
নিজেদের প্রথম ম্যাচ জিতে অর্ধেক কাজ আগেই সেরে রেখেছিল বাংলাদেশ। এবার বাকি অর্ধেক কাজ করে দিল ভারত। পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের সেমি-ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে দিল প্রতিবেশি দেশটি।
মালদ্বীপে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে ভারত। তাদের জয়ে 'বি' গ্রুপ থেকে সেমি-ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে গেছে বাংলাদেশ ও ভারতের। আর সবার আগে বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে পাকিস্তানের।
গত মঙ্গলবার এই গ্রুপের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছিল বাংলাদেশ। নিজের অভিষেক ম্যাচে চমৎকার দুইটি গোল করেছিলেন রোনান সুলিভান। ওই জয়েই সেমি-ফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ।
এবার ভারতের কাছেও পাকিস্তানের পরাজয়ে নিশ্চিতই হয়ে গেছে সেমি-ফাইনালের টিকিট। কারণ 'বি' গ্রুপে দুই ম্যাচের দুটিই হেরেছে পাকিস্তান। অন্য দিকে একটি ম্যাচ খেলে সেটিই জিতে গেছে বাংলাদেশ ও ভারত।
বৃহস্পতিবারের ম্যাচে তৃতীয় মিনিটে ভারতের হয়ে প্রথম গোল করেন বিশাল যাদব। আর দ্বিতীয়ার্ধে ৬৪ ও ৮৮ মিনিটে বাকি দুই গোল করেন ওমাং দদুম।
এখন গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে শনিবার বিকেলে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। এই ম্যাচের জয়ী দল সেমি-ফাইনালে খেলবে 'এ' গ্রুপের রানার্স-আপের সঙ্গে। আর 'এ' গ্রুপের চ্যাম্পিয়নদের সঙ্গে খেলতে হবে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের পরাজিত দলের।
No posts available.
২৬ মার্চ ২০২৬, ৬:২১ পিএম

আরও একবার কঠিন এক সময়ের সামনে দাড়িয়ে ইতালির ফুটবল। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আজ্জুরিরা আরও একবার বিশ্বকাপের দর্শক হয়ে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে আছে। আজ বিশ্বকাপের প্লে-অফের সেমিফাইনালে জেনেরো গাত্তুসোর দলের প্রতিপক্ষ উত্তর আয়ারল্যান্ড।
নিজেদের মাঠ বারগামোর নিউ ব্যালেন্স অ্যারেনাতে ইতালি মাঠে নামবে আজ বাংলাদেশ সময় রাত একটায়। বিজয়ী দল ওয়েলস বা বসনিয়া-হার্জেগোভিনা’র মুখোমুখি হবে। বিশ্বকাপে গ্রুপ বি-তে সহ-আয়োজক কানাডা, সুইজারল্যান্ড এবং কাতারের সঙ্গী হবে তারা।
মহাগুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে অনেক আগ থেকেই ঘুম হারাম হয়েছে ইতালি কোচ গাত্তুসোর। ঘুমের ঘোরেই নাকি তাঁর কানে বাজে ইতালি সমর্থকদের আকুতি, ‘আমাদের বিশ্বকাপে নিয়ে যাও।’ খেলোয়াড় হিসেবে গাত্তুসো বড় ম্যাচের আগে ঘুমাতে পারতেন না। কোচ হিসেবেও তাঁর এখনো একই অবস্থা, তবে ডাক্তার থেকে নেওয়া ঘুমের ওষুধ কিছুটা মুক্তি দিচ্ছে ৪৮ বছর বয়সী কোচকে।
ইতালিকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়ার গুরু দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া গাত্তুসোর মুখ থেকেই শোনা যাক কেমন যাচ্ছে তাঁর কঠিন সময়টা, ‘ভোর ৪.৩০ বা ৫টায় আমি জেগে উঠি, চোখ বড় হয়ে ঘোরার মতো অবস্থায় থাকি। আমি যদি বলি, রাতে মাথা বালিশে রাখার পর “আমাদেরকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাও, আমাদেরকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাও”—এই কথাগুলো শুনি না বলি, তাহলে সেটা মিথ্যা বলা হবে।’
সাবেক এসি মিলান মিডফিল্ডার গত জুনে লুসিয়ানো স্পালেত্তিকে স্থলাভিষিক্ত হয়ে ইতালির দায়িত্ব নেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্লে অফের এই ম্যাচটিকেই নিজের কোচিং ক্যারিয়ারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বলছেন ইতালি কোচ, ‘আমি কিছু বছর ধরে কোচিং করছি, কিন্তু নিশ্চিতভাবে এই ম্যাচ আমার কোচিং ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ। আমি প্রস্তুত, এবং বিশ্বাস করুন, আমি খারাপ ফলাফল নিয়ে ভাবছি না, ইতিবাচকভাবেই চিন্তা করছি।’
দু’বার বিশ্বকাপে খেলতে না পারার রক্ত বয়ে বেড়ানো ইতালির সমর্থকদের নিয়ে গাত্তুসো বলেন, ‘এটা আমাদের উপর নির্ভর করছে। আমরা যদি মাঠে উপস্থিত থাকি এবং দেখাতে পারি যে আমরা সম্পূর্ণভাবে মনোযোগী, তাহলে বাকি সবই তার ফলাফল হিসেবে আসবে। আমরা কারো কাছ থেকে কিছু চাইতে পারি না, আমাদের নিজের ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে।
ইতালি কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমাদের শান্ত থাকা এবং বোঝা দরকার যে আমরা এমন খেলোয়াড়দের সঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছি, যাদের রক্ত তাদের শিরায় দৌড়াচ্ছে। কেউ বলে আমাদের কোনো পরিচয় নেই, তাদের জন্য এটা ঠিক। আমাদের প্রমাণ করতে হবে যে আমরা প্রস্তুত। সহজ ম্যাচ আর নেই।’
গত কয়েক বছর ধরে হতাশার মুখোমুখি হওয়া নাজিওনালে সমর্থকরা তাদের দলের প্রতি ধৈর্য ও বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এতে দোষের কিছুও দেখছেন না ইতালি কোচ, ‘এটা সত্য, তবে দায়িত্ব সমর্থকদের ওপর নেই, তারা দু’টি বড় হতাশার সম্মুখীন হয়েছে। এটি অতীত নিয়ে আলোচনা করার সময় নয়। আমাদের এই বিশ্বকাপে যেতে হবে, কারণ এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই বহু বছর ধরে যেখানে ছিলাম, সেখানে ফিরে যাই এবং সেই যাত্রায় আমরা মুখ্য চরিত্র হই।’
বিশ্বকাপের টিকিটি নিশ্চিতে দুই ধাপের প্রথম ধাপ উতরে আজ কী প্রত্যাবর্তনের শুরুর গল্পটা লেখার চ্যালেঞ্জ গাত্তুসোর ইতালির। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড সেই গল্পই ডে বদলে দিতে পারে ফুটবল ইতিহাসের আরেকটি চূড়ান্ত ট্রেজেডির।

ফিফা প্রীতি ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের শুরুর একাদশে সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত পাঁচ প্রবাসী ফুটবলার। তাঁরা হলেন—হামজা চৌধুরী, সমিত সোম, জায়ান আহমেদ, তারিক কাজী ও ফাহামিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় শুরু হবে এই ম্যাচ।
গোলকিপার পজিশনে পরিবর্তন এসেছে। মেহেদী হাসান শ্রাবণকে একাদশে রেখেছেন কোচ। ডিফেন্সে রয়েছেন শাকিল আহাদ তপু, তারিক কাজী ও সাদ উদ্দিন।
অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া একাদশে জায়গা হারিয়েছেন। সোহেল রানা সিনিয়রকে অধিনায়ক করা হয়েছে। ফাহামিদুল একাদশে ফিরেছেন। সমিত, জায়ান আহমেদও থাকছেন আক্রমণে।
র্যাঙ্কিং ও মানের বিচারে এই ম্যাচে লাল-সবুজের দলের চেয়ে ঢের এগিয়ে স্বাগতিকেরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের (১০৩) বিপক্ষে লড়াই হবে বাংলাদেশের (১৮১)।
হ্যানয়ের হ্যাং ডে ম্টেডিয়ামের ম্যাচের আগে দুই দল মোটে তিনবার সাক্ষাত হয়েছে। যার দুটি হয়েছে ড্র, অন্যটিতে জয় ভিয়েতনামের। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছে দুই যুগ আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। প্রীতি ম্যাচে দেখা হচ্ছে এবারই প্রথম।
বাংলাদেশের শুরুর একাদশ:
মেহেদি হাসান শ্রাবণ, শাকিল আহাদ তপু, হামজা চৌধুরী, মিরাজুল ইসলাম, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম, তারিক কাজী, ফাহামিদুল ইসলাম, সোহেল রানা (অধিনায়ক), জায়ান আহমেদন, সাদ উদ্দিন ও সমিত সোম।

৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ বাংলাদেশের। তার প্রস্তুতি হিসেবেই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ছয়টায় ভিয়েতনামের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলবে হাভিয়ের কাবরেরার দল। র্যাঙ্কিং ও মানের বিচারে এই ম্যাচে লাল-সবুজের দলের চেয়ে ঢের এগিয়ে স্বাগতিকেরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৭৮ ধাপ এগিয়ে থাকা ভিয়েতনামের (১০৩) বিপক্ষে লড়াই হবে বাংলাদেশের (১৮১)।
ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের হ্যাং ডে ম্টেডিয়ামের ম্যাচের আগে দুই দল মোটে তিনবার সাক্ষাত হয়েছে। যার দুটি হয়েছে ড্র, অন্যটিতে জয় ভিয়েতনামের। দুই দল সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছে দুই যুগ আগে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে। প্রীতি ম্যাচে দেখা হচ্ছে এবারই প্রথম।
দুই দলের প্রথম প্রীতি ম্যাচে জয় ছাড়াও ভিন্ন দুই লক্ষ্য বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের। বাংলাদেশকে হারানো ছাড়াও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে নিজেদের শেষ ম্যাচে মালয়েশিয়াকে হারাতে পারলে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে একশর ঘরে আসার সুযোগ তৈরি হবে ভিয়েতনামের।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ঢের এগিয়ে থাকা স্বাগতিকদের বিপক্ষে ভালো পারফরম্যান্স করে জয় ছিনিয়ে আনা এবং সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাছাইয়েল সবশেষ ম্যাচে তার প্রতিফলন ঘটানো। তবেই এশিয়া সেরা টুর্নামেন্টের বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয়স্থানে থাকার সম্ভবনা তৈরি হবে বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ ফেভারিট না হলেও সবশেষ আন্তজার্তিক ম্যাচে ভারতকে হারিয়েছে তারা। হংকং ও নেপালের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ ড্র করার পর প্রতিবেশিদের বিপক্ষে জয়টি আসে। অন্যদিকে এএফসি এশিয়ান কাপে বাছাই পেরিয়েছে ভিয়েতনাম। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচের আগে স্বাগতিকদের জন্যও এই ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ।
ভেন্যু বিবেচনায় হ্যানয়েরে হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে নিয়মিতই খেলে থাকেন ভিয়েতনামের খেলোয়াড়রা। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য একবারেই নতুন এই মাঠ। ম্যাচটি সত্যিকার অর্থে কঠিনই হতে যাচ্ছে জামালদের জন্য। তবে ম্যাচের আগে সফরকারী দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “এটি খুবই কঠিন ম্যাচ হবে। তবে বাংলাদেশ ক্রমাগত উন্নতি করছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভিয়েতনামের সঙ্গে লড়াই করার সামর্থ্য আছে আমাদের।”
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ওই ম্যাচটিতেই মূল নজর বাংলাদেশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার। তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে সামনের ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তারা সাউথ-ইস্ট এশিয়ার সেরা দলগুলোর একটি। তাদের বিপক্ষে খেললে আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে।”
ভিয়েতনামের বিপক্ষে এক্স ফ্যাক্টর হতে পারেন হামজা চৌধুরী। লেস্টার সিটি অধিনায়কের মতো সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় দলে যোগ দিয়েছেন সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম, জায়ান চৌধুরিদের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা। তাদের অন্তর্ভুক্তিতে বাংলাদেশের শক্তি আরও বেড়েছে মনে করেন ভিয়েতনাম কোচ কিম সাং সিক।
তিনি বলেন, “বিগত বছরগুলোর তুলনায় বাংলাদেশ অনেক বদলে গেছে। কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে স্কোয়াড, বিশেষ করে বিশ্বের নানা প্রান্তে খেলা ফুটবলারদের সংযোজন তাদের শক্তি বাড়িয়েছে।”
ভিয়েতনামের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে হামজা চৌধুরীর শুরুর একাদশে থাকছেন কিনা সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছুই জানাননি কোচ। কারণ, চোট কাটিয়ে সম্প্রতি ফিরেছেন তিনি। তাই কাবরেরার সঙ্গে বোঝাপড়ার পরই সিদ্ধান্ত হামজা নিজেই নিতে পারেন।
আরেক প্রবাসী ফুটবলার সমিত সোমের শুরুর একাদশ নিয়েও কথা হচ্ছে। নভেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচের আগে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে সেকেন্ড হাফে নামেন তিনি। আজকের ম্যাচেও সমিত শুরুর একাদশে নাও খেলতে পারেন।
হ্যানয়ের হ্যাং ডে স্টেডিয়ামে ভিয়েতনামের বিপক্ষে বাংলাদেশের ফল কেমন হবে সেটা সময় বলে দেবে। তবে ফিফা প্রীতি ম্যাচে নেপাল, ভুটানের মতো দলের বিপক্ষে খেলা বাংলাদেশ যে গেরো খুলে শক্ত প্রতিপক্ষ বেছে নিয়েছে, এই বিষয়টা বড় করে দেখছেন অনেকেই।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি এখন পুরোদমে চলছে। মহাদেশীয় প্লে-অফের পাশাপাশি দলগুলো বিশ্বমঞ্চের মহারণের আগে প্রীতি ম্যাচ খেলে গা ঝালিয়ে নিচ্ছে। প্রায় এক দশক পর গিলেট স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি—ব্রাজিল ও ফ্রান্স। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ‘রোড টু ২৬’ প্রদর্শনী সিরিজের অংশে আজ বাংলাদেশ সময় রাত দুইটায় মাঠে নামবে এই দুই দল।
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিলের সময়টা খুব একটা ভালো কাটেনি। কোচ ও কৌশলগত পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে দলটিকে। তবে শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট তালিকায় পঞ্চম হয়ে কার্লো আনচেলোত্তির দল বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়।
২০২৫ সালের জুনে সেলেসাওয়ের দায়িত্ব নেওয়া আনচেলোত্তি এই ম্যাচে স্কোয়াডে ব্যাপক রদবদল করতে পারেন। প্রথম তিন ম্যাচে অপরাজিত থাকার পর বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচে বলিভিয়ার কাছে হেরে যায় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এরপর চারটি প্রীতি ম্যাচে পরীক্ষামূলক একাদশ নিয়ে খেলেছে তারা—যেখানে দুটি জয়, একটি ড্র ও একটিতে হেরেছে।
অন্যদিকে ফ্রান্স টানা সাত ম্যাচে অপরাজিত থেকে ব্রাজিলের মুখোমুখি হচ্ছে। দিদিয়ের দেশমের দলের সবেশেষ হার ছিল গত জুনে নেশনস লিগে স্পেনের কাছে ৫-২ গোলে। বাছাইপর্বে গ্রুপ ডি থেকে হেসেখেলেই বিশ্বকাপের টিকিট কাটে ফ্রান্স। কিলিয়ান এমবাপেরা একমাত্র পয়েন্ট হারায় আইসল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ ড্র করে।
ফ্রান্স ও ব্রাজিল¬—দুই দলেই রয়েছে বিশ্বের সেরা ক্লাবগুলোতে খেলার মতো মানসম্পন্ন তারকারা। ফলে এই হাই-ভোল্টেজ প্রীতি ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দুই দলই নিজেদের শক্তি যাচাই ও নতুন সমন্বয় পরীক্ষা করার সুযোগ পাবে।
ব্রাজিল কোচ আনচেলোত্তি সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে একাদশ নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার পর দক্ষিণ কোরিয়াকে ৫-০ গোলে উড়িয়ে দিলেও জাপানের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে যায় তারা। এরপর সেনেগালকে ২-০ গোলে হারিয়ে তিউনিসিয়ার সঙ্গে ড্র করে ব্রাজিল।
ব্রাজিল শিবিরে চোট ও অনুপস্থিতির তালিকা বেশ লম্বা। এই বিরতিতে দলে ডাক পাননি নেইমার। এছাড়া চোটের দীর্ঘ তালিকায় আছেন গ্যাব্রিয়েল, অ্যালেক্স সান্দ্রো, রদ্রিগো, আলিসন বেকার, ব্রুনো গিউমেরেস, এদের মিলিতাও ও এস্তেভাও। অধিনায়ক মারকিনিয়োস অনুশীলনে পুরোপুরি অংশ নিতে পারেননি; ডান উরুর চোটে এই ডিফেন্ডারের খেলা নিয়েও আছে সংশয়।
তবে ব্রাজিল আক্রমণভাগে চারজন খেলোয়াড় নিয়ে নামতে পারে, রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস আর বার্সেলোনার রাফিনহা শুরুর একাদশে থাকা নিশ্চিতই। ফরোয়ার্ড পজিশনে দেখা যেতে পারে সামনে জোয়াও পেদ্রোকে, আর অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে কুনহা। আর মিডফিল্ডে আন্দ্রে সান্তোস খেলতে পারেন কেসেমিরোর সঙ্গে।
রক্ষণভাগে ফ্লামেঙ্গোর লিও পেরেইরার সঙ্গে জুভেন্টাসের ডিফেন্ডার গ্লেইসন ব্রেইমারকে একাদশে রাখতে পারেন ব্রাজিল কোচ। লেফট-ব্যাকে ডগলাস সান্তোস আর রাইট-ব্যাক পজিশনে থাকতে পারেন ওয়েসলি। গোলপোস্টে এডারসনের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন আনচেলোত্তি।
অন্যদিকে ফ্রান্স দলেও একাধিক খেলোয়াড় চোটে আছেন। আর্সেনালের সেন্টার ব্যাক উইলিয়াম সালিবা নেই স্কোয়াডে। রোমার মিডফিল্ডার মানু কোনেও বাদ পড়েছেন। এ ছাড়া বার্সেলোনার ডিফেন্ডার জুলস কুন্দে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে এই মাসের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারবেন না। অবশ্য বিকল্পের অভাব না থাকায় চোট নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা থাকার কথা নয় ফ্রান্স কোচের।
ফ্রান্সের স্কোয়াডে পিএসজির পাঁচজন খেলোয়াড় থাকলেও একাদশে শুরু করতে পারেন মাত্র দুজন। ডান প্রান্তে উসমান দেম্বেলে এবং বাম পাশে দেসিরে দুয়ে। পিএসজির আরেক উইঙ্গার ব্রাডলি বারকোলা আছেন চোটে। সম্প্রতি চোট কাটিয়ে ফেরা কিলিয়ান এমবাপে শুরুর একাদশে থাকতে পারেন, তবে পুরো ৯০ মিনিট খেলার কথা নয় রিয়াল মাদ্রিদ তারকার। অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার হিসেবে থাকবেন বায়ার্ন মিউনিখের মাইকেল ওলিসে। সেন্ট্রাল মিডফিল্ডে অঁরলিয় চুয়ামেনি ও আদ্রিয়েন রাবিয়ট।
রক্ষণভাগে চোটের কারণে কুন্দে ও সালিবা না থাকায় সুযোগ পেতে পারেন মালো গুস্তো, ইব্রাহিম কোনাতে, দায়োত উপমেকানো ও লুকাস দিগনেকে দেখা যেতে পারে। গোলপোস্টে থাকবেন সাবেক পিএসজি গোলকিপার মাইক মেইগান।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফ্রান্স-ব্রাজিল মুখোমুখি হয়েছে মোট ১২বার। এরমধ্যে পাঁচবার জিতেছে দুইবারের ফ্রান্স আর চারবার ফল পক্ষে গিয়েছে ব্রাজিলের, বাকি তিন ম্যাচ ড্র।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, শেষ নয়বারের দেখায় মাত্র দুইবার ড্র হয়েছে দুই দলের মধ্যে। এর একটি ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, যেখানে টাইব্রেকারে জেতে ফ্রান্স। বাকি ম্যাচগুলোতে ব্রাজিল জিতেছে তিনবার, ফ্রান্স পাঁচবার। সবকিছু মিলিয়ে, দুই পরাশক্তির এই লড়াইয়ে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিশ্চিতই।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে অনুশীলন শুরু করেছে ইরান ফুটবল দল। আনতালিয়ার অদূরে ভূমধ্যসাগরীয় রিসোর্ট এলাকা বেলেকে অনুশীলন করেছে দলটি। ম্যাচের আগে কোনো ধরনের বিঘ্ন এড়াতে গণমাধ্যমের প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে মেক্সিকোতে বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের বিষয়ে ফিফার সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বিশ্বকাপ সামনে রেখে ইরান দলটি নিজেদের অনেকটা আড়ালেই রাখার চেষ্টা করছে। কারণ, সেখানে তাদের ঘিরে রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের চাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলেকের অনুশীলনে খেলোয়াড় বা কোচদের সাক্ষাৎকার নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে দলের এক মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, খেলোয়াড়রা প্রীতি ম্যাচগুলোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছেন।
ইরান আনতালিয়ায় দুটি ম্যাচের একটি ২৭ মার্চ নাইজেরিয়ার বিপক্ষে এবং ৩১ মার্চ কোস্টারিকার বিপক্ষে। ম্যাচগুলো জর্ডানে হওয়ার কথা ছিল। তবে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তা তুরস্কে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বুধবারের অনুশীলনে ছিলেন ফরোয়ার্ড মেহদি তারেমি। যিনি সম্প্রতি গ্রিসে তার ক্লাব অলিম্পিয়াকোসর হয়ে ম্যাচ চলাকালীন এক ইসরায়েলি খেলোয়াড়ের সঙ্গে জার্সি বদল করায় সমালোচিত হয়েছেন। অন্যদিকে স্ট্রাইকার সর্দার আজমাউন দলে নেই। দুবাইয়ের এক সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ বিন রাশিদ আল মাক্তুমের সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার পর তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম। আজমাউন জাতীয় দলের হয়ে ৯১ ম্যাচে ৫৭ গোল করেছেন।
বিশ্বকাপে ‘জি’ গ্রুপে থাকা ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী বেলজিয়াম, মিসর ও নিউজিল্যান্ড। তাদের সব ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রের ভেন্যুতে পড়েছে। এ কারণে তারা ম্যাচগুলো অন্য আয়োজক দেশে, অর্থাৎ মেক্সিকো বা কানাডায় সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও ফিফা জানিয়েছে, সূচি পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তবুও এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই বিশ্বকাপের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল।