২৯ জুলাই ২০২৪, ৪:৪০ এম

একটা ক্লাব যখন মূল একাদশে স্বীকৃত স্ট্রাইকার ছাডাই লা লিগা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে, তা বলে দেয় দলটির আক্রমণভাগ কতোটা সমৃদ্ধ। করিম বেনজেমার বিদায়ের পর বড় মাপের ফরোয়ার্ড দলে না টেনেই অবিশ্বাস্য সেই কাজটাই গত মৌসুমে করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। এই মৌসুমে অবশ্য আক্রমণে শক্তি এরই মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগোদের সাথে যোগ দিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে ও এন্দ্রিক। তাদের একত্র করে রিয়ালের চোখ নিজেদের আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার।
স্রেফ কাগজে-কলমে যদি হিসেব করা হয়, তাহলে এই চারজনকে নিয়ে গড়া যেকোনো দলের আক্রমণেরই ‘ক্লিক’ করার কথা। তবে খোদ রিয়ালেই ইতিহাস রয়েছে, সব বড় মাপের তারকা দলে টানা মানেই নিশ্চিত সাফল্য নয়৷ উল্টো জিদান-রোনালদো-ফিগো-বেকহামদের বিখ্যাত ‘গ্যালোকটিকোস’-দের ব্যর্থ হতেও দেখেছে ক্লাবটি৷ এছাড়া ২০০৯-১০ সালে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, বেনজেমা, কাকা, মেসুত ওজিল, সামি খেদিরাদের দলে টেনেও রাতারাতি সাফল্য পায়নি রিয়াল। বরং বলা যায়, প্রথম কয়েক মৌসুমে মেলেনি আশানুরূপ সাফল্যও।
আর সেই কারণে সম্ভাবনা যেমন রয়েছে, রিয়ালের নতুন আক্রমণ নিয়ে চিন্তার কারণও রয়েছে কিছু। সবচেয়ে বড় বিষয় লেফট উইংয়ে কে থাকবেন প্রথম পছন্দ, সেই বিষয়টি। ভিনিসিয়ুস ও এমবাপে দুজনই এই পজিশনে বিশ্বের অন্যতম সেরা দুই খেলোয়াড়। রিয়ালে লম্বা সময় ধরেই এই পজিশনটি আছে ভিনিসিয়ুসের দখলে। তিনি যে মাপের খেলোয়াড় এবং পজিশনটি যেভাবে নিজের করে নিয়েছেন, তাতে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়াটা হবে বড় বোকামি।
আবার এমবাপেকে তার সেরা পজিশন ছাড়া খেলানোটাও খুব বিচক্ষণ কাজ হবে না হয়ত। ফ্রান্স ও পিএসজিতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ‘ফলস নাইন’ বা স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেছেন তিনি। তবে একেবারেই ভালো করতে পারেননি। সরাসরি বলেও দিয়েছেন কয়েকবার, এই পজিশনে খেলাট উপভোগ করেন না তিনি। তবে রিয়ালে নিজের আনুষ্ঠানিক পরিচিতির দিন অবশ্য জানিয়েছেন, কোচ ও দল যেখানে চাইবে, সেখানেই খেলবেন তিনি।
আর কোচ কার্লো আনচেলত্তি যে আভাস দিয়েছেন, তাতে এমবাপেকে অন্তত মৌসুমের শুরুতে খেলতে হতে পারে স্ট্রাইকার ও রাইট উইং পজিশনে। উল্লেখ্য, রিয়ালে ফরাসি তারকা পেয়েছেন স্বীকৃত স্ট্রাইকারদের ‘৯ নম্বর জার্সিও। এটি অবশ্যই বড় ব্যাপার না হলেও, এখান থেকে এটা স্পষ্ট যে ক্লাব তার কাছ থেকে স্ট্রাইকারের মতোই গোলের সার্ভিস চাইবে।
প্রশ্নটা এখানেই, নতুন দেশ, নতুন ক্লাব, নতুন একটা লিগে ভিন্ন পজিশনে শুরুর কয়েকটা ম্যাচে যদি এমবাপে জ্বলে উঠতে ব্যর্থ হন, সেক্ষেত্রে আনচেলত্তি কি ফরমেশনে বদল আনবেন তার জন্য? কারণ, শুরুতে ভালো না করলে প্রত্যাশার চাপ এমবাপের ওপর তাতে আরও যে চেপে বসবে। আবার তার সেরাটা বের করে আনতে ভিনিসিয়ুসকে লেফট উইং থেকে সরিয়ে দিলে সেটা দলের ওপর ভিন্ন প্রভাবও ফেলতে পারে। ক্লাবে যে ব্রাজিলিয়ান তারকা বেশ জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী খেলোয়াড়দের একজন।
এমবাপেকে রাইট উইংয়ে খেলানোর যে কথা বলা হচ্ছে, সেটাও বেশ ঝুকিপূর্ণ। এমনিতেও গত দুই মৌসুমে অনেকটা সময় এই পজিশনে রদ্রিগোকে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জানাচ্ছেন মিডফিল্ডার ফেদে ভালভের্দে। এমবাপে যদি এই পজিশনে মূল একাদশে খেলেন নিয়মিত, তাহলে রদ্রিগোকে একটা বড় সময় কাটাতে হবে বেঞ্চেই। ক্লাবে দারুণ সব কীর্তির পর বদলি খেলোয়াড়ের রোল নিশ্চয় ভালোভাবে নেবেন না তিনি।
এই দুই পজিশনের পর আসে স্ট্রাইকারের বিষয়টি। ব্রাজিল জাতীয় দলে বদলি নেমে কিছু ভালো পারফরম্যান্স উপহার দিলেও এন্দ্রিক এখনও আছেন শুরুর দিনগুলোতে। বয়স মাত্র ১৭। তুমুল প্রতিভা থাকলেও ফলে পরিণতবোধের ঘাটতি আছে বেশ। কোপা আমেরিকায় যা স্পষ্টভাবে দেখা গেছে। রিয়ালের মত একটি ক্লাবে শীর্ষ পর্যায়ের ধারাবাহিকভাবে গোল করার জন্য তিনি যোগ্য কিনা, তা নিয়ে তাই প্রশ্ন থেকেই যায়।
আর এমবাপে যদি স্ট্রাইকার হিসেবে খেলেন, তাহলে এন্দ্রিকের ওপর চাপ বাড়বে বেশ। কারণ, তখন অল্প সুযোগ পেলে সেটাই কাজে লাগানোর কোনো বিকল্প থাকবে না তার সামনে। একজন উঠতি খেলোয়াড়ের জন্য রিয়ালের মাপের একটি ক্লাবে খেলাটাই বিশাল চাপের। সেখানে যদি শুরুতেই সেরাটা দেওয়ার চাপও যোগ হয়, তাহলে সেটা গড়বড় হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। ফলে এই পজিশনটি রিয়ালের জন্য ভালো চিন্তার বিষয় হতে পারে যদি এমবাপে বা এন্দ্রিক শুরুটা ভালো না করতে পারেন।
এই চারজন বাদে মিডফিল্ডার হলেও গত মৌসুমে রিয়ালের আক্রমণের প্রাণ হওয়া জুড বেলিংহামকেও বিবেচনায় রাখতে হবে। এমবাপে দলে আসায় তার ভূমিকাটা কেমন হবে, সেটা নিশ্চিত নয়। ৪-৩-৩ ফরমেশনে তিনি কী আগের মত ওপরে উঠে খেলার স্বাধীনতা পাবেন, নাকি মিডফিল্ডার হিসেবেই মূল কাজটা সামলাবেন, সেটাই আলোচনার বিষয়। এখানে এটাও মাথায় রাখতে হবে, গত মৌসুমে রিয়াল ছেড়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার টনি ক্রুস, যিনি প্রায় এক যুগ ধরে ছিলেন দলটির মাঝমাঠের কান্ডারি।
তার চলে যাওয়ায় মিডফিল্ড পরিকল্পনায় নিশ্চিতভাবেই পরিবর্তন আনতে হবে আনচেলত্তিকে। আরেক অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার লুকা মদ্রিচের বয়স হতে যাচ্ছে ৩৯। ফলে তিনিও একাদশে নিয়মিত থাকবেন না। যা আভাস দিচ্ছে, ফরমেশনে পরিবর্তন এনে বেলিংহামকে নিচে নেমেই হয়ত খেলাবেন রিয়াল কোচ।
সব মিলিয়ে রিয়ালের নতুন যে আক্রমণ লাইনআপ, তার মাঝে অবিশ্বাস্য সম্ভাবনা থাকলেও নতুন-পুরনো খেলোয়াড়দের একসাথে ভালো করার জন্য বেশ কিছু বিষয়কে ‘ক্লিক’ করতে হবে। আর নানা সমীকরণের প্রভাবে সেই কাজটা আনচেলত্তির জন্য মোটেও সহজ হতে যাচ্ছে না, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এমবাপেকে ভিন্ন পজিশনে খেলিয়ে সেরাটা বের করে আনা, এন্দ্রিককে পরিণত করা এবং দলীয় সাম্য ধরে রাখাটাই হবে ইতালিয়ান কোচের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি যদি তা পারেন, রীতিমতো উড়বে রিয়াল। আর যদি না পারেন? উত্তরটা রিয়ালের সমর্থকরা জানেন, তবে দেখতে চাইনেন না নিশ্চয়।
No posts available.
১ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৮ এম

প্রথমবারের মতো ৪৮ দল নিয়ে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ। এর মধ্যে ৪২টি দেশ নির্ধারিত হয়েছিল আগেই। বাকি ছিল ৬টি টিকিট। বুধবার সবশেষ দল হিসেবে ইরাকের বিশ্বকাপে ওঠার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হয়ে গেল ৪৮টি দেশ।
মঙ্গলবার রাতে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফ ফাইনাল শেষে মূল পর্বে খেলা নিশ্চিত করেছে সুইডেন, চেক প্রজাতন্ত্র, তুরস্ক এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা।
বুধবার ভোরে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে জ্যামাইকার বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতে ৪৭তম দল হিসেবে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)।
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
সবশেষ স্পটের জন্য বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৯টায় লড়াইয়ে নামে ইরাক ও বলিভিয়া। মেক্সিকোর মন্টেরি শহরের এস্তাদিও বিবিভিএ স্টেডিয়ামে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে ইরাক।
২০২৬ সালের টুর্নামেন্ট দিয়ে ফিফা বিশ্বকাপে অভিষেক হবে জর্ডান, উজবেকিস্তান, কুরাসাও ও কেপ ভার্দের। এছাড়া ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে হাইতি ও কঙ্গো। আর ৪০ বছর বিরতি দিয়ে ফিরছে ইরাক।
এক নজরে বিশ্বকাপের ৪৮ দল ও ১২ গ্রুপ
গ্রুপ এ: মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, চেক প্রজাতন্ত্র
গ্রুপ বি: কানাডা, সুইজারল্যান্ড, কাতার,বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
গ্রুপ সি: ব্রাজিল, মরক্কো, স্কটল্যান্ড, হাইতি
গ্রুপ ডি: যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, প্যারাগুয়ে, তুরস্ক
গ্রুপ ই: জার্মানি, ইকুয়েডর, আইভরি কোস্ট, কুরাসাও
গ্রুপ এফ: নেদারল্যান্ডস, জাপান, তিউনিসিয়া,সুইডেন
গ্রুপ জি: বেলজিয়াম, ইরান, মিশর, নিউ জিল্যান্ড
গ্রুপ এইচ: স্পেন, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, কেপ ভার্দে
গ্রুপ আই: ফ্রান্স, সেনেগাল, নরওয়ে, ইরাক
গ্রুপ জে: আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া, জর্ডান
গ্রুপ কে: পর্তুগাল, কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান, ডি.আর. কঙ্গো
গ্রুপ এল: ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া, পানামা, ঘানা
আগামী ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে মাঠে নামবে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মেক্সিকোর সঙ্গে সহ আয়োজক দেশ হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা। ১৯ জুলাই নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনাল দিয়ে পর্দা নামবে এবারের বিশ্বকাপের।
মরক্কোর বিপক্ষে আগামী ১৩ জুনের ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ব্রাজিল। আর ১৬ জুন নিজেদের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে ম্যাচটি খেলা নিয়েই অনিশ্চয়তায় ছিল ইরাক। সব সংশয় দূর করে মাঠে নেমে দীর্ঘ ৪ দশকের অপেক্ষা ঘোচাল তারা। ৪০ বছর পর আবার বিশ্বকাপের টিকিট পেল মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের লড়াইয়ে আন্তঃমহাদেশীয় প্লে-অফ ফাইনালে বলিভিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছে ইরাক। মেক্সিকোর গুয়াদালুপেতে বুধবার সকালের ম্যাচে গোল দুইটি করেছেন আলি ইব্রাহিম আল-হামাদি ও আয়মান হোসেন।
বলিভিয়ার হয়ে একমাত্র গোল শোধ করেন ময়সেস পানিয়াগুয়া।
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
এই জয়ে ১৯৮৬ সালের পর আবারও বিশ্বকাপ খেলার টিকিট পেল ইরাক। ৪০ বছর আগের ওই আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল তারা। তিন ম্যাচে করতে পেরেছিল মোটে ১ গোল।
এবার বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার ম্যাচে খুব একটা দাপুটে ফুটবল খেলতে পারেনি ইরাক। ম্যাচের প্রায় ৬৭ শতাংশ সময় বলিভিয়ার কাছে ছিল বলের দখল। গোলের জন্য ১৬টি শট করে ৭টি লক্ষ্য বরাবর রাখে লাতিন আমেরিকান দেশটি। বিপরীতে ৭ শটের ৩টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইরাক।
ম্যাচের দশম মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে আল-হামাদি। তবে প্রথমার্ধেই সেটি শোধ করে বলিভিয়া। ৩৮ মিনিটে পানিয়াগুয়ার গোলে সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৫৩ মিনিটে আবার লিড নেয় ইরাক। এবার জালের দেখা পান আয়মান। ম্যাচের বাকি সময়ে প্রাণপণ চেষ্টা করে বলিভিয়া। কিন্তু ডেডলক আর ভাঙতে পারেনি। দীর্ঘ ৪০ বছরের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরাক।
আরও পড়ুন
| আমরা ফুটবল খেলতে আসি, রাজনীতি করি না: ডি পল |
|
ইরাকের জয়ে এশিয়ান অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পেল মোট ৯টি দেশ। তাদের আগে এই অঞ্চল থেকে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা আট দল- অস্ট্রেলিয়া, ইরান, জাপান, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, দক্ষিণ কোরিয়া ও উজবেকিস্তান।
২০২৬ বিশ্বকাপে 'আই' গ্রুপে খেলবে ইরান। যেখানে তাদের তিন প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে। আগামী ১৬ জুন নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করবে ইরাক।

টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ ইতালি। প্লে-অফ ফাইনালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে টাইব্রেকারে হারের পর যারপরনাই হতাশ ইতালির কোচ জেনারো গাত্তুসো। তিনি বলেন, পারফরম্যান্স অনুযায়ী আরও ভালো ফলের দাবিদার ছিল ইতালি।
বসনিয়ার ঘরের মাঠ জেনিৎসার বিলোনো পোলজেতে মঙ্গলবার রাতে হওয়া ম্যাচটি নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হলে টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে গাত্তুসোর দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট কাটে বসনিয়া।
হারের পর হতাশা প্রকাশ করেন গাত্তুসো।
“এটা খুব কষ্ট দিচ্ছে, সত্যিই খুব কষ্ট দিচ্ছে। আমার চেয়েও বেশি কষ্ট হচ্ছে এই দলটির জন্য যারা গত কয়েক মাস ধরে নিজেদের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছে। আমি মনে করি, আমরা যা পরিশ্রম করেছি সেই অনুযায়ী ফলাফল আমাদের প্রাপ্য ছিল।”
আরও পড়ুন
| ইতালির ঔদ্ধত্যের জবাব মাঠেই দিয়েছে বসনিয়া |
|
গাত্তুসোর সঙ্গে ইতালির চুক্তি ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তবে ইতালি যদি বিশ্বকাপের টিকিট পেত, সেটি ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার চুক্তির মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হয়ে যেতো। গত অক্টোবরে তিনি বলেছিলেন, দল যদি ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, তবে দেশ ছেড়ে অনেক দূরে চলে যাবেন।
এখন দেখার বিষয় ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই সদস্য আসলেই এমন কিছু করেন কি না। তবে ইতালীয় ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা গাত্তুসোর প্রশংসা করে তাকে থেকে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন।
আর গাত্তুসো নিজে এখনই ইতালিতে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছু বলতে রাজি নন।
“আজ এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মোটেও আগ্রহী নই। আজ আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলাটা হবে খুব ক্ষুদ্র চিন্তা ও অপরিপক্বতা। এখানে আমাদের ইতালি এবং জাতীয় দলের জার্সি নিয়ে কথা বলা উচিত।”
আরও পড়ুন
| ৪ মিনিটে দুই গোল করে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ব্রাজিল |
|
“এটা আমাদের জন্য আরও একটি বড় ধাক্কা, যদিও এবার আমরা এই ধাক্কা খাওয়ার মতো ছিলাম না। আমরা আরও ভালো কিছুর দাবিদার ছিলাম এবং সে কারণেই আমার ভবিষ্যৎ এখন গুরুত্বহীন।”
ইতালি এর আগের দুটি বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্লে-অফে সুইডেন এবং উত্তর মেসিডোনিয়ার কাছে হেরে বাদ পড়েছিল। গত জুনে লুসিয়ানো স্প্যালেত্তিকে বরখাস্ত করার পর যখন ইতালির বিশ্বকাপের আশা প্রায় ক্ষীণ হয়ে আসছিল, তখন গাত্তুসোকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে জিতলেও, মাঠের পারফরম্যান্সে হতাশই ছিল আর্জেন্টিনা। সেটি ভুলে জাম্বিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আর এই ম্যাচ শেষে দলের মধ্যে বিভাজন তৈরি করা মানুষদের ধুয়ে দিয়েছেন রদ্রিগো ডি পল।
এবারের ফিফা আন্তর্জাতিক বিরতির দুই ম্যাচেই জিতেছে আর্জেন্টিনা। তবে মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে জেতার ম্যাচে ঠিক চেনা ছন্দে ছিল না তারা। তাই ওই ম্যাচের পর খেলোয়াড়দের নিবেদন নিয়ে সমালোচনা হয় অনেক। নিন্দুকদের রোষানলে পড়েন লিওনেল মেসি, ডি পলরা।
সেসব ছাপিয়ে বুধবার ভোরের ম্যাচে জাম্বিয়ার জালে একে একে পাঁচ গোল করে লা আলবিসেলেস্তেরা। পুরো ম্যাচে দাপট দেখিয়েই খেলে তারা। ম্যাচে একটি করে গোল দেন মেসি ও নিকোলাস ওতামেন্ডি। অস্বাভাবিক কিছু না ঘটলে, দেশের মাঠে এটিই ছিল তাদের শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
আরও পড়ুন
| মেসি-আলভারেজের গোলে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা |
|
ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাই তাদের প্রতি সম্মান দেখান ডি পল।
“তারা বিষয়টা উপভোগ করার চেষ্টা করে। দু’জনই এই দলের জন্য রোল মডেল। আমরা তাদের পথ অনুসরণের চেষ্টা করি। সবসময় একই মানসিকতা নিয়ে এখানে আসি- ফুটবল খেলতে, আর্জেন্টিনা কী প্রতিনিধিত্ব করে, আমাদের দেশের কাছে ফুটবলের অর্থ কী, তা রক্ষা করতে।”
“আমরা চাই মানুষ এটা বুঝুক, কারণ আমরা এমন একটি দেশের বাসিন্দা যেখানে একত্রিত হওয়ার বদলে অনেক সময় বিভাজন আর বিতর্ক তৈরি করা হয়।”
এসময় হুট করে রাজনীতির প্রসঙ্গ আনেন আর্জেন্টাইন এই মিডফিল্ডার।
“স্পষ্ট করে বলতে চাই- আমরা ফুটবলার, আমরা এখানে ফুটবল খেলতেই আসি। রাজনীতিতে আমরা জড়াই না, এসব বিষয় আমরা বুঝিও না। রাজনীতি যারা বোঝেন, তাদেরই সে কাজ করা উচিত। আমরা চাই, আমাদের বিচার হোক মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে, এর বাইরে কিছু নয়।”
“আমরা সবসময় চেষ্টা করব আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের জার্সিকে সম্মান জানাতে। যে জায়গায় পৌঁছাতে আমরা এত লড়াই করেছি, সেটা মাঠেই প্রমাণ করতে। নেতৃত্বেও এই বার্তাটাই থাকা উচিত- আমরা মাঠে খেলেই দেশকে প্রতিনিধিত্ব করি।”
কোন প্রসঙ্গে এই কথা বলেছেন, তা জিজ্ঞেস করা হলে স্পষ্ট কিছু জানাননি ডি পল।
“আমি নির্দিষ্ট করে কিছু বলছি না। তবে এটুকু বলতে চাই, ভুল তথ্য ছড়ানোর চেয়ে সঠিক তথ্য জানানো ভালো। বিশ্বকাপের আর মাত্র দুই মাস বাকি, এই সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ঐক্যবদ্ধ থাকা।”
“আমরা জিতলে সবাই জিতি, হারলে দায়টা খেলোয়াড়দেরই নিতে হয়। মাঠে যা ঘটে, তার পুরো দায়িত্ব আমাদের- ভালো বা খারাপ যাই হোক। আমরা বিশ্বকাপ জিতেছিলাম, কারণ সমর্থকরা আমাদের সেই প্রয়োজনীয় প্রেরণা দিয়েছিলেন।”
যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় আগামী জুনে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নামবে আর্জেন্টিনা। এর আগে সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানালেন ইন্টার মায়ামি তারকা।
আরও পড়ুন
| আর্জেন্টিনায় ‘শেষবার’ মাঠে নামছেন মেসি, তবে... |
|
“এখন পর্যন্ত যা গড়ে উঠেছে, সেটাকে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করা ন্যায্য নয়। একটি সূচনা হয়েছে, সেখান থেকে সামনে এগোতে হবে, পেছনে নয়। আবারও বলছি- আমরা ক্লাবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি, যেন জাতীয় দলে সুযোগ পেয়ে আর্জেন্টিনার জার্সির সম্মান রাখতে পারি মাঠে।”
“আমি কোনো নির্দিষ্ট বিষয় টানছি না, আমরা বন্ধুর মতোই এসব নিয়ে কথা বলি। বিশ্বকাপ শুরুর আগে এই কথাগুলো বলতে ইচ্ছে হয়েছে। জেতা কঠিন, আর শিরোপা ধরে রাখা আরও কঠিন। আমরা যদি আমাদের অর্জন রক্ষা করতে চাই, তাহলে পুরো দেশকে একসঙ্গে থাকতে হবে।”

ফ্রান্সের কাছে হারের হতাশা ভুলতে বেশি সময় নিল না ব্রাজিল। পরের ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে জয়ে ফিরল পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
নিজেদের ঘরের মাঠে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ব্রাজিল। শেষ দিকে ৪ মিনিটে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করেছে সেলেসাওরা।
ব্রাজিলের হয়ে গোল ৩টি করেন দানিলো, থিয়াগো ও গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি। ক্রোয়েশিয়ার একমাত্র গোল ফেরত দেন লুভর মায়ের।
আরও পড়ুন
| ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে কঙ্গো |
|
ম্যাচ জুড়ে বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল ক্রোয়েশিয়া। তবে গোলের জন্য ১১টি শট করে দাপট দেখায় ব্রাজিল। এর মধ্যে ৭টি ছিল লক্ষ্য বরাবর। বিপরীতে ১০ শটের ৪টি লক্ষ্যে রাখতে পারে ক্রোয়াটরা।
ফাউলের ছড়াছড়ি দিয়ে শুরু হওয়া ম্যাচে ধীরে ধীরে গুছিয়ে নেয় দুই দল। একের পর সুযোগ তৈরি করতে থাকেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, দানিলোরা।
কম যায়নি ক্রোয়েশিয়াও, প্রথমার্ধের অতিরিক্ত যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে ব্রাজিল গোলরক্ষকের ক্ষিপ্রতায় গোলবঞ্চিত হয় সফরকারীরা।
পরের মিনিটে ভিনিসিয়ুসের জাদু। তিনজনকে কাটিয়ে তিনি বল এগিয়ে দেন সামনে। অনায়াসে জালের ঠিকানা খুঁজে নেন দানিলো।
দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে মরিয়া চেষ্টা করে ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু ভাঙছিল না গোলের তালা। মনে হচ্ছিল, এক গোলেই জিতে যাবে ব্রাজিল। তখনই ৮৪ মিনিটে সমতা ফেরান মায়ের
আরও পড়ুন
| মেসি-আলভারেজের গোলে জাম্বিয়াকে উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা |
|
ক্রোয়াটদের সেই আনন্দ বেশিক্ষণ টেকেনি। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে ডি বক্সে ফাউলের শিকার হন এন্দ্রিক। পেনাল্টি থেকে স্কোরলাইন ২-১ করেন থিয়াগো।
এর মিনিট চারেক পর এন্দ্রিকের পাস থেকে দলের তৃতীয় গোল করেন মার্টিনেল্লি। তৃপ্তির জয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।