
মুহূর্তের জন্য যেন বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের উদ্বোধনী ম্যাচের চিত্রনাট্য ফিরে এলো বুন্দেসলিগার ম্যাচে। ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২ গোলে এগিয়ে থেকেও, শেষ দিকে ৩ গোল হজম করে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে হেরে গেল এসসি ফ্রেইবুর্গ।
জার্মান লিগের ম্যাচটিতে শনিবার রাতে ফ্রেইবুর্গকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে বায়ার্ন। অথচ ম্যাচের ৮০ মিনিট পর্যন্ত ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল তারা। সেখান থেকে ইনজুরি টাইমের দুইটিসহ মোট ৩ গোল দিয়ে জয়ের স্বাদ পেয়েছে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
প্রায় ৭২ ঘণ্টা আগে ফ্রেইবুর্গের মতো একই পরিণতি হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলের। অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ৬৯ মিনিট পর্যন্ত ২-০তে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ৩ গোল হজম করে ম্যাচটি হেরে যায় তারা।
বায়ার্ন-ফ্রেইবুর্গ ম্যাচে সবকটি গোলই হয়েছে দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৬ মিনিটে ডেডলক ভেঙে ফ্রেইবুর্গকে লিড এনে দেন জোহান মানজাম্বি। পরে ৭১ মিনিটে লুকাস হোলারও জালের দেখা পেলে মনে হচ্ছিল অঘটনের জন্ম দিয়েই ফেলবে ফ্রেইবুর্গ।
শেষ পর্যন্ত তা আর হয়নি। ৮১ মিনিটে টম বিশফের গোলে ব্যবধান কমায় বায়ার্ন। পরে ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে আবার গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ২০ বছর বয়সী এই উইং-ব্যাক।
নাটকীয়তার শেষটা লিখেন লেনার্ট কার্ল। ইনজুরি টাইমের নবম মিনিটে জাল কাঁপিয়ে দলকে অবিশ্বাস্য এক জয় এনে দেন তিনি।
এমনিতে ম্যাচে সার্বিক পারফরম্যান্সে পরিষ্কার এগিয়েই ছিল বায়ার্ন। প্রায় ৬৮ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ১৯টি শট করে তারা। এর ৯টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ১২টি শট করে ৪টি শুধু লক্ষ্যে রাখতে পারে ফ্রেইবুর্গ।
এই জয়ে ২৮ ম্যাচে ৭৩ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার পথে আরও এগিয়ে বায়ার্ন। সমান ম্যাচে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। বাকি ৬ ম্যাচে আর ৮ পয়েন্ট পেলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে বায়ার্নের শিরোপা। ২৮ ম্যাচে ৩৭ পয়েন্ট নিয়ে ৮ নম্বরে ফ্রেইবুর্গ।
No posts available.

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম লেগের ম্যাচে পিএসজির সামনে ন্যুনতম লড়াইও করতে পারেনি লিভারপুল। ঘরের মাঠে দেজিরে দুয়ে ও খিচা কাভারাস্কেইয়ার ২-০ ব্যবধানে জিতে নিজেদের কাজ এগিয়ে রেখেছে পিএসজি।
পার্ক দে প্রিন্সেসে লিভারপুলকে তেমন কোনো সুযোগই দেয়নি পিএসজি। ম্যাচ জুড়ে ৭৪ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে স্বাগতিকরা। গোলের জন্য মোট ১৭টি শট করে ৭টি লক্ষ্য বরাবর রাখতে পারে তারা। বিপরীতে লিভারপুলের ৩টি শটই ছিল লক্ষ্যভ্রষ্ট।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ডি-বক্সের বাম পাশ থেকে প্রায় ১৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে বল জালে প্রবেশ করান দেজিরে দুয়ে। চলতি টুর্নামেন্টে এটি তার পঞ্চম গোল। আর সব মিলিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ক্যারিয়ারের দশম।
লিড নেওয়ার পর ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা অব্যাহত রাখে পিএসজি। তবে বিরতির আগে আর সাফল্য পাননি দুয়ে, ওসুমানে দেম্বেলে, হোয়াও নেভেসরা।
দ্বিতীয়ার্ধে প্রথম সম্ভাবনা তৈরি করে লিভারপুল। ডমিনিক সবোসলাইয়ের কাছ থেকে বল পেয়ে শট নেন হুগো একিতিকে। তবে গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে উড়ে যায় বল। দুই মিনিট পর আশরাফ হাকিমি ও দেম্বেলের শটও চলে যায় জালের বাইরে দিয়ে।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটে খিচা কাভারাস্কেইয়ার কোনো ভুল হয়নি। নেভেসের কাছ থেকে থ্রু বল পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ২-০ করেন জর্জিয়ান এই ফরোয়ার্ড।
কয়েক মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়ানোর সুযোগ প্রায় পেয়েই গিয়েছিল পিএসজি। দেজিরে দুয়েকে ফাউল করায় পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। তবে পরে ভিএআর দেখে নিজের সিদ্ধান্ত বদলে দেন তিনি।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ে ৭৮ মিনিটের মাথায় একসঙ্গে ৪টি পরিবর্তন করেন লিভারপুল কোচ আর্নে স্লট। তবু মোহামেদ সালাহকে নামাননি তিনি। এত পরিবর্তন করেও অবশ্য খেলায় ছন্দ ফেরাতে পারেনি অল রেডরা।
ম্যাচের ৮৩ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করেন কাভারাস্কেইয়া। অল্পের জন্য ওপর দিয়ে চলে যায় বল। কিছুক্ষণ পর দেম্বেলের ডান পায়ের জোরাল শট পোস্টে লাগলে আরও একবার বেঁচে যায় লিভারপুল।
আগামী মঙ্গলবার রাতে লিভারপুরের ঘরের মাঠে অ্যানফিল্ডে ফিরতি লেগের ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।

ম্যাচ জুড়ে দাপট দেখাল বার্সেলোনা। কিন্তু আতলেতিকো মাদ্রিদের রক্ষণ ভাঙতে পারলেন না লামিন ইয়ামাল, মার্কাস রাশফোর্ড, রবার্ট লেভানডফস্কি। বিপরীতে অল্প সুযোগ পেয়েই কাজে লাগালেন হুলিয়ান আলভারেজ, আলেক্সান্দার সরলথরা। যার সৌজন্যে প্রায় দুই দশকের অপেক্ষা ঘুচল আতলেতিকোর।
ন্যু ক্যাম্পে বুধবার রাতে ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার-ফাইনালের প্রথম লেগে বার্সেলোনা ২-০ গোলে হারায় আতলেতিকো। প্রথমার্ধে আলভারেজ ও দ্বিতীয়ার্ধে সরলথের গোলে সেমি-ফাইনালের পথে এগিয়ে যাওয়ার জয়টি পায় ডিয়েগো সিমেওনের শিষ্যরা।
এই জয়ে বার্সেলোনার মাঠে ২০ বছর ধরে জিততে না পারার আক্ষেপ ঘোচাল আতলেতিকো। এর আগে সবশেষ ২০০৬ সালে বার্সেলোনাকে তাদের মাঠে হারিয়েছিল মাদ্রিদের ক্লাবটি। আর আতলেতিকোর দায়িত্ব নেওয়ার পর ১৯তম ম্যাচে এসে বার্সেলোনার মাঠে জয়ের স্বাদ পেলেন সিমেওনে।
অথচ ম্যাচ জুড়ে দাপট ছিল বার্সার। ৫৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে স্বাগতিক ক্লাব। গোলের জন্য তারা করে মোট ১৮টি শট। এর মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু একটিও প্রবেশ করেনি জালে। বিপরীতে ৩টি লক্ষ্য বরাবর শট করে দুই গোল আদায় করে নেয় আতলেতিকো।
নিজেদের ঘরের মাঠে শুরুতে গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় নেয় বার্সেলোনা। এর মাঝেই প্রথম ৪ মিনিটে দুটি শট করেন রাশফোর্ড। তবে দুটিই ছিল গোলরক্ষক বরাবর। পঞ্চম মিনিটে আতলেতিকোর হয়ে প্রথম শট নেন আলভারেজ। সেটি ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে জালের বল প্রবেশ করান রাশফোর্ড। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে লামিন ইয়ামাল অফ সাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। পরে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার চেষ্টা করেন রাশফোর্ড। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি।
দুই মিনিট পর জাদুকরী কারিকুরিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে যান ইয়ামাল। কিন্তু তিনিও আতলেতিকোর রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠাতে পারেননি।
খেলার ধারার বিপরীতে ৪০ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে ওঠে আতলেতিকো। বল ধরার জন্য ছুটতে থাকা গুইলানো সিমেওনের পেছনের পায়ে লেগে যায় পাও কুবারসির শরীর। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআরে সেটি বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন।
একইসঙ্গে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় আতলেতিকো। ডান পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে ওই ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করে নেন আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার নবম গোল।
অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে বাম পাশ থেকে চেষ্টা করেন রবার্ট লেওয়ানডফস্কি। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। তাই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিক বার্সেলোনার।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে দশ জনের দল নিয়েও আতলেতিকোর ওপর চাপ তৈরি করে খেলতে থাকে বার্সেলোনা। ম্যাচের ৫০ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতর চমৎকার থ্রু বল দেন ইয়ামাল। বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে কিছুটা দেরি করার পর রাশফোর্ডের বাম পায়ের শট লাগে পাশের জালে।
এক মিনিট পর ডি-বক্সের কাছে ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল। রাশফোর্ডের ডান পায়ের বুলেট গতির শট মুসোর গ্লাভস ছুঁয়ে ক্রসবারে লেগে চলে যায় বাইরে। পরে কর্নার থেকে আর তেমন কিছু করতে পারেনি বার্সেলোনা।
৫৯ মিনিটের মাথায় ইয়ামালের নেওয়া কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড ফ্লিপ করেন গাভি। গোলের খুব কাছে বল পেয়ে যান জুলস কুন্দে ও দানি ওলমো। কিন্তু দুজনের কেউই পা ছোঁয়াতে পারেননি। তাই হাতছাড়া হয় গোলের বড় সুযোগ।
পরের মিনিটে আবার থ্রু বল পান রাশফোর্ড। কিন্তু আরও একবার নিয়ন্ত্রণ নিতে দেরি করে ফেলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তাই সে যাত্রায়ও বিপদ ঘটেনি আতলেতিকোর।
আরও একবার খেলার ধারার বিপরীতে স্বাগতিক দর্শকদের হতাশায় ডোবায় ডিয়েগো সিমেওনের দল। ম্যাচের ৭০ মিনিটে বাম পাশ থেকে মাতেও রুগেরির ক্রসে চমৎকার প্রথম ছোঁয়ায় বল জালে জড়ান বদলি হিসেবে নামা আলেক্সান্ডার সরলথ।
মিনিট দুয়েক পর ইয়ামালের ক্রস থেকে দারুণ জায়গায় বল পান রোনাল্ড আরাউহো। তবে অল্পের জন্য তার হেড জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে বল নিয়ে ভেতরে ঢুকে যান হোয়াও কান্সেলো। তার বাম পায়ের শট কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান মুসো।
ওই কর্নার থেকে বল পেয়ে দ্রুতই বাম পায়ের শট নেন ইয়ামাল। এবারও বার্সেলোনাকে হতাশায় ডোবান আতলেতিকো গোলরক্ষক।
৮৫ মিনিটে পায়ের কারিকুরি দেখিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ইয়ামাল। তবে শট নিতে পারেননি স্প্যানিশ তারকা। ৯০ মিনিটের মাথায় আবারও সম্ভাবনা জাগান ইয়ামাল। কিন্তু তার এগিয়ে দেওয়া বল ধরে আলেক্সান্দ্রো বালদে ক্রস করলেও, হেড দেওয়ার মতো কেউই জায়গায় ছিলেন না।
ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে দারুণ জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় বার্সেলোনা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।
পরের মিনিটে দ্রুতগতির পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্সে বল পান ওলমো। কিন্তু তার বাঁকানো শট চলে যায় বাইরে দিয়ে। ফলে আর ব্যবধান কমানো হয়নি বার্সেলোনার।
আগামী মঙ্গলবার রাতে ফিরতি লেগের ম্যাচে আতলেতিকোর মাঠে মুখোমুখি হবে দুই দল। সেমি-ফাইনালের টিকিট পেতে ওই ম্যাচে ৩-০ গোলে জিততে হবে বার্সেলোনার।

একের পর এক আক্রমণ করেও ডেডলক ভাঙতে পারলেন না লামিন ইয়ামাল, মার্কাস রাশফোর্ড। অন্য পাশে ফ্রি কিক পেয়ে সেটিকেই গোলে পরিণত করলেন হুলিয়ান আলভারেজ। তার চমৎকার গোলে ন্যু ক্যাম্পে বার্সেলোনার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথম লেগের অন্য ম্যাচে পিএসজির সামনে ন্যুনতম লড়াইও করতে পারছে না লিভারপুল। ঘরের মাঠে দেজিরে দুয়ের গোলে প্রথমার্ধ শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে পিএসজি।
পার্ক দে প্রিন্সেসে লিভারপুলকে তেমন কোনো সুযোগই দেয়নি পিএসজি। প্রথমার্ধে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রাখে তারা। গোলের জন্য তারা করে মোট ৮টি শট। এর মধ্যে ৫টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে প্রথমার্ধে লিভারপুলের সম্বল শুধু একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট শট।
ম্যাচের ১২ মিনিটে ডি-বক্সের বাম পাশ থেকে প্রায় ১৫ গজ দূর থেকে বাঁকানো শটে বল জালে প্রবেশ করান দেজিরে দুয়ে। এরপর তারা ব্যবধান বাড়ানোর আরও চেষ্টা করে। তবে আর সাফল্য পাননি দুয়ে, ওসুমানে দেম্বেলে, হোয়াও নেভেসরা।
অন্য দিকে নিজেদের ঘরের মাঠে শুরুতে গুছিয়ে উঠতে কিছুটা সময় নেয় বার্সেলোনা। এর মাঝেই প্রথম ৪ মিনিটে দুটি শট করেন রাশফোর্ড। তবে দুটিই ছিল গোলরক্ষক বরাবর। পঞ্চম মিনিটে আতলেতিকোর হয়ে প্রথম শট নেন আলভারেজ। সেটি ঠেকিয়ে দেন বার্সার গোলরক্ষক।
ম্যাচের ১৮ মিনিটে জালের বল প্রবেশ করান রাশফোর্ড। কিন্তু আক্রমণের শুরুতে লামিন ইয়ামাল অফ সাইডে থাকায় বাতিল হয়ে যায় সেই গোল। পরে ম্যাচের ৩০ মিনিটে আবার চেষ্টা করেন রাশফোর্ড। কিন্তু আতলেতিকোর রক্ষণ ভাঙতে পারেননি।
দুই মিনিট পর জাদুকরী কারিকুরিতে ডি-বক্সের ভেতরে ঢুকে যান ইয়ামাল। কিন্তু তিনিও আতলেতিকোর রক্ষণ ভেদ করে বল জালে পাঠাতে পারেননি।
খেলার ধারার বিপরীতে ৪০ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে ওঠে আতলেতিকো। বল ধরার জন্য ছুটতে থাকা গুইলানো সিমেওনের পেছনের পায়ে লেগে যায় পাও কুবারসির শরীর। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআরে সেটি বদলে সরাসরি লাল কার্ড দেন।
একইসঙ্গে বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়ে যায় আতলেতিকো। ডান পায়ের চমৎকার বাঁকানো শটে ওই ফ্রি-কিক থেকে গোল আদায় করে নেন আর্জেন্টাইন তারকা আলভারেজ। চলতি চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি তার নবম গোল।
অতিরিক্ত যোগ করা সময়ে বাম পাশ থেকে চেষ্টা করেন রবার্ট লেওয়ানডফস্কি। তবে তার শট ঠেকিয়ে দেন আতলেতিকো গোলরক্ষক হুয়ান মুসো। তাই শেষ পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় স্বাগতিক বার্সেলোনার।
অথচ প্রথমার্ধে মূলত দাপট ছিল কাতালান ক্লাবটির। ৪৫ মিনিটের মধ্যে ৫৫ শতাংশ সময় বলের দখল নিজেদের কাছে রেখেছে তারা। গোলের জন্য ৭টি শট করে ৫টিই ছিল লক্ষ্য বরাবর। কিন্তু জালে প্রবেশ করেনি একটিও। বিপরীতে ২টি শট লক্ষ্যে রেখে একটিতে গোল পেয়ে গেছে আতলেতিকো।

লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর হ্যারি কেইনের নৈপুণ্য, শেষদিকে কিলিয়ান এমবাপের শোধ—সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে মঙ্গলবার রিয়াল মাদ্রিদ-বায়ার্ন মিউনিখ ম্যাচের গল্প এমনই। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে ১-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল আপাতত স্বস্তিতে।
বাভারিয়ানদের স্বস্তিকর একটি উপলক্ষ্যের মূলে লুইস দিয়াস। লিভারপুলে থেকে গ্রীষ্মের দলবদলে বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া কলিম্বিয়ান উইঙ্গার যেন আগের ফর্মটাই ধরে রেখেছেন। চ্যাম্পিয়নস লিগে এখন পর্যন্ত ৬টি গোল উপহার দিয়েছেন তিনি। আর দিয়াস নিজেও মনে করেন অ্যানফিল্ডের ক্লাব ছেড়ে বায়ার্নে যোগ দেওয়াটা তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সঠিক সিদ্ধান্ত।
প্রায় ৭৫ মিলিয়ন ইউরোতে বায়ার্নে যোগ দেন দিয়াস। ২৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার বাভারিয়ান ক্লাবটিতে প্রথম মৌসুমেই দারুণ ছাপ রেখেছেন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪০ ম্যাচে ৩৮টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন (২৩ গোল, ১৫ অ্যাসিস্ট)। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে এই মৌসুমে তার চেয়ে বেশি গোল অবদান রেখেছেন শুধু হ্যারি কেইন (৫৪), কিলিয়ান এমবাপে (৪৪), মাইকেল ওলিসে (৪১) ও আর্লিং হলান্ড (৪০)।
মৌসুমে সম্ভাব্য ট্রেবল জয়ের পথে বায়ার্ন। আর ভিনসেন্ট কোম্পানির দলে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেশ সন্তুষ্ট দিয়াস। বুধবার ইএসপিএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বায়ার্নে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল সঠিক। আমি খুবই খুশি এবং প্রতিটি ম্যাচ উপভোগ করছি। আমি নিজেকে দারুণ অনুভব করছি, ভালো ফর্মে আছি—যার অর্থ আমি দলকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।’’
রিয়ালের বিপক্ষে ২০টি শট নেওয়া বায়ার্ন আরও এক-দুটি গোল করতে পারত বলে মনে করেন দিয়াস, “আমরা আগেই রিয়াল মাদ্রিদকে বিশ্লেষণ করেছিলাম। প্রথম গোলের মুভটি ঠিক আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ীই হয়েছে। খেলা যত এগিয়েছে, আমরা ততই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেছি, বেশি করে বল দখলে নিয়েছি এবং ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করেছি—এটাই আমরা করতে চাই।’’
ফল যা হয়েছে, তাতে অবশ্য নারাজ দিয়াস। তবে সতীর্থ এবং নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট তিনি, “আমরা খুব খুশি, তবে কিছুটা আক্ষেপ রয়ে গেছে—আরও এক-দুটি গোল করতে পারতাম। খুব শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আমরা দারুণ খেলেছি।”

২০২৫-২৬ মৌসুমে দু’বার করে লা লিগা ও কোপা দেল’রেতে মুখোমুখি হওয়ার পর এবার চ্যাম্পিয়নস লিগে আতলেতিকো মাদ্রিদের প্রতিপক্ষ হচ্ছে বার্সেলোনা। বুধবার ক্যাম্প ন্যুয়ে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফার্স্ট লেগে দিয়েগো সিমিওনের দলকে আতিথ্য দিচ্ছে বার্সেলোনা।
সব মিলিয়ে বার্সা তাদের শেষ চারটি ইউরোপীয় ম্যাচের মধ্যে আতলেতিকোর বিপক্ষে মাত্র একটি জয় পেয়েছে। তবে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে অবশ্য সবশেষ ছয় ম্যাচের পাঁচটিই জিতেছে বার্সেলোনা। তবে হাই ভোল্টেজ এই ম্যাচের আগে কিছুটা চিন্তিত ও দ্বিধাগ্রস্ত হান্সি ফ্লিক।
ফ্লিক আগে থেকেই জানতেন আতলেতিকোর বিপক্ষে আন্দ্রিয়াস ক্রিস্টেনসেন, ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ও রাফিনিয়াকে পাওয়া যাবে না। এখন মার্ক বার্নালের উপস্থিতি নিয়েও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। শনিবার লা লিগার ম্যাচে আতলেতিকোর বিপক্ষে খেলার সময় অ্যাঙ্কেলে চোট পান বার্নাল। রোনালদ আরাউহোকে নিয়েও চিন্তা বাড়ে। আশার কথা উরুগুয়ান ডিফেন্ডারকে দেখা যাবে শুরুর একাদশে।
দলে চোট সমস্যা থাকলেও ফ্লিক মনেকরেন, তাদের মনোযোগ থাকবে ম্যাচের দিকে। জার্মানির এই কোচ বলেন, ‘একমাত্র যে ব্যাপারটায় আমাদের মনোযোগ দেওয়া দরকার তা হলো, আমরা মাঠে কী অর্জন করতে পারি। নিজেরা যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারব, এর বাইরের কোনো বিষয় নিয়ে আমি ভাবতে চাই না।’
বার্সেলোনার চূড়ান্ত স্কোয়াড:
জোয়াও কানসেলো, আলেহান্দ্রো বালদে, রোনালদ আরাউহো, পাও কুবার্সি, গাভি, ফেরান তোরেস, পেদ্রি, রবার্ট লেভানডফস্কি, লামিন ইয়ামাল, জোয়ান গার্সিয়া, মার্কাস রাশফোর্ড, ফেরমিন লোপেজ, মার্ক কাসাদো, জেরার্দ মার্তিন, রুনি বারদগজি, দানি ওলমো, জুলস কুন্দে, এরিক গার্সিয়া, ভইচেখ শেজনি, দিয়েগো, কোর্তেস, জাভি এসপার্ট ও টমি।