২৭ এপ্রিল ২০২৫, ৪:৫৩ এম

চলতি মৌসুমে দুটি এল ক্লাসিকোতে ছিল না কোনো প্রাণ। হেসেখেলেই জেতে বার্সেলোনা। কোপা দেল রের ফাইনালের প্রথমার্ধে এক গোল হজম করে যেন সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। তবে ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গোল দিয়ে জয়ের আশা জাগাল লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। কিছুটা ছন্দ হারিয়ে ফেলা হান্সি ফ্লিকের দল সমতা টানল শুরুতে, এরপর জুলস কুন্দের শেষ সময়ের গোলে নিশ্চিত করল মৌসুমে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা।
সেভিয়ায় রোববার কোপা দেল রের এল ক্লাসিকো ফাইনালে রিয়ালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে বার্সেলোনা। নির্ধারিত সময়ের খেলা ২-২ সমতায় শেষের পর অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন কুন্দে। এই মৌসুমে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে এটি ফ্লিকের দলের হ্যাটট্রিক জয়। এই ফাইনালের আগে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালেও রিয়ালকে হারিয়েছিল বার্সেলোনা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোপা দেল রের শিরোপার জয়ীদের তালিকায় নিজেদের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে বার্সেলোনা। তারা এই প্রতিযোগিতা জিতেছে এই নিয়ে ৩২ বার। রিয়ালের নামের পাশে রয়েছে ২০টি, তারা আছে তিনে। দুইয়ে থাকা আথলেতিক বিলবাও জিতেছে ২৪ বার।
আরও পড়ুন
| ফাইনাল উপভোগ করতে চান বার্সা কোচ |
|
চলতি মৌসুমে এর আগে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে খেলেছিল দুই দল। দুটিতেই ফ্লিকের দলের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি রিয়াল। উভয় ম্যাচেই বার্সেলোনার আক্রমণাত্মক ফুটবলের কাছে মার খায় লা লিগা চ্যাম্পিয়নরা। এই ম্যাচেও হয়নি তার ব্যতিক্রম।
প্রথম মিনিট থেকেই আক্রমণে প্রতিপক্ষকে ব্যতিব্যস্ত রাখে বার্সেলোনা। তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে জুলস কুন্দের হেড চলে যায় পোষ্টের ওপর দিয়ে। ম্যাচের আগে রেফারি রিকার্ডো ডি বার্গোস বেনগোয়েটেক্সিয়াকে নিয়ে বিতর্কের কারণে বাড়তি চোখ ছিল তার দিকে। তবে সেই চাপ সামলে ম্যাচের প্রথম দিকে ভালো কিছু সিদ্ধান্তই নেন তিনি।
প্রথম দশ মিনিটে সেভাবে আক্রমণ শানাতে না পারা রিয়াল বড় ধাক্কা খায় ফেরলন্ড মন্ডির চোটে। ভঙ্গুর রক্ষণভাগে তার বদলি হিসেবে অনভিজ্ঞ ফ্রাঙ্ক গার্সিয়াকে নামান আনচেলত্তি। তবে তাতেও চিত্রে আসেনি কোনো বদল। বারবার উইং ধরে আক্রমণে উঠছিলেন ইয়ামাল, আর গতিতে হার মানাচ্ছিলেন রিয়ালের ডিফেন্ডারদের।
১৬তম মিনিটে রাফিনিয়ার ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের বক্সের ভেতর পড়ে যান ফেদেরিকো ভালভের্দে, তখন বল তার হাতে লাগলে পেনাল্টির আবেদন জানায় বার্সেলোনা। তবে রেফারি তাতে সাড়া দেননি।
২১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পাওয়া ক্রসে দারুণ এক হেডার লক্ষ্যেই রেখেছিলেন কুন্দে, তবে শেষ মুহূর্তে বাম হাতে ফিস্ট করে ক্লিয়ার করে রিয়ালকে বাঁচান থিবো কোর্তোয়া।
আরও পড়ুন
| এফএ কাপ জিতে ‘বড় ক্ষতি’ এড়াতে চান গার্দিওলা |
|
তবে এর ৭ মিনিট পর আর শেষ রক্ষা করতে পারেননি তিনি। পাল্টা আক্রমণ থেকে বল পেয়ে বাঁদিক থেকে গতিতে রিয়ালের খেলোয়াড়দের নিয়ে ছেলেখেলা করা ইয়ামাল বল বাড়ান বক্সের একটু বাইরে ফাঁকায় থাকা পেদ্রির দিকে। স্প্যানিশ এই মিডফিল্ডার সময় নিয়ে খুঁজে নেন ঠিকানা।
প্রথমার্ধে রিয়ালের সেরা খেলোয়াড় জুড বেলিংহাম ৩৫তম মিনিটে দানি সেবায়োসের পাস থেকে বল জালে পাঠালেও অফসাইডে থাকায় আর মেলেনি গোল।
৪৩তম মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার জটলার মধ্যে ডিফ্লেকশনের পর ফিরে আসে পোস্টে লেগে। এর এক মিনিট বাদে আরেকটি কর্নার থেকেও বার্সেলোনা পেয়েছিল ভালো সুযোগ, তবে কাজে লাগাতে পারেনি।
একতরফা প্রথম ৪৫ মিনিটে রিয়াল গোলের জন্য নিতে পারে মাত্র একটি শট, সেটাও থাকেনি লক্ষ্যে। আর আক্রমণের পর আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া বার্সেলোনা ৭টি শটের চারটিই রাখে লক্ষ্যে।
বিরতিতে রদ্রিগোর জায়গায় কিলিয়ান এমবাপেকে নামায় রিয়াল। এই অর্ধের শুরুতেই ভিন্ন ছন্দে হাজির হয় দলটি। ৪৮তম মিনিটে বার্সেলোনার একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে বলের দখল নিয়ে ডান দিকে ক্রস বাড়ান বেলিংহাম। প্রথম টাচে শট না নিয়ে কিছুটা কঠিন এঙ্গেল থেকে শট নেন ভিনিসিয়ুস, যা ফেরান ওজসিচ সেজেনি। ফিরতি বল পেয়ে ফের ব্রাজিল তারকা শট নিলে কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন বার্সেলোনা গোলরক্ষক।
এমবাপে মাঠে নামার পর থেকেই বেড়ে যায় রিয়ালের আক্রমণের ধার। ৫৫তম মিনিটে ড্রিবলিং করে বক্সে প্রবেশ করে বল বাড়ান ভিনিসিয়ুসের দিকে। তবে আরও একবার প্রথম টাচে শট না করে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন ফিফার বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
বিরতির আগে টানা আক্রমণ করে যাওয়া বার্সেলোনা এই অর্ধের শুরু থেকে কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটায়। আর সেটা হচ্ছিল যার কারণে, সেই এমবাপেই শেষ পর্যন্ত রিয়ালকে ম্যাচ ফেরান। বক্সের বাইরে বল নিয়ে আগুয়ান গতিতে এগিয়ে যাওয়া ফরাসি তারকাকে টেনে ফেলে দেন পেদ্রি। রিয়ালের তীব্র প্রতিবাদের মুখে স্রেফ হলুদ কার্ড পান তিনি।
এরপর ফ্রি-কিক থেকে বার্সেলোনা খেলোয়াড়দের দেয়ালের মধ্য দিয়ে বুলেট গতির এক শটে বল জালে পাঠান এমবাপেই। এই প্রথম পেশাদার ক্যারিয়ারে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে গোলের দেখা পেয়েছেন সাবেক পিএসজি ফরোয়ার্ড।
আরও পড়ুন
| রেফারি পরিবর্তন না হলেও ফাইনালে অংশ নেবে রিয়াল |
|
একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে যাওয়া রিয়াল খানিক বাদে পেয়েছিল দারুণ সুযোগ। বাঁদিক থেকে বল নিয়ে বক্সে প্রবেশ করে ভিনিসিয়ুস পাস দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ছয় গজে ফাঁকায় থাকা এমবাপের দিকে। তবে সেযাত্রায় বার্সেলোনা ক্লিয়ার করতে সমর্থ হয়।
প্রথমার্ধের ঠিক বিপরীত ফুটবল খেলা বার্সেলোনাকে এই দ্বিতীয়ার্ধে চেনাই ছিল দায়। একটা গোল হজমের পরও গুছিয়ে উঠতে পারেনি দলটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে লিডও নিয়ে ফেলে রিয়াল। ৭৭তম মিনিটে আর্দা গুলেরের কর্নার থেকে ঝাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক হেডারে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি।
৮২তম মিনিটে পেদ্রির পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতর থেকে বাঁ পায়ের কার্লিং শট নেন ইয়ামাল, যা দারুণ ক্ষিপ্রতায় থামান কোর্তোয়া। তবে এর একটু পর তার ভুলে গোল হজম করে বসে রিয়াল। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলের দখল নিতে এগিয়ে গিয়েছিলেন স্রেফ ফেররান তরেস। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে ব্যর্থ হন কোর্তোয়া, আর ডিফেন্ডার আন্টোনিও রুডিগার পারেননি ক্লিয়ারেন্স করতে।
ম্যাচের ধারার বিপরীতে গোল করে যেন প্রাণ ফিরে পায় বার্সেলোনা শিবির। নব্বই মিনিটের খেলা শেষ হওয়ার একটু আগে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন ভিনিসিয়ুস।
ম্যাচ যখন অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর দিকে, ঠিক তখন ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে রিয়ালকে প্রায় বিপদে ফেলেই দিচ্ছিলেন রাউল আসেন্সিও। রাফিনিয়াকে ডি-বক্সের মধ্যে ফাউল করে হজম করেন পেনাল্টি। তবে ভিএআর চেকের পর ডাইভ দেওয়ার কারণে পেনাল্টি বাতিল করে রাফিনিয়াকে হলুদ কার্ড দেন রেফারি।
অতিরিক্ত সময়ের প্রথম দশ মিনিট চলে আক্রমণ ও পাল্টা-আক্রমণের মধ্য দিয়ে। ১০৩তম মিনিটে বক্সের ভেতর সতীর্থের পাস পেয়ে বাঁদিক থেকে জটলার মধ্যে শট নেন তরেস, যা অল্পের জন্য থাকেনি লক্ষ্যে। যদি থাকত, খুঁজে নিত জালের ঠিকানা। কারণ, কোর্তোয়ারও চেয়ে দেখা ছাড়া আর করার ছিল না কিছুই।
১০৭তম মিনিটে আরও একবার রিয়ালের জালে বল পাঠান তরেস। তবে তিনি অফসাইডে থাকাই এই দফায় হতাশই হতে হয় বার্সেলোনাকে। এর মিনিট পাঁচেক পর দুর্দান্ত একটি সুযোগ তৈরি করেন রিয়াল মিডফিল্ডার গুলের। তার ক্রসে ঝাঁপিয়েও হেডার দিতে পারেননি বেলিংহাম।
১১৬তম মিনিটে রিয়ালের সর্বনাশ করেন লুকা মদ্রিচ। নিজেদের অর্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের ভুল পাস থেকে বক্সের বাইরে বল পেয়ে যান কুন্দে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে প্লেসিং শটে পরাস্ত করেন কোর্তোয়া। এর মিনিট খানেক বাদেই বার্সেলোনার বক্সে ফাউলের শিকার হন এমবাপে। শুরুতে পেনাল্টির বাঁশি বাজলেও তিনি নিজেই অফসাইড থাকায় সেটা বাতিল হয়ে যায়।
ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার ঠিক আগে উত্তেজনা দেখা দেয় রিয়ালের ডাগআউটে। বদলি হিসেবে আগেই উঠে যাওয়া রুডিগার রেফারিকে উদ্দেশ্য করে একটা বস্তু ছুড়ে মারেন। শাস্তি হিসেবে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। এরপর যোগ হয় রিয়ালের হারের দুঃখ।
No posts available.

অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাটিতে স্তব্ধ করে দিয়ে ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপের শিরোপা জিতে নিল জাপান। সিডনির অস্ট্রেলিয়া স্টেডিয়ামে ফাইনালে স্বাগতিকদের ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয়বারের মতো এশীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল নাদেশিকোরা।
এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের পর তৃতীয়বারের মতো মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরল দলটি।
রেকর্ড ৭৪ হাজার ৩৯৭ জন দর্শকের সামনে ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল টানটান উত্তেজনা। তবে ম্যাচের ১৭ মিনিটে জাদুকরী এক মুহূর্ত উপহার দেন জাপানি ফরোয়ার্ড মাইকা হ্যামানো। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া নিখুঁত বাঁকানো শট অস্ট্রেলিয়ার গোলকিপার ম্যাকেঞ্জি আর্নল্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। হ্যামানোর এই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে অস্ট্রেলিয়া। সাম কার ও ক্যাটলিন ফোর্ড বেশ কয়েকবার জাপানের রক্ষণভাগে ভীতি ছড়ালেও গোলমুখে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেন। দ্বিতীয়ার্ধের শেষদিকে অ্যালানা কেনেডির হেড রুখে দিয়ে জাপানের জয় নিশ্চিত করেন গোলকিপার আয়াকা ইয়ামাশিতা।
২০১৪ ও ২০১৮ সালেও অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাপান। ঘরের মাঠে এবার রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে স্বাগতিকদের।
টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যালানা কেনেডি। সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জিতেছেন জাপানের রিকো উয়েকি (৬ গোল)।
এই টুর্নামেন্টের শীর্ষ ৬ দল জাপান, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ফিলিপাইন আগামী ২০২৭ নারী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতাও অর্জন করেছে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে চলতি মাসে প্রীতি ম্যাচে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচের আগে বড় ধরনের হোঁচট খেল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। চোটের কারণে ছিটকে গেছেন দলের প্রধান গোলকিপার আলিসন বেকার।
আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চোট ও দল থেকে ছিটকে যাওয়ার খবর নিজেই নিশ্চিত করেছেন আলিসন। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে লিভারপুলের এই গোলকিপার লিখেছেন,
‘দুর্ভাগ্যবশত আমি কিছু সময়ের জন্য মাঠের বাইরে থাকব। দ্রুত ফিরে আসার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি।’
আলিসন কবে ফিরবেন সে সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তাঁর পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন করিন্থিয়ানসের ২৭ বছর বয়সী গোলকিপার হুগো সুজা।
আলিসনের এই চোট কেবল ব্রাজিলের জন্যই নয়, তাঁর ক্লাব লিভারপুলের জন্যও বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ প্রিমিয়ার লিগে ব্রাইটনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে ছাড়াই মাঠে নামছে আরনে স্লটের দল।
এর আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে গালাতাসারাইয়ের বিপক্ষে প্রথম লেগের ম্যাচে পেশির সমস্যার কারণে খেলেননি তিনি। যদিও দ্বিতীয় লেগে ফিরেছিলেন, তবে নতুন করে এই চোটের ফলে চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসসির বিপক্ষে শেষ আটের লড়াইয়ে আলিসনের থাকা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২৬ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের বস্টনে শক্তিশালী ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এরপর ৩১ মার্চ অরলান্ডোতে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর বিপক্ষে মার্চ উইন্ডোতে দুটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল। আসন্ন দুই ম্যাচের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে নেই ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর নাম। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠের বাইরে আছেন আল নাসর তারকা।
গত নভেম্বরে আর্মেনিয়াকে ৯-১ গোলে উড়িয়ে দেয় পর্তুগাল। নিষেধাজ্ঞার কারণে সেই ম্যাচেও ছিলেন না সিআরসেভেন। ধারণা করা হচ্ছিল আর্মেনিয়ার বিপক্ষে খেলতে না পারলেও মার্চ উইন্ডোতে দলে ফিরবেন তিনি। সব কিছু ঠিক ছিল, হঠাৎ ইনজুরিতে পরায় দলে ফেরা আরও দীর্ঘায়িত হলো সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ তারকার।
রোনালদো ইনজুরি নিয়ে আল-নাসর কোচ জর্জে জেসুস বলেন, ‘আগের ম্যাচে ক্রিস্তিয়ানো পেশির চোট নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পেরেছি, আমরা যতটা প্রত্যাশা করেছিলাম তার চেয়ে বেশি গুরুতর এই ইনজুরি। তার বিশ্রামের সঙ্গে চিকিৎসাও করাতে হবে। ক্রিস্তিয়ানো চিকিৎসার জন্য স্পেনে যাবে, অন্য খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে পড়ে যেভাবে সামলায়।’
বিশ্বকাপের জন্য স্কোয়াড সাজানোর আগে আগামী ২৮ মার্চ মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাঠে এবং ১ এপ্রিল আটলান্টায় যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে খেলবে কোচ রবার্তো মার্টিনেজের দল।
প্রীতি ম্যাচের জন্য পর্তুগালের স্কোয়াড
গোলকিপার : দিয়েগো কস্তা, হোসে সা, রুই সিলভা।
ডিফেন্ডার : ম্যাথিউস নুনেস, দিয়োগো দালোত, জোয়াও কান্সেলো, নুনো মেন্দেস, গঞ্জালো ইনাসিও, রেনাতো ভেইগা, অ্যান্তনিও সিলভা, টমাস আরাউহো।
মিডফিল্ডার : রুবেন নেভেস, সামু কস্তা, ম্যাথিউস ফার্নান্দেস, জোয়াও নেভেস, ভিতিনিয়া, ব্রুনো ফার্নান্দেস, রদ্রিগো মোরা।
ফরোয়ার্ড : রিকার্ডো হোর্তা, পেদ্রো গঞ্জালেস, জোয়াও ফেলিক্স, ফ্রান্সিসকো ত্রিনকাও, ফ্রান্সিসকো কনসেইকাও, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো, গঞ্জালো গুয়েদেস, গঞ্জালো রামোস।

ঈদের ছুটিতে ব্যস্ত সময় বাংলাদেশের ফুটবলে। ঈদের ভিয়েতনামে পৌঁছেছেন জামাল ভূঁইয়ারা। আগের দেশ চাঁদ রাতে থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হয় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। মালদ্বীপের পথে রয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল।
আগামী ২৬ মার্চ ভিয়েতনামে একটি ফিফা প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ সিনিয়র দল। ২২ সদস্যের স্কোয়াড নিয়ে সেখানে আজ সকালে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড থেকে সরাসরি আগামীকাল দলের সঙ্গে যোগ দেবেন হামজা চৌধুরী।
ভিয়েতনামে ম্যাচ খেলে ২৭ মার্চ সিঙ্গাপুর যাবে বাংলাদেশ দল। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচ খেলবে লাল সবুজের দল। প্রতিযোগিতায় ৫ ম্যাচ খেলে ৫ পয়েণ্ট নিয়ে টেবিলের তিনে বাংলাদেশ। ‘সি’ গ্রুপ থেকে নিজেদের শেষ খেলায় জয় চায় হাভিয়ের কাবরেরার দল।
আর এশিয়ান কাপের মূলপর্বে খেলতে এখন থাইল্যান্ডের পথে অনূর্ধ্ব-২০ নারী ফুটবল দল। ১২ দলের এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে আফঈদা-সাগরিকারা মাঠে নামবেন ১ এপ্রিল। ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে স্বাগতিক থাইল্যান্ড, চীন ও ভিয়েতনাম। দেশটির আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে এক সপ্তাহ আগেই দেশ ছেড়েছে পিটার বাটলারের দল।
এদিকে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ খেলতে মালদ্বীপে গেছে আরেকটি দল। ২৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল হবে টুর্নামেন্ট। প্রতিযোগিতায় ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশ আছে ‘বি’ গ্রুপে। লাল সবুজের যুবাদের প্রথম ম্যাচ ২৪ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে।

শুরু থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে বোর্নমাউথের লড়াইটা হলো সমানে সমান। ঘরের মাঠ ভাইটালিটি স্টেডিয়ামে অতিথিদের বোর্নমাউথ আটকে রাখলো ম্যাচের প্রথম এক ঘন্টা। ৬১ মিনিটে ডেডলফ ভাঙ্গার পর ম্যানচেস্টার এগিয়ে গেল দুইবার। কিন্তু তারপরও জয় নিয়ে ফেরা হলো না রেড ডেভিলদের।
শুক্রবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছে এএফসি বোর্নমাউথ। ৬১ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দোজের পেনাল্টি গোলে লিড নেয় ম্যান ইউনাইটেড। ৬ মিনিট পর রায়ান ক্রিস্তির গোলে সমতায় ফেরে বোর্নমাউথ।
১-১ গোলে সমতায় থাকার পর ৭১ মিনিটে ম্যান ইউনাইটেড এগিয়ে যায় জেমস হিলের আত্মঘাতী গোলে। নির্ধারিত সময়ের শেষ ১৯ মিনিট লিড ধরে রাখার পন ছিল ম্যান ইউনাইটেডের। তবে পিছিয়ে পড়ার ১০ মিনিটের মাথায় বোর্নমাউথ ফের খেলায় ফেরে হ্যারি মাগুয়েরের এক ভুলে। নিজেদের বক্সে বোর্নমাউথ স্ট্রাইকার ইভানিলসনকে ফেলে দেন ইউনাইটেডের সেন্টার-ব্যাক। এতে রেড কার্ড দেখার সঙ্গে পেনাল্টিও হজম করতে হয় তাঁকে। সফল স্পটকিকে দলকে ২-২ সমতায় ফেরান জুনিয়র রুপি। বাকি সময়ে চেস্টা করেও গোলের দেখা পায়নি কোনো দল।
এই ড্রয়ে ৩১ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে মাইকেল ক্যারিকের দল। সমান ম্যাচে ৪২ পয়েন্ট পেয়ে দশে বোর্নমাউথ। সবার ওপরে থাকা আর্সেনালে ঝুলিতে ৭০ পয়েন্ট। গানারদের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে ম্যানচেস্টার সিটি। যদিও পেপ গার্দিওলার দল আর্সেনালের চেয়ে এক ম্যাচ কম খেলেছে।