেকে নতুন করে চেনালেন এই স্পিন অলরাউন্ডার। টেস্ট খেলুড়ে ব্যাটারের মতো সাইফও বরাবরই ডাউন দ্য ভি (মিড-অফ থেকে মিড-অন অঞ্চলের মাঝ দিয়ে খেলা) খেলতে বেশ পারদর্শী।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গুণই সাইফকে সাদা বলের ক্রিকেটেও সফলতা এনে দিয়েছে। স্পিনারদের ঘূর্ণির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বল খেলতে পারাটা এখন সাইফের বড় একটি অস্ত্র হয়ে উঠেছে-সেটা তিনি দারুণভাবে প্রমাণ করেছেন।
বীরদর্পে পর্দাপনের পর সাইফ সুযোগ পেয়েছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজেও। সবকিছু ঠিক থাকলে হাসমতউল্লাহ শাহিদীদের বিপক্ষে ৮ তারিখ একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হবে তার। কুড়ি কুড়ির মতো এই ফরম্যাটেও যে তিনি রাজ করবেন, সেটা হলফ করে বলা যায়।
মেধাবীরা ব্যর্থ হলেও, পরিশ্রমীরা কখনও ব্যর্থ হয় না—সেটা সাইফ হাসানের চেয়ে বেশি আর কে জানে? প্রজ্ঞা আর ধৈর্যের গুণে তিলে তিলে নিজেকে গড়ে তোলা সাইফ যেন এক-দুই তলা কোনো সাধারণ ভবন নন, বরং নিজেকে রূপ দিচ্ছেন একটি স্কাইস্ক্র্যাপারে। আর সেটাই এখন দেশের প্রতিটি ক্রিকেটপ্রেমীর গভীর বাসনা।
No posts available.
২ এপ্রিল ২০২৬, ৬:১০ পিএম
২ এপ্রিল ২০২৬, ৩:৩৬ পিএম

জাতীয় দলে নতুন দুই কোচ নিয়োগ দিলো শ্রীলঙ্কা। রায়ান ফন নিইকার্ককে বোলিং এবং জর্ডান গ্রেগরিকে ফিল্ডিং ও স্পিন কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি। বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
রায়ান ফন নিইকার্ক এর আগে ২০২৩ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নেদারল্যান্ডস জাতীয় দলের বোলিং কোচ এবং অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান কোচ ছিলেন। তার কোচিংয়ে ডাচদের পারফরম্যান্সে ছিল দারুণ। নিইকার্ক দায়িত্বথাকালীন তিনটি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করে নেদারল্যান্ডস। শ্রীলঙ্কায় জাতীয় দলের সব বিভাগের ফাস্ট বোলিং কার্যক্রম তদারকি করবেন তিনি।
জর্ডান গ্রেগরিকে জাতীয় ফিল্ডিং ও স্পিন বোলিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি নেদারল্যান্ডস ক্রিকেট দলের ফিল্ডিং কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেছেন এবং দলটির বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে এই দুই কোচ তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড।

মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চেয়ারম্যান অরুণ ধুমাল। কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাংলাদেশি পেসারের বাদ পড়ার তিন মাস পর মুখ খুললেন তিনি।
গত বছরের ডিসেম্বর ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মোস্তাফিজকে দলে ভিড়ায় কেকেআর। তবে ভারত ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশনায় তাকে ছেড়ে দেয় কলকাতার ফ্র্যাঞ্চাইজি। বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন ধুমাল।
বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ধুমাল বলেন,
“আমি শুধু এটুকুই বলব, এটি দুঃখজনক। এর বাইরে আমার খুব বেশি ধারণা নেই।”
ধুমাল আরও বলেন,
“এটি দুঃখজনক। কখনও কখনও বিষয়গুলো এইভাবেই ঘটে। ক্রিকেটের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি না। সাধারণভাবে সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করে। তবে হ্যাঁ, মাঝে মাঝে আমাদের চারপাশে কিছু ঘটনা ঘটে এবং তার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আমি নিশ্চিত, ভবিষ্যতে স্বাভাবিক যুক্তি ও বিবেচনা কাজ করবে এবং এরকম পরিস্থিতি আর হবে না।”
বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তের পরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড প্রতিবাদ জানায়। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট করে বিসিবি। নিরাপত্তা বিষয়টি সামনে এনে তখন বলা হয়েছিল, বাংলাদেশ দল অংশগ্রহণ করবে তখনই, যদি ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে চলে যায়।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অনুরোধ প্রত্যাখান করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্তা সংস্থা। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
বর্তমানে পাকিস্তান সুপার লিগে খেলছেন খেলছেন মোস্তাফিজ। ৬.৪৪ কোটি রুপিতে লাহোর কালান্দার্সে যোগ দেন তিনি। এখন পর্যন্ত পিএসএলে দুটি ম্যাচ খেলেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি পেসার। নিয়েছেন দুটি উইকেট। সঙ্গে দুর্দান্ত ইকোনমি রেট ৪.৮৭।

আইপিএলে খেলার জন্য ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) না দেওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দলটির পেসার নুয়ান থুশারা। এনওসি না মেলায় কলম্বো জেলা আদালতে মামলা করেছেন তিনি।
এবারের আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে খেলার কথা ছিল থুশারার। তবে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় বোর্ড তাঁকে ছাড়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানায়। বোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আইপিএলে খেলার সুযোগ পেতে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এই পেসার।
থুশারার অভিযোগ, গত দুই আইপিএল মৌসুমে একই ধরনের ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল। অথচ এবার তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়, জাতীয় দলে বিবেচনায় রাখা হবে না, তারপরও একই ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি আটকে দেওয়া হয়েছে।
মামলায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের প্রেসিডেন্ট শাম্মি সিলভা, সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে, কোষাধ্যক্ষ সুজিওয়া গোডালিয়াড্ডা এবং সিইও অ্যাশলে ডি সিলভাকে বিবাদী করেছেন থুশারা। কলম্বো জেলা আদালতে গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি উত্থাপিত হওয়ার পর ৯ এপ্রিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) জানিয়েছে, বাধ্যতামূলক ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় থুশারাকে এনওসি দেওয়া হয়নি। পাঁচটি মানদণ্ডে সর্বোচ্চ ২৯ পয়েন্টের মধ্যে তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৭। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট—বিদেশি লিগে খেলতে হলে এই ফিটনেস পরীক্ষা পাস করাই বাধ্যতামূলক।
তবে থুশারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তার দাবি, ক্যারিয়ারজুড়েই তার ফিটনেস একই রকম রয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ আইপিএল মৌসুমে কোনো ফিটনেস ইস্যু না তুলেই তাকে এনওসি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ তার এসএলসি চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং তিনি সেটি নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত আগেই বোর্ডকে জানিয়েছিলেন। পাশাপাশি, এসএলসির কর্মকর্তারা তাকে জানিয়ে দেন যে ভবিষ্যতে জাতীয় দলে তার জায়গা নেই—এমন অবস্থায় ফিটনেসের অজুহাতে এনওসি না দেওয়া তার কাছে পরস্পরবিরোধী বলে মনে হচ্ছে।
থুশারা আদালতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন, যেন তাকে এনওসি পাওয়ার অধিকারী ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি তিনি অন্তর্বর্তীকালীন ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনও করেছেন, যাতে এসএলসি-কে অবিলম্বে সনদটি দিতে নির্দেশ দেওয়া হয় যাতে চলতি মৌসুমে বেঙ্গালুরুতে যোগ দিতে পারেন তিনি।
থুশারার জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনওসি না পেলে আরসিবি বাধ্য হবে ৩১ বছর বয়সী এই পেসারকে স্কোয়াড থেকে বাদ দিয়ে বিকল্প খেলোয়াড় নিতে। ফলে তিনি শুধু চলতি আইপিএলের পারিশ্রমিকই হারাবেন না, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক টি-টোয়েন্টি লিগগুলোর সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আইপিএলই এখন তার আয়ের প্রধান উৎস।
আইপিএলে থুশারা এখন পর্যন্ত দুটি দলের হয়ে খেলেছেন। প্রথমে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে ২০২৪ মৌসুমে ৭ ম্যাচে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন। আর আরসিবির হয়ে এখন পর্যন্ত খেলেছেন মাত্র একটি ম্যাচ। গত মৌসুমে—যেখানে তিনি নিয়েছেন ১ উইকেট।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য বড় সংবাদই বটে। এক যুগ পর তাদের মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে যাবে অষ্ট্রেলিয়া। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিতে জিম্বাবুয়ে সফর করেছিল অজিরা।
তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের সবকটি হবে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে। সিরিজের প্রথম ম্যাচটি হবে ১৫ সেপ্টেম্বর, এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় ও ২০ সেপ্টেম্বর হবে শেষ ওয়ানডে।
২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং নামিবিয়া। ঘরের মাঠে মেগা ইভেন্টের প্রস্তুতি হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই সিরিজটি স্বাগতিকদের জন্য বড় পরীক্ষা।
অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিভমোর মাকোনি বলেন,
‘আমরা অস্ট্রেলিয়াকে আবারও জিম্বাবুয়েতে স্বাগত জানাতে পেরে আনন্দিত। এই ধরনের বড় দলের বিপক্ষে খেলা আমাদের দলের উন্নতির জন্য অপরিহার্য। ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে এই সফরটি অমূল্য ভূমিকা রাখবে।’
এই সিরিজের আগে জুলাইয়ে ঘরের মাঠে ভারতকে স্বাগত জানাবে জিম্বাবুয়ে। সেই সিরিজে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে দুই দল।

দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটে ঘটে গেল এক নজিরবিহীন ঘটনা। ঘরোয়া ওয়ানডে কাপের ফাইনাল চলাকালীন দলকে মাঝপথে ফেলে যান বেয়ার্স সোয়ানেপোল। এ ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়তে যাচ্ছেন এই অলরাউন্ডার।
গত রোববার জোহানেসবার্গে লায়ন্স ও টাইটান্সের মধ্যে ঘরোয়া কাপের ফাইনাল ম্যাচ চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে। সোয়ানেপোল বল হাতে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও ইনিংস শেষ হওয়ার ৮ ওভার বাকি থাকতেই মাঠ ছাড়েন।
কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে যুক্তরাজ্যের ফ্লাইট ধরার জন্য মূলত ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই বেরিয়ে যান সোয়ানেপোল। শুক্রবার থেকে ওরচেস্টারশায়ারের হয়ে তাঁর খেলার কথা ছিল। তবে এই পরিকল্পনার বিষয়ে কিছুই জানত না লায়ন্স কর্তৃপক্ষ।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বাড়ানোর দাবি ইউরোপের দেশগুলোর |
|
এ ঘটনায় সোয়ানেপোলকে কাউন্টি ক্রিকেটে খেলার ‘অনাপত্তিপত্র’ বা ‘এনওসি’ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেট বোর্ড। ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অভিযোগে সোয়ানেপোলের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও চুক্তিবিরোধী কাজের অভিযোগ আনা হয়েছে।
ওরচেস্টারশায়ার ক্লাবের ডিরেক্টর অ্যাশলে জাইলস বিষয়টিকে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখছেন, ‘কেন এমনটা ঘটেছে তা ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে সোয়ানেপোল সম্ভবত এখন বুঝতে পারছেন যে তিনি একটি ভুল করে ফেলেছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাঁর দ্রুত যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর কোনো চাপ ছিল না। মানুষ ভুল করে, সোয়ানেপোল ভালো ছেলে, কিন্তু এক্ষেত্রে তিনি বড় একটি ভুল করে ফেলেছেন।’
পুরো মৌসুম খেলার কথা থাকলেও লায়ন্স দলের সাথে সোয়ানেপোলের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তাকে এনওসি না দেওয়া বিষয়টি ইতিমধ্যেই ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) জানিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা বোর্ড। আইনি প্রক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞায় পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে সোয়ানেপোলের।