
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসির পর ৩য় ফুটবলার হিসেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে শততম গোলদাতার তালিকায় ঢুকতে যাচ্ছেন রবার্ট লেভানদোভস্কি। এখন পর্যন্ত উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে এই স্ট্রাইকারের গোল সংখ্যা ৯৯।
চ্যাম্পিয়নস লিগে গেল রাতে রেড স্টারের বিপক্ষে জোড়া গোল করে নিজেকে ৯৯’র ঘরে নিয়েছেন বার্সেলোনার এই স্ট্রাইকার। তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগারে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হবে ব্রেস্টের বিপক্ষে পরের ম্যাচের জন্য। রেড স্টারের বিপক্ষে মাঠে ছিলেন ৭৮ মিনিট পর্যন্ত, পুরো সময় পেলে হয়তো চ্যাম্পিয়নস লিগে শততম গোলের অপেক্ষাটা ফুরিয়ে ফেলতে পারতেন এই স্ট্রাইকার। ম্যাচ শেষে বার্সেলোনা কোচ হ্যান্সি ফ্লিকও রসিকতা করে সেই আফসোসটাই করেছেন-
“এটা আমি জানতাম না, জানলে হয়তো পুরো ম্যাচ না খেলিয়ে আমি তাকে বদল করতাম না।”
এর আগে বায়ার্ন মিউনিখ ও বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগের ম্যাচ খেলেছেন লেভানদোভস্কি। ৯৯ চ্যাম্পিয়নস লিগ গোলের ৬৯টাই করেছেন বাভারিয়ানদের হয়ে। যা একক কোন ক্লাবের হয়ে গোলের হিসেবে রয়েছে ৪র্থ স্থানে। বার্সেলোনার জার্সি গায়ে মেসির গোল ১২০, রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর গোল ১০৫, কারিম বেনজেমাও রিয়ালের হয়ে করেছেন ৭৮টি গোল।
আরও পড়ুন
| ভিনির মন খারাপ, তবে সেটা ভ্যালেন্সিয়ার বন্যার্তদের জন্য : আনচেলত্তি |
|
২০১৯/২০ চ্যাম্পিয়নস লিগে এক মৌসুমে সবচেয়ে বেশি গোল করেছিলেন রবার্ট লেভানদোভস্কি। সেবার বায়ার্ন মিউনিখকে ইউরোপ সেরার মুকুট এনে দিয়েছিলেন এই পোলিশ স্ট্রাইকারই। গোল করেছিলেন পুরো আসর জুড়ে ১৫টা।
বার্সেলোনার হয়ে এই মৌসুমে ৪ ম্যাচে গোল করেছেন ৫টি। সব মিলিয়ে বার্সার জার্সিতে চ্যাম্পিয়নস লিগ গোল হলো ১৩টি।
No posts available.
২৮ মার্চ ২০২৬, ১১:১১ পিএম
২৮ মার্চ ২০২৬, ৭:০০ পিএম

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শিরোপা নিয়ে বিতর্ক চলছেই। সেই মহানাটকীয় ফাইনাল থেকে শুরু এরপর সেনেগালকে শিরোপা থেকে বঞ্চিত করে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হলো মরক্কোকে। এরমধ্যে সেনেগালের ফুটবল ফেডারেশন গেল আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালতে। এত সব বিতর্কের মধ্যেই আজ আফ্রিকা কাপ অফ নেশনস ট্রফি প্রদর্শন করেছে সেনেগাল।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে পেরুর বিপক্ষে আজ প্রীতি ম্যাচের আগে ট্রফি প্যারেড করে সেনেগাল। ফ্রান্সের স্টেডিয়াম স্তেদ দি ফ্রান্সে এই ম্যাচের আগে দলটির অধিনায়ক কালিদু কোলিবালি ও তার দল আফকন ট্রফি নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। এরপর কোলিবালি এবং সেনেগালের গোলকিপার এদুয়ার্দ মেন্ডি স্টেডিয়ামের প্রেসিডেন্টাল বক্সে ট্রফি রাখেন। যেখানে উপস্থিত ছিলেন সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আব্দুলা ফল সহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
সেনেগালের ফুটবলাররা ট্রফি প্রদর্শন করার সময় দেশটির হাজার হাজার সমর্থক স্তেদ দি ফ্রান্সে উপস্থিত ছিলেন। নতুন নির্বাচিত সেন্ট-ডেনিসের মেয়র ব্যালি বাগায়েকো সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এই শোভাযাত্রায় যোগ দেন।
সেনেগালের সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মেয়র বলেন, ‘সেন্ট-ডেনিসে আপনাদের স্বাগত। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই সবাইকে, যারা এই দারুণ উদ্যোগের আয়োজন করেছেন। আপনারা শ্রমজীবী অঞ্চলের বাসিন্দাদের গর্ব। আমাদের প্রায়ই বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে, প্রায়ই উপেক্ষিত হতে হয়েছে। আপনারা দেখাচ্ছেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে একসঙ্গে এগোনো সম্ভব। আজ আফ্রিকা একত্রিত। সবাই সেনেগালের পাশে।’
সেনেগাল এখনও তাদের শিরোপি বাতিল করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনগত লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। যদিও নতুন চ্যাম্পিয়ন মরক্কো এই বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে বলে মনে করছে।
জানুয়ারির আফকনের ফাইনালে আটলাস লাইন্সরা ১-০ সেনেগালের কাছে হেরে যায়। কিন্তু সিএএফ-এর আপিল বোর্ড ১৭ মার্চ তাদের ৩-০ গোলের জয়ী ঘোষণা করে। কারণ জানুয়ারির ফাইনালে সেনেগালের খেলোয়াড়রা সফকারীদের দেওয়া পেনাল্টির প্রতিবাদে ১৪ মিনিটের জন্য মাঠ ছাড়ে, এবং সেই সময় সেনেগালের একটি গোল বাতিল করা হয়।
সেনেগালের হেড কোচ পাপে থিয়াও বলেছেন, শিরোপি তাদের হাত থেকে নেওয়া হলেও কোন সন্দেহ নেই যে তার দল আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন এবং প্রতিযোগিতা মাঠে জিততে হয়। সিএএফ-এর আপিল বোর্ড মরক্কোকে আফকন শিরোপি দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো তিনি বলেন, ‘আমরা জানি আমরা আফ্রিকার চ্যাম্পিয়ন।’

ভারতের বিপক্ষে ড্র দিয়ে শুরু। এএফসি এশিয়া কাপ বাছাইপর্বে এরপর দুটি হার, একটি ড্র ও একটি জয় বাংলাদেশের। পয়েন্ট টেবিলে হাভিয়ার কাবরেরার দলের অবস্থান এখন তিন নম্বরে। টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্বের আশা আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার পর লাল-সবুজ বাহিনীদের চোখ এখন পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে। আর এরজন্য বাংলাদেশের জয় চাই মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়া সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে।
সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে আগামী মঙ্গলবার বাছাইয়ের গ্রুপ পর্বে ষষ্ঠ ও শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর। দুই লেগের আগের বারের দেখায় ২-১ গোলে জয় পায় সিঙ্গাপুর। বাংলাদেশের হয়ে একমাত্র গোলটি এসেছিল রাকিব হোসেনের নৈপুণ্যে। এবার কার্ডজনীত কারণে এই ম্যাচে স্কোয়াডে নেই রাকিব।
গ্রুপ ‘সি’ তে পাঁচ ম্যাচে একটি জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। ৮ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে হংকং। তাদের টপকে দ্বিতীয় হয়ে বাছাই শেষ করতে হলে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জিততেই হবে কাবরেরার দলকে। ম্যাচের আগে শেখ মোরসালিনও বললেন যেভাবেই হোক সিঙ্গাপুর থেকে জয় নিয়েই ফিরতে চায় বাংলাদেশ।
র্যাঙ্কিংয়ে ১০৩ নম্বরে থাকা শক্তিশালী ভিয়েতনামের বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারলেও প্রস্তুতিটা মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। ঘরের বাইরে নিজেদের পারফরম্যান্স নিয়ে আত্মবিশ্বাসী মোরসালিন যেভাবেই হোক তিন পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে দুইয়ে থেখে শেষ করার কথা বললেন, ‘যেহেতু আমারদের অ্যাওয়ে ম্যাচের পারফরম্যান্স ভালো, এবার যদি এই ম্যাচটা আমরা কোনোভাবে জিততে পারি তাহলে সেকেন্ড হয়েও শেষ করতে পারব আমরা। আমরা এটাই চাই, যেভাবে হোক আমাদের জিততে হবে।’
ভিয়েতনাম ম্যাচ নিয়ে প্রত্যাশা আরও বেশি ছিল বলে জানান মোরসালিন। তবে দ্বিতীয়ার্ধের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট তিনি। ওই ম্যাচের ভুলত্রুটি থেকে শিখে সিঙ্গাপুর ম্যাচে কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ, বিশ্বাস মোরছালিনের।
মোরসালিন আরও বলেন, ‘লক্ষ্য এখন আমাদের এই ম্যাচ নিয়েই। আমরা সবাই খুব ইতিবাচক। আমাদের যেভাবেই হোক এই ম্যাচ জিততে হবে। আমরা মানসিকভাবে ওভাবেই প্রস্তুত এবার।’
সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচে রক্ষণের অভিজ্ঞ সেনানী তপু বর্মন, আক্রমণভাগের মধ্যমণি রাকিব হোসেনকে কার্ডের খাড়ায় পাচ্ছে না বাংলাদেশ। বাকিদের এই কমতিটুকু পুষিয়ে দিতে হবে বলে মনে করেন মোরসালিন। প্রতিপক্ষের মাঠে দেশী সমর্থকদেরও পাশে পাওয়ার আশা করছেন তিনি, ‘তারা (তপু ও রাকিব) থাকলে তো অবশ্যই ভালো হতো। এখন নেই, তো আমরা যারা আছি, তাদেরকে নিয়েই লড়াই করতে হবে এবং আমরা সবাই প্রস্তুত লড়াই করার জন্য।’
মোরসালিনের মতো বাংলাদেশের কোচ কাবরেরাও বললেন, জয়ই একমাত্র লক্ষ্য, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো জয়। যদি আমরা আমাদের সেরাটা দিতে পারি এবং ছোটখাটো ভুলগুলো (বিশেষ করে সেট পিসগুলোতে) কমিয়ে আনতে পারি, তবে আমরা অবশ্যই ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে পারব।’

চলতি মৌসুমে ইতালির লিগ সিরি’আ’তে নিয়মিত ঝলক দেখাচ্ছেন। গোল-অ্যাসিস্ট কিংবা প্লে মেকিং— দলের জয়ে নিয়মিত অবদান রাখছেন নিকো পাজ। কোমোর আর্জেন্টাইন এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার আরও একবার নিজের জাত চিনিয়েছেন মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। আর্জেন্টিনার ২-১ গোলে জয় পাওয়া এই ম্যাচে দৃষ্টিনন্দন ফ্রি-কিকে গোল করে এখন আলোচনার কেন্দ্রে তিনি। নিজের আইডল লিওনেল মেসির সামনে এমন গোল করতে পেরে যারপরনাই খুশি নিকো।
মৌরিতানিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ১৭ মিনিটে এঞ্জো ফার্নান্দেসের গোলের পর ৩২ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে ব্যবধান দ্বিগুন করেন নিকো। প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালের ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে বক্সের কিনারা থেকে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে জড়ান ২১ বছর বয়সী উঠতি তারকা। আকাশি-সাদা জার্সিতে এটি ছিল তাঁর প্রথম গোল। আর্জেন্টিনার ফ্রি-কিকের ‘রাজা’ মেসি বেঞ্চে থেকেই উপভোগ করছিলেন আলবিসেলেস্তার ভবিষ্যতকে।
ম্যাচ শেষে নিজের গোলটি আদর্শ মানা মেসিকে উৎসর্গ করে নিকো বলেন, ‘আমি আমার ফ্রি-কিক গোলটি মেসিকে উৎসর্গ করেছি, কারণ তিনি আমার আইডল।’
মাঠে নামার আগেই নাকি সবসময় ইউটিউবের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মেসির ভিডিও দেখেন নিকো। আর কিংবদন্তি থেকে শেখার ফল যে হাতেনাতেই পাচ্ছেন সেটা তো সবাই দেখছে। কোমোর এই তরুণ প্রতিভা বলেন, ‘আমি সবসময় তাঁর (মেসি) ভিডিও ইউটিউবে দেখার চেষ্টা করি যাতে যতটা সম্ভব কিছু শিখতে পারি। ম্যাচের আগে, আমি তাঁর ভিডিও দেখা শুরু করি দেখে যদি কিছু প্রভাব পড়ে আমার খেলায়।’
ছোটোবেলা থেকেই এমন গোল করার স্বপ্ন দেখছিলেন নিকো। তবে ফ্রি-কিকের জাদুকর মেসির সঙ্গে নিজের গোলের তুলনা করতে চান না তিনি, ‘গোল এমন কিছু যা কখনও ভুলে যাওয়া যায় না। আমি ছোটবেলা থেকেই এমন গোল করার স্বপ্ন দেখেছি এবং আজ সেটি বাস্তব হয়েছে। মেসির গোলের সঙ্গে তুলনা করা কঠিন, তবে আমি খুব খুশি যে গোল করতে পেরেছি।’
২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদ থেকে ধারে কোমোতে খেলা নিকো ৩৩ ম্যাচে ১১ গোলের সঙ্গে সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ছয়টি গোল।
দারুণ ছন্দে থাকা নিজেদের খেলোয়াড়কে ফিরিয়ে আনারও নাকি পরিকল্পনা করছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি আর্জেন্টাইন তারকাকে দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে তাঁর বর্তমান ক্লাব কোমোর স্পোর্টিং ডিরেক্টর কার্লাবের্তো লুদি জানিয়েছেন, ক্লাব চেষ্টা করছে নিকোকে আরও এক বছর রাখার জন্য রাজি করাতে।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর খবর অনুযায়ী, রিয়াল মাদ্রিদের ফেরার চুক্তি আটকে দেওয়ার একমাত্র শর্ত হতে পারে যদি খেলোয়াড় নিজেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। রিয়াল মাদ্রিদ আশা করছে এমন কিছু ঘটবে না, কারণ ধারণা করা হচ্ছে নিকো পাজ লস ব্লাঙ্কোসে ফিরে আসার স্বপ্ন দেখছেন।

সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে দুই অর্ধে আজ দুই রকম বাংলাদেশের দেখা মিললো। প্রথমার্ধে ভারতের রক্ষণে একের পর এক আক্রমণ শানালেও দ্বিতীয়ার্ধে তেমনটা পারেনি বাংলাদেশ। পিছিয়ে পড়েও তাই ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়াই বাংলাদেশের প্রাপ্তি।
মালদ্বীপের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-ভারতের ম্যাচটি ড্র হয়েছে ১-১ গোলে। দুটি গোলই হয়েছে প্রথমার্ধে। সপ্তদশ মিনিটে বিশাল যাদবের গোলে পিছিয়ে পড়ার পর এই অর্ধের যোগ করা সময়ে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান আব্দুল রিয়াদ ফাহিম।
ভারতের বিপক্ষে এই ড্রয়ে ‘বি’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়েছে বাংলাদেশ। দুই দলের সমান ৪ পয়েন্ট করে হলেও গোলগড়ে এগিয়ে গেছে ভারত। প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ পেয়েছে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নেপালকে। যাদেরকে ২০২৪ সালের ফাইনালে ৪-১ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল লাল সবুজের দল। আর দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভারত মোকাবিলা করবে ভুটানকে। নকআউটের দুটি ম্যাচই হবে আগামী ১ এপ্রিল।
এদিন শুরু থেকে জমে ওঠে লড়াই। বাংলাদেশ চাপ দিতে থাকে ভারতের রক্ষণে। দ্বাদশ মিনিটে কর্নারে আশিকুর রহমানের হেড অল্পের জন্য ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়।
খেলার ধারার বিপরীতে সপ্তদশ মিনিটে এগিয়ে যায় ভারত। কর্নার থেকে হেডে লক্ষ্যভেদ করেন বিশাল যাদব। যোগ করা সময়ে ক্রসে জদ্রিক আব্রামচান্সের প্লেসিং লক্ষ্যে থাকেনি, ফলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে নিতে পারেনি ভারত।
রেফারির সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়ে যোগ করা সময়ের শুরুর দিকে ভারতের গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী লালকার্ড দেখেন। এর একটু পরই সমতার স্বস্তি ফেরে বাংলাদেশের শিবিরে। রোনান সুলিভানের কর্নার দূরের পোস্টে থাকা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম নিখুঁত প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন।
বিরতির পর বাংলাদেশের রক্ষণের পরীক্ষা নিয়েছে ভারত। ৬৩ মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগও পেয়েছিল তারা। তবে গোলকিপার মাহিন এ যাত্রায় বাঁচান বাংলাদেশকে। বদলি ডিফেন্ডার আব্দুল রিয়াদ ফাহিম বক্সের সামনে ভুল করে বল তুলে দেন ভারতের ওমাং দোদুমের পায়ে। বল পেয়ে দুজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন তিনি। তবে ভারতীয় ফরোয়ার্ড শট নেওয়ার আগেই এগিয়ে এসে তাঁকে আটকে দেন গোলকিপার মাহিন।
৮১ মিনিটে বক্সে থাকা নাজমুল ফয়সালকে দারুণ পাস দেন সানি দাস। তবে ফাঁকায় থাকা বাংলাদেশ ফরোয়ার্ড বলের নিয়ন্ত্রণই নিতে পারেননি। ৮৭ মিনিটে রোনানের শট পোস্টের অনেক বাইরে দিয়ে যায়।
৯০ মিনিটে বিপদ থেকে আরেকবার বেঁচে যায় বাংলাদেশ। মাঝ মাঠ থেকে বল নিয়ে রিসি সিং পাস বাড়ান ওমাং দোদুমকে। তাঁকে ট্যাকল করতে গিয়ে পড়ে যান বাংলাদেশের ডিফেন্ডার মিঠু। এরপর সামনে বাঁধা ছিল একমাত্র গোলকিপার মাহিন। যদিও শট নিতে দেরি করায় বলের নাগাল হারান ভারতীয় ফরোয়ার্ড। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র মেনে মাঠ ছাড়ে দুই দল।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরিতে মাঠে গড়িয়েছে সাতবার। ভারত চার বার, নেপাল দুই এবং বাংলাদেশ একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। ২০২৪ সালে অনূর্ধ্ব-২০ ক্যাটাগরিতেই নেপালকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে সেরা হয়েছিল বাংলাদেশ।

চলতি মৌসুমে চোটের কারণে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে বেলিংহামকে। প্রায় দুই মাস পর আতলেতিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে গত ২৩ মার্চ মাঠে নামেন রিয়াল মাদ্রিদের ইংলিশ মিডফিল্ডার। দীর্ঘদিন কাঁধের চোটে ভুগছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। তবে মাঝে দেরি করে ফেলেছিলেন অনেক বেশি। ব্যথা নিয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য এখন আক্ষেপে পুড়ছেন বেলিংহাম।
নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কাঁধের চোট নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন জুড বেলিংহাম। একই সঙ্গে এই সপ্তাহে করা অস্ত্রোপচারের ভিডিওও শেয়ার করেছেন ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। রিয়ালের এই তারকা স্বীকার করেছেন, ব্যথা নিয়েই খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য তাঁর আক্ষেপ রয়েছে—যেখানে শুরুতেই অস্ত্রোপচার করানো উচিত ছিল। শেষ পর্যন্ত গত মৌসুমের শেষে সেটিই করতে বাধ্য হন তিনি।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ড থেকে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার সময়েই নাকি কাঁধের চোট ছিল বেলিংহামের। সেই সময়ের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘ডর্টমুন্ডে আমার শেষ মৌসুমেই, একটা বাজে চোটে পড়ে যাওয়ার পর শুরুতেই আমাকে বলা হয়েছিল কাঁধে অস্ত্রোপচার করাতে হবে। বুঝতে পারছিলাম সমস্যা আছে, কিন্তু তখন আগস্ট-সেপ্টেম্বর, আর ডিসেম্বরেই বিশ্বকাপ ছিল—তাই অপারেশন করাইনি। পরে ভালো অনুভব করতে শুরু করি। মাদ্রিদে আসার সময় কোনো ব্যথাই ছিল না।’
তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে লা লিগায় রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে এক ম্যাচে আবারও একই জায়গায় চোট পান বেলিংহাম। এরপর থেকেই এই শারীরিক সমস্যার মাঝেই খেলতে হয়েছে তাকে, সবকিছু শুরু হয়েছিল রায়োর বিপক্ষে সেই ম্যাচ থেকেই। তখন পর্যন্ত জীবনে সবচেয়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেছিলাম—এতটা কষ্ট আগে কখনো পাইনি। মনে হচ্ছিল কাঁধটা ঠিক জায়গায় বসাতে যেন অনেক সময় লাগছে, যদিও মাঠে মেডিক্যাল টিম ঢোকার পর থেকে ঠিক হতে মাত্র ৯০ সেকেন্ডই লেগেছিল। আগে এমন হলে আমি নিজেই কাঁধটা জায়গায় বসিয়ে নিতে পারতাম।’
দলের কথা ভেবেই নাকি অস্ত্রোপচারে রাজি ছিলেন না বেলিংহাম, ‘সবাই আমাকে বলছিল অস্ত্রোপচার করাতে, রিয়াল মাদ্রিদে এটি আমার প্রথম বছর ছিল। আমি দলকে হতাশ করতে চাইনি কিংবা তিন মাসের জন্য মাঠের বাইরে থাকতে চাইনি।’
বেলিংহাম আরও বলেন, ‘এই কাঁধের চোট আমার শরীরের অন্য অংশেও বড় প্রভাব ফেলেছিল। খুব বেশি ব্যথা অনুভব করতাম না, কিন্তু এটা জেনে খেলতে হতো যে পড়ে গেলে আবারও কাঁধ স্থানচ্যুত হয়ে যেতে পারে—এটা আমাকে নিজের সেরা খেলাটা খেলতে দিচ্ছিল না।’
২০২৪ ইউরোপে স্পেনের কাছে ফাইনাল হারের পর অস্ত্রোপচার করাটা উপযুক্ত সময় ছিল বলে মনে করেন বেলিংহাম, ‘ইউরোর ফাইনাল হারার পর আমি চাইনি সেটাই হোক পরবর্তী তিন মাসের জন্য আমার শেষ ম্যাচ। কিন্তু আসলে ওই সময়টাই অস্ত্রোপচারের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত ছিল।’
শেষ পর্যন্ত নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে আক্ষেপ করে বেলিংহাম বলেন, ‘আমি আরও এক বছর খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম—যেটা আমার নেওয়া উচিত হয়নি।’ তিনি যোগ করেন, ‘গত বছরটা আমাকে বুঝিয়েছে, জেতাটা কখনোই নিশ্চিত কিছু নয়। এখন আমি শারীরিকভাবে আরও ভালো অবস্থায় আছি, আর নিজের সেরা ফর্মে ফিরতে পারব বলে বিশ্বাস করি।’
২০২৫-২৬ মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে ৩৫ ম্যাচে ৭ গোল পাঁচটি অ্যাসিস্ট করেছেন বেলিংহাম।