
ভিলেমস্টাডের শহরতলির কুয়াশাচ্ছন্ন একটি সকাল। কুরাসাওয়ের ঐতিহ্যবাহী একটি পরিবার কফির আড্ডায় মগ্ন। ঘুমকাতুরে পরিবেশ, বাতাসে মৃদু সুগন্ধ। পাশের বাড়ির খুঁটিতে উড়ছিল লাল-নীল মিশেলে দেশটির জাতীয় পতাকা। একটি মনোমুগ্ধকর আবহ বটে!
পরিবারের আলোচনায়—ফুটবল। দুঃখের দিন গলিয়ে সুদিনে ফেরা ফুটবল। ১৯২৪ সালের নিভু নিভু জ্বলা ফুটবল ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কানাগলি পেরিয়ে সমতল ভূমিতে। আর মাত্র একটি পয়েন্ট মিললেই স্বপ্ন আরও প্রসারিত হবে—ক্যারিবিয়ান সাগরের মাঝখানে, ভেনেজুয়েলার উত্তরে প্রায় দেড় লক্ষ জনসংখ্যার এই দেশের।
গতকালই বারমুডাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কুরাসাও। গ্রুপে ৫ ম্যাচে তিন জয় দিয়ে ১১ পয়েন্ট দলটির। পরবর্তীতে জ্যামাইকাকে পরাজিত করা অথবা ন্যূনতম ড্র হলেই স্বপ্নের উপাখ্যান—সরাসরি বিশ্বকাপ টিকিট। মূলত এ নিয়েই উৎসবের আমেজ এখনও ফিফার বড় কোনো টুর্নামেন্ট না খেলা দেশটিতে।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাওয়ের সাফল্য:
কনকাকাফ অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাও প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় ত্রিনিদাদ এন্ড টোবাগোর বিপক্ষে। ম্যাচটি ছিল গোলশূন্য ড্র। দ্বিতীয় ম্যাচে তারা বারমুডার বিপক্ষে ৩-২ এবং তৃতীয় ম্যাচে জ্যামাইকার বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে জয় পায়।
প্রথম ম্যাচের মতো চতুর্থ ম্যাচটিও হয় ড্র। তবে এবার দুই দলই একটি করে গোল হজম করে। পঞ্চম ম্যাচে বারমুডাকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। তাদের পরবর্তী এবং বিশ্বকাপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ জ্যামাইকা। দেশটির বিপক্ষে এর আগের ম্যাচে ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল কুরাসাও।
বিশ্বকাপ বাছাইয়ে কুরাসাওয়ের পয়েন্ট ১১। দ্বিতীয় স্থানে জ্যামাইকার ১০। শেষ ম্যাচে যে বা যারা জিতবে, তারাই টিকিট পাবে বিশ্বকাপে। সে ক্ষেত্রে ১৯ নভেম্বরের ম্যাচটি ডু-অর-ডাই। হারলেও কোয়ার্টার খেলার সুযোগ আছে।
কুরাসাওয়ের ইতিহাস ও ফুটবল যাত্রা:
১৮১৫ থেকে ১৯৫৪ পর্যন্ত কুরাসাও অ্যান্ড ডিপেনডেন্সিস কলোনির অংশ ছিল। এরপর ১৯৫৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তারা ছিল নেদারল্যান্ডস এন্টিলিসের অংশ। ২০১০ সালের অক্টোবরে ডাচ এন্টিলিস বিলুপ্তির পর থেকে কুরাসাও রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্তমানে তারা মূলত কিংডম অব নেদারল্যান্ডসের অন্তর্গত স্বায়ত্তশাসিত একটি রাষ্ট্র।
কুরাসাওয়ের আধুনিক ফুটবল যাত্রা ২০১১ সালে। তবে টেরিটরি অব কুরাসাও ন্যাশনাল ফুটবল টিম নামে যাত্রা শুরু করে ১৯২৪ সালে। একই বছরে অভিষেক ম্যাচ খেলে প্রতিবেশি দেশ আরুবার বিপক্ষে।
২০১১ সালের মার্চে ফিফার সদস্যপদ লাভ করে কুরাসাও। আগস্টে প্রথম ম্যাচ খেলে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে। ম্যাচটিতে ১-০ গোলে হেরে যায়।
হার দিয়ে শুরু হলেও ফুটবলে কুরাসাওয়ের যাত্রা দারুণ। খুব দ্রুত র্যাঙ্কিংয়েও উপরের দিকে উঠে আসে। বর্তমানে দলটির র্যাঙ্কিং ৮২।
পরাজয়েও ডরায় না কুরাসাও ফুটবল যোদ্ধারা:
ফুটবলের শুরুতে একের পর এক ধাক্কা। রাষ্ট্রীয় টানাপোড়ন, সঙ্গে ছিল গুছিয়ে উঠতে না পারার হতাশা। এরই মধ্যে ২০১৭ সালের ক্যারিবিয়ান কাপে ৬ বারের চ্যাম্পিয়ন জ্যামাইকাকে হারিয়ে চমক দেখায় দলটি। এবিসি’স টুর্নামেন্টেও ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৯ সালে কনকাকাফ নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও ওঠে তারা।
কুরাসাওয়ের যাত্রা এখানেই শেষ নয়। ২০২২ বিশ্বকাপের টিকিট না পেলেও বাছাই পর্বে ৬ ম্যাচে ৩টি জয়, ২টি ড্র এবং মাত্র ১টি হার হয়েছে।
কখনও হতাশ নয় কুরাসাও ফুটবলাররা:
আর্জেন্টিনার কাছে ৭-০ ব্যবধানে হারের পর কানাডার সঙ্গে ড্র। পরিস্থিতি যেমনই হোক, হতাশ নয় কুরাসাওয়ের ফুটবলাররা। বরং প্রতিপক্ষ কিংবা বড় দলের বিপক্ষে খেলতে পারাতেই তাদের আনন্দ। আর্জেন্টিনা বা লিওনেল মেসির সঙ্গে খেলতে পেরে যেমন উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন দলটির গোলকিপার ইলয় রোম,
“সে সময়টা কঠিন ছিল। সে (মেসি) আমার বিরুদ্ধে গোল করেছে। তবে তার কিছু শটও আমি ঠেকিয়েছি। পরে সেও আমাকে বলেছে যে আমি কিছু ভালো সেভ করেছি। এটা আমার কাছে অনেক কিছু।”
কুরাসাওয়ের স্বপ্ন আঁকছেন যাঁরা:
জেরভেন কাস্টানিয়ার—২৯ বছর বয়সি কুরাসাওয়ের এই স্ট্রাইকার এখন পর্যন্ত ৫টি ম্যাচ খেলেছেন। গোল পেয়েছেন ৫টি। তিনি একাই দলকে সাফল্য এনে দিচ্ছেন। ফলস নাইনের ভূমিকা ছাড়াও লেফট উইঙ্গে বেশ দক্ষ কাস্টানিয়ার।
কেনজি গরের নামও উল্লেখযোগ্য। এই লেফট উইঙ্গার এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন। ফুটবল রেটিংয়েও উজ্জ্বল তিনি। এছাড়া দলের অভিজ্ঞ গোলকিপার রোম (৩৬) দীর্ঘ সময় ধরে কুরাসাওকে টেনে উপরে নিয়ে যাচ্ছেন।
১৯ নভেম্বর কুরাসাওয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে কী না জানা নেই। হয়তো হবে, নাও হতে পারে। তবে সকাল-সাঁঝ কিংবা ডিনার পার্টির আলোচনায় ওঠা ‘ফুটবল’ যে তাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেছে, তা তাদের উচ্ছ্বাস দেখেই বুঝা যায়।
No posts available.

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আগামীকাল বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে ভারত। মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় গড়াবে ফাইনাল। তার আগে আজ বাংলাদেশ দলের হেড কোচ মার্ক কক্স বলেছেন যে ভারত বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।
প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ না হেরে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। ভারতও তাই। গ্রুপ পর্বে দুই দলের সাক্ষাতের ম্যাচটি ড্র হয়েছিল ১-১ গোলে। এরপর সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ১-০ গোলে হারায় নেপালকে। আর ভারত ৫-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় ভুটানকে।
ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়ে আজ মার্ক কক্স বলেছেন,
‘আমরা ভারতের মতো একটি দুর্দান্ত দলের বিপক্ষে খেলতে যাচ্ছি, যারা খুব ভালো খেলছে। তাদের চমৎকার কোচ এবং কোচিং স্টাফ রয়েছে। তবে আমাদেরও কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়রা দারুণ। ভারত একটি বড় দল, তবে বাংলাদেশও তাই।’
খেলাধুলায় বাংলাদেশ-ভারত লড়াই মানেই বাড়তি উন্মাদনা। প্রতিবেশী দেশটিকে পেলে জ্বলে উঠে বাংলাদেশ। এই দুই দলের লড়াইয়ে চাপ থাকে দুই দলের ওপরই। হারতে চায় না কোনো দল। বাংলাদেশ-ভারত আরেকটি দ্বৈরথ এখন মাঠে গড়ানোর অপেক্ষায়।
ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচকে অনেকেই বলেই দক্ষিণ এশিয়ার ডার্বি। মার্ক কক্স বাংলাদেশে এসেছেন খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথ সম্পর্কে জানেন ভালোই,
‘আমার মনে হয় সবাই ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন। শুধু ১৯৪৭-৪৮ পরবর্তী ইতিহাসই নয়, বরং ফুটবল, ক্রিকেট, হকিসহ সব ধরনের খেলার ইতিহাস সম্পর্কেও। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ-ভারত এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানের মধ্যে সবসময়ই একটা দ্বৈরথ থাকবে। ঠিক যেমন ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকে। মানুষ সবসময় তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারাতে চায়।’
বয়সভিত্তিক সাফের অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ২০২৪ সালের ফাইনালে নেপালকে ৪-১ ব্যবধানে হারায় লাল সবুজের দল। তবে ২০২২ সালে অনূর্ধ্ব-২০ সাফের ফাইনালে ভারতের সঙ্গে হারে ৫-২ ব্যবধানে। সেবার নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে দুই দল ২-২ব্যবধানে ছিল। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায় বাংলাদেশ অবিশ্বাস্যভাবে আরও তিন গোল হজম করে। তবে আগামীকালকের ফাইনাল হবে ৯০ মিনিটের। এরপর ফাইনাল নিস্পত্তি হবে পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

ইতালিতে এখন কেবল শোক চলছে। টানা তিন বিশ্বকাপ ‘ট্রেজেডি’র জন্ম দেওয়া ‘আজ্জুরিদের’ শোকে পাথরই হয়ে যাওয়ার কথা। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এমন পরিণতি ফুটবলেরই কালো ইতিহাস হয়ে থাকবে। পুরো জাতি যখন শোকে মূহ্যমান, তখন আলৌকিক কিছুর আশাও হয়তো দেখতে পারে বিশ্বকাপের অন্যতম সফল দলটি। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপে খেলার ক্ষীণ একটা আশা এখনও টিকে আছে তাদের।
বিশ্বকাপের প্লে অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের’ দরজা বন্ধ হয়ে যায় ইতালির। তবে অনেক যদি-কিন্তুর সমীকরণ মিলে গেলে বিশ্বকাপে যেতেও পারে ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধই গড়ে দিতে পারে জেনেরো গাত্তুসোদের বিশ্বকাপ ভাগ্য।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ইরান। গত মাসে ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কোনো অবস্থাতেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপে অংশ নেবে না। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রেই বিশ্বকাপ খেলবে ইরান।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চলমান থাকলেও ইরান ও ইরাক—দুই দলই বিশ্বকাপে খেলার কথা রয়েছে। ফিফা সভাপতিও নিশ্চিত করেছেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকা সত্ত্বেও ইরান নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রেই তাদের ম্যাচগুলো খেলবে।
দু’পক্ষের এমন পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে যদি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে ফিফার নিয়মের ৬.২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাদের জায়গা পূরণ করা হবে ‘মনোনীত বিকল্প দল দিয়ে’। যা সাধারণত সংশ্লিষ্ট প্লে-অফের রানারআপ বা ওই কনফেডারেশনের মধ্যে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কিন্তু কোয়ালিফাই করতে না পারা দল হয়ে থাকে।
এই হিসেবে ইরানের বিশ্বকাপ খেলতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কারণ তারা এশিয়ান প্লে-অফ পর্যন্ত উঠেছিল, যদিও পরে ইরাকের কাছে হেরে যায়। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি ফিফার হাতে—তারা নিজেদের ‘স্বাধীন বিবেচনা’ অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করতে পারে।
সেখান থেকেই একটি খুবই ক্ষীণ, এখনো পুরোপুরি কাল্পনিক সম্ভাবনাও তৈরি হয়—যদি ফিফা ভিন্ন পথে হাঁটে, তাহলে তারা বিশ্বকাপের টিকিট কাটতে না পারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা দলকে ডাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে সামনে আসতে পারে ইতালির বিষয়টি।
অবশ্য ইতালিকে সুযোগ দেওয়া এতটাও সহজ হবে না ফিফার জন্য। এতে অন্যান্য মহাদেশের ফুটবল সংস্থাগুলোর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—কারণ এর ফলে অতিরিক্ত একটি ইউরোপীয় দল সুযোগ পাবে।
এই জল্পনার সূত্রপাত হয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক রিজার্ভ দলের কোচ রেনে মিউলেনস্টিনের মন্তব্য থেকে, যিনি বর্তমানে ইরাক দলের সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করছেন।
গত মাসে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফের আগে টকস্পোর্টকে মিউলেনস্টিন বলেছিলেন,
‘এএফসির হিসাবে আমরাই সবচেয়ে র্যাঙ্কিংয়ে উপরের দল। তাই ইরানের জায়গায় আমাদেরই যাওয়ার কথা। আর আমাদের জায়গা পূরণ করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত খেলবে সুরিনাম ও বলিভিয়ার ম্যাচের বিজয়ীর বিপক্ষে।’
মিউলেনস্টিন আরও যোগ করেন,
“তবে এমন গুঞ্জনও আছে—চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যদি ফিফা নেয়, তাহলে তারা সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংয়ে থাকা কোনো দলকে ডাকতে পারে, আর সেটা হতে পারে ইতালি।’

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গাব্রিয়েল গ্রাভিনা জরুরি বৈঠক ডেকেছেন। বিশ্বকাপের মূল পর্বে ইতালি জায়গা করতে না পারায় তিনি পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত মঙ্গলবার বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে যায় ইতালি। চারবারের বিশ্বকাপ জয়ী ইতালি টানা তৃতীয়বারের মতো মূল পর্ব থেকে বাদ পড়ে। ফলে বৃহস্পতিবার জরুরি বৈঠক ডেকেছেন গ্রাভিনা।
আজ্জুরিদের ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে ফুটবল ফেডারেশন এবং ইতালি দল বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে ফুটবল ইতালিয়া।
ফুটবল সংবাদ পরিবেশক ওয়েবসাইট থেকে জানানো হয়েছে, ইতালির হেড কোচ জেনেরো গাত্তুসো ও ম্যানেজার জিয়ানলুইজি বুফন পদত্যাগ করতে পারেন।
জরুরি বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন সিরি আ প্রেসিডেন্ট ইজিও সিমোনেল্লি, সিরি বি প্রেসিডেন্ট পাওলো বেডেন, সিরি সি প্রেসিডেন্ট মাতেও মারানি, অ্যামেচার লিগ প্রেসিডেন্ট জিয়ানকার্লো আবিতি, খেলোয়াড় ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট উমবার্তো ক্যালকানো, অ্যাসোসিয়েশন প্রেসিডেন্ট রেনজো অলিভিয়েরি।

অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের শুরুটা ভালো হয়েও হলো না; থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার পরও দিনশেষে পরাজিতের কাতারে বাংলাদেশ। তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে রাখার মতো একটা দিনই ছিল মোসাম্মৎ সাগরিকার জন্য। বুধবার শক্তিশালী থাইল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে জেতার স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন তিনি। তবে এই ফরোয়ার্ড গোলের কৃতিত্ব দিয়েছেন সতীর্থদের। আজ দলের সহকারী কোচ আবুল হোসেনও জানালেন দলের প্রত্যেককে সমান চোখে দেখা হয়। তিনি জানান, গতকাল সাগরিকা গোল করেছে, পরের দিন অন্য কেউ করবে। এভাবেই তারা মেয়েদেরকে উজ্জীবিত রাখেন।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শনিবার, চীনের বিপক্ষে। আগের ম্যাচে করা ভুল নিয়ে আজ কাজ করেছে কোচিং স্টাফ। থাইল্যান্ড থেকে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) পাঠানো ভিডিও বার্তায় আবুল হোসেন বলেন,
‘গতকাল আমরা প্রথম ম্যাচ খেলেছি। ৭০ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে এগিয়ে ছিলাম। সামান্য ভুলের কারণে আমরা জিততে পারিনি। কারণ এমন ভুল তো আর সচরাচর হয় না। কিন্তু হয়ে গেছে। আজ সেই ভুলগুলো নিয়ে কাজ করেছি। পরের ম্যাচ চীনের বিপক্ষে। তাদের সঙ্গে যেন একই ভুল না হয় তা নিয়ে কাজ করছি। মেয়েদের বলেছি যা হয়েছে সেটা এখন অতীত। এ নিয়ে তাদের চিন্তা করতে হবে না।’
সাগরিকাকে নিয়ে আলাদা করে প্রশংসা ঝরেছে সহকারী কোচের কণ্ঠে। বলেছেন,
‘সাগরিকা অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। সে বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে জাতীয় দলেও সুযোগ পেলে নিজেকে মেলে ধরে।’ তবে আবুল হোসেন সেই সঙ্গে এটাও বলেন যে তারা সবাইকে সমান চোখে দেখেন, ‘আমরা প্রতিটি খেলোয়াড়কে মূল্যায়ন করি। কে কখন জ্বলে উঠবে তা বলা যায় না, সেভাবেই আমরা মেয়েদের মোটিভেট করি। সবাইকে সমান নজরে দেখি।’

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ৪৮ দল চূড়ান্ত। ১১ জুন থেকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর শুরুর অপেক্ষায়। যেখানে অনেকে অভিজ্ঞ তারকা ফুটবলারকে গ্যালারিতে বসেই দেখতে হবে খেলা।
আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ থেকে বুধবার সকালে সবশেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ইরাক। আগের রাতে ইউরোপয়ীয় প্লে অফ থেকে জায়গা নিশ্চত করে সুইডেন, তুরস্ক, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
কোয়ালিফায়ার ফাইনালে হেরে বাড়ির টিকিট কাটতে হয়েছে জিয়ানলুইজি দোনারুমা, রবার্ট লেভানডফস্কি, কালাফিওরির মতো তারকাদের।
ইতালির চার তারার অসহায়ত্ব: বাছাইপর্বে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির পালে। বসনিয়ার বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে টানা তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা হচ্ছে না আজ্জুরিদের। বিশ্বকাপে দেখা যাবে না দলটির চার তারকা দোনারুমা, রিকার্দো কালাফিওরি, সান্দ্রো টোনালি ও নিকোলো বারেল্লাকে।
পোলান্ডের ব্যর্থতায় কপাল পুড়ল রবার্ট লেভানডফস্কির: ইউরোপীয় প্লে-অফ ফাইনালে শেষ মূহুর্তে ভিক্টর ইয়োকেরেসের গোলে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছে পোল্যান্ড। এর মাধ্যমে ৩৭ বছর বয়সী কিংবদন্তি লেভানফস্কির বিশ্বকাপ অধ্যায় শেষ হয়ে যায়।
হাঙ্গেরির বিদায়ে স্বপ্ন ভাঙল সোবোসলাইয়েরও: বিশ্বকাপের বাছাইয়ে হাঙ্গেরির বিদায় ছিল ট্র্যাজিক। রিপাবলিক অফ আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে ড্র করলেই চলত তাদের। কিন্তু ৮০ মিনিট পর্যন্ত ২-১ এ এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে ট্রয় প্যারটের হ্যাটট্রিকে স্বপ্ন ভাঙে হাঙ্গেরির। লিভারপুলের হয়ে দূরপাল্লার শট আর নিখুঁত পাসের জন্য পরিচিত সোবোসলাইকে মিস করবেন ভক্তরা।
কঙ্গোতে বাঁধা ব্রায়ান এমবেউমোর উচ্চাশা: ব্রেন্টফোর্ড থেকে ৭১ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়া এমবেউমো গত মৌসুমে ২০ গোল করে নজর কাড়েন। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর কাছে ৯১ মিনিটের গোলে ক্যামেরুন হেরে যাওয়ায় এই উইঙ্গারকেও গ্যালারিতে বসেই বিশ্বকাপ দেখতে হবে।
কাভারাস্কেইয়ার ড্রিবলিং মিস করবে বিশ্ব: ইউরো ২০২৪-এ নজরকাড়া জর্জিয়া এবার মূল পর্বে জায়গা করতে পারেনি। ফেলে পিএসজির হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী কাভারস্কেইয়ারের জাদুকরী ড্রিবলিং দেখার সুযোগ এবার হচ্ছে না ফুটবলপ্রেমীদের।
অপেক্ষা বাড়ল হইলুন্দের: চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পেনাল্টি শ্যুটআউটে হেরে বিদায় নিয়েছে ডেনমার্ক। যেখানে হইলুন্দ পেনাল্টি মিস করে খলনায়কে পরিণত হয়েছেন। গত বিশ্বকাপে অভিজ্ঞতার অভাবে দলে জায়গা পাননি তিনি, এবার দলের ব্যর্থতায় তাঁর অপেক্ষা আরও বাড়ল।