
একই রাতে বেশ কিছু বড় ম্যাচের দেখাই মিলেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। আবার দেখা মিলেছে গোল উৎসবেরও। বড় দলগুলো এদিন যেন রীতিমত গোলের খেলায় মেতেছে। বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা, ডর্টমুন্ড, ইন্তার মিলান ও ম্যানচেস্টার সিটি।
বার্সার ৫-০ গোলের জয়ে ফ্লিকের প্রথম
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রথম ম্যাচে মোনাকোর সাথে বড় ব্যবধানে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই বড় জয় তুলে নিয়েছে বার্সেলোনা। তাতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সার ডাগআউটে দেখা মিলেছে প্রথম জয়। এদিন ঘরের মাঠে ইয়াং বয়েজের জালে বার্সেলোনা দিয়েছে ৫ গোল। বিপরীতে হজম করেনি একটাও।
জোড়া গোল করে ম্যাচের নায়ক রবার্ট লেভানডফস্কি। এছাড়া একটা করে গোল করেছেন রাফিনিয়া ও ইনিগো মার্তিনেজ। বার্সার অন্য গোলটি এসেছে আত্মঘাতী থেকে।
পিএসজিকে হারিয়ে আর্সেনালের বাজিমাত
মঙ্গলবার রাতে সবচেয়ে হাইভোল্টেজ ম্যাচ ছিল আর্সেনাল-পিএসজির লড়াই। যেখানে বাজিমাত করেছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। ঘরের মাঠে তারা লুইস এনরিকের দলকে হারিয়েছে ২-০ গোলে। প্রথম ম্যাচে আতালান্তার সাথে ড্র করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে ঠিকই জয় তুলে নিয়েছে গানাররা। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে জিরোনার সাথে শেষ মূহর্তে জয় পেলেও এদিন আর তেমন কিছু ঘটাতে পারেনি পিএসজি।
আর্সেনালের গোল দুটি আসে প্রথমার্ধে। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় আর্সেনালকে প্রথম গোল এনে দেন কাই হাভার্টজ। ৩৫ মিনিটে বুকায়ো সাকা দারুণ এক ফ্রি কিক থেকে ব্যবধান বাড়ান। অন্যদিকে পিএসজির জন্য বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় গোলপোস্ট। বেশ কয়েকবারই তাদের বল আটকে যায় বারপোস্টে। তাতে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় লুইস এনরিকের দলকে।
বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের গোলবন্যা
টানা দুই ম্যাচেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জয় তুলে নিয়েছে বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। প্রথম ম্যাচের তুলনায় এদিন আরও দাপুটে জয় মিলেছে জার্মান ক্লাবটির। স্কটিশ ক্লাব সেলটিকের জালে তারা গুণে গুণে দিয়েছে সাত গোল। তাতে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের টেবিল টপার ডর্টমুন্ড।
হ্যাটট্রিক করে জয়ের মূল নায়ক আদেয়ামি। দু'টি গোল করেছেন গুইরাসি আর একটি করে গোল করেছেন এমরি চান ও এনমেচা।
এছাড়া জাবি আলোনসোর লেভারকুসেন জয় তুলে নিয়েছে এসি মিলানের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে ড্র করা ইন্তার মিলান ও ম্যানচেস্টার সিটি দ্বিতীয় ম্যাচে তুলে নিয়েছে দাপুটে জয়। মজার ব্যাপার দু'দুলই জয় পেয়েছে সমান ৪-০ গোলে।
No posts available.
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২২ এম
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ৯:৩০ এম

ম্যাচ পাতানো ও অর্থপাচারের অভিযোগে ইসরায়েলের দ্বিতীয় স্তরের লিগে খেলা একটি ফুটবল ক্লাব—সংশ্লিষ্ট ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে ক্লাবটির বর্তমান খেলোয়াড় ও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ইসরায়েল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, গত তিন বছরে ম্যাচ পাতানোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে হাইফার কাছের শহর কিরিয়াত ইয়ামে অবস্থিত ক্লাব এফসি কিরিয়াত ইয়াম, যারা ইসরায়েলের ন্যাশনাল লিগে (দ্বিতীয় বিভাগ) অংশ নেয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই চক্র অবৈধ জুয়া ব্যবসা থেকে অর্জিত কোটি কোটি শেকেল অর্থ পাচারের জন্য ক্লাবটিকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করেছে।
পুলিশ জানায়, ইসরায়েল ও বিদেশে পরিচালিত অবৈধ জুয়া কার্যক্রমে এমন ম্যাচের ওপর বাজি ধরা হতো, যেগুলোর ফল আগেই নির্ধারিত ছিল। এই কার্যক্রমে কয়েক কোটি শেকেল লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছু খেলোয়াড়কে একাধিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল।
সকালে একযোগে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজনদের নিজ নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ প্রকাশিত ভিডিওতে অভিযানের সময় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ জব্দের দৃশ্যও দেখা গেছে।
গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজনের পক্ষে আইনজীবীরা এক যৌথ বিবৃতিতে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তাঁদের মক্কেলরা কেন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তা তারা বুঝতে পারছেন না। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কিছু পক্ষ ক্লাবটির প্রিমিয়ার লিগে উন্নীত হওয়ার পথ রুদ্ধ করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে।
এদিকে ক্লাবটির চেয়ারম্যান নিসিম আলফাসি ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়নেটকে বলেন, ক্লাবটি এক হাজার শতাংশ আইনসম্মতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমি হতবাক। আমাদের কাছ থেকে তারা কী চায়, তা বুঝতে পারছি না।’
পুলিশ জানায়, ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় কয়েক মাস ধরে গোপন তদন্ত চালানোর পর এই অভিযান চালানো হয়েছে। শুরুতে ক্লাবটির আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে সংগঠিত অপরাধচক্রের সম্পৃক্ততার আশঙ্কা জোরালো হয়।
তদন্তের অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তারদের রিমান্ড বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গত মৌসুমে বড় ধরনের ম্যাচ পাতানো কেলেঙ্কারির কারণে লিগ ‘এ’ নর্থ বাতিল হয়ে গেলে সেখান থেকে উন্নীত হয়ে ন্যাশনাল লিগে ওঠে এফসি কিরিয়াত ইয়াম। ওই কেলেঙ্কারিতে উম্ম আল-ফাহম যুব দলের পরিচালক ফাদি মাহামিদ ২০২৩–২৪ মৌসুমে ১৩টি ম্যাচ পাতানোর কথা স্বীকার করেছিলেন এবং তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলেন।

পাঁচ মাসেরও কম সময় পর উঠছে বিশ্বকাপের পর্দা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে দল সাজানোর পরিকল্পনার শেষ পর্যায়ে আছে দলগুলো। বিশ্বসেরার মঞ্চের জন্য স্কোয়াড ঘোষণার আগে দুঃসংবাদ শুনতে হলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। আলবিসেলেস্তাদের ডিফেন্ডার হুয়ান ফয়েথ চোটে পড়েছেন।
গত শনিবার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচের ২৩ মিনিটে চোটে পড়েন ফয়েথ। বাঁ পায়ের অ্যাকিলিস টেন্ডন ছিঁড়ে গেছে ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের। এই চোটে পুরো মৌসুমের জন্যই ছিটকে গেলেন তিনি।
রোববার ভিয়ারিয়াল জানিয়েছে, পরীক্ষার পর ফয়েথের চোটের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘যে অস্ত্রোপচার তাঁর করতে হবে, সে বিষয়ে যথাসময়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।’
সাধারণত এ ধরনের চোট থেকে সেরে উঠতে কমপক্ষে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ফলে জুনে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ২৮ বছর বয়সী এই সেন্টার-ব্যাকের খেলা প্রায় অসম্ভব বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
এর আগেও হাঁটু ও কাঁধে দীর্ঘমেয়াদি চোটে ভুগেছিলেন ফয়থ। সম্প্রতি ভিয়ারিয়ালের সঙ্গে তার চুক্তির মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

চাকরির জগতে ওপেন এআইয়ের প্রভাব এখন ক্রমশই বাড়ছে। অনেক জটিল কাজও সহজ করে দিয়েছে চ্যাটজিপিটি। কিন্তু অতিমাত্রায় এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা যে বিপদও ডেকে আনতে পারে। স্পেন জাতীয় দলের সাবেক কোচ রবার্ট মোরেনো চ্যাটজিপিটির ওপর অন্ধবিশ্বাস করে নিজের চাকরিই খুঁইয়েছেন।
৪৮ বছর বয়সী মোরেনো গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার প্রথম সারির লিগের ক্লাব এফসি সোচি থেকে পদত্যাগ করেন। লিগে সাত ম্যাচে মাত্র একটি পয়েন্ট অর্জনের পর ক্লাবটির ডাগআউটন ছাড়েন তিনি। ক্লাবটির সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর অ্যান্ড্রে অরলভ জানান, মোরেনো চ্যাটজিপিটি-র বড় ভক্ত ছিলেন এবং এটি ব্যবহার করে কিছু অদ্ভুত সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
খাবারোভস্কে এক আয়াত্রী সফরের সময় মোরেনো এআই প্ল্যাটফর্মের নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে দলের পরিকল্পনা তৈরি করেছিলেন। তিনি তার দলকে ম্যাচের দুই দিন আগে সকাল ৭টায় অনুশীলনের নির্দেশ দেন এবং ২৮ ঘণ্টা ধরে জেগে থাকার জন্য বলেছিলেন।
আরও পড়ুন
| রিয়ালের বেঞ্চ থেকে লিঁওতে ইতিহাস গড়া হ্যাটট্রিক এন্দ্রিকের |
|
স্পোর্টস রাশিয়ার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে অরলভ বলেন, ‘যখন আমরা খাবারোভস্কের জন্য সফর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, রবার্ট বললেন, “আমি সব ঠিক করে ফেলেছি। চ্যাটজিপিটি-তে সফরের সব প্যারামিটার সেট করেছি।” আমি প্রেজেন্টেশনটি দেখলাম, এতে দেখাচ্ছে খেলোয়াড়রা ২৮ ঘণ্টা ঘুমাবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘রবার্ট, সব ঠিক আছে, কিন্তু ছেলেরা কখন ঘুমাবে?’
এফসি সোচির সাবেক স্পোর্টিং ডিরেক্টর আরও যোগ করেন, ‘তারা বুঝতে পারছিল না কেন আমাদের সকাল পাঁচটায় উঠতে হবে এবং সাতটায় ট্রেনিং করতে হবে। শেষ পর্যন্ত, আমরা চ্যাটজিপিটির-র তৈরি করা সময়সূচি অনুসরণ করি।’
যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যই চ্যাটজিটির নির্দেশনা অনুসরণ করতেন মোরেনো। এমনকি ক্লাবে নতুন কোন খেলোয়াড় নেওয়ার আগেও এই প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করতেন তিনি। অরলভ বলেন, ‘গত গ্রীষ্মে আমরা একজন ফরোয়ার্ড খুঁজছিলাম, ভ্লাদিমির পিসারস্কি, পাভেল মেলেশিন এবং আরতুর শুশেনাচেভ-এর মধ্যে একজনকে বেছে নিতে চেয়েছিলাম।’
এরপর অরলভ বলেন, ‘মোরেনো চ্যাটজিপিটি থেকে ভ্লাদিমির পিসারস্কি, পাভেল মেলেশিন এবং আরতুর শুশেনাচেভ -এর তথ্যও চ্যাটজিপিটি-থেকে এনেছিলেন। যেখানে আরতুর শুশেনাচেভকে সেরা বলা হয়।’ তবে চ্যাট জিপিটির এই পরমার্শও কাজে লাগেনি সোসিচি ক্লাবের। এই ফরোয়ার্ড নিজের প্রথম ১০ ম্যাচে একটিও গোল করতে পারেননি।
শেষ দিকে, ক্লাবের খেলোয়াড়রা কোচের ওপর খেকে আস্থা হারায়। তার কোচিংয়ে সোসিচি রাশিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে ফার্স্ট লিগে অবনমন হয়।
মোরেনো স্পেন জাতীয় দলের হয়ে অন্তর্বতীকালীন কোচ হিসেবে তিন ম্যাচে দায়িত্ব পালন করার পর ২০১৯ সালের জুনে প্রধান কোচ হন যখন লুইস এনরিকে তার কন্যার অসুস্থতার কারণে পদত্যাগ করেন। নভেম্বর পর্যন্ত লা রোজাদের ডাগ-আউটে ছিলেন তিনি। এরপর ফরাসি ক্লাব মোনাকো ও স্প্যানিশ ক্লাব গ্রানাদাতার কোচিং করানোর পর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার ক্লাব পিএফসি সোসিচির দায়িত্ব নেন মোরেনো।

নতুন জীবনই যেন পেলেন এন্দ্রিক। হইচই ফেলে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের গল্পটা হয়েছিল কেবলই হতাশার। সেই বিষন্নতার গল্প পেছনে ফেলে নতুন এক অধ্যায়ের শুরু করলেন এন্দ্রিক। রিয়াল থেকে ধারে ফরাসি ক্লাব লিঁওতে হ্যাটট্রিক করে রীতিমতো ইতিহাসেই জায়গা করে নিলেন ১৯ বছর বয়সী তারকা।
গতকাল লিগ ওয়ানে মেৎজের বিপক্ষে ৫-২ গোলে জিতেছে লিঁও। ক্লাবটির পাঁচ গোলের তিনটি এসেছে ধারে খেলা এন্দ্রিকের নৈপুণ্যে। প্রতিপক্ষের মাঠে ১১ মিনিটে প্রথম গোল করার পর প্রথামার্ধের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে দ্বিতীয় গোল, তারপর ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক করেই ইতিহাস গড়েন এন্দ্রিক।
লিঁও ও লিগ ওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিক করা খেলোয়াড় এখন এন্দ্রিক। ১৯ বছর ১৮৮ দিনে হ্যাটট্রিক করা এন্দ্রিক ভেঙে দিলেন বর্ণার্ড লাকমবের রেকর্ড (১৯ বছর ১৯৬ দিন)। একবিংশ শতাব্দিতে এন্দ্রিকের চেয়ে কম কম বয়সে হ্যাটট্রিক করেছেন কেবল জেরেমি মেনেজ (১৭ বছর ২৬০ দিন), কিলিয়ান এমবাপে (১৮ বছর ৫৩ দিন) ও উসমান দেম্বেলে ( ১৮ বছর ২৯৬ দিন)।
গত ডিসেম্বর রিয়াল থেকে লিঁওতে ধারে যোগ দেওয়া প্রথম তিন ম্যাচে করলেন চার গোল, পাশপাশি সতীর্থকে দিয়ে করিয়েছেন একটি গোল। ক্লাবটির ইতিহাসে যা নতুন ফুটবলার জন্য সেরা শুরু। এর আগে ২০১৭ সালের আগস্টে একই সময়ে তিনটি গোল করেছিলেন মারিয়ানো দিয়াজ।
বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকা এন্দ্রিকের প্রথম গোলটি আসে অধিনায়ক কোরেন্টিন টোলিসোর ক্রস থেকে। বাঁ পায়ে দারুণ ফ্লিকে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ডান দিক দিয়ে টাইলার মর্টনের বাড়ানো বল পেয়ে কেটে নিয়ে প্রতিপক্ষের গোলকিপার জোনাথন ফিশারকে বোকা বানান এন্দ্রিক। তারপর ৮৭ মিনিটে নিজের জেতা পেনাল্টি থেকে বল জালে জড়িয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লিঁওর ফরোয়ার্ড।
লিওঁর হয়ে বাকি দুটি গোল করেন নেদারল্যান্ডস এবং বার্সেলোনার সাবেক ফরোয়ার্ড প্যাট্রিক ক্লুইভার্টের ছেলে রুবেন ক্লুইভার্টএবং টাইলার মর্টন। এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চারে উঠে এসেছে লিঁও। ১৯ ম্যাচে ক্লাবটির সংগ্রহ ৩৬ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে পিএসজি।
রিয়ালে যে এন্দ্রিক ছিলেন নিভে যাওয়া এক তারার মতো, সেখানে কোন মন্ত্রে নতুন একটি ক্লাবে এসে এতটা দ্রুত মানিয়ে নিলেন এন্দ্রিক? দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য উন্মোচন করে ব্রাজিল ফরোয়ার্ড বলেন, আমি মাঠে ফিরতে পেরেছি এবং আমার হাসিটা ফিরে পেয়েছি বলে খুব খুশি। সবকিছু দারুণ, আমার কল্পনার চেয়ে অনেক ভালো। পুরো দলের সঙ্গে মজা করতে পারি; সবাইকে ভালোভাবে চিনে নিয়েছি। আমি স্প্যানিশ এবং ইংরেজি বলতে পারি। আমি অনেক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি, খুব খুশি, স্টাফদের ধন্যবাদ, সত্যিই দারুণ, সবাইকে ধন্যবাদ।’
ধারে খেলার জন্য নিজেই লিঁওকে বেছে নেন এন্দ্রিক। কারণ হিসেবে নিজের সাবেক ক্লাব পালমেইরাসের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার কথা বলেন তিনি, ‘লিঁওর খেলার ধরণ আমার পছন্দের। এটি পালমেইরাস-এর সেই স্টাইল মনে করিয়ে দেয়, যখন আমি ফলস নাইন হিসেবে খেলতাম। আমি দলকে আক্রমণ ও রক্ষণে সাহায্য করতে পারি, আর এখানে আমার অনেক স্বাধীনতা রয়েছে।’

এবার বুঝি খানিকটা জোর গলায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সমর্থকরা বলতে পারবেন, “অবশেষে রেড ডেভিলদের সুদিন ফিরেছে।” পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটিকে হারানোর পর মাইকেল ক্যারিকের কোচিংয়ে ম্যান ইউনাইটেড জয় পেল মিকেল আরতেতার আর্সেনালের বিপক্ষে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গতকাল আর্সেনালের মাঠে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ৩-২ গোলের এই জয় কেন বিশেষ সেটাই আগে জেনে আসা যাক। ২০২৩ সালের ৫ ডিসেম্বরের পর কোনো দল ছন্দের তুঙ্গে থাকা আর্সেনালের জালে তিনবার বল পাঠাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে গানারদের ঘরের মাঠ এমিরেটস স্টেডিয়ামে আর্সেনালকে প্রথম হারের তেতো স্বাদ দেওয়া দল ম্যান ইউনাইটেড। চলতি মৌসুমে লিগে সবচেয়ে কম গোল হজম করা ক্লাবের নাম আর্সেনাল।
সব হিসেব একপাশে রেখে রুবেন আমোরিমের হতাশার চরমে থাকা দলের মধ্যে যেভাবে প্রাণের সঞ্চার করেছেন নতুন কোচ ক্যারিক, তাতে নতুন করে আবার স্বপ্ন দেখতেই পারে ‘রেড ডেভিলরা।
প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে ছিনিয়ে আনা এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ চারে প্রবেশ করল ইউনাইটেড। ২৩ ম্যাচে ১০জয়, আট ড্র ও পাঁচ হারে তাদের পয়েন্ট ৩৮। বিপরীতে ২০০৪ সালের পর লিগ জয়ের দৌড়ে থাকা আর্সেনাল লিভারপুলের বিপক্ষে ড্রয়ের পর ইউনাইটেডের বিপক্ষে হেরে শীর্ষে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ হারাল। সমান ম্যাচে গানারদের সংগ্রহ ৫০ পয়েন্ট।
লিসান্দ্রো মার্তিনেসের আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে পড়ার পর, ব্রায়ান এমবুমোর গোলে সমতায় ফেরে ম্যান ইউনাইটেড। বিরতির পর প্যাট্রিক ডগুর গোলে এগিয়েও যায় তারা। কর্নার থেকে গোল করাকে অভ্যাসে পরিণত করা আর্সেনাল শেষ দিকে মিকেল মেরিনোর গোলে পয়েন্ট পাওয়ার আশা জাগায়। কিন্তু দারুণ নৈপুণ্যে তাদের সেই আশা গুঁড়িয়ে দেন মাথেউস কুনহা।
শুরুটা দারুণই করেছিল আর্সেনাল। ১৯তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে স্বাগতিকরা একটি পরিষ্কার সুযোগ পায়। কাসেমিরোর পরাস্ত করে মার্টিন জুবিমেন্দি নিখুঁত হেড করেছিলেন, তবে ইউনাইটেড গোলরক্ষক সেনে লামেন্স দুর্দান্ত রিফ্লেক্স সেভে তা ঠেকিয়ে দেন। এরপর উদ্বোধনী গোলের আগ পর্যন্ত বলার মতো তেমন কিছু ঘটেনি।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছিল, এই ম্যাচে দ্রুত আক্রমণে ওঠাই হবে মূল চাবিকাঠি। শুরুতেই ব্রুনো ফার্নান্দেস বল হারালে আর্সেনাল আক্রমণ তোলে। ডান দিক থেকে উঠে আসা উইলিয়াম সালিবার কাছে বল যায়, সেখান থেকে রাইসের শট লিসান্দ্রো মার্তিনেস ব্লক করে দেন।
২৯ মিনিটে এগিয়ে যায় আর্সেনাল। বাইলাইন থেকে বুকায়ো সাকার কাটব্যাক পেয়ে শট নেন মার্টিন ওডেগার, বল গোলমুখে টিম্বারকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার মার্তিনেসের পায়ের পেছনে লেগে জালে জড়ায়।
মিনিট পাঁচেক পর সমতা টানার সুযোগ আসে ব্রুনো ফার্নান্দেসের। কিন্তু ডি-বক্সে দারুণ পজিশনে বল পেয়েও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন পর্তুগিজ মিডফিল্ডার। অবশ্য সমতাসূচক গোল পেতে খুব একটা অপেক্ষা কবতে হয়নি সফরকারীদের। দুই মিনিট পরই ব্যবধান ১-১ করেন এমবুয়েমো। মার্টিন জুবিমেন্দির মারাত্মক এক ভুলে গোল হজম করে আর্সেনাল। ডি-বক্সের বাইরে অবিশ্বাস্য ভুল পাসে প্রতিপক্ষের এমবুমোর পায়ে বল তুলে দেন তিনি। তারপর বল ধরে বিনা বাধায় ডি-বক্সে ঢুকে, ঠাণ্ডা মাথায় গোলকিপারকে কাটিয়ে সমতা টানেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের পঞ্চম মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে দলকে এগিয়ে নেন ডগু। ফার্নান্দেসের সঙ্গে দুইবার বল দেওয়া-নেওয়ার ফাঁকে প্রতিপক্ষের একাধিক খেলোয়াড়ের মধ্যে দিয়ে এগিয়ে, ডি-বক্সের মুখে গিয়ে জোরাল শট নেন তরুণ ডেনিশ উইঙ্গার, বল গোলকিপারের ওপর দিয়ে গিয়ে ক্রসবারে লেগে ভেতরে ঢোকে।
পিছিয়ে পড়ার পর আক্রমণের বেগ বাড়ায় আর্সেনাল। ৮৩ মিনিটে সাকার শট ঝাঁপিয়ে বল বাইরে পাঠান ইউনাইটেডের গোলকিপার। ওই কর্নারেই গোল পেয়ে যায় তারা। জটলার মধ্যে তাদের প্রথম প্রচেষ্টা গোললাইনে আটকে যাওয়ার পর, কাছ থেকে ফের শট নেন মিকেল মেরিনো, সেটি ফিরিয়ে দেন বেনিয়ামিন সেসকো; তবে ততক্ষণে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়। তবে সমতায় ফেরার স্বস্তি স্থায়ী হয় মাত্র তিন মিনিট।
সতীর্থের পাস ধরে একটু এগিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে বুলেট গতির শট নেন এমবুয়েমোর বদলি নামা ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড কুনহা, বল পোস্ট ঘেঁষে জালে জড়ায়। এই গোলেই নিশ্চিত হয়ে যায় ‘রেড ডেভিলদের’ দুর্দান্ত জয়।