
ক্লাবটির ইতিহাসের সেরা সময়ই এসেছে এক আর্জেন্টাইনের হাত ধরে। চিরচেনা আঙিনায় আরও এক ঝাঁক স্বদেশীদের নিয়ে বেশ সাফল্য কুড়িয়েছেন। আর্জেন্টাইন তারকাদের নিয়ে বসিয়েছেন তারার হাট। চলতি মৌসুমে সিমিওনের প্রধান অস্ত্রও তারাই।
চ্যাম্পিয়নস লিগে কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগে বার্সেলোনাকে আজ আতিথ্য দেবে আতলেতিকো মাদ্রিদ। ইউরোপ সেরা প্রতিযোগিতায় সেমিফাইনালে যাওয়ার মহারণে দুই দল মাঠে নামবে বাংলাদেশ সময় রাত একটায়। কাতালান ক্লাবটি নিজেদের মাঠ ক্যাম্প ন্যূতে দিয়েগো সিমিওনের দলের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে। এবার মেট্রোপলিটানোতে প্রত্যাবর্তনের স্বপ্ন দেখা বার্সার কাজটা কঠিন থেকে কঠিনতর করতে সব রকমের প্রস্তুতি সেরে রেখেছে আতলেতিকো। যে প্রস্তুতির অনেকটা অংশ জুড়েই আছে একদল আর্জেন্টাইন।
ক্যাম্প ন্যূতে প্রথম লেগে আতলেতিকোর সেরা খেলোয়াড় ছিলেন হুয়ান মুসো। জন ওবলাকের চোটে মাদ্রিদের ক্লাবটির গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব পাওয়া আর্জেন্টাইন এই গোলকিপার দূর্ভেদ্য দেয়াল হয়ে ছিলেন। লামিনে ইয়ামাল-মার্কাস রাশফোর্ডদের একের পর এক আক্রমণ ব্যর্থ করে দেওয়া ৩১ বছর বয়সী গোলকিপার মোট সাতটি সেভ করেছেন।
গোল ঠেকানোয় যেমন আর্জেন্টাইন, তেমন গোল করাতেও আছে আরেক আলবিসেলেস্তা তারকা। বার্সেলোনাকে প্রথম আঘাত করা জুলিয়ান আলভারেজ—চোখধাঁধানো এক ফ্রি কিকে দলকে লিড এনে দিয়েছেন। এমনকি আতলেতিকো ফ্রি-কিকও পেয়েছে আরেক আর্জেন্টাইনের নৈপুণ্যে। ডি বক্সের ঠিক বাইরে জুলিয়ানো সিমিওনেকে ফাউল করে লাল কার্ড দেখেন বার্সা ডিফেন্ডার পাউ কুবার্সি। তারপর তো ম্যাচ থেকেই ছিটকে যায় সফরকারীরা।
কোচসহ আতলেতিকো মাদ্রিদে আর্জেন্টাইনদের মোট সংখ্যা সাত। আক্রমণভাগে আলভারেজ ছাড়াও আছেন থিয়াগো আলমাদা। রাইট ব্যাক কিংবা উইং ব্যাক হিসেবে পুরো মাঠজুড়ে দাপিয়ে বেড়ানোর জন্য তো জুলিয়ানো সিমিওনে আছেনই। লেফট ব্যাকে নিকোলাস গঞ্জলেজ। আর রাইট ব্যাকে নাহুয়েল মলিনা। গোলপোস্টের নিচে মুসো, ডাগআউটে সিমিওনে।
‘আর্জেন্টাইন’ প্রতিরোধ সামলে ঘুরে দাড়ানোর সামর্থ্য বার্সেলোনার নেই বললে ভুল হবে। ইউরোপীয় ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রত্যাবর্তনের একটি তো তাদের দ্বারাই রচিত হয়েছে। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পিএসজির বিপক্ষে ৬-১ গোলের ঐতিহাসিক ‘রেমন্টাদা’ এখনও অনেকের অনুপ্রেরণা।
আতলেতিকোর বিপক্ষে ইতিহাস অবশ্য বার্সার হয়ে কথা বলছেন না। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ী ক্লাবটি এর আগে এই প্রতিযোগিতায় নকআউট পর্বে যখনই আতলেতিকো মাদ্রিদের মুখোমুখি হয়েছে (২০১৩-১৪ এবং ২০১৫-১৬ মৌসুম), প্রতিবারই গল্পের শেষটা ছিল একই। লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র এবং আন্দ্রেস ইনিয়েস্তাদের মতো তারকারাও চ্যাম্পিয়নস লিগে সিমিওনের আতলেতিকোর কাছে হার মেনেছে।
মেট্রোপলিটানোতে আজ ম্যাচের শুরু থেকেই আতলেতিকোর রক্ষণভাগকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাবে বার্সা। বিপরীতে নিজের চিরচিত রক্ষণাত্মক কৌশলেই ভরসা রাখার কথা সিমিওনের। বার্সার সমস্যার জায়গা অবশ্য আক্রমণভাগে নয় রক্ষণেই। গত মৌসুমের শুরু থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার চেয়ে বেশি গোল (৪৩টি) আর কোনো দল হজম করেনি। তার ওপর, এই প্রতিযোগিতায় টানা ১৪ ম্যাচে ক্লিন শিট রাখতে ব্যর্থ হয়েছে ফ্লিকের দল, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যেকোনো স্প্যানিশ দলের জন্য যৌথভাবে টানা গোল খাওয়ার লজ্জাজনক রেকর্ড। তার ওপর কার্ড নিষেধাজ্ঞায় নিজেদের নিয়মিত ডিফেন্ডার কুবার্সিতে এই ম্যাচে পাচ্ছে না বার্সা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে ঘরের মাঠে প্রথম লেগে ২ বা তার বেশি গোলে হেরে যাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের রাউন্ডে যেতে পেরেছে ১৯৪টি দলের মধ্যে মাত্র ২টি। এছাড়া, ঘরের মাঠে প্রথম লেগে হারার পর বার্সেলোনা আজ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বে কখনোই জিততে পারেনি। সব ইতিহাস পরিসংখ্যানকে পাল্টে দিয়ে কতটা লড়াই করতে পারে লামিনে ইয়ামাল-পেদ্রিরা সেটাই এখন দেখার।
গত ১১ বছরের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার খরা কাটানোর আশা বাঁচিয়ে রাখতে হলে বার্সেলোনাকে এখন এই মৌসুমের সেরা খেলাটা খেলতে হবে। বড় এই লড়াইয়ের আগে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এস্পানিওলকে হারিয়ে নিজেদের মনোবল কিছুটা চাঙ্গা করে নিয়েছে ফ্লিকের শিষ্যরা।
দিয়েগো সিমেওনে সেভিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলে হারের ম্যাচে তার দলের প্রায় সব মূল খেলোয়াড়কেই বিশ্রাম দিয়েছিলেন। লা লিগার শিরোপা দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ায় এই আর্জেন্টাইন কোচ এখন দুই গোলের লিড ধরে রাখতেই বেশি মনোযোগী। তার প্রধান লক্ষ্য হলো একটি ফিট ও সতেজ দল নিয়ে মঙ্গলবার বার্সাকে বিদায় করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা।
আতলেতিকোর জন্য বড় সুখবর হলো, গোলকিপার ওবলাক এবং জনি কার্ডোসো পূর্ণ অনুশীলনে ফিরেছেন এবং তাদের শুরুর একাদশে থাকার সম্ভাবনাও প্রবল। তবে রক্ষণভাগ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না সিমেওনের; ডেভিড হাঙ্কো, হোসে হিমেনেজ এবং পাবলো বারিওস—এই তিনজনই চোটের শঙ্কায় আছেন এবং ম্যাচের আগমুহূর্তে তাদের ফিটনেস টেস্ট করা হতে পারে। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে মার্ক পুবিলকে পাচ্ছে না দল। ৪-৪-২ ফরমেশনে দল সাজাতে পারেন সিমিওনে, যেখানে আক্রমণে আতোঁয়ান গ্রিজম্যানের সঙ্গী হবেন হুলিয়ান আলভারেজ। আর মাঝমাঠে কোকের নেতৃত্ব এবং কার্ডোসো বা মার্কোস ইয়োরেন্তের ওপর দায়িত্ব থাকবে বার্সার আক্রমণ দানা বাঁধার আগেই তা নসাৎ করে দেওয়া।
অন্যদিকে জীবন-মরণ এই ম্যাচে বেশ কিছু তারকাকে ছাড়াই রণকৌশল সাজাতে হচ্ছে হান্সি ফ্লিককে। রাফিনিয়া এবং আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন চোটের কারণে এখনো মাঠের বাইরে। রক্ষণভাগ আরও জটিল হয়ে পড়েছে প্রথম লেগের লাল কার্ডের কারণে পাউ কুবার্সির নিষেধাজ্ঞায়। ফলে এরিক গার্সিয়াকে সম্ভবত রোনাল্ড আরাউহোর সঙ্গে সেন্ট্রাল ডিফেন্সে দেখা যাবে।
দুই গোলের ব্যবধান ঘুচিয়ে জয় ছিনিয়ে নিতে ফ্লিক অল-আউট অ্যাটাকিং ৪-৩-৩ ফরমেশনে দল নামাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই কৌশলের পুরো ভরসা থাকবে লামিন ইয়ামালের সৃজনশীলতার ওপর, আর সুযোগের সদ্বব্যবহারের অপেক্ষায় থাকবেন রবার্ট লেভানডফস্কি ও মার্কাস রাশফোর্ড। ‘কামব্যাকের’ আগুন জ্বালাতে শুরুতেই একটি গোলের খোঁজে থাকবে ‘ব্লাউগ্রানারা’।
No posts available.
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৫ পিএম

স্পেনের তৃতীয় বিভাগের ক্লাব ‘কোর্নেয়া’ কিনে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার ক্লাব কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বার্সেলোনায় অবস্থিত কাতালান ক্লাবটি ফুটবলার তৈরির আতুড়ঘর। খেলোয়াড় তৈরির উন্নত একাডেমির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। জর্দি আলবা এবং জেরার্ড মার্তিনের মতো তারকাদের পাশাপাশি আর্সেনাল গোলরক্ষক ডেভিড রায়াও এই একাডেমিরই ফসল।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্লাবটি জানিয়েছে, ‘লিওনেল মেসির আগমন ক্লাবের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। এর লক্ষ্য হলো ক্লাবের ক্রীড়া ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করা এবং প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা।’
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘এই প্রকল্পটি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও কৌশলের মাধ্যমে পরিচালিত হবে, যেখানে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও স্থায়িত্বের পাশাপাশি স্থানীয় শিকড়ের সাথে গভীর সংযোগ বজায় রাখা হবে।’
বার্সেলোনার সাবেক তারকা জর্দি আলবা ২০১২ সালে ন্যু-ক্যাম্পে যোগ দেওয়ার আগে কোর্নেয়া একাডেমিতে ছয় বছর কাটিয়েছিলেন। ইলিয়ে সানচেজও এই একাডেমি থেকে উঠে এসে বার্সেলোনার ‘বি’ দলে যোগ দেন এবং বর্তমানে তিনি এমএলএস-এর ক্লাব অস্টিন এফসিতে খেলছেন।
ইউরোপীয় কোনো ফুটবল ক্লাবের মালিকানায় এটিই মেসির প্রথম পদার্পণ হলেও, ক্লাব মালিকানায় এটি তাঁর প্রথম বিনিয়োগ নয়। তিনি উরুগুয়ের পেশাদার দল দেপোর্তিভো এলএসএম-এর অংশীদার, যেখানে তাঁর সাথে রয়েছেন ইন্টার মায়ামি ও বার্সেলোনার সাবেক সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ।
কোর্নেয়াতে মেসির এই বিনিয়োগ মূলত যুব ফুটবলের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারেরই অংশ। এর আগে গত ডিসেম্বর ২০২৫-এ চেজ স্টেডিয়ামে
অনূর্ধ্ব-১৬ দলের অংশগ্রহণে প্রথম ‘মেসি কাপ’ আয়োজন করেছিলেন তিনি।

২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের মঞ্চ প্রস্তুত। যেখানে বায়ার্ন মিউনিখ লড়বে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন পিএসজির বিপক্ষে। মিকেল আরতেতা এবং দিয়েগো সিমিওনে—উভয়ই আর্সেনাল ও আতলেতিকো মাদ্রিদকে ফাইনালে তোলার জন্য নিজেদের সেরা কৌশল উজাড় করে দেবেন।
সেমিফাইনালের এই ডামাডোলের মাঝেই অপটার সুপারকম্পিউটার চালিয়েছে বিশেষ এক গাণিতিক বিশ্লেষণ। যেখানে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট এবং শিরোপাজয়ীর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সুপারকম্পিউটারের এই ‘প্রিডিকশন’ অনুযায়ী, এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতার দৌড়ে এগিয়ে আর্সেনাল। গানারদের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে সর্বোচ্চ ৩৬.৭৫ শতাংশ।
আর্সেনালকে এক চুলও ছাড় দিচ্ছে না জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। ভিনসেন্ট কোম্পানিদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা ৩৪.৬১ শতাংশ। যা আর্সেনালের একদম কাছাকাছি।
পিএসজি তালিকার তৃতীয় স্থানে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা ১৯.৩৫ শতাংশ। আর সিমিওনের শিষ্যরা এবারও ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই লড়াই শুরু করবে। শিরোপা জয়ের দৌড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের সম্ভাবনা সবচেয়ে কম। মাত্র ৯.২৯ শতাংশ।
শিরোপা জয়ের পাশাপাশি সেমিফাইনালের দ্বৈরথগুলোতেও নির্দিষ্ট দলকে এগিয়ে রেখেছে গাণিতিক এই মডেল। আগামী ২৮ এপ্রিল হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে পিএসজির মুখোমুখি হবে বায়ার্ন মিউনিখ। যেখানে বায়ার্নের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৬১.২৮ শতাংশ বলা হয়েছে। পরের দিন অর্থাৎ বুধবারের লড়াইয়ে আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে আর্সেনাল। পরিসংখ্যান বলছে, এই ম্যাচে গানারদের জয়ের সম্ভাবনা বিশাল—প্রায় ৭৩.৪০ শতাংশ।
সুপারকম্পিউটারের এই পূর্বাভাসে আর্সেনাল এবং বায়ার্ন মিউনিখকে ফাইনালের দৌড়ে এগিয়ে রাখা হলেও, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে নিশ্চিত করে কিছুই বলা যায় না। বিশেষ করে আতলেতিকোর মতো রক্ষণাত্মক কৌশলে পারদর্শী দল কিংবা পিএসজির বিধ্বংসী আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারে সব গাণিতিক হিসাব।

এশিয়ান কাপের দুটি আসরে খেলে এখন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে চোখ করছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এবারের সাফ গড়াবে ভারতের গোয়ায়। এই টুর্নামেন্টের জন্য ক্যাম্প এবং প্রস্তুতিপর্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে। সাফের আগে চট্টগ্রাম এরপর থাইল্যান্ডে মিলিয়ে এক মাসের ক্যাম্প করার কথা ভাবছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আগামী ২৫ মে থেকে ৭ জুন হবে মেয়েদের সাফ। এবার থাকছে না পাকিস্তান। ৬ দল নিয়েই হবে প্রতিযোগিতা। এই আসরে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। পরপর দুটি সাফ জেতায় এবার মনিকা, মারিয়াদের সামনে হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার সুযোগ। টুর্নামেন্ট শুরু হতে এখন বাকি এক মাসের চেয়ে একটু বেশি সময়। বাংলাদেশ দল নিয়ে চার সপ্তাহের একটি অনুশীলন পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে বলে শোনা যায়।
আজ গুলশানে নিজের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। সাফের আগে মেয়েদের ক্যাম্প নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দুই সপ্তাহের জন্য থাইল্যান্ড কিংবা চীনে ক্যাম্প করব। আপনারা জানেন ফিফা উইন্ডোর বাইরে দলগুলোর সঙ্গে খেলা আয়োজন করা সম্ভব না। তাই ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে যদি স্থানীয় লিগের কোনো দলের বিপক্ষেও প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে পারি সেটার আয়োজন করব। এ নিয়ে কথা হচ্ছে।’ দুই দেশের সঙ্গে আলোচনা চলমান বলে জানান তিনি। তবে প্রধান কোচ পিটার বাটলারের পছন্দ থাইল্যান্ড।
দেশের বাইরে ক্যাম্প করার আগে চট্টগ্রামে ১০ দিনের একটি ক্যাম্প করার কথাও রয়েছে বলে জানান ফাহাদ করিম। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে ঢাকায় দুই দিন অনুশীলন করে দল যাওয়ার কথা দেশের বাইরে। থাইল্যান্ড কিংবা চীন, যেখানেই হোক সেখান থেকেই ক্যাম্প শেষ করে মেয়েরা সরাসরি পৌঁছাবে ভারতে। ২৫ মে টুর্নামেন্ট শুরু। বাংলাদেশ দল যাবে ২১-২২ মে।
এর আগে মার্চে বাংলাদেশ সিনিয়র নারী ফুটবল দল অস্ট্রেলিয়ায় খেলে আসে এশিয়ান কাপ। প্রতিযোগিতায় গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে মাঠ ছাড়েন ঋতুপর্ণা চাকমারা। এ মাসে অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বসে থাইল্যান্ডে। সেখানেও কোনো ম্যাচ জিততে পারেননি আফঈদা খন্দকাররা, বিদায় হয়েছে তাই গ্রুপ স্টেজ থেকে। এবারই প্রথম বাংলাদেশ নারী দল প্রথমবারের মতো কোয়ালিফাই করে এশিয়ান কাপে। দুটি প্রতিযোগিতায় কোনো ম্যাচ জিততে না পারলেও কোচ পিটার বাটলারের ওপর আস্থা রাখছে বাফুফে।

জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ চেয়ে গত ৯ এপ্রিল বিজ্ঞপ্তি দেয় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। গতকাল বুধবার পর্যন্ত আবেদন জমা পড়েছে ২৫০টিরও বেশি। এটিকে খুবই আশাব্যঞ্জক বলে মনে করেন ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম। আজ সাংবাদিকদের এমনটা বলেছেন তিনি।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে এরই মধ্যে নামকরা অনেকে আগ্রহ দেখিয়েছেন। এমনটা এর আগে কখনও দেখা যায়নি। এবার ফুটবল বিশ্বকাপে নাম লেখানো এল সালভাদরের এক সময়ের হেড কোচ ডেভিড ডোনিগার আবেদন করেছেন বলে জানা যায়। এই তালিকায় আছেন লেবাননের সাবেক হেড কোচ মিওদ্রাগ রাদুলোভিচ। বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারানো লেবাননের ডাগআউটে ছিলেন মন্টেনিগ্রোর এই কোচ। এছাড়াও ৬টি দেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলানো জার্মান কোচ অ্যান্টইন হে’র মতো হাইপ্রোফাইল কোচও আবেদন করেছেন বাফুফেতে।
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে এত আবেদন দেখে কিছুটা অবাক সহ-সভাপতি ফাহাদ করিমও। বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) আমি খোঁজ নিয়েছি যে কয়টা আবেদন পড়েছে এবং আপনারা জেনে খুশি হবেন এটা অবিশ্বাস্য; ২৫০ এর অধিক আবেদন পড়েছে। আমি মনে করি এটাও কিন্তু ফুটবলের একটা অনেক বড় অর্জন; যে আমাদের জাতীয় দলের জন্য এত লোক আবেদন করেছে। আমাদের জন্য এটা খুবই আশাব্যঞ্জক।’
বাংলাদেশ দলের কোচ হতে চেয়ে আবেদন করেছেন স্থানীয় দুই কোচ- আবাহনীর বর্তমান কোচ মারুফুল হক এবং জুলফিকার মাহমুদ মিন্টু। বাংলাদেশ কেমন কোচ চায়, ফুটবল পাড়ার এটা এখন অন্যতম আলোচনার বিষয়। ক’দিন আগে বাফুফে সভাপতি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে বাংলাদেশ এশিয়ান অঞ্চলের কোচ নিতে চায়। শেষ পর্যন্ত কোচ নিয়োগের বিষয়টি তিনিই দেখবেন। ফাহাদ করিম বলেন, ‘২৫০ থেকে খুব সম্ভবত ৫০ জনের একটা পুল করা হবে। তারপর অবশ্যই আমাদের সভাপতি নিজে সাক্ষাৎ নেবেন। কারণ এই পর্যায়ে সাক্ষাৎকার তিনি নিজে নেন।’

লেভেল ক্রসিং পার হওয়ার সময় প্রাইভেট কারে থাকা অবস্থায় ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুবরণ করেছেন আর্সেনালের সাবেক গোলরক্ষক অ্যালেক্স ম্যানিঙ্গার। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
আর্সেনালের জার্সিতে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২—এই ছয় বছরে ৬৪ বার গোল পোস্টের নিচে দাঁড়িয়েছেন এলেক্স। তিনি গানারদের হয়ে প্রিমিয়ার লিগ ও এএফ কাপ জিতেছেন। আর অস্ট্রিয়ার জার্সিতে ৩৩ ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৮ ইউরোতে অস্ট্রিয়ার হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন ম্যানিঙ্গার।
ম্যানিঙ্গার মৃত্যুতে গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন অস্ট্রিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেটার স্কোটেল। তিনি বলেছেন, ‘ম্যানিঙ্গার পেশাদারিত্ব, মানসিক দৃঢ়তা এবং নির্ভরযোগ্যতা তাঁকে তাঁর ক্লাব দলগুলো এবং জাতীয় দলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিল। তাঁর অর্জনগুলো সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার দাবি রাখে এবং তা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।’
ম্যানিঙ্গার তার খেলোয়াড়ি জীবন শুরু করেছিলেন নিজের শহরের ক্লাব সালজবার্গের হয়ে এবং পরবর্তীতে ইউরোপের ১৪টি ভিন্ন ক্লাবে খেলেছেন, যার মধ্যে রয়েছে জুভেন্টাস ও উদিনেস।
২০১৬ সালে ৩৯ বছর বয়সে তিনি লিভারপুলের সাথে একটি স্বল্পমেয়াদী চুক্তি করেন, তবে কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। আর্সেনালে থাকাকালীন ম্যানিঙ্গার মূলত ডেভিড সিম্যানের বিকল্প হিসেবেই বেশি খেলেছেন। তবে ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমের শেষের দিকে ইংল্যান্ডের এই গোলরক্ষক ইনজুরিতে পড়লে তিনি তাঁর স্থলাভিষিক্ত
হন।
সেই মৌসুমে ম্যানিঙ্গার এফএ কাপের ষষ্ঠ রাউন্ডে ওয়েস্ট হ্যামকে পেনাল্টিতে হারাতে আর্সেনালকে সাহায্য করেছিলেন এবং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে এক স্মরণীয় জয়ে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন।