
প্যারাগুয়ের সাথে ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে ব্রাজিল কোচ দরিভাল জুনিয়র দাবি করেছিলেন তাঁর দল পরের বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে। তার সেই কথার ২৪ ঘণ্টা না পেরুতেই সেলেসাঁওরা প্যারাগুয়ের সাথে হার দেখেছে, তাও ১৬ বছর পর। তাতে দরিভাল যেমন সমালোচনার মুখে, তেমনি ব্রাজিল দলও। একের পর এক হারে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা অনাকাঙ্ক্ষিত সব রেকর্ড গড়েই চলছে!
এখন পর্যন্ত ব্রাজিল চলতি বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ম্যাচ খেলেছে ৮টি। যেখানে জয়ের চেয়ে তাদের হারের সংখ্যা বেশি। ৪ হারের বিপরীতে সেলেসাঁওরা ম্যাচ জিতেছে মোটে তিনটা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যেখানে ব্রাজিলকে হারানোই দায় ছিল এতদিন, সেখানে এবার ব্রাজিলের জন্য ম্যাচ জেতাই যেন সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০০২ থেকে ২০২২ পর্যন্ত বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিল ম্যাচ খেলেছিল ৭১ টি। ২০ বছর আর পাঁচ বিশ্বকাপ বাছাই মিলিয়ে তারা হার দেখেছিল মোটে পাঁচটি, আর ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম আট ম্যাচেই তারা দেখেছে চার হার। যা যে কোনো ব্রাজিল সমর্থকের জন্য হজম করা কঠিনই বটে।
পরিসংখ্যান ব্রাজিলের অবস্থান যতটা জানান দিচ্ছে মাঠের ফুটবলে তাদের অবস্থা আরও নাজেহাল। খেলায় নেই ছন্দ, গোল করা যেন সবচেয়ে দুর্বিসহ কাজ দলটার জন্য। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো কিংবা তরুণ এন্দ্রিকদের মত তারকা থাকা সত্ত্বেও ব্রাজিল বিশ্বকাপ বাছিয়ের ৮ ম্যাচে করেছে মোটে ৯ গোল। হজম করেছে তার থেকে একটা কম। এর মাঝে ৩ ম্যাচে কোনো গোলই করতে পারেনি তারা।
এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল শেষ কবে পড়েছে সেটা খুঁজে বের করা মুশকিল কাজই। তবে এই মুশকিল কাজের সমাধান খুঁজতেই দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে দরিভালকে। এখন পর্যন্ত সেই দায়িত্বে মোটা দাগে তাকে ব্যর্থই বলা যায়।এভাবে চলতে থাকলে খুব বেশি দিন যে ব্রাজিলের ডাগআউটে তাকে দেখা যাবে না তা না বললেই চলে।
No posts available.
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০৯ পিএম

নতুন বছর নতুনভাবে শুরু করার প্রত্যায় নিয়ে মাঠে নামবেন এক ঝাঁক উদীয়মান ফুটবল তারকা। এরমধ্যে ফুটবলবিশ্বে হইচই ফেলে দিতে পারেন এমন অনেক প্রতিভাও আছে। ইউরোপিয় ফুটবলে জানুয়ারির দল বদলের মৌসুমে ঠিকানা বদল করছেন কিছু ফুটবলার।
নতুন ক্লাবে নিজেদের প্রমাণ করা, বিশ্বকাপের স্বপ্ন পূরণ করা, প্রথম কোনো ট্রফি জয়ের লক্ষ্য¬—মোটাদাগে উঠতি তারকাদের প্রধান উদ্দেশ্যই থাকে এসব। ইউরোপিয় ফুটবলের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২০২৬ সালকে স্বরণীয় করে রাখতে পারেন এমন কিছু ফুটবলার দেখে নেওয়া যাক।
অ্যান্তনি সেমেনিও
বোর্নমাউথের উইঙ্গার অ্যান্তনি সেমেনিও ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিতে যাচ্ছেন—এমনটাই গুঞ্জন আছেন। সেটা সত্যি হলে ২৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় আগামী শনিবার বোর্নমাউথের জার্সিতে শেষবার মাঠে নামবেন।
প্রিমিয়ার লিগের বড় ক্লাবগুলো ট্রান্সফার মৌসুমের আগে সেমেনিওর জন্য আগ্রহ দেখিয়েছে। ঘানার এই ফরোয়ার্ড প্রিমিয়ার লিগের চলতি মৌসুমে ১৮ ম্যাচে ৯ গোল ও ৩টি অ্যাসিস্ট করে আলোচনায় এসেছেন। জানুয়ারির দল বদলের মৌসুমে ম্যান সিটিতে যোগ দিয়ে বছরটিকে নিজের করে নিতেই চাইবেন সেমেনিও।
ট্রয় প্যারোট
এজেড আলক্মারের স্ট্রাইকার ট্রয় প্যারট ২০২৬ সালে তাঁর আন্তর্জাতিক রেকর্ডকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রাখছেন। চার দিনের মধ্যে পর্তুগাল ও হাঙ্গেরির বিপক্ষে পাঁচ গোল করে জাতীয় দল আয়ারল্যান্ডকে এই ফরোয়ার্ড পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বকাপ প্লে-অফে।
ক্লাব পর্যায়েও ২৩ বছর বয়সী সাবেক টটেনহাম খেলোয়াড়ের প্যারোটের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর হতে পারে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তিনি আলক্মারের হয়ে ২২ ম্যাচে ১৬টি গোল করেছেন। দুর্দান্ত ছন্দ ইঙ্গিত দিচ্ছে, দ্রুতই ইউরোপের শীর্ষ লিগের কোনও ক্লাবে ফিরে যাওয়ার পথে আছেন তিনি।
নিকো ও’রেইলি
ম্যানচেস্টার সিটির নিকো ও’রেইলি মূলত অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হলেও, ইংল্যান্ডের হয়ে তাঁর বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা প্রবল হতে পারে যদি লেফট-ব্যাক পজিশনে খেলা চালিয়ে যান। ২০ বছর বয়সী এই ফুটবলার ইংল্যান্ডের শেষ দুই বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব ম্যাচে লেফট-ব্যাক পজিশনে খেলেছেন। এই দু’টি ছিল জাতীয় দলের হয়ে তাঁর প্রথম দুই ম্যাচ। সিটিতে রায়ান আইট-নৌরির জায়গায় ওই পজিশনে খেলেছেন তিনি। চোট থেকে আইট-নৌরি ফিরলেও ও’রেইলি সেই পজিশনে সিটির জায়গা ধরে রাখার মতো পারফরম্যান্স দেখাচ্ছেন।
ইয়োয়ানে বিশা
এছাড়া ২০২৬ সালে প্রিমিয়ার লিগ থেকে আলো ছড়ানোর অপেক্ষায় আছেন ডি আর কঙ্গোর ফুটবলার ইয়োয়ানে বিশা। ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ডে এই ফরোয়ার্ডকে দলে ভেড়ায় নিউক্যাসল ইউনাইটেড। জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় চোট পাওয়ায় বিশাকে নতুন ক্লাবে অভিষেকের জন্য অপেক্ষা করতে হয় ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত।
তবে ২৯ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় এখন যেন হারানো সময় পুনরায় অর্জন করছেন—তার প্রথম দুই টুন ম্যাচেই গোল করেছেন। ব্রেন্টফোর্ডের সাবেক এই ফুটবলার এ মৌসুমের আগে কখনও ইউরোপে খেলেননি, তাই এবার শীর্ষ পর্যায়ে নিজেকে প্রমাণ করার চ্যালেঞ্জ নিয়েই মাঠে নামবেন।

বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট ফুটবল বিশ্বকাপ। যা মাঠে গড়াবে ২০২৬ সালে। বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা এতটাই থাকে যে অন্য খেলা অনেকটা আড়ালেই থাকে। এই বছরে বাংলাদেশ ফুটবলে ব্যস্ত সূচিতে পার করবেন ঋতুপর্ণা চাকমারা। আবার জামাল ভূঁইয়া, হামজা চৌধুরীদের আন্তর্জাতিক সূচিতে ম্যাচ কম। ঘরের মাঠে তো নেই বললেই চলে।
বছরের শুরু থেকেই বাংলাদেশের ফুটবলে ব্যস্ততা। নারী ও পুরুষ দল একসঙ্গে থাইল্যান্ড যাবে সাফ ফুটসাল খেলতে। ওই প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন হবে আজ বিকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে। এবারের সাফ নারী ফুটসালে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৭ বছর পর নারী দল ফিরছে এই প্রতিযোগিতায়।
আগামী পহেলা মার্চ থেকে অস্ট্রেলিয়ায় বসবে নারী এশিয়ান কাপের আসর। প্রথমবার এই প্রতিযোগিতায় খেলবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। ওই টুর্নামেন্টে পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থান অর্জন করতে পারলে ২০২৭ সালে ব্রাজিলে হতে চলা নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় ভালো করতে পারলে সুযোগ রয়েছে ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিকে খেলারও।
সিনিয়র দলের এশিয়ান কাপ খেলার পরের মাসেই এপ্রিলে থাইল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপ খেলবে বাংলাদেশ। বয়সভিত্তিক এশিয়ান কাপের এই প্রতিযোগিতাতেও বাংলাদেশ প্রথমবার অংশ নিচ্ছে। যেখানে শীর্ষ চারের মধ্যে থাকতে পারলে ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ নারী বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ থাকবে লাল সবুজের মেয়েদের।
নারী সিনিয়র সাফে টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। সর্বশেষ ২০২৪ সালে বসেছিল সাফের আসর। আরেকটি আসর বসবে ২০২৬ সালে। এই টুর্নামেন্টের স্বাগতিক হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। তবে দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয়।
আরও পড়ুন
| দুই দিন বিরতির পর নারী ফুটবল লিগে আজ তিন ম্যাচ |
|
২০২৬ সালে ঋতুপর্ণাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আসর এশিয়ান গেমস। এই গেমসে পুরুষ ফুটবল দল মূলত অনূর্ধ্ব-২৩ পর্যায়ের। আর ২৩ বছর বয়সের বেশি তিনজন ফুটবলার খেলতে পারবেন মূল একাদশে। এই গেমসের নারী ফুটবলে অবশ্য সিনিয়র জাতীয় দলই খেলে থাকে। নিজেদের মেলে ধরতে এশিয়ান গেমস ঋতুপর্ণা-আফঈদাদের জন্য একটি ভালো মঞ্চ।
২০২৬ সালে পুরুষ ফুটবলে ব্যস্ততা কিছুটা কম। চলমান এএফসি এশিয়ান কাপে আরও একটি করে ম্যাচ বাকি আছে দলগুলোর। আগামী ৩১ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে হামজা-জামালরা লড়বেন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে।
এর আগে ১০ জুন হোম ম্যাচে জাতীয় স্টেডিয়ামে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলেও হারে বাংলাদেশ। তবে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচটি জিতে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষটা ভালো করতে চাইবে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ওই ম্যাচের আগে হোমে কিংবা অ্যাওয়ে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলানোর চেষ্টায় রয়েছে বাফুফে।
এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন শেষে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবলের তেমন নির্ধারিত সূচি নেই। বিশ্বকাপের আগে জুনে ফিফা উইন্ডো রয়েছে। বিশ্বকাপ জোয়ারে এই উইন্ডোতে অনেক দেশই খেলতে চায় না। নারী সাফের মতো পুরুষ সাফও ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পুরুষ সাফ ফুটবল ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাফের পরিকল্পনা ছিল জুন উইন্ডোতে করার, কিন্তু সেই সময় বিশ্বকাপ ফুটবল থাকায় সেটা পিছিয়ে সেপ্টেম্বর-অক্টোবর উইন্ডোতে গিয়ে ঠেকেছে।
সিনিয়র দল ছাড়াও নারী এবং পুরুষ উভয় বয়সভিত্তিক দলের সাফ এবং এএফসির একাধিক টুর্নামেন্ট রয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ঘরোয়া ফুটবলেও চলবে নানা টুর্নামেন্ট। এক যুগ পর কোটি টাকার সুপার কাপ আবার আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে এই বছরের শুরুতেই।
বছরের জুন-জুলাইয়ে হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। এরপরই অনুষ্ঠিত হবে কমনওয়েলথ গেমস। ২৩ জুলাই থেকে ২ আগস্ট স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে হবে এই আসর। ১৯ সেপ্টেম্বর জাপানের নাগোয়া শহরে অনুষ্ঠিত হবে এশিয়ান গেমস। ফলে অন্য ডিসিপ্লিনের মতো গেমসে অংশ নিতে পারে বাংলাদেশর পুরুষ ও নারী ফুটবল দল।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের মধ্যে দেশ। যে কারণে স্থগিত ছিল এবারের নারী ফুটবল লিগের ম্যাচ। ২৯ ডিসেম্বর উদ্বোধনের পর দু’দিন মাঠে গড়ায়নি প্রতিযোগিতা। আজ থেকে আবার ফিরছে এক মাসের এই টুর্নামেন্ট। নতুন সূচি অনুযায়ী পিছিয়ে দেওয়া গত মঙ্গলবারের ম্যাচগুলো হবে আজ। লিগের সবগুলো ম্যাচ হচ্ছে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে।
দিনের প্রথম খেলায় বিকেল সাড়ে ৩টায় আনসার ও ভিডিপি ফুটবল ক্লাবের প্রতিপক্ষ সদ্য পুস্করিণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। এরপর সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় জামালপুরের কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থার মুখোমুখি হবে সিরাজ স্মৃতি সংঘ। দিনের শেষ ম্যাচটি গড়াবে রাত ৮টায়। ঢাকা রেঞ্জার্স ফুটবল ক্লাবকে মোকাবিলা করবে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। এই দলের হয়ে খেলছেন তহুরা খাতুন, দুই শামসুন্নাহার, মনিকা চাকমা, মারিয়া মান্দারা। এছাড়া দুজন নেপালি ফুটবলারও আছে ফরাশগঞ্জে।
দেড় বছর পর ফিফার অর্থায়নে হওয়া নারী লিগ মাঠে গড়ানোর প্রথম দিনেই সমালোচনায় জর্জরিত। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তেমন প্রচারণা ছিল না। দলবদলের জন্যও খুব একটা সময় পায়নি অংশগ্রহণকারী দলগুলো। একটি অনুশীলন সেশন ভরসা নিয়ে ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ পুলিশ ফুটবল ক্লাব। তারকাসমৃদ্ধ দল গড়া রাজশাহী স্টারসও পুরোদমে অনুশীলনে নামার সুযোগ পায়নি।
২০২০ সাল থেকে নারী লীগে নিয়মিত অংশ নিচ্ছে রংপুরের সদ্য পুস্করিনি যুব স্পোর্টিং ক্লাব। লিগে অভিষেক হওয়ার পাঁচ বছরেও ক্লাবটি তেমন সাফল্যের ছোঁয়া পায়নি। এবারও গড়পড়তা দল গড়েছে তারা। এই দল নিয়েই আনসার ও ভিডিপি ফুটবল ক্লাবের বিপক্ষে পরীক্ষায় নামবে দলটি। আনসার দলেও নেই কোনো চমক। বয়সভিত্তিক ও জেলা দলের নারী ফুটবলারদের নিয়ে খেলবে তারা।
একই অবস্থায় কাচারিপাড়া ও সিরাজ স্মৃতি সংঘ দলের। এই দুই ম্যাচের বিপরীতে রাতের ম্যাচটি ঘিরেই সমর্থকদের খানিক উন্মাদনা থাকবে। এই ম্যাচে ফরাজগঞ্জের হয়ে খেলবেন জাতীয় দলের একাধিক তারকা।

ফুটবলে কোচিংয়ের জগতে তিনি পরিচিত ‘স্পেশাল ওয়ান’ নামে। কোচিং ক্যারিয়ারে বহু সাফল্যের অধিকারী জোসে মরিনহো নিজেই ঘোষণা করেছিলেন এই নাম। ক্লাব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা এই কোচ কিন্তু শিষ্যদের কাছে পরিচিত বেশ কড়া ‘হেড মাস্টার’ হিসেবেও।
প্রায়ই বিতর্কিত কথা বলে আলোচনায় আসা এই পর্তুগিজ কোচ মরিনহো একবার নাকি বেশ শাসিয়ে ছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে। মরিনহোর বকাঝকার মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে পর্তুগিজ মহাতারকা নাকি কেঁদেই দেন। রিয়াল মাদ্রিদে থাকাকালীন এমন ঘটনার বর্ণনাই দিলেন রোনালদোর সাবেক সতীর্থ লুকা মড্রিচ।
রিয়াল মাদ্রিদের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে এসি মিলানে যোগ দেওয়া মড্রিচ ইতালীয় সংবাদপত্র কোরিয়েরে দেলা সেরা’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফুটবল ক্যারিযারের স্মৃতি সহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। একটা সময় উঠে আসে সাবেক সতীর্থ মরিনহোর প্রসঙ্গ।
মরিনহোর বকুনিতে রোনালদোর কান্নার ওই ঘটনা নিয়ে মড্রিচ বলেন, ‘আমি দেখেছি কিভাবে মরিনহো ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে লকাররুমে কাঁদিয়ে ছাড়েন¬—এমন একজন খেলোয়াড় যিনি মাঠে সবকিছু উজাড় করে দেন। কারণ একবার সে প্রতিপক্ষের ফুলব্যাককে ধাওয়া করতে ব্যর্থ হয়েছিল।’
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বছরে আরও যত ক্রীড়া উৎসব |
|
অবশ্য কড়া শিক্ষক হলেও মরিনহো যে দারুণ একজন কোচ সেটা মনে করিয়ে দিলেন মড্রিচ। পোর্তো ও ইন্টার মিলানকে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানো এই কোচের পরামর্শেই মড্রিচকে দলে ভেড়ায় রিয়াল। এরপর তো দীর্ঘ এক যুগ কাটিয়ে স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার। মড্রিচ বলেন, ‘একজন কোচ এবং একজন মানুষ হিসেবে তিনি দারুণ। আমাকে রিয়াল মাদ্রিদে দেখতে চাওয়া একজন ছিলেন তিনি।মরিনহো ছাড়া আমি কখনোও সেখানে পৌঁছাতাম না। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, আমি তাকে মাত্র এক মৌসুম পেয়েছি।’
৪০ বছর বয়সী রোনালদো খেলছেন এখন আল নাসরে। পর্তুাগালের এই মহাতারকা মরিনহোর অধীনে মাদ্রিদে তিন বছর (২০১০–২০১৩) ছিলেন। মরিনহোর বকায় রোনালদোর কেঁদে দেওয়ার ঘটনা ২০১৫ সালে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর জীবনীতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করেছিলেন স্প্যানিশ সাংবাদিক গুইলেম বালাগুর তার লেখা বইয়ে।
৬২ বছর বয়সী মরিনহো তুর্কি ক্লাব ফেনেরবাচের দায়িত্ব ছেড়ে গত সেপ্টেম্বরে দুই বছরের চুক্তিতে পর্তুগালের ক্লাব বেনফিকার দায়িত্ব নেন। ক্যারিয়ারে এফসি পোর্তো, চেলসি, ইন্টার মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং এ.এস. রোমার হয়ে মোট ২৬টি বড় শিরোপা জিতেছেন তিনি। এছাড়া ১৭ মাস টটেনহ্যাম হটস্পারের কোচও ছিলেন।
কোচিং ক্যারিয়ারে প্রায়ই দলের অনেক ফুটবলারের সঙ্গে মরিনহোর রেষারেষির খবর শোন যেত। ঠোঁট কাটা স্বভাবের এই কোচ সবসময় যা বলার সরাসরি মুখের ওপরই বলে দিতেন। সাবেক গুরুর এই গুণের সঙ্গে এসি মিলানের বর্তমান কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রির মিল খুঁজে পান মড্রিচ, ‘মরিনহো খেলোয়াড়দের সঙ্গে খুব সরাসরি কথা বলেন, তবে সততার সঙ্গে। তিনি সার্জিও রামোস কিংবা ক্লাবে নতুন যোগ দেওয়া খেলোয়াড়—উভয়ের সঙ্গেই একই ব্যবহার করতেন, যা বলার প্রয়োজন, তা সরাসরি বলতেন। আলেগ্রিওও একই রকম: তিনি কী ঠিক, কী ভুল তা মুখোমুখি বলে দেন। সততা হলো মূল ভিত্তি।’

মন খারাপ করা খবরে বছরের শুরু হলো ব্রাজিলের। রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস হৃদ্রোগজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার।
হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষার পর রবার্তো কার্লোসের পুরো শরীরের এমআরআই স্ক্যান করা হয়। যেখানে হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা ধরা পড়ে। তারপরই ৫২ বছর বয়সী এই সাবেক ডিফেন্ডারের জরুরি অস্ত্রোপচার করানো হয় এবং শরীরে একটি টিউব স্থাপন করা হয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও-আস’এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ৪০ মিনিটে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও জটিলতার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বছরে আরও যত ক্রীড়া উৎসব |
|
অস্ত্রোপচারের পর রোবের্তো কার্লোসের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে সতর্কতামূলকভাবে তাঁকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। নিজের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে কার্লোস বলেছেন, ‘আমি এখন ভালো আছি।’
এর আগে জানা যায়, সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচি শেষে নিজ দেশ ব্রাজিলে ফেরার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরসহ টানা ব্যস্ততার মধ্যেই তাঁর শরীরে সমস্যা ধরা পড়ে। শুরুতে পায়ে ছোট একটি রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানেই পরবর্তী পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা শনাক্ত হয়, যার ফলে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক রবার্তো কার্লোস। শক্তিশালী বাঁ পায়ের জন্য পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই নিয়মিত সেট-পিসের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত টুর্নোয়া দে ফ্রান্সের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪০ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিকটি আজও ফুটবল ইতিহাসের বিস্ময়কর গোল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন কার্লোস। সেই ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হয়। চার বছর পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে তিনি ফিরে আসেন আরও দৃঢ হয়ে। সেই আসরে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিল দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরে দুইয়ে থাকা কিংবদন্তি রবার্তো।