
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ আয়োজনের ভার পেয়েছে স্পেন, মরক্কো, পর্তুগাল। তবে এই কেবলমাত্র এই ৩ দেশেই সীমাবদ্ধ থাকছে না ফিফা বিশ্বকাপ- সঙ্গে থাকছে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়েও। প্রথমবারের মতো ৬ দেশ ও ৩ মহাদেশে হবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর।
২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য যুগ্মভাবে স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগাল আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল। সম্ভাব্য তালিকায় ছিল আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ের নামও। ১৯৩০ এ ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক উরুগুয়ে, চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা। ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে উরুগুয়ে হারিয়েছিল ৪-২ ব্যবধানে। তখন বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করা হয়েছিল এস্তাদিও সেন্তানারিও। ওই মাঠেই হয়েছিল ফাইনালও, সেই মাঠেই পর্দা উঠবে ২০৩০ বিশ্বকাপের।
মূলত বিশ্বকাপের শতবর্ষ উদযাপন করতেই দক্ষিণ আমেরিকার ৩ দেশকে দেওয়া হয়েছে বিশ্বকাপের
স্বাগতিক হওয়ার মর্যাদা। ১৯৩০ এ একমাত্র কার্যকর ফুটবল কনফেডারেশন (মহাদেশীয় সংস্থা)
ছিল কনমেবল, যার সদর দপ্তর অবস্থিত প্যারাগুয়েতে। সে কারণেই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের
ম্যাচ আয়োজন করার সুযোগ পেয়েছে তারাও। বিশ্বকাপের আয়োজক ৬ দেশের সবাই সরাসরি খেলবে
বিশ্বকাপে।
দক্ষিণ আমেরিকার তিন দেশে হবে সবমিলিয়ে ৩ ম্যাচ। স্বাগতিক ৩ দেশ ও তাদের প্রতিপক্ষ
৩ দেশ এরপর উড়াল দেবে ইউরোপ ও আফ্রিকার উদ্দেশ্যে। ৩ মহাদেশ মিলিয়ে প্রথমবারের মতো
হবে বিশ্বকাপের আয়োজন। এর আগে স্পেন ১৯৮২ তে বিশ্বকাপ আয়োজন করলেও প্রথমবারের মতো এই
মর্যাদা পেয়ছে পর্তুগাল ও আফ্রিকার মরক্কো। এর আগে আফ্রিকার একমাত্র বিশ্বকাপটি ২০১০
সালে আয়োজন করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সবশেষ দক্ষিণ আমেরিকায় বিশ্বকাপ আয়োজন হয়েছে ২০১৪
সালে, ব্রাজিলে। আর ২০৩০ এর বিশ্বকাপ ইউরোপে ফিরবে ঠিক এক যুগ পর।
মরক্কো বিশ্বকাপ আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বহু আগে থেকেই। ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০৬, ২০১০
এবং ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনে ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে সফল হলো দেশটি। অবশ্য এর আগে স্পেন
ও পর্তুগালের সঙ্গে ইউক্রেনও আগ্রহ দেখিয়েছিল ২০৩০ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য। তবে ইউক্রেনের
যুদ্ধাবস্থার কারণে সেই চেষ্টা আর আলোর মুখ
দেখেনি।
যুগ্মভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনের শুরুটা ফিফা করেছিল ২০০২ থেকে। সেবার জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া
ছিল বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ। ২০২৩ এ উইমেনস ওয়ার্ল্ডকাপও আয়োজিত হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে। ২০৩০ এর আগে
২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন হবে ৩ দেশে- যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে। সেটি হবে ৩ দেশের
প্রথম বিশ্বকাপ।
No posts available.
৪ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৪ পিএম
৪ এপ্রিল ২০২৬, ৮:১২ পিএম
৪ এপ্রিল ২০২৬, ৭:২৯ পিএম

টানা তিন বিশ্বকাপে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইতালির ফুটবলে এখন তুমুল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন দুর্দশার মধ্যেই বিতর্কে জড়ালো দেশটির ফুটবলাররা। ইতালির একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিতের আগেই নাকি বোনাস দাবি করেন জিয়ালুইজি দোন্নারুম্মার দল!
ইতালির সংবাদমাধ্যম লা রিপাবলিকা’ এর প্রতিবেদন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ প্লে-অফ ফাইনালের আগে ইতালির খেলোয়াড়রা বড় অঙ্কের বোনাস চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী দলগতভাবে ভাগ করে নেওয়ার জন্য তারা মোট ৩ লাখ ইউরো বোনাস দাবি করেন—যা বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করতে পারলে প্রতি খেলোয়াড়ের জন্য প্রায় ১০ হাজার ইউরো করে দাঁড়াত।
ইতালির সদ্য সাবেক কোচ জেনেরো গাত্তুসো নাকি শুরুতেই এই বোনাস আলোচনা বন্ধ করে দেন। খেলোয়াড়দের তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন—পুরস্কার ফলাফলের মাধ্যমেই অর্জন করতে হয়। মাঠে তার বিখ্যাত ‘গ্রিন্তা’ মানসিকতার মতোই এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের মনোযোগের ঘাটতি দেখে তিনি ভীষণ হতাশ ছিলেন।
লা রিপাবলিকা তাদের প্রতিবেদনে লিখেছে,
‘এই দুঃখজনক পরিণতি রিনোর কথাকেই সঠিক প্রমাণ করেছে, আর এটাও দেখিয়ে দেয়—কিছু ইতালিয়ান খেলোয়াড় কেমন মানসিকতা নিয়ে সেই ম্যাচে নেমেছিল, যে ম্যাচ ইতালিকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনতে পারত।’
ব্যর্থতার পর ইতালির ফুটবলে রীতিমতো পদত্যাগের হিড়িক নামে। ফুটবলপ্রধান থেকে শুরু করে ফেডারেশনের কর্মকর্তা এবং সবশেষ কোচও সরে দাড়ান। পেনাল্টি শুটআউটে ইতালির স্বপ্নভঙ্গের পর দলটির সিনিয়র খেলোয়াড়রা নাকি কোচকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তবে গাত্তুসো নিজের নীতিতে অটল থাকেন। প্রত্যাশা পূরণে এমন ব্যর্থতার পর তিনি দায়িত্বে আর না থাকার সিদ্ধান্ত জানান দলকে।
ইতালির ফুটবল কাঠামো এখন কার্যত ভেঙে পড়েছে। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়ার ধাক্কা সামলে নতুন করে গড়ে ওঠার চ্যালেঞ্জ সামনে। এরই মধ্যে বোনাস দাবির খবর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। সমালোচকদের মতে, বর্তমান প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মধ্যে তাড়নার অভাব এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এখন ইতালির সামনে একটাই পথ—দলের সংস্কৃতি ও নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা, যাতে ভবিষ্যতে এমন ‘ঐতিহাসিক’ লজ্জার স্বাক্ষী হতে না হয়। ‘আজ্জরিদের’ পরবর্তী লক্ষ্য এখন ইউয়েফা নেশন্স লিগ। এই প্রতিযোগিতায় একেবারে নতুন কোচিং স্টাফ ও পুনর্গঠিত দল নিয়েই মাঠে নামতে হবে তাদের।

আর্লিং হলান্ড যেদিন ‘দানবীয়’ রূপে হাজির হন, প্রতিপক্ষের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া সেদিন কিছুই করার থাকে না। এবার নরওয়েজিয়ান ফরোয়ার্ডের সেই রূপ দেখার দুর্ভাগ্য হলো লিভারপুলের। অল রেডদের প্রায় একাই দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক করলেন ম্যানচেস্টার সিটির ‘গোলমেশিন’।
এফ এ কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজ লিভারপুলকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সিটির মাঠ ইতিহাদে ঝড় তুলে হ্যাটট্রিক করেন হলান্ড। সিটিজেনদের অন্য গোলটি আসে অ্যান্তনি সেমেনিওর নৈপুণ্যে।
গত তিন মৌসুমে এই প্রতিযোগিতার ফাইনাল খেলা পেপ গার্দিওলার দল এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো সেমিফাইনালের টিকিট কাটলো। টানা সাতবার এফ এ কাপের শেষ চারে ওঠার নিজেদের রেকর্ডই ভাঙলো তারা। এছাড়া সেমি ফাইনাল ও ফাইনাল বাদে এফ এ কাপে টানা ৩২টি ম্যাচ জিতল ম্যান সিটি। ২০১৭-১৮ মৌসুমের পঞ্চম রাউন্ডে উইগানের কাছে হারের পর থেকে এই টুর্নামেন্টকে যেন দুধ-ভাত বানিয়ে ফেলেছে ম্যান সিটি।
আর্সেনালের হারিয়ে লিগ কাপের শিরোপা জিতে আন্তর্জাতিক বিরতিতে যায় সিটি। বিপরীতে সবশেষ ম্যাচে ব্রাইটনের কাছে ২-১ গোলে হারে লিভারপুল। বিরতের আগের সেই পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখল সিটি। নিষেধাজ্ঞার জন্য এই ম্যাচে সিটির ডাগ-আউটে ছিলেন না পেপ গার্দিওলা। এরপরও লিভারপুলকে হেসেখেলে উড়িয়ে দিতে কোনো বেগ পেতে হয়নি হলান্ডদের।
সিটির মাঠে বল দখল কিংবা শট নেওয়ায় খুব একটা পিছিয়ে ছিল না লিভারপুল। ৫১ শতাংশ বল নিজেদের কাছে রেখে সফরকারীরা ১১টি শট নিয়ে পাঁচটি লক্ষ্যে রাখে। তবে ছন্নছাড়া আক্রমণ আর সুযোগ হাতছাড়ার খেসারাত দিতে হয় আর্নে স্লটের দলকে। ০-৪ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মোহাস্মদ সালাহর একটি পেনাল্টি মিসে হতাশার ষোলোকলা পূর্ণ করে লিভারপুল।
১৮ মিনিটেই হ্যাটট্রিক করে লিভারপুলকে ম্যাচ থেকে একাই ছিটকে দেন ম্যানসিটির জয়ের নায়ক হলান্ড। ৩৯ মিনিটে পেনাল্টি গোলের পর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সেমেনিওর ক্রস থেকে হেড থেকে জোড়া গোল পূর্ণ করেন হলান্ড। বিরতির পর ৫৭ মিনিটে ক্রসবারের পাশে থেকে বল জালে পাঠিয়ে মৌসুমের প্রথম হ্যাটট্রিক এবং ২০২২ সালে ক্লাবে যোগদানের পর ১২তম হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন ২৫ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। এরমধ্যে সিটির ব্যবধান ৩-০ করা গোলটি আসে সেমেনিওর সৌজন্যে।

আগামী ১০ দিনে তিনবার দেখা হবে দুই দলের। চলতি মৌসুমে এরমধ্যেই দু’বার মুখোমুখি হয়েছে বার্সেলোনা-আতলেতিকো মাদ্রিদ। আজ লা লিগায় নিজেদের মাঠে কাতালান ক্লাবটিকে আতিথেয়তা দেবে আতলেতিকো।
সবশেষ কোপা দেল’রের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বার্সার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারে আতলেতিকো। তবে প্রথম লেগে ৪-০ গোলে জিতে দুই লেগ মিলিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটে সিমিওনের দলই। কিন্তু বার্সার ডেরা ক্যাম্প ন্যূতে অগ্নিপরীক্ষার মুখে পড়েছিল আতলেতিকো। হান্সি ফ্লিকের দলের প্রবল আক্রমণের মুখে পড়ে কোনোমতে কোপা দেল’রের ফাইনাল নিশ্চিত করে তারা।
এবার লা লিগায় বার্সার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে আরও বেশি সতর্ক সিমিওনে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে আতলেতিকোর লিগ জয়ের আশা নেই বললেই চলে। ২৯ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে আছে তারা। সেরা চারে থেকে আগামী মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজেদের অবস্থানও অনেকটাই নিশ্চিত করেছে ক্লাবটি। তবে শীর্ষে থাকা বার্সার জন্য লিগের বাকি সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করা বার্সা দুই নম্বরে থাকা রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে।
ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল সিমিওনের বিশ্লেষণ। ঠিক কী কারণে বর্তমান বার্সাকে বিপজ্জনক মনে হয়। যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয় বার্সেলোনার সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড় কে, তিনি লামিন ইয়ামাল, রাফিনহা, রবার্ট লেভানডফস্কি বা ফেরমিন লোপেজের মতো কারও নাম নেননি। বরং তার মতে, সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ক্লাবটির খেলোয়াড়দের তৈরি করা সম্মিলিত চাপ।
সিমিওনে বলেন,
‘এদের সব খেলোয়াড়ই বিপজ্জনক, কারণ তারা অসাধারণ। তারা প্রতিপক্ষের অর্ধেক মাঠ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, আপনাকে চিন্তা করার কোনো সময়ই দেবে না। প্রতিটি ম্যাচে তারা এটা করে, যা খুবই কঠিন; তারা হাই-ডিফেন্স করে এবং ঝুঁকি নেয়। আমাদের ম্যাচটা এমন জায়গায় খেলতে হবে যেখানে আমরা তাদের আঘাত করতে পারি।’
এই ম্যাচের তিন দিন পরই আবার দেখা হবে বার্সা-আতলেতিকোর। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সার আতিথেয়তা নেবে তারা। ১৪ এপ্রিল দ্বিতীয় লেগে মৌসুমে শেষবারের মতো মুখোমুখি হবে দুই দল।

শনির দশা পেছন ছাড়ছেই না নেইমারের। কোনো কিছুই যেন পরিকল্পনা অনুযায়ী হচ্ছে না সান্তোসের ‘রাজপুত্রের’। চোট তো তাঁর পুরোনো শত্রুই। এবার এর সঙ্গে যোগ হলো নিষেধাজ্ঞার শঙ্কাও। তাও আবার এক দুই ম্যাচ নয়, বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার।
ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলোত্তির শর্ত অনুযায়ী শতভাগ ফিট থাকলেই মিলবে বিশ্বকাপের স্কোয়াডে পরম আরাধ্য জায়গা। সবশেষ আন্তর্জাতিক বিরতিতে ব্রাজিলের স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া নেইমার সান্তোসের হয়ে গতকাল মাঠে নামেন। তবে এই ম্যাচেই বাধে বিপত্তি। সিরি‘আ’তে রেমের বিপক্ষে ম্যাচের পর রেফারির তীব্র সমালোচনা করেন সান্তোসের ফরোয়ার্ড। আর রেফারিকে নিয়ে মন্তব্য করেই এখন বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে আছেন নেইমার।
ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে নেইমার বলেন,
‘সবসময় একই ঘটনা ঘটে। এটা অন্যায্য। ম্যাচের শেষ দিকে আমাকে পেছন থেকে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করা হয়। এটা প্রথমবার নয়—তৃতীয় বা চতুর্থবার এমনটা হয়েছে। তাই আমি রেফারির কাছে প্রতিবাদ জানাতে যাই। আমি তাকে বলি, ‘তুমি কি পাগল?’
🇧🇷 Neymar lost his cool after a provocation from Diego Hernández and responded poorly earning a yellow card that will now force him to sit out the highly anticipated clash against Flamengo. pic.twitter.com/ka1RrMrvMU
— Speedline (@speedlinexx) April 3, 2026
এখানেই থামেননি নেইমার। তিনি যোগ করেন,
‘ওই রেফারি সবসময় এমনই। আজও ভিন্ন কিছু হয়নি। তার সঙ্গে কথাই বলা যায় না—পেছন ঘুরে উপেক্ষা করে। সে এমন একজন, যে খেলাটা নিজের মতো চালাতে চায়। খেলোয়াড়দের প্রতি তার সম্মান নেই। শুধু আমার সঙ্গেই নয়, প্রতিপক্ষের সঙ্গেও একই আচরণ করে। সে কথা বলতে চায় না। এসব বদলানো দরকার। খেলোয়াড়রা প্রশ্ন করতে পারে, প্রতিবাদ জানাতে পারে—এটাই ফুটবল। রেফারিদের সেটা সামলাতে জানা উচিত। কিন্তু তার এই আচরণ খুবই অপ্রীতিকর ও অসম্মানজনক।’
কার্লো আনচেলত্তি যদি আগামী ১৮ মে বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করেন, তাহলে নেইমারের হাতে ১৪ ম্যাচ বাকি থাকার কথা। সেই হিসেবে ঘরোয়া লিগে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ ছিল সান্তোসের হয়ে মাঠে নেমে ভালো পারফর্ম করে। চূড়ান্ত সেই মিশনে এক ম্যাচ খেলতে না খেলতেই কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞায় পড়েন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। আর তাতেই ম্যাচ শেষে সব রাগ উগড়ে দেন রেফারির ওপর।
নেইমারের এই মন্তব্য হয়তো কেবল অসন্তোষ প্রকাশের মধ্যে থেমে থাকার সম্ভাবনা কম। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে প্রকাশ্যে রেফারির সমালোচনার ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম রয়েছে। অতীতের এমন ঘটনায় খেলোয়াড়রা ১২ ম্যাচ পর্যন্ত নিষিদ্ধও হয়েছেন। যদি একই মাত্রার শৃঙ্খলাবিধি নেইমারের ওপরও প্রয়োগ করা হয়, তাহলে নেইমারের বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।

শক্তিমত্তায় বাংলাদেশের চেয়ে চীন কতটা এগিয়ে সেটি না বললেও চলে। তারপরও প্রথমার্ধে মোটামুটি লড়াইয়ের চেষ্টা করেছে লাল সবুজের মেয়েরা। এ সময় বল দখলেও অর্পিতারা ছিলেন প্রতিপক্ষের প্রায় কাছাকাছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আচমকা গোলে পিছিয়ে পড়ায় লড়াইয়ের শক্তি হারায় বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেননি অর্পিতা বিশ্বাসরা।
শনিবার থাইল্যান্ডের ননথাবুড়ি স্টেডিয়ামে ‘এ’ গ্রুপের খেলায় চীনকে মোকাবিলা করে বাংলাদেশ। যেখানে ২-০ গোলের পরাজয় মেনে মাঠ ছাড়ে পিটার বাটলারের দল। দুটি গোলই হয়েছে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। এর আগে গ্রুপ পর্বের প্রথম খেলায় স্বাগতিক থাইল্যান্ডের কাছে ২-৩ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। আর প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারানো চীন পরপর দুটি জয় তুলে নিলো।
এদিন ৩৩ মিনিটে মুনকি আক্তার মাঠে নামেন শান্তি মার্ডির জায়গায়। ৪৩ মিনিটে পরিষ্কার গোল ঠেকিয়ে দেন মিলি। বাংলাদেশের রক্ষণচিড় ভেদ করে চীনের এক ফরোয়ার্ড বল নিয়ে এগিয়ে যান। তার সঙ্গে ওয়ান-ওয়ান পরিস্থিতিতে অবিচল ছিলেন মিলি। এই মিনিটেই জি জংমির ক্রসে লু জিয়াউয়ের হেড মাটিতে পরে জাল খুঁজে নিচ্ছিল। সেটি লাফিয়ে জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন বাংলাদেশ গোলকিপার।
বিরতির পরপরই এগিয়ে যায় চীন। ৪৭ মিনিটে উমেহ্লা আর প্রীতিকে কাটিয়ে পোস্টের কাছ থেকে জিং লুজিয়ার কাটব্যাকে গোল করেন হু চিংগুয়ে। ৮২ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে লিড দ্বিগুণ করেন চীনের ওয়াং আইফাং। বক্সের অনেকটা সামনে ফ্রি কিকের সামনে রক্ষণ দেয়াল তৈরি করে বাংলাদেশ। চীনা ফরোয়ার্ড শট নিলে বলের লাইন থেকে শরীর সরিয়ে ফেলেন সুরমা। দূরের পোস্ট দিয়ে বল খুঁজে নেয় জাল। ডানদিকে ঝাপিয়েও ঠেকাতে পারেননি মিলি।
পরের মিনিটে ভুল করেন আফঈদা খন্দকার। চীনের বদলি খেলোয়াড় লু জিয়াকির ক্রসে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ফাকায় তাঁর পায়েই তুলে দেন বাংলাদেশ ডিফেন্ডার। যদিও গোলমুখের সামনে থেকে অবিশ্বাস্য মিসে গোল পায়নি চীন। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে এবার দারুণ ব্লকে চীনের ব্যবধান বাড়াতে দেননি আফঈদা। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে চীন।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচ ৭ এপ্রিল, ভিয়েতনামের বিপক্ষে। দুই ম্যাচে হারলেও শেষ আটে উঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। শেষ খেলায় ভিয়েতনামকে হারাতে পারলে তিন গ্রুপের মধ্যে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের রাউন্ডে যেতে পারে বাংলাদেশ।