১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ৩:৩২ এম

টিম বাস থেকে নামছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, প্রবেশ করবেন হোটেলে। স্বাভাবিকভাবেই লিওনেল মেসিকে ঘিরে আকর্ষণ বাকিদের চেয়ে ঢের বেশি। কিন্তু ওই বাস থেকে নামার সময় নজর কাড়লেন ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোও। বাস থেকে নামছেন, কাঁধে তার ব্যাগ, হাতে অক্সিজেন বুস্টার। বলিভিয়া যাত্রা মানেই যেন ফুটবলারদের বাড়তি আতঙ্ক, আলাদা দুশ্চিন্তা। যার নেই কোনো সমাধান, মানিয়ে নেওয়াই একমাত্র উপায়।

বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে আর্জেন্টিনা এখন বলিভিয়ায়। বুধবার রাতে রাজধানী লা পাজে স্বাগতিকদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বিশ্বচ্যাপিয়নরা। মেসি সে ম্যাচে খেলবেন কি না তা নিয়ে আছে সংশয়। ইকুয়েডরের বিপক্ষে নিজ ইচ্ছায় বদলি হয়ে মাঠ ছেড়েছিলেন, কোচ লিওনেল স্কালোনিও রবিবার সংবাদ সম্মেলনে জানিয়ে গেছেন মেসির খেলা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটবে সোমবার অনুশীলনের পর।

বলিভিয়ার এই মাঠ অবশ্য মেসির জন্য নতুন কিছু নয়। নিজের ক্যারিয়ারে এই মাঠে চার ম্যাচ খেলেছেন, জিততে পেরেছেন মোটে একটায়। যদিও বলিভিয়া দক্ষিণ আমেরিকার দুর্বল দলগুলোর একটাই। তবে সেই গল্পটাই বদলে যায় যখন বলিভিয়া নিজেদের ঘরের মাঠে খেলে। নিজেদের মাঠের রাজা ওরা। ১৯৯৩ সালের পর থেকে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে অ্যাওয়ে ম্যাচে আর জয়ের দেখাই পায়নি বলিভিয়া। এই সময়ে সবমিলিয়ে তারা খেলেছে ৬৫ ম্যাচ। অথচ ঘরের মাঠে শেষ ২৪ ম্যাচে তারা জিতেছে ১৪টায়, ড্র করেছে ১০টা।

ঘরের মাঠই আসলে বলিভিয়ার শক্তি। কিন্তু তার কৃতিত্ব পুরোটাই ভৌগলিক। সমুদ্রপৃষ্ঠ্ থেকে প্রায় ৩৬৫০ মিটার (১১,৯৭৫ ফিট) উঁচুতে অবস্থান দেশটির। ভিনদেশীদের জন্য অতো উঁচুতে যে কোনো খেলাই দুঃস্বপ্নের মতো। রোমেরোরা সে কারণেই হাতে করে অক্সিজেন বুস্টার নিয়ে প্রবেশ করেছেন বলিভিয়ায়।
এই গল্প অবশ্য নতুন কিছু নয়। বলিভিয়ায় ম্যাচ খেলতে গেলে যে আসল প্রতিপক্ষ উচ্চতা তা এতোদিনে প্রতিষ্ঠিত সত্য। হোম অ্যাডভান্টেজ পুরোটাই কাজে লাগানোর সুযোগ লাগে বলিভিয়ানদের সামনে। এই নিয়ে অবশ্য বহু আলোচনা-সমালোচনাও হয়েছে। ২০০৭ সালে ২৫০০ মিটারের উঁচুতে ফুটবল ম্যাচ নিষিদ্ধ করেছিল ফিফা। তাতে ভেন্যু হিসেবে বলিভিয়া বাদও পড়েছিল। সে সময় ফিফার এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছিলেন খোদ ডিয়েগো ম্যারাডোনা। তোপের মুখে পরে ফিফাও ২০০৮ সালে সেই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে। বলিভিয়াতে আবারও ফেরে ফুটবল।
আরও পড়ুন: মেসির কারিশমাতেই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শুভসূচনা আর্জেন্টিনার
ওই ঘটনার কিছুদিন পরই বলিভিয়ার মাঠে গিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে আর্জেন্টিনা হেরে এসেছিল ৬-১ গোলে। সে সময় আবার দলের কোচ ছিলেন ম্যারাডোনা। ওই হার আর্জেন্টিনার ইতিহাসেরই সবচেয়ে বড় হারগুলোর একটি।
অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে এর আগেও বলিভিয়ায় গেছে আর্জেন্টিনার। বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ চলার সময় হাফটাইমে পুরো ব্রাজিল দলকে একসঙ্গে অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করতেও দেখা গেছে। বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে গিয়ে মাঠেই একবার বমিও করতে হয়েছিল লিওনেল মেসিকে। এতো ফিরিস্তি শুনে আপনার মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, কী এমন উচ্চতা যার কারণে বিশ্বসেরা ফুটবলাররাই বেমালুম বোকা বনে যান বলিভিয়ায়?
উচ্চতা যত বেশি, বায়ুর চাপ তত কম। অর্থাৎ আপনার গ্রহণ করা অক্সিজেন রক্তে ট্রান্সফার করতে শরীরকে কসরত করতে হয় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এর ফলে শরীরও দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সহজ কথায় বললে, বলিভিয়ার যে উচ্চতা তাতে সেখানে স্বাভাবিক অবস্থানের চেয়ে আরও ২০-২৫ শতাংশ শক্তি বেশি প্রয়োজন। অভ্যস্ততা না থাকলে সেটা আপনাকে ভোগাবেই- মেসি, নেইমার সবার বেলায় সত্য সেটা।
অবশ্য এখানেই শেষ নয়। অমন উচ্চতায় বলের স্বাভাবিক গতিতেও পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে, বলের গতিপ্রকৃতির অস্বাভাবিক পরিবর্তনের কথা প্রায় সময় বলেছেনও ফুটবলাররা। বলিভিয়া মূলত প্রতিপক্ষের এই অনভ্যস্ততার সুযোগটাই কাজে লাগায়। ঘরের মাঠের দূরন্ত্ব ফর্মের সঙ্গে বলিভিয়ার অ্যাওয়ে ফর্মের তফাৎও তাই প্রমাণ করে।
আর্জেন্টিনা বলিভিয়ার সঙ্গে খেলার আগে ওদের মাঠে অনুশীলন করবে একদিন। মানিয়ে নেওয়ার জন্য ওইটুকু সময়ই আছে স্কালোনির দলের। ২০২০ সালে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বলিভিয়ার মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরেছিল তার দল। তাতে ১৫ বছর ধরে বলিভিয়ার মাঠে জয়হীন থাকার ‘ভুতুড়ে’ রেকর্ডটাও আর্জেন্টিনার পিছু ছেড়েছিল। যদিও সেই ম্যাচেও আর্জেন্টিনাকে ভুগতে হয়েছিল বলিভিয়ার উচ্চতায়।
এবার আর্জেন্টিনা লা পাজে পা রেখেছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে। কিন্তু তবুও স্বস্তি নেই। ঘুরে ফিরে সেই ‘উচ্চতা’ প্রশ্নের সমাধান জানা নেই কারও। স্কালোনিই বোধ হয় সবচেয়ে ভালোভাবে জবাবটা দিয়েছেন, “অনেক কিছুই তো চেষ্টা করা হয়েছে, আর যে কোনো দলই ওখানে গিয়ে হিমশিম খায়। এই নিয়ে এতো কথা বলতে চাই না, কারণ এসব তো আর পরিবর্তন করা যাবে না। এটা পরিস্কার একটা অ্যাডভান্টেজ ওই দলের জন্য, কিন্তু এই নিয়ে আমাদের অভিযোগ করার কোনো সুযোগ নেই।“
No posts available.
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১:১০ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২১ পিএম
৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

এএফসি উইমেন'স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে দারুণ কিছু অর্জনের হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। গ্রুপ পর্বের শেষ খেলায় আজ আফঈদা-সাগরিকারা মুখোমুখি হবেন ভিয়েতনামের। যাদেরকে হারানো গেলে মিলবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট! ড্র করেও এমন কিছু অর্জন করতে পারে বাংলাদেশের মেয়েরা। তখন অবশ্য তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য দলের খেলার দিকে।
থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টায়। সরাসরি দেখাবে চ্যানেল টি-স্পোর্টস।
গ্রুপ পর্বে খেলা আগের দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও হারতে হয়েছিল ২-৩ ব্যবধানে। পরের ম্যাচে চীনের সঙ্গে হার ২-০ গোলে। প্রতিযোগিতায়র তিন গ্রুপ থেকে শেষ আট নিশ্চিত করেছে ৬টি দল। এবার বাকি দুটি স্থানের জন্য লড়াই ৬ দলের। কেননা তিন গ্রুপের তৃতীয় দল হওয়া শীর্ষ দুই দল জায়গা পাবে কোয়ার্টার ফাইনালে।
আজকের ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে কোয়ার্টার ফাইনাল অনেকটাই নিশ্চিত হবে। সেক্ষেত্রে ভারত-চাইনিজ তাইপে কিংবা উজবেকিস্তান-জর্ডানের মধ্যকার যে কোনো একটি ম্যাচ ড্র কিংবা দুটি ম্যাচের ফলাফল বড় ব্যবধানে না হলেও হবে।
আর ড্র করেও বাংলাদেশের সুযোগ থাকবে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। কারণ গোলগড়ে তৃতীয় সেরার রেসে থাকা সবার চেয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। আসরে ৫ গোল হজম করার বিপরীতে দুই গোল দিয়েছেন সাগরিকারা। যে কারণে বাংলাদেশের গোলগড় (-৩)। দুই ও তিনে থাকা তাইপে (-৭) এবং উজবেকিস্তান (-৮) বেশ পিছিয়ে।
বাংলাদেশের জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেটি ম্যাচের আগেরদিন জানান দলের ফরোয়ার্ড সৌরভী আকন্দ প্রীতিও। আজকের ম্যাচে জিততে সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের চাপ সামলে অর্পিতা বিশ্বাসরা মাঠ থেকে জয় নিয়ে ফিরবেন সেই প্রত্যাশা লাল সবুজ সমর্থকদের।

সমীকরণ সহজ—একদল বাদ পড়বে, অন্য দল টিকে থাকবে শিরোপার রেসে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১ টায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই জায়ান্ট ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখ। এই ম্যাচ একদলের দুঃখ মোচনের উপলক্ষ্য, অন্য দলের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রেরণা।
বাঁচা-মরা লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদ এই ম্যাচ খেলতে যাচ্ছে লা লিগা শিরোপা প্রায় হাতছাড়া করে। লিগে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে মায়ার্কোর কাছে ২-১ গোলে হেরেছে আলভারো আরবেলোয়ার দল। বুন্দেসলিগা জায়ান্ট বায়ার্নও তাদের শেষ ম্যাচ নাটক জমিয়ে জিতেছে। ফ্রেইবুর্গের কাছে অন্তিম লড়াইয়ের ড্রামায় ম্যাচটা ৩-২ ব্যবধানে বাগিয়েছে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
মায়ার্কোর বিপক্ষে হারলেও অবশ্য দমে যেতে চান না রিয়াল কোচ। বরং হারের দিনই তিনি জানিয়ে দেন, দুঃসময় ভুলে ঘুরে দাঁড়াতে চায় তার দল। ইন্টারন্যাশনাল ব্রেকের আগে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জয়ে শক্তি খোঁজার চেষ্টা করছেন তিনি। তার মধ্যে ইতিহাস বলে, চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়াল মাদ্রিদ কোনো যুক্তি মানে না। সবাই যখন ধরে নেয় তারা শেষ, তখনই ঘুরে দাঁড়িয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে বার্নাব্যুর যোদ্ধারা। বিষয়টি বায়ার্নের চেয়ে কার বেশি মনে রাখার কথা?
আরও পড়ুন
| এসি মিলানকে হারাল নাপোলি, চ্যাম্পিয়নস লিগ দৌড়ে জুভেন্তাস |
|
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্নের বিপক্ষে সবশেষ মুখোমুখিতে হোসেলুর গোলে জিতেছিল রিয়াল। পারস্পরিক মুখোমুখিতেও খানিক এগিয়ে লস ব্লাঙ্কোসরা। ১৩ জয়ের বিপরীতে বাভারিয়ানদের জয় ১১টি। ৪টি ম্যাচ হয়েছে ড্র। নক আউট ম্যাচে শেষ ৫ দেখায় বেশির ভাগ জয়ই রিয়ালের দিকে।
সংখ্যা কিংবা ইতিহাস রিয়ালের পক্ষে হলেও রিয়ালের বর্তমান অবস্থা কিছুটা নাজুক। লা লিগা হেলায় হারানো কিংবা তারকা খেলোয়াড়দের জ্বলে উঠতে না পারা। একই সঙ্গে কোচ পরিবর্তনের বিষয়টি বেশ ভাবাচ্ছে রিয়ালকে। যে জাবি আলোনসোর কাছে বছর দুয়েক আগে বুন্দেসলিগায় টাইটেল হারিয়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। সেই জাবি এখন আর সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর ডাগ আউটে নেই। সব মিলিয়ে চিন্তায় থাকতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ বার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী রিয়ালকে। বার্নাব্যু থেকে জয় নিজেদের পক্ষে না রাখতে পারলে সেকেন্ড লেগে আলিয়াঞ্জ অ্যারেনাতে বিপদে পড়তে হতেও পারে তাদের।
এই ম্যাচে রিয়ালের গোলপোস্টের নিচে দেখা যাবে আন্দ্রে লুনিনকে। থিবো কোর্তোয়ার ইনজুরির কারণে লুনিন যে থাকবেন, সেটা অনেকটা পরিষ্কার। চ্যাম্পিয়নস লিগে সবশেষ যখন বায়ার্নের মুখোমুখি হয়েছিল রিয়াল, তখন গোলপোস্টের নিচে ছিলেন লুনিন।
চোট কাটিতে দলে ফিরেছেন রাইটব্যাক এদের মিলিতাও। দীর্ঘ সময় দলের বাইরে ছিলেন ব্রাজিল ডিফেন্ডার। এই পজিশনে আরও দেখা যেতে পারে ডিন হুইসেন, গার্সিয়া ও অ্যান্টোনি রুডিগারকে।
মিডফিল্ডে আবারও ফিরছেন সবশেষ লা লিগায় মায়ার্কো ম্যাচে না থাকা ভালভার্দে। এই পজিশনে তার সাথে দেখা যেতে পারে চুয়ামেনি ও আর্দা গুলেরকে। অ্যাটাকিং পজিশনে কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
রিয়ালের বিপক্ষে বায়ার্নের শুরুর একাদশে থাকবেন হ্যারি কেইন। বুন্দেসলিগায় ৩১ গোল করা ইংলিশ ফরোয়ার্ড সবশেষ ম্যাচে ছিলেন না। আর ফরোয়ার্ড লাইনে থাকবেন লুইস দিয়াস, গ্যানাব্রি ও মাইকেল ওলিসে। বর্তমানে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন গ্যানাব্রি। লিভারপুলের নামের সুবিচার করা দিয়াসও যেন মুখিয়ে থাকেন গোল নেশায়। আর ওলিসের কথা না বললেই নয়। বুন্দেসলিগায় ২৭ ম্যাচে ১৯ অ্যাসিস্ট এবং ১১ গোল ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
মিডফিল্ডে বরাবরের মতোই থাকছেন জশুয়া কিমিখ ও লিওন গোরেৎজকা। আর রাইটব্যাক পজিশনে থাকছেন জোসিপ স্ট্যানিসিচ, সেন্টারব্যাকে দায়োত উপামেকানো ও জোনাথন তাহ। লেফটব্যাক পজিশনে অস্ট্রিয়ার কনরাড লাইমার। গোল পোস্টের নিচে থাকবেন ম্যানুয়েল নয়্যার। তাকে সামলাতে হবে এমবাপে ও ভিনির মতো বিশ্বসেরা দুই অ্যাটাকারকে।
আরও পড়ুন
| কক্সবাজারে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণে তোড়জোড় |
|
ব্যর্থতা আর গ্লানি মুখে নিজেকে প্রমাণ করতে চান আরবেলোয়া। লা লিগা কষ্ট ভুলে যেতে না তিনি। ম্যাচের আগে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। আরবেলোয়া বলেন, ‘‘এমন দিনে রিয়াল সবসময় সেরাটা দেবে। আমরা জানি বায়ার্ন মাঠে আমাদের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেবে। বার্নাব্যুর ম্যানসিটির মতো আরেকটা অভিজ্ঞতা হবে। সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।’’
রিয়ালকে গুড়িয়ে দেওয়ার মতো কোনো পরিকল্পনা নেই বায়ার্ন কোচের। তবে জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ভিনসেন্ট, “এই স্তরে প্রতিটি দলই বিপজ্জনক। হ্যাঁ, আমরা গোল হজম করতে পারি, তবে আমরাও গোল করতে পারি। রিয়ালের মতো দলের বিপক্ষে এমন কোনো গেম প্ল্যান করা যায় না, যা সব ধরনের বিপদ পুরোপুরি দূর করে দিতে পারে। আর এই কারণেই মানুষ এমন ম্যাচ দেখতে আসে।”
রিয়ালের শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: আন্দ্রে লুনিন (গোলকিপার), এদার মিলিতাও, ডিন হুইসেন, গার্সিয়া, রুডিগার, ভালভার্দে, চুয়ামেনি, আর্দা গুলের, কিলিয়ান এমবাপে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
বায়ার্নের শুরুর সম্ভাব্য একাদশ: ম্যানুয়েল নয়্যার (গোলকিপার), জোসিপ স্ট্যানিসিচ, দায়োত উপামেকানো, জোনাথন তাহ, জশুয়া কিমিখ, লিওন গোরেৎজকা, লুইস দিয়াস, গ্যানাবেরি ও মাইকেল ওলিসে ও হ্যারি কেইন।

ইতালিয়ান সিরি আ’তে সোমবার রাতে এসি মিলানকে হারিয়ে শিরোপা রেসে টিকে থাকল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাপোলি। রাতের অপর ম্যাচে ঘরের মাঠে জেনোয়াকে হারিয়ে শীর্ষ চারের লড়াই জমিয়ে তুলেছে জুভেন্তাস।
স্তাদিও দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনায় এসি মিলানের বিপক্ষে নাপোলির জয় ১-০ গোলে। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষে থাকা ইন্তার মিলানের সঙ্গে নাপোলির ব্যবধান এখন ৭ পয়েন্ট।
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে খেললেও প্রথমার্ধে গোল করতে পারেনি কেউই। বিরতির পর মাত্তেও পলিতানো ও অ্যালিসন সান্তোসকে মাঠে নামান কোচ অ্যান্তোনিও কন্তে।
৭৯ মিনিটে সান্তোসের পাস থেকে ম্যাথিয়াস অলিভেরা ক্রস করলে লক্ষ্যভেদ করেন পলিতানো। বাকি সময় এক গোলের লিড ধরে রাখে নাপোলি। কন্তের অধীনে চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো টানা পাঁচ ম্যাচ জিতলো নাপোলি।
আরও পড়ুন
| বায়ার্নকে হারানোর কৌশল জানালেন আরবেলোয়া |
|
৩১ ম্যাচ শেষে ৬৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে নাপোলি। সমান ম্যাচে ৭২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ শীর্ষে ইন্তার মিলান। ৩১ ম্যাচে ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে এসি মিলান।
জেনোয়াকে হারিয়ে চারের দৌড়ে জুভেন্তাস
রাতের অপর ম্যাচে তুরিনের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে জেনোয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছে জুভেন্তাস। এই জয়ের ফলে ৪ নম্বরে থাকা কোমোর চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগ পজিশনের আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে লুসিয়ানো স্পালেত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে লয়েড কেলির অ্যাসিস্ট জুভেন্তাসকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার গ্লেইসন ব্রেমার। ১৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ওয়েস্টন ম্যাককেনি।
বিরতির পর জেনোয়া পেনাল্টি পেলেও জুভেন্তাসের বদলি গোলকিপার মিশেল ডি গ্রেগোরিও সেটি রুখে দিয়ে ক্লিন শিট বজায় রাখেন।
৩১ ম্যাচ শেষে পাঁচ নম্বরে থাকা জুভেন্তাসের সংগ্রহ ৫৭ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৫৮ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে কোমো।

রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্ভবত সবচেয়ে বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আলভারো আরবেলোয়া। মঙ্গলবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে বায়ার্ন মিউনিখের প্রতিপক্ষ তার দল। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর এই ম্যাচে এগিয়ে থাকার ওপর নির্ভর করছে চ্যাম্পিয়নস লিগে লস ব্লাঙ্কোসদের ভবিষ্যত।
মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে কথা বলেছেন আরবেলোয়া। তিনি জানিয়েছেন, বায়ার্নের মতো দলকে হারাতে হলে লস ব্লাঙ্কোসদের সম্মিলিতভাবে ‘বিশ্বসেরা দল’ হয়ে খেলতে হবে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ হাপিত্যেশের মধ্য দিয়েই যেতে হচ্ছে সাবেক চ্যাম্পিয়নদের। লা লিগা হাতছাড়া হয়ে গেছে তাদের। স্বপ্ন টিকে আছে চ্যাম্পিয়নস লিগে।
আরবেলোয়া বলেন, “ফুটবলে জিততে হলে প্রতিটি ধাপে অনেক কিছু ঠিক করতে হয়। বড় দল হতে হলে শৃঙ্খলা ও দলগত মানসিকতা দরকার—এটাই আমি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমাদের দলে সেরা খেলোয়াড় আছে, কিন্তু আমাদেরকেই বিশ্বসেরা দল হতে হবে। ব্যক্তিগত প্রতিভা দলকে কাজে লাগাতে হবে।”
চ্যাম্পিয়নস লিগে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন বায়ার্ন। বুন্দেসলিগাতেও একপ্রকার টাইটেল নিশ্চিত করেছে বাভারিয়ানরা। বায়ার্নকে তিনি কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই দেখছেন, “তারা দারুণ মৌসুম কাটাচ্ছে। আমরা জানি, তারা আমাদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে।”
এই মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগের নকআউট পর্বে রিয়াল তাদের চারটি ম্যাচই জিতেছে। আরবেলোয়া চাইলে ইতিহাসও গড়তে পারেন—প্রথম পাঁচ নকআউট ম্যাচ জেতা কোচদের তালিকায় নাম লেখাতে।
তবে প্রথম লেগে ফেভারিট নয় রিয়াল। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয়ের সম্ভাবনায় বায়ার্ন এগিয়ে। এর মধ্যে লিগে সর্বশেষ ম্যাচে হারও এসেছে রিয়ালের। মায়োর্কার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে তারা। তবে এই ম্যাচকে ভিন্নভাবে দেখছেন কোচ।
তিনি বলেন, “এগুলো আলাদা ম্যাচ, আলাদা প্রেক্ষাপট। খেলোয়াড়রা জানে সামনে কী আছে। তাদের আলাদা করে সতর্ক করার দরকার নেই।”

ইরানের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় থাকছে বলে জানিয়েছেন দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি।
তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে তিনি জানিয়েছেন, অনুরোধ এখনও বহাল রয়েছে। কিন্তু ফিফা এখনও কোনো উত্তর দেয়নি।
সূচি অনুযায়ী বিশ্বকাপে ইরানের গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে খেলার কথা রয়েছে। ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের প্রথম ম্যাচ। ২২ জুন একই শহরে বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা। তবে দুই দেশের চলমান যুদ্ধের কারণে ম্যাচগুলো ভেন্যু পরিবর্তনের জন্য ফিফার কাছে আবেদন করে ইরান ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের অনুরোধে সাড়া দেয়নি ফিফা। ফলে দানিয়ামালি বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচগুলোতে ইরানের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা খুবই কম।’ তবে তিনি জানান ‘সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করা হলেই’ কেবল সরকার বিশ্বকাপে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
গত বুধবার ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানান, ‘ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো যেখানে হওয়ার কথা সেখানেই হবে। ফিফার কাছে প্ল্যান বি, সি বা ডি নেই। প্ল্যান ‘এ’–ই একমাত্র সমাধান বলে জানান তিনি।