৬ মে ২০২৬, ৬:০৪ পিএম

আসন্ন নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ২৩ জনের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করা হয়েছে। হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে এবার লাল-সবুজের দলকে নেতৃত্ব দেবেন আফঈদা খন্দকার প্রান্তি। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দলের প্রস্তুতি, প্রত্যাশা এবং সাম্প্রতিক সমালোচনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। নিজের ফর্ম এবং দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আফঈদা বলেন,
‘আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা হয়।’
সিনিয়র পর্যায়ে নিজের পারফরম্যান্সের উত্থান-পতন এবং ফর্মে ফেরার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আফঈদা বলেন,
'আসলে একজন খেলোয়াড়ের সব সময় ভালো সময় যায় না। আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁর অনেক প্রশংসা করা হয়, আবার একটু খারাপ করলে অনেক বেশি সমালোচনা করা হয়। আমি চাই মানুষের এই চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসুক, তারা যেন খেলোয়াড়দের সবসময় উৎসাহিত করেন।’
এবারের সাফের দলে বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে উঠে আসা বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছে। তার মধ্যে আছেন মমিতা খাতুন এবং অর্পিতা বিশ্বাস অর্পিতা। গত সাফের ২৩ জনের স্কোয়াডে থাকা এবারের সফরে এসেছে বড় পরিবর্তন। নতুন করে এই সাফে যাচ্ছেন ১০জন ফুটবলার। বড় মঞ্চে এই তরুণদের নিয়ে প্রত্যাশার চাপ কতটা, এমন প্রশ্নের জবাবে অধিনায়ক বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, দলে নতুন বলতে আসলে কিছু নেই। খেলোয়াড়রা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে নিবিড় অনুশীলন করছেন এবং নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াও দারুণ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভালো কিছু করার ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।
টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার ভারতের গোয়ায় মাঠে নামবে শিরোপা ধরে রাখার কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে। স্বাগতিক ভারত নিজেদের মাটিতে নিশ্চিতভাবেই চাইবে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপা রুখে দিতে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের লক্ষ্য শিরোপা পুনরুদ্ধার। ভারত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আফঈদা জানান,
‘সাফে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল তিনটি দলই অনেক শক্তিশালী। ভারত চাইবে না বাংলাদেশ হ্যাটট্রিক করুক, তবে দল তাদের হারানোর পুরো প্রস্তুতি নিয়েই যাচ্ছি আমরা। যেকোনো দেশের মাটিতেই হোক না কেন, নিজেদের সেরাটা দিয়ে জেতার চেষ্টা থাকবে আমাদের।’
শিরোপা ধরে রাখার বাড়তি কোনো মানসিক চাপ নেই জানিয়ে আফঈদা বলেন,
‘মাঠে নামার পর হ্যাটট্রিকের চিন্তা মাথায় থাকে না। প্রত্যাশার চাপ ওরকম কিছু না। আমরা যখন মাঠে নামি তখন আমাদের মাথায় থাকে না যে হ্যাটট্রিক করতে হবে। আমরা জেতার জন্যই মাঠে নামি। বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।’
সম্প্রতি এএফসি কাপে দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। বিশেষ করে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও শেষ ১৫ মিনিটে ৩ গোল হজম করার তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলাদেশের। এই ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়ে আফঈদা বলেন,
‘হার-জিত খেলার অংশ এবং এএফসিতে খেলার অভিজ্ঞতা থেকে দল শিখেছে যে, এই পর্যায়ের ফুটবলে পুরোটা সময় একাগ্রতা ধরে রাখা কতটা জরুরি। একাগ্রতা হারানোর কারণেই থাইল্যান্ডের বিপক্ষে গোলগুলো হজম করতে হয়েছিল।’
এবার
ছোট ছোট ভুল শুধরে সাফের
মঞ্চে নিজেদের নতুন করে প্রমাণ
করতে মুখিয়ে আছে বাংলাদেশ।
No posts available.

এক মাস দূরে বিশ্বকাপ। আজই শেষ হচ্ছে ফিফাকে প্রাথমিক দল হস্তান্তরের সময়সীমা। শেষ দিনে এসে কোচ লিওনেল স্কালোনি ঘোষণা করলেন আর্জেন্টিনার প্রথমিক স্কোয়াড। তালিকায় রেখেছেন ৫৫ খেলোয়াড়, এখান থেকেই বাছাই করে পরবর্তীতে ঘোষণা করবেন ২৬ জনের চূড়ান্ত দল।
স্থানীয় সময় সোমবার সকালে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই তালিকা প্রকাশ করে। আজ থেকে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণার সময়, চলবে ২ জুন পর্যন্ত। বিশ্বকাপের মূল আসর শুরুর আগে কোনো খেলোয়াড় চোটে পড়লে কেবল এই তালিকায় থাকা ফুটবলারদের মধ্য থেকেই বিকল্প নিতে পারবে আলবিসেলেস্তেরা।
স্কালোনির এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক রিভার প্লেটের তরুণ গোলরক্ষক সান্তিয়াগো বেলট্রান। ছয় গোলরক্ষকের তালিকায় তিনি জায়গা পেলেও মূল দলে তাঁর সুযোগ পাওয়া কঠিন। তাঁর সামনে আছেন এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, জেরোনিমো রুলি ও হুয়ান মুসোর মতো পরীক্ষিত প্রহরীরা।
রক্ষণে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নাহুয়েল মলিনার চোট। মাংসপেশির চোটে পড়া মলিনার সেরে উঠতে অন্তত ২১ দিন সময় লাগবে। তাঁর বিকল্প হিসেবে তালিকায় রাখা হয়েছে অগুস্তিন গিয়াওয়াই ও কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টারকে। এ ছাড়া বোকা জুনিয়র্সের লাউতারো দি ললো ও হেতাফের জাইদ রোমেরোকে ডাক দিয়ে চমক দেখিয়েছেন স্কালোনি। তবে বাদ পড়েছেন গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে ডাক পাওয়া টমাস পালাসিওস।
মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের তালিকায় স্কালোনি এমন কিছু নাম অন্তর্ভুক্ত করেছেন যাঁরা আগে কখনো জাতীয় দলে ডাক পাননি। বোকা জুনিয়র্সের মিল্টন দেলগাদো ও তমাস আরান্দা তাদের মধ্যে অন্যতম। আরান্দাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী স্কালোনি। তিনি এই তরুণকে ‘অসাধারণ এক আবিষ্কার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা আলেহান্দ্রো গারনাচো, মাতিয়াস সুলে ও ক্লদিও এচেভেরিও ফিরেছেন প্রাথমিক তালিকায়। কাতার বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন সদস্য গিদো রদ্রিগেজকেও রাখা হয়েছে এই বড় বহরে। তবে জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি দলে থাকলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বকাপের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে পারবেন না।
শিরোপা ধরে রাখার মিশনে স্কালোনি যে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি নতুন রক্ত সঞ্চালনেও গুরুত্ব দিচ্ছেন, এই বিশাল তালিকা তারই প্রমাণ। ৩০ মে চূড়ান্ত দল ঘোষণা করতে পারে আর্জেন্টিনা।
বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রাথমিক দল:
গোলকিপার: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা), জেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্শেই), হুয়ান মুসো (আতলেতিকো মাদ্রিদ), ওয়াল্টার বেনিতেজ (ক্রিস্টাল প্যালেস), ফাকুন্দো কাম্বেসেস (রাসিং ক্লাব), সান্তিয়াগো বেলট্রান (রিভার প্লেট)
ডিফেন্ডার: অগুস্তিন গিয়াওয়াই (পালমেইরাস), গনজালো মন্টিয়েল (রিভার প্লেট), নাহুয়েল মলিনা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), নিকোলাস কাপালদো (হামবুর্গ), কেভিন ম্যাক অ্যালিস্টার (ইউনিয়ন সেন্ট জিলয়েস), লুকাস মার্তিনেজ কুয়ার্তা (রিভার প্লেট), মার্কোস সেনেসি (বোর্নমাউথ), লিসান্দ্রো মার্তিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড), নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা), হের্মান পেজেয়া (রিভার প্লেট), লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্শেই), ক্রিস্তিয়ান রোমেরো (টটেনহাম হটস্পার), লাউতারো দি ললো (বোকা জুনিয়রস), জাইদ রোমেরো (গেতাফে), ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্শেই), মার্কোস আকুনা (রিভার প্লেট), নিকোলাস তাগলিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ), গাব্রিয়েল রোহাস (রাসিং ক্লাব)
মিডফিল্ডার: মাক্সিমো পেরোনে (কোমো ১৯০৭), লিয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়রস), গিদো রদ্রিগেজ (ভ্যালেন্সিয়া), আনিবাল মোরেনো (রিভার প্লেট), মিল্টন দেলগাদো (বোকা জুনিয়রস), অ্যালান ভারেলা (পোর্তো), এজিকুয়েল ফার্নান্দেজ (বায়ার লেভারকুসেন), রদ্রিগো দি পল (ইন্টার মায়ামি), এক্সেকুয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুসেন), এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি), অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল), জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেতিস), নিকোলাস দোমিঙ্গেজ (নটিংহাম ফরেস্ট), এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া (অ্যাস্টন ভিলা), ভ্যালেন্টিন বার্কো (রাসিং ক্লাব ডি স্ট্রাসবার্গ)
ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি), নিকোলাস পাজ (কোমো ১৯০৭), ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো (রিয়াল মাদ্রিদ), থিয়াগো আলমাদা (আতলেতিকো মাদ্রিদ), তমাস আরান্দা (বোকা জুনিয়রস), নিকোলাস গনজালেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), আলেহান্দ্রো গারনাচো (চেলসি), জুলিয়ানো সিমিওনে (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতিয়াস সুলে (রোমা), ক্লদিও এচেভেরি (গিরোনা), জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি (বেনফিকা), সান্তিয়াগো কাস্ত্রো (বোলোনিয়া), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান), হোসে ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস), জুলিয়ান আলভারেজ (আতলেতিকো মাদ্রিদ), মাতেও পেলেগ্রিনো (পার্মা)।

একমাস দূরে ২০২৬ বিশ্বকাপে। আগামী ১১ জুন মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ফুটবলের সবচেয়ে রোমাঞ্চর আয়োজন। তার আগে আজ সোমবার (১১ মে) থেকে দলগুলোর খেলোয়াড় তালিকা প্রকাশের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, ৪৮টি অংশগ্রহণকারী দেশের হাতে জুন মাসের শুরু পর্যন্ত সময় রয়েছে চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার জন্য। তবে অনেক পরাশক্তি ইতোমধ্যেই তাদের দল ঘোষণার দিনক্ষণ জানিয়ে দিয়েছে।
১১ মে দলগুলোর জন্য প্রাথমিক বা সাময়িকভাবে খেলোয়াড় তালিকা জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই তালিকায় ৩৫ থেকে ৫৫ জন খেলোয়াড় রাখতে পারে ফেডারেশনগুলো। আজ থেকে শুরু হচ্ছে চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার সময়।
২ জুন ফিফার কাছে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড জমা দেওয়ার শেষ দিন। এই দিনেই ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে ৪৮টি দেশের সব খেলোয়াড়ের নাম প্রকাশ করবে।
গত কাতার বিশ্বকাপের মতো এবারও প্রত্যেক দল সর্বোচ্চ ২৬ জন খেলোয়াড় নিয়ে স্কোয়াড গঠন করতে পারবে। দলে অন্তত তিনজন গোলরক্ষক থাকা বাধ্যতামূলক। চূড়ান্ত তালিকা জমা দেওয়ার পর শুধুমাত্র গুরুতর চোট বা অসুস্থতার ক্ষেত্রেই ফিফার অনুমতি সাপেক্ষে খেলোয়াড় পরিবর্তন করা যাবে।
২৫ মে ক্লাবগুলোর জন্য খেলোয়াড় ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ফিফা। এর মধ্যেই শেষ হয়ে যাবে সব লিগ। ৩০ মে শুধু চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ রয়েছে। সেই ম্যাচে যাঁরা খেলবেন, তাঁদের জন্য নিয়ম উন্মুক্ত।
১৪ মে কোচ দিদিয়ের দেশম ফ্রান্সের বিশ্বকাপ স্কোয়াড ঘোষণা করবেন। এবারের বিশ্বকাপে হট ফেভারিট বলা হচ্ছে তাদের। গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালও খেলেছে ফরাসিরা। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন, ২০২২ বিশ্বকাপে রানার্সআপ।
১৮ মে রিও ডি জেনেরিওতে ব্রাজিলের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করবেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। দুই যুগ ধরে বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারছে না পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। অপেক্ষার অবসান পেতে বিশ্বের সেরা কোচ আনচেলত্তিকে নিয়োগ দেয় সেলেসাওরা।
আর্জেন্টিনার কবে দল ঘোষণা করবে, তা এখনো ঘোষণা করেনি। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য স্বস্তির খবর, ডিফেন্ডার নিকোলাস ওতামেন্দির নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করেছে ফিফা, ফলে আলজেরিয়ার বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচেই তাঁকে পাচ্ছে আলেবিসেলেস্তেরা।

প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাস বলে—শেষ বাঁশির আগে উৎসব করাটা বরাবরই ঝুঁকিপূর্ণ। যেখানে এক রাউন্ডের হোঁচটই পুরো মৌসুমের কঠোর পরিশ্রম ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। রবিবার লন্ডন স্টেডিয়ামে ঠিক তেমনই এক উৎকণ্ঠাময় সময় পার করেছে আর্সেনাল। যদিও ভিএআর তাদের সেই দুঃসময় থেকে উদ্ধার করেছে!
ফয়সালার দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রিমিয়ার লিগের রবিবার রাতের ম্যাচে আর্সেনাল-ওয়েস্ট হামের ম্যাচে তৃতীয় পক্ষ ছিল ম্যানচেস্টার সিটি। এই ম্যাচে পয়েন্ট তালিকায় তলানিতে থাকা দ্য হ্যামার্সদের বিপক্ষে হার কিংবা ড্রয়ে ভালো একটা সম্ভাবনা জিইয়ে থাকত ম্যানসিটির। ম্যাচের আগে ৩৫ ম্যাচে সিটির পয়েন্ট ৭৪। আর্সেনালের ৭৬। এই ম্যাচে ড্র হলে পেপ গার্দিওলার দলের সঙ্গে মিকেল আরতেতার দলের পয়েন্ট ব্যবধান হতো কেবল ৩। তারপরও আশা কিন্তু মরে যায়নি সিটিজেনদের। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে ফয়সালার জন্য।
যোগ করা সময়ে ওয়েস্ট হামের কলাম উইলসন জালে বল পাঠালে স্কোরলাইন হয়ে যায় ১-১। তবে আর্সেনাল দাবি তোলে ফাউলের। ডেভিড রায়াকে গোল সেভে বাঁধা দেওয়া হয়েছে এমনটাই জানান তারা। গানারদের সিদ্ধান্ত আমলে নিয়ে রেফারি ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারিকে বিষয়টি অবগত করেন। পর্যালোচনা শেষে গোলটি বাতিল হিসেবে গণ্য হয়।
মাঠের ও ভিডিও রেফারির সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা,
‘যখন আমার ভিএআর কর্মকর্তাদের সমালোচনা করার প্রয়োজন হয়েছে, আমি করেছি। আজ তাদের প্রশংসা করতে হবে, অন্তত একজন রেফারিকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য।’
ওয়েস্ট হাম কোচ নুনো এস্পিরিতো সান্তো কিছুটা ক্ষুব্ধ। তিনি বলেন,
‘ম্যাচটি যেভাবে শেষ হয়েছে তাতে আমরা সবাই মর্মাহত। এমনকি রেফারিরাও এখন জানেন না কোনটি ফাউল আর কোনটি নয়। তারা নিজেরাই গোলকধাঁধায় আছেন, যা নিয়ে অনেক জল্পনা তৈরি হচ্ছে।’
দুই দলের কোচের পক্ষে-বিপক্ষে মত থাকলেও সাবেক ফুটবলার ও ধারাভাষ্যকার গ্যারি নেভিলের মতে,
‘প্রিমিয়ার লিগে ভিএআর ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত ছিল এটি।’

রবার্ট লেভানডফস্কি স্বীকার করেছেন যে, আসন্ন গ্রীষ্মে বার্সেলোনা ছাড়লে তিনি অপেক্ষাকৃত ‘কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লিগে’ খেলার কথা বিবেচনা করবেন। পোলিশ স্ট্রাইকারকে নিয়ে গুঞ্জন রয়েছে, মৌসুম শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) যোগ দিতে পারেন।
লোয়ার লিগের জন্য দরজা খোলা
রোববার রাতে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জিতে লিগ শিরোপা নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। এরপর লেভানডফস্কি নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ক্যাম্প ন্যু-তে তাঁর সময় ফুরিয়ে আসতে পারে। পোলিশ টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইলেভেন স্পোর্টস’-এর সঙ্গে আলাপকালে অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার জানান, শারীরিকভাবে কম পরিশ্রমের কোনো লিগে গিয়ে পরিবেশ পরিবর্তনের বিষয়টি এখন বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা হিসেবে তাঁর টেবিলে রয়েছে।
লেভানডফস্কি ব্যাখ্যা করেন,
‘লোয়ার লিগে খেলার একটি অপশন থাকতে পারে। আমার বয়স এখন প্রায় ৩৮। কিন্তু শারীরিকভাবে আমি ভালো বোধ করছি, তাই আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি। আমাকে এই সম্ভাবনাটি মাথায় রাখতে হবে যে, এখন হয়তো খেলার পাশাপাশি জীবন উপভোগ করার সময় এসেছে। হয়তো সেই সুযোগটি আসবে এবং আমি এখনই তা উড়িয়ে দিচ্ছি না।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো ফায়ারের মতো দলগুলোর সঙ্গে এর আগেও বেশ কয়েকবার তাঁর নাম জড়িয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
চুক্তির ক্ষণগণনা
আগামী মৌসুমেও লেভানডফস্কি বার্সেলোনা জার্সিতে থাকবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। শোনা যাচ্ছে, তাঁকে কম বেতনে চুক্তি বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন,
‘শরৎকালে (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর) আমি কী করব তা জানি না। আমি এইমাত্র জানলাম যে আমার চুক্তির আর মাত্র ৫১ দিন বাকি আছে, তাই আমার হাতে এখনও সময় আছে। আমি আরও কিছু প্রস্তাব শুনব এবং তারপর সিদ্ধান্ত নেব।’

সফল ক্যারিয়ারের ১৪ লিগ শিরোপা
গত রাতে এল ক্লাসিকোতে বদলি হিসেবে খেলতে নামা লেভানডফস্কি এই সুযোগে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অর্জিত ট্রফিগুলোর দিকে ফিরে তাকান। বরুশিয়া ডর্টমুন্ড এবং বায়ার্ন মিউনিখের এই সাবেক তারকার কাছে শিরোপা জেতাটা এখন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, যা তাঁকে পেশাদার ও ব্যক্তিগতভাবে তৃপ্তি দেয়। লেভানডফস্কি জোর দিয়ে বলেন,
‘আমি মোট ১৪টি লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছি এবং যেখানে খেলেছি প্রতিটি ক্লাবের হয়েই জিতেছি। এটি আমাকে খুব প্রভাবিত করে এবং আমি এটি নিয়ে গর্বিত।’
স্ট্যান্সনির মন্তব্যের জবাবে লেভানডফস্কি
স্বদেশী এবং বার্সেলোনার সতীর্থ ভয়চেক স্ট্যান্সনির সাম্প্রতিক পরামর্শটি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন লেভানডফস্কি। স্ট্যান্সনি তাঁকে পেশাদার ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে অন্য ক্যারিয়ারের কথা ভাবার পরামর্শ দিয়েছিলেন। বার্সার এই ‘নম্বর ৯’ তারকা হাসতে হাসতে পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, তাঁর মধ্যে এখনও ফুটবল খেলার যথেষ্ট শক্তি ও সামর্থ্য অবশিষ্ট আছে এবং এখনই অবসরের কোনো পরিকল্পনা তাঁর নেই।
লেভানডফস্কি বলেন,
‘আপনারা তো জানেনই ভয়চেক (স্ট্যান্সনি) কেমন। সে আজ এক কথা বলে তো কাল অন্য কথা। আমার অবস্থা এমন নয় যে আমি সকালে ঘুম থেকে উঠি আর শরীরে ব্যথা অনুভব করি। আমি বর্তমানে যেখানে আছি সেই জায়গাটিকে মূল্যায়ন করি এবং ফুটবল উপভোগ করি। ভবিষ্যতে কী হয় তা দেখা যাবে, তবে একটি বিষয় পরিষ্কার যে আমি খেলা চালিয়ে যাব।’

ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের তিনটির ফয়সালা হয়ে গেছে ইতোমধ্যে। সবশেষ রবিবার ক্যাম্প ন্যুতে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় এবং ২৯তম শিরোপা জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল। এই জয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে লা লিগা ২০২৫-২৬ মৌসুম।
তিন ম্যাচ হাতে রেখেই লিগ ট্রফি শোকেসে তুলেছে বার্সেলোনা। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ১৪ পয়েন্ট এগিয়ে থাকায় পরবর্তী ম্যাচগুলো হয়ে উঠেছে কেবল নিয়মরক্ষার ম্যাচ। রিয়াল পরবর্তী তিন ম্যাচে জিতলে এবং বার্সেলোনা সবকটিতে হারলেও কাজের কাজ কিছুই হবে না।
ইউরোপের পাঁচ লিগের মধ্যে সবার আগে নিষ্পত্তি হয় বুন্দেসলিগার টাইটেল রেস। ১৯ এপ্রিল ঘরের মাঠে স্টুটগার্টকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে ৩৫তম বারের মতো লিগ ট্রফি জিতে বাভারিয়ানরা। সর্বশেষ ১৪ মৌসুমেই ১৩ বার বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নের নাম বায়ার্ন। ব্যতিক্রম শুধু ২০২৩-২৪ মৌসুমটা, সবাইকে চমকে দিয়ে সেই মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাবি আলোনসোর বায়ার লেভারকুসেন।
একদিন আগে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বরুসিয়া ডর্টমুন্ড হেরে গেলে বায়ার্ন ও বুন্দেসলিগা শিরোপার দূরত্ব হয়ে যায় মাত্র ১ পয়েন্টের। সে সুযোগটা কাজে লাগায় ভিনসেন্ট কোম্পানির দল।
সপ্তাহখানেক আগে পার্মাকে ২-০ গোলে হারিয়ে সিরি’আ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইন্টার মিলান। ঘরের মাঠ সান সিরোতে পাওয়া জয়ে ইন্টার নিশ্চিত করেছে সিরি ‘আ’তে নিজেদের ২১তম শিরোপা, যা গত ছয় মৌসুমের মধ্যে তৃতীয়। সিরি ‘আ’তে ৩৬ শিরোপা নিয়ে সবার ওপরে আছে জুভেন্টাস। এরপরই ইন্টার, ১৯ শিরোপা নিয়ে তিনে এসি মিলান।
লিগ জেতা ইন্টারের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার সুযোগও আছে। ১৩ মে রোমের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে কোপা ইতালিয়ার ফাইনালে লাৎসিওকে হারাতে পারলে ক্লাব ইতিহাসে তৃতীয়বারের মতো লিগ ও কাপ—দুই শিরোপাই একসঙ্গে জিতবে ক্লাবটি। সবশেষ ২০১১ সালে জোসে মরিনিওর কোচিংয়ে একই মৌসুমে সিরি ‘আ’ ও কোপা ইতালিয়া জিতেছিল ইন্টার।
গত বছর চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে পিএসজির কাছে ৫-০ গোলে পরাজয় এবং শেষ দিনে লিগ শিরোপা হারানোর গ্লানি ছিল নিরাজ্জুরি সমর্থকদের মনে। এবার সেটা হয়তো গোছাতে চলেছে ইন্টার।
বাকি রইল দুই: ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের মধ্যে সবচেয়ে জমজমাট প্রিমিয়ার লিগ। আপতদৃষ্টিতে আর্সেনাল শিরোপার ঘ্রাণ পেলেও ম্যানচেস্টার সিটি তাদের স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। গতরাতে ওয়েস্ট হ্যামের বিপক্ষে উৎকণ্ঠার এক জয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্ট এগিয়ে গানারররা।
লিগে আর্সেনালের হাতে অবশিষ্ট দুই ম্যাচ। এই দুই ম্যাচে জয় থাকাটা অধিকতর নিরাপদ তাদের জন্য। ম্যানচেস্টার সিটির হাতে তিনটি ম্যাচ। এই তিনম্যাচে টানা জয় এবং মিকেল আরতেতার দলের হোঁচট পাশার দান উল্টে যেতে পারে!
লিগ আঁতে শীর্ষ দুই দলের ম্যাচ চারটি করে। পয়েন্ট টেবিলে লাঁসের চেয়ে ৬ পয়েন্ট এগিযে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। আর লিলেও তাদের পিছু পিছু। ৩৩ ম্যাচে ক্লাবটির পয়েন্ট ৬১। তারাও টিকে আছে লড়াই। এক্ষেত্রে যদি-কিন্তুটা বড় প্রয়োজন।
ট্রফি হাতছাড়া হতে পারে পিএসজিরও। পরবর্তী চার ম্যাচে একাধিক ম্যাচে অঘটন কিংবা লাঁসের টানা সাফল্য ফল উল্টো হতে পারে।
তিন দিন পর শীর্ষের দুই দল একে অন্যের মুখোমুখি হবে। এই ম্যাচের পর নির্ধারণ হয়ে যাবে শিরোপা ভাগ্য। পিএসজির হার কিংবা লাঁসের পূর্ণ তিন পয়েন্ট জন্ম দেবে নতুন গল্প।