
আগের ম্যাচেই পেনাল্টি মিস করে দলের জয়ও হাতছাড়া করেছিলেন। সেই হতাশা ভুলে পরের ম্যাচে একক নৈপুণ্যেই দলকে এনে দিলেন দারুণ এক জয়।
লা লিগায় গতকাল রাতে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে আতলেতিকো মাদ্রিদের ৩-২ গোলের রোমঞ্চকর জয়ে হ্যাটট্রিক করেন জুলিয়ান আলভারেজ। প্রথমে আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ১-২ গোলে পিছিয়েও পড়ে দিয়োগো সিমিওনের দল। এরপর শেষ দিকে আরও দুই গোলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দলের ত্রাতা হিসেবে আবির্ভূত হন আলভারেজ।
লা লিগায় ২০২৫-২৬ মৌসুমে এ নিয়ে মাত্র দ্বিতীয় জয় পেল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ছয় ম্যাচে ২ জয়, ৩ ড্র ও এক হারে ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে আছে স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ঘরের মাঠে নাটকীয় জয়ে সব পরিসংখ্যানেই প্রতিপক্ষ থেকে এগিয়ে ছিল আতলেতিকো মাদ্রিদ। ৬১ শতাংশ বল দখলে রেখে ২০টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখে তারা। আর ৯টি শটের মধ্যে তিনটি লক্ষ্যে রেখে দুটিতেই সফল হয় ভায়েকানো।
ম্যাচের শুরুতেই আতলেতিকোকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। ১৫ মিনিটে মার্কোস ইয়োরেন্তের ক্রস থেকে ভলিতে গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথামার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সমতায় ফিরে ভায়েকোনো। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত শটে আতলেতিকোর গোলকিপার ইয়ান ওবলাককে পরাস্ত করেন সফরকারীদের লেফট-ব্যাক পেপ চাভারিয়া।
৭৭ মিনিটে ভায়েকানোর বদলি নামা অ্যালভারো গার্সিয়ার গোলে পিছিয়ে পড়ে আতলেতিকো। প্রথমে অফসাইড ধরা হলেও ভিএআর নিশ্চিত করে গোল বৈধ। ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর মৌসুমের আরও একবার পয়েন্ট হারানোর হতাশা চোখ রাঙাচ্ছিল সিমিওনের দলকে। তবে এদিন দলকে উদ্ধার করার দায়িত্ব যেন নিজ হাতেই নিয়েছিলেন আলভারেজ।
মিনিট তিনেক পরেই আলভারেজের গোলে ২-২ গোলে সমতায় ফিরে আতলেতিকো। সিমিওনের হেড ভায়েকানোর গোলকিপার অগাস্টো বাতালিয়ার রুখে দিলেও রিবাউন্ড থেকে বল জালে জড়ান আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড সেটি জালে জড়ান তিনি।
এরপর ৮৮ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ এক শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে আতলেতিকোকে রোমাঞ্চকর এক জয় উপহার দেন আলভারেজ।
গত সপ্তাহে মায়োর্কার বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে পেনাল্টি মিস করেছিলেন আলভারেজ। মৌসুমের প্রথম ম্যাচে এস্পানিওলের বিপক্ষে ২-১ হারের পর থেকে গোলও পাচ্ছিলেন না তিনি। এবার ঠিকই চেনা ছন্দে ফিরে এলেন ২৫ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত আলভারেজ বলেন,
‘আত্মবিশ্বাস ফেরাতে আমাদের জয়ের দরকার ছিল। আমরা ভালোই খেলছিলাম, কিন্তু ছোটখাটো ভুলের কারণে ফল আসছিল না। এখন আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’
নাটকীয় এই জয়ের পর এবার মৌসুমের প্রথম ডার্বির পরীক্ষা আতলেতিকোর। আগামী শনিবার নিজেদের মাঠে রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে তারা।
No posts available.
১৭ মার্চ ২০২৬, ৪:০১ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বাকি মাস তিনেক। মেগা এই ইভেন্টকে সামনে রেখে চলতি মাসে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল। এই দুই ম্যাচের জন্য গতকাল ২৬ সদস্যের ঘোষিত দলে জায়গা হয়নি নেইমার জুনিয়রের।
বিশ্বকাপের আগে শেষ অ্যাসাইনমেন্টেও নেইমার দল না পাওয়ায় ব্রাজিল সমর্থকদের মনে তাই একটাই প্রশ্ন, দলের পোস্টার বয়ের বিশ্বকাপ কি তবে এখানেই শেষ?
ব্রাজিল দলে ফেরার জন্য নেইমারের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে তাঁর শরীর। ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪০টিরও বেশি চোট এবং সব মিলিয়ে ১ হাজার ৫০০ দিনেরও বেশি মাঠের বাইরে কাটাতে হয়েছে তাঁকে।
সবশেষ ২০২৩ এর অক্টোবরে পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ে যাওয়ার পর প্রায় এক বছর মাঠের বাইরে থেকে ফেরেন নেইমার। ২০২৪ সালের শেষদিকে আল হিলাল ছেড়ে সান্তোসে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ফিটনেস নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা দানা বেঁধেছে। সান্তোসের হয়ে খেলার সময় চোট এড়াতে নেইমারকে টানা ম্যাচ না খেলিয়ে বিশ্রাম দিয়ে খেলানো হচ্ছে।
গত ১০ মার্চ মিরাসোল বনাম সান্তোসের ম্যাচটি গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন কোচ আনচেলত্তি। মূলত নেইমারের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স যাচাই করতেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ম্যাচে নেইমার মাঠে নামেননি। কোচিং স্টাফরা সতর্কতামূলক বিশ্রাম হিসেবে দেখলেও ব্রাজিল কোচ এবং ফেডারেশনের নীতিনির্ধারকরা বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেননি।
গত বছরের মে মাসে ব্রাজিলের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তি এর আগে অনেকবারই বলেছেন, দলে সুযোগ পেতে শতভাগ ফিট থাকার কোন বিকল্প নেই। গতকাল দল ঘোষণায় নেইমারকে না রাখার কারণ হিসেবে আবারও সেটিই মনে করিয়ে দেন এই ইতালিয়ান কোচ, ‘নেইমার পুরোপুরি ফিট নয় বলেই তাকে ডাকা হয়নি।‘
দলে জায়গা না পেয়ে নিজের মনের কষ্ট চেপে রাখতে পারেননি নেইমার। আনচেলত্তির সিদ্ধান্তের পর জনসমক্ষে নিজের হতাশা প্রকাশ করেছেন এই তারকা। ব্রাজিল কোচ অবশ্য জানিয়েছেন নেইমারের সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
তবে নেইমারের ফেরাটা সহজ হবে না। সবশেষ ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামা হয়নি এই তারকার। নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন পূরণ করতে হলে আগামী কয়েক সপ্তাহে মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই কোচ আনচেলত্তির মন জয় করতে হবে নেইমারকে।
১৯ মে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। এর মাঝে নেইমারের হাতে সময় আছে দুই মাস। এই সময়ে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে অন্তত ১৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা-মেক্সিকোতে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের ফ্লাইট ধরতে হলে অবিশ্বাস্য কিছুই করতে হবে ব্রাজিলের হয়ে সর্বোচ্চ গোল করা এই তারকাকে।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়া ম্যাচের জন্য দল ঘোষণা করেছেন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেত্তি। কিন্তু সে দলে জায়গা হয়নি তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়রের। ভক্ত-সমর্থকেরা পুড়ছেন ক্ষোভে। আলোচনা-সমালোচনাও হচ্ছে ব্যাপক।
এর মধ্যেই মুখ খুললেন থিয়াগো সিলভা। তাঁর মতে, নেইমার ফর্মে থাকলে তাঁকে দলে না নেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। টিএনটি স্পোর্টসকে সাক্ষাৎকারে সিলভা বলেন, 'আমার কাছে এটা নিয়ে কোনো বিতর্কই নেই। নেইমার যদি ভালো খেলতে থাকে, তাহলে তাকে অবশ্যই বিশ্বকাপে নিতে হবে।'
৩৯ বছর বয়সী সিলভা মনে করেন, বর্তমান পারফরম্যান্স বিবেচনায় নেইমারকে দলে রাখা বাধ্যতামূলক। এই ডিফেন্ডার বলেন,
'এখন যেভাবে সে খেলছে, তাকে দলে নিতেই হবে। এ নিয়ে কোনো তর্ক নেই।'
নেইমারের মাঠের প্রভাবও তুলে ধরেন সিলভা। তাঁর ভাষায়, 'নেইমার যখন মাঠে থাকে, প্রতিপক্ষ দলের জন্য সে আগেই একটা মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।'
চোট ও ফর্মহীনতার ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ব্রাজিল দলে নেইমারের উপস্থিতি অনিয়মিত। তবে সাম্প্রতিক নজরকাড়া পারফরম্যান্সে তিনি আবারও আলোচনায় ফিরেছেন। সেই প্রেক্ষাপটে সিলভার এই মন্তব্য ব্রাজিল দলে নেইমারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। কোচ কার্লো আনচেলত্তির জন্য কঠিন চাপও।
বিশ্বকাপের আগে দল চূড়ান্ত করার সময় ঘনিয়ে আসায়, নেইমারকে ঘিরে এই আলোচনা আগামী দিনগুলোতে আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিতই দিচ্ছে।

ব্রাজিল জাতীয় দলে ফেরার অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো নেইমার জুনিয়রের। সান্তোসের হয়ে ছন্দে ফেরার আভাস দিলেও কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি সেলেসাওদের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার। নিজেকে প্রমাণের মরিয়া চেষ্টার সুযোগ না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
দল ঘোষণার পর সাও পাওলোতে একটি ম্যাচ চলাকালীন মাইক্রোফোন হাতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন নেইমার। তিনি বলেন,
‘আমি আজ কথা বলব, কারণ আমি আর চুপ থাকতে পারছি না।এটা স্বাভাবিক যে, দলে সুযোগ না হওয়ায় আমি হতাশ ও ব্যথিত।‘
তবে বাদ পড়লেও ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন যে এখনও ফিকে হয়ে যায়নি, সেটিও স্পষ্ট করে দিয়েছেন নেইমার।
‘লক্ষ্য এখনো অটুট আছে। প্রতিদিনের অনুশীলন আর প্রতিটি ম্যাচ ধরে এগোচ্ছি। আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাবই। বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা এখনো বাকি।‘
মাঠে নামার জন্য নেইমার ব্যাকুল হলেও কোচ আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, শুধুমাত্র নামের ভারে কাউকে দলে নেবেন না তিনি। সান্তোসের হয়ে গত দুই ম্যাচে দুই গোল ও এক অ্যাসিস্ট করলেও কোচের চোখে নেইমার এখনো পুরোপুরি ফিট নন।
সংবাদ সম্মেলনে ইতালিয়ান এই কোচ বলেন,
‘আমি কেন তাকে ডাকিনি? কারণ সে এখনো ১০০ শতাংশ ফিট নয়। আমার এমন খেলোয়াড় প্রয়োজন যারা শারীরিক ও মানসিকভাবে পূর্ণ সক্ষম। নেইমারকে খেলা চালিয়ে যেতে হবে এবং প্রমাণ করতে হবে যে সে এখন বিশ্বমঞ্চে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত।‘
২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণার আগে নেইমারের হাতে সময় আছে মাত্র দুই মাস। আগামী ১৯ মে বিশ্বকাপের দল ঘোষণা করবেন আনচেলত্তি। এই সময়ে সান্তোসের হয়ে ব্রাজিলিয়ান লিগ, কোপা দো ব্রাজিল এবং কোপা সুদামেরিকানা মিলিয়ে অন্তত ১৬টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবেন নেইমার। এই তারকার জন্য প্রতিটি ম্যাচই হবে জাতীয় দলে ফেরার একেকটি ‘অডিশন’।

ফুটবলকে বিদায় জানালেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার সার্জিও রোমেরো। সোমবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ তাঁর অবসরের খবরটি নিশ্চিত করেছে।
গত বছর আর্জেন্টিনোস জুনিয়রসের হয়ে কোপা আর্জেন্টিনায় নিজের শেষ ম্যাচটি খেলেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী রোমেরো। শৈশবের রেসিং ক্লাবে ব্যাক-আপ গোলকিপার হিসেবে ফেরার ইচ্ছা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি।
২০০৭ সালে অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৮ সালে বেইজিং অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জয়ের মধ্য দিয়ে রোমেরোর উত্থান। দিয়াগো ম্যারাডোনার হাত ধরে জাতীয় দলে অভিষেক হওয়া এই গোলকিপার আর্জেন্টিনার হয়ে রেকর্ড ৯৬টি ম্যাচ খেলেছেন।
আরও পড়ুন
| যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে অনিচ্ছুক ইরান |
|
রোমেরোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত ছিল ২০১৪ বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টাইব্রেকারে দুটি পেনাল্টি রুখে দিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। যদিও জার্মানির বিপক্ষে ফাইনালে ১-০ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয় লিওনেল মেসিদের সেই দলের। ২০১৮ বিশ্বকাপেও রোমেরোর খেলার কথা থাকলেও চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ছিটকে যান তিনি।
২০০৬ সালে রেসিংয়ের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা রোমেরো ইউরোপে পাড়ি জমান ডাচ ক্লাব এজেড আলকমারের হয়ে, যেখানে ২০০৯ সালে লিগ শিরোপা জেতেন। তারপর সাম্পদোরিয়া ও মোনাকো হয়ে ২০১৫ সালে যোগ দেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে। ওল্ড ট্রাফোর্ডে মূলত ব্যাক-আপ গোলকিপার হলেও ২০১৭ সালে রেড ডেভিলদের ইউরোপা লিগ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে সব মিলিয়ে ৩৭১টি ম্যাচ খেলেছেন রোমেরো।
ফুটবল থেকে অবসর নিলেও মাঠ ছাড়ছেন না রোমেরো। আর্জেন্টাইন সাংবাদিক ফেদে ক্রিস্তোফানেল্লির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই তাকে ডাগআউটে নতুন ভূমিকায় দেখা যাবে।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নিজেদের ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোয় আয়োজনের দাবি জানিয়েছে ইরান। এ নিয়ে ইতিমধ্যে ফিফার সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা শঙ্কার কারণেই তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেলতে আগ্রহী নয়। মঙ্গলবার মেক্সিকোয় অবস্থিত ইরানের দূতাবাসও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাদের। 'যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি আমাদের দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন বলে জানান, তাহলে আমরা সেখানে ভ্রমণ করব না,' সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এমনটাই মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে জানান, ইরানের ম্যাচগুলো মেক্সিকোয় আয়োজনের বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন
| চার গোলকিপারকেই হারিয়ে চরম সংকটে বায়ার্ন |
|
বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে ইরানের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে নিউ জিল্যান্ড, মিশর ও বেলজিয়াম। সূচি অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা ইরানের। একই ভেন্যুতে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও খেলার কথা রয়েছে তাদের। আর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচটি সিয়াটলে মিশরের বিপক্ষে হওয়ার কথা।
সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, টুর্নামেন্ট চলাকালে ইরানের বেস ক্যাম্প হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে অ্যারিজোনার টাকসন শহর।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে, তবে নিজেদের নিরাপত্তার স্বার্থেই তাদের যুক্তরাষ্ট্রে না যাওয়াই ভালো। তার এ মন্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। দেশটি স্পষ্ট করে দেয়, কোনোভাবেই তাদের জাতীয় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া সম্ভব নয়।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো অবশ্য আশ্বস্ত করেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অবস্থান কিছুটা অনিশ্চয়তার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে। এর জেরে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে ওঠে, যার প্রভাব পড়েছে এখন ক্রীড়াঙ্গনেও।