
লিগ ওয়ানের শিরোপা জয় যে বেশ আগেভাগেই হবে, সেটা পিএসজির দুর্দান্ত ফর্ম নিশ্চিত করে ফেলেছিল মাস দুয়েক আগেই। সেটা বজায় রেখে প্যারিসের ক্লাবটি আরও একবার লিগ চ্যাম্পিয়ন্স হয়ে গেছে পিএসজি। এমন অর্জনে স্বাভাবিকভাবেই উচ্ছ্বসিত কোচ লুইস এনরিকে। দলকে একটা নতুন লক্ষ্য দিয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। বললেন, অপরাজিত থেকে মৌসুম শেষ করতে চান তিনি।
ঘরের মাঠে শনিবার রাতে অ্যাঞ্জার্সের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয়ে ছয় ম্যাচ বাকি থাকতেই লিগ ওয়ানের শিরোপা নিশ্চিত করে পিএসজি। সব মিলিয়ে এটি দলটির ১৩তম লিগ জয়, আর এই নিয়ে টানা চতুর্থবার। এর মধ্য দিয়ে পিএসজি মে মাসের আগে ষষ্ঠবারের মতো লিগ ওয়ানদের শিরোপা জিতল।
আরও পড়ুন
| পিএসলের ধারাভাষ্যকার প্যানেলে আতাহার আলি |
|
ম্যাচ শেষে এনরিকে দলকে আরও উঁচুতে নিয়ে যাওয়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। “এপ্রিলের শুরুতে শিরোপা উদযাপন থেকে বোঝা যায়, আমরা এই মৌসুমে খুব উঁচু একটা স্তরে পৌঁছে গেছি। আমরা এই লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছি, তবে আমাদের আরও অনেক ম্যাচ বাকি আছে। আমরা এখন এই মৌসুম অপরাজিত থেকে শেষ করার চেষ্টা করার জন্য অনুপ্রাণিত। ফ্রান্সে এর আগে কেউ এটা করতে পারেনি, তাই এটা এমন কিছু, যা আমরা অর্জন করতে চাই।”
২৮ ম্যাচে পিএসজির পয়েন্ট এখন ৭৪ পয়েন্ট, যা লিগ ওয়ানের ইতিহাসে মৌসুমের এই পর্যায়ে ক্লাবটির দ্বিতীয় সেরা সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনের রেকর্ড। নিজেদের বাকি ছয় ম্যাচে হার এড়াতে পারলে এনরিকের দল ভেঙে দিবে তিন দশক আগে ন্যান্তেসের ৩২ ম্যাচ অপরাজিত থেকে লিগ জয়ের রেকর্ড।
গত মৌসুমের পর তারকা ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের বিদায়ের পর এনরিকের কোচিংয়ে পিএসজির সম্ভাবনা নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে একরকম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। তবে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে চলেছে তরুণ দলটি। ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলে করেছেন ক্লাবের সর্বোচ্চ ২১টি গোল, ব্র্যাডলি বারকোলার অবদান ১৩টি গোলে। এই মৌসুমে পিএসজির ১৮ জন ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় জালের দেখা পেয়েছেন। তাতে ভর করে মাত্র ২৮টি ম্যাচে ৮০টি গোল করেছে পিএসজি।
আরও পড়ুন
| ১ পয়েন্টও বার্সা কোচের কাছে ইতিবাচক ফলাফল |
|
No posts available.
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:৩৭ পিএম
৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ৬:৫০ পিএম

মন খারাপ করা খবরে বছরের শুরু হলো ব্রাজিলের। রিয়াল মাদ্রিদ ও ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রবার্তো কার্লোস হৃদ্রোগজনিত সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। জরুরি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে গেছেন বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার।
হাসপাতালে প্রাথমিক পরীক্ষার পর রবার্তো কার্লোসের পুরো শরীরের এমআরআই স্ক্যান করা হয়। যেখানে হৃদ্যন্ত্রে জটিলতা ধরা পড়ে। তারপরই ৫২ বছর বয়সী এই সাবেক ডিফেন্ডারের জরুরি অস্ত্রোপচার করানো হয় এবং শরীরে একটি টিউব স্থাপন করা হয়।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম দিয়ারিও-আস’এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত ৪০ মিনিটে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও জটিলতার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
আরও পড়ুন
| বিশ্বকাপের বছরে আরও যত ক্রীড়া উৎসব |
|
অস্ত্রোপচারের পর রোবের্তো কার্লোসের শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল। তবে সতর্কতামূলকভাবে তাঁকে আগামী ৪৮ ঘণ্টা হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। নিজের ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে কার্লোস বলেছেন, ‘আমি এখন ভালো আছি।’
এর আগে জানা যায়, সাম্প্রতিক ব্যস্ত সূচি শেষে নিজ দেশ ব্রাজিলে ফেরার পর তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরসহ টানা ব্যস্ততার মধ্যেই তাঁর শরীরে সমস্যা ধরা পড়ে। শুরুতে পায়ে ছোট একটি রক্ত জমাট বাঁধার কারণে তিনি হাসপাতালে যান। সেখানেই পরবর্তী পরীক্ষায় হৃদ্যন্ত্রের জটিলতা শনাক্ত হয়, যার ফলে জরুরি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা লেফট-ব্যাক রবার্তো কার্লোস। শক্তিশালী বাঁ পায়ের জন্য পরিচিত এই ব্রাজিলিয়ান তারকা ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই নিয়মিত সেট-পিসের দায়িত্ব পালন করতেন। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি পর্বে ১৯৯৭ সালে অনুষ্ঠিত টুর্নোয়া দে ফ্রান্সের উদ্বোধনী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে ৪০ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া ফ্রি-কিকটি আজও ফুটবল ইতিহাসের বিস্ময়কর গোল হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।
১৯৯৮ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো ব্রাজিল দলের সদস্য ছিলেন কার্লোস। সেই ফাইনালে স্বাগতিক ফ্রান্সের কাছে শিরোপা হাতছাড়া হয়। চার বছর পর দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত ২০০২ বিশ্বকাপে তিনি ফিরে আসেন আরও দৃঢ হয়ে। সেই আসরে রেকর্ড পঞ্চমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া ব্রাজিল দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন ২০০২ সালের ব্যালন ডি’অরে দুইয়ে থাকা কিংবদন্তি রবার্তো।

‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ ফুটবল বিশ্বকাপের বছর ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের ফিফা বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে এ বছরের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব। তবে খেলাধূলা প্রেমীদের জন্য বছরজুড়েই থাকছে ক্রীড়া বিভিন্ন বিভাগের বৈশ্বিক মহারণ। বছরটা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেরও। এছাড়া প্রথমবারের মতো আয়োজিত হবে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপ। শীতকালীন অলিম্পিক গেমস, প্যারা অলিম্পিক গেমস, রাগবি লিগ বিশ্বকাপসহ নানান আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করবে বিশ্বে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ক্রীড়াবিদরা।
ক্রীড়া বর্ষপঞ্জি ২০২৬
জানুয়ারি
২৬ ডিসেম্বর-২৩ জানুয়ারি: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)
৪-৯: অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড, অ্যাশেজ, পঞ্চম টেস্ট
৮-১২: পাকিস্তানের শ্রীলঙ্কা সফর, তিন টি-টোয়েন্টি
১১-৩১: নিউজিল্যান্ডের ভারত সফর, ৫ টি-টোয়েন্টি, দুই ওয়ানডে
১২ জানুয়ারি-১ ফেব্রুয়ারি: অস্ট্রেলিয়ান ওপেন
১৫ জানুয়ারি-৬ ফেব্রুয়ারি: অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ
২২ জানুয়ারি-৩ ফেব্রুয়ারি: ইংল্যান্ডের শ্রীলঙ্কা সফর, টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে
ফেব্রুয়ারি
৬-২২: শীতকালীন অলিম্পিক
৭-৮ মার্চ: টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট বিশ্বকাপ
৬–২২ ফেব্রুয়ারি: শীতকালীন অলিম্পিক গেমস
মার্চ
১-২১: নারী এশিয়ান কাপ (ফুটবল)
৬–১৫ : শীতকালীন প্যারালিম্পিক গেমস
১৫-২৫: দক্ষিণ আফ্রিকার নিউজিল্যান্ড সফর, পাঁচটি টি-টোয়েন্টি
২০–২২ : বিশ্ব ইনডোর অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপ
২৬-৩১: ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল)
২৬-৩১ : বিশ্বকাপ ফুটবল বাছাইপর্ব প্লে-অফ
এপ্রিল
১০: ফেডারেশন কাপ ফাইনাল (ফুটবল)
১১ এপ্রিল–১৭ মে : নারী সিক্স নেশনস রাগবি
মে
১৬: এফএ কাপ ফাইনাল (ফুটবল)
২৪ মে-৭ জুন: ফ্রেঞ্চ ওপেন
৩০: উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল
২০ : ইউরোপা লিগ ফাইনাল
জুন
১১ জুন-১৯ জুলাই: ফিফা বিশ্বকাপ
১২ জুন-৫ জুলাই: নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ
২৯ জুন-১২ জুলাই: উইম্বলডন
জুলাই
২৩ জুলাই-২ আগস্ট: কমনওয়েলথ গেমস
আগস্ট
৬-১৭: সিনসিনাতি ওপেন
১৪-৩০: ছেলেদের বিশ্বকাপ (হকি)
১৯ আগস্ট-৯ সেপ্টেম্বর: পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফর, তিনটি টেস্ট
২২: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ২০২৬-১৭ মৌসুম শুরু
৩১ আগস্ট-১৩ সেপ্টেম্বর: ইউএস ওপেন
সেপ্টেম্বর
১১-১৩ : ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিকস আলটিমেট চ্যাম্পিয়নশিপ
১৫-২৭: শ্রীলঙ্কার ইংল্যান্ড সফর, তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি
১৯ সেপ্টেম্বর-৪ অক্টোবর: এশিয়ান গেমস
অক্টোবর
১১: ফর্মুলা ওয়ান, সিঙ্গাপুর গ্রাঁ প্রিঁ
১৫ অক্টোবর–১৫ নভেম্বর : রাগবি লিগ বিশ্বকাপ
৩১ অক্টোবর-১৩ নভেম্বর: যুব অলিম্পিক
নভেম্বর
১৩: ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (অ্যাথলেটিক্স)
৭-১৪ : ডব্লুটিএ ফাইনালস (টেনিস)
ডিসেম্বর
৩-২০: ইউরোপিয়ান নারী চ্যাম্পিয়নশিপ (হ্যান্ডবল)
৬: ফর্মুলা ওয়ান, আবুধাবী গ্রাঁ প্রিঁ

২০২৫-২৬ মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা দৌড় ক্রমেই জমে উঠছে। শীর্ষস্থান আর্সেনালের দখলে থাকলেও, সম্ভাবনার পাল্লা ভারী ম্যানচেস্টার সিটির দিকে। পাশাপাশি অ্যাস্টন ভিলা ও লিভারপুলের শক্তিমত্তাকেও উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার অ্যাস্টন ভিলাকে ৪–১ গোলে বিধ্বস্ত করে মিকেল আরতেতার দল লিগ টেবিলে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে এগিয়ে যায়। এই হারে তৃতীয় স্থানে থাকা উনাই এমেরির দলটি আর্সেনালের থেকে ছয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়েছে।
শিরোপার এই ইঁদুর–বিড়াল দৌড় নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়—প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা লড়াই কি তবে কেবল সিটি ও আর্সেনালের মধ্যেই সীমাবদ্ধ?
জবাবে গার্দিওলা বলেন,
“আপনি কি নিশ্চিত? কয়েক সপ্তাহ আগেও বলা হচ্ছিল শুধু আর্সেনালই শিরোপার দাবিদার। দুই দিন আগে বলা হলো তিন দল। আর এখন বলা হচ্ছে মাত্র এক দল। দেখা যাক কী হয়।”
লিগ টেবিলের চতুর্থ স্থানে থাকা লিভারপুল শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে পড়েছে বড় চ্যালেঞ্জে। আর্নে স্লটের দল বর্তমানে আর্সেনালের থেকে ১৩ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে।
ট্রফিহীন ও ভুলে যাওয়ার মতো ২০২৫ সাল শেষ করলেও সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা আট ম্যাচ জিতে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। তবে পরবর্তী চ্যালেঞ্জটা মোটেও সহজ নয়। বৃহস্পতিবার তাদের যেতে হবে স্টেডিয়াম অব লাইটে, যেখানে স্বাগতিক সান্ডারল্যান্ড চলতি মৌসুমে এখনও অপরাজিত।
গার্দিওলা বলেন,
“এর মানে ওরা খুবই কঠিন প্রতিপক্ষ। আমার প্রথম মৌসুমে সেখানে খেলতে গিয়ে দেখেছি, দর্শকদের সমর্থন ছিল অবিশ্বাস্য। তারা নিউক্যাসলকে হারিয়েছে, আর্সেনাল ও অ্যাস্টন ভিলাও সেখানে জিততে পারেনি। কাজটা নিঃসন্দেহে কঠিন হবে, তবে আমরা প্রস্তুত।”

শীতকালীন বিরতির পর ফুটবলে ফিরছে রিয়াল মাদ্রিদ। আগামী ৪ জানুয়ারি প্রিমিয়ার লিগে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শীর্ষে ফেরার রেসে নামবে জাবি আলোনসোর দল। ম্যাচটির আগে বড় ধরনের দুঃসংবাদ শুনতে হচ্ছে রিয়াল ভক্তদের।
ফুটবলবিষয়ক ওয়েবসাইট গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাঁটুর লিগামেন্টে চিড় ধরা পড়েছে কিলিয়ান এমবাপের। যে কারণে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ফরাসি ফরোয়ার্ডকে পাওয়া যাবে না।
ফ্রান্সের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও বিশ্বাসযোগ্য ক্রীড়া দৈনিক পত্রিকা লেকিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিলিয়ান এমবাপে কয়েক সপ্তাহ ধরেই হাঁটুর লিগামেন্টের চোট নিয়ে খেলছিলেন। শুরুতে তিনি ভেবেছিলেন, বিষয়টি তেমন গুরুতর নয় এবং এই চোট নিয়েই খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে বুধবার সকালে করা এমআরআই স্ক্যানে লিগামেন্টে চিড় ধরা পড়ে। ফলে এখন তার চিকিৎসা এবং অন্তত তিন সপ্তাহের বিশ্রাম প্রয়োজন হবে।
এই রিপোর্টের পর এমবাপ্পেকে বাস্তবতা মেনে নিতেই হয়েছে—অন্তত ২১ থেকে ৩০ দিন খেলা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে গতি বাড়াতে গিয়ে তিনি নিজেকে ক্রমেই সীমাবদ্ধ অনুভব করছিলেন। সতর্ক সংকেত আগেই ছিল। ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে তাকে অব্যবহৃত বদলি হিসেবেই রাখা হয়েছিল।
রিয়াল মাদ্রিদ এক বিবৃতিতে চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“আজ রিয়াল মাদ্রিদের মেডিকেল সার্ভিসেস আমাদের খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানোর পর তার বাঁ হাঁটুতে মচকানো (স্প্রেইন) ধরা পড়েছে। তার সুস্থতার অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে।”

বাংলাদেশ ফুটবলের প্রাণ হামজা চৌধুরীর ক্লাব ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটি। সোমিত সোম খেলেন কানাডা প্রিমিয়ার লিগে ক্যাভালরি এফসিতে। ইতালির ফোর্থ টায়ারের ক্লাব অলিবিয়াতে ফাহমিদুল ইসলাম। সেখানে তাঁরা কোন পরিবেশে খেলেন সেটি আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু লাল-সবুজের জার্সিতে তাঁদেরই সতীর্থ রাকিব হোসেন, শেখ মোরসালিন, জামাল ভূঁইয়াদের লিগের মাঠের পরিবেশই বা কেমন? বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) ভেন্যু নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন। আজ শেষ পর্বে থাকছে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়াম।
একটা দিক থেকে গাজীপুরের শহীদ বরকত স্টেডিয়াম দেখতে বেশ লাগে। দ্বিতীয় তলায় দুই দলের ড্রেসিংরুমের সামনে একটা করে ছোট্ট গ্যালারি। উপরে যার সামিয়ানা। গ্যালারি ঠিক নয়, তুলনা টানা যেতে পারে বড় ধরনের কোনো ব্যালকনির সঙ্গে! ড্রেসিংরুমের সামনে এই জায়গাটাতেই বসেন মাঠে আসা ভিআইপিরা। এছাড়াও বসেন দলের কর্মকর্তা, স্টাফরা।
২৭ ডিসেম্বর ছিল বাংলাদেশ ফুটবল লিগের (বিএফএল) অষ্টম রাউন্ডের খেলা। শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাব ও পিডব্লিউডি স্পোর্টস ক্লাব। ম্যাচের দিন নিজেদের ড্রেসিংরুমের সামনে ওই ব্যালকনিতেই দলের অন্যান্যদের সঙ্গে বসেন ফকিরেরপুলের সাধারণ সম্পাদক আহমদ আলী। পুরো ম্যাচেই তাঁরা এই জায়গাটা উৎসবমুখর করে রাখেন।
বিপরীত চিত্র পিডব্লিউডির গ্যালারিতে। সেখানে দেখা মেলেনি ক্লাবটির কোনো কর্মকর্তার। কোচ ম্যানেজাররা ছিলেন মাঠের পাশে। নিজেদের দলকে উজ্জীবিত করার মতো গ্যালারিতে ছিল না তেমন কেউ। অথচ এই মাঠটি তাদের হোম ভেন্যু। কিন্তু নিজেদের মাঠে তাদের দলই সেভাবে পায়নি সমর্থন। ক্লাবটির ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন ইফতেখারুল ইসলাম। এদিন মাঠে তিনি উপস্থিত ছিলেন। বলেন,
‘ফকিরেরপুল আসলে পুরাতন ক্লাব। এখন আমাদের অফিশিয়ালরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্বপ্রাপ্ত, তাই হয়তো ওরকম সময় করে উঠতে পারেন না।’
দায়িত্বের জায়গায় কোনো ঘাটতি নেই। তবে তিন দশক পর এবারই প্রথম তারা উঠে এসেছে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের সর্বোচ্চ স্তরে। পেশাদার ফুটবল লিগ নিয়ে অভিজ্ঞতার ঘাটতির কথাই বলেছেন ইফতেখারুল,
‘গুরুত্ব বলতে আসলে আগে আমরা বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগ বা ফার্স্ট ডিভিশন খেলে আসছি। স্বাভাবিকভাবে প্রিমিয়ার লিগ খেলতে এসে বাজেটের একটা ধাক্কা খাই। সেই কারণেই হয়তো খুব ভালো দল গড়তে পারিনি। এছাড়া গুরুত্বের অভাব নেই কোনো, আসলে আমরা প্রিমিয়ার লিগেই নতুন। বলতে পারেন অভিজ্ঞতার ঘাটতি আছে আমাদের।’
দর্শকশূন্য গ্যালারি
গাজীপুর শহরের জয়দেবপুর এলাকার রথখোলা রোডে অবস্থিত শহীদ বরকত স্টেডিয়াম। পূর্বে এটি জেলা স্টেডিয়াম নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে ভাষা শহীদ আবুল বরকতের নামানুসারে এর নাম হয় গাজীপুর শহীদ বরকত স্টেডিয়াম। গাজীপুর প্রেসক্লাবের সামনে এই এলাকা রাজবাড়ী হিসেবেও পরিচিত। স্টেডিয়ামে যেতেই আগে একটি মাঠ চোখে পড়বে যেটাকে রাজবাড়ী মাঠ বলেই চেনেন সবাই। বরকত স্টেডিয়ামের চেয়ে এখানে রাজবাড়ী মাঠ বেশি জনপ্রিয়।
গাজীপুরে খেলা দেখার জন্য টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে ৩০ টাকা করে। এদিন মাঠে এসে খেলা দেখেছেন ২০০-২৫০ জনের মতো দর্শক। ম্যাচের দিন এখানেও মাইকিং করা হয়। প্রচারণার এই কাজটি করে থাকে জেলা ফুটবল এসোসিয়েশন বা জেলা প্রশাসন। মাঠে বসে খেলা দেখার জন্য সাধারণ গ্যালারি আছে দুটি। পশ্চিম দিকে একটি এবং উত্তর পাশে আরেকটি। বাকি পুরো মাঠে কোনো গ্যালারি নেই। আনুমানিক ১০০০-১৫০০ দর্শকধারণ ক্ষমতা এই স্টেডিয়ামের।
স্টেডিয়াম তো নয়, যেন বিরানভূমি
শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে হওয়া কোনো ম্যাচ টিভি পর্দায় দেখার অভিজ্ঞতা যাদের হয়েছে নিশ্চিতভাবেই তাদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে এটা কোনো স্টেডিয়াম নাকি ধু-ধু প্রান্তর। পূর্ব এবং দক্ষিণ দিকে কোনো গ্যালারি নেই। উত্তর-দিকে একটা ছোট্ট গ্যালারি আছে বটে, উত্তর-পূর্ব দিকটা আবার ফাঁকা। টিভি পর্দায় ওই দিক থেকে ক্যামেরা বসানোর কোনো জায়গা নেই। মূলত পশ্চিম দিকে তিন তলা ভবনের উপরের তলায় বসে দেখানো হয় ম্যাচ। সামনে থেকে এই মাঠ দেখতে গিয়েও সেই অভিজ্ঞতাই হয়েছে। এখানে মূল মাঠ আর সাইড লাইনের পাশের জায়গা মিলেমিশে একাকার। মাঠের বাউন্ডারি লাইনের মধ্যে দোতলা গ্যালারি করার মতো বড় জায়গা পরে আছে। সেখানে গ্যালারি না থাকায় কোনো খোলা মাঠের মতোই মনে হয়।
গোসল করতে খেলোয়াড়দের সিরিয়াল
ড্রেসিংরুম বলতে যা বোঝায় সেটির আশা বরকত স্টেডিয়ামে না করাই ভালো। এখানে দুই দলের ড্রেসিংরুমে নেই কোনো ইলেকট্রনিক পাখা। খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। গোসল করা নিয়ে ধরতে হয় সিরিয়াল। কেননা এখানে দুই দলের ড্রেসিংরুমের পাশে আরেকটি রুম, সেখানেই একটি করে মাত্র দুটি ওয়াশরুম। যেখানে আবার নিয়মিত থাকে না পানি।
এই মাঠে ১৯ অক্টোবর পুলিশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলেছে মোহামেডান। ১-১ গোলে হতাশার ড্রয়ের সঙ্গে সাদা-কালো শিবিরে যোগ হয়েছিল বিশ্রি অভিজ্ঞতা। ড্রেসিংরুম নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন মোহামেডান অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিঠু,
‘গাজীপুরের ড্রেসিংরুমকে তো ড্রেসিংরুম বলা যায় না ভাই। ওটা একদম বাজে। আসলে পেশাদার লিগের সঙ্গে যায় না। ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা নেই, ওয়াশরুম ঠিক নেই, গোসলখানা ঠিক নেই— মানে একদম বিশ্রী একটা অবস্থা। আমরা যখন গেছি তখন তো পানিও ছিল না! একটা ওয়াশরুমে আমরা দুই দল মিলে গোসল করেছি। জিনিসটা কেমন না? ওদের ড্রেসিংরুমে গিয়ে আমাদের গোসল করতে হয়েছে।’
শক্ত মাঠ, শঙ্কায় টেপিং করে নামে খেলোয়াড়েরা
গত মৌসুম থেকে নতুন করে গাজীপুরে হচ্ছে পেশাদার ফুটবল লিগের খেলা। মৌসুমের শুরুতে পিচ নিয়ে অনেক অভিযোগ থাকলেও সময় যত গড়িয়েছে মূল মাঠের অবস্থা কিছুটা ভালো হয়েছে। মোহামেডান অধিনায়ক মাঠ নিয়ে বলেন,
‘মাঠের কথা যদি বলেন... মাঠ আগের চেয়ে মোটামুটি ভালো।’
পিডব্লউডির ফরোয়ার্ড স্বাধীনের ভাষ্য,
‘শুরুতে যেভাবে পেয়েছিলাম তার চেয়ে এখন কিছুটা ভালো। তবে মাঠ অনেক শক্ত। ইনজুরি এড়াতে হাটুতে টেপিং করে খেলতে হয় আমাদের। আসলে কি, বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা আর কুমিল্লার মাঠ বাদে সবগুলো মাঠই অনেক শক্ত। তবে একটু বেশি।’
জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. হান্নান মিয়া বলেন,
‘এই মাঠটা এখন জেলা প্রশাসকের অধীনে। তবে দুই দলের সহায়তায় আমরা মাঠে নিয়মিত পানি দেওয়া এবং অনেকবার রোলার করেছি। যা যা করা লাগে সবই করছি।’
মাঠে রোলার করা এবং ঘাস কাটার কাজটা নিয়মিত হয়েছে সেটা সামনে থেকে দেখলেও বোঝা যায়। কেননা মাঠে অসমতল বা উঁচু-নিচু খুব একটা নেই।
নিয়মিত পানি দেওয়ার পর মাঠে এখনও সবুজাভ আসেনি। সেটি না আসার কারণ থাকতে পারে মাটির গুনাগুণ এবং বিচিত্র প্রজাতির ঘাস। এসব মাঠে সাধারণত বিভিন্ন ধরনের, বিভিন্ন প্রজাতির ঘাস স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় জন্ম নেয়। তার জন্য আলাদা করে পরিচর্যা দরকার, কিংবা বিশেষজ্ঞ কিউরেটর দরকার। সেটি অবশ্য দেশের কোনো জেলা স্টেডিয়ামেই হয় না।
অপরিসর অবকাঠামো
স্টেডিয়ামের বড় সমস্যা প্রশাসনিক ভবন। স্বল্প পরিসরের এই ভবনে কোনোমতে দুটি ড্রেসিং রুম করা গেলেও নেই বাদ বাকি সুযোগ সুবিধা। এমনকি প্রেসবক্সও নেই এখানে। খেলা সরাসরি সম্প্রচারের জন্য আরও বিপাকে পড়তে হয়। পিসিআর রুম নিচে, আর স্টেডিয়ামের মূল ভবনের তিন তলার এক ব্যালকনিতে কোনো মতে ক্যামেরা বসিয়ে দেখানো হয় খেলা। এই এলাকায় বিদ্যুতবিভ্রাট চরম আকারে। তখন নিজেদের ব্যবস্থা করে নেয় ব্রডকাস্টার চ্যানেল। তবে সমস্যায় পড়েন খেলোয়াড়েরা। ড্রেসিংরুমে থাকাকালীন বিদ্যুৎ গেলে গরমে হাপিত্যেশ করা ছাড়া কিছুই করার থাকে না।
এনায়েত-রজনিকান্তদের গাজীপুর কোথায় হারাল?
গাজীপুরের অনেক ফুটবলার ঢাকার মাঠে সুনাম কুড়িয়েছেন। দেশের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার এনায়েতুর রহমান খান, স্টপার আজমত, উইংব্যাক রউফ বাবু, ইকবাল, রজনী কান্ত বর্মণরা গাজীপুর থেকে উঠে আসেন। জাতীয় ফুটবল দলে না খেলেও আলো ছড়িয়েছেন আরও অনেকেই। দুর্ভাগ্য হচ্ছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাজীপুর ফুটবল সঠিক পথে হাঁটতে পারেনি। বলা যেতে পারে পরিচর্যা পায়নি। ঢাকার খুব কাছের জেলা হয়েও ফুটবলে উন্নতির ছোঁয়া পায়নি গাজীপুর।